ছবি: স্ক্রিনশট, বিবিসি, ইউটিউব
‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট পুতিন’: অস্কারজয়ী এই তথ্যচিত্র দেখে শিখতে পারেন ছদ্মবেশী সাংবাদিকতা ও গোপনে তথ্য সংগ্রহের কৌশল
(সম্পাদকের নোট: ২০২৬ সালের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে এই চলচ্চিত্রটি সেরা প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে অস্কার জিতেছে—এই তথ্য যোগ করে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হয়েছে।)
“এটা আমি—পাশা তালানকিন। এই মুহূর্তে আমি একদমই জানি না, নিজের জন্য কত বড় ঝামেলা ডেকে আনতে যাচ্ছি।”
এভাবেই শুরু হয় পাভেল “পাশা” তালানকিনের এই অসাধারণ গল্পটি। তিনি রাশিয়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ একজন শিক্ষক—“আ নোবডি” বা একজন নগন্য ব্যক্তি”—যিনি পরে হয়ে ওঠেন একজন হুইসেলব্লোয়ার। তিনি প্রচন্ড ঝুঁকি নিয়ে রুশ স্কুলগুলোর সামরিকীকরণের যে চিত্র, তা ক্যামেরাবন্দি করে গোপনে বাইরে পাঠান।
রাশিয়ার শিল্পাঞ্চলীয় এলাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কারাবাশ প্রাইমারি স্কুল নং ১-এর অনুষ্ঠান সমন্বয়ক এবং স্কুলের ভিডিওচিত্র ধারণকারী হিসেবে তালানকিন সবকিছুই ক্যামেরাবন্দি করতেন। যেমন—সম্মেলন, সমাবর্তন, ক্লাসের পাঠদান কিংবা স্থানীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য। কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় রাশিয়ার আক্রমণ শুরু হয়, তখন নাটকীয়ভাবে বদলে যায় তার ভূমিকা । একটি নতুন ফেডারেল দেশপ্রেমিক শিক্ষা নীতি কার্যকর করা হয়। তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়, স্কুল যে সরকারি আদেশ মেনে চলছে তার প্রমাণ হিসেবে সমস্ত অনুষ্ঠানের ভিডিওচিত্র ধারণ করতে হবে।
তালানকিনের এক সহকর্মী তাকে বলেন, “আমাদের বাচ্চাদের দিয়ে কিছু দেশাত্মবোধক গান আর বক্তৃতা দেওয়ানো দরকার। তোমাকে তা ভিডিও করতে হবে। বাচ্চারা আমাদের বিজয় নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করছে—এগুলোও রেকর্ড করতে হবে।“
“আমাদের কি পুরো মাথা খারাপ হয়ে গেছে?”—সিনেমাটি তৈরির প্রেক্ষাপটকে ইঙ্গিত করে বলেন তিনি। প্রথমে তিনি ” শাসনব্যবস্থার একটি হাতিয়ার” হওয়া এড়াতে পদত্যাগ করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যা বলা হয়েছে তা-ই করবেন। তিনি কুচকাওয়াজ, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পরিদর্শন এবং প্রোপাগান্ডামূলক পাঠদানের চিত্রগুলো নথিভুক্ত করতে থাকেন। এবং পরবর্তীতে সেই ভিডিওগুলো দেশের বাইরের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছে পাঠিয়ে দেন।

ছবি: স্কুলের গানের দলের সামনে পাভেল তালানকিন। ছবি: বিবিসি, পাভেল তালানকিন, মেইড ইন কোপেনহেগেন
এই ফুটেজগুলো দেখা যায়, কীভাবে রাশিয়ার স্কুলগুলো যুদ্ধের এক ধরনের আদর্শিক ফ্রন্টলাইন বা সামনের সারিতে পরিণত হয়েছে। শিশুরা সামরিক অভিযান সম্পর্কে আগে থেকে প্রস্তুত করা স্ক্রিপ্ট বা পাণ্ডুলিপি দেখে পড়ছে। শিক্ষকরা ইউক্রেন এবং যুদ্ধ নিয়ে রাষ্ট্র নির্ধারিত দীর্ঘ পাঠ্য মুখস্থ বলছে। আট বছর বয়সী একদল শিশুকে ক্লাসরুমে যখন বিদেশি এজেন্ট’ সম্পর্কে পড়ানো হচ্ছে, তখন তারা বেশ বিরক্ত মুখে তা শুনছে। কিছু শিক্ষক চরম দেশপ্রেমিক উদ্দীপনা নিয়ে এই নিয়মগুলো মেনে চলছেন। আবার অন্য শিক্ষকরা তাদের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ করা নিয়ে চিন্তিত হচ্ছেন। কারণ, শ্রেণিকক্ষের নিয়মিত পড়াশোনার বদলে ওয়াগনার ভাড়াটে বাহিনীর সদস্যরা এসে অদ্ভুতভাবে গ্রেনেড ছোড়ার কৌশল শেখাচ্ছে।
একটা সময় তালানকিন বলেন, “মনে হচ্ছিল, আমাদের শিক্ষকদেরও এই যুদ্ধে লড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। আমি একজন শিক্ষক, যাকে শিক্ষকতার মূল কাজের ঠিক বিপরীত কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।”
তাইতো তার প্রতিরোধের ধরণগুলো কখনো দুষ্টুমিতে ভরা। যেমন, একদিন জাতীয় সংগীতের বদলে লেডি গাগার গান বাজিয়ে দেন তিনি। আবার কখনও শিশুদের খ্যাপানোর জন্য বলে দেন যে তাদের শিক্ষকরা এখন যা বলবেন তা আসলে চাপের মুখে বলতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার কখনও তার প্রতিবাদ ছিল চরম ঝুঁকিপূর্ণ। যেমন স্কুলের ছাদে যুদ্ধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত ’জেড’ (Z) চিহ্নটি ঢেকে দেওয়া। এছাড়া তার সংগ্রহ করা ভিডিওর কপিগুলো তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে লুকিয়ে রাখতেন যাতে তল্লাশিতে সেগুলো ধরা না পড়ে।
“এটা যেন দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটার মতো ঝুঁকিপূর্ণ,” নিজের গোপন কাজের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন তালানকিন। তিনি যোগ করেন, “শুরুতে এটা ছেলেখেলার মতো লাগত। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকায় কাজটা কঠিন হয়ে যায়। ক্যামেরা দেখলেই মানুষ সতর্ক হতে শুরু করে। তারা বেশ অস্বস্তিতে পড়ে, ফিসফিস করে কথা বলতে থাকে। মনে হয়… মুহূর্তেই বিশ্বাসটা হারিয়ে গেল।”
চলচ্চিত্রে যুক্ত করা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি ভিডিও ক্লিপ। সেটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সংবাদ বুলেটিনে তাকে বলতে শোনা যায়, “শিক্ষকদের এমন প্রয়োজন আমাদের আগে কখনো ছিল না। দেশ যখন কোনো সন্ধিক্ষণে থাকে, তখন শিক্ষকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কমান্ডাররা যুদ্ধ জেতেন না; শিক্ষকরাই যুদ্ধ জেতেন।”
পরিস্থিতি যত কঠোর হতে শুরু করে তালানকিন নিজেকে আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে অনুভব করতে শুরু করেন। তিনি সদ্য স্নাতক পাশ করা তরুণদের ভিডিও ধারণ করেন। যাদের নতুন করে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই তরুণদের দেখা যায় অশ্রুসজল বিদায় অনুষ্ঠানে একে অপরের মাথা ন্যাড়া করে দিচ্ছে। তিনি এমন সব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন যাদের ভাইয়েরা যুদ্ধে গেছে। একজন মৃত সৈন্যের শেষকৃত্যের অডিও রেকর্ড করেন যেখানে একজন মা কাঁদতে কাঁদতে বিলাপ করে বলছেন: “আর্তিওম! আমার সোনা বাবা। না না না, আমার ছোট্ট আর্তিওম।”
রাশিয়া থেকে পালিয়ে আসার একদিন আগে তালানকিন স্কুলের স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেন এবং তাদের একটি ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি তাদের বলেন, “মাঝে মাঝে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য সবকিছু বিসর্জন দিতে হয়।” এর পরের দিনই তিনি চলে আসেন।
চলচ্চিত্র নির্মাতা ডেভিড বোরেনস্টেইনের সঙ্গে প্রামাণ্যচিত্র ‘মিস্টার নোবডি অ্যাগেইনস্ট পুতিন’-এর সহ-পরিচালক হিসেবে কাজ করেন তালানকিন। চলচ্চিত্রটি এ বছরের শুরুতে একটি বাফটা পুরস্কার জয় করে এবং ২০২৬ সালের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে (অস্কার) সেরা প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে মনোনয়ন পায়। (সম্পাদকের নোট: চলচ্চিত্রটি অস্কার জয় করেছে।)
অনুষ্ঠানের আগে জিআইজেএন কথা বলেছে লুসি কনের সঙ্গে। যিনি বিবিসির আন্তর্জাতিক প্রামাণ্যচিত্র বিভাগ স্টোরিভিলের কমিশনিং এডিটর এবং এই চলচ্চিত্রের নির্বাহী প্রযোজক। দৈর্ঘ্য ও ভাষার কারণে সাক্ষাৎকারটি সম্পাদনা করা হয়েছে।
জিআইজেএন: এই গল্পটি সম্পর্কে আপনি প্রথমে কীভাবে জানতে পারেন—প্রামাণ্যচিত্রে পাশার মুখ থেকে এ সম্পর্কে আমরা কিছুটা শুনেছি, তিনি দেশের বাইরে কাউকে নিজের ধারণ করা ফুটেজ সম্পর্কে একটি ইমেইল পাঠিয়েছিলেন—সেখান থেকে এই সহযোগিতা কীভাবে শুরু হলো?
লুসি কন: একজনের সঙ্গে আমি একটি মিটিংয়ে ছিলাম… তিনি এমন একটি প্রকল্পের কথা বলেন, যেখানে রাশিয়ার এক শিক্ষক স্কুলে গোপনে—আসলে খোলামেলাভাবেই—চিত্র ধারণ করছিলেন। আমি ভাবলাম, ‘ওহ আমার ঈশ্বর, এটা তো অসাধারণ শোনাচ্ছে।’
আমি একজন অনুন্ধানী সাংবাদিক। স্টোরিভিলে যোগ দেওয়ার আগে আমি প্যানোরমায় নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছি। তার আগে চ্যানেল ৪-এর অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র অনুষ্ঠান ডিসপ্যাচেসেও কাজ করেছি। তাই এটা ছিল একদম চমকে যাওয়ার মতো মুহূর্ত। কিন্তু আমার প্রথম প্রশ্ন ছিল নিরাপত্তা ও লজিস্টিকস নিয়ে। যেটা শুনতে একটু সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু এগুলো ঠিকঠাকভাবে না করতে পারলে এমন কাজ করা সম্ভব না।
জিআইজেএন: তাহলে পাশা তার স্বাভাবিক কাজের পাশাপাশি নিয়মিতভাবেই ভিডিও ফুটেজগুলো পাঠাচ্ছিলেন?
এলকে: তিনি কাজের পাশাপাশি কিছু উপকরণ পাঠাতেন। আবার মাঝে মাঝে রাশিয়া ছেড়ে বাইরে গিয়ে দলের সঙ্গে দেখা করতেন। তখন সঙ্গে করে কিছু প্রাথমিক ফুটেজ নিয়ে যেতেন। বিষয়টা একভাবে নয়, কয়েকভাবে চলছিল। কারণ নিয়মিত ফুটেজ দরকার ছিল। সংগ্রহকৃত ফুটেজগুলো একসঙ্গে দেখে সম্পাদনার কাজ শুরু করতে এবং কীভাবে পুরো চলচ্চিত্রটি তৈরি করা হবে— এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লেগেছে। কারণ শুরুতে আপনি ভাবেন, “আহা, গল্পটা অসাধারণ,” কিন্তু তখনও পরিষ্কার থাকে না, শেষ পর্যন্ত এটি দেখতে কেমন হবে।
আমরা জানতাম, যদি আমাদের পরিকল্পনামাফিক কাজ এগোতে থাকে, তবে তিনি সেখানে [রাশিয়ায়] থাকতে পারবেন না। এখানে বিবেচনা করার মতো অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন বিষয় ছিল। আমার জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি ছিল, তার মা চলমান শাসনব্যবস্থার একজন সমর্থক। প্রশ্ন ছিল—তার মা কি ভিডিওতে থাকবে? তিনি কি তার মায়ের সাক্ষাৎকার নিতে পারবেন?… এরপর আসে সম্মতির বিষয়টি। কারণ স্বাভাবিকভাবেই যখন ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছিল, এক্ষেত্রে কেউ সম্মতি দেয়নি।
জিআইজেএন: আসুন, সম্মতি ও ছদ্মবেশে (আন্ডারকভার) কাজের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলি। এক্ষেত্রে বিষয়টি ব্যাপক সংবেদনশীল। কারণ এটি স্কুলের শিশুদের সঙ্গে সম্পর্কিত। আপনারা কীভাবে তা সামলেছেন?
এলকে: শিশুদের ক্ষেত্রে স্পষ্টতই দুটি সমস্যা ছিল, সম্ভবত আরও বেশি। মূল বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা কোনো সম্মতি দেননি এবং শিশুরাও নিজেদের সম্মতি দেওয়ার মতো বয়সে পৌঁছায়নি। তাই এখানে সচেতন সম্মতি তো ছিলই না—কোনোভাবেই কোনো ধরনের সম্মতি ছিল না।
আমি বিবিসির সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করি। তাদের মত ছিল, চলচ্চিত্রটির একটি প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি হলে সেটি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। তিনি যে ধরনের ফুটেজ সংগ্রহ করেছিলেন, তা দেখে তারা সত্যিই বিস্মিত হয়েছিল এবং দৃঢ়ভাবে মনে করেছিল—যেভাবে এটি ধারণ করা হয়েছে, সেইভাবেই চলচ্চিত্রটি তৈরি করা জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাশা ছাড়া, পুতিনের অন্য কোনো সমালোচক—এমনকি সামান্য কোনো সমালোচনাকারী—এমন কাউকে আমরা চলচ্চিত্রে রাখতে পারিনি।
এটি আলাদা করে বানানো কিছু নয়—কারাবাশের মানুষ আসলে ঠিক যেমন, প্রামান্যচিত্রটি তারই বাস্তব প্রতিফলন। সিনেমায় তথ্যের কোনো বিকৃতি ঘটানো হয়নি। তবে এমন কিছু সময় আসত যখন হয়তো কেউ কোনো রসিকতা করত বা কোনো শিক্ষক শিশুদের উদ্দেশ্যে বিদ্রূপাত্মক কিছু বলত। আমরা সেই মন্তব্যগুলো সিনেমায় রাখিনি কারণ… কোনো বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা মানেই হলো দেশদ্রোহিতা। যার পরিণাম জেল। আপনি যদি স্রেফ মজা করেও কোনো মন্তব্য করেন, তবে তারা সেটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং আপনাকে জেলে যেতে হবে। আমরা কাউকে বিপদে ফেলতে চাইনি। তাই সামান্যতম সমালোচনামূলক কিছুও আমরা সিনেমায় রাখিনি।
জিআইজেএন: চলচ্চিত্রটি প্রচারের পর কী ঘটেছে—কোনো প্রতিক্রিয়া কি দেখা গেছে?
এলকে: সম্প্রতি পাশা আমাকে জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের পক্ষ থেকে লোকজন কারাবাশে গিয়ে অনেক সময় ধরে এই চলচ্চিত্রটিকে ভুল বা অবিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। তারা অনেক অভিভাবকের দরজায় গিয়ে বলেছে, আপনারা পুলিশে অভিযোগ করুন—কারণ আপনারা তো সম্মতি দেননি। কিন্তু কারাবাশের একজন অভিভাবকও তা করেননি। বিষয়টি খুব শক্তিশালী মনে হয়। তারা চাইলে অবশ্যই তা করতে পারতেন—আইনগতভাবে তাদের সেই অধিকার ছিল—কিন্তু তারা তা করেননি, কারণ তারা বুঝতে পেরেছেন এই চলচ্চিত্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশ্বের কাছে যে বার্তা দিচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
পাশার মা এখনো সেখানেই আছেন, তিনি আগের মতোই স্কুলের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ করছেন এবং ভালো আছেন।
জিআইজেএন: তিনি এখন তার নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কী বলেন? আমার ধারণা, চলচ্চিত্রটি যত বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তার ব্যক্তিগত জীবনে এর প্রভাবও তত বাড়ছে। ভিডিওতেই বলেছেন, তিনি হয়তো আর ফিরতে পারবেন না, কিন্তু আমি মনে করি তিনি এখন নিশ্চিতভাবেই জানেন যে পরিস্থিতি না বদলানো পর্যন্ত তিনি আর কখনোই ফিরতে পারবেন না?
এল.কে: আমার মনে হয় তিনি বেশ খানিকটা বিষণ্ণ — কারণ তার পুরো জীবনটা ছিল ওই স্কুলকে ঘিরে। তিনি ওই স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন এবং পরে সেখানেই শিক্ষকতা করেছেন। স্পষ্টতই তিনি সেই স্কুলে ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। তার জায়গায় অন্য কাউকে নেওয়া হয়নি। তাই শিক্ষার্থীরাও তার মতো আর কাউকে পায়নি। বিশেষ করে এমন একজন তরুণ শিক্ষক যার কাছে তারা সহজ হতে পারতো। তাদের যাওয়ার মতো কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। যেমন তাদের ক্লাসরুমটি—যেটি ছিল অনেকটা নিরাপদ আশ্রয়ের মতো। আমার মনে হয় তিনি আসলেই খুব দুঃখিত, কিন্তু তিনি মনেপ্রাণে অনুভব করছিলেন যে তাকে এটি করতেই হবে। তিনি তার কাজটি করেছেন। তাই এখন তার জীবন আর আগের মতো থাকবে না।
এখানে সবসময়ই একটি ঝুঁকি ছিল। আমরা সবসময় ভেবেছিলাম যে ওই স্কুল টার্ম শেষ হওয়ার পরই তাকে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যদিও তিনি আগের মতো একইভাবে (রাশিয়া থেকে) বিদায় নিচ্ছিলেন। যেমনটা তিনি আগে মাঝেমধ্যে এক সপ্তাহের জন্য রাশিয়ার ভেতরে-বাইরে প্রাথমিক ফুটেজ আনা-নেওয়ার সময় করতেন। তবে [তিনি টের পাচ্ছিলেন যে] এবার তিনি আর কখনোই ফিরে আসবে না। যা ছিল তার জন্য অনেক বড় একটি ব্যাপার। কিন্তু আমার মনে হয়, একই সঙ্গে তিনি অনুভব করেছিলেন কাজটি করাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
জিআইজেএন : তাকে কোনো বিপদে না ফেলে আপনি কি আমাদের বলতে পারেন, তিনি নিরাপদ কি না? তিনি কি কোথাও রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছে?

বিবিসি স্টোরিভিলের সম্পাদক লুসি কন। ছবি: কনের সৌজন্যে
এল.কে: হ্যাঁ, তিনি ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন। তার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার সময় অনেকেই সহায়তা করেছে। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। যে দেশে তিনি অবস্থান করছেন, সেখানকার ভাষা শিখছেন। তিনি কিছুটা ইংরেজিও শিখছেন। তিনি সত্যিই খুব অমায়িক এবং চমৎকার একজন মানুষ। তার প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আছে। তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই, এবং তিনি নিজেও তা বোঝেন যে, জীবনটা এখন কতটা কঠিন। গত এক বছরেরও বেশি সময় তিনি কোথাও ভ্রমণ করতে পারেনি। গত বছর সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যখন প্রামান্যচিত্রটির প্রিমিয়ার শো হয়, তখন তিনি [দূর থেকে] দর্শকদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন। সবাই দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানায়। কিন্তু ওই দীর্ঘ কয়েকমাস তিনি ভীষণ একা ছিলেন। আমার মনে হয় সেটা ছিল তার জন্য খুব কষ্টের। এখন তিনি বেশ রোমাঞ্চকর সময় কাটাচ্ছেন। কারণ তিনি এখন ভ্রমণ করতে পারছেন, সিনেমাটি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন… তবে তিনি জানেন তাকে আবারও ওই জীবনে ফিরে যেতে হবে। যেখানে সব কিছু একদম শান্ত হয়ে আসবে। তার রোজকার বাস্তবতা এখনকার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। এখন তাকে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে সেটা এই সব পুরস্কার পাওয়ার পালা শেষ হওয়ার পর।
জিআইজেএন: হুইসেলব্লোয়াররা—বিশেষ করে এমন বড় ধরনের তথ্য ফাঁসকারী ব্যক্তিদের—অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়।
এলকে: অবশ্যই [রাশিয়ার সরকার] জানে তিনি কোথায় আছেন। আমি তার ঠিকানা বলব না, কারণ তার প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। তবে তারা তো সব খবরই রাখে, তাই না? পাশা খুব সচেতন—[আলেকজান্ডার] লিটভেনেনকো হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পাশা এ ব্যাপারে আরো বেশি সচেতন। কারণ আগেও অনেককে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অবশ্য এসব ঝুঁকি নিয়ে বেশ নির্ভার থাকেন। তবে আমার ধারণা এটি এক ধরনের মানিয়ে নেওয়ার কৌশল।
তিনি কী ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছেন তা বোঝা তার জন্য এবং সিনেমাটি নির্মাণের সময় আমাদের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যখন আমি সিনেমার চূড়ান্ত ‘রাফ কাট’ (সম্পাদনার প্রাথমিক রূপ) দেখলাম—যা আজকের সিনেমার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়—তখনই আমার মনে হয়েছিল এটি দারুণ সাড়া ফেলবে। আপনি স্রেফ এটা বুঝতে পারেন। যখন তিনি চিত্রধারণ করছিলেন, তখন তিনি বা আমাদের কেউ জানত না যে এটি কতটা প্রভাব তৈরি করবে। অবশ্যই, আমরা আনন্দিত যে প্রামান্যচিত্রটি সফল হয়েছে… কারণ বিশ্বের অনেক দেশে শিশুদের সঙ্গে কী ঘটছে, তা মানুষের বোঝাটা খুব জরুরি।
জিআইজেএন: প্রামান্যচিত্রে একটি উদ্ধৃতি আছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট পুতিন টেলিভিশনে বলেন, “এই যুদ্ধ জিতবে কমান্ডাররা নয়, শিক্ষকরা।” এটি দেখায় শিক্ষকরা কীভাবে শিশুদের শেখাচ্ছেন এবং সরকারের প্রচারের ভূমিকা সেখানে কেমন—কারিকুলাম কে লিখছে এবং শিশুরা কী শিখছে। সিনেমাটি এত সফল হওয়ার কারণ কি ছাত্রদের সঙ্গে পাশার বন্ধুত্বপূর্ণ ও বিশ্বাসের সম্পর্ক, নাকি তিনি সরাসরি ক্লাসরুমে বসে (সরকারি) নির্দেশগুলো কার্যকর হতে দেখাচ্ছেন বলে?
এল.কে: তিনি সেখানে ওইসব শেখাতে যাননি। তিনি গিয়েছিলেন অন্য শিক্ষকরা কী শেখাচ্ছেন, তা রেকর্ড করতে—যাতে প্রমাণ করা যায় যে আসলে কী ঘটছে। আর আমার মনে হয় প্রামান্যচিত্রটি সফল হওয়ার কারণ এতে অনেক ধরনের সুর বা মেজাজের সমন্বয় রয়েছে। শুরুর দিকে এটি বেশ মজার এবং এর মধ্যে এক ধরনের অসাধারণ প্রাণশক্তি আছে। অনেক সিনেমা বা তথ্যচিত্রে এই প্রাণশক্তিটা থাকে না। শুরু থেকেই দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখা প্রয়োজন। আর এই সিনেমাটি ঠিক সেটাই করে। এর কারণ হলো পরিচালক ডেভিড [বোরেনস্টাইন] যেভাবে এটি সম্পাদনা করেছেন, পাশার ব্যক্তিত্বও ঠিক তেমন—যা এই সম্পাদনার সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে গেছে।
পাশার সেখানে উপস্থিত থাকা এবং ওইসব বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করতে পারার ক্ষমতা—যেগুলোকে সবাই স্রেফ কৌতুক মনে করত—এটাই বড় বিষয়। এমনকি যখন এক তরুণ তাকে জিজ্ঞেস করে, তিনি কার জন্য এই ভিডিওগুলো ধারণ করছেন। পাশা তখন উত্তর দেন “বিবিসি-র জন্য”। আর তখন সবাই “হা হা, তাই নাকি…” বলে হেসে উড়িয়ে দেয়। তার এই ব্যক্তিত্ব এবং রসিকতা করার ক্ষমতার কারণেই আপনি বাস্তব চিত্রটা দেখার একটা সুযোগ পান। এটি কেবল একটি দুঃখের গল্প নয়, এটি একটি প্রতিরোধের গল্প। আর এটাই হলো এই তথ্যচিত্রটির শক্তি।
জিআইজেএন: আর স্কুলের অন্য শিক্ষকরা কেমন— যাদের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে যে, তারা কী শেখাবেন এবং শিশুদের কী বলবেন।
এলকে: কারিকুলাম পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের বন্দুক ব্যবহার করা শেখানো, গ্রেনেড ছোড়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া, দেশপ্রেমের গান গাওয়ানো আর কীভাবে পতাকা উড়াতে হয় শেখানো হচ্ছে। এসব খাতে ব্যয় করলে, শিক্ষার্থীরা গণিত শিক্ষা বা জীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়গুলো শিখতে পারছে না। শিক্ষকরা তা বুঝতে পারছেন।
হঠাৎ শিক্ষকদের কাজগুলো বদলে গেছে—তারা আগে থেকে তৈরি করা স্ক্রিপ্ট বা পান্ডুলিপি পড়ছেন। রাশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য কিছু ফুটেজ পাঠাতে শিশুরাও স্ক্রিপ্ট থেকে পড়ছে। শিক্ষক বা ছাত্র কেউই এত বোকা নয় যে বিশ্বাস করবে সবকিছু বাস্তব। একজন শিক্ষার্থীকে যখন পড়ার জন্য স্ক্রিপ্ট দেওয়া হয়, তারা তা ডেস্কের নিচে লুকিয়ে রাখে। যাতে ক্যামেরায় দেখা না যায়। এই কাজগুলো কতটা অযৌক্তিক তা বোঝা যায়।
জিআইজেএন : পাশা তার ব্যক্তিত্বের কারণেই এগুলো সামলাতে পেরেছেন।
এল.কে: এই সিনেমার জন্য আমাদের অনেকগুলো আলাদা নাম ছিল। আমাদের এগুলোকে ‘কোড নেম’ দিয়ে রাখতে হয়েছিল যাতে বিবিসি-র সিস্টেমে এর আসল পরিচয় প্রকাশ না পায়। এক সময় এর নাম ছিল “টিচার পি”, এরপর রাখা হলো “পুতিন’স ক্লাসরুম”। আর তারপর রাখা হলো “মিস্টার নোবডি অ্যাগেইনস্ট পুতিন” (পুতিনের বিপরীতে এক সাধারণ মানুষ)। প্রথমে আমার কাছে নামটা কিছুটা অভদ্রোচিত মনে হয়েছিল, কারণ পাশাকে তো আর “মিস্টার নোবডি” বা নগণ্য কেউ বলা যায় না। কিন্তু এখন আমার এটি খুব পছন্দ, এটি দারুণ মানিয়ে গেছে। একজন সাধারণ মানুষ বা “মিস্টার নোবডি” হিসেবে তিনি এমন অনেক কিছু করে পার পেয়ে যেতে পেরেছেন, যা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা “মিস্টার সামবডি” হলে পারতেন না। অথবা যদি তিনি অন্য কোনো পেশায় থাকতেন। তিনি যদি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হতেন, তখন হয়তো এসব করা সম্ভব হতো না…
জিআইজেএন : পাশা এই তথ্যচিত্রটি তৈরি করতে পেরেছেন কারণ তিনি মূলত কোনো সাংবাদিক ছিলেন না। রাশিয়ার অনেক সাংবাদিককেই দেশ ছাড়তে হয়েছে অথবা তাদের কাজ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। রাশিয়ার সেই শূন্যতা এবং সংবাদ পরিবেশনের ওপর কড়া বিধিনিষেধের কারণে আমরা যে বিষয়গুলো জানতে পারছিলাম না, পাশা আমাদের সেখানে নতুন কী দেখাতে সক্ষম হয়েছেন?
এল.কে: আমার মনে হয়, সরকার তাদের জনগণকে এটা বিশ্বাস করাতে কতটা মরিয়া যে ইউক্রেনে তারা যা করছে তা সঠিক… [আক্রমণের শুরুতে] আমরা এখানে পুতিনের বিরুদ্ধে রাশিয়ানদের প্রতিবাদের ছবি দেখছিলাম এবং শুনছিলাম যে তাদের দমানোর জন্য কীভাবে আইন পরিবর্তন করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা যা কখনোই শুনিনি তা হলো—রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্লাসরুমগুলোতেও কীভাবে এই প্রচারণা (প্রোপাগান্ডা) ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
“আপনি দেখতে পাবেন কীভাবে এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি কোণায় পৌঁছে গেছে। মানুষের প্রতিটি কথাবার্তায় এটি চলে আসে। আর আপনি যদি ‘সঠিক’ কথাটি না বলেন, তবে আপনি মারাত্মক বিপদে পড়তে পারেন। আমার মনে হয় প্রামান্যচিত্রটি স্রেফ এটাই দেখায় যে পুরো দেশে ভয়ের মাত্রা কতটা ছড়িয়ে পড়েছে এবং শিশুদের কীভাবে প্রভাবিত বা ম্যানিপুলেট করা হচ্ছে। আর এটি শুধু রাশিয়াতেই নয়, বিশ্বের অনেক জায়গাতেই শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে এই জঘন্য ও রক্তাক্ত সংঘাতগুলোকে জিইয়ে রাখার জন্য। এটি পুরো বিশ্বকেই এক অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”
জিআইজেএন: পাশাকে কখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে আমার ধারণা তাকে এসবের জন্যও প্রস্তুত করতে হয়েছিল?
এল.কে: তাকে কখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গেও তার কোনো কথা হয়নি। কিন্তু পরিস্থিতি যখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাল যে তিনি তার বাড়ির বাইরে তাদের (গোয়েন্দা বা পুলিশ) উপস্থিতি টের পেলেন, তিনি তখন আমাদের সতর্ক করেছিলেন। আর তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম: “ঠিক আছে, আমাদের এখনই আপনাকে এখান থেকে বের করে নিতে হবে।”
যুক্তরাজ্যে, আপনি বিবিসি স্টোরিভিলে সম্পূর্ণ তথ্যচিত্রটি দেখতে পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্র এবং নির্বাচিত কিছু দেশে অ্যামাজন প্রাইমে দেখা যাবে।
লরা ডিক্সন জিআইজেএনের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক এবং একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। তিনি কলাম্বিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে কাজ করেছেন। তার লেখা দ্য টাইমস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি লন্ডনের দ্য টাইমস-এর সাবেক স্টাফ রিপোর্টার এবং আইডব্লিউএমএফ, পুলিৎজার সেন্টার, ও জার্নালিস্টস ফর ট্রান্সপারেন্সি থেকে অনুদান ও ফেলোশিপ প্রাপ্ত। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে থাকেন।