অলংকরণ: মার্শেল ল
অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচনী গাইড: প্রার্থীদের নিয়ে অনুসন্ধান
আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:
সম্পাদকের মন্তব্য: এই গাইডটি ২০২৪ সালের নির্বাচন ঘিরে পরিমার্জন ও হালনাগাদ করা হয়েছে। এটি মূলত ২০২২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। আগের সংস্করণের অধ্যায়টি এখানে পড়তে পারেন।
প্রার্থী কি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ লুকিয়ে রাখছেন? তারা কি তাদের জীবনবৃত্তান্ত সমৃদ্ধ করার জন্য একাডেমিক কাজ নকল করেছেন? তাদের দাতারা কি এমন সব গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করছেন, যারা বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ায়? দলের কোনো উপদেষ্টা কি নিষিদ্ধ কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, কিংবা বিদেশি সরকারের গোপন ভাড়াটিয়া?
নির্বাচন বিষয়ক প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিষয়ে অভিজ্ঞ অনেক সাংবাদিক একটি সাধারণ দুর্বলতা সম্পর্কে সতর্ক করেন। তা হচ্ছে, অনেক সময় সাংবাদিকরা ধরে নেন তারা সব জননেতাদের সম্পর্কেই জানেন ও তাদের চিনেন যারা এই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাই তারা মনে করেন, এসব নেতাদের নির্বাচনী চুক্তি এবং কার কার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে—সেসব কিছু যাচাই-বাছাইও করা হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের সামনে কিন্তু ফিলিপাইন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিলের বিভিন্ন উদাহরণ রয়েছে, যেখানে দেখা যায় নির্বাচিত নেতাদের সম্পর্কে উদ্বেগজনক এমন কিছু তথ্য আছে, নাগরিকরা যা অনেক দেরিতে জানতে পেরেছেন। অথচ তথ্যগুলো তাদের নির্বাচনী প্রচারণার সময় খুব সহজেই সামনে আনা যেত। তাই সাংবাদিক হিসেবে আমাদের আরও গভীরভাবে এবং আগেভাগে অনুসন্ধানে নামতে হবে।
এই অধ্যায়ে আমরা কিছু কার্যকরী টুল সম্পর্কে বলেছি, যা প্রার্থীদের অনলাইন এবং অন্যান্য প্রচারণা ঘিরে হওয়া আর্থিক লেনদেন উদ্ঘাটনে সহযোগিতা করে। প্রার্থীদের অতীত জানেন এমন মানুষদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কৌশল; এবং লুকানো সম্পদ ও সতর্কতা সংকেত (রেড ফ্লাগ) খুঁজে বের করার উৎস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে নিয়ে অনুসন্ধানের সময় প্রখ্যাত এক সাংবাদিকের ব্যবহার করা একটি অনুসন্ধান পদ্ধতিও আমরা ধাপে ধাপে এখানে তুলে ধরেছি।
প্রার্থীদের নিয়ে অনুসন্ধান মানে হলো তাদের সম্পদ, স্বার্থ-সংঘাত, অপরাধমূলক সম্পর্ক, অতীত কর্মকাণ্ড, পারিবারিক-ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক, বিদেশি সম্পর্ক এবং এমন অনেক ব্যক্তিগত ইতিহাস খুঁজে বের করা, যা তাদের নির্বাচনী প্রচারণার সময় সামনে আসেনি বা প্রকাশিত হয়নি।
তাদের নিয়ে করা গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচারণা উপদেষ্টা, সমর্থক এবং দাতাদের পটভূমি যাচাই করা। পাশাপাশি অবৈধ প্রচারণা সম্পর্কগুলো খতিয়ে দেখা। যেমন আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল এবং অন্যান্য স্থানের রাজনৈতিক দলগুলো কি রাশিয়ার ওয়াগনার ভাড়াটিয়া দলের সঙ্গে মিটিং করছে? এই ধরনের প্রচারণা নিয়ে কাজ করার মধ্যে রয়েছে সরকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুসন্ধান। যারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু ক্ষমতা ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সুবিধা দিতে পারেন। সম্প্রতি তেমন একটি নজরকাড়া উদাহরণ হিসেবে ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানের কথা বলা যেতে পারে, যেখানে তারা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি-ভিত্তিক একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদন ব্যবহার করে কীভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তার ক্ষমতাসীন দলের সমালোচকদের লক্ষ্য করে গুজব ছড়াচ্ছেন।
অতীতে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পটভূমি যাচাইয়ের কাজে সৃজনশীলতা যে গুরুত্বপূর্ণ তা প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৬ সালে সার্বিয়ার স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও জিআইজেএনের সদস্য ক্রিক (KRIK) একটি বিস্তৃত ডেটাবেস তৈরি করেছিল। এতে রাজনৈতিক নেতাদের এবং তাদের পরিবারের সম্পদের তথ্য ছিল। পাশাপাশি তারা যাচাই করেছিল এই নেতাদের আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে আগে কোনো ঝামেলা হয়েছিল কিনা। দলটি বিভিন্ন ডেটাবেস থেকে তথ্য সংগ্রহ ও তারপর বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তা মূল্যায়ন এবং প্রসঙ্গ অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেছিল।
২০১২ সালে, পাকিস্তানি সাংবাদিক উমার চিমা নির্বাচন কমিশনের ডেটাসেট ব্যবহার করে রাজনীতিবিদদের জাতীয় কর নম্বর সংগ্রহ করেছিলেন। একজন হুইসেলব্লোয়ারের সঙ্গে কাজ করে তিনি বের করেছিলেন, যে ৩৪ জন কেবিনেট মন্ত্রী এবং পাকিস্তানের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আইনপ্রণেতা বার্ষিক কর রিটার্নই দায়ের করেননি। এই প্রতিবেদন পাকিস্তানের নির্বাচনে আর্থিক স্বচ্ছতায় নাটকীয় পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে। এখন রাজনীতিবিদদের তাদের কর সংক্রান্ত তথ্য একটি পাবলিক ডিরেক্টরিতে জমা দিতে হয়, যা নাগরিক সমাজ সংস্থা এবং সাংবাদিকরা খুঁজে দেখতে পারেন।
এদিকে, আগে থেকে নজরে না আসা সম্পদ ঘোষণার একটি নথি যখন ফেডারেল বিচারপতির নিয়োগ শুনানিতে জমা পড়ে—পরবর্তীতে তা বড় অনুসন্ধানের সূত্র হয়ে ওঠে। এই নথি থেকেই শুরু হয় নিউ ইয়র্ক টাইমসের ২০১৮ সালের সেই প্রতিবেদন, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের পেছনে কর জালিয়াতির তথ্য উন্মোচিত হয়। পুলিৎজারজয়ী এই প্রতিবেদনের সাফল্যের মূল ছিল সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে চলা মানুষদের সরাসরি কথা বলতে রাজি করানোর বিষয়টি। যা বিশ্বজুড়ে নির্বাচনকালীন অনুসন্ধানের সময় সবচেয়ে দরকারি। এই কাজে অনুসন্ধানী সাংবাদিক রাস বুয়েটনার একটি সৃজনশীল কৌশল ব্যবহার করেন। মোটা কাগজপত্রের একটি দৃশ্যমান ফাইল বগলদাবা করে তিনি মানুষের দরজায় দরজায় যেতেন। কেননা তিনি বুঝতে পারেন, এই ফাইলটি দেখে অনেকেই তাকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। কারণ তারা ধরে নেন যে তার কাছে আগেই অন্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য আছে। ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক জুলিয়ানা দাল পিভা যে কৌশলটি পছন্দ করেন তা হলো: অপরিচিত নির্বাচনি সূত্রের দরজার নিচে ছোট হাতে লেখা একটি নোট রেখে আসা—যেখানে তিনি লিখতেন, তাদের গোপন তথ্য নয়, বরং শুধু তাদের মতামত জানতে চান। পরের অংশে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আরও কিছু কৌশল ও টুলের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে প্রার্থীদের অতীতের অপ্রকাশিত তথ্য খুঁজে বের করাও সম্ভব হয়।
বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এমন কিছু কৌশল ও টুল শেয়ার করেছেন, যেগুলো ব্যবহার করে প্রার্থীদের অতীতের সেইসব তথ্য বের করা যায়—যা হয়তো তারা ভোটারদের জানাতে চান না।
স্থানীয় নমুনা ব্যালট আগেভাগে পরীক্ষা করে নিন — এবং ব্যালটের নকশা সঠিক কিনা তা যাচাই করুন
বিভিন্ন জেলা ও প্রদেশ/রাজ্যেভেদে ব্যালটের ধরন অনেক রকম হয়। অনেক ব্যালটে লম্বা একটি তালিকা থাকে—বিচারপতি হওয়ার প্রার্থীরা, স্থানীয় পদ— যেগুলো মানুষ খুব একটা চেনে না, আর মতাদর্শভিত্তিক প্রস্তাব—যেসব ইস্যুতে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে হয়। এসব তালিকা কখনও জটিল, বিভ্রান্তিকর বা ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।
স্বাধীন এনজিও বা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে হালনাগাদকৃত স্যাম্পল ব্যালট টুল দিয়ে যাচাই করুন। এখানে ভোটাররা ব্যালটে যেসব প্রার্থীর নাম দেখবেন, তা আগেই দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে যেমন আছে ব্যালটপিডিয়া এবং ভোট৪১১—এই দুটি প্ল্যাটফর্মে স্থানীয় ঠিকানা দিয়ে সেই এলাকার খসড়া ব্যালট দেখা যায়। পেজ থেকে বের হয়ে গেলে তারা আপনার দেওয়া ঠিকানা বা অনুসন্ধানের কোনো তথ্য রাখে না। ভোট৪১১ স্থানীয় পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জীবনী এবং মতাদর্শিক তথ্যও দেয়। ভোটস্মার্ট টুল স্থানীয় ব্যালট প্রস্তাবগুলোর প্রোফাইল দেখায় এবং প্রার্থীর নাম দিয়েও খোঁজা যায়।
অনলাইন প্রার্থীদের ইতিহাস অনুসন্ধানের টুল

জিআইজেএনের জন্য অলংকরণটি করেছেন মার্শেল লো
হোয়াটস মাই নেম ইউজারনেম ট্র্যাকার। কোনো প্রার্থীর সোশ্যাল মিডিয়ার ইউজারনেম—যেমন টুইটার/এক্স বা ইনস্টাগ্রাম থেকে—কপি করে হোয়াটস মাই নেম অ্যাপে পেস্ট করুন। এই টুলটি প্রায় ৬০০ ধরনের অনলাইন সেবায় ইউজারনেমটি খুঁজে দেখবে; এর মধ্যে এমন প্ল্যাটফর্মও আছে যেগুলোর সঙ্গে জনসেবা বা রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই, এমনকি বিশেষ ধরনের গেমিং সাইটও আছে। প্রোপাবলিকার ক্রেইগ সিলভারম্যান সতর্ক করে বলেন, খুঁজে পাওয়া অ্যাকাউন্টটি এখনো ওই ব্যক্তি বা প্রার্থীই ব্যবহার করছেন কিনা—তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন। তবে তিনি বলেন, ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের জন্য টুলটি অত্যন্ত কার্যকর, বিশেষ করে রাজনীতির বাইরে থাকা সংযোগগুলো খুঁজে বের করতে। উদাহরণ হিসেবে: মলদোভার এক সাবেক প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ইউজারনেম “ক্রেমলিনোভিচ” ছিল সেই সূত্র, যা জিআইজেএন সদস্য নিউজরুম রাইজ মলদোভাকে এমন এক অনুসন্ধানের পথ দেখায়, যেখানে রাশিয়ার সরকারের সরাসরি নির্বাচনি হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়।
ইপিওস ব্যবহার করে প্রার্থীর ভ্রমণ ও বিনোদন–সম্পর্কিত গতিবিধি অনুসরণ করুন। স্বৈরাচারী অনেক প্রার্থী, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ওলিগার্ক আর ক্ষতিকারক চরিত্রের মানুষেরা তাদের ব্যক্তিগত চলাফেরার তথ্য লুকাতে চান। তবুও দেখা যায় কখনও কখনও তারা ব্যবসায়িক কোনো কাজে কোথাও গেছেন বা কোনো রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে “ওয়ান-স্টার” গুগল রিভিউ দিয়ে ফেলেন। এই প্রেক্ষিতে ইপিওস নামে নতুন একটি রিভার্স–ইমেইল সার্চ টুল তৈরি করা হয়েছে। এটি ব্যবহার করে আপনি কোনো ব্যক্তির গুগল ম্যাপসের রিভিউ–ইতিহাস দেখতে পারেন—অর্থাৎ তারা অতীতে কোন রেস্তোরাঁয় কোথায় এবং কখন রিভিউ দিয়েছে, তা সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়। এই অনুসন্ধান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কখনোই জানানো হয় না, এবং সাংবাদিকদের সুবিধার জন্য প্ল্যাটফর্মটি ইচ্ছাকৃতভাবে আপনার কোনো সার্চ রেকর্ডও রাখে না। এটি ব্যবহারের জন্য আপনার ওই ব্যক্তির ইমেইল ঠিকানা প্রয়োজন, তবে hunter.io tool দিয়ে অনেক সময় অনুমান করে ইমেইল বের করা সম্ভব। সাংবাদিকরা আরও ব্যবহার করেছেন Echosec এবং Creepy app—যেগুলো দিয়ে অতীতের অবস্থানগত তথ্য ম্যাপ আকারে দেখা যায়।
প্রার্থীদের একাডেমিক চৌর্যবৃত্তি যাচাই করতে পাবলিক লাইব্রেরি ব্যবহার করুন। অনেক অভিজ্ঞ রাজনৈতিক সাংবাদিক বলেন, রাজনীতিবিদরা প্রায়ই নিজের জীবনবৃত্তান্তকে আরও ভারী দেখাতে একাডেমিক ডিগ্রি বা থিসিস যোগ করেন—এবং অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এসব কাজের বড় অংশই অন্যের লেখার চৌর্যবৃত্তি বা হুবহু নকল। রোমানিয়ার অনুসন্ধানী সাংবাদিক এমিলিয়া শেরকান জিআইজেএনকে বলেছেন, নির্বাচনি প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে এটি দ্বিগুণ কার্যকর একটি অনুসন্ধান—কারণ অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মতো একাডেমিক নথি গোপন করা যায় না। থিসিস বা গবেষণাপত্র প্রায় সব সময়ই প্রকাশ্যে থাকে, আর স্থানীয় লাইব্রেরিতে সাংবাদিকদের জন্য এগুলো খুব সহজেই পাওয়া যায়। শেরকান রোমানিয়ায় ৫০টি চৌর্যবৃত্তির ঘটনা উন্মোচন করেছেন—যার মধ্যে কয়েকজন কেবিনেট মন্ত্রী, একজন প্রধানমন্ত্রী, সেনা জেনারেল ও বিচারপতির নাম রয়েছে। তিনি গুগল, টার্ন ইট ইন–এর মতো প্লেজিয়ারিজম পরীক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করেন, পাশাপাশি ফুটনোট ও গ্রন্থপঞ্জি হাতে ধরে যাচাই করেন। পরামর্শ: থিসিসে হঠাৎ করে লেখার স্টাইলে অদ্ভুত পরিবর্তন দেখলে খেয়াল করুন—অনেক সময় নকল করা অংশে ব্যক্তি ফন্ট পর্যন্ত বদলাতে সময় নেন না।
সামরিক চ্যাটগ্রুপে খোঁজ নিয়ে ভুয়া সামরিক পরিচয় যাচাই করুন। বিশেষজ্ঞেরা বলেন, অনেক অসৎ প্রার্থী নিজেদের সামরিক পদক, বীরত্বের কাজ, বা অসাধারণ কাজের ইতিহাস নিয়ে বাড়াবাড়িরকম দাবি করে। এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে ওই ইউনিটে থাকা প্রকৃত সাবেক সেনাদের সঙ্গে কথা বলা। তারা সাধারণত ভুয়া পরিচয় দেওয়া লোকদের একেবারেই সহ্য করেন না, তাই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম গ্রুপ বা সাবেক সামরিক সদস্যদের সংগঠন বা সমিতিগুলো কাজে আসতে পারে। এভাবে তথ্য না পেলে, যে দেশে সম্ভব সেখানে ফোয়া (তথ্য অধিকার) আবেদন করতে পারেন, অথবা সরাসরি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেস অফিসে প্রশ্ন পাঠিয়ে দেখতে পারেন।
ওয়েব্যাক মেশিন: প্রার্থীদের মুছে ফেলা বা বদলে দেওয়া পুরোনো বক্তব্য যাচাই করতে ওয়েব্যাক মেশিন ব্যবহার করুন। এই সেবাটি প্রতিদিন এক বিলিয়নেরও বেশি ইউআরএল বা ওয়েব ঠিকানা আর্কাইভ করে। নতুন যেসব ফিচার যোগ হয়েছে, সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করবেন—তা এখানে পাওয়া যায়। এছাড়া আর্কাইভ টুডে টুল ব্যবহার করে পুরো একটি ওয়েবপেজ সংরক্ষণ করা যায়, এবং মুছে ফেলা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও অ্যাকাউন্টও খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
হু পোস্টেড হোয়াট? এটি একটি বিশ্বস্ত টুল, যা ফেসবুকের ডেটা বিশ্লেষণের সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে আপনাকে তারিখ ও বিষয় অনুযায়ী পোস্ট ও ভিডিও খুঁজে পেতে সাহায্য করে। এর নির্মাতা ও প্রশিক্ষক হেনক ভ্যান এস বলেছেন, রিপোর্টাররা সাইটে তৈরি লিংকে “posts” শব্দের পরিবর্তে “videos” বা “images” ব্যবহার করে উপযুক্ত মাধ্যমের লিংক খুঁজতে পারেন। এটি ফেসবুক আইডি নম্বরও খুঁজে দিতে পারে, যেটি graph.tips টুল ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর পোস্ট ও ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।
গুগলে খুঁজে প্রার্থীর সম্ভাব্য সংযোগ বের করুন: কোনো প্রার্থী বা তার প্রচারদলের সদস্যের সঙ্গে আপনি যাকে নিয়ে অনুসন্ধান করছেন তার কোনো সংযোগ আছে কি না, তা খুঁজতে গুগলে একটি কৌশল ব্যবহার করতে পারেন। প্রার্থীর নাম উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে লিখুন, তারপর AROUND(17) লিখুন, তারপর অন্য নাম বা শব্দটি দিন। এতে এমন নথি পাওয়া যাবে যেখানে এই দুই কীওয়ার্ড পরস্পরের খুব কাছে—ধরুন ১৭ শব্দের মধ্যে—উল্লেখ আছে। (১০ থেকে ২৫—এই সীমার মধ্যে যেকোনো সংখ্যা ব্যবহার করা যায়। তবে খেয়াল রাখবেন: AROUND এবং বন্ধনীর মাঝে কোনো ফাঁক থাকবে না)। প্রার্থীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রকাশিত সাক্ষাৎকার খুঁজতে চাইলে “interview” শব্দের বদলে এমন বাক্যাংশ খুঁজুন যা প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাধারণত থাকে—যেমন “Smith says”। এতে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎকার সহজে পাওয়া যায়।
ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার: প্রার্থীর অনলাইনে থাকা ছবিগুলো খুঁজে দেখুন। এখানে তাদের অতীতের পরিচিতদের খোঁজ পাওয়া যায়। বেশিরভাগ প্রার্থীই নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগে আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেছেন। তাই তাদের বহু ছবি অনলাইনে পাওয়া যাবে। এই ছবির মাধ্যমে আপনি দেখতে পারেন যে তারা বিদেশি ব্যবসায়ী বা উগ্রবাদী কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করেছেন কিনা। ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং পাইমাইজ, ইয়ানডেক্স ও টিনআইয়ের মতো শক্তিশালী টুলগুলো সম্পর্কে জানতে জিআইজেএন নিবন্ধটি পড়ুন, অথবা আলেক্সেই নাভালনি বিষপ্রয়োগ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রুশ গুপ্তচরদের উন্মোচন নিয়ে লেখা এই লেখাটি পড়ুন, যেখানে টেলিগ্রাম বটের সঙ্গে মিলিয়ে এসব টুল ব্যবহারের কিছু সৃষ্টিশীল উপায় দেখানো হয়েছে।
ক্যাম্পেইন সোর্সদের বিস্তারিত সংযোগ খোঁজা
প্রার্থীদের সম্পর্কে যাচাই-বাছাই করার সময় অনেক অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলতেই হয়: এমন লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা, যারা প্রার্থীদের চেনে বা আগে তাদের সঙ্গে কাজ করেছে। তবে ফোনবুক এখন প্রায় পুরনো হয়ে গেছে, এবং সম্ভাব্য সূত্রের ইমেইল ঠিকানাগুলো সাম্প্রতিক কয়েক বছরে গোপনীয়তার কারণে গুগল সার্চ থেকে প্রায় মুছে গেছে। তাই রিপোর্টারদের জন্য এমন যোগাযোগ করতে সাহায্যকারী টুল ব্যবহার করা প্রয়োজন।
- অনলাইন গবেষণা বিশেষজ্ঞ হেনক ভ্যান এস জিআইজেএনের অনলাইন রিসার্চ গাইডের সাতটি অধ্যায়জুড়ে বৃহৎ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অনুসন্ধানের ডজনখানেক উন্নত কৌশল তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন দেশে প্রচারণা-সংশ্লিষ্ট সূত্র খুঁজে পেতে তার স্পেস বার ট্রিক ফর লিঙ্কডইন বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে। তিনি দেখিয়েছেন, লিঙ্কডইনের অ্যালগরিদম এড়িয়ে মানুষ-সংক্রান্ত অনুসন্ধানে সরাসরি যেতে চাইলে খুব সহজ একটি পদ্ধতি আছে: সার্চ বক্সে কারসর রাখুন, একটি স্পেস দিন, তারপর “এন্টার” চাপুন। এভাবে একটি “All filters” মেনু দেখাবে। সেখান থেকে রিপোর্টাররা “People” ট্যাবে ক্লিক করে অন্যান্য ফিল্টারের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে নিতে পারবেন। আর অ্যালগরিদম মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
- ইমেইল যোগাযোগ এখনও বিশ্বের অনেক নির্বাচনী অভ্যন্তরীণ ব্যক্তির কাছে প্রিয় চ্যানেল। প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের সঠিক ইমেইল ঠিকানা বের করার জন্য ক্রোম প্লাগইন Name2Email ব্যবহার করতে পারেন, বা Email Format এর মতো সাইট থেকেও খুঁজতে পারেন। প্রো পাবলিকার সিলভারম্যান বলেছেন, SignalHire এবং ContactOut—দুটি প্লাগইন টুল যা নিয়োগকারীরা প্রায়শই ব্যবহার করেন—সেগুলো লিঙ্কডইন প্রোফাইলে না থাকা সূত্রের যোগাযোগের তথ্য বের করতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়াও, Lusha Chrome extension একটি ফ্রি প্রোগ্রাম, যা লিঙ্কডইন ও টুইটার থেকে এমন তথ্য বের করতে পারে যা ওই অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত নাও হতে পারে, এবং রিপোর্টারদের যেকোনো সংস্থার প্রাক্তন কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।
- ওয়েবসাইট থেকে ইমেইল খুঁজতে Hunter ব্যবহার করুন— তা সে একটি রাজনৈতিক দলের ওয়েবসাইট হোক বা প্রার্থীর মালিকানাধীন বা যেখানে তিনি কাজ করেছেন এমন কোনো কোম্পানির সাইট। হান্টার মাসে ২৫টি ফ্রী সার্চ দেয় এবং বেশি সার্চের জন্য একাধিক পেইড টিয়ার অফার করে।
- যদি কোনো নির্বাচনি কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তির ফোন নম্বর বা ইমেইল থাকে, তাহলে Osint.industries নামের একটি শক্তিশালী, ফ্রি নতুন টুল ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে জড়িত বহু ওয়েবসাইট বা ইউজারনেমের পিছনের আসল পরিচয় ও লুকানো ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট উন্মোচন করা যায়। ভেরিফাইড সাংবাদিকরা অতিরিক্ত অ্যাক্সেসের জন্য contact@osint.indOsint.industries ustries -এ অনুরোধ করতে পারেন।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে নির্বাচন নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য—যারা জেনারেল ডেটা প্রটেকশন রেগুলেশন (জিডিআরপি)-এর গোপনীয়তা বিধিনিষেধের আওতায় পড়েন না — সূত্রের ফোন নম্বর খুঁজতে Truecaller এবং Sync.ME-এর মতো সাইট ব্যবহার করতে পারেন।
- মানুষ সম্পর্কিত তথ্য অনুসন্ধানের জন্য কার্যকারি একটি টুল Pipl Pro। তবে টুলটি কিছুটা ব্যয়বহুল। কিন্তু নির্বাচন সম্পর্কিত তথ্যগুলো খুঁজে বের করাটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। টুলটি এত শক্তিশালী, যে কিছু সংবাদমাধ্যম হয়তো নির্বাচনী সময়টাতে এটি ব্যবহারের কথা ভাবতে পারে। বিবিসির সাইবার অনুসন্ধানকারী পল মায়ার্স এটিকে তার প্রিয় টুলগুলোর মধ্যে একটি মনে করেন। ২০১৯ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সম্মেলনে তিনি দেখান, কিভাবে মাত্র এক মিনিটে পিপল প্রো ব্যবহার করে ব্রিটেনের সবচেয়ে সংরক্ষিত একজন পাবলিক ব্যক্তির বহু যোগাযোগের তথ্য এবং ব্যবসার মালিকানার তথ্য বের করা সম্ভব।
- LittleSisটুলটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের সংযোগ খুঁজে বের করা যায়—বিশেষ করে উত্তর আমেরিকাতে। “এটি বেশিরভাগই মার্কিন কেন্দ্রিক, তবে একেবারেই সীমাবদ্ধ নয়,” বলেন ডিজিটাল অনুসন্ধান বিশেষজ্ঞ জেন লিটভিনেঙ্কো, যিনি বর্তমানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শোরেনস্টাইন সেন্টারে রিসার্চ ফেলো। “এটি মূল ব্যক্তিদের মধ্যে এমন সংযোগ দেখায় যা আপনি হয়তো আগে ভাবেননি।” তিনি বলেন, LittleSis-এ কোনো নাম অনুসন্ধান করলে দেখা যেতে পারে যে, ট্রাম্পের ‘Build The Wall’ ক্যাম্পেইনে যুক্ত কিছু মানুষ একইসাথে তার ভুয়া ‘Stop The Steal’ ক্যাম্পেইনেও যুক্ত ছিলেন।
রেড ফ্ল্যাগ এবং লুকানো সম্পদ পরীক্ষার টুল
রাজনীতিবিদদের গোপন সম্পদ ও আর্থিক সংঘাত — এবং সেগুলো লুকানোর চেষ্টাগুলো — অনুসন্ধান করে উন্মোচন করা, নির্বাচনে ক্লাসিক ব্যাকগ্রাউন্ডিং স্টোরি মডেল। জিআইজেএনের সাম্প্রতিক টুলবক্সে লুকানো সম্পদ খোঁজার নতুন পদ্ধতিগুলো দেখুন; এবং মানি লন্ডারিং অনুসন্ধানের গাইডে কীভাবে এসব চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় তার ক্লু আছে। এছাড়াও, বিশেষজ্ঞরা নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো পরামর্শ দেন।
- চেষ্টা করুন নতুন ও ব্যবহার-বান্ধব OpenSanctions database-এ সার্চ করতে। এটির মাধ্যমে দেখতে পারবেন, কোনো প্রার্থী বা তাদের দলে যারা অর্থ দিচ্ছেন তারা কোনো অর্থনৈতিক বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছে কিনা কিংবা বিদেশি স্বৈরশাসকদের বা সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোনো সংযোগ আছে কিনা। পাবলিক ফান্ডে অ্যাক্সেস থাকা ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি ব্যক্তির এবং ২৪ হাজার নিষিদ্ধ ব্যক্তির নামসহ, ওপেনস্যানকশনস রিপোর্টারদের বড় ডাটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে করে সংঘাতের সম্ভাবনা যাচাই করতে দেয়।
- আইসিআইজে অফশোর লিকস ডাটাবেসটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ঐতিহাসিক স্কুপ (বড় ফাঁস)–এর তথ্য এক জায়গায় জড়ো করে তৈরি। যেখানে ৮ লাখেরও বেশি অফশোর কোম্পানি ও ট্রাস্টের তথ্য রয়েছে। এখানে ব্যক্তির নাম বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখে সহজেই খোঁজ করা যায়। (ডেটাবেসটি আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে চাইলে আইসিআইজের how-to page নির্দেশিকা দেখুন।)

ইমেজ: স্ক্রিনশট, আইসিআইজে
- এদিকে অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিআরপি) তৈরি করেছে অ্যালেফ আর্কাইভ, যা বর্তমানে গোপন অর্থ ও ক্ষমতার যোগসূত্র খোঁজার অন্যতম শক্তিশালী টুল। এতে ১৪০টি দেশের ৩৭০ মিলিয়ন পাবলিক রেকর্ড রয়েছে, আর সঙ্গে আছে দুর্দান্ত ডেটা স্ক্র্যাপিং সুবিধা ও নিরাপদভাবে তথ্য শেয়ার করার ব্যবস্থা। রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে লুকানো অর্থের সংযোগ খুঁজতে আলেফ অত্যন্ত কার্যকর। অ্যালেফে এখন একটি আপডেটেড ক্রস-রেফারেন্স টুলও রয়েছে, যার সাহায্যে আপনি আপনার আগ্রহের ব্যক্তি বা কোম্পানির নাম প্ল্যাটফর্মের শত শত ডেটাসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুঁজে দেখতে পারেন। এক ক্লিক — এবং প্ল্যাটফর্মকে হিসাব করতে এক মিনিট সময় — দিলেই এমন সব গোপন সংযোগ উঠে আসতে পারে, যা আপনি আগে কখনো ভাবেননি। ওসিসিআরপি ক্রস-রেফারেন্স টুলটি ব্যবহারের জন্য ধাপে ধাপে একটি চেকলিস্টও প্রকাশ করেছে।
- রাজনীতিবিদদের ব্যবসায়িক স্বার্থ খুঁজে দেখার জন্য OpenCorporates database ব্যবহার করুন। এই উন্মুক্ত ডেটাবেসে ১০ কোটির বেশি কোম্পানির মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে অর্থের গতিপথ অনুসরণ করা অনুসন্ধানী সাংবাদিক লায়নেল ফল সম্প্রতি বর্ণনা করেন, OpenCorporates হলো করপোরেট তথ্য খোঁজার এক ধরনের “ওয়ান-স্টপ-শপ”, যা অনুসন্ধানের মূল ক্ষেত্র থেকে অনেক দূরের কোনো দেশে থাকা কোম্পানিও শনাক্ত করতে সাহায্য করে। তিনি এটিকে আলেফের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। এছাড়াও, যুক্তরাজ্যভিত্তিক Companies House নামে যে বিনামূল্যের ডেটাবেস আছে— সেটিও দেশের গন্ডির বাইরে আর্থিক স্বার্থ খুঁজে দেখার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর।
- আইআরই২৩ সম্মেলনে দ্রুত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই নিয়ে এক সেশন বলেন এপির বৈশ্বিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদক মাইকেল বিসেকার বলেন, “কারও সম্পর্কে জটিল বা বিব্রতকর তথ্য জানতে চাইলে, তাদের সাবেক সঙ্গী বা সাবেক স্বামী/স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলুন— এটিকে অগ্রাধিকার দিন।” তার কথায়, “যদি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা খারাপ হয়ে থাকে, তবে তারা অনেক তথ্যই বলতে পারে, অন রেকর্ডে বা অফ দ্য রেকর্ডে। তারা আপনাকে জানাতে পারে ব্যক্তিটির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা কারা, বিয়েতে কারা ছিল, ব্যবসায়িক অংশীদার কারা ছিল।”
(সাবধান: এই ধরনের সূত্রদের ব্যক্তিগত স্বার্থ বা পক্ষপাত থাকতে পারে। তাই তাদের দেওয়া সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেক করে নিতে হবে।) - Nexis Diligence tool -এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিপুল সংখ্যক পাবলিক রেকর্ড, ওয়াচলিস্ট, আইনি নথি, নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আর্কাইভ এবং “রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি”দের তালিকা ঘেঁটে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঝুঁকিপূর্ণ ইতিহাস খুঁজতে সাহায্য করে। এর ‘Person Check’function কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে গভীরভাবে যাচাই করার শক্তিশালী একটি উপায়। এগুলো পরিচালনা করে যে উন্নত ডেটা ও অ্যানালিটিকস সার্ভিস— লেক্সিসনেক্সিস — সেগুলোর সাবস্ক্রিপশন খরচ বেশ বেশি। তবে প্ল্যাটফর্মটি সাংবাদিক-বান্ধব, জিআইজেএন সদস্যদের জন্য ছাড়ও রয়েছে। আর যারা খরচ বহন করতে পারেন না, তারা সাধারণত এমন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের টার্মিনাল ব্যবহার করেন যেখানে এই সেবা সাবস্ক্রাইব করা আছে, অথবা গবেষণা-গ্রন্থাগারিকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডেটাবেস ব্যবহারের সহায়তা নেন।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের জন্য — এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে কালো টাকা দেন এমন দাতাদের খোঁজ পাওয়ার সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও —OpenSecrets হলো প্রচারণা-অর্থায়ন ও লবিস্টদের অনুদান সম্পর্কিত একটি চমৎকার, অনুসন্ধানযোগ্য ডেটাবেস, যা পরিচালনা করে সেন্টার ফর রেসপনসিভ পলিটিক্স।
- Whoxy এমন একটি টুল, যা নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত রহস্যজনক কোম্পানির তথ্য খতিয়ে দেখতে কাজে আসতে পারে। এটি ব্যবহার করে কোনো প্রক্সি কোম্পানির ওয়েবসাইট প্রথমে কে নিবন্ধন করেছে—অর্থাৎ মূল রেজিস্ট্রার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান—তা শনাক্ত করা সম্ভব।
- প্রার্থীদের এবং মিডিয়া কোম্পানির মধ্যে প্রভাব ও অর্থনৈতিক সংযোগ খুঁজুন। মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম রিসার্চ সেন্টারের নতুন “মিডিয়া অ্যান্ড ইলেকশনস ২০২৪” গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা বা গবেষকদের খোঁজ নিন। এই প্রকল্পে দেশের মিডিয়া মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন রয়েছে, এবং বিভিন্ন দেশের প্রচারণার সঙ্গে মিডিয়া কোম্পানির সংযোগও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
- যদি আপনার দেশে তথ্যের স্বাধীনতা (ফোয়া) সংক্রান্ত আইন না থাকে, তাহলে প্রার্থীর অতীতের সম্পর্ক থাকা বিদেশি সরকারগুলোকে চিহ্নিত করুন। সেই তালিকা থেকে যেসব দেশে ফোয়া আইন আছে, সেখানে ফোয়া আবেদন পাঠান। (জিআইজেএনের বিশ্বব্যাপী ফোয়া আইন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কিত গাইডটি দেখুন।)
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে অনুসন্ধানের পদ্ধতি
ব্রাজিলিয়ান অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলিয়ানা দাল পিভা—ইউওএল নিউজ প্ল্যাটফর্মের কলামিস্ট এবং আগে ও গ্লোবো-তে রিপোর্টার ছিলেন। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো, তার সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের গোপন চুক্তি ও কার্যকলাপ অন্য কোনো সাংবাদিকের চেয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করেছেন।
দাল পিভার সাহসী অনুসন্ধান তাকে বহু হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে বলসোনারোর ডানপন্থী সমর্থকদের কাছ থেকে। এক পর্যায়ে এক আইনজীবীর হুমকির কারণে তাকে আত্মগোপনে যেতে হয়, পরে তিনি ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।
দাল পিভা বলেন, ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে বলসোনারো ছিলেন তুলনামূলকভাবে এক অজানা ব্যক্তি। বিশ্বের অনেক প্রার্থীর মতোই, সাধারণ জনগণও তার অতীত, উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত সম্পর্কে খুব কমই জানত। তার অনুসন্ধান প্রকাশ করে, প্রেসিডেন্ট এবং তার ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে যুক্ত ছিল আর্থিক অনিয়মের এক জটিল জাল।
- প্রার্থীকে নিয়ে কিছু জানেন না ধরে শুরু করুন। প্রার্থীদের পেশার ওপর ভিত্তি করে নৈতিক মানদণ্ড ধরবেন না। “রিপোর্টাররা প্রায়ই মনে করেন তারা রাজনীতিবিদদের জানে, তাই তারা বেসিক থেকে শুরু করে না। প্রথম স্ত্রী কে; দ্বিতীয় স্ত্রী কে; সন্তানরা কোথায়— এ ধরনের গুগল সার্চ থেকে শুরু করুন, প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ।”
- প্রার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কোর্ট রেকর্ড খুঁজুন, পক্ষ এবং আইনজীবীর নাম ও যোগাযোগ তথ্য নোট করুন।
- প্রার্থীর জীবনী তৈরি করুন — যেখানে পরিবারের সদস্য, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক, এবং আর্থিক স্বার্থের সংযোগের ওপর গুরুত্ব দিন। মূল প্রশ্ন রাখুন: “তারা আসলে কে?” সেখানে যুক্ত করুন তাদের বেড়ে ওঠা, ধর্মীয় ও মতাদর্শগত সংশ্লিষ্টতা, আইনি ইতিহাস, এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অবস্থানের পরিবর্তন সম্পর্কিত তথ্য।
- একটি বড় কাগজে বা হোয়াইটবোর্ডে “স্পাইডার” কানেকশন ম্যাপ আঁকুন — যেখানে আলাদা বৃত্ত তৈরি করুন যেমন: স্ত্রী বা স্বামী, সন্তান, সাবেক জীবনসঙ্গী; সহযোগী, দাতা ও শত্রু; বর্তমান ও আগের বাসা ও অফিস; ব্যবসা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি (নিচের উদাহরণটি দেখুন) । গবেষণার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বৃত্তগুলোর মধ্যে সংযোগকারী তীরচিহ্ন যুক্ত করুন। যারা প্রযুক্তিতে পারদর্শী, তারা এসব সম্পর্ক চিত্রিত করতে ডেটা ভিজুয়ালাইজেশন সফটওয়্যারও ব্যবহার করতে পারেন।

ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক জুলিয়ানা দাল পিভা নির্বাচনী প্রার্থীদের অনুসন্ধান করার সময় “স্পাইডার” ব্রেইনস্টর্ম ম্যাপ আঁকেন — যেমনটি দেখা যায় প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর সম্পর্কিত এই চিত্রে। ছবি: জুলিয়ানা দাল পিভার সৌজন্যে
- এই প্রশ্নটি তুলুন: প্রার্থী কি রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তার ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন, নাকি রাজনীতিতে আসার পর? যদি পরেরটি হয়, তাহলে খতিয়ে দেখুন — তিনি সরকারি নীতি ও সরকারি অর্থ থেকে কতটা লাভবান হয়েছেন, এবং কাদের কাছে তার দেনা বা বাধ্যবাধকতা রয়েছে?
- দাল পিভা বলেন, “জানার চেষ্টা করুন তাদের সহযোগীরা কারা, সাম্প্রতিক সহযোগীরা কারা — আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাদের শত্রুরা কারা যারা আগে মিত্র ছিল।” তিনি মনে করেন, “এই মানুষগুলোই আপনার অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
- আপনার দেশে যদি নির্বাচিত কর্মকর্তাদের সম্পদ ঘোষণার আইন থাকে, তাহলে অনলাইন ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল (যদি থাকে) অথবা তথ্য অধিকার আইনের (ফোয়া) আবেদন ব্যবহার করে এসব নথিতে প্রবেশ করুন। এরপর একটি স্প্রেডশিটে বিভাগভিত্তিকভাবে প্রতিটি সম্পদের তালিকা তৈরি করুন। ঘোষিত নয় এমন সম্পদ — যেমন গাড়ি, খামারবাড়ি, অবকাশযাপন কেন্দ্র বা কোম্পানির শেয়ার — খুঁজে দেখুন। বাড়ির অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির দিকেও নজর রাখুন, কারণ অর্থ গোপন করার কৌশল হিসেবে এটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়।
- আপনার দেশে যদি সম্পদ ঘোষণার কোনো আইন না থাকে, তাহলে প্রার্থীদের জীবনসঙ্গীর ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে দেখুন, ঘোষণাবহির্ভূত সম্পদের কোনো সূত্র মেলে কি না। উদাহরণ হিসেবে, লাইবেরিয়ার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক বেটি কে. জনসন-মবায়ো বলেন, রাজনীতিবিদদের জীবনসঙ্গীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট অনেক সময় সাংবাদিকদের জন্য তথ্যের সোনার খনি হয়ে ওঠে। দাল পিভা বলেন, ব্রাজিলে—যেমন অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশেও দেখা যায়—প্রার্থীদের ও তাদের সম্পদের তথ্য অনলাইনে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়, তবে মূল নথির অনুলিপি পেতে অনেক সময় তথ্য অধিকার (ফোয়া) আইনের আবেদন করতে হয়।
- দাল পিভা সতর্ক করে বলেন, কিছু সম্পদ ঘোষণার ব্যবস্থায় প্রার্থীদের আগের নির্বাচনে অর্জিত সম্পদের বর্তমান মূল্য হালনাগাদ করার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই সাংবাদিকদের উচিত ভূমি রেজিস্ট্রি, দলিল এবং সম্পদের মূল্য নির্ধারণকারী উৎসগুলো থেকেও তথ্য যাচাই করা, যাতে প্রার্থীর বর্তমান আর্থিক অবস্থার সঠিক চিত্র পাওয়া যায়।
- হুইসলব্লোয়ারদের জন্য প্রমাণ ও নথি ফাঁস করার প্রক্রিয়াটি যেন সহজ ও নিরাপদ হয়, তা নিশ্চিত করুন — যেমন টিপস সংগ্রহের আহ্বান জানানো বা এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা। তবে রাজনৈতিক পক্ষপাত বা উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটিও মাথায় রাখতে হবে। যদিও দাল পিভা হুইসলব্লোয়ারদের নিরাপদ ProtonMail অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ব্রাজিলে প্রচারণা-সংশ্লিষ্ট হুইসলব্লোয়াররা সাধারণত ফোনে যোগাযোগ করে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, বেশিরভাগেই হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দাল পিভা বলেন, প্রচারণা দলের অনেক সদস্যই আদর্শবাদী মনোভাব নিয়ে কাজ করেন, তাই তাদের মধ্যে কেউ কেউ যে দেখা ঘটনা নিয়ে হতাশ বা ক্ষুব্ধ হয়ে হুইসলব্লোয়ারে পরিণত হতে পারেন, সেটি খুবই স্বাভাবিক।
- প্রার্থীকে এবং তার সঙ্গে থাকা দলীয় সদস্যদের জনসমক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা রাস্তায় দেখা সাক্ষাতের মুহূর্তগুলো পর্যবেক্ষণ করুন। যারা প্রতিদিন প্রার্থীর সঙ্গে থাকেন — যেমন চালক, আলোকচিত্রী বা খাবার প্রস্তুতকারী কর্মী — তাদের দিকে বিশেষ নজর দিন। দাল পিভা বলেন, “এই মানুষগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা অনেক কিছু জানে। আপনাকে সময় বের করে রাস্তায় হাঁটতে হবে, তাদের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হতে হবে।”
- প্রার্থীর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অচেনা ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়ার পর কেউ সাড়া না দিলে ‘নোট-আন্ডার-দ্য-ডোর’ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ নোটবুকের একটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে দরজার নিচে বা মেইল স্লটে একটি ছোট বার্তা রেখে আসুন। দাল পিভা বলেন, এই নোটে কিছু বিষয় থাকা জরুরি: (১) আপনি সাংবাদিক — এই পরিচয়টি সৎভাবে উল্লেখ করুন; (২) লিখুন আপনি কিছু “বোঝার চেষ্টা” করছেন; (৩) বলুন, আপনি ওই ব্যক্তির “মতামত” জানতে চান, তথ্য নয়; এবং (৪) আপনার ব্যক্তিগত নয় এমন যোগাযোগের তথ্য দিন। আপনি চাইলে “অফ দ্য রেকর্ড” বা “অন ব্যাকগ্রাউন্ড” শব্দগুলোও ব্যবহার করতে পারেন। কারণ এ ধরনের সূত্র সাধারণত মিডিয়া সম্পর্কে জানে। নোটটি রেখে কয়েক মিনিট বাইরে অপেক্ষা করুন, কারণ অনেক সময়ই আপনাকে তখনই ভেতরে ডেকে নেওয়া হতে পারে। দাল পিভা বলেন, “অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, আমি এই নোটগুলোর মাধ্যমে অনেক সাক্ষাৎকার পেয়েছি।”
- যতজনের সঙ্গে সম্ভব যোগাযোগ করুন। “তবে, আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন, নিশ্চিত করুন যে আপনার প্রোফাইলটি পেশাদার এবং সেখানে আপনার সাংবাদিকতার ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—যাতে অপরিচিত কেউ বুঝতে পারে আপনি ট্রোল নন, সাংবাদিক,” তিনি বলেন। “আমি ৩০ বা ৪০ জন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষকে বার্তা পাঠিয়েছিলাম। ছয় মাস পর অবশেষে একজন উত্তর দিয়েছিলেন—এবং সেই ব্যক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সোর্স হয়ে উঠেছিলেন। পরে জেনেছিলাম, তিনি উত্তর দেওয়ার আগে আমার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিলেন।”
স্থানীয় ব্যাকগ্রাউন্ডিং ডেটাবেস তৈরি করুন
যদিও নিচে দেওয়া প্রার্থী-সংক্রান্ত ডেটাবেসগুলো মূলত ব্রাজিলভিত্তিক, দাল পিভা বলেন, এগুলো অন্য দেশের সাংবাদিকদের জন্যও দিকনির্দেশক হতে পারে—কী ধরনের স্থানীয় ডেটাবেস পাওয়া যেতে পারে এবং একটি শক্তিশালী ব্যাকগ্রাউন্ডিং ডেটাসেট কেমন হওয়া উচিত তা বোঝার ক্ষেত্রে।
• সংসদ সদস্যদের কার্যক্রম সংক্রান্ত একটি ভালো রেকর্ড ডেটাবেস (যেমন এই ধরনের)।
• আইনপ্রণেতাদের ব্যক্তিগত ব্যয়ের আর্কাইভ।
• রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সম্পর্কিত নথির একটি লাইব্রেরি।
• রাজনৈতিক বিষয়ক ফোয়া (তথ্য অধিকার আইন) অনুরোধসমূহের একটি সার্চযোগ্য ডেটাবেস।
• সাংবাদিকদের জন্য এমন একটি ডেটাবেস, যা কোম্পানি ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে সম্পর্ক মিলিয়ে দেখতে পারে—যেমনটি তৈরি করেছে ব্রাজিলের অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ‘আব্রাজি’।
দাল পিভা বলেন, “যাদের সঙ্গে কোনো প্রার্থী অতীতে আইনি লড়াই করেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এসব মামলার নথিতে অনেক সময় ফোন নম্বর ও ইমেল ঠিকানাও থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, প্রার্থীকে বুঝতে হলে তার ব্যক্তিত্বকে বুঝতে হবে—তার ধর্ম, তার শৈশবের শিক্ষা, রাজনীতিতে আসার প্রেরণা—সবকিছু।”
রোয়ান ফিলিপ জিআইজেএনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। এর আগে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সানডে টাইমসের প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন একজন বিদেশী সংবাদদাতা হিসেবে তিনি বিশ্বের দুই ডজনেরও বেশি দেশের সংবাদ, রাজনীতি, দুর্নীতি এবং সংঘাতের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।
