মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটায় যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তাদের গুলিতে অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাদের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছেন। ছবি: শাটারস্টক
ভিডিও তথ্যের শক্তিশালী উৎস, রিপোর্টিংয়ের জন্য পথচারীদের থেকে পাওয়া ভিডিও যাচাই করবেন যেভাবে
আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:
পথচারী বা সাধারণ মানুষের ধারণ করা ভিডিও এবং বিভিন্ন স্থানে বসানো নজরদারির ক্যামেরার ফুটেজ এখন বড় বড় সংবাদ প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।
মিনিয়াপোলিসে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের হাতে রেনে গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটির হত্যাকাণ্ড। যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অভিবাসন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের পক্ষ থেকে আইনসম্মতভাবে বসবাস করা নাগরিকদের ওপর আগ্রাসি দমনপীড়ন। টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরাল ডিগ্রিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্কের আটকের ঘটনা, এজেন্টরা তাকে রীতিমতো রাস্তা থেকে তুলে নেয়। এবং সর্বশেষ: ন্যান্সি গার্থ্রিকে অপহরণের ঘটনায় মুখোশধারী ও সশস্ত্র এক সন্দেহভাজনের একটি লোমহর্ষক ভিডিও—যেটি দরজায় বাইরের (ডোরবেল) ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
আধুনিক সাংবাদিকতায় তথ্য-প্রমাণের অন্যতম শক্তিশালী একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে ভিডিও, যেখানে আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এই প্রমাণ জাল ও কারসাজি করার কাজগুলো আরও সহজ করে দিয়েছে। এই নতুন বাস্তবতায় সাংবাদিকদের অবশ্যই ভিজ্যুয়াল ইনভেস্টিগেটর হয়ে উঠতে হবে।
এআই ভিডিও জেনারেটর সোরা ব্যবহার করে আমি মাত্র কয়েক মিনিটে একইভাবে মাস্ক পরা একজন আক্রমণকারীর একটি বাস্তবসম্মত ডোরবেল ক্যামেরা ভিডিও তৈরি করেছি। (সম্পাদকের নোট: ওপেনএআই সম্প্রতি সোরা বন্ধ করে দিয়েছে।) এটি একটি সমস্যা। সরকারি কর্মকর্তারা বারবার এই ঘটনাগুলো নিয়ে এমন ভুল বর্ণনা প্রচার করেছেন কিন্তু আসল ভিডিও ফুটেজ পাওয়ার পর দেখা যায় তাদের আগের বর্ণনার সঙ্গে ঘটনার কোনো মিল নেই। যা আরেকটি সমস্যা।
“এআই-জেনারেটেড ছবির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের প্রয়োজনীয়তা যে হারে বাড়ছে—তা মেটানো বেশ কঠিন,” সাম্প্রতিক এক লাইভস্ট্রিমে কথাগুলো বলছিলেন মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের ডিজিটাল ডিজাইনার অ্যানা বুন। তিনি প্রেটি হত্যাকাণ্ড এবং গুড হত্যাকাণ্ডের ভিডিও বিশ্লেষণকারী দলের একজন সদস্য। তিনি আরও বলেন, “সবকিছু একসঙ্গে বাড়ছে। যা কেবল-ই অসংখ্য কন্টেন্ট তৈরি করছে।”
“দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, সিএনএন এবং স্টার ট্রিবিউন—সবাই ‘ভিজ্যুয়াল ইনভেস্টিগেশন’ বা দৃশ্যমান অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই উভয় সমস্যার মোকাবিলা করেছে। তারা ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে, এআই দিয়ে তৈরি মিথ্যা তথ্য শনাক্ত এবং প্রতিটি ফ্রেম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করতে বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ও কৌশল ব্যবহার করছে। বর্তমানে প্রতিটি সংবাদমাধ্যমের জন্য এই সক্ষমতা অর্জন করা জরুরি।”
গুড এবং প্রেটি হত্যাকাণ্ডের ওপর স্টার ট্রিবিউনের কাজটি একটি দুর্দান্ত উদাহরণ। সেখানে একদল ভিজ্যুয়াল জার্নালিস্ট পথচারীদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজের প্রতিটি ফ্রেম বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশ্লেষণটি সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের সদস্যদের করা দাবির বিপরীতে সঠিক তথ্য সামনে এনেছে।
তাদের কাজের প্রক্রিয়া ছিল নিখুঁত। হাতে আসা ক্লিপগুলোকে ভিডিও সাংবাদিক আমান্ডা অ্যান্ডারসন একটি এডিটিং টাইমলাইনে সাজিয়েছিলেন। সেখানে তিনি অডিও মার্কার ব্যবহার করেন—অর্থাৎ প্রতিটি গুলির শব্দের ফলে তৈরি হওয়া দৃশ্যমান শব্দের কম্পন দেখে বিভিন্ন কোণ থেকে নেওয়া ফুটেজগুলোকে একটির সঙ্গে অন্যটি মিলিয়ে দেখেছেন। (স্টার ট্রিবিউনের পুরো লাইভস্ট্রিমটি দেখার মতো একটি কাজ। পাশাপাশি দৃশ্যমান অনুসন্ধান বা ভিজ্যুয়াল ইনভেস্টিগেশন বিষয়ক দক্ষতা তৈরির জন্যও কাজে লাগতে পারে।)
দলটি জানত যে, কোন বিষয়টি প্রকাশ করা যাবে না। গুডের ঘটনার ক্ষেত্রে, তারা পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করেন। যেমন, জোনাথন রস নামের যে অফিসারটি তাকে গুলি করে সে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছিলেন কি না, তা তারা প্রতিবেদনে উল্লেখ করবে কি করবে না। একাধিক ভিডিও জুড়ে তারা তার চুলের ছাঁট স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিল। কিন্তু ক্লিপগুলোর মাঝখানে কয়েকটি ফ্রেমের জন্য তাকে আর দেখা যাচ্ছিল না; তাই তারা সেটি প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে।
এই নিয়মমাফিক কাজই ভিজ্যুয়াল ইনভেস্টিগেশন বা চাক্ষুষ অনুসন্ধানকে এতটাই নির্ভরযোগ্য করে তোলে যে তা সরকারি বয়ানকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
স্টার ট্রিবিউনের গ্রাফিক্স রিপোর্টার জেক স্টেইনবার্গ বলেন, “এটি বেশ স্পষ্ট ছিল যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা ভিডিওর যে জোয়ার দেখছিলাম, তার চেয়ে আরও বেশি বিশ্লেষণধর্মী কাজের প্রয়োজন ছিল।”
তবে সুসংবাদটি হলো: এই ধরণের কাজ শুরু করার জন্য সংবাদ মাধ্যমগুলোর ছয় অঙ্কের বিশাল বাজেট বা ২০ জনের দলের প্রয়োজন নেই।
সবকিছু সংরক্ষণ করুন
কোনো সংবাদযোগ্য ভিডিও দেখলে একজন প্রতিবেদকের প্রথম কাজ হওয়া উচিত সেটি সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষণ করা—এবং অবশ্যই মূল ভিডিওটি।
“আমাদের অনেকের কাছেই বিষয়টি বেশ পরিষ্কার ছিল—সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুতগতির কারণে ভিডিও সংরক্ষণের গুরুত্ব অনেক বেশি,” অ্যান্ডারসন বলেন। “যেসব ভিডিও আমরা আরও বিশ্লেষণ করতে চেয়েছি, সেগুলোর কপি নিজের ডিভাইসে সংরক্ষণ করা জরুরি ছিল, যদি সেগুলো মুছে ফেলা হয় বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে কেউ সরিয়ে দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব এবং যত বেশি সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করার প্রয়োজনীয়তাই ছিল মূল বিষয়।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট মুছে যেতে পারে। প্ল্যাটফর্মগুলো ফাইল কমপ্রেস করে এবং মেটাডেটা মুছে ফেলে। মিনিয়াপোলিসের দুটি গুলির ঘটনার ক্ষেত্রেও সরকারি সংস্থাগুলো তথ্যে প্রবেশের অধিকার সীমিত করেছে। আপনি যদি মূল ফাইলটি সংরক্ষণ না করেন, তাহলে সেটি হারিয়ে যেতে পারে।
তথ্য সংরক্ষণের জন্য কিছু ফ্রি টুল রয়েছে, যেমন ওয়েব্যাক মেশিন, আর্কাইভ টুডে, এবং মিডিয়াভল্ট। একজন সাংবাদিক হিসেবে অনুসন্ধানী কাজের সময় আপনি কোনো ওয়েবপেজ ভিজিট করলে সেটির একটি রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয় (লগ করা), এবং ঠিক কখন পেজটি ভিজিট করা হয়েছে তা সময়-তারিখসহ উল্লেখ করা হয় (টাইমস্ট্যাম্প যোগ করা)।
ভিডিওর ক্ষেত্রে সম্ভব হলে স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের ওপর নির্ভর না করে মূল ফাইলটি ডাউনলোড করা উচিত, কারণ স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ে মান কমে যায় এবং মেটাডেটা হারিয়ে যায়।

ওয়েব্যাক মেশিন একটি ফ্রি টুল, যা ইন্টারনেটের কনটেন্ট সংরক্ষণ করে। ছবি: স্ক্রিনশট, ওয়েব্যাক মেশিন / ইন্টারনেট আর্কাইভ
ভিডিও জিওলোকেট ও সম্পাদনা করা শিখুন
“আমি সবচেয়ে ভালো যে পরামর্শটি দিতে পারি, তা হলো—শুধু শুরু করুন,” বলেন ম্যালাকি ব্রাউন। নিউইয়র্ক টাইমসের ভিজ্যুয়াল ইনভেস্টিগেশনস দলের এন্টারপ্রাইজ ডিরেক্টর। “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেখানে ভিজ্যুয়াল শেয়ার হচ্ছে, এমন কোনো ব্রেকিং নিউজ ইভেন্ট অনুসরণ করুন। জিওলোকেট করা (কোনো ঘটনা কোথায় ঘটেছে তা নির্ধারণ করা) এবং ক্রোনোলোকেট করা (কখন ঘটেছে তা নির্ধারণ করা) শিখুন, এবং বেলিংক্যাটের ইনভেস্টিগেটিভ টুলকিটের টুলগুলো কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা আয়ত্ত করুন। এই ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, কখন, কার মাধ্যমে, কেন—কী ঘটছে, এবং আপনি কীভাবে তা নিশ্চিত হচ্ছেন?” জিওলোকেশন হলো ভিজ্যুয়াল অনুসন্ধানের মৌলিক দক্ষতা। শুরু করার জন্য কয়েকটি টুল:
- গুগল আর্থ প্রো সাংবাদিকদের ভিডিওর মধ্যে থাকা ভূপ্রকৃতি, ভবন ও ল্যান্ডমার্ক স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে তুলনা করতে সাহায্য করে। এতে ঐতিহাসিক স্যাটেলাইট ছবিও দেখা যায়, যা দিয়ে কোনো দৃশ্য উল্লেখ করা তারিখের সঙ্গে মেলে কি না তা যাচাই করা যায়।
- গুগল স্ট্রিট ভিউ রাস্তার চারপাশের বিস্তারিত তথ্য—যেমন দোকানের সামনের অংশ, রাস্তার চিহ্ন, এবং বিদ্যুতের খুঁটি—মিলিয়ে দেখার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর।
- সানক্যাল্ক ছায়ার কোণ ও সূর্যের অবস্থান ব্যবহার করে কোনো ছবি বা ভিডিও দিনের কোন সময়ে ধারণ করা হয়েছে, তা যাচাই করতে সহায়তা করে।
- বেলিংক্যাটের ওপেনস্ট্রিটম্যাপ সার্চ টুল সীমিত ভিজ্যুয়াল সূত্র থাকলে নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করতে সাহায্য করে—যেমন একটি সেতুর পাশে একটি গির্জা, তার কাছেই একটি গ্যাস স্টেশন।
এখন জিওলোকেশনের কাজেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হচ্ছে। বেলিংক্যাটের সাম্প্রতিক একটি পরীক্ষায় ২৪টি বড় ভাষা মডেল মূল্যায়ন করে দেখা গেছে, গুগলের এআই মোড ছবি থেকে লোকেশন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অন্য সব মডেলের চেয়ে ভালো ফল করেছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এআই দিয়ে জিওলোকেশন নির্ধারণ করলেও এখনো সেটি মানুষের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
লরেবেন তুকুয়েরো পয়েন্টার ইনস্টিটিউট এআই ইনোভেশন ল্যাবের সদস্য। তিনি বলেন: “ভিজ্যুয়াল ফরেনসিক্সের কৌশলগুলো অনেক সময় ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের (ওএসআইএনটি) কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়, তাই সুযোগ পেলে সেগুলো শেখা উচিত। সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কিত উন্নত সার্চ কৌশল জানা থাকলে আপনি জানতে পারবেন কে প্রথম কোনো ছবি বা ভিডিও পোস্ট করেছে, এবং তাদের পোস্টিং ইতিহাসে সন্দেহজনক কনটেন্ট আছে কি না।”
এডিটিং টুলও এতে সাহায্য করে। যেমন ক্যাপকাট এবং অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রো ভিডিওর গতি কমানো, নির্দিষ্ট ফ্রেম আলাদা করা এবং অডিও বিশ্লেষণ করার সুযোগ দেয়—একই ধরনের কৌশল মিনিয়াপোলিসের গুলির ঘটনার ক্ষেত্রে স্টার ট্রিবিউন-এর ভিজ্যুয়াল সাংবাদিকরা ব্যবহার করেছিলেন।
“তাই, স্থানীয় বার্তাকক্ষের জন্য আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি হচ্ছে —ভিজ্যুয়াল ফরেনসিক্সের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই মানুষের কাজ, প্রযুক্তির নয়,” বলেন হেঙ্ক ফন এস। যিনি ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং এআই বিষয়ক অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ। তিনি গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের জন্য এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকরণের গাইডও লিখেছেন।
তিনি আরও বলেন, “এআই নিয়ে আপনার পিএইচডি করার দরকার নেই। দরকার এমন রিপোর্টার, যারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং সঠিক প্রশ্ন করতে জানে।”
সঠিক প্রশ্ন দিয়ে শুরু করুন
ফন এস বলেন, সাংবাদিকরা কোনো টুল ব্যবহার করার আগে প্রথমেই কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা উচিত। তিনি এমন কয়েকটি শনাক্তকরণ ক্যাটাগরি চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো সাংবাদিকরা শিখে নিতে পারেন এবং কাজে লাগাতে পারেন।
- প্রোভেন্যান্স: এটি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়েছে? আপনি কি মূল আপলোডটি খুঁজে বের করতে পারেন?
- সময় ও তারিখ: আবহাওয়া, আলো এবং ছায়া, দাবি করা সময় ও স্থানের সঙ্গে মিলছে?
- অবস্থান: ল্যান্ডমার্ক, সাইনবোর্ড এবং রাস্তার বিন্যাস দাবি, করা স্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
- প্রযুক্তি: ডিভাইস ও অবকাঠামো কি সময় ও স্থানের সঙ্গে মানানসই? ভিডিওর মান কি সত্যিই যে ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার সঙ্গে মেলে?
- আচরণগত প্যাটার্ন: মানুষ কি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও যোগাযোগ করছে, নাকি কিছুটা কৃত্রিম বা সাজানো মনে হচ্ছে?
- পদার্থবিজ্ঞান: প্রতিফলন, ছায়া এবং সূক্ষ্ম বিষয়গুলো—যেমন আঙুল, দাঁত, লেখা—বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না?
ইনভিড, টিনআই এবং গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চের মতো টুলগুলো ব্যবহার করে কোনো ছবির মূল উৎস খুঁজে বের করা যায় এবং এসব প্রশ্নের অনেকগুলোর উত্তর পাওয়া সম্ভব। এরপর আসে নিজের বিবেচনার বিষয়টি। ফন এস যাকে “গাট চেক” বা অন্তর্দৃষ্টি যাচাই বলে উল্লেখ করেন।
সময়, ফ্রেমিং বা বর্ণনা কি খুব বেশি সুবিধাজনক বা সাজানো মনে হচ্ছে? তিনি এটিকে “প্রোডাকশন কোয়ালিটি প্যারাডক্স” বলেন—যখন কোনো কনটেন্ট অতিরিক্ত নিখুঁতভাবে তৈরি মনে হয় বা খুব পরিকল্পিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়—এমন কিছু দেখলে সন্দেহ করুন।
এআই–কে বোঝার চোখ তৈরি করুন
স্টার ট্রিবিউনের লাইভস্ট্রিম চলাকালীন স্টেইনবার্গ উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জননিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা বিভাগ এআই ব্যবহার করে মিনিয়াপোলিসে এক নারীকে গ্রেপ্তারের একটি ছবিতে পরিবর্তন এনেছিল, যাতে মনে হয় যে তিনি কাঁদছেন।
প্রেটির কাছ থেকে উদ্ধার করা একটি বন্দুকের ছবি সরকার প্রকাশ করার পরই স্টেইনবার্গ বলেন, “সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিক কিছু প্রশ্ন উঠেছিল—এটা কি সত্যি? এটা কি যাচাইযোগ্য?” তিনি আরও বলেন, “ভিজ্যুয়াল প্রমাণ, যার ওপর আমরা এতদিন ভরসা করে এসেছি, সেটাকেই এখন প্রশ্ন করতে হচ্ছে—এটা এক নতুন বাস্তবতা, যা আমাদের মানিয়ে নিতে হচ্ছে।”
কিছু টুল সাংবাদিকদের সাহায্য করতে পারে এটা যাচাই করতে যে কোনো কনটেন্ট এআই দিয়ে তৈরি কি না:
- হাইভ মডারেশন: এটি একটি ফ্রি ব্রাউজার এক্সটেনশন, যা ছবি, ভিডিও, অডিও এবং লেখা বিশ্লেষণ করে দেখে সেগুলো এআই দিয়ে তৈরি কি না। এটি কনফিডেন্স স্কোর দেয় এবং সম্ভাব্য এআই মডেলও শনাক্ত করে—যেমন মিডজার্নি, ডাল-ই বা স্টেবল ডিফিউশন। দ্রুত রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি ভালো প্রাথমিক টুল।
- গুগলের সিন্থআইডি: এটি গুগলের নিজস্ব এআই টুল দিয়ে তৈরি কনটেন্টে থাকা একটি ওয়াটারমার্কিং সিস্টেম, যা গুগলের এআই টুল যেমন জেমিনি এবং ভিও-তে যুক্ত থাকে। একটি সহজ পদ্ধতি হলো: কোনো ছবি জেমিনি চ্যাটে আপলোড করে সরাসরি জিজ্ঞেস করা, এটি গুগলের এআই দিয়ে তৈরি কি না।
- ফন এসের ইমেজ হুইস্পারার: এটি একাধিক বিশ্লেষণ একসঙ্গে চালায়—বড় ভাষা মডেল এবং গুগল ভিশন প্রসেসিংকে সমান্তরালে ব্যবহার করে ছবির সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করে।
কোনো একক টুলই চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তাই ফন এস পরামর্শ দিয়েছেন, কনটেন্ট যাচাইয়ের জন্য একাধিক ডিটেকশন টুল ব্যবহার করে তাদের ফলাফল পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত, এবং সবসময় এর সঙ্গে মানুষের বিশ্লেষণ যুক্ত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর করুন
“বিশেষজ্ঞ সূত্র তৈরি করুন,” বলেন তুকুয়েরো। “যখন কোনো সম্ভাব্য এআই-জেনারেটেড ছবি বা ভিডিওতে স্পষ্ট কোনো চিহ্ন দেখা যায় না, তখন আমি এমন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করি যাদের কাছে উন্নত দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় সংস্থান আছে, যাতে জটিল এআই ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত করা যায়। এর মধ্যে থাকেন শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা, যারা এআই শনাক্তকরণের পদ্ধতি তৈরি করেন।”
এআই গবেষক, ফরেনসিক বিশ্লেষক এবং ওপেন সোর্স ইনভেস্টিগেটরদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সময়সাপেক্ষ হলেও, জরুরি সময়ে এটি অনেক কাজে দেয়।
ইনডিকেটর-এর মতো প্রকাশনাগুলো সাহায্য করতে পারে। এটি ফ্যাক্ট-চেকিং এবং ডিজিটাল অনুসন্ধানের অভিজ্ঞ ক্রেইগ সিলভারম্যান এবং অ্যালেক্সিওস ম্যান্টজারলিস পরিচালিত একটি ডিজিটাল আউটলেট। ইনডিকেটর নিয়মিতভাবে ডিজিটাল বিভ্রান্তি বা ভুয়া তথ্যের পেছনের টুল, কৌশল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে। পাশাপাশি এটি পেইড সাবস্ক্রাইবারদের জন্য মাসিক ওয়ার্কশপও আয়োজন করে। এর রিসোর্স পেজে বিভিন্ন টুলের তালিকা এবং এআই-জেনারেটেড বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট নিয়ে নিয়মিত আপডেট হওয়া একটি একাডেমিক লাইব্রেরিও রয়েছে।
“মনে হচ্ছে ডিপফেক ভিডিওর বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান, উৎস যাচাই এবং পুরোনো ধাঁচের রিপোর্টিং।” বলেন অ্যালেক্সিওস ম্যান্টজারলিস।
সম্পাদকের নোট: এই নিবন্ধটি পয়েন্টার ইনস্টিটিউটে প্রথম প্রকাশিত হয়। তাদের অনুমতি নিয়ে এখানে পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে।
অ্যালেক্স মাহাদেভান একজন সাংবাদিক, ডেটা বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষক এবং গবেষক। তিনি জেনারেটিভ এআই, মিডিয়া লিটারেসি এবং ভুল তথ্যের বিস্তার—এই তিনটি বিষয় এবং এগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেন।