ছবি: শাটারস্টক
অনুসন্ধানী পডকাস্ট সম্পাদনা করবেন কীভাবে- বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন সেই পরামর্শ
আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:
২০২০ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় প্রিন্ট সাংবাদিক সিডনি ব্রাউনস্টোন। সেখানে উপস্থিত ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত জনতার কিছু ভিডিও আর অডিও ঘটনাক্রমে তিনি নিজের আইফোনে ধারণ করেন।
তখন তিনি কল্পনাও করেননি, কয়েক বছর পর ধারণ করা সেই ভিডিও ও অডিও এনপিআরের অনুসন্ধানী পডকাস্ট সিরিজ এমবেডেড–এর উই কিপ আস সেফ পর্বের শুরুর দৃশ্যে ব্যবহার করা হবে। অপ্রকাশিত বা উপেক্ষিত গল্প তুলে ধরার জন্য পরিচিত এই সিরিজে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালিন এক কিশোর হত্যাকাণ্ডের অমীমাংসিত রহস্যের অনুসন্ধান করা হয়েছে।
বর্ণনাকারী হিসেবে ব্রাউনস্টোনকে বলতে শোনা যায়, “মনে আছে, সোমবার সকালে গুলির ঘটনাটি ঘটেছিল। ঘটনাস্থলটি ছিল ক্যাপিটল হিল নামে একটি এলাকায়, যেখানে আমি একসময় থাকতাম। সেখান থেকে কয়েক ব্লক দূরে। একজন সম্পাদক আমাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন করতে বলেছিলেন… চারপাশে মানুষ, কুকুর নিয়ে হাঁটছে। কেউ আবার নিজের পছন্দের কফি নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যাচ্ছিল।”
এরপর আমি ১২ নাম্বার অ্যাভিনিউ পার হই। মনে হলো, যেন একেবারে ভিন্ন এক জগতে পা রাখলাম। হাঁটতে হাঁটতে আমি পৌঁছে যাই ‘চপ’ (CHOP)-এ—দখলধর্মী আন্দোলনের আদলে গড়ে ওঠা একটি বিক্ষোভস্থলে। সেখানে সারি সারি তাঁবু, মানুষের ভিড়, শিল্পকর্মের প্রদর্শনী আর অস্থায়ী ব্যারিকেড ছিল। ২০২০ সালের ২৯ জুনের সেই সকালে এটি আর শুধু একটি বিক্ষোভ ছিল না। এটি ছিল একটি অপরাধস্থল।”
এরপর সেই বাস্তব রেকর্ডিংয়ের পটভূমিতে ব্রাউনস্টোনের বর্ণনা চলতে থাকে। শোনা যায় ভিড়ের উত্তেজিত কোলাহল, কর্কশ চিৎকার, আর তারই মধ্যে ক্ষীণভাবে ভেসে আসে এক ধর্মযাজকের কণ্ঠ— “আর নয়! আর কোনো হত্যাকাণ্ড নয়!”
সম্প্রতি আইআরই২৬ সম্মেলনে অনুসন্ধানী পডকাস্ট সম্পাদনা বিষয়ক এক অধিবেশনে আলোচকেরা বলেন, নতুন সম্পাদক ও প্রতিবেদকদের জন্য শুরুর এই অংশটিই অনুসন্ধানী পডকাস্টের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শিক্ষনীয় দিক খুব পরিষ্কার করে তুলে ধরে।
আলোচনায় অংশ নেন নিউ হ্যাম্পশায়ার পাবলিক রেডিও–এর পডকাস্টবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সম্পাদক কেটি কোলানেরি, এনপিআরের অনুসন্ধানী পডকাস্ট সিরিজ এমবেডেড–এর জ্যেষ্ঠ প্রযোজক অ্যাডেলিনা লানচিয়ানেসে এবং এপিএম রিপোর্টস–এর অনুসন্ধান বিভাগের নির্বাহী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কার্টিস গিলবার্ট।

আইআরই সম্মেলনের আলোচনায় অংশ নেওয়া অনুসন্ধানী পডকাস্টের সম্পাদক ও প্রযোজকেরা। বাঁ দিক থেকে: কার্টিস গিলবার্ট, কেটি কোলানেরি এবং অ্যাডেলিনা লানচিয়ানেসে। ছবি: রোয়ান ফিলিপ
তারা যে পরামর্শগুলো দেন, তার মধ্যে রয়েছে:
- আপনার প্রতিবেদক বা বর্ণনাকারীদের অডিও মাধ্যমের মানুষ হওয়া জরুরি নয়। সিয়াটল টাইমসের সিডনি ব্রাউনস্টোন একজন প্রিন্ট সাংবাদিক। কিন্তু এই পডকাস্টে তিনি দক্ষ বর্ণনাকারী হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
- যেসব ঘটনা লিখিত প্রতিবেদনের জন্য ‘পুরোনো’ বা ‘সময়োত্তীর্ণ’ বলে মনে হতে পারে, সেগুলো পডকাস্টের জন্য বরং বাড়তি সুবিধা। প্রচলিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও, গিলবার্ট বলেন, অতীতের কোনো ঘটনা বা একটি ঘটনার শুরু নিয়ে করা অনুসন্ধানগুলো পডকাস্টের জন্য বেশ উপযোগী। “এমন গল্প বেছে নিতে হবে, যা ধাপে ধাপে এগোয়,” তিনি বলেন। “যদি কোনো গল্পের শুরু ২০ বছর আগে হয়ে থাকে, তাহলে সময়ের প্রবাহই সেটিকে স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন অধ্যায়ে ভাগ করে দেয়— যেমন পরবর্তী ঘটনা, কাহিনির মোড় পরিবর্তন, কিংবা অপ্রত্যাশিত নতুন তথ্য।”
- প্রতিবেদকদের সবকিছু রেকর্ড করতে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করে রাখতে উৎসাহিত করুন। লানচিয়ানেসের পরামর্শ, “সব সময় রেকর্ড করুন—এটি আপনার চিন্তার চেয়েও সহজ। এখন সবার পকেটেই একটি ভালো মানের রেকর্ডিং ডিভাইস রয়েছে: আপনার ফোন। এর জন্য দামি কোনো রেকর্ডার বা শটগান মাইক্রোফোনের প্রয়োজন নেই। “জনস্বার্থে তথ্যের জন্য (পাবলিক রেকর্ডস) আবেদন করে যদি দেখেন, যে তথ্য চেয়েছিলেন তা পাননি—তখন আপনার হতাশার কথাও রেকর্ড করুন। ছয় মাস ধরে যার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন, সেই সূত্রটিকে যদি শেষ পর্যন্ত রাজি করাতে পারেন—সেক্ষেত্রে আপনার প্রতিক্রিয়াও রেকর্ড করুন। এসব রেকর্ডিংয়ের ৯০ শতাংশ হয়তো কখনোই ব্যবহার করবেন না। কিন্তু যে ১ থেকে ৫ শতাংশ ব্যবহার করবেন, সেটিই আপনার পডকাস্টের গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।” তিনি আরও বলেন, “আপনি কখনোই জানেন না—আজ যে অডিও রেকর্ড করছেন, সেটিই হয়তো ছয় বছর পর একটি পডকাস্ট সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।”
পরামর্শ: ফোন বা ভিডিও সাক্ষাৎকার রেকর্ড করার সময় প্রতিবেদকদের কিবোর্ডে টাইপ না করতে বলুন। সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পর ট্রান্সক্রাইব করাই ভালো। আলোচকদের মতে, টাইপ করার ট্যাপ-ট্যাপ-ট্যাপ শব্দ রেকর্ডিংয়ে এমনভাবে ধরা পড়ে যে, উন্নত ‘নয়েজ ক্যানসেলেশন অ্যাপ’ ব্যবহার করার পরও অনেক সময় ওই অডিও আর ব্যবহারযোগ্য থাকে না। লানচিয়ানেসে বলেন, “এটি একটি খারাপ অভ্যাস। আমি অসংখ্য প্রতিবেদকের সঙ্গে কাজ করেছি, যারা জুম বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় একটানা টাইপ করতে থাকেন। তখন শুধু কিবোর্ডের ট্যাপ-ট্যাপ-ট্যাপ শব্দই শোনা যায়।” তিনি আরও বলেন, “শব্দ নিয়েও ভাবুন।”
- রেকর্ডিং নিখুঁত না হলেও সমস্যা নেই। লানচিয়ানেসে বলেন, “ভালো মানের রেকর্ডিং অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, আর স্টুডিওতে নেওয়া সাক্ষাৎকারগুলোও বেশ ভালো। কিন্তু বিভিন্ন পরিবেশে ধারণ করা অডিও একসঙ্গে ব্যবহার করলে গল্প আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। আপনি চাইবেন, আপনার প্রতিবেদক মানুষদের তাদের স্বাভাবিক পরিবেশেই সাক্ষাৎকার নিক—ক্যাফেতে, ফোনে কিংবা ঘটনাস্থলে। আমার মনে হয়, পুরোপুরি স্টুডিওতে রেকর্ড করা গল্প খুব একটা আকর্ষণীয় হয় না। কারণ সেখানে বাস্তবতার আবহ থাকে না, সবকিছুই কৃত্রিম মনে হয়।” ব্রাউনস্টোনের উদ্বোধনী দৃশ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “ওটি নিখুঁত রেকর্ডিং ছিল না। সেখানে পেছনের শব্দ শোনা যাচ্ছিল, চারপাশে অনেক বিশৃঙ্খলা ছিল। ভিডিওর শব্দ আর আইফোনে ধারণ করা অডিও—দুটোর সমন্বয়ে সেটি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তা ছিল খুবই প্রাণবন্ত এবং গল্প শুরু করার জন্য অসাধারণ একটি মুহূর্ত।”
- পডকাস্টের স্ক্রিপ্টের ক্ষেত্রে সব সময় লিখিত প্রতিবেদন লেখার নিয়মগুলো খাটে না। একটি পডকাস্টের স্ক্রিপ্টে অনায়াসে অতীত ও বর্তমান কাল, প্রথম ও তৃতীয় পুরুষ, কিংবা প্রাসঙ্গিক তথ্য ও প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্যে যাতায়াত করা যায়। গল্পকে আরও আকর্ষণীয়, ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া এবং শ্রোতার কাছে সহজে সম্পর্ক স্থাপনযোগ্য করে তুলতে গিয়ে এটি যেন সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রচলিত অনেক নিয়মই ভেঙে দেয়।
- বার্তাকক্ষের পর্দার আড়ালের সিদ্ধান্তও পডকাস্টের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে। প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব কীভাবে দেওয়া হলো, নিউজ ডেস্কে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো—লিখিত প্রতিবেদনে যেসব বিষয় সাধারণত স্থান পায় না, সেগুলো পডকাস্টে ব্যবহার করলে শ্রোতারা প্রতিবেদকের তথ্য-অনুসন্ধানের পুরো কাজের সঙ্গী হতে পারেন।
- অনুসন্ধানী পডকাস্টের জন্য সব সময় ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ (স্মোকিং গান) খুঁজে পাওয়া জরুরি নয়। অনেক সফল অনুসন্ধানী পডকাস্টের মতো এখানেও এমন একটি হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধান করা হয়েছে, যার রহস্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ঘাটিত হয়নি। তবু এটি ঘটনাটির নানা দিক উন্মোচন করেছে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্ভাবনার পথ দেখিয়েছে।
কোলানেরির ভাষায়, অনুসন্ধানী পডকাস্টের একজন সম্পাদক হলেন “পুরো প্রকল্প এবং এটি তৈরির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি। তিনি একই সঙ্গে প্রধান সম্পাদকীয় নেতৃত্ব এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, অনুসন্ধানী পডকাস্টের একজন সম্পাদকের দায়িত্ব হলো প্রকল্পটি অনুমোদন করা, অনুসন্ধানের পুরো প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশনা দেওয়া, ন্যায্যতা ও নৈতিকতা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া, প্রযোজনার সময়সূচি নির্ধারণ করা এবং—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ভবিষ্যৎ শ্রোতার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা।
কোলানেরি বলেন, “পডকাস্ট তৈরি একটি দলগত কাজ। এতে প্রতিবেদক, প্রযোজক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এমনকি বিপণন বিভাগও যুক্ত থাকে। কিন্তু সম্পাদকই পুরো প্রকল্পটিকে সব দিক থেকে দেখেন। বিশেষ করে সম্পাদনার ক্ষেত্রে তাকে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করতে হয়। একটি হলো বড় পরিসরে চিন্তা করা— ‘এই গল্পটি আসলে কী নিয়ে? আমরা কেন এই গল্পটি করছি? এটি পডকাস্ট হওয়ার কারণ কী?’ এরপর আবার খুব কাছ থেকে খুঁটিনাটি বিষয়েও নজর দিতে হয়—‘এই তথ্যগুলোর মধ্যে কি যথেষ্ট প্রমাণ আছে? এখানে এই শব্দটিই কি সবচেয়ে উপযুক্ত? এই অডিও অংশটি ব্যবহার করা নৈতিক হবে কি?’”

এনপিআরের অনুসন্ধানী পডকাস্ট সিরিজ এমবেডেড। ছবি: স্ক্রিনশট, এনপিআর, রাসেল গসেট।
কেন একটি অনুসন্ধানকে পডকাস্ট হিসেবে উপস্থাপন করবেন?
কোনো অনুসন্ধানকে পডকাস্ট হিসেবে উপস্থাপন না করারও কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন—এতে মাসের পর মাস সময় দিতে হতে পারে; কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা, যা লিখিত প্রতিবেদনের জন্য বেশি উপযোগী; মানবিক চরিত্রের অভাব; কাঠামোগত নয় এমন বিষয়; কিংবা পডকাস্ট জগতের একটি প্রচলিত কথা— “অডিও নেই, গল্পও নেই” (No tape, no story) ।
তবে সামগ্রিকভাবে বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের মধ্যে পডকাস্টের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে অর্ধেকেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা পডকাস্ট শোনেন। একই সঙ্গে আরও অনেক দেশেই পডকাস্ট গ্রহণের হার দ্রুত বাড়ছে। এদিকে, জবাবদিহিমূলক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তরুণ শ্রোতা এবং প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের বাইরে থাকা নতুন ধরনের সংবাদগ্রাহকদের সম্পৃক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বার্তাকক্ষগুলোও পডকাস্টকে ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
গিলবার্ট বলেন, “কতবার এমন হয়েছে যে কোনো বন্ধু আপনাকে বলেছে, ‘আমি দীর্ঘ সড়কভ্রমণে যাচ্ছি। শোনার মতো কোনো পডকাস্ট আছে? এমন কোনো জমজমাট গল্প, যা একের পর এক পর্ব নিয়ে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়?’ আর মানুষ এসব পডকাস্ট নিয়ে অন্যদের সঙ্গেও কথা বলে।”
তিনি বলেন, দ্রুত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা, আবেগঘন গল্প বলার তৃপ্তি এবং সাংবাদিকেরা কীভাবে কাজ করেন তা শ্রোতাদের বুঝতে সাহায্য করার মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা তৈরি—যা কোনো অনুসন্ধানকে পডকাস্ট আকারে উপস্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
গিলবার্ট বলেন, পডকাস্টের মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি এপিএম রিপোর্টস–এর সোল্ড আ স্টোরি পডকাস্টের কথা উল্লেখ করেন। এমিলি হ্যানফোর্ডের তৈরি এই পডকাস্টটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে আইন পরিবর্তনের উদ্যোগকে প্রভাবিত করেছিল। অথচ শিক্ষা সম্পর্কিত একইধরনের বিষয় নিয়ে হ্যানফোর্ডের আগে রেডিওর জন্য তৈরি উচ্চমানের তথ্যচিত্রও তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।

এপিএম রিপোর্টসের সোল্ড আ স্টোরি পডকাস্টে পড়া শেখানোর অকার্যকর পদ্ধতিগুলো নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। ছবি: এপিএম রিপোর্টসের স্ক্রিনশট, এমিলি বার্নস্টেইন।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “পডকাস্টটির প্রথম মৌসুমে তুলে ধরা হয়েছিল, কীভাবে স্কুলগুলো এমন একটি পদ্ধতিতে শিশুদের পড়া শেখাচ্ছিল, যা বৈজ্ঞানিকভাবে অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এর আগে একই বিষয় নিয়ে তিনি রেডিওর জন্য এক ঘণ্টার পাঁচটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সেগুলো থেকে যে সাড়া আসে, তা পডকাস্টের ধারেকাছে ছিল না। পডকাস্টটি দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের আগ্রহ ধরে রাখে এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্য তাদের আইন পরিবর্তন করে। যা ছিল সত্যিই বিস্ময়কর।”
তবে গিলবার্ট বলেন, এ ধরনের প্রকল্প সফল করতে সাধারণত কয়েকটি মৌলিক উপাদান প্রয়োজন। সেগুলো হলো—
- প্রতিটি পর্বকে এগিয়ে নেওয়ার মতো কাহিনির মোড়, নতুন উদ্ঘাটন ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
• একটি শক্তিশালী মূল বর্ণনা বা ন্যারেটিভ।
• ঘটনাস্থলের অডিও বা ভিডিও রেকর্ডিং এবং বিভিন্ন ‘ফাউন্ড রেকর্ডিং’—যেমন পুলিশের বডি-ক্যামেরার ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও বা আর্কাইভের অডিও-ভিডিও ক্লিপ।
• আকর্ষণীয় ও জীবন্ত চরিত্র।
• তথ্য-উপাত্ত বা নথি থেকে পাওয়া প্রমাণ।
• একটি বড় বা তাৎপর্যপূর্ণ ধারণা (বিগ আইডিয়া) ।
গিলবার্ট স্বীকার করেন, “সব গল্প পডকাস্টের উপযুক্ত নয়। একজন সম্পাদক হিসেবে আপনাকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে— ‘ধারাবাহিক পর্বে বলা এই গল্পটি কি শ্রোতার আগ্রহ ধরে রাখার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী?’ মানুষকে প্রতিটি পর্ব শুনে যেতে উদ্বুদ্ধ করার মতো একাধিক উপাদান এতে থাকতে হবে। রেকর্ডিং শুধু সাক্ষাৎকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সেখানে ঘটনাস্থল ও পরিবেশের অনুভূতি থাকতে হবে, শ্রোতাদের এমন সব জায়গায় নিয়ে যেতে হবে যেখানে ঘটনাগুলো ঘটছে, আর মানুষে-মানুষে বাস্তব মিথস্ক্রিয়ার মুহূর্তগুলোও তুলে আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এমন একজন প্রধান চরিত্র খুঁজুন, যার একটি লক্ষ্য আছে, কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে কোনো না কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আর সরকারি নথি বা জনস্বার্থে উন্মুক্ত তথ্য ব্যবহার করে প্রশ্ন করুন— ‘এ ধরনের ঘটনা আর কোথায় ঘটে?’ ‘কত ঘন ঘন ঘটে?’”
সম্পাদনার প্রক্রিয়া
সম্পাদনার কাজগুলো নিয়ে আলোচকেরা যেসব পরামর্শ দেন, তার মধ্যে ছিল—
সব অডিও রেকর্ডিংয়ের একটি তালিকা (টেপ ইনভেন্টরি) স্প্রেডশিটে সংরক্ষণ করুন এবং সেটি একটি নির্দিষ্ট ফোল্ডারে রাখুন। লানচিয়ানেসে বলেন, “অডিও রেকর্ডিং আসতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই—সেটি আইফোনে ধারণ করা হোক, স্টুডিওতে করা হোক বা অন্য যেকোনো উৎস থেকেই হোক—সবকিছুর হিসাব রাখুন। এটি কাজের ধরনই বদলে দিতে পারে। উই কিপ আস সেফ–এর জন্য আমাদের স্প্রেডশিটে ৭৫০টি সারি ছিল। এক বছরের অনুসন্ধানে সংগৃহীত প্রতিটি আলাদা অডিও রেকর্ডিংয়ের জন্য একটি করে সারি রাখা হয়েছিল। এর পাশাপাশি ভিডিওর জন্য আরও ৩০০টি সারি ছিল। অর্থাৎ, পরে সহজে রেকর্ডিং খুঁজে পাওয়ার জন্য আমাদের মোট এক হাজারেরও বেশি সারির একটি তালিকা ছিল।”
নথিভিত্তিক প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সৃজনশীল হোন। আলোচকদের মতে, নথিপত্রে থাকা জটিল ও রহস্যময় তথ্যকে অডিও উপযোগীভাবে উপস্থাপনের উপায় খুঁজে বের করা সম্পাদকের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনি সৃজনশীলতার জন্যও একটি বড় ক্ষেত্র। উদাহরণ হিসেবে তারা সাওত–এর শারাইত অনুষ্ঠানের হোয়েন চিলড্রেন ওয়্যার অ্যারেস্টেড পডকাস্টের কথা উল্লেখ করেন। লাইটহাউস রিপোর্টস, বিবিসি আই এবং অন্যান্য অংশীদারের সহযোগিতায় তৈরি এই অনুসন্ধানে হাজারো নথি সংগ্রহ করা হয়েছিল। এতে প্রকাশ পায়, কীভাবে একটি আন্তর্জাতিক এনজিও সিরিয়ার আসাদ সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ করে শিশুদের তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। এই বিপুল নথিপত্রের তথ্য শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপনের জন্য সম্পাদক মাইস কাট ও তার সহকর্মীরা একটি ভিন্ন পদ্ধতি বেছে নেন। তারা লাইটহাউস রিপোর্টস–এর একজন ডিজিটাল অনুসন্ধানকারীকে আমন্ত্রণ জানান, যাতে তিনি অনুষ্ঠানের উপস্থাপকদের সঙ্গে দুই পর্বের একটি আলাপচারিতায় অংশ নিয়ে সেই জটিল নথিগুলো থেকে পাওয়া তথ্য “স্বাভাবিক ও সহজ করে” তুলে ধরতে পারেন।
নির্ভরযোগ্য পডকাস্টিং টুল ব্যবহার করুন—যেখানে শুধু লেখা সম্পাদনা করেই অডিও সম্পাদনা করা যায়। অধিবেশন শেষে লানচিয়ানেসে জিআইজেএনকে অনুসন্ধানী পডকাস্ট তৈরিতে কার্যকর কয়েকটি টুলের তালিকা দেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- ডেসক্রিপ্ট (Descript) — ট্রান্সক্রিপশন তৈরি এবং স্ক্রিপ্টের খসড়া লেখার জন্য।
• রিভারসাইড (Riverside) — দূরবর্তী (রিমোট) অডিও বা ভিডিও সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–সমর্থিত একটি প্ল্যাটফর্ম।
• এয়ারটেবল (Airtable) বা https://trello.com/ট্রেলো (Trello) — প্রযোজনার সময়সূচি বা প্রোডাকশন ক্যালেন্ডার তৈরির জন্য।
• লুসিডচার্ট (Lucidchart) — স্টোরিবোর্ড, মুড বোর্ড এবং আইডিয়া পরিকল্পনার জন্য।
• গুগল শিটস (Google Sheets) — সব অডিও রেকর্ডিংয়ের একটি তালিকা (টেপ ইনভেন্টরি) স্প্রেডশিটে সংরক্ষণ করুন। হিসাব রাখা এবং প্রয়োজনে দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য।
উই কিপ আস সেফ প্রকল্পে লানচিয়ানেসে ডেসক্রিপ্ট ব্যবহার করেছিলেন। তার মতে, এটি ছিল “কাজের ধরন বদলে দেওয়ার মতো একটি টুল।”
তিনি বলেন, “আমরা এটি ট্রান্সক্রিপশন এবং স্ক্রিপ্ট লেখার—দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করেছি। সাক্ষাৎকারটি ট্রান্সক্রাইব করার জন্য আমি সেটি ডেসক্রিপ্টে আপলোড করতাম। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বক্তাদের পরিচয় (speaker labels), শিরোনাম এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ও সাজিয়ে দেয়। পরে যখন স্ক্রিপ্ট লেখার সময় আসে, তখনও আমরা একই সফটওয়্যারেই কাজ চালিয়ে যাই। পডকাস্টের জগতে এটি যেন এক ধরনের ‘কারাওকে’।” তিনি যোগ করেন, এমন আরও কয়েকটি অ্যাপ রয়েছে, যা শ্রোতাদের কাছে বিরক্তিকর মনে হতে পারে—এমন বারবার উচ্চারিত “উম” বা “আহ”–এর মতো ফিলার শব্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে সহজেই বাদ দিতে পারে।
প্রতিবেদকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করুন এবং তাঁর রেকর্ডিংগুলো শুনুন—এভাবে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়। কোলানেরি বলেন, “প্রতিবেদক ফিরে এলে তাঁর সঙ্গে বসে বিস্তারিত কথা বলুন (ডিব্রিফিং সেশন করুন) । যেমন তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, ‘আচ্ছা! তাহলে, তিনি কী বললেন?’” তিনি আরও বলেন, “এরপর আমি হাঁটতে হাঁটতে তার আনা অসম্পাদিত অডিও রেকর্ডিংগুলো (র টেপ) শুনতে পছন্দ করি। এতে আমি বুঝতে পারি, তার কাছে কী তথ্য আছে, আর কী তথ্য এখনো নেই। ফলে পরেরবার যখন আমরা আলোচনা করি, তখন আমি বলতে পারি, ‘পরেরবার এই সূত্রটির সঙ্গে কথা বললে, আমরা কি অমুক, তমুক বা আরেকটি বিষয় জানতে পারি? এ ধরনের আরেকজন ব্যক্তির সঙ্গেও কি কথা বলা যায়?’”

দ্য এম্পটি গ্রেভ অব কমরেড বিশপ পডকাস্ট। অলংকরণ: স্ক্রিনশট। লুসি ন্যাল্যান্ড, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট; পিটার মরিস, ফেয়ারফ্যাক্স মিডিয়া/গেটি ইমেজেস; পিট লিয়াবো, এপি; এপি; ইউএসজিএস; জাবিন বটসফোর্ড, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট; জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ ভাইস প্রেসিডেনশিয়াল রেকর্ডস; অ্যালেইন, এপি; দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
কাজের জন্য একটি সময়সূচি (প্রোডাকশন ক্যালেন্ডার) তৈরি করুন। লানচিয়ানেসে বলেন, “এই পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের জন্য একটি ক্যালেন্ডার থাকা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “দুটি বিষয় মনে রাখুন—একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করুন, তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি নিয়মিত হালনাগাদ করুন। কারণ পডকাস্টের কাজ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, তাই অনেক নির্ধারিত সময়সীমাই পেছাতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো, আপনার ক্যালেন্ডারটি আগে থেকেই যাচাই করুন। কোন সময়টায় একসঙ্গে কাজের চাপ রয়েছে—যেমন একজনকে একই সময়ে তিনটি পর্ব নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে—সেগুলো চিহ্নিত করুন। ছুটির দিনগুলোর বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখুন। আমার সবচেয়ে পছন্দের টুল এয়ারটেবল, তবে গুগল ডক্স দিয়েও এই কাজ করা সম্ভব।”
শুরুর দিকেই বন্ধু ও সহকর্মীদের মতামত নিন। লানচিয়ানেসে বলেন, “প্রিন্ট সাংবাদিকতায় আমরা সাধারণত এটি করি না। কিন্তু পডকাস্টে আমরা খসড়া পর্ব অনেকের কাছে পাঠিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া নিই—বিশেষ করে যারা প্রকল্পটি সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানেন না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিটি খসড়া পর্ব মতামতের জন্য প্রায় এক ডজন মানুষের কাছে পাঠাই। তাদের মধ্যে থাকেন বিষয়-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, বন্ধু ও সহকর্মীরা। এরপর সেই মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন করি এবং একই প্রক্রিয়া প্রতিটি পর্বের ক্ষেত্রেই আবার অনুসরণ করি।”
“গল্পের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলবেন না…। তথ্যের পরিমাণ যদি খুব বেশি হয়ে যায়, তাহলে শ্রোতারা শেষ পর্যন্ত সেগুলোর কোনোটিই ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারবেন না।”— কেটি কোলানেরি, নিউ হ্যাম্পশায়ার পাবলিক রেডিও–এর জ্যেষ্ঠ পডকাস্ট সম্পাদক
প্রাথমিক খসড়া নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করুন—এটিই হতে পারে পুরো ধারাবাহিক প্রতিবেদনের স্টোরিবোর্ড। আলোচকদের মতে, সাংবাদিকেরা যেহেতু স্বভাবসুলভভাবেই গল্প বলতে পারেন, তাই প্রতিবেদকদের নিয়ে স্টুডিওতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার একটি প্রাথমিক পর্ব পুরো পডকাস্ট সিরিজের স্টোরিবোর্ড তৈরির ভিত্তি হতে পারে। লানচিয়ানেসে স্মৃতিচারণ করে বলেন, “একটি প্রকল্পে আমরা টানা পাঁচ দিন, প্রতিদিন আট ঘণ্টার জন্য স্টুডিও ভাড়া করেছিলাম। সেখানে উপস্থাপক ও প্রতিবেদকদের নিয়ে আমরা বসেছিলাম, আর আমি তাদের বলেছিলাম, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো গল্পটি বলে যেতে।” তিনি আরও বলেন, “এরপর সেই রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাওয়া অডিও, সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন দৃশ্যের শব্দ একত্র করে আমরা এমন একটি খসড়া তৈরি করি, যা অনেকটা একটি পূর্ণাঙ্গ পডকাস্ট সিরিজের মতো হয়ে উঠল। যা আমাদের স্টোরিবোর্ডের মতো কাজ করেছিল। এতে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম—কোন কাঠামো কাজ করছে, আর কোনটি করছে না। শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত পডকাস্টের প্রায় ৫ শতাংশ উপাদান সেই প্রাথমিক খসড়া সেশন থেকেই এসেছে।”
অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ শ্রোতার দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিন। আলোচকদের মতে, প্রতিবেদকদের আন্তরিক পরিশ্রম এবং সূত্রগুলোর সাহসী সাক্ষ্য অনেক সময় রেকর্ডিংয়ের একটি বড় অংশ বাদ দেওয়ার কাজটিকে কঠিন করে তোলে। কিন্তু একটি শক্তিশালী পডকাস্ট তৈরির জন্য অনেক ক্ষেত্রেই এর প্রয়োজন হয়। এই সময় সম্পাদক নিজেকে ভবিষ্যৎ শ্রোতার প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কোলানেরি বলেন, “গল্পের উপাদানের সঙ্গে নিজেকে অতিরিক্ত জড়িয়ে ফেলবেন না। তথ্যের পরিমাণ যদি খুব বেশি হয়ে যায়, তাহলে শ্রোতারা শেষ পর্যন্ত সেগুলোর কোনোটিই ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “এই কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্ক্রিপ্টের সমস্যাগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর সমাধান খুঁজে বের করা। নিজের সহজাত উপলব্ধির দিকটিও গুরুত্ব দিন। নিজেকে প্রশ্ন করুন— ‘আমি কি বিভ্রান্ত বোধ করছি? এই অংশটি কি আমার কাছে পরিষ্কার নয়? আমি কি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি? একসঙ্গে কি খুব বেশি তথ্য চলে আসছে?’ আবার ইতিবাচক দিক থেকেও ভাবুন— ‘কোন জায়গায় আমি আগ্রহ অনুভব করছি? কোথায় গিয়ে আমি বেশি অবাক হচ্ছি?’”
রোয়ান ফিলিপ জিআইজেএনের গ্লোবাল রিপোর্টার এবং ইমপ্যাক্ট এডিটর। তিনি আগে দক্ষিণ আফ্রিকার সানডে টাইমসের প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। বিদেশি সংবাদদাতা হিসেবে তিনি বিশ্বের দুই ডজনেরও বেশি দেশ থেকে সংবাদ, রাজনীতি, দুর্নীতি এবং সংঘাত নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন।