প্রবেশগম্যতা সেটিংস

ইয়েভেনিয়া দ্রোজডোভা ইউক্রেনের যুদ্ধ কভার করার জন্য তার সংবাদ সংস্থার স্যাটেলাইট ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করছেন৷ ছবি: সুজান লি, জিআইজেএন-এর জন্য

লেখাপত্র

বিষয়

স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধ অনুসন্ধান করবেন যেভাবে

আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:

সীমান্ত পার হয়ে সাংবাদিকরা যখন ঘটনাস্থলে যেতে পারেন না, চেকপয়েন্ট অতিক্রম করতে পারেন না, কিংবা বোমা ফেলা হয়েছে এমন এলাকায় প্রবেশ করতে পারেন না—তখনও কিন্তু প্রতিবেদন তৈরির কাজগুলো থমকে যায় না। বরং অন্য উপায় অনুসরণ করা হয়। যেখানে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন পড়ে না। এসব পরিস্থিতিতে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নথিভুক্ত করা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের ঘটনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ টুলে পরিণত হয়েছে স্যাটেলাইট চিত্র। একটা সময় যা কেবল সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যবহার করতো।

পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপটই ১৪তম গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্স (জিআইজেসি২৫)-এ আয়োজিত “স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধ অনুসন্ধান” সেশনের নেপথ্যে কাজ করেছে। সেখানে প্রতিবেদকরা ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে রিমোট সেন্সিং, ওপেন সোর্স যাচাই এবং ভিজ্যুয়াল ফরেনসিকস এখন  সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে খবর সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে যেখানে কারো প্রবেশাধিকার নেই বা যে পরিবেশটি সাংবাদিকদের জন্য বৈরী। জিআইজেসি২৫-এ বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, স্যাটেলাইট ডেটা সবচেয়ে কার্যকর মনে হয় যখন তা মাঠ পর্যায়ের প্রথাগত প্রতিবেদনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করা হয়। এতে সাংবাদিকরা সময়রেখা নির্ধারণ, দাবি যাচাই এবং শারীরিক প্রবেশাধিকার না থাকলেও সেখানে কী পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, সে ধারাবাহিকতাগুলো নথিভুক্ত করতে পারেন।

আরব রিপোর্টার্স ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম (এআরআইজে)-এর নির্বাহী সম্পাদক হোদা ওসমানের সঞ্চালনায় এই প্যানেলে অংশ নেন এমন সব প্রতিবেদক এবং ডেটা সাংবাদিক, যারা গাজা থেকে ইউক্রেন পর্যন্ত বিভিন্ন সংঘাতের অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট ইমেজ বা কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি ব্যবহার করেছেন।

পিক্সেল থেকে প্রমাণ করা

গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানী সংবাদদাতা ও ভিজ্যুয়াল ফরেনসিকস প্রধান, মনীষা গাঙ্গুলী। তিনি স্যাটেলাইট ছবিকে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি)- এর মতো বৃহত্তর পরিসরের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওপেন সোর্স অনুসন্ধানে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক তথ্য, ভূস্থানিক তথ্য এবং প্রচলিত মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকতা বা মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য।

“ভূস্থানিক গোয়েন্দা তথ্য সাংবাদিকদের জন্য তুলনামূলকভাবে নতুন একটি ক্ষেত্র,” বলেন মনীষা গাঙ্গুলী। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে স্যাটেলাইট মূলত রাষ্ট্রগুলোই নিয়ন্ত্রণ করত। তবে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রের বৃদ্ধির ফলে প্রতিবেদনের ধরন বদলে গেছে। এখন সাংবাদিকরা এমন সব সংঘাতের ছবি আকাশপথ থেকে দেখতে পারেন, যা আগে কঠিন বা প্রায় অসম্ভব ছিল।

গাঙ্গুলী সবার জন্য আধুনিক উন্মুক্ত তথ্য (ওপেন সোর্স) ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধ অনুসন্ধানের সূচনা হিসেবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তখন স্মার্টফোনের বিস্তার এবং ইন্টারনেটের সহজ প্রবেশাধিকার থাকার কারণে অপ্রত্যাশিত পরিমাণে ভিজ্যুয়াল প্রমাণ পাওয়া গেছে। কারণ তখন অনেক স্যাটেলাইট টুল বিনামূল্যে পাওয়া যেত। বিষয়টিকে তিনি সাংবাদিকতার জন্য একটি “গণতান্ত্রিক মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করেন।

“এই পরিস্থিতি বদলে গেছে,” গাঙ্গুলী বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন ও গাজার সংঘাতের সময় কিছু সরবরাহকারী বিভিন্ন স্যাটেলাইট ছবি বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে, তবে এখন প্রবেশাধিকার অসম এবং লক্ষ্যভিত্তিক। (অনুসন্ধানের জন্য কীভাবে বিনামূল্যে স্যাটেলাইট চিত্র সংগ্রহ করা যায়, সে সম্পর্কিত বিভিন্ন পরামর্শ জানতে দেখতে পারেন এই জিআইজেএন ওয়েবিনারটি।)

এই সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতির নথিভুক্তকরণের ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট চিত্র বা কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। গাঙ্গুলি বর্ণনা করেন, কীভাবে রাডার ম্যাপিং এবং অপটিক্যাল ইমেজারি ব্যবহার করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করা যায়। যেমন ধ্বংস হওয়া ভবন এবং বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া স্থাপনার খোঁজ রাখা। এমনকি যখন সাংবাদিকদের কোনো এলাকায় প্রবেশের অনুমতি থাকে না তখনও।

“যুদ্ধের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে,” আন্তর্জাতিক আইন যেমন জেনেভা কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম বিধিমালার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন তিনি। আরও যোগ করেন, যুদ্ধের সময় কোথায়, কখন এবং কী ধ্বংস করা হয়েছিল— স্যাটেলাইট চিত্র তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। যা যুদ্ধাপরাধের ঘটনা অনুসন্ধানের মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইউক্রেনে ধ্বংসযজ্ঞের মানচিত্র তৈরি

বড় পরিসরে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহারের বিষয়টি ইউক্রেনে অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, বলেন ইয়েভহেনিয়া দ্রোজদোভা। তিনি টেক্সটিডটঅর্গডটইউএ নামের সংবাদমাধ্যমটির ডেটা সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান। তিনি জানান, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে স্যাটেলাইট চিত্র নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরির একটি সাধারণ টুলে পরিণত হয়েছে।

“স্যাটেলাইট ছবি নিয়ে যে বিষয়টি জানা দরকার, তা হলো—এগুলো শুধু ছবি নয়,” বলেন দ্রোজদোভা। স্যাটেলাইট আলোর বিভিন্ন বর্ণ বা অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করে। এর ফলে সাংবাদিকরা এমন পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারেন, যা খালি চোখে দেখা যায় না।

মেঘ ভেদ করে দেখতে সমর্থ রাডার স্যাটেলাইট ডেটা কীভাবে ২০২১ সালের শেষ দিকে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রুশ সামরিক ক্যাম্প শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয়েছিল—তিনি তা ব্যাখ্যা করেন। আলাদা আলাদা যানবাহন দেখা না গেলেও, তথ্যের ধরনে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা যায়, যা সামরিক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত বহন করে।

“আমরা খালি চোখে এসব সামরিক ক্যাম্প দেখতে পাইনি,” তিনি বলেন। “কিন্তু যদি এমন ধরন হঠাৎ দেখা যায়—অর্থাৎ আগে যেগুলোর কোনো চিহ্ন ছিল না, তাহলে বেশ নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সেগুলো সামরিক যানবাহন।”

দ্রোজদোভা আরও বলেন, ২০২২ সালের পর ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রপথে চলাচল পর্যবেক্ষণ করতে রাডারের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তোলা হয়েছে এমন একাধিক ছবি একত্রিত করে সাংবাদিকরা আলাদা করে জাহাজের সংখ্যা না গুনেও যাতায়াতের বৃদ্ধি বা হ্রাস শনাক্ত করতে পেরেছেন।

তিনি আরেকটি টুলের কথা উল্লেখ করেন—রাতের আলোকচ্ছটা সম্পর্কিত তথ্য, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা জনসংখ্যার স্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। ইউক্রেনে রাতের আলো কমে যাওয়া এমন শহর ও জনপদ শনাক্ত করা যাচ্ছিল, যেগুলো ভারী বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা পরিত্যক্ত হয়েছে।

“এই লাল দাগগুলোই সেই শহর, নগর ও গ্রাম—যেগুলো আর আগের মতো নেই,” হারিয়ে যাওয়া আলোকচ্ছটা দেখানো মানচিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন।

আরও বিস্তারিত অনুসন্ধানে সহায়তা করেছে উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন নথিভুক্ত করা এবং রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবস্থান ও কাঠামো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম টেক্সটি কিছু ক্ষেত্রে  বৃহৎ এলাকাজুড়ে ধ্বংসের ধরন শনাক্ত করতে ব্যবহার করেছে মেশিন লার্নিং।

“যখন হাজার হাজার ভবন ধ্বংস হয়ে যায়, তখন শুধু চোখে দেখে কাজ করা সম্ভব নয়,” বলেন দ্রোজদোভা।

Texty story on the destruction of Vovchansk, told via satellite imagery

২০২৪ সালে, টেক্সটিডটঅর্গডটইউএ স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে ভোভচানস্ক গ্রামে রাশিয়ার সেনাদের চালানো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নথিভুক্ত করেছে (লাল অংশে দেখা যাচ্ছে)। ছবি: স্ক্রিনশট, টেক্সটি

গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্ত করা

গাজা নিয়ে অনুসন্ধানের বিষয়ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন গাঙ্গুলী। সেখানে স্যাটেলাইট ছবিকে ভিডিও, চিকিৎসা রেকর্ড এবং সাক্ষীর বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল হাসপাতাল, স্কুল, মসজিদ এবং উত্তর গাজার তিনটি অঞ্চলের কৃষিজমি।

গাঙ্গুলি বলেন, “এইসব অবকাঠামো ধ্বংস করার পেছনে দৃশ্যত কোনো সামরিক কারণ ছিল না।” তিনি আরও যোগ করেন—এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ‘যৌক্তিকতা’ বা ‘আনুপাতিকতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ওই এলাকাগুলোতে ২৫০টিরও বেশি আবাসিক ভবন, ১৭টি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়, ১৬টি মসজিদ, ৩টি হাসপাতাল এবং ১৫০টি গ্রিনহাউস  কৃষি ধ্বংস হওয়ার তথ্য প্রমাণসহ নথিভুক্ত করেছেন। তার এই গবেষণালব্ধ তথ্যগুলো পরবর্তীতে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আইনি চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মানবাধিকার ও আইনি সংস্থা ব্যবহার করেছিল।

হাসপাতালগুলোর আশেপাশে হওয়া হামলাগুলো বিশ্লেষণ করার জন্য স্যাটেলাইট ইমেজ বা কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছিল। গাঙ্গুলি বর্ণনা করেন, রাডার ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে দেখা গেছে হাসপাতালগুলো বোমার আঘাতে তৈরি হওয়া বিশাল গর্ত এবং ট্যাঙ্ক দিয়ে ঘেরাও হয়ে আছে, যা অ্যাম্বুলেন্স এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, “হাসপাতাল এবং চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোটা রীতিমতো যুদ্ধাপরাধ।”

অন্য একটি অনুসন্ধানে, গাঙ্গুলি গাজার ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোর কাছে ঘটা ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান যে, স্যাটেলাইট ইমেজ, ভিডিও, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি (মেডিকেল রেকর্ড) এবং সাক্ষাৎকার ব্যবহার করে তিনি গুলির জখমের এমন কিছু ধরন বা প্যাটার্ন নথিভুক্ত করেছেন, যা ত্রাণ বিতরণের সময় এবং স্থানের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষের ভিড় যখন স্যাটেলাইট ইমেজেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল, তখন সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই বিশাল জনতাকে মহাকাশ থেকেও দেখা যাচ্ছে, তাই সেটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।”

তিনি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বিলাল জাদাল্লাহর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও নথিভুক্ত করার কথা জানান। একটি নির্দিষ্ট পথকে (রুট) নিরাপদ ঘোষণা করা সত্ত্বেও সেখানে হওয়া হামলার ঘটনাটি তিনি স্যাটেলাইট ইমেজ এবং গোলার স্প্লিন্টার বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ করেন।

গাঙ্গুলি বলেন, “বিলালকে ইসরায়েলি ট্যাঙ্কের গোলায় হত্যা করা হয়েছিল এমন একটি পথে, যেটিকে নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।”

সহযোগিতা, সীমাবদ্ধতা এবং দায়িত্ব

আইস্টোরিজ মিডিয়ার একজন সাংবাদিক পোলিনা উজভাক জোর দিয়ে বলেন, স্যাটেলাইট ইমেজ বা উপগ্রহের ছবি তখনই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয় যখন এটি সহযোগিতামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে। তিনি জানান, অনেক সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে।

উজভাক বলেন, “আমরা একটি ছোট দল। আমার সহকর্মীদের মধ্যে কেউই রিমোট সেন্সিং (দূরসংবেদন) বিশেষজ্ঞ নন।”

সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে আইস্টোরিজ মারিউপোল, বাখমুত এবং সেভেরোদোনেটস্কের ধ্বংসযজ্ঞের পরিমাণ মূল্যায়ন করতে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষকদের সঙ্গে মিলে কাজ করেছে। এআই  ভিত্তিক মডেল এবং রাডার ডাটা ব্যবহার করে দলটি পুরো শহর জুড়ে ক্ষয়ক্ষতির মানচিত্র তৈরি করে।

তবে উজভাক সতর্ক করে বলেন, স্যাটেলাইট ছবিরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিছু কিছু ধ্বংসযজ্ঞ ওপর থেকে দেখা সম্ভব হয় না, বিশেষ করে দালানকোঠার ভেতরের দিকের ক্ষয়ক্ষতি।

তিনি বলেন, “স্যাটেলাইট পৃথিবীর উপরিভাগকে ওপর থেকে পর্যবেক্ষণ করে। তাই আমরা শুধুমাত্র সেই ক্ষতিগুলোই শনাক্ত করতে পারি যেগুলো ওপর থেকে দৃশ্যমান।”

তা সত্ত্বেও, এই পদ্ধতিটি সাংবাদিকদের পদ্ধতিগতভাবে একটি বিশাল এলাকার তথ্য নথিভুক্ত করার সুযোগ দেয়—যা যুদ্ধের সময় প্রথাগত সাংবাদিকতার মাধ্যমে সবসময় তুলে ধরা সম্ভব হয় না।

উজভাক সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন, প্রযুক্তি দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার সময় যেন তারা প্রত্যেকের ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করে নেন এবং শুরুতেই তাদের সম্পাদকীয় লক্ষ্যগুলো জানিয়ে দেন।

তিনি বলেন, “সাংবাদিক হিসেবে আমরা আমাদের গল্পগুলো অন্য যে কারো চেয়ে ভালো বুঝি।”

নীচে জিআইজেএনের এই প্যানেল আলোচনার সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখুন।


Hanan Zaffarহানান জাফফার একজন গণমাধ্যম পেশাজীবী, মাল্টিমিডিয়া গল্পকার এবং ভারতভিত্তিক তথ্যচিত্র নির্মাতা। তার কাজ প্রধানত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, সংখ্যালঘু, মানবাধিকার এবং পরিবেশ নিয়ে। টাইম ম্যাগাজিন, দ্য গার্ডিয়ান, ভিস, আল জাজিরা, বিজনেস ইনসাইডারসহ অন্যান্য প্রকাশনায় তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপেও প্রতিবেদন তৈরির কাজ করেছেন। তিনি জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের ২০২৫ সালের পোলিও প্রেস ফেলো।

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

জলবায়ু

জলবায়ু অভিযোজন সম্পর্কিত ১০টি মিথ: সাংবাদিকদের যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি যদি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায়, তবে অভিযোজনের অনেক সীমাবদ্ধতা বা সীমা অতিক্রম হয়ে যাবে। এর সমাধানগুলো আরও ব্যয়বহুল, কম কার্যকর অথবা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অনুসন্ধান পদ্ধতি

যৌথ অনুসন্ধান—ভেস্তে যেতে পারে সামান্য একটি ইমেলের ভাষার কারণে এবং আরও যেসব শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে

সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানের মাঝপথে একজন অংশীদার প্রায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। একজন সহকর্মীর পাঠানো ইমেইলের অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক ও “ব্যবসায়িক ধাঁচের” ভাষা তাকে বিরক্ত করে। সেই সময় অন্য একজন অংশীদার হস্তক্ষেপ না করলে তিনি প্রকল্প থেকে সরে যেতেন।

ডেটা সাংবাদিকতা

এআই খাতে ট্রিলিয়ন ডলার: রয়টার্স যেভাবে ভিজ্যুয়াল গল্পে এতো বড় ডেটা তুলে ধরেছে

সাংবাদিকরা যখন অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন লেখেন, তখন কিন্তু তারা ডেটার ঘাটতি নয় বরং বর্ণনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন। আর তা হচ্ছে, যে মানুষটি কখনও এক ট্রিলিয়ন ডলার চোখে দেখেননি, তাকে কীভাবে বিপুল এই অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া যায়?