প্রবেশগম্যতা সেটিংস

বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ভিজচিত্র সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রোহিত সরণ। ছবি: ভিজচিত্র কমিউনিটির সৌজন্যে

লেখাপত্র

বিষয়

ডেটা স্টোরিটেলারদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ: যেভাবে ভিজ্যুয়ালাইজেশনে একে অন্যকে সহায়তা করছে

কয়েক বছর আগের কথা। কোভিড-১৯ মহামারি যখন গোটা বিশ্বকে প্রায় স্থবির করে ফেলেছিল, ভারতে তখন ডেটা নিয়ে কাজ করেন এমন সাংবাদিক, ডিজাইনার, গবেষক, ডেভেলপার এবং সিভিক টেকনোলজিস্টদের (যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনস্বার্থে কাজ করেন) ছোট একটি দল একটি ধারণা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। যদিও তারা কোনো অনলাইন অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করছিলেন না। বরং, বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে গিয়ে নিজেদের মতো একই পেশার মানুষদের খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

বার্তাকক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে—তারা ডেটা রিপোর্টিং বা ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশনের কাজ করতেন। পরস্পরের মতামত বিনিময়, প্রশ্ন করা, কিংবা কাজ করতে গিয়ে একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন—এমন সহকর্মীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মতো কোনো নিদিষ্ট প্লাটফর্ম তাদের ছিল না। সাদামাঠা সেই আলাপ থেকেই শুরু। আজ তারা ভারতের সবচেয়ে সক্রিয় ডেটা স্টোরিটেলিং কমিউনিটিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে, ভিজচিত্রা হোয়াটসঅ্যাপ কমিউনিটির সদস্যসংখ্যা ১,৬০০-এরও বেশি। জুলাইয়ের শুরুতে ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন ও ডেটা স্টোরিটেলিং নিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলন ভিজচিত্রা ২০২৬-এ অনলাইন ও সরাসরি মিলিয়ে ৬ শত’র বেশি মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে ভারতের ২০টি রাজ্যের ৫৫টি শহর থেকে ৪০০ জন বেঙ্গালুরুতে উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত বৈচিত্র্যও ছিল কমিউনিটির মতোই। সেখানে সাংবাদিকদের পাশাপাশি ছিলেন ডিজাইনার, ডেভেলপার, গবেষক, শিক্ষাবিদ, প্রোডাক্ট ম্যানেজার, শিক্ষার্থী এবং ডেটা বিজ্ঞানীরা।

তবে এই সম্মেলন পুরো গল্পের কেবল একটি ছোট অংশ। “আমরা এটিকে সম্মেলন বলি না। আমরা এটিকে একটি কমিউনিটি বলি,” বলেন গুরমান ভাটিয়া। তিনি রিভিজ্যুয়াল ল্যাবস এবং ভিজচিত্রার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তার ভাষায়, এই কমিউনিটির মানুষের এমন একটি জায়গা প্রয়োজন, যেখানে প্রয়োজনের মুহূর্তে তারা সাহায্য চাইতে পারবেন। আর সেই জায়গাটিই হলো তাদের হোয়াটসঅ্যাপ কমিউনিটি।

শুরুতে যা ছিল কেবল একটি অনলাইন গ্রুপ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বিশেষায়িত কমিউনিটির নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। চাকরি ও সহযোগিতার সুযোগ, শিক্ষাবিদ, বইপ্রেমী, ডি৩ (ডেটা-ড্রিভেন ডকুমেন্ট) শিখছেন এমন ব্যক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সোনিফিকেশন (ডেটাকে শব্দে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া), ভিজ্যুয়ালাইজেশন নিয়ে মতামত বিনিময়সহ আরও নানা বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা গ্রুপ রয়েছে। সেখানে সরকারি ডেটাসেট খুঁজে বের করা, অগোছালো স্প্রেডশিট পরিষ্কার করা, চার্ট পর্যালোচনা, কোড শেয়ার করা থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা—নানা ধরনের প্রশ্ন উঠে আসে।

Group shot of attendees at 2026 VizChitra data conference

২০২৬ সালের ভিজচিত্রা ডেটা সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের দলীয় ছবি। ছবি: ভিজচিত্রা কমিউনিটির সৌজন্যে

করোনা মহামারির সময়ই ভিজচিত্রার ধারণার জন্ম। ভাটিয়া এবং আয়োজক দলের আরেক সদস্য রসজ্ঞ শর্মা আলোচনা করছিলেন যে, ভারতে যারা ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন নিয়ে কাজ করছেন, তারা মূলত কতটা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। প্রায় একই সময়ে কমিউনিটি গড়ে তোলার কাজে যুক্ত জয়নাব বাওয়া একটি সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দেন। শুরুতে তা অনলাইন আয়োজনের কথা ভাবা হলেও, সবাই সিদ্ধান্ত নেন পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারার সুযোগ তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। এই ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করেন এমন মাত্র ২০ থেকে ৩০ জনের সঙ্গে প্রথমে তারা যোগাযোগ করেন। তাদের মধ্যে ১৮ জনই তাদের ডাকে সাড়া দেন। তবে প্রতিষ্ঠাতাদের যে বিষয়টি রীতিমতো অবাক করেছিল তা হচ্ছে—কেউ কারো সঙ্গে পরিচিত না হয়েই সবাই প্রায় একই ধরনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিলেন।

এরপর তারা ডেটাভিজ কমিউনিটি নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ কমিউনিটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে সদস্যরা অর্পিত অরোরা প্রস্তাবিত ভিজচিত্রা নামটি গ্রহণ করেন। ভারতের বেশ কয়েকটি ভাষায় চিত্র শব্দের অর্থ ছবি বা চিত্র—যা এই উদ্যোগের মূল ভাবনাকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠাতারা যতটা ভেবেছিলেন, কমিউনিটি তার চেয়েও দ্রুত গতিতে বড় হতে থাকে। ২০২৫ সালে প্রথম সরাসরি সম্মেলনের আগে তারা একটি অনলাইন উদ্বোধনী আয়োজন করেন এবং সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগ দেওয়ার জন্য একটি কিউআর কোড সরবরাহ করা হয়। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন এতে নিবন্ধন করেন। “এত মানুষ যোগ দেবেন, আমি সত্যিই তা আশা করিনি,” স্মৃতিচারণ করেন ভাটিয়া।

পেশাগত কাজের জন্য তৈরি করা অনেক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে বা তাদের মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যায়। কিন্তু ভিজচিত্রার গল্পটি ভিন্ন। সম্প্রতি যেমন, কমিউনিটির এক সদস্য ভারতের টাইম ইউজ সার্ভে-এর জন্য সহজে ব্যবহার করা যায় এমন একটি ইন্টারফেস তৈরি করেন, যা সরকারি জটিল ও বৃহৎ ডেটাসেটগুলো সহজে অনুসন্ধান ও ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। টুলটি কেবল নিজে ব্যবহার না করে তিনি কমিউনিটির সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। “তার এই পরিষেবাটি জনস্বার্থের জন্যই”। কারো প্রয়োজন হয়েছিল, অন্যজন তাই এমন একটি সমাধান নিয়ে এসেছেন, যা সবার কাজে লাগছে,” বলেন ভাটিয়া।

বেঙ্গালুরুর বৃক্ষশুমারিতে সরকারি নথিতে অনুপস্থিত গাছগুলো চিহ্নিত করতে সহায়তা করেছেন ভিজচিত্রার স্বেচ্ছাসেবকেরা। ছবি: স্ক্রিনশট

এই সহযোগিতার সংস্কৃতি শুধু সাংবাদিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত বছর বেঙ্গালুরুর স্থানীয় শাখার ২০ জন সদস্য একটি এলাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে গিয়ে সরকারি নথিতে অনুপস্থিত গাছের অবস্থান নথিভুক্ত করেন। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে তারা একটি উন্মুক্ত ডেটাবেজে প্রায় ১০০টি গাছের তথ্য যুক্ত করেন। ভাটিয়ার মতে, এই ঘটনাই এই কমিউনিটির প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরে। “ডেটা তো সবখানেই ছড়ানো,” বলেন তিনি।

গত বছরের তুলনায় এই বছরের আয়োজন ছিল অনেক বড়। তবে আয়োজকরা মনে করেন, কেবল বড় হওয়াটাই তাদের লক্ষ্য নয়। “আমরা একটি বৈচিত্র্যময় কমিউনিটি,” বলেন ভিজচিত্রার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অমিত কাপুর। সম্মেলনজুড়েই সেই বৈচিত্র্যের প্রতিফলন দেখা গেছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কোনো একক পেশার ব্যক্তিদের আধিপত্য ছিল না। জলবায়ু গবেষক, স্থপতি, ডিজাইনার, অর্থনীতিবিদ, এআই প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সফটওয়্যার ডেভেলপার, শিল্পী এবং সাংবাদিক—একই পরিসরে সবাই একত্রিত হয়েছিলেন। নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি ছিলেন প্রোডাক্ট ও ইউএক্স (ইউজার এক্সপেরিয়েন্স) ডিজাইনার, প্রায় ৮০ জন ইনফরমেশন ডিজাইনার, ৭০ জনের বেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ এবং ৬৬ জন সাংবাদিক ও যোগাযোগ বিষয়ক পেশাজীবী।

অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেকই এসেছিলেন বেঙ্গালুরু থেকে, আর বাকিরা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে যোগ দেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেকেরই ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা পাঁচ বছরের কম। অন্যদিকে, এক-চতুর্থাংশেরও বেশি সদস্য এক দশকের বেশি সময় ধরে এই ক্ষেত্রে কাজ করছেন। “একজন সাংবাদিকের পাশে একজন ডিজাইনার, আর তার পাশেই একজন গবেষক বসে আছেন—এটাই তো পুরো উদ্যোগের মূল কথা,” বলেন কাপুর।

শুরু থেকেই কমিউনিটির ধারণাটি এমনই ছিল। ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন শেখানোর সময় তিনি যে ঘাটতি লক্ষ্য করেছিলেন, সেখান থেকেই এই ভাবনার জন্ম। তিনি মনে করেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এমন মানুষ আছেন, যারা ডিজাইন বোঝেন, আবার কেউ ডেটা বোঝেন। কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে ডেটাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তুলতে পারেন—এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। ভিজচিত্রা সেই অনুপস্থিত সেতুবন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ভারতে, যেখানে ডেটা সাংবাদিকতা এখনও বিকাশের পর্যায়ে রয়েছে, আর আঞ্চলিক ভাষার নিউজরুমগুলোতে এই প্রয়োজন আরও বেশি।

ভিজচিত্রা সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন সাবেক সাংবাদিক ও ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন ডিজাইনার গুরমান ভাটিয়া। ছবি: ভিজচিত্রা কমিউনিটির সৌজন্যে

সাংবাদিক ও লেখক রুক্মিণী এসের মতে, চ্যালেঞ্জটি শুধু প্রযুক্তিগত নয়। চার্ট ও গ্রাফিকস তৈরি করা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজ হলেও, অনেকেই এখনও ডেটা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা এবং তা বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন। তার মতে, ভালো ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশনের ভিত্তি হলো ভালো রিপোর্টিং এবং ডেটা সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ বোঝাপড়া।

এই বার্তাটিই সম্মেলনজুড়ে বারবার উঠে এসেছে। সেখানে ডেটা সাংবাদিকতাকে রিপোর্টিংয়ের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং রিপোর্টিংকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক একটি মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়। “ডেটা কখনোই প্রচলিত রিপোর্টিংয়ের বিকল্প হতে পারে না,” বলেন ভাটিয়া। “এই দুটি বিষয়ের একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত।”

সম্মেলনের অনেক সেশনেই এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা গেছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় সেশনগুলোর একটি ছিল টেলিং টাইমলি অ্যান্ড টাইমলেস স্টোরিজ উইথ ডেটা। সেখানে টাইমস অব ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রোহিত সরণ ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে উন্মুক্ত ডেটাসেট সাংবাদিকদের এমন গল্প খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে, যা প্রতিদিনের খবরচক্র শেষ হয়ে যাওয়ার পরও প্রাসঙ্গিক থাকে।

সম্প্রতি প্রকাশিত তার বই হান্ড্রেড ওয়েজ টু সি ইন্ডিয়া (100 Ways to See India) থেকে উদাহরণ তুলে ধরে তিনি দেখান, মূল্যবান তথ্যগুলো সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদনের মধ্যে প্রায়ই লুকিয়ে থাকে। আর কেউ সেই তথ্য যাচাই-বাছাই, বিশ্লেষণ এবং সহজভাবে ব্যাখ্যা না করা পর্যন্ত তা চোখের আড়ালেই থেকে যায়। অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে সরণ বলেন, “ডেটা সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু সাধারণ মানুষ সে সম্পর্কে জানে না।”

আয়োজকেরা অনুষ্ঠানের বিন্যাস নিয়েও নতুনভাবে ভাবার চেষ্টা করেছেন। একই ধরনের সেশনের পুনরাবৃত্তি না করে, প্রতিটি আলোচনা, কর্মশালা, প্রদর্শনী এবং মতবিনিময় পর্বের উদ্দেশ্য আলাদা করে নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জলবায়ুকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ডেটা, আদারওয়াইজ প্রদর্শনী। এটি কিউরেট করেন স্বেচ্ছাসেবক দেবাংশু ভৌমিক ও সিদ্ধার্থ মুখার্জি। কম্পিউটারের পর্দায় চার্ট দেখানোর বদলে এখানে স্পর্শ, শব্দ এবং বিভিন্ন বাস্তব স্থাপনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে ডেটা উপস্থাপন করা হয়।

প্রদর্শনীর মধ্যে একটি উপস্থাপনা ছিল, “পাডল বিথিন দ্য প্লেট” শিরোনামে। এটির মাধ্যমে মাটিতে জমে থাকা পানির ছোট ছোট পুকুরের আদলে তৈরি প্লেসম্যাটের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে আমাদের প্রতিদিনের খাবারের আড়ালে থাকা ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট—অর্থাৎ একটি খাবার উৎপাদনে মোট কতটা পানি ব্যবহৃত হয়।

প্রদর্শনীর অন্য উপস্থাপনাগুলোতে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী, শহরের বেড়ে চলা তাপমাত্রা, হারিয়ে যেতে থাকা চড়ুই পাখি এবং বায়ুদূষণের মতো বিষয় উঠে আসে। এই প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয়, ডেটা শুধু সংখ্যার বিষয় নয়; এটি জটিল বিষয়গুলো মানুষকে অনুভব করতে এবং বুঝতে সাহায্য করারও একটি মাধ্যম।

ভিজচিত্রা ২০২৬ সম্মেলনের “ডেটা, আদারওয়াইজ” প্রদর্শনী। ছবি: ভিজচিত্রা কমিউনিটির সৌজন্যে

ভিজচিত্রার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো, এর প্রায় সব কার্যক্রমই পরিচালিত হয় স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্যোগে। আয়োজকদের প্রত্যেকেই পূর্ণকালীন পেশার সঙ্গে যুক্ত। দেবাংশু ভৌমিক গত বছরের সম্মেলনে প্রথম স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন। আর এই বছর তিনি সম্মেলনের অন্যতম বড় আকর্ষণ ডেটা, আদারওয়াইজ প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন। অন্য স্বেচ্ছাসেবকেরা কর্মশালার পরিকল্পনা, বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপ পরিচালনা, মেন্টরিং এবং সার্বিক আয়োজনের দায়িত্ব পালন করেছেন। আয়োজকেরা আশা করছেন, এই সম্মেলন ভবিষ্যতেও চলবে। তবে তাদের কাছে প্রকৃত মূল্য নিহিত রয়েছে অন্যত্র।

সম্ভবত এই কারণেই প্রতিষ্ঠাতারা নিবন্ধনকারীর সংখ্যা গোনার চেয়ে মানুষ একে অন্যকে কীভাবে সহায়তা করছেন, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দেন। কেউ একটি ডেটাসেট খুঁজছেন, আরেকজন এর খোঁজ দিচ্ছেন। কেউ একটি চার্ট নিয়ে মতামত চাইছেন, অন্যরা সাড়া দিচ্ছেন। দিকনির্দেশনা খুঁজতে আসা একজন তরুণ সাংবাদিকের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে একজন অভিজ্ঞ ডিজাইনারের। কোনো ডেভেলপার একটি টুল তৈরি করে সেটি সবার জন্য বিনা মূল্যে উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন। এমন ছোট ছোট উদ্যোগই সম্মেলন শেষ হওয়ার অনেক পরেও এই কমিউনিটিকে প্রাণবন্ত রাখে।

কাপুরের কাছে শুরু থেকেই এটাই ছিল মূল লক্ষ্য। ডেটা, ডিজাইন এবং স্টোরিটেলিং নিয়ে কাজ করছেন—এমন মানুষদের জন্যই ভিজচিত্রার জন্ম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই মানুষগুলো নিজেদের কর্মক্ষেত্রে একাই কাজ করেন। সাংবাদিক, ডিজাইনার, গবেষক, ডেভেলপার এবং শিক্ষাবিদদের একই আলোচনার পরিসরে নিয়ে এসে এই কমিউনিটি এমন একটি ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, যা ভারতে এখনও বিকাশের পথে রয়েছে।

গুরমান উল্লেখ করেন, একটি সম্মেলন কেবল কয়েক দিন স্থায়ী হয়। তাই তিনি বলেন, “কিন্তু এরপর কী,” সেটিই আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভিজচিত্রা কমিউনিটির ১,৬০০-এরও বেশি সদস্যেরও অকপট উত্তর—কথা চলুক।


Deepak Tiwariদীপক তিওয়ারি জিআইজেএনের হিন্দি সম্পাদক তিনি একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং ভোপালের মাখনলাল চতুর্বেদী ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশনএর সাবেক উপাচার্য প্রতিবেদক, সাবএডিটর, টেলিভিশন ভাষ্যকার, মিডিয়া পরামর্শক এবং একটি মিডিয়া স্টার্টআপের ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে তাঁর তিন দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে তিনি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে লেখা দুটি বইয়েরও লেখক।

 

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

ডেটা সাংবাদিকতা

এআই খাতে ট্রিলিয়ন ডলার: রয়টার্স যেভাবে ভিজ্যুয়াল গল্পে এতো বড় ডেটা তুলে ধরেছে

সাংবাদিকরা যখন অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন লেখেন, তখন কিন্তু তারা ডেটার ঘাটতি নয় বরং বর্ণনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন। আর তা হচ্ছে, যে মানুষটি কখনও এক ট্রিলিয়ন ডলার চোখে দেখেননি, তাকে কীভাবে বিপুল এই অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া যায়?

ডেটা সাংবাদিকতা

বাল্টিকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং সিরিয়ার অপহৃত শিশু: ২০২৬ সালের সিগমা পুরস্কার জিতেছে যে ১০ ডেটা সাংবাদিকতা প্রকল্প

১৭ সদস্যের বিচারক দল ৩১টি প্রকল্পের চূড়ান্ত তালিকা থেকে ১০টি অসাধারণ ডেটাভিত্তিক সাংবাদিকতা প্রকল্পকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। চূড়ান্ত তালিকায় ছিল ২৬টি স্বতন্ত্র প্রকল্প এবং পাঁচটি পোর্টফোলিও। যেগুলো এসেছে ভিন্ন ভিন্ন সব দেশ থেকে।

ডেটা সাংবাদিকতা

ভারতের ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকা ডেটা সাংবাদিকতায় যেভাবে এআই যুক্ত করছে

“এআই হচ্ছে অত্যন্ত পারদর্শী একজন ইন্টার্ন বা শিক্ষানবিশ। আপনি একে ঠিক যা করতে বলবেন, সে নিখুঁতভাবে তাই করে দেবে। কিন্তু মূল নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব থাকবে আপনার হাতেই।”

ডেটা সাংবাদিকতা

রাষ্ট্র যদি তথ্য লুকায়, অনুসন্ধান করবেন কি করে: বেলারুশ যা শেখাল

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কী করে বেলারুশের উৎপাদিত সার বিশেষ করে ইউরিয়া ইউরোপিয় ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে এবং কীভাবে বেলারুশের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উৎপাদনকারী দেশের নাম গোপন করছে  ২০২৩ সালে তা উদ্ঘাটন করেছেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা। গোপন তথ্যের খোঁজে তাঁরা ব্যবহার করেছেন নানা সূত্র।