প্রবেশগম্যতা সেটিংস

ছবি: লুইজা কারাজর্জিও, জিআইজেএন-এর জন্য

রিসোর্স

» গাইড

বিষয়

সাংবাদিকদের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি অনুসন্ধান গাইড

আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:

ভূমিকা

অপরাধী ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা গোপনে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর জন্য ব্যবহার করছে ক্রিপ্টোকারেন্সি, যা অনেক সময় প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থাকে পাশ কাটাতে সমর্থ হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধনীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজনীতিবিদদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবেও ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বেড়েছে। অন্যদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষ। এফবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধের কারণে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতি বছর শত শত মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। এসব কারণে জবাবদিহিমূলক সাংবাদিকতার জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন অনুসন্ধান করাটা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তবে বিকল্প এই আর্থিক ব্যবস্থাটি যেভাবে পরিচালিত হয়, তা অনুসন্ধানের কাজগুলোকে বেশ জটিল করে তুলতে পারে।

ক্রিপ্টোর মূল কাঠামোতেই কিন্তু একটি বৈপরীত্য বিদ্যমান। একদিকে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের পরিচয় গোপনে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, বেশিরভাগ লেনদেনই ব্লকচেইন নামে পরিচিত উন্মুক্ত ডিজিটাল লেজারে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। সঠিক অনুসন্ধানী টুল ও কৌশল ব্যবহার করতে পারলে, এই রেকর্ডগুলো সাংবাদিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র, অনুসন্ধানের নতুন দিক এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটনের শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত হতে পারে।

চ্যালেঞ্জ

২০২৫ সালে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থপাচার নিয়ে তৈরি দ্য কয়েন লন্ড্রি নামক অনুসন্ধানটির নেতৃত্ব দেয় আইসিআইজে। এই অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে ব্লকচেইন বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জন্য আমরা সফলতার চারটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি খুঁজে পাই। প্রথমত, উন্মুক্তভাবে ব্যবহারযোগ্য ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশ্লেষণ টুল কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করতে হয়, সে সম্পর্কে আমরা মৌলিক ধারণা অর্জন করি। দ্বিতীয়ত, ক্রিপ্টোকারেন্সির ঠিকানা (ক্রিপ্টো অ্যাড্রেস) কোথায় পাওয়া যায়, তা জানতে পারি। তৃতীয়ত, আমরা বড় বড় ক্রিপ্টো অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়ে দিই। এর পরিবর্তে, পৃথকভাবে কাজ করা কয়েক ডজন ক্রিপ্টো ট্রেসিং বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলি। তারা আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানের ফলাফল যাচাই করতে এবং সেগুলো আরও বিস্তৃত করতে সহায়তা করেন। চতুর্থত, আর্কহাম ইন্টেলিজেন্স এবং ট্রনস্ক্যান—এই দুটি বিনামূল্যের ব্লকচেইন এক্সপ্লোরার টুলের এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করে বৃহৎ পরিসরে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন বিশ্লেষণ করার পদ্ধতি আমরা শিখি।

জটিল বিষয়গুলোতে যাওয়ার আগে, চলুন ক্রিপ্টোকারেন্সির একেবারে প্রাথমিক ধারণা দিয়ে শুরু করা যাক।

ব্লকচেইন হলো একটি বিকেন্দ্রীভূত (ডিসেন্ট্রালাইজড) এবং বিতরণকৃত (ডিস্ট্রিবিউটেড) ডিজিটাল লেজার, যা একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কজুড়ে তথ্য সংরক্ষণ করে এবং সাধারণত কোনো লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ধারন করে। কেবল অনলাইনেই ক্রিপ্টো সম্পদের (ক্রিপ্টো অ্যাসেট) অস্তিত্ব রয়েছে, আর এগুলো লেনদেন, বিনিয়োগ এবং পণ্য বা পরিষেবা কেনাকাটায় ব্যবহৃত হয়। ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য ‘ব্লক’ নামে পরিচিত ফাইলে সংরক্ষণ করা হয়। এসব ব্লক সময়ক্রম অনুসারে একটির সঙ্গে আরেকটি যুক্ত হয়ে একটি ডিজিটাল ‘চেইন’ বা শৃঙ্খল তৈরি করে। ক্রিপ্টোকারেন্সির বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যেমন বিটকয়েন (Bitcoin), ইথেরিয়াম (Ethereum), টেথার (Tether) ইত্যাদি। এর মধ্যে কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি, যেমন বিটকয়েন, শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব ব্লকচেইনে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে টেথার-এর মতো কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি একাধিক ব্লকচেইনে পরিচালিত হতে পারে।

Arkham Intelligence screensot of Bitcoin crypto activity

বিটকয়েনের ওপর করা একটি ব্লকচেইন প্রতিবেদন, যেখানে এর বর্তমান বাজারদর (স্পট প্রাইস), দামের ইতিহাস, শীর্ষ হোল্ডারদের তথ্য এবং সাম্প্রতিক লেনদেন দেখানো হয়েছে। ছবি: আর্কহাম ইন্টেলিজেন্সের স্ক্রিনশট।

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে অনুসন্ধান করার সময় প্রথমেই আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে কোন ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা হয়েছে এবং লেনদেনটি কোন ব্লকচেইনে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে, কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্যকে মার্কিন ডলার, ইউরো বা অন্য কোনো প্রচলিত মুদ্রায় রূপান্তর করার ক্ষেত্রে এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, যেসব ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য নিয়মিত ওঠানামা করে, সেগুলোর ক্ষেত্রে লেনদেনটি ঠিক কখন হয়েছে, সেটিও অবশ্যই যাচাই করতে হবে। কারণ একই পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন হতে পারে।

পরবর্তী যে বিষয়টি বোঝা জরুরি, তা হলো ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস। ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচা করতে ব্যবহারকারীদের একটি ডিজিটাল ওয়ালেটের প্রয়োজন হয়। ব্যবহারকারীরা দুটি উপায়ে এই ওয়ালেট পেতে পারেন। একটি হলো কোনো ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে নিবন্ধন করা, যেখানে এক্সচেঞ্জটি ব্যবহারকারীর হয়ে ওয়ালেটটি পরিচালনা করে। অন্যটি হলো সেলফ-কাস্টডি ওয়ালেট তৈরি করা— ওয়ালেটে প্রবেশাধিকার থাকে শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর (যেখানে ব্যবহারকারী নিজেই তার ডিজিটাল সম্পদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন)। আইফোনের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে উচ্চমাত্রার পরিচয়-গোপনীয়তা নিশ্চিত করে এমন সেলফ-কাস্টডি ওয়ালেট খুব সহজেই তৈরি করা যায়। একটি ক্রিপ্টো ওয়ালেটের দুটি ধরনের চাবি (Key) থাকে—পাবলিক কি এবং প্রাইভেট কি। পাবলিক কি— অনেকটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরের মতো ( অন্যদের কাছে নিরাপদে এটি বলা  যায়)। ব্লকচেইনে সংরক্ষিত লেনদেনের তথ্যের মধ্যে এটি দৃশ্যমান থাকে। নিষেধাজ্ঞার (স্যাংশন) তালিকায় যে সংখ্যা ও অক্ষরের সমন্বয়ে তৈরি স্ট্রিং প্রকাশ করা হয়, সেটিই মূলত এই পাবলিক কি। আর্কহাম ইন্টেলিজেন্সের মতো ব্লকচেইন এক্সপ্লোরারে অনুসন্ধান করার সময় আপনাকে এই পাবলিক কি-ই ব্যবহার করতে হবে। অন্যদিকে, প্রাইভেট কি অনেকটা পাসওয়ার্ডের মতো (গোপন ডিজিটাল চাবি, যা প্রমাণ করে যে ওই ওয়ালেটের প্রকৃত মালিক আপনি)। এটি প্রকাশ্যে দেখা যায় না। যে ব্যক্তি প্রাইভেট কি’র নিয়ন্ত্রণে থাকেন, সেই ওই চাবির সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপরও নিয়ন্ত্রণ রাখেন।

প্রতারণাসংক্রান্ত (স্ক্যাম) ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন অনুসরণ করতে হলে প্রথমেই আপনার একটি ক্রিপ্টো ওয়ালেট অ্যাড্রেস প্রয়োজন হবে। এই ওয়ালেট অ্যাড্রেস বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া যেতে পারে। যেমন—পুলিশের প্রতিবেদন, আদালতের নথি এবং নিষেধাজ্ঞার (স্যাংশন) তালিকা। এছাড়া আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে দাখিল করা অভিযোগ থেকেও এসব অ্যাড্রেস পাওয়া সম্ভব। স্ক্যামের শিকার ব্যক্তিদের বা তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেও ওয়ালেট অ্যাড্রেস সংগ্রহ করা যেতে পারে। অনেক সময় তাদের কাছে লেনদেনের রসিদ থাকে, যেখানে উল্লেখ থাকে ভুক্তভোগীর ক্রিপ্টোকারেন্সি কোন ওয়ালেট অ্যাড্রেসে পাঠানো হয়েছিল। অনেক ক্রিপ্টো ব্যবহারকারী অনুদান বা অর্থ সংগ্রহের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ওয়ালেট অ্যাড্রেস প্রকাশ করেন। এটিও অবৈধ অর্থের সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সির সংযোগ খুঁজে বের করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে। (যেমন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের সমর্থনে অর্থ সংগ্রহের জন্যও ক্রিপ্টো ওয়ালেট অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয়েছিল।) এছাড়া, নির্দিষ্ট ক্রিপ্টো-টু-ক্যাশ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নগদ অর্থকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াও ওয়ালেট অ্যাড্রেস শনাক্ত করার আরেকটি সম্ভাব্য উৎস হতে পারে।

দ্য কয়েন লন্ড্রি প্রকল্পের মূল প্রতিবেদনের জন্য আইসিআইজে কেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ (সেন্ট্রালাইজড এক্সচেঞ্জ) এবং হুইওন গ্রুপের মধ্যে হওয়া লেনদেন বিশ্লেষণ করেছিল। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, কম্বোডিয়াভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি স্ক্যাম ফার্ম পরিচালনাকারী চক্র এবং উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করেছে। অনুসন্ধানের সময় আমরা হুইওন গ্রুপের চীনা ভাষায় প্রকাশিত ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস খুঁজে পাই।

সেন্ট্রালাইজড এক্সচেঞ্জ হলো এমন ক্রিপ্টো লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যবহারকারীরা যে ক্রিপ্টো জমা রাখেন, এক্সচেঞ্জ তা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ওয়ালেটে সংগ্রহ করে রাখে। এই ওয়ালেটের অনেকগুলোর পরিচয় দেখা যায়। কারণ, এক্সচেঞ্জগুলো নিয়মিত তাদের  “প্রুফ অব রিজার্ভস”  বা “পিওআর” রিপোর্টস প্রতিবেদনে এসব ওয়ালেটের ঠিকানা প্রকাশ করে। এছাড়া, ব্লকচেইন এক্সপ্লোরার নামের অনলাইন টুলগুলোও অনেক সময় এসব ওয়ালেটকে নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জের মালিকানাধীন হিসেবে চিহ্নিত করে। এর ফলে আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছিলাম যে, কোন কোন ওয়ালেট নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জের। এরপর সেই এক্সচেঞ্জগুলোর ওয়ালেট এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে শনাক্ত করা ওয়ালেটগুলোর মধ্যে কী ধরনের লেনদেন হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

এই সেন্ট্রালাইজড এক্সচেঞ্জগুলোতে বছরে ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হয়। অধিকাংশ ব্যবহারকারীর ক্রিপ্টোকারেন্সিই কোনো না কোনো সময়ে একটি কেন্দ্রীভূত এক্সচেঞ্জে পৌঁছে যায়। নির্দিষ্ট পরিমাণ লেনদেনের হিসাব নির্ধারণ করতে সেন্ট্রালাইজড এক্সচেঞ্জের অ্যাকাউন্টগুলো বিশ্লেষণে মনোযোগ দেওয়াটা কাজে লাগে। আমাদের অনুসন্ধানে আমরা বহির্মুখী প্রবাহ (অর্থাৎ, সেন্ট্রালাইজড এক্সচেঞ্জের অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে যাওয়া লেনদেন) বিশ্লেষণ না করে অন্তর্মুখী প্রবাহ (অর্থাৎ, ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট থেকে সেন্ট্রালাইজড এক্সচেঞ্জের অ্যাকাউন্টে পাঠানো লেনদেন) বিশ্লেষণ করেছি। আমরা কেবল একটি দিক বেছে নিয়েছিলাম, কারণ অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী প্রবাহ আলাদাভাবে পরিমাপ করতে হয়। অন্তর্মুখী প্রবাহের ক্ষেত্রে আমরা লেনদেনের সূচনাস্থল—অর্থাৎ অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়ালেট অ্যাড্রেস—এবং গন্তব্য—অর্থাৎ এক্সচেঞ্জ-নিয়ন্ত্রিত ওয়ালেট—উভয়ই যাচাই করতে পারি। তবে একবার কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জে প্রবেশ করার পর সেটির পরবর্তী গতিপথ আর দেখা যায় না। কারণ কেন্দ্রীভূত এক্সচেঞ্জের অভ্যন্তরে যে লেনদেন হয়, তা ব্লকচেইনের বাইরে (অফ-চেইন) সম্পন্ন হয়। ফলে ব্লকচেইন এক্সপ্লোরার ব্যবহার করে সেই কার্যক্রম দেখা সম্ভব নয়। এছাড়া, একটি এক্সচেঞ্জের ভেতরে বিভিন্ন উৎস থেকে আসা ক্রিপ্টোকারেন্সি একত্রে মিশে যেতে পারে। তাই শুধু অন্তর্মুখী প্রবাহের তথ্যের ভিত্তিতে বহির্মুখী প্রবাহ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

2026 Q1 Decentralized Exchanges Trading Volume by Chain, Coingecko

ছবি: স্ক্রিনশট, কয়েনগেকো।

কৌশল ও পরামর্শ

ক্রিপ্টো শনাক্ত বিশ্লেষণের মৌলিক বিভিন্ন দিক

আইসিআইজে নিজেদের মতে করে যে ক্রিপ্টো বিশ্লেষণ করেছে, তার বেশিরভাগই ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের। তবে নিজে হাতে ক্রিপ্টো বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে যে তথ্য ও ধারণা পাওয়া যায়, তা অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য উদ্ঘাটনে সহায়তা করতে পারে। ধরুন, আপনি কোনো রাজনীতিবিদের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস খুঁজে পেলেন। অন্তত এটুকু জানা কি গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, ওই ব্যক্তির কাছে কত পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ছিল এবং তিনি সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করেছেন?

আমাদের অনুসন্ধান পদ্ধতির মূল ধারণাটি ছিল খুবই সহজ। প্রতিটি লেনদেনের একজন প্রেরক এবং একজন গ্রহীতা থাকে। আমরা জানতে চেয়েছিলাম, তারা কারা। একই সঙ্গে আমাদের অনুসন্ধানের ফলাফল যাচাই করার সক্ষমতাও থাকাটা ছিল জরুরী। তাই কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ব্লকচেইন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে আমাদের অনুসন্ধানের তথ্য যাচাই করিয়ে নেওয়া।

এই কাজটি করতে গিয়ে আইসিআইজে মূলত আর্কহাম ইন্টেলিজেন্স নামের একটি বিনামূল্যের ব্লকচেইন এক্সপ্লোরারের ওপর নির্ভর করেছিল। পাশাপাশি, কীভাবে এই টুল ব্যবহার করতে হয়, সে বিষয়ে তাদের অংশীদারদেরও প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।

এক নজরে ক্রিপ্টো শনাক্তের প্রাথমিক কয়েকটি ধাপ:

১. একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস শনাক্ত করুন।

২. আপনি কোন ধরনের লেনদেন বিশ্লেষণ করতে চান, সেটি নির্ধারণ করুন। উদাহরণ হিসেবে, আপনি প্রাপকের ওয়ালেট অ্যাড্রেস (অর্থাৎ, যে ওয়ালেটে আপনার অনুসন্ধান করা অ্যাড্রেস থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠানো হয়েছে) দিয়ে শুরু করতে পারেন। আবার প্রেরকের ওয়ালেট অ্যাড্রেস দিয়েও বিশ্লেষণ শুরু করা যেতে পারে।

৩. আপনার প্রতিবেদনের জন্য প্রাসঙ্গিক একটি নির্দিষ্ট সময়কাল নির্বাচন করুন।

৪. বিশ্লেষণের মধ্যে যদি কোনো এক্সচেঞ্জ-হোস্টেড ওয়ালেট থাকে, তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি এক্সচেঞ্জে প্রবেশ করা (অন্তর্মুখী) নাকি এক্সচেঞ্জ থেকে বের হওয়া (বহির্মুখী) ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রবাহ বিশ্লেষণ করবেন। দুটি একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, কারণ এক্সচেঞ্জগুলো বিভিন্ন ব্যবহারকারীর জমা করা ক্রিপ্টোকারেন্সি একত্রে সংরক্ষণ করে। ফলে যে ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জে প্রবেশ করেছে, সেটিই যে পরে সেখান থেকে বের হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়া যায় না।

৫. একই অর্থের পরিমাণ যেন একাধিকবার গণনায় না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কত পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠানো হয়েছে অথবা কত পরিমাণ গ্রহণ করা হয়েছে, সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। অনেক সময় ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনের প্রকৃত পথ আড়াল করতে একাধিক মধ্যবর্তী (পাস-থ্রু) ওয়ালেট অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয়।

৬. আপনার অনুসন্ধানের ফলাফল কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞ দিয়ে যাচাই করিয়ে নিন। বড় ও ছোট বিভিন্ন ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিশেষজ্ঞ, স্বতন্ত্র গবেষক, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এ ধরনের সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। অনেক ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞই লিংকডইনে বেশ সক্রিয়।

একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস বা কোনো লেনদেনের আইডি (প্রতিটি লেনদেনের জন্য সংখ্যা ও অক্ষরের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র আইডি থাকে) পাওয়ার পর সেটি ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম আর্কহামে লিখে অনুসন্ধান করুন। খেয়াল রাখবেন, অ্যাড্রেস বা আইডির আগে কিংবা পরে যেন কোনো অতিরিক্ত স্পেস না থাকে। আর্কহাম ব্যবহারবান্ধব একটি টুল। এটি সময়ের সঙ্গে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেসের সব ধরনের কার্যক্রম দেখায়। পাশাপাশি, এসব তথ্য সিএসভি (CSV) ফরম্যাটে ডাউনলোড করা যায়, যাতে পরে আরও বিশ্লেষণ বা ভিজ্যুয়ালাইজেশন করা সম্ভব হয়। আইসিআইজে দ্য কয়েন লন্ড্রি অনুসন্ধানের সময় আর্কহামের এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) অ্যাক্সেসও নিয়েছিল। এর ফলে ব্যবহারকারী ইন্টারফেসের গণ্ডির মধ্যে না থেকে সরাসরি তথ্য অনুসন্ধান (কুয়েরি) করা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমানে অনেক বেশি সংখ্যক ব্লকচেইন অনুসন্ধান টুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সুবিধা যুক্ত হচ্ছে, যার ফলে ব্যবহারকারীদের জন্য তথ্য অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করা আগের তুলনায় আরও সহজ হয়ে উঠছে।

ওয়ালেট অ্যাড্রেসের মালিক কে— ব্লকচেইন অনুসন্ধান টুলগুলো সে সম্পর্কে তথ্য শনাক্ত করার চেষ্টা করে। তবে এই তথ্য সব সময় নির্ভরযোগ্য হয় না। (উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, আমাদের একটি প্রতিবেদনে এমন একটি ওয়ালেট অ্যাড্রেস পাওয়া গিয়েছিল, যেটিকে একটি এক্সচেঞ্জ, এইচটিএক্স (HTX), এর মালিকানাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেটি ব্যবহার করছিল আরেকটি এক্সচেঞ্জ, কাইরেক্স (Kyrrex)।  তাই এসব টুলে যা দেখা যায়, তা অবশ্যই কোনো বিশেষজ্ঞ দিয়ে যাচাই করিয়ে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের কার্যক্রম বর্ণনা করার সময় আপনি কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

ওয়ালেট অ্যাড্রেস কোথায় পাওয়া যাবে

স্ক্যামের শিকার ব্যক্তিরা

স্ক্যামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস খুঁজে বের করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো স্ক্যামের শিকার ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া। দ্য কয়েন লন্ড্রি অনুসন্ধানের জন্য আইসিআইজে এবং তাদের অংশীদাররা ১২টি দেশের কয়েক ডজন ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নেয়। তবে এই ধরনের সাক্ষাৎকার নেওয়ার আগে সতর্কভাবে পরিকল্পনা করা জরুরি। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলতে ধৈর্য ও সহমর্মিতার প্রয়োজন হয়। অনেকেই প্রতারকদের ফাঁদে পড়েছেন—এই বিষয়টি নিয়ে বিব্রত বা লজ্জিত বোধ করতে পারেন। ফলে তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা দেখাতে পারেন। এছাড়া, আমরা যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের মধ্যে কেউ কেউ চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা বেসরকারি তদন্তকারী বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, অথবা তাদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু পরে আবারও প্রতারণার শিকার হন। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়েও বিভ্রান্ত থাকেন। কারণ প্রতারণার এই কার্যক্রম মাসের পর মাস ধরে চলতে পারে। এই সময়জুড়ে তাদের বিশ্বাস করানো হয় যে, তাদের অর্থ একটি বৈধ বিনিয়োগে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ঘটনাগুলোর ক্রমবিন্যাস (টাইমলাইন) তৈরি করলে রিপোর্টারের জন্য পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা বুঝতে সুবিধা হয়। পাশাপাশি, কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেসের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট প্রদান করে।

স্ক্যামের শিকার ব্যক্তিদের কাছে অনেক সময় প্রতারকদের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত নথিপত্র থাকে। এর মধ্যে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেসও থাকতে পারে। প্রতারকদের ব্যবহৃত ওয়ালেট অ্যাড্রেস ভুক্তভোগীদের সংরক্ষণ করে রাখা বার্তা, ইমেইল এবং অন্যান্য নথি থেকে পাওয়া যেতে পারে। তাদের মধ্যে কারও কাছে ক্রিপ্টো এটিএমে লেনদেনের রসিদ ছিল, আবার কেউ লেনদেনের সময় ব্যবহৃত অ্যাপের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেছিলেন। এসব নথিতে ওয়ালেট অ্যাড্রেসও উল্লেখ ছিল, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির গতিপথ অনুসরণ করতে কাজে লেগেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত করা ক্রিপ্টো ট্রেসিং প্রতিবেদন ভুক্তভোগীদের কাছে ছিল। এসব প্রতিবেদন আমাদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে (ক্রস-রেফারেন্স করে) যাচাই করতে সহায়তা করেছে। এছাড়া, প্রচলিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের উৎস—যেমন পুলিশ প্রতিবেদন, আর্থিক নথি, আদালতের নথি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে দাখিল করা অভিযোগ ইত্যাদি থেকেও ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস পাওয়া যেতে পারে।দ্য কয়েন লন্ড্রি অনুসন্ধানে আমরা কেন্দ্রীভূত এক্সচেঞ্জগুলোর ভূমিকার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলাম। পাশাপাশি, এমন ঘটনাগুলোও তুলে ধরেছিলাম, যেখানে অনুসন্ধানের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের চুরি হয়ে যাওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সির গতিপথ অনুসরণ করে আমরা সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জ পর্যন্ত শনাক্ত করতে পেরেছিলাম।

কিছু ক্ষেত্রে আইসিআইজে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় (পাবলিক রেকর্ডস রিকোয়েস্ট) আবেদন করেও ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস সংগ্রহ করেছে। অনেক বিচারব্যবস্থায় এই ধরনের অ্যাড্রেস প্রকাশের আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গোপন (রিড্যাক্ট) করে দেওয়া হয়। তবে সব জায়গায় এমনটি হয় না। উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি নথিতে সম্পূর্ণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস প্রকাশের অনুমতি রয়েছে বলে মনে হয়। আইসিআইজে সেখানে ভোক্তাদের অভিযোগপত্র এবং পুলিশের প্রতিবেদনের মাধ্যমে একাধিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস সংগ্রহ করেছিল।

ক্যাশ ডেস্কে লেনদেন

আইসিআইজের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আমরা তথাকথিত ক্যাশ ডেস্ক এবং কুরিয়ার সেবা পরিচালনাকারী একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের তথ্য প্রকাশ করেছিলাম। এসব সেবার মাধ্যমে মানুষ আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরের বাইরে থেকে গোপনে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সিকে নগদ অর্থে রূপান্তর করতে পারে। পুলিশ ও সরকারি কৌঁসুলিরা আমাদের জানিয়েছেন, এসব সেবা তাদের জন্য চুরি হওয়া অর্থের গতিপথ অনুসরণ বা তা উদ্ধার করা আরও কঠিন করে তোলে। কারণ এসব লেনদেনে প্রায়ই এমন ওয়ালেট অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয়, যেগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পরিচিত নয়। ফলে অপরাধীরা নগদ অর্থ নিয়ে সহজেই সরে পড়ে, আর অনুসন্ধানকারিদের কাছে ব্লকচেইনে দৃশ্যমান লেনদেনের ধারাবাহিকতা সেখানেই থেমে যায়।

অর্থপাচারের এই নতুন ক্ষেত্রটি গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে আইসিআইজের একজন প্রতিবেদক স্বাধীন গবেষক রিচার্ড স্যান্ডার্সের সঙ্গে কাজ করেন। স্যান্ডার্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে এসব অপব্যবহারের ঝুঁকিপূর্ণ ক্রিপ্টোসেবা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ালেট অ্যাড্রেস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের ক্যাশ ডেস্কে গিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে নগদ অর্থে রূপান্তর করেন। এই ধরনের সরাসরি লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিবেদকেরাও এমন ডিজিটাল রসিদ সংগ্রহ করতে পারেন, যেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস উল্লেখ থাকে।

ক্রিপ্টো এটিএম

ক্রিপ্টো এটিএম এবং সেগুলো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে চাইলে কয়েন এটিএম রাডার ওয়েবসাইটটি একটি ভালো সূচনা হতে পারে। একসময় সবচেয়ে বড় অপারেটর ছিল বিটকয়েন ডিপো। এটি একটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত (পাবলিকলি ট্রেডেড) কোম্পানি। তাই প্রতিষ্ঠানটির মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)-এ দাখিল করা নথিপত্র (SEC filings) পাওয়া যায়। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি টেক্সাসে দেউলিয়া হওয়ার আবেদনও করেছে। সেই মামলার নথিগুলোও অনুসন্ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হতে পারে। দ্য কয়েন লন্ড্রি প্রকল্পের জন্য আইসিআইজে কয়েন এটিএম রাডার থেকে বিটকয়েন ডিপো-র এটিএমগুলোর ভৌত অবস্থানের (ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস) তথ্য আলাদা করেছিল। ওয়েবসাইটটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ক্রিপ্টো এটিএমগুলোর ঠিকানাও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এবং স্থানীয় আদালতের নথিপত্র ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে প্রতিবেদকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হতে পারে। ফেডারেল আদালতের নথির সংরক্ষণাগার কোর্টলিসেনার-এ কোম্পানির নাম দিয়ে অনুসন্ধান করলে ক্রিপ্টো এটিএম ব্যবহার করে সংঘটিত প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধের বিভিন্ন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়। ফৌজদারি মামলায় সাধারণত ভুক্তভোগীদের নাম প্রকাশ করা হয় না। তবে এসব মামলার নথিতে প্রতারণায় ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেস প্রায়ই উল্লেখ থাকে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কিছু মামলার নথি খুঁজে বের করার জন্য ডকেট অ্যালার্ম ব্যবহার করা যেতে পারে।

দেওয়ানি মামলাগুলোতে সাধারণত আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়, যার মধ্যে ভুক্তভোগীদের নামও থাকতে পারে। এসব মামলার আইনজীবীরা অনেক সময় তাঁদের জানা তথ্য, যেমন ওয়ালেট অ্যাড্রেস প্রতিবেদকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে আগ্রহী হন এবং প্রয়োজনে তাদের মক্কেলদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করে দেন। এই ধরনের মামলার নথিও কোর্টলিসেনার (CourtListener) অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত ব্যবস্থার পেসার (PACER) ওয়েবসাইটে খুঁজে পাওয়া যায়। এই জন্য আপনি যে প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অনুসন্ধান করছেন, সেটির নাম দিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে।

সরকারি নথি পাওয়ার আবেদন করাও অনুসন্ধান শুরুর একটি কার্যকর উপায়। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা রয়েছে, যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগ সংগ্রহ করে। এসব নথি চেয়ে আবেদন করলে প্রতারণার বহু ঘটনার তথ্য পাওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সেখানে ওয়ালেট অ্যাড্রেস এবং অভিযোগের জবাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য থাকে। এ ছাড়া, যে ঠিকানায় ক্রিপ্টো এটিএম বসানো আছে, সেসব জায়গা নিয়ে করা পুলিশের প্রতিবেদনও রিপোর্টাররা চেয়ে নিতে পারেন।

তবে এসব যন্ত্র সম্পর্কে তথ্যের সবচেয়ে ভালো উৎস হতে পারেন সেগুলো স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া খুচরা ব্যবসায়ীরা। প্রতিবেদকেরা কয়েন এটিএম রাডার ব্যবহার করে কাছাকাছি থাকা ক্রিপ্টো এটিএম দোকান খুঁজে বের করতে পারেন। এরপর দোকানের মালিকদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা বা সরাসরি গিয়ে কথা বলাটা কিন্তু অসম্ভব নয়। আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দোকানের মালিক ও ব্যবস্থাপকরা অনেক ক্ষেত্রেই এসব যন্ত্র নিয়ে তারা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সে বিষয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলতে আগ্রহী ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করা

ক্রিপ্টো বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান

চেইন্যালাইসিস (Chainalysis) এবং এলিপটিক (Elliptic)-এর মতো বড় ক্রিপ্টো বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলো কখনো কখনো অবৈধ অর্থের প্রবাহ নিয়ে বড় সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের চাপ অনেক এবং তাদের বিভিন্ন ধরনের বিষয় মাথায় রেখে কাজ করতে হয়। ফলে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান থেকে সীমিত সহায়তা পাওয়ার পর আমরা ভিন্ন একটি কৌশল গ্রহণ করি। আমরা ক্রিপ্টো ট্রেসিংয়ে দক্ষ স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক গড়ে তুলি। তারা আমাদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য আরও সমৃদ্ধ করতে এবং সেগুলো যাচাই করতে সহায়তা করেন। ব্লকচেইনের তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় একাধিক বিশেষজ্ঞ একই অনুসন্ধান পুনরায় করে আমাদের ফলাফল যাচাই করতে পেরেছিলেন। আমাদের অনুসন্ধানে সহায়তাকারী কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করে উদ্ধৃত করতে হয়েছে।

পরিসংখ্যান ব্যবহারে সতর্কতা

চেইন্যালাইসিস এবং টিআরএম ল্যাবস (TRM Labs)-এর মতো বড় ক্রিপ্টো অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়মিত এমন পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। যেখানে অবৈধ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টোকারেন্সির পরিমাণ দেখানো হয়। অনেক সময় সেখানে আগের বছরের সঙ্গে তুলনামূলক তথ্যও থাকে।

তবে এসব পরিসংখ্যান ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিবেদকদের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন ওয়ালেট অ্যাড্রেসকে নিষেধাজ্ঞা, প্রতারণা, অর্থপাচার বা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পরিমাণও ক্রমাগত মোট হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে।

এই কারণে সদ্য প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনকে আগের বছরের প্রতিবেদনের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা সব সময় উপযুক্ত নয়। বরং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা উচিত, এটি অন্তত শনাক্ত করা লেনদেনের একটি হিসাব, যা প্রতিবেদন প্রকাশের পরবর্তী মাস বা বছরগুলোতে আরও বাড়তে পারে।

শিক্ষাবিদেরা

আমরা অভিযুক্ত ক্রিপ্টো প্রতারক এবং কথিত পিরামিড ও পঞ্জি স্কিমের মূল পরিকল্পনাকারী ভ্লাদিমির ওখোতনিকভ সম্পর্কেও প্রতিবেদন করেছি। যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার এবং জর্জিয়ার একটি আদালতে অর্থপাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি দুবাই থেকে যে কয়েকটি ক্রিপ্টো বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছিলেন, সেগুলোর কার্যপদ্ধতি আমরা প্রকাশ করেছি। ওখোতনিকভ বিভিন্ন তারকাকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার ব্যবসায়িক উদ্যোগের প্রচার করেছেন। পাশাপাশি, তিনি কেভিন স্পেসি পরিচালিত মার্ভেল মাল্টিভার্স থেকে অনুপ্রাণিত একটি চলচ্চিত্রের সহপ্রযোজক ও অভিনয়শিল্পীও ছিলেন। ওখোতনিকভের প্ল্যাটফর্মগুলোতে তথাকথিত স্মার্ট কন্ট্রাক্ট, অর্থাৎ ব্লকচেইনে লেখা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হওয়া কম্পিউটার কোড ব্যবহার করার পর সংশ্লিষ্ট কন্ট্রাক্টের ডেভেলপারদের কাছে ওই অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। (তবে ওখোতনিকভ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।)

এই স্কিমগুলো কীভাবে কাজ করত, তা বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একাধিক শিক্ষাবিদকে ওখোতনিকভের সর্বশেষ প্ল্যাটফর্ম মেটা হোয়েল-এর ভিত্তিতে ব্যবহৃত স্মার্ট কন্ট্রাক্টগুলো বিশ্লেষণের অনুরোধ জানাই। তারা দেখতে পান, এগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ক্রিপ্টো বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ফরসেজ-এর বেশ কিছু মিল রয়েছে। আইসিআইজের এই অনুসন্ধান ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন, জর্জিয়া ও অন্যান্য দেশের আদালতের নথি, ব্যাংকের রেকর্ড এবং ওখোতনিকভ ও তার সহযোগীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করপোরেট নথির ওপরও নির্ভর করেছে। (আইসিআইজের পক্ষ থেকে মন্তব্য চেয়ে অনুরোধ করা হলে ওখোতনিকভ কোনো সাড়া দেননি।)

সাবেক কর্মীরা

ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সাবেক কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রাখেন। ফলে তারা অনেক সময় নিজের চোখে দেখা সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী হন। (বর্তমান কর্মীরাও সম্ভাব্য তথ্যসূত্র হতে পারেন। তবে আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সাবেক কর্মীরা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করে তথ্য দিতে তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন।) আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে তারা অত্যন্ত মূল্যবান সোর্স ছিলেন। তাদের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পেরেছি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কীভাবে তাদের গ্রাহকদের যাচাই করে (বা করে না) এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন কীভাবে পর্যবেক্ষণ করে। সাবেক কর্মীদের খুঁজে বের করার জন্য লিংকডইন সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। একই ভাবে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করারও এটি একটি সহজ উপায়। তবে তাদের নাম ফেসবুক, এক্স (টুইটার), করপোরেট নথি এবং সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মতো অন্যান্য উৎস থেকেও পাওয়া যেতে পারে।

বৃহৎ পরিসরে বিশ্লেষণের জন্য এপিআই ব্যবহার করবেন যেভাবে

ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে টেরাবাইট পরিমাণ তথ্য তৈরি হয়, যা বিশ্লেষণ করতে উল্লেখযোগ্য কম্পিউটিং সক্ষমতার প্রয়োজন। ক্রিপ্টোকারেন্সির অধিকাংশ লেনদেন-সংক্রান্ত তথ্যই উন্মুক্ত ব্লকচেইনে পাওয়া যায়। তবে এসব লেনদেনের গতিপথ অনুসরণ করতে গিয়ে খুব দ্রুতই বিপুল পরিমাণ তথ্যের মুখোমুখি হতে হয়, যা বিশ্লেষণকে জটিল করে তুলতে পারে। আমরা অবশ্যই পরামর্শ দেব, আপনার অনুসন্ধানের ফলাফল বিশ্বস্ত ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞদের দিয়ে যাচাই করিয়ে নিন। তবে এই গাইডের উদ্দেশ্য হলো সাংবাদিকদের এমন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা, যাতে তারা নিজেরাই ক্রিপ্টোকারেন্সির অর্থপ্রবাহ বুঝতে এবং তার পরিমাণ বিশ্লেষণ করতে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারেন। এর ফলে গবেষণার জন্য তাদের পুরোপুরি বাইরের বিশেষজ্ঞ বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

Flow chart of Huione Group cryptocurrency fund transfers

ছবি: স্ক্রিনশট, আইসিআইজে

দ্য কয়েন লন্ড্রি অনুসন্ধানের জন্য আইসিআইজে হুইওন গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ওয়ালেটগুলোর কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্ক্যাম ফার্ম পরিচালনাকারী চক্র এবং উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের জন্য কম্বোডিয়াভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি অর্থ সরিয়েছে। তবে এই বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো আইসিআইজের অনুরোধে হুইওন গ্রুপ কোনো সাড়া দেয়নি।

আইসিআইজের ডেটা টিম এমন একটি বিশ্লেষণ পদ্ধতি তৈরি করতে চেয়েছিল, যা অন্য ডেটা সাংবাদিকেরাও বিনামূল্যের বা স্বল্প বাজেটের বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে সহজেই অনুসরণ করতে পারবেন। সে উদ্দেশ্যে আমরা আমাদের বিশ্লেষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিসর নির্ধারণ করি:

১. আমরা ওই তিনটি ওয়ালেট অ্যাড্রেস থেকে পাঠানো ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপরই বিশ্লেষণ সীমাবদ্ধ রেখেছিলাম।

২. এই তিনটি ওয়ালেট অ্যাড্রেসই ট্রন (TRON) ব্লকচেইনের ছিল।

৩. আমরা শুধু টেথার (USDT) ব্যবহার করে পাঠানো লেনদেন বিশ্লেষণ করেছি। টেথার একটি স্টেবলকয়েন (stablecoin), যার মূল্য মার্কিন ডলারের সঙ্গে এক-এক অনুপাতে নির্ধারিত থাকে। ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সির আর্থিক মূল্য হিসাব করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।

৪. আগের যাচাই থেকে আমরা জানতাম, এসব ক্রিপ্টোকারেন্সির একটি অংশ বিন্যান্স (Binance) এবং ওকেএক্স (OKX)-এর অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছিল। তাই আমরা এই দুটি এক্সচেঞ্জের ওপরই গুরুত্ব দিই। বিন্যান্স-এর ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এবং ওকেএক্স-এর ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের পরিমাণ নির্ণয় করেছি।

বিন্যান্সের ক্ষেত্রে আমরা যে লেনদেনগুলো পর্যালোচনা করেছি, সেগুলো ঘটেছিল ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির দোষ স্বীকার এবং ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে সম্মত হওয়ার পর। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বলেছিলেন, প্রতিষ্ঠানটির “ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতা” (willful failures) “সন্ত্রাসী, সাইবার অপরাধী এবং শিশু নির্যাতনকারীদের কাছে অর্থ পৌঁছানোর সুযোগ করে দিয়েছিল।” অন্যদিকে, ওকেএক্সের ক্ষেত্রে আমরা যে লেনদেনগুলো বিশ্লেষণ করেছি, সেগুলো সংঘটিত হয় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থপাচারবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির দোষ স্বীকার করার পর। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল, হুইওন গ্রুপের এই তিনটি ওয়ালেট অ্যাড্রেস থেকে বিন্যান্স এবং ওকেএক্স-এর অ্যাকাউন্টে মোট কত পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রবাহিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা।

আমরা আর্কহাম ইন্টেলিজেন্স এবং ট্রনস্ক্যান-এর এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) থেকে উন্মুক্তভাবে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করেছি। এক্সপোর্ট করা তথ্যে দেখা যায়, হুইওন গ্রুপ থেকে টেথার (USDT) পাঠানো হয়েছে এমন কিছু ওয়ালেট অ্যাড্রেসে, যেগুলোকে আর্কহাম বিন্যান্স এবং ওকেএক্স-এর ডিপোজিট অ্যাড্রেস হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পরে আমরা ওই ডিপোজিট অ্যাড্রে থেকে এক্সচেঞ্জগুলোর ব্যবহৃত তথাকথিত হট ওয়ালেট-এ অর্থপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে আর্কহামের এই শ্রেণিবিন্যাস (লেবেল) যাচাই করি। হট ওয়ালেট হলো এমন ওয়ালেট, যা এক্সচেঞ্জগুলো ব্যবহারকারীদের জমা (ডিপোজিট) ও উত্তোলন (উইথড্রয়াল) পরিচালনার জন্য ব্যবহার করে।

এরপর আমাদের দল সংশ্লিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হুইওন গ্রুপ থেকে বিন্যান্স ও ওকেএক্সের অ্যাকাউন্টে পাঠানো কয়েক শ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের মোট পরিমাণ হিসাব করে।

এক্সচেঞ্জগুলো যে সত্যিই এসব ডিপোজিট ওয়ালেট নিয়ন্ত্রণ করে, তা আমরা যাচাই করেছি একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করে। আমরা শুধু সেই ওয়ালেটগুলোই বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করেছি, যেগুলো তাদের তহবিলের অন্তত ৯৯ শতাংশ তথাকথিত হট ওয়ালেট-এ পাঠিয়েছে। গ্রাহকদের জমা করা অর্থ একত্রে সংরক্ষণের জন্য এক্সচেঞ্জগুলো এই হট ওয়ালেট ব্যবহার করে। বিন্যান্স এবং ওকেএক্স যে এসব হট ওয়ালেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তা আমরা তাদের প্রকাশিত প্রুফ অব রিজার্ভস (Proof of Reserves) তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছি। ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করতে যে গ্রাহকদের জমা রাখা সম্পদের সমপরিমাণ সম্পদ তাদের কাছে রয়েছে, সে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান দুটি এসব তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করে।

আমাদের ডেটা টিম পুরো বিশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার জন্য পাইথন ব্যবহার করে। দলের একজন সদস্য জ্যাঙ্গো দ্বারা পরিচালিত একটি পোস্টগ্রেএসকিউএল (PostgreSQL) ডেটাবেজে তথ্য সংরক্ষণ করেন। অন্য সদস্য মেকফাইল, কমান্ড লাইন পাইপলাইন, প্যান্ডাস (pandas), ভিসিডেটা (VisiData) এবং নোটবুক ব্যবহার করে তথ্য বিশ্লেষণ করেন।

এছাড়া, পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের জন্য দলটি পাইথনের প্যান্ডাস (pandas) লাইব্রেরিও ব্যবহার করেছে।

Chart breakdown of Huione Group cryptocurrency transfers to Binance and OKX.

ছবি: স্ক্রিনশট, আইসিআইজে

কেস স্টাডি

আফ্রিকা

কেনিয়ায় আফ্রিকা আনসেন্সরড অনুসন্ধান করে দেখেছে, ক্লিক করলে টাকা পাওয়া যাবে, এমন প্রতারণামূলক স্কিম কীভাবে ধীরে ধীরে ভুয়া ক্রিপ্টো বিনিয়োগের ফাঁদে পরিণত হয়। প্রতারকরা মানুষের বিশ্বাস, স্থানীয় সামাজিক নেটওয়ার্ক এবং নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই প্রতারণা চালায়। প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কীভাবে মানুষকে নানা কৌশলে প্রলুব্ধ করে শেষ পর্যন্ত তাদের শোষণ করা হয়েছে।

এশিয়া

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ সংক্রান্ত অনুসন্ধান এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি কথিত ‘বড় ধরনের ক্রিপ্টো প্রতারণা’ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। । যেগুলোতে ভারতীয় অপারেটরদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এবং ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে উন্মোচিত হয়েছে।  এসব প্রতারণার ঘটনায় ভারতীয় অপারেটরদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চক্রগুলোকে উন্মোচন করেছে। প্রতিবেদনে আরও দেখানো হয়েছে, উপযুক্ত আইনগত কাঠামোর অভাবে কীভাবে প্রায় ১২ কোটি ভারতীয় বিনিয়োগকারী আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়েছেন

দক্ষিণ আমেরিকা

ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ায় কনেক্টাস, ভিস্তাসো এবং এল এসপেক্তাদর যৌথভাবে কোটি কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ কেলেঙ্কারির অনুসন্ধান করেছে। এতে একজন সাবেক টেলিভিশন অভিনেত্রী, একটি খ্রিষ্টান গির্জা এবং সহজে অর্থ আয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া একটি কথিত প্রতারণামূলক অনলাইন বিজনেস স্কুলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, এডিএন বিজনেস স্কুল অংশগ্রহণকারীদের বৈদেশিক মুদ্রা (ফরেক্স) লেনদেন, খেলা ঘিরে বাজি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি টোকেন কেনাবেচার মতো প্রশ্নবিদ্ধ ব্যবসায়িক কৌশল ব্যবহার করে দ্রুত অর্থ আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বাস্তবে, এর ফলে হাজারো মানুষ ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়েছেন বলে জানা যায়। কনেক্টাস এবং ভিস্তাসো-র অনুসন্ধানে দেখা যায়, অন্তত ৩৬ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে মোট ১৭৬ মিলিয়ন মূল্যের সম্পদ সরানো হয়েছে। কেননা এর আগে প্রসিকিউটররা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর অর্থ জব্দ করতে পারেননি। ইকুয়েডরের প্রসিকিউটর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে, তারা ওই অর্থের গতিপথ সফলভাবে বিন্যান্স পর্যন্ত অনুসরণ করতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে এডিএন বিজনেস স্কুলের এই কথিত কেলেঙ্কারির মূল পরিকল্পনাকারীরা একাধিক ওয়ালেট নিবন্ধন করেছিলেন।

উরুগুয়েতে বুসকেদা এমন এক সাবেক রাগবি খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক একটি ফৌজদারি অভিযোগের অনুসন্ধান করেছে, যিনি পরে কথিত ক্রিপ্টো প্রতারকে পরিণত হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ধনী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। চিলিতে সিআইপিইআর (CIPER) এবং লাবট (LaBot) অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ জব্দে প্রসিকিউটরদের উদ্যোগ এবং অবাস্তব মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশে কীভাবে ক্রিপ্টো প্রতারণা বেড়ে চলেছে, তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

উত্তর আমেরিকা

সিবিসি নিউজ, দ্য টরন্টো স্টার এবং লা প্রেস কানাডায় ক্রিপ্টো-টু-ক্যাশ সেবার বিস্তার নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। এসব সেবার মাধ্যমে যে কেউ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিদেশে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণহীন একটি ডিজিটাল ওয়ালেটে পাঠাতে পারে এবং পরে পরিচয় গোপন রেখে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। আন্ডারকভার পরিচয়ে কাজ করা এক সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা দুটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে মন্ট্রিয়লের একটি নির্দিষ্ট স্থানে সর্বোচ্চ ১০ লাখ কানাডিয়ান ডলার (৭১২,০০০ মার্কিন ডলার) নগদ পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।

সিএনএন এবং আইসিআইজে-র অনুসন্ধানে দেখা যায়, সার্কেল কে নামের একটি কনভেনিয়েন্স স্টোর চেইন তাদের দোকানে ক্রিপ্টো এটিএম বসানোর জন্য জায়গা ভাড়া দিয়ে কয়েক লাখ ডলার আয় করেছে। অথচ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বলছে, এই এটিএমগুলো আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং একই দোকানে বারবার অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় পুলিশকে ছুটে যেতে হচ্ছে। সার্কেল কে-র দোকানগুলোতে ঘটে যাওয়া ক্রিপ্টো এটিএম প্রতারণার ১৫০টিরও বেশি ঘটনা পর্যালোচনা করেছে সিএনএন এবং আইসিআইজে। তারা ১৭ জন কর্মীর সঙ্গেও কথা বলেছে। এসব কর্মী জানান, কাজের সময় তারা প্রতারণার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তা ঠেকানোর চেষ্টাও করেছেন। তাদের একজন এমন একজন ব্যক্তিকে দেখেছেন, যিনি প্রতারণার শিকার হয়ে হারানো অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় ভারী হাতুড়ি দিয়ে একটি ক্রিপ্টো এটিএম ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন। কয়েকজন কর্মী জানান, তারা এই সমস্যার কথা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে খুব কমই সহযোগিতা পেয়েছেন।

ইউরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ক্রিপ্টো শিল্পের সম্পর্ক নিয়ে ইতালির এল’এসপ্রেসো এবং জার্মানির জ্যুডডয়চে সাইটুংসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। জ্যুডডয়চে সাইটুং ক্রিপ্টো প্রতারণার বিস্তার, ক্রিপ্টোকারেন্সির সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধের সম্পর্ক এবং অস্ট্রিয়ার সংবাদমাধ্যম প্রোফিল-এর সঙ্গে যৌথভাবে বিটপান্ডা এক্সচেঞ্জ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। ডে টাইড এবং ন্যাক-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অপরাধ অনুসন্ধানে বেলজিয়ামের পুলিশ ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বিন্যান্স। তারা আরও জানতে পেরেছে, ইউরোপের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তথ্যের অনুরোধ এলে অন্যান্য বড় এক্সচেঞ্জও বিভিন্ন ধরনের বাধা তৈরি করছে। হেট ফিনান্সিয়েলে দাখব্লাড ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিবন্ধিত একটি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের বিরুদ্ধে ২৫ জন ডাচ ভুক্তভোগীর করা মামলার ওপর প্রতিবেদন করেছে। অভিযোগ, প্রতারকদের হাত থেকে ব্যবহারকারীদের যথাযথভাবে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে ওই এক্সচেঞ্জ।

মধ্যপ্রাচ্য

শোমরিম হামাস এবং ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাড্রেসগুলোর কার্যক্রম এবং সেগুলোর সঙ্গে বড় বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের সংযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করেছে।


স্পেনসার উডম্যান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইসিআইজের একজন প্রতিবেদক। তিনি দ্য কয়েন লন্ড্রি অনুসন্ধানের প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। বর্তমানে আর্থিক অপরাধ, বিশেষ করে ক্রিপ্টো সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ে প্রতিবেদন করে চলেছেন।

 স্কিলা আলেচ্চি আইসিআইজের একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ভিডিও সাংবাদিক। তিনি এশিয়া ইউরোপ অঞ্চলের পার্টনারশিপ সমন্বয়কারী এবং আইসিআইজের সদস্য। আইসিআইজের একাধিক অনুসন্ধানী প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার মধ্যে ডিফরেস্টেশন ইনক. এবং চায়না টার্গেটস উল্লেখযোগ্য।

বেন ডুলি ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক আইসিআইজের একজন প্রতিবেদক। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এশিয়া নিয়ে প্রতিবেদন করছেন। এর আগে তিনি জাপানের কিয়োদো নিউজএর হয়ে ওয়াশিংটন বেইজিংয়ে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন।

অ্যানিস শিন ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক আইসিআইজের নির্বাহী ব্যবস্থাপনা সম্পাদকএর আগে ওয়াশিংটন পোস্টে ব্যবসাবিষয়ক প্রতিবেদক, ওয়াশিংটন পোস্ট ম্যাগাজিনের সম্পাদক এবং সর্বশেষ পত্রিকাটির সামাজিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন।

আগুস্তিন আরমেন্দারিজ (অগি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইসিআইজের জ্যেষ্ঠ ডেটা প্রতিবেদক। আইসিআইজেতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দৈনিক সংবাদ প্রকাশে ডেটা বিশ্লেষণের কাজ করতেন।  তিনি সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং, সান ডিয়েগো ইউনিয়নট্রিবিউন এবং সেন্টার ফর পাবলিক ইন্টেগ্রিটিতেও কাজ করেছেন।

মিগেল ফিয়ানদর গুতিয়েরেস স্পেনভিত্তিক আইসিআইজের একজন ডেটা ইঞ্জিনিয়ার। ২০১৫ সালে আইসিআইজেতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি সংস্থাটির ডেটা ইউনিটের বিভিন্ন কারিগরি প্রকল্পে কাজ করছেন, যার মধ্যে পানামা পেপারস অনুসন্ধানও রয়েছে। তিনি ডেটা যাচাই-বাছাই, রূপান্তর বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন টুল তৈরি করেছেন। পাশাপাশি ওয়েব ডেটাবেজ উন্নয়ন এবং অন্যান্য ডেটা প্রক্রিয়াকরণের কাজও করেন।

ডেলফিন রইটার ২০২৩ সাল থেকে আইসিআইজের ডেটা গবেষণা বিভাগের প্রধান। তিনি আইসিআইজের একাধিক অনুসন্ধানী প্রকল্পে ডেটা ইউনিটের কাজ সমন্বয় করেছেন। এই দায়িত্বে আসার আগে তিনি একই দলে ডেটা সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি স্পেনে অবস্থান করছেন।

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

পরামর্শ ও টুল

অনুসন্ধানী পডকাস্ট সম্পাদনা করবেন কীভাবে- বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন সেই পরামর্শ

যেসব ঘটনা লিখিত প্রতিবেদনের জন্য ‘পুরোনো’ বা ‘সময়োত্তীর্ণ’ বলে মনে হতে পারে, সেগুলো পডকাস্টের জন্য বরং বাড়তি সুবিধা। প্রচলিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও, অতীতের কোনো ঘটনা বা একটি ঘটনার শুরু নিয়ে করা অনুসন্ধানগুলো পডকাস্টের জন্য বেশ উপযোগী।

পরামর্শ ও টুল

কীটনাশকের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে অনুসন্ধান করতে ইচ্ছুক সাংবাদিকদের জন্য কিছু পরামর্শ

রোগ এবং কীটনাশকের সংস্পর্শের মধ্যে বৈজ্ঞানিকভাবে সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করা কঠিন হলেও, স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে চারপাশের শক্তিশালী প্রমাণ পাঠকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। পশ্চিমের অনেক দেশে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করার জন্য অনলাইনে প্রচুর তথ্য পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব তথ্য পেতে সরকারি নথি চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করারও প্রয়োজন হয় না।

অনুসন্ধান পদ্ধতি পরামর্শ ও টুল

ভিডিও তথ্যের শক্তিশালী উৎস, রিপোর্টিংয়ের জন্য পথচারীদের থেকে পাওয়া ভিডিও যাচাই করবেন যেভাবে

আধুনিক সাংবাদিকতায় তথ্য-প্রমাণের অন্যতম শক্তিশালী একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে ভিডিও, যেখানে আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এই প্রমাণ জাল ও কারসাজি করার কাজগুলো আরও সহজ করে দিয়েছে। এই নতুন বাস্তবতায় সাংবাদিকদের অবশ্যই ভিজ্যুয়াল ইনভেস্টিগেটর হয়ে উঠতে হবে।

environmental spill ocean liquid natural gas terminal

পরামর্শ ও টুল সংবাদ ও বিশ্লেষণ

কীভাবে খুঁজবেন, পরিবেশের ক্ষতির পেছনে কে বা কারা জড়িত?

পরিবেশ সম্পর্কিত যে কোন অবৈধ কাজের সঙ্গে অনেক বেশি আর্থিক সংশ্লেষ থাকে। আর তা উন্মোচনের জন্য নিবিড়ভাবে জানতে হয় বিভিন্ন অঞ্চল, আর সেখানকার আইন কানুন, গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরিতে কিছু কৌশল সাংবাদিকদের সাহায্য করতে পারে।