স্ক্রিনশট: ওসিসিআরপি
আলেফ প্রো টিউটোরিয়াল: ওসিসিআরপির নাম তো শুনেছেন, এবার জানুন এর অনুসন্ধানী ডেটা প্লাটফর্ম থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ার উপায়
আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:
আমাদের পৃথিবীটা এখন ডেটানির্ভর। আর সেই ডেটার পরিমাণও অসংখ্য। বিপুল এই ডেটার মধ্যে লুকিয়ে আছে হাজারো গল্প। যা প্রায়ই নানা ধরনের নথি, স্প্রেডশিট ও ডেটাবেজের জটিল স্তূপের আড়ালে চাপা পড়ে থাকে। এসব তথ্যের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ধারা, প্রবণতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি খুঁজে বের করতে প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ ডেটা এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এসব তথ্য এমনভাবে সহজলভ্য করে তোলা, যাতে ডেটা বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ না হলেও সাংবাদিক ও অনুসন্ধানকারীরা তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
আলেফ প্রো ঠিক এই কাজটি করে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া প্ল্যাটফর্মটির হালনাগাদ সংস্করণ আলেফ। অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিআরপি) পরিচালিত এই বিশাল ডেটা ভান্ডারে ১৮০টিরও বেশি দেশের শত শত ডেটাসেট, উন্মুক্ত নথি এবং ফাঁস হওয়া তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এর ক্রস-রেফারেন্সিং সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আগ্রহের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম খুঁজে অজানা সংযোগ ও সম্পর্ক শনাক্ত করতে পারেন। আলেফ প্রোতে রয়েছে আরও উন্নত কর্মক্ষমতা, নতুন ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেস এবং বেশ কিছু নতুন ফিচার।
এই টিপশিটে আলেফ প্রো ব্যবহার শুরু করা, এর ডেটাসেট ও ক্রস-রেফারেন্সিং সুবিধা কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর কৌশল এবং নতুন ফিচারগুলো থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়ার পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে।
আলেফ প্রো কী এবং এটি কী করতে সক্ষম?
মূলত, আলেফ প্রো হলো একটি এন্টিটি-ভিত্তিক ডেটা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম। যা সহজে অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে ক্রস-রেফারেন্সের জন্য তৈরি করা। আপনার কাছে কি সম্পত্তির মালিকানাসংক্রান্ত বিশাল কোনো ডেটাসেট আছে? আলেফ প্রো কিন্তু সেগুলো সংরক্ষণ করতে পারবে। ফাঁস হওয়া ব্যাংক-সংক্রান্ত নথি, আবাসিক নিবন্ধনের তথ্য বা কোনো ফ্লাইটের যাত্রী তালিকা? এই প্ল্যাটফর্ম সব ধরনের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে পারে।
বাস্তবে এর অর্থ হলো, আলেফ প্রো শুধু মূল ডেটা ফাইল সংরক্ষণই করে না, বরং সেখান থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, নিবন্ধন নম্বর, ইমেইল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শনাক্তকারী তথ্যসহ নানা ধরনের ডেটা আলাদা করে শনাক্ত ও সংগ্রহ করে। ফলে গবেষক ও অনুসন্ধানকারীরা জটিল ডেটাসেট থেকে অনেক সহজে তথ্য খুঁজে নিতে পারেন। আর এসব তথ্য খুঁজে বের করার প্রাথমিক সময়সাপেক্ষ কাজগুলো প্ল্যাটফর্মটি নিজেই করে দেয়।
সিস্টেমে থাকা বিদ্যমান ডেটাসেটের সঙ্গে এসব তথ্য ক্রস-রেফারেন্স করার মাধ্যমে আলেফ প্রো এমন সব ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য এন্টিটির মধ্যে সংযোগ খুঁজে বের করতে পারে, অন্যথায় যা হয়তো পুরোপুরি অজানাই থেকে যেতো। একসময় যে অনুসন্ধানী কাজ শেষ করতে সপ্তাহ বা মাস লেগে যেত, এখন তা একটি ক্লিকেই করা সম্ভব (অবশ্য ফলাফল আসতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে) ।
আলেফ প্রো সংগৃহীত বিভিন্ন ডেটা একত্র করে “ব্যক্তি”, “প্রতিষ্ঠান”, “চুক্তি” বা এমনকি “আদালতের মামলা”-এর মতো পূর্ণাঙ্গ এন্টিটি তৈরি করতে পারে। এই সুবিধার ফলে পরবর্তী ধাপের ডেটা প্রক্রিয়াকরণ আরও সহজ ও দ্রুত হয়ে যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি একটি সহযোগিতাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনি বিদ্যমান ডেটাসেটের সঙ্গে নিজের সংগ্রহ করা তথ্য যুক্ত করে নিজের মতো করে তথ্য অনুসন্ধান করতে পারেন। তথ্য অধিকার আইনের (ফোয়া) মাধ্যমে পাওয়া নথি বা ফাঁস হওয়া তথ্যের মতো নিজের নথি আলেফ প্রোতে আপলোড করলে, সেগুলোকে প্ল্যাটফর্মে থাকা বিদ্যমান ডেটার সঙ্গে ক্রস-রেফারেন্স করে লুকিয়ে থাকা যোগসূত্র খুঁজে বের করা সম্ভব। আপনার আপলোড করা তথ্য ব্যক্তিগতই থাকবে এবং তা অন্য ব্যবহারকারীদের সঙ্গে ভাগ করা হবে না। তবে আলেফ প্রোর বিদ্যমান ডেটাবেজ আপনার অনুসন্ধানের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়া আলেফ প্রো বিভিন্ন ভাষার নথি প্রক্রিয়াজাত ও অনুসন্ধান করতে পারে। এটি অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (ওসিআর) প্রযুক্তি সমর্থন করে। ফলে স্ক্যান করা ছবি ও পিডিএফ অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়। আন্তঃসীমান্ত অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মটি ভিন্ন ভিন্ন লিপির মধ্যে থাকা শব্দগুলোও খুঁজে বের করতে পারে। যেমন, আপনি “Putin” লিখে অনুসন্ধান করলে সিস্টেমটি সিরিলিক লিপিতে লেখা “Путин”-এর ফলাফলও দেখাতে পারবে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের দলগুলোকে সহায়তা করার জন্য আলেফ প্রোর ইন্টারফেস ছয়টি ভাষায় পাওয়া যায়। ভাষাগুলো হলো: ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, রুশ, আরবি এবং স্প্যানিশ।
আগে থেকেই আলেফ প্রোতে কী ধরনের তথ্য রয়েছে?
আলেফ প্রোতে রয়েছে ১৮০টিরও বেশি দেশের প্রায় ২৫০টি ডেটাসেট। এর মধ্যে পূর্ব ইউরোপ ও সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্রগুলোর তথ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এর পরিধি নিয়মিতই বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ডেটাসেটগুলো হালনাগাদ রাখতে ওসিসিআরপি স্বয়ংক্রিয় স্ক্র্যাপারও ব্যবহার করে। তাছাড়া ফাঁস হওয়া বা হ্যাক করা ডেটাসেটও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে কোনো ডেটাসেট যুক্ত করার আগে জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই নৈতিক পর্যালোচনা করা হয়।
ওসিসিআরপির গবেষণা ও ডেটা দল বিভিন্ন দেশের স্থানীয় অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে কোম্পানির নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য এবং সরকারি দাখিল করা নথিও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
এটি কীভাবে কাজ করে?
আলেফ প্রো কীভাবে আপনার অনুসন্ধানকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে এবং এর বিভিন্ন সুবিধা কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা দেখাতে আমরা একটি উদাহরণের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি তুলে ধরব। আলেফ প্রো ব্যবহারের জন্য প্রথমে এর অফিসিয়াল অ্যাকসেস পোর্টালের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার (অ্যাকসেস) চেয়ে আবেদন করতে হবে। আপনার আবেদন ওসিসিআরপির একজন সদস্য পর্যালোচনা করবেন। নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করলে আপনাকে লগইনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হবে। এরপর আপনি https://aleph.occrp.org-এ গিয়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারবেন।
প্রথমবার প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারী একটি প্রাথমিক ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন। সেখানে নির্দিষ্ট একটি ‘সিকিউরিটি গ্রুপ’-এর সব ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত ডেটাসেটগুলোর সারসংক্ষেপ দেখানো হয়। এসব ডেটাসেট সরাসরি পর্যালোচনা করা যায় কিংবা নিজের অনুসন্ধানের কাজে ব্যবহার করা যায়।


ছবি: আলেফ প্রো, স্ক্রিনশট
একটি অনুসন্ধান কীভাবে পরিচালনা করা যেতে পারে, সেটি বোঝাতে এখানে একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া হলো। ধরুন, আমাদের কাছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা রয়েছে। এখন আমরা দেখতে চাই, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখ অন্য কোনো ডেটাসেটে আছে কি না। এভাবে আমরা করপোরেট কাঠামো, মালিকানা, বিচারব্যবস্থার আওতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং সম্ভাব্য আদালতের মামলা বা অন্যান্য অনিয়মের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যের বিস্তৃত চিত্র বের করতে পারব।
এক্ষেত্রে আমরা আগে থেকেই নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে তৈরি করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়ে শুরু করছি। যেমন, কোনো নির্দিষ্ট বন্দরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা হতে পারে।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে যত বেশি বিস্তারিত তথ্য দেওয়া যাবে, পরবর্তী ধাপে আলেফ প্রো তত ভালো ফলাফল দেবে। শুধু প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা থাকলে কাজ হবে। তবে ফোন নম্বর, কর শনাক্তকরণ নম্বর এবং ঠিকানার মতো অতিরিক্ত তথ্য থাকলে প্ল্যাটফর্মটি আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকরভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবে।

ছবি: আলেফ প্রো, স্ক্রিনশট
এক্সেল ফাইল আপলোড করার পর সিস্টেমটি সেখান থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এন্টিটি শনাক্ত করে, সবগুলো জায়গা থেকে ক্রস-রেফারেন্স করে দেখায় যে এসব প্রতিষ্ঠান আলেফ প্রোর আর কোন কোন ডেটাসেটে রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, বহুল আলোচিত পানামা পেপারস বা স্লোভাকিয়ার পাবলিক সেক্টর পার্টনার রেজিস্টারে এসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, আলেফ প্রো কেবল তার নিজস্ব ডেটাবেজে সংরক্ষিত তথ্যই ব্যবহার করতে পারে।
এভাবে পরবর্তী অনুসন্ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়। যেমন, একজন অনুসন্ধানকারী এরপর লন্ড্রোম্যাট ডেটাসেটটি আবার পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন, সেখানে এই মিলের সঙ্গে সম্পর্কিত ঠিক কোন কোন তথ্য রয়েছে। এসব কাজও সরাসরি আলেফ প্রো-তেই করা সম্ভব।

ছবি: আলেফ প্রো, স্ক্রিনশট
অবশ্যই, এসব মিল পাওয়া তথ্য একাধিক ডেটা ফরম্যাটে নিয়ে যাওয়া (এক্সপোর্ট) যায়। ফলে আলেফ প্রোর বাইরে অন্যান্য অনুসন্ধানের কাজে বা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থায় সেগুলো আরও বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।
আলেফ প্রো শুধু এক্সেল টেবিলেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিভিন্ন ধরনের ফাইল ফরম্যাট নিয়ে কাজ করতে পারে। অসংগঠিত স্ক্যান করা নথি, পিডিএফ বা জেপিইজি ফাইল থেকেও প্ল্যাটফর্মটি ডেটাসেট বের করে আনতে সক্ষম। তবে ডেটা যত বেশি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল হবে, আলেফ প্রোর জন্য তা বিশ্লেষণ করা তত সহজ হবে।
অতিরিক্ত সুবিধা
অনুসন্ধানী কাজের জন্য আলেফ প্রোকে আরও কার্যকর করে তুলতে এতে বেশ কিছু অতিরিক্ত সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
যেমন, প্রতিটি অনুসন্ধানের জন্য একটি ক্যানভাস রয়েছে, যেখানে অনুসন্ধানকারীরা ডেটাসেটের বিভিন্ন এন্টিটির চিত্রভিত্তিক উপস্থাপনা (ডায়াগ্রাম) তৈরি করতে পারেন। এর মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সম্পদ এবং অন্যান্য এন্টিটির মধ্যে থাকা সংযোগ ও সম্পর্ক দ্রুত দৃশ্যমানভাবে উপস্থাপন করা যায়। ফলে সাধারণত জটিল ও সহজে বোঝা যায় না এমন ডেটা কাঠামোও অনেক বেশি বোধগম্য হয়ে ওঠে।

ছবি: আলেফ প্রো, স্ক্রিনশট
বড় ডেটাসেট আরও সুশৃঙ্খলভাবে সাজাতে সহায়তা করে আলেফ প্রোর নতুন ‘লিস্ট’ সুবিধা। এর মাধ্যমে অনুসন্ধানকারীরা বিভিন্ন এন্টিটিকে একত্র করে আলাদা তালিকা তৈরি করতে পারেন। ফলে যেসব তথ্য আলেফ প্রোর মূল এন্টিটি কাঠামোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থাকে না, সেসব জটিল তথ্যকে বিষয়, অভিন্ন বৈশিষ্ট্য বা অন্যান্য মেটাডেটাভিত্তিক সূচকের ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ ও সহজে সাজানো সম্ভব হয়।
এছাড়া, ‘টাইমলাইন’ সুবিধার মাধ্যমে একটি অনুসন্ধানে ব্যবহারকারীর নির্বাচিত এন্টিটিগুলোকে সময়ানুক্রমিকভাবে দেখা যায়।
সবশেষে, অ্যালেফ প্রোতে আপলোড করা যেসব ফাইলে ম্যালওয়্যার থাকার ঝুঁকি থাকে, সেগুলোর ক্ষতিকর অংশ নিষ্ক্রিয় (ডিফ্যাং) করে দেওয়া হয়। এরপর সেগুলো শুধু অ্যালেফ প্রোর ডেটাবেজেই সংরক্ষিত থাকে, ফলে আপনার নিজস্ব কম্পিউটার সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকে।
উপসংহার: আলেফ প্রো থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ার উপায়
আলেফ প্রো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যা সাংবাদিকদের বিপুল পরিমাণ ডেটার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সংযোগ খুঁজে বের করতে সহায়তা করে। আলেফ প্রোতে থাকা বিদ্যমান তথ্যের সঙ্গে নিজের সংগ্রহ করা উপকরণ যুক্ত করে আরও গভীর অনুসন্ধান চালানো এবং জটিল নেটওয়ার্ক আরও কার্যকরভাবে অনুসরণ করা সম্ভব। আপনি যদি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নতুন হন কিংবা প্ল্যাটফর্মটির উন্নত সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে চান—উভয় ক্ষেত্রেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তার জন্য আলেফ প্রো একটি কার্যকর টুল। এ সম্পর্কে আরও জানতে আলেফ প্রোর ডিসকোর্স কমিউনিটি ফোরাম ভিজিট করতে পারেন।
আলেফ প্রোর উন্নত সুবিধাগুলো নিয়ে ওসিসিআরপি নিয়মিত অনলাইন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। যেসব সাংবাদিক প্ল্যাটফর্মটি সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে চান, তারা এসব প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন।
অর্থায়ন ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে ওসিসিআরপি আলেফের পুরোনো ওপেন সোর্স সংস্করণের উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারা আলেফ প্রো বেটা প্রকাশ করে, যা পুরো সিস্টেমের নতুন করে তৈরি করা একটি সংস্করণ।
মার্ক হোফার অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের (ওসিসিআরপি) ডেটা সম্পাদক।