প্রবেশগম্যতা সেটিংস

অলংকরণ: আমান্ডা মিরান্ডা। অনুমতি নিয়ে প্রকাশ করা হলো।

লেখাপত্র

বিষয়

পুরুষতান্ত্রিক ধারণা প্রচার কিংবা ইচ্ছাকৃত নারী হত্যা: নারীবিদ্বেষ ও নারী নিপীড়নের ঘটনা অনুসন্ধানে বাধা যেখানে

আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:

জার্মানিতে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী তারকা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ওঠা সহিংসতার অভিযোগ অনুসন্ধান থেকে শুরু করে ব্রাজিলে ইচ্ছাকৃতভাবে নারীকে হত্যার (ফেমিসাইড) রূঢ় বাস্তবতা উন্মোচন। কিংবা ইন্টারনেট তথ্যের সূত্র ধরে স্পেনের উপকূলীয় শহর মারবেলাতে ম্যানোস্ফিয়ারের (ইন্টারনেটের এমন কিছু অনলাইন গ্রুপ, ফোরাম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেটওয়ার্ক বা জালকে বোঝায়, যেখানে কিছু পুরুষ একত্রিত হয়ে পুরুষতান্ত্রিক ধারণা প্রচার করে এবং নারীদের সম্পর্কে নেতিবাচক বা নারীবিদ্বেষী মত ছড়ায়) অনলাইন সেলিব্রিটিরা কীভাবে ইন্টারনেটের বাইরে বাস্তব দুনিয়ার (অফলাইন) নির্দিষ্ট একটি জায়গায় একত্রিত হয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে—তা উন্মোচন। এভাবে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকরা এখন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, নারীবিদ্বেষ এবং বৈষম্যের শিকড় অনুসন্ধানে কাজ করে যাচ্ছেন।

সাংবাদিকরা সেই সব আইনি ফাঁকফোকর এবং সাংস্কৃতিক রীতিনীতিগুলো খুঁজে বের করছেন যা এ ধরনের ক্ষতিকর পরিস্থিতিকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে; পাশাপাশি বিভিন্ন বাস্তবতায় লিঙ্গভিত্তিক ক্ষমতার লড়াই কীভাবে কাজ করে, তাও তারা উন্মোচন করছেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে তিনটি অনুসন্ধানী রিপোর্টের প্রতিবেদকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যারা জানিয়েছেন, কীভাবে তারা তাদের প্রকল্প পরিচালনা করেছেন, কী ধরনের তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় কীভাবে তারা সোর্সের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন। যাতে অন্যায় প্রকাশ করতে গিয়ে নতুন করে কোনো অন্যায়ের সূত্রপাত না হয়।

এটি উল্লেখ করা জরুরি যে, নারী সাংবাদিকরা যখন এই প্রতিবেদনগুলো তৈরি করছেন, তারা নিজেরাও বিশেষ করে ইন্টারনেটে নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। এই মাসের শুরুতে প্রকাশিত কাউন্সিল অব ইউরোপের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “নারী সাংবাদিকরা অসমভাবে এই নিগ্রহের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন কারণ তারা দ্বিমুখী ঝুঁকির সম্মুখীন। তারা তাদের কাজের কারণে যেমন আক্রান্ত হচ্ছেন, তেমনি তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের কারণেও।”

প্রতিবেদনটিতে ২০২৫ সালের স্ট্যান্ড আপ ফর জার্নালিজম জরিপের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, প্রায় ৮৭ শতাংশ নারী সাংবাদিক তাদের পেশাগত কাজের কারণে অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। আরও বলা হয়, “নারী সাংবাদিকরা নিয়মিতভাবে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন, যার মধ্যে রয়েছে ধর্ষণের হুমকি, নারীবিদ্বেষী গালিগালাজ, কলঙ্কিত করা, স্টকিং (পিছু নেওয়া) এবং এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও।”

সাংবাদিক এবং অন্যান্য নারীরা বর্তমানে যে ধরনের অনলাইন আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, সেখানে বড় ভূমিকা পালন করছে প্রযুক্তিও।

Fuller Project, spyware abuse against women

ছবি: স্ক্রিনশট, ফুলার প্রজেক্ট

ফুলার প্রজেক্টের প্রযুক্তি বিষয়ক সাংবাদিক পোলিনা বাখলাকোভা বিশ্বজুড়ে নজরদারি বিষয়ক প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ওপর চোখ রাখছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন, প্রতিবাদ ও আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা নারী ও বিভিন্ন লিঙ্গের অধিকারকর্মীদের প্রায়ই এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হন। লিঙ্গভিত্তিক ডিজিটাল আন্তঃরাষ্ট্রীয় নিপীড়নের ওপর বাখলাকোভার একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোনো নারীর ফোন বা কম্পিউটার হ্যাক করে নজরদারি চালানো, ভয় দেখানো এবং হয়রানি করার জন্য স্পাইওয়্যার সংগ্রহ করা সরকার বা ব্যক্তিবিশেষের জন্য এখন কতটা সহজ এবং তুলনামূলকভাবে সস্তাও। তিনি আরও বলেন, “আন্তঃরাষ্ট্রীয় নিপীড়ন থেকে নারীদের রক্ষা করার জন্য এবং তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যেসব আইন, বিধিবিধান এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা দরকার, সেগুলো কাগজে-কলমে আছে বটে, কিন্তু বাস্তবে তা কাজের কিছু নয়।”

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা পেশাদার ফুটবলারদের নিয়ে অনুসন্ধান

ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত একজনের মাধ্যমেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদক গ্যাব্রিয়েলা কেলার প্রথম সূত্রের সন্ধান পান। পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর সেই নারী জানান, তার সাবেক সঙ্গী একজন শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলার। যার কাছ থেকে তিনি চরম নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন। ওই নারীর বর্ণনা অনুসারে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও ওই ফুটবলার তাকে অনুসরণ করে বিরক্ত করতো।

“ওই নারী মনে করতেন তার সঙ্গে বড় ধরনের অন্যায় হয়েছে। কিন্তু তিনি যা বলতে চাচ্ছিলেন, তা শুনতে কারও আগ্রহ ছিল না,” বলেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক গ্যাব্রিয়েলা কেলার। সে সময় তিনি বার্লিনভিত্তিক অনুসন্ধানী বার্তাকক্ষ কোরেকটিভে কাজ করছিলেন। “না পুলিশ, না আদালত, এমনকি ফুটবল ক্লাবের ব্যবস্থাপকরাও ভুক্তভোগীর ওই কথা শুনতে চায়নি।”

তাই গণমাধ্যমের কাছে যাওয়াই ছিল তার কথা শোনানোর একমাত্র পথ। জিআইজেএনকে কেলার বলেন, “খ্যাতিমান ও ধনী পুরুষ দ্বারা নির্যাতিত নারীরা খুব কমই সামনে আসেন। এতে তাদের কোনো লাভ হয় না—বলতে পারেন একদম কিছুই হয় না—তারা বরং ঝুঁকিতে পড়েন।”

কিন্তু কেলার ও তার সহকর্মীরা যখন এই ঘটনা ও প্রতিবেদনটি নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন, তাদের সামনে আসে আরো কিছু বিষয়। যা নিয়ে তারা গভীর অনুসন্ধান করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা গোপনীয়তা চুক্তি (নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা এনডিএ) নামক বড় বাধার মুখোমুখি হন। এই চুক্তির কারণে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগ করা অনেক নারীই তাদের বর্তমান বা সাবেক সঙ্গীদের বিরুদ্ধে খোলামেলা কিছু বলতে পারছিলেন না। কথা বললে পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে—এই ভয়ও তাদের মধ্যে ছিল। একজন নারী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমার সাবেক সঙ্গী চাইলে আমার জীবন নষ্ট করে দিতে পারে।”

এনডিএ বা গোপনীয়তার এই চুক্তিগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, তারা যদি সেই নারীদের নাম বা অভিযুক্ত ফুটবল খেলোয়াড়দের পরিচয় প্রকাশ করতে না পারেন, তাহলে তারা যেসব ঘটনাকে আরও বিস্তৃত নির্যাতনের প্রেক্ষাপট বলে মনে করছিলেন, সেগুলো কীভাবে সামনে আনবেন?

তাই তারা সেই নারীর গল্প দিয়ে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়, যিনি নাম প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন পোলিশ মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার। যিনি দাবি করেছিলেন, সম্পর্ক থাকার দিনগুলোতে একজন শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল খেলোয়াড় তাকে নির্যাতন করেছিলেন। গোপনীয়তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কয়েক দিন পরই ওই নারী আত্মহত্যা করেন। ওই চুক্তিতে তাকে তার এবং ওই খেলোয়াড়ের সঙ্গে সম্পর্কের সমস্ত প্রমাণ—যেমন ছবি, মেসেজ এবং ইমেল—”অবিলম্বে” এবং “অপরিবর্তনীয়ভাবে” মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছিল। (তবে অভিযুক্ত খেলোয়াড়টি তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত নিপীড়নের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন)।

শেষ পর্যন্ত, কোরেকটিভ এবং জুডডয়চে সাইটুংয়ের সাংবাদিকরা এমন নয়জন নারীর সঙ্গে কথা বলেন, যারা জানিয়েছিলেন, তারা তাদের প্রাক্তন সঙ্গীদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন। ওই সঙ্গীদের সবাই ছিলেন ফুটবল খেলোয়াড়। পেশাদার ফুটবলে ক্ষমতার অপব্যবহার শিরোনামের এই অনুসন্ধানে এমন কিছু বিষয় বেরিয়ে এসেছে যেগুলোকে কেলার “ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করেছেন। এখানে শুধু সহিংসতার ধরনগুলোই এক নয় বরং নজরদারি, ভয় দেখানো এবং সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার মতো ঘটনাগুলোর মধ্যেও অদ্ভুত মিল পাওয়া গেছে।

এই প্রতিবেদনে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক নির্যাতনের নানা অভিযোগও উঠে এসেছে। যেমন—একজন নারী জানান তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হয়েছিল, আবার অন্য একজন জানান যে তিনি তার শোবার ঘরে আড়ি পাতার যন্ত্র খুঁজে পেয়েছেন।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের সময় সহিংসতার সাক্ষ্যপ্রমাণের পাশাপাশি, সাংবাদিক দলটি খতিয়ে দেখতে চেয়েছিল কীভাবে এই গোপনীয়তা চুক্তি বা এনডিএ নিস্তব্ধতার দেয়াল তৈরি করছিল। তারা লক্ষ্য করেন, সম্পর্ক যখনই খারাপ হতে শুরু করত, ঠিক তখনই এই চুক্তিগুলো সামনে আনা হতো। জার্মানিতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ধরনের চুক্তি আইনত প্রয়োগ করাটা বেশ কঠিন। (অর্থাৎ কেউ এটি ভাঙলে তাকে শাস্তি দেওয়া কঠিন)। কিন্তু আইনটি কার্যকর না হলেও, এটি ওই নারীদের মনে প্রবল ভয় বা মানসিক চাপ তৈরি করে। তারা ভাবেন যে, মুখ খুললে হয়তো বড় কোনো আইনি বিপদে পড়বেন।

আইনজীবী, ফুটবল ক্লাবের ম্যানেজার এবং পিআর বা প্রচারকদের মাধ্যমে এই ভয় দেখানোর প্রক্রিয়া চলত। তাদের সবার লক্ষ্য ছিল একটাই—ফুটবল তারকাদের সুনাম রক্ষা করা এবং তাদের প্রাক্তন সঙ্গীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। যেমনটি একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি তার প্রাক্তন বান্ধবীকে বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, “তোমার কী মনে হয়, কে তোমাকে বিশ্বাস করবে?”

এই ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর একজন আইনপ্রণেতা এনডিএর সীমাবদ্ধতাগুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তবে ফুটবল পরিচালনা বা আইনে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন এখনো আসেনি। প্রতিবেদনে যাদের নাম উঠে এসেছিল, তাদের মধ্যে থেকে একজন ফুটবলারকে তার বান্ধবীকে মারধর করার অপরাধে আদালত জরিমানা করেন। এমনকি ভক্তদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে এফসি বায়ার্ন ক্লাব তাকে দল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে বিক্ষোভকারীরা বড় ব্যানারে লিখেছিলেন ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শারীরিক মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।“

গল্পটি শুরু হয়েছিল এমন একজন নারীর কথা দিয়ে—যাকে কেউ বিশ্বাস করেনি। কিন্তু প্রকল্পটি যখন শেষ হয়, তখন দেখা গেল মানুষ আর বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইছে না। কেলারের মতে, এই সিরিজটি ঠিক এখানেই প্রভাব তৈরিতে সমর্থ হয়েছে। এটি শক্তিশালী পুরুষদের আড়াল করার ও নারীদের মুখ বন্ধ রাখার জন্য ব্যবহৃত সুপরিকল্পিত এবং বিশাল অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত ব্যবস্থাগুলোকে সবার সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে।

Correctiv, Partner Abuse by Football Players

কোরেকটিভ–এর “পেশাদার ফুটবলে ক্ষমতার অপব্যবহার” ধারাবাহিক প্রতিবেদনে জার্মানির পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়দের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকা নারীদের নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ছবি: স্ক্রিনশট, কোরেকটিভ

ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিবেদন

ঘনিষ্ঠ সঙ্গীদের ওপর নিপীড়ন চালানো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিবেদন করতে হলে শুধু সাধারণ অনুসন্ধানী সতর্কতা বা পদ্ধতি যথেষ্ট নয়। কেলারের মতে, এই ধরনের ঘটনা কভার করার সময় পদ্ধতিগত নির্ভুলতার পাশাপাশি বাড়তি সংবেদনশীলতাও দরকার, যেন প্রতিবেদনের কারণে ভুক্তভোগীদের আরও ক্ষতি না হয়।

  • বেঁচে যাওয়া নারীরাই পুরো প্রক্রিয়ার গতি ঠিক করেন: কেলার বলেন, “আপনাকে পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধীরেসুস্থে এগোতে হবে।” যারা এরমধ্যেই নিয়ন্ত্রণ ও দমনমুখী পরিস্থিতির মধ্যে আছে, বিস্তারিত ঘটনা বলতে চাপ দেওয়া বা দ্রুত কাজ করার চেষ্টা ওই ভুক্তভোগীদের জন্য আরো বেশি চাপ তৈরি করতে পারে।
  • প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছ থাকুন: কেলার তার সূত্রদের কাছে একদম শুরু থেকেই ব্যাখ্যা করেন যে তার তথ্য, বার্তা, ছবি এবং সাক্ষীদের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি মন্তব্যও নেওয়ার জন্য তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করবেন। আর এগুলো পরবর্তীতে প্রকাশ হবে। তিনি বলেন, “এটি সোর্সদের অবিশ্বাস করার ব্যাপার নয়। এটা হলো আমি গল্পের পক্ষে যুক্তি দিতে সক্ষম হতে চাই।”
  • সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখুন: “একজন তরুণ সাংবাদিক হিসেবে আমাকে বলা হয়েছিল, আপনি কারও হস্তক্ষেপকে আপনার গল্পের মধ্যে ঢুকতে দেবেন না,” কিন্তু ওই ব্যক্তি আরো যোগ করেন, “গল্পটি কিন্তু আপনার নয়। প্রকাশিত হলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে মূল সূত্রকে।” তিনি যেসব নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের উদ্ধৃতি পাঠান এবং ফোনে গল্পটি পড়ে শোনান, যাতে সংবেদনশীলতা বজায় থাকে কিন্তু সম্পাদকীয় স্বাধীনতা হারাতে না হয়।

ব্রাজিলে ইচ্ছাকৃতভাবে নারীহত্যা

২০২১ সালের নববর্ষের রাতে ব্রাজিলে অন্তত সাতজন নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, যা ‘ফেমিসাইড’ বা ইচ্ছাকৃতভাবে নারী হত্যা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সাংবাদিক লাইস মার্টিনসের কাছে সেই রাতের ঘটনাগুলো কেবল কোনো পরিসংখ্যানগত অস্বাভাবিকতা ছিল না, বরং তা ছিল সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া একটি মুহূর্ত।

মার্টিনস স্মৃতিচারণ করে বলেন, “নারী হত্যার ঘটনাগুলো অত্যন্ত সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিদিন নতুন নতুন ঘটনার খবর আসত এবং আমার মনে আছে, বিশেষ করে ওই দিনটি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক।”

ঠিক একই সময়ে, দেশে আরেকটি পরিবর্তন ঘটছিল। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো বন্দুক আইন শিথিল করেন। ফলে সাধারণ মানুষের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ বাড়ছিল এবং উচ্চ ক্ষমতার অস্ত্রের বিক্রি ও আমদানিতে জোয়ার আসছিল।

মার্টিনস আগে থেকেই কাজ করছিলেন আইনি পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান বন্দুকের বাজার নিয়ে। তার প্রকল্প উনডেড-এর মূল প্রশ্ন ছিল—আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা কি দেশটির পারিবারিক সহিংসতার ধরন বদলে দিচ্ছে? বন্দুকের সংখ্যা বাড়ার কারণেই কি নারী মৃত্যুর হার বেড়ে গিয়েছে?

মার্টিনস আগ্নেয়াস্ত্রের প্রযুক্তিগত জগতে প্রবেশ করেন; ক্যালিবার, ট্রিগার এবং আগ্নেয়াস্ত্রের গতিশক্তি বোঝার জন্য তিনি বিশেষজ্ঞদের লেখা পড়েন এবং অভিজ্ঞ সূত্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেন। নারীহত্যার কিছু ঘটনা ছুরিকাঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকলেও, মার্টিনস বুঝতে চেয়েছিলেন, কীভাবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্রগুলো মৃত্যুর হার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

তিনি এমনকি একটি শুটিং রেঞ্জও পরিদর্শন করেছিলেন, যা তার ভাষায় ছিল একটি “চরম পুরুষতান্ত্রিক এবং ভীতিকর” জগত। তবে তার অনুসন্ধানের মূল ভিত্তি ছিল ডেটা।

ব্রাজিলের বিভিন্ন রাজ্যের জননিরাপত্তা বিভাগগুলোতে বন্দুকের মালিকানা, নারী নিধন এবং ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইন ফোয়ার অধীনে অসংখ্য আবেদন করার প্রসঙ্গে মার্টিনস বলেন, “এখানে অত্যন্ত কঠোরভাবে তথ্য পাওয়ার অধিকার আইনের প্রয়োগ করতে হয়েছিল।”

তার প্রতিবেদনটি ব্যবস্থার পদ্ধতিগত দুর্বলতাগুলোকে উন্মোচিত করেছে: দেখা গেছে যে তথ্যগুলো মানসম্মত ছিল না এবং অনেক ‘ফেমিসাইড’ বা ইচ্ছাকৃতভাবে নারী হত্যার ঘটনাকে সাধারণ ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। যা অপরাধের পেছনে থাকা লিঙ্গবৈষম্যের উদ্দেশ্যকে আড়াল করে দিচ্ছিল। মার্টিনস এই শূন্যস্থানগুলো পূরণে বিভিন্ন ধরনের প্যাটার্ন বা ধরন খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। তার অনুসন্ধানে দেখা যায়, পূর্বে যে আগ্নেয়াস্ত্রগুলো ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেগুলো এখন ক্রমবর্ধমান হারে ইচ্ছাকৃতভাবে নারী হত্যার ঘটনায় দেখা যাচ্ছে। তিনি জাতিগত বৈষম্যও খতিয়ে দেখেন এবং দেখতে পান যে, কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা আগ্নেয়াস্ত্রের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন অনেক বেশি হারে।

মার্টিনস তার প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া নারীদের যে সন্তানরা রয়েছে সরাসরি তাদের সাক্ষাৎকার না নিয়ে আদালতের নথিপত্র ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “সুযোগ পেলেও আমি তাদের সাক্ষাৎকার নিতাম না। আমি বিশ্বাস করি, মা বা নিকটাত্মীয়কে হারানো এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন অপরাধের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়াটাই তাদের জন্য যথেষ্ট ট্রমাটিক বা মানসিকভাবে যন্ত্রণাদায়ক।”

এই প্রতিবেদন তৈরির সময় তাকে নানা প্রাতিষ্ঠানিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে বন্দুক আইন শিথিল হওয়া এবং ক্রমবর্ধমান লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার মধ্যে যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে, তা প্রমাণের ক্ষেত্রে এক বিশাল তথ্যের ভাণ্ডার তৈরিতে সাহায্য করেছে। ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এরইমধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। মার্টিনস বিশ্বাস করেন যে, তার এই অনুসন্ধানী কাজ বন্দুকের মালিকানা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে নারী হত্যার মধ্যকার সম্পর্কে নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। এই প্রতিবেদনের প্রভাব ছিল ব্যক্তিগত পর্যায়েও: অনেক নারী মার্টিনসকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, তার প্রতিবেদনটি পড়ার পর তারা তাদের সঙ্গীদের বন্দুক রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য বোঝানোর সাহস পেয়েছেন। এদের কেউ কেউ বন্দুক রাখা বাদও দিয়েছেন।

ম্যানোস্ফিয়ার: অনলাইন উপসংস্কৃতি থেকে বাস্তব জগতের নেটওয়ার্ক

ইউএন উইমেন ‘ম্যানোস্ফিয়ার’-কে এমন একটি অনলাইন গোষ্ঠী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে যা “পুরুষত্বের সংকীর্ণ ও আক্রমণাত্মক সংজ্ঞাকে ক্রমাগত প্রচার করে—এবং এই মিথ্যা বয়ান দেয় যে, নারীবাদ ও লিঙ্গ সমতা কেবল পুরুষদের অধিকারের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে।”

বিভিন্ন দেশের সরকার এবং অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলো অনলাইনে নারীবিদ্বেষ এবং বাস্তব জগতের সহিংসতার সঙ্গে এই গোষ্ঠীর যোগসূত্রগুলো বিভিন্নভাবে যাচাইবাছাই করে দেখছে। পাশাপাশি অনেকেই এমন নেটওয়ার্কের বিপদগুলো তুলে ধরেছেন যা নারীদের অবমাননা ও কলঙ্কিত করে।

OCCRP Manosphere in Marbella

ছবি: স্ক্রিনশট, ওসিসিআরপি

অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিআরপি)-এর একটি অনুসন্ধান— যার শিরোনাম ছিল সান, সিগারস এবং সেক্সিজম: কীভাবে স্পেনের মারবেলা ম্যানোস্ফিয়ার ইনফ্লুয়েন্সারদের হটস্পট হয়ে উঠল— সেখানে দেখা গেছে যে, এই ইকোসিস্টেম বা জগৎটি কেবল ইন্টারনেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইন্টারনেটে যাদের লাখ লাখ ফলোয়ার আছে এবং যারা বড় বড় ব্যবসা চালায়, এমন প্রভাবশালী পুরুষরা নিয়মিত স্পেনের উপকূলীয় শহর মারবেলাতে জড়ো হচ্ছিলেন। এটি বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেন সেখানে? সেখানে আসলে কী গড়ে উঠছিল? এবং কেন এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়?

এই প্রকল্পে কাজ করেছেন ফ্রিল্যান্স অনুসন্ধানী সাংবাদিক মায়া চেরনোবিলস্কায়া। তিনি বলেন: “কারো ব্যক্তিগত বিশ্বাস কী, তা নিয়ে আমাদের আগ্রহ নেই। কিন্তু যখন প্রভাবশালী কোনো অনলাইন আন্দোলন বাস্তব জগতে নিজেদের অবকাঠামো—যেমন অনুষ্ঠান, ব্যবসা বা নেটওয়ার্ক—তৈরি করা শুরু করে, তখন সেটি জনস্বার্থের আওতায় চলে আসে অর্থাৎ তা নিয়ে অনুসন্ধান করা জরুরি হয়ে পড়ে।”

ওসিসিআরপি বিষয়টিকে আরও সুনির্দিষ্ট করে এবং ম্যানোস্ফিয়ারের একটি বিশেষ অংশকে চিহ্নিত করে। তারা এটি করার জন্য কিছু শনাক্তযোগ্য সূচক ব্যবহার করে, যেমন— নারীবিদ্বেষী বক্তব্য, ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং আদর্শিক যোগসূত্র। এরপর তারা মারবেলাতে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের একটি ডাটাবেস তৈরি করে। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক রেকর্ড, সোশ্যাল মিডিয়া, দীর্ঘ নিবন্ধ বা ভিডিও এবং জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য যাচাই-বাছাই করে তারা সেই তালিকাটিকে আরও সংক্ষিপ্ত ও নির্ভুল করে তোলে।

রিপোর্টিং দলের সদস্যরা মারবেলা ম্যানোস্ফিয়ার নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে চিহ্নিত ইনফ্লুয়েন্সারদের তৈরি করা পডকাস্ট, লাইভস্ট্রীম এবং লাইফস্টাইল কোর্সগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। সেই তথ্যগুলো থেকে এই ব্যক্তিদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তারা নিজেদের কীভাবে উপস্থাপন করে, সে সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। তাদের অনলাইন কন্টেন্ট এবং অফলাইন কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে প্রায় ২০ জন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়, যারা ম্যানোস্ফিয়ারের শর্তগুলো পূরণ করেন এবং যাদের মারবেলার সঙ্গে সংযোগ রয়েছে, যা তুলে ধরে, একটি অনলাইন উপসংস্কৃতি এখন বাস্তব জগতের নেটওয়ার্ক হিসেবেও কাজ করছে।

সাংবাদিক চেরনোবিলস্কায়া বলেন, “এতে আমরা নিশ্চিত হলাম যে এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং এটি একটি বাস্তব সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী যাদের নিয়ে প্রতিবেদন করা প্রয়োজন।” সেখান থেকেই অনুসন্ধানটি এই ব্যক্তিদের অনুসরণ করার দিকে মোড় নেয়; যার মধ্যে ছিল তাদের নেটওয়ার্কের মানচিত্র তৈরি করা এবং তাদের উগ্র বক্তব্যগুলোকে আইনি নথিপত্র ও বাস্তব জগতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।

এই অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অ্যান্ড্রু টেট এবং তার ভাই ট্রিস্টান টেটের মতো ইনফ্লুয়েন্সাররা অন্য কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করেছেন ( অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেটে তাদের  বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে মানবপাচার ও ধর্ষণের অভিযোগ এবং রোমানিয়ায় সংগঠিত অপরাধচক্র গঠনের অভিযোগ উঠলেও তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন)। তাদের সঙ্গে দেখা গেছে স্টার্লিং কুপারের মতো ইনফ্লুয়েন্সারদেরও। যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত পর্ন তারকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় তরুণ ছেলেদের নব্য-নাৎসি আন্দোলনে যুক্ত করতে চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আয়ারল্যান্ডের মিক্সড মার্শাল আর্টসের (এমএমএ) ফাইটার কনর ম্যাকগ্রেগরের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগের বিষয়টি উঠে এসেছে। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দায়ী বলে আয়ারল্যান্ডে কনরের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে।

বেলজিয়াম ও স্পেনের অংশীদার গণমাধ্যমের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ওসিসিআরপি। পাঠকদের মতে, প্রতিবেদনে মানচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা ম্যানোস্ফিয়ারের এসব ইনফ্লুয়েন্সারের যৌথ অবস্থান এবং তাদের নেটওয়ার্কগুলো দেখার পর বিষয়টি তাদের কাছে অনেক বেশি বাস্তব এবং ভয়ঙ্কর মনে হয়েছে। যা আগে কেবল অনলাইন কথাবার্তা বলে মনে হতো, অনুসন্ধানে দেখা যায় সেটি আসলে নির্দিষ্ট ও শনাক্তযোগ্য বাস্তব স্থানেও হচ্ছে।

চেরনোবিলস্কায়ার মতে, অনুসন্ধানের শুরুতেই ম্যানোস্ফিয়ার বলতে ঠিক কী বোঝায় তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা এবং তা নথিপত্রে প্রমাণযোগ্য বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত করা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

তিনি আরও বলেন, “সব সময় প্রমাণের ওপর নির্ভর করুন। বিতর্কিত বিষয়গুলোতে বিশ্বাসযোগ্য থাকতে হলে নির্ভুল হতে হবে—যা প্রমাণ করা যায়, সেটাই দেখান, বেশি বলবেন না।”


আনা পি. সান্তোস ১০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাংবাদিক। র‍্যাপলার, ডিডব্লিউ জার্মানি, দ্য আটলান্টিক এবং দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসএর মতো সংবাদমাধ্যমে তার কাজ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য, এইচআইভি এবং যৌন সহিংসতা সংক্রান্ত লিঙ্গভিত্তিক বিষয় নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করেন। এছাড়া পুলিৎজার সেন্টার ২০১৪ পারসেফোন মিল ফেলো হিসেবে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের শ্রম অভিবাসন নিয়ে তিনি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

জলবায়ু

জলবায়ু অভিযোজন সম্পর্কিত ১০টি মিথ: সাংবাদিকদের যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি যদি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায়, তবে অভিযোজনের অনেক সীমাবদ্ধতা বা সীমা অতিক্রম হয়ে যাবে। এর সমাধানগুলো আরও ব্যয়বহুল, কম কার্যকর অথবা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অনুসন্ধান পদ্ধতি

যৌথ অনুসন্ধান—ভেস্তে যেতে পারে সামান্য একটি ইমেলের ভাষার কারণে এবং আরও যেসব শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে

সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানের মাঝপথে একজন অংশীদার প্রায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। একজন সহকর্মীর পাঠানো ইমেইলের অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক ও “ব্যবসায়িক ধাঁচের” ভাষা তাকে বিরক্ত করে। সেই সময় অন্য একজন অংশীদার হস্তক্ষেপ না করলে তিনি প্রকল্প থেকে সরে যেতেন।

ডেটা সাংবাদিকতা

এআই খাতে ট্রিলিয়ন ডলার: রয়টার্স যেভাবে ভিজ্যুয়াল গল্পে এতো বড় ডেটা তুলে ধরেছে

সাংবাদিকরা যখন অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন লেখেন, তখন কিন্তু তারা ডেটার ঘাটতি নয় বরং বর্ণনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন। আর তা হচ্ছে, যে মানুষটি কখনও এক ট্রিলিয়ন ডলার চোখে দেখেননি, তাকে কীভাবে বিপুল এই অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া যায়?