ছবি: হান্না বারাকাত, কেমব্রিজ ডাইভারসিটি প্রজেক্ট
সম্পাদকের নোট: এই লেখাটি জিআইজেএনের “দ্য ইনভেস্টিগেটিভ এজেন্ডা ফর টেকনোলজি অ্যান্ড এআই জার্নালিজম”বিষয়ক বিস্তারিত প্রতিবেদনের চতুর্থ অংশ। এটি তৈরি হয়েছে জিআইজেসি২৫ উপলক্ষে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত একদিনের প্রি–কনফারেন্স আয়োজনকে ঘিরে। সেখানে প্রায় ৫০টি দেশ ও অঞ্চলের ১০০ জন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, সম্পাদক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও গবেষক অংশ নেন। তারা একসঙ্গে বসে বর্তমান সময়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সামনে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি–সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এই প্রকল্পের অবদানকারীদের তালিকা ও কৃতজ্ঞতা স্বীকারের বিস্তারিত তথ্য এখানে পাওয়া যাবে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন)- অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। যা সাংবাদিকতার গোটা পরিবেশকেও ব্যাপকভাবে ওলটপালট করে দিচ্ছে। শুরুর দিকে প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই বা মিথ্যা প্রমাণের (ডিবাঙ্কিং) মাধ্যমে এটিকে মোকাবিলা করা হতো। অর্থাৎ একটি ভুল দাবি শনাক্ত করা, সেটি সংশোধন করা এবং পরের কাজে চলে যাওয়া। শুরুতে এই পদ্ধতিটি কাজে লাগলেও বর্তমানে এভাবে কাজ চালানোটা হয়ে পড়ছে অসম্ভব। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিশাল পরিমাণ এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সেগুলোর ব্যাপক বিস্তার কেবল এই ধরনের রিঅ্যাক্টিভ ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের (ভুল তথ্য বা গুজব অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটিকে শনাক্ত করা এবং তা মিথ্যা প্রমাণ করা) মাধ্যমে ঠেকানো এখন আর সম্ভব হয়ে উঠছে না।
জিআইজেসি২৫–এর প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রি-কনফারেন্সের এই সেশনে সরাসরি এই পরিবর্তনগুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তারা দেখান, অপতথ্য এখন কীভাবে ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করছে। যা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম দ্বারা চালিত, অর্থনৈতিক স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত এবং সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পক্ষ এগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ছে।
অতিরিক্ত তথ্যের চাপ সামলানোর চ্যালেঞ্জ
আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অপতথ্যের অতিরিক্ত ছড়াছড়ি। বক্তারা বলেন, বিভ্রান্তিকর ও প্রভাবিত করার মতো কনটেন্টের পরিমাণ এত বেশি বেড়েছে যে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশই বদলে গেছে। এখন নিউজরুমকে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়—সবকিছুর প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব নয়, আর ভুল কিছুর প্রতিক্রিয়া দিলে তা উল্টো আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইন্ডিয়া টুডের সাংবাদিক জ্যোতি দ্বিবেদী জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের শুরুতেই অপতথ্যের প্রচারও ছড়িয়ে পড়ে। প্রোপাগান্ডা, পুরোনো ভিডিও নতুন করে ব্যবহার, এবং আবেগনির্ভর বর্ণনা একসঙ্গে মিশিয়ে উপস্থাপন করা হয়। পুরোনো অপ্রাসঙ্গিক বিস্ফোরণের ভিডিওগুলো নতুন হামলার প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়, এমনকি একই ভিডিও কখনও ভারতের আগ্রাসনের, আবার কখনও পাকিস্তানের আগ্রাসনের প্রমাণ হিসেবেও দাবি করা হয়। তিনি একটি উদাহরণ টেনে বলেন, কিছু ব্যবহারকারী একই ভিডিও যাচাই করতে চ্যাটবট ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পেয়েছেন। এতে বোঝা যায়, সংকট চলাকালীন স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলো অনেক সময় মানুষের আগে থেকে থাকা বিশ্বাসকেই আরও জোরালো করে তোলে।
বিপুল পরিমাণ বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের মুখোমুখি হয়ে, দ্বিবেদীর বার্তাকক্ষ সবকিছু খণ্ডন করার ভাবনা ত্যাগ করে। এর বদলে তারা মনোযোগ দেয়:
• একক পোস্টের পরিবর্তে প্রবণতাগুলো অনুসরণ করা
• সংঘাতের সময় যাচাইয়ের জন্য চ্যাটবটের উপর নির্ভর না করার বিষয়ে স্পষ্ট সতর্কতা জারি
• দীর্ঘ প্রতিবেদন না দিয়ে সংক্ষিপ্ত, সহজে শেয়ারযোগ্য “ফ্যাক্ট-চেক পোস্টকার্ড” প্রকাশ করা
যা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়: দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্যের যুদ্ধে, প্রতিটি মিথ্যা তথ্য খণ্ডনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো প্যাটার্ন, কৌশল এবং কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকে লিপিবদ্ধ করা।

ইন্ডিয়া টুডের অনুসন্ধান থেকে নেয়া এই স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে এক্সএআই চ্যাটবট গ্রক ভুলভাবে বাংলাদেশের আগুনের পুরোনো ভিডিওকে পাকিস্তানের ওপর ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রমাণ হিসেবে দেখাচ্ছে। ছবি: স্ক্রিনশট, গ্রক, ইন্ডিয়া টুডে
অ্যালগরিদমিক বিস্তার এবং প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব
অপতথ্য শূন্য থেকে ছড়ায় না। এটি মানুষের মনোযোগ ধরে রাখা, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ভাইরাল হওয়ার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা অ্যালগরিদমিক কাঠামোর মাধ্যমে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে। ইন্ডিকেটরের সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্রেগ সিলভারম্যানের মতে, পরিবর্তিত বা বিকৃত কনটেন্ট (ম্যানিপুলেটেড কনটেন্ট) প্রায়ই প্রভাব বিস্তার করতে বা মানুষের মনকে “জয়” করে নিতে সক্ষম হয়। কারণ এগুলো মানুষের তীব্র আবেগ উসকে দেওয়ার জন্য তৈরি, এবং যা প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরো ছড়িয়ে দেওয়ার সংকেত পাঠায়।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন কেবল খবর ছড়ায় না, বরং তা ক্ষমতার উৎস হিসেবে কাজ করে। তাই সাংবাদিকদের এদের ভূমিকা নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।
- রিকমেন্ডেশন সিস্টেম কীভাবে নির্দিষ্ট কিছু ন্যারেটিভ বা বর্ণনাকে অগ্রাধিকার দেয়। অর্থাৎ, অ্যালগরিদম কীভাবে বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু খবর আমাদের সামনে নিয়ে আসে
- মনিটাইজেশন স্কিম বা আয়ের ব্যবস্থা কীভাবে ক্ষোভ এবং অপপ্রচারকে পুরস্কৃত করে। অর্থাৎ, উসকানিমূলক বা মিথ্যা খবরে বেশি ভিউ ও টাকা আসা
- কনটেন্ট মডারেশনের ব্যর্থতা কীভাবে প্রান্তিক বা অসহায় জনগোষ্ঠীকে অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এই প্রশ্নগুলো বিশেষ করে সেইসব অঞ্চলে অত্যন্ত জরুরি, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কার্যত প্রধান জনপরিসর হিসেবে কাজ করে। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি বা আইনি নিয়ন্ত্রণ খুবই সীমিত।
অনলাইনে ঘৃণা, হয়রানি এবং তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি
অপতথ্য বা ডিজইনফরমেশন ক্যাম্পেইনগুলো প্রায়ই অনলাইন ঘৃণা ও হয়রানির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে। সাংবাদিক ও গবেষক লুইস আসার্দো (যিনি ট্রোলিং ক্যাম্পেইন নিয়ে জিআইজেএনের গাইড ইনভেস্টিগেটিং ডিজিটাল থ্রেটস-এর একটি অধ্যায় লিখেছেন)। তিনি দেখিয়েছেন ঘৃণামূলক বক্তব্য কীভাবে মৌলবাদের প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায়ই মিম, সাংকেতিক ভাষা এবং ‘অ্যালগো-স্পিক’ (অ্যালগরিদমকে ফাঁকি দেওয়ার ভাষা) ব্যবহার করা হয় যাতে প্ল্যাটফর্মের মডারেশন এড়ানো যায়।
যেমন, গেমারগেট-এর মতো ঘটনা, মারিয়া রেসার মতো সাংবাদিকদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ, কিংবা মুসলিম-বিদ্বেষী ক্রাইস্টচার্চ মেনিফেস্টোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব—একটি পুনরাবৃত্তিমূলক ধরনকেই তুলে ধরে। যেখানে সহিংস কোনো ঘটনা ঘটার পর সংবাদমাধ্যম যখন কেবল চাঞ্চল্যকর বা চমকপ্রদ খবরের পেছনে ছোটে, তখন তারা অজান্তে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে সেই সব মিথ্যা প্রচার বা উসকানিমূলক কথাগুলোকেই আরও বেশি ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। যেমনটা ওই উগ্রবাদীরা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিল।
আসার্দো সাংবাদিকদের তাদের মনোযোগের দিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন:
- ঘৃণামূলক বক্তব্য (হেইট স্পীচ) প্রচার বা পুনরুৎপাদন করার বদলে, এর পেছনে থাকা আচরণ ও কৌশলগুলো উন্মোচন
- কেবল অপরাধী ব্যক্তির ওপর সব দৃষ্টি না দিয়ে তাকে মদদ দেওয়া নেটওয়ার্ক এবং পুরো ইকোসিস্টেমকে সামনে আনা
- চাঞ্চল্যকর বা উত্তেজনা সৃষ্টি করে এমন সংবাদের পরিবর্তে প্রেক্ষাপট নির্ভর এবং ক্ষতির ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সহায়ক এমন সাংবাদিকতা করা।
অর্থের উৎস অনুসন্ধান: অপতথ্য ছড়িয়ে আয় ও ভাড়াটে প্রচারকারী
স্লোভেনিয়ার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সাইট ওস্ত্রো-এর আনুশকা ডেলিচ জোর দিয়ে বলেন অপতথ্য বা ডিইনফরমেশনকে এর আর্থিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর দিক থেকে অনুসন্ধান করা উচিত। যদিও অনেক প্রতিবেদন অপতথ্যের বয়ান ও অনলাইন নেটওয়ার্কের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, তবে এই ধরনের কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার পেছনে থাকা অর্থনৈতিক প্রলোভন, অর্থায়নের উৎস এবং সাব-কন্ট্রাক্টিং চেইন বা উপ-ঠিকাদারি ব্যবস্থার (যা এই অপপ্রচার কার্যক্রমকে টিকিয়ে রাখে) দিকে অনেক কম মনোযোগ দেওয়া হয়েছে
ফরবিডেন স্টোরিজের সমন্বয়ে তৈরি স্টোরি কিলার্স এবং এল ক্লিপের অনুসন্ধান ডিজিটাল মার্সেনারিজ—এর মতো প্রতিবেদনগুলো দেখায়, কীভাবে অপতথ্যের পেশাদার “ভাড়াটে কর্মীরা” বেসরকারি ঠিকাদার হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন দেশের সীমান্ত পেরিয়ে প্রভাব বিস্তারের প্রচারণা তৈরি ও পরিচালনার জন্য তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এই ধরনের ব্যক্তিদের গতিবিধি ঘিরে গুরুত্ব দিলে সাংবাদিকরা অর্থের গতিপথ অনুসরণ করতে পারেন। কারা অপতথ্য তৈরির নির্দেশ দেয় এবং এ থেকে লাভবান হয়—তা শনাক্ত করতে পারেন। এর মাধ্যমে তারা উন্মোচন করতে পারেন কীভাবে এই প্রচারণাগুলো আউটসোর্স বা ভাড়া করা হচ্ছে, বড় পরিসরে পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলোকে জবাবদিহিমূলক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ছবি: স্ক্রিনশট, এল ক্লিপ
বৈশ্বিক দক্ষিণ: অসমতা এবং সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জসমূহ
অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন বক্তা এই বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন যে, অপতথ্যের গতিপ্রকৃতি বিশ্বজুড়ে অভিন্ন নয়। গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে কাঠামোগত অসমতা—যেমন বার্তাকক্ষের সীমিত সম্পদ, প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহিতার অভাব, ভাষাগত সীমাবদ্ধতা এবং ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো—এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
ইন্ডিয়া টুডের দ্বিবেদী এবং অন্যদের মতে, বিভিন্ন সংঘাত বা বৈশ্বিক সংকটগুলো প্রায়শই স্থানীয় প্রেক্ষাপটে অপতথ্য বা ‘ডিজইনফরমেশন’ আমদানি করে। পরবর্তীতে সেই তথ্যগুলোকে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বিদ্যমান সামাজিক, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে সাজানো হয়। প্রতারকরাও এই সুযোগগুলো লুফে নেয়। তারা কারসাজি করা কন্টেন্ট ব্যবহার করে অনুদান সংগ্রহ করে অথবা জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
চিহ্নিত অগ্রাধিকারগুলো:
- প্রভাব বিস্তার করে এমন প্রচারণাগুলোকে (ইনফ্লুয়েন্স ক্যাম্পেইন) আলাদা পোস্ট হিসেবে নয়, একটি সমন্বিত ব্যবস্থা হিসেবে অনুসন্ধান করা
• কোন বিষয়টি যাচাই করে ভুল প্রমাণ করা হবে, তা নির্ধারণে জনস্বার্থে ক্ষতির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া
• অপতথ্যের অবকাঠামোর পেছনের অর্থের উৎস অনুসরণ করা
• প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রণোদনা ও অ্যালগরিদমিক নকশা বিশ্লেষণ করা
• ক্ষতিকর বয়ান ছড়িয়ে পড়া কমিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সান্দ্রিন রিগো জিআইজেএনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর। তিনি একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, পরিচালক এবং অ্যামি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রযোজক। ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনি ফরবিডেন স্টোরিজের প্রধান সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। সেই পদে থাকাকালীন তিনি এমন সব আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেগুলো মূলত হত্যাকাণ্ডের শিকার বা হুমকির মুখে থাকা সাংবাদিকদের অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেত। তিনি ১০০ জন সাংবাদিক এবং ৩০টি মিডিয়া আউটলেটের সঙ্গে যৌথ অনুসন্ধান সমন্বয় করেছেন। যার মধ্যে আছে লে মন্ড, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য গার্ডিয়ান, ডের স্পিগেল, হারেৎজ এবং এল পাইস। তিনি প্যারিসের সায়েন্সেস পো জার্নালিজম স্কুলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পড়ান। পাশাপাশি “পেগাসাস: হাউ অ্যা স্পাই ইন ইয়োর পকেট থ্রেটেনস দ্য এন্ড অব প্রাইভেসি, ডিগনিটি, অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (২০২৩)”-এর সহ–লেখক। বইটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ২০২৪/২০২৫ সালে হার্ভার্ডে নিম্যান ফেলো হিসেবে তিনি বৈশ্বিক অনুসন্ধানী সহযোগিতা, লিকড ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করেছেন।