প্রবেশগম্যতা সেটিংস

ছবি: শাটারস্টক

লেখাপত্র

বিষয়

কীভাবে অনুসন্ধান করবেন ইউটিউবে কারা ডানপন্থী ঘরানার ইনফ্লুয়েন্সার ও পডকাস্টার

আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:

ডানপন্থী ঘরানার ইনফ্লুয়েন্সার ও পডকাস্টারা মূলত তরুণ পুরুষদের লক্ষ্য করে কাজ করে। এভাবে ধীরে ধীরে উগ্র ডানপন্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগগুলোকে নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতেও তারা সাহায্য করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দীর্ঘ ফরম্যাটের ডানঘেঁষা পডকাস্টগুলো বিপুলসংখ্যক দর্শক ও শ্রোতাদের আকর্ষণ করেছে, যাদের বড় অংশই পুরুষ। এই মাধ্যমটি বিজ্ঞাপন থেকেও প্রচুর পরিমাণে আয় করছে। পাশাপাশি, কর্তৃত্ববাদী প্রার্থীদের নির্বাচনে জয়ী হতে এবং দমনমূলক নীতিগুলোর পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতে সহায়তা করার জন্য এই পডকাস্টগুলোকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। যার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়।

এদিকে, ডেটা সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে দেখছেন কীভাবে ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সাররা বিজ্ঞাপনের একটি বিশাল বাজার তৈরি করছেন। এভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অনুষ্ঠানের (শো) আদর্শিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী পণ্য বিক্রি করছে। যা পডকাস্ট সঞ্চালক, ব্র্যান্ড এবং প্ল্যাটফর্ম—সবার জন্যই একটি লাভজনক ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে। এর বিপরীতে, তারা জানান যে বামপন্থী ঘরানার পডকাস্টগুলো এই ধরনের বিপণন ব্যবস্থার দিকে ঝোঁকেনি।

সামগ্রিকভাবে, বিশ্বের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে জনগণের মতামতের ওপর নিউজ ইনফ্লুয়েন্সারদের বড় ধরনের প্রভাব আছে। রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে: ব্রাজিল, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বাজারে নিউজ ক্রিয়েটরদের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এই বাজারগুলোর অধিকাংশ মানুষই বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় তারা মূলধারার সংবাদমাধ্যমের (বা তাদের সাংবাদিক) তুলনায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়।

তবে, এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো সমাজের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী পডকাস্টাররা জনমত পরিবর্তনে অনেক বেশি ভূমিকা রেখেছেন। ব্লুমবার্গের মতে, এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যে জনপ্রিয় পডকাস্টার জো রোগান—যিনি একসময় একজন কমেডিয়ান ছিলেন—তাকে ক্যাপিটল রোটুন্ডার মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থান থেকে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠান দেখার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের সুপরিচিত গভর্নর রন ডি স্যানটিসকে অতিরিক্ত সাধারণ দর্শকদের জন্য নির্ধারিত পেছনের সারির আসনে বসতে হয়েছিল।

এদিকে, ২২ জন রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সারের পডকাস্ট এবং শোগুলোর ওপর রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে আসা এই সঞ্চালকদের মধ্যে এক অদ্ভুত ধরনের বার্তা প্রদানের ধারাবাহিক প্রবণতা কাজ করছে। তারা এখন “ট্রাম্প প্রশাসনের কথিত শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিশাল প্রচারণার শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।” এই ডানপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব অনুসরণ করা কঠিন বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা। এর আংশিক কারণ হলো ‘ক্রাউডট্যাঙ্গেল’ এর মতো কার্যকর নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ করার টুলগুলোর বিলুপ্তি। এছাড়া বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ আলাপ এবং আলোচনার বিষয়বস্তুর ব্যাপক বৈচিত্র্যও এর পেছনে বড় কারণ।

দেখা যায়, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সঙ্গে ব্ল্যাক হোল নিয়ে তথ্যবহুল আলোচনা অনেক সময় কৌতুক অভিনেতাদের কাছ থেকে ইউএফও (ভিনগ্রহী প্রাণীদের মহাকাশযান) সম্পর্কিত কাল্পনিক “তথ্য” দিয়ে শেষ হয়। একই সঙ্গে, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এবং “ম্যানোস্ফিয়ার” এর অভিযোগগুলো প্রায়ই পশ্চিমা সভ্যতার প্রশংসা এবং ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের প্রতি অবজ্ঞার সঙ্গে তুলে ধরা হয়। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই প্রভাবশালীরা নিজেদের সীমানার বাইরে থেকেও ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। আর সঞ্চালকরা এমন সব পণ্যের প্রচার করছেন যা মানুষকে এমএজিএ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হতে সাহায্য করে

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিকার ডেটা সাংবাদিক সম্মেলনের “ইনফ্লুয়েন্সার ও লাইভস্ট্রিমারদের অনুসন্ধান করার পরামর্শ” শীর্ষক সেশনে ব্লুমবার্গের অনুসন্ধানমূলক ডেটা সাংবাদিক লিওন ইন ২০২৫ সালে করা তার অনুসন্ধান থেকে শেখানো কৌশলগুলো তুলে ধরেন। ওই অনুসন্ধানে তিনি নয়জন ইনফ্লুয়েন্সারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলাপ করেন, যারা উগ্র ডানপন্থী ট্রাম্প প্রশাসনকে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করেছিল। ইনের গল্পে দেখা গেছে, এই পডকাস্টাররা “আমেরিকার পুরুষদের ডানপন্থার দিকে ঝুঁকতে উদ্দীপ্ত করছেন।” তাদের আলোচনায় সাধারণত দুটি বিষয় বারবার ফিরে আসে: প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে এমন দাবি, এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর বিপদজনক হুমকির সতর্কবার্তা।

Bloomberg analysed 2000 podcasts from these nine right-leaning podcasters. Image: Screenshot

ব্লুমবার্গ এই নয়জন ডানঘেঁষা পডকাস্টারের ২ হাজারটি পডকাস্ট বিশ্লেষণ করেছে। ছবি: স্ক্রিনশট, ব্লুমবার্গ

অনেকেই ধারণা করেছিলেন এই শোগুলোতে অতিথিদের তালিকায় কেবল ডানপন্থী রাজনীতিবিদদেরই আধিপত্য থাকবে। কিন্তু ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে পডকাস্টগুলোতে একটি বিস্ময়কর ও সাধারণ সংমিশ্রণ দেখা গেছে: সেখানে অসংখ্য কৌতুক অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এই অতিথিদের অনুপাত এতটাই সুনির্দিষ্ট যে, এর মাধ্যমে প্রতিবেদকরা প্রতিটি পডকাস্টারকে আলাদা আলাদা ইনফ্লুয়েন্সার ক্যাটাগরিতে ভাগ করতে পেরেছেন। তবে সাংবাদিক ইন জানান, সব পডকাস্টেই সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় ও খেলাধুলায় তাদের অংশগ্রহণ, অভিবাসন সমস্যা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার কথিত ত্রুটিসমূহ।

তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, “সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওগুলোর মধ্যে প্রায় প্রতি ১০টির মধ্যে ৪টিতেই ভোট বা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে এসেছে, এই আলোচনার তীব্রতা ততই বেড়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখানে একটি ৫০-৫০ ভাগ লক্ষ্য করা গেছে—এই ভিডিওগুলোর অর্ধেক ব্যবহার করা হয়েছে প্রার্থীদের সমর্থন দিতে বা মানুষকে ভোটার হওয়ার পরামর্শ দিতে, আর বাকি অর্ধেক ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত বা হেয় প্রতিপন্ন করতে। প্রায় প্রতি ১০টি ভিডিওর মধ্যে ৩টিতে ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায়ই খেলাধুলাকে এর একটি প্রধান উপ-বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে এবং ‘মেয়েদের খেলায় পুরুষদের অংশগ্রহণ’—বারবার এই বাক্যটির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।”

ইন বলেন, ২০২৪ সালে মেটা তাদের বিশ্লেষণ টুল ক্রাউডট্যাঙ্গেল বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে ডানপন্থী পডকাস্টগুলোর ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা ট্র্যাক করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে, তিনি সংবাদদাতাদের এই গোষ্ঠীর প্রভাব বোঝার জন্য একটি বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বনের পরামর্শ দেন: এই শোগুলোতে আসা অতিথিদের তালিকা বা ম্যাপিং করা এবং তাদের সেই অনিয়ন্ত্রিত ও সরাসরি কথোপকথনের ভেতর কী বলা হচ্ছে তা বিশ্লেষণ করা।

“ভিডিও নিয়ে রিপোর্ট করার সময় আপনাদের শুধু এটুকু মনে রাখতে হবে যে, ক্রাউডট্যাঙ্গেল আর কখনোই ফিরে আসছে না,” ইন ব্যাখ্যা করেন। “সেই টুলটির মাধ্যমে আপনি একটি লিঙ্ক দিয়ে দেখতে পারতেন যে সোশ্যাল মিডিয়ার অন্য কোথায় কোথায় এটি শেয়ার করা হয়েছে। বর্তমানে তেমন কোনো কিছুই নেই। কোনো কন্টেন্ট কতবার বা কোথায় শেয়ার করা হচ্ছে, তার কোনো সামগ্রিক চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। এর বদলে, আমি ইনফ্লুয়েন্সার এবং তাদের প্রচারণার মূল মাধ্যমগুলোর দিকে নজর দিই, কারণ সেই তথ্যগুলো এখনও বিদ্যমান। তাদের সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো সহজেই পাওয়া যায় এবং অনেক সময় সেগুলো আর্কাইভ করেও রাখা হয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, মূল কৌশল হলো সুসংগঠিত হওয়া, আপনি যে শ্রেণীবিন্যাসগুলো করেছেন তা সুনির্দিষ্ট করা এবং আপনি কেন এই পডকাস্টগুলোকে বেছে নিয়েছেন সে কারণগুলো পাঠকদের কাছে ব্যাখ্যা করা। যেমন, ব্লুমবার্গের অনুসন্ধানের জন্য ইন দর্শকদের কাছে তার নির্বাচনের মানদণ্ডগুলো ব্যাখ্যা করেছিলেন—কেন তিনি দুই বছর ধরে ওই নয়টি পডকাস্টের হাজার হাজার পর্ব বিশ্লেষণ করেছেন: সেগুলো সবই ছিল অসম্পাদিত সাক্ষাৎকার-ভিত্তিক পডকাস্ট। ইউটিউবে যাদের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা অন্তত ১০ লাখ (১ মিলিয়ন)। যারা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পেরও অন্তত একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিল।

ইন বলেন, যদিও অসংখ্য পডকাস্ট প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, তবে ইউটিউব থেকেই সাধারণত শুরু করাটা সবচেয়ে ভালো।

তিনি উল্লেখ করেন, “কেন ইউটিউবকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? কারণ এটি বিশ্বের বৃহত্তম পডকাস্ট পরিবেশক। এটি মূলত প্রচারের মূল কেন্দ্র (ডিস্ট্রিবিউশন হাব), যা দর্শক বা শ্রোতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া, সেখানে আপলোড করা প্রতিটি ভিডিওর একটি আর্কাইভ বা সংগ্রহ থাকে, যদি না সেগুলো মুছে ফেলা হয়।”

এছাড়াও, বেশিরভাগ ইউটিউব পডকাস্ট সুবিধাজনকভাবে তাদের চ্যানেলের “ভিডিও” বিভাগে সমস্ত কন্টেন্ট সংগ্রহ (আর্কাইভ) করে রাখে (নিচে দেখুন)।

Joe Rogan Experience podcast, investigating influencers

ছবি: স্ক্রিনশট, ইউটিউব

ইন জানিয়েছেন যে তার দলের পডকাস্ট অনুসন্ধানের জন্য নিচের টুলগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • পডস্ক্রাইব:পডকাস্ট বিজ্ঞাপনের ডেটা বিশ্লেষণের জন্য একটি পেইড প্ল্যাটফর্ম।
  • স্ট্যাচারডটআইও:এটি একটি গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস টুল যা ভিডিও ডাউনলোডের প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে এবং এর জন্য কমান্ড-লাইন (কোডিং) দক্ষতার প্রয়োজন হয় না।
  • রিডাক্ট:এটি একটি পেইড ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিস যা পডকাস্টের নির্দিষ্ট ক্লিপগুলোতে নোট বা টিকা যুক্ত করতে দেয়। ইনের মতে, এটি কন্টেন্ট-নির্ভর ভিডিও অনুসন্ধানের জন্য খুবই সহায়ক।
  • ট্রান্সক্রিপশন টুলস যেমন গুগল নোটবুকএলএম এবং হুইসপার:ইন ১০ লাখের বেশি ভিউ হয়েছে এমন ৬০০টি ভিডিওর ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং ট্রান্সক্রিপ্টগুলোতে কী-ওয়ার্ড সার্চ করার পর সেগুলো ম্যানুয়ালি যাচাই করেছিলেন। (জিআইজেএন সামারাইজডটটেক নামক একটি টাইমলাইন-ভিত্তিক ট্রান্সক্রাইবার সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে, যা কিছু ফ্রি আপলোডের সুবিধা দেয়)।
  • এবং সবশেষে: ওয়াইটি-ডিএলপি:এটি একটি ফ্রি এবং বহুমুখী ‘কমান্ড-লাইন’ অডিও ও ভিডিও ডাউনলোডার টুল।

উল্লেখযোগ্যভাবে, প্ল্যাটফর্মগুলোর পক্ষ থেকে কপিরাইট ও নীতিগত দ্বন্দ্ব নিয়ে সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা থাকায় নিকার সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে একটি সাধারণ পরামর্শ দেওয়ার কথা শোনা যায়। আর তা হচ্ছে, ওপেন সোর্স ওয়াইটি-ডিএলপি সফটওয়্যারটি যতক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ যেন তারা এটি ব্যবহার করেন।

ডেকোহেরেন্স মিডিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী নিয়ে শীর্ষস্থানীয় অনুসন্ধানকারীদের একজন ট্রিস্টান লি বলেন: “ওয়াইটি-ডিএলপি একটি দুর্দান্ত টুল; এটি একটি ফ্রি, ওপেন সোর্স প্যাকেজ, এবং এর মাধ্যমে প্রায় যেকোনো ওয়েবসাইট থেকে ভিডিও ডাউনলোড করা যায়। আর এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একটি মাত্র কমান্ড ব্যবহার করে আপনি নির্দিষ্ট কোনো ইউটিউব বা টিকটক অ্যাকাউন্টের সব ভিডিও ডাউনলোড করতে পারেন। আর্কাইভ করার জন্য এটি খুবই কাজে লাগে, কারণ পরিস্থিতি সংবেদনশীল হয়ে উঠলে অনেকেই তাদের বিতর্কিত ভিডিও মুছে ফেলেন।”

তবে আরও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক প্রকল্পের জন্য নিউজরুমগুলো সহজে ব্যবহারযোগ্য স্ট্যাচার টুলটি বিবেচনা করতে পারে বলে ইন জানান।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “এটি একটি ইউজার ইন্টারফেস, যা শুধু ইউটিউব নয়, বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ভিডিও ডাউনলোড করতেও সহায়তা করে। এটি মূলত কমান্ড-লাইন টুল ওয়াইটি-ডিএলপি-র ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। আমি দুটোই ব্যবহার করেছি। তবে একবার কাজের জন্য স্ট্যাচার ব্যবহার করি, আর প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ডেটা সংগ্রহ করতে চাইলে ওয়াইটি-ডিএলপি ব্যবহার করি।”

ইন বলেন, ইনফ্লুয়েন্সারদের ভিডিওর নিচে থাকা দর্শকদের মন্তব্যও ডেটার একটি সমৃদ্ধ উৎস হিসেবে কাজ করে।

সার্পএপিআই— ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে লি এই পেইড টুলের সুপারিশ করেন। এটি গুগলের বিভিন্ন সার্ভিস ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে ডেটা সংগ্রহের জন্য একটি নিজস্ব স্ক্র্যাপার। লি বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে অল্প কিছু টাকা খরচ করা, বা এমন কোনো পেইড টুলের ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করা যা সত্যিই কাজে লাগে। নিজে বানানো বা গিটহাবে কোনো অগোছালো ওপেন সোর্স টুল খুঁজে বের করার চেয়ে অনেক যা অনেক দ্রুত ও সহজ। আমি ভালো গুগল রিভিউ স্ক্র্যাপার খুঁজেছিলাম, কিন্তু কোনোটা কাজ করেনি—এটি আমি সুপারিশ করতে পারি।”

এছাড়া, সেশনে একটি উন্নত এবং বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য ডেটা সাংবাদিকতার টিউটোরিয়াল পোর্টালও তুলে ধরা হয়, যা ইনফ্লুয়েন্সারদের বিজ্ঞাপন ইকোসিস্টেম, গ্যাম্বলিং লাইভস্ট্রিমারসহ নানা “অস্পষ্ট” বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানে সহায়তা করে। ইনস্পেক্টএলিমেন্টডটঅর্গ নামক এই টুলটি তৈরি করেছেন ইন। আর এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন পিওত্র সাপিয়েজিনস্কি এবং অন্যান্য সহযোগীরা।

সাইটটিতে বর্ণিত একটি কৌশলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কীভাবে “আনডকুমেন্টেড এপিআই” থেকে লুকানো তথ্য খুঁজে বের করা যায়। ইন যেটিকে সার্ভারের পেছনের “ডিজিটাল আমলাতন্ত্র” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিকার সম্মেলনে বক্তাদের মধ্যে এই পদ্ধতিটি জনপ্রিয় ডেটা-ডিগিং (তথ্য অনুসন্ধান) কৌশল হিসেবে উঠে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, ফোন ট্র্যাকিং সফটওয়্যারের ওপর তাদের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানের জন্য ‘লাইটহাউস রিপোর্টস’ এটি ব্যবহার করেছে, মার্চ মাসে জিআইজেএনের নিবন্ধে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সাধারণত এই ধরনের ডেটা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্স সম্পর্কিত কিছু দক্ষতার প্রয়োজন হয়, তবে ইনস্পেক্ট এলিমেন্টের আনডকুমেন্টেড এপিআই–সংক্রান্ত চমৎকার টিউটোরিয়ালটি দেখায় কীভাবে কোডিং ছাড়াই রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার করে লুকানো তথ্য বের করা সম্ভব।

নিকার ২০২৬ সম্মেলনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এমন অনুসন্ধান কৌশল ব্যবহার, যেখানে “আনডকুমেন্টেড এপিআই” খুঁজে বের করা হয়— ইন যেটিকে সার্ভারের পেছনের “ডিজিটাল আমলাতন্ত্র”হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এগুলো বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারলে গুরুত্বপূর্ণ স্টোরির ডেটার উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এই ডেটা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কিছুটা কম্পিউটার সায়েন্সের দক্ষতা প্রয়োজন হয়, তবে এখন ইনস্পেক্ট এলিমেন্টে আনডকুমেন্টেড এপিআই নিয়ে চমৎকার টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। যদিও প্রতিটি কৌশলে কিছু জটিল ডিজিটাল ধাপ আছে, তবে সাইটটিতে এমন রূপকভিত্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে যা কোডিং না জানা ব্যক্তিরাও বুঝতে পারেন। পাশাপাশি শক্তিশালী কেস স্টাডি এবং ডেটাসেট তৈরির নানা পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।


 

রোয়ান ফিলিপ জিআইজেএনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। তিনি আগে দক্ষিণ আফ্রিকার সানডে টাইমসের প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। বিদেশি প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বজুড়ে দুই ডজনের বেশি দেশে সংবাদ, রাজনীতি, দুর্নীতি এবং সংঘর্ষ সম্পর্কিত প্রতিবেদন করেছেন।

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

অনুসন্ধান পদ্ধতি পরামর্শ ও টুল

ভিডিও তথ্যের শক্তিশালী উৎস, রিপোর্টিংয়ের জন্য পথচারীদের থেকে পাওয়া ভিডিও যাচাই করবেন যেভাবে

আধুনিক সাংবাদিকতায় তথ্য-প্রমাণের অন্যতম শক্তিশালী একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে ভিডিও, যেখানে আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এই প্রমাণ জাল ও কারসাজি করার কাজগুলো আরও সহজ করে দিয়েছে। এই নতুন বাস্তবতায় সাংবাদিকদের অবশ্যই ভিজ্যুয়াল ইনভেস্টিগেটর হয়ে উঠতে হবে।

পরামর্শ ও টুল

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রতিবেদন করার জন্য বিষয় বাছাই করবেন যেভাবে

আমাদের এমন আরও সাংবাদিক প্রয়োজন যারা রোজকার প্রতিবেদনে জলবায়ু বিষয়টি যুক্ত করবেন। আমাদের আরও বেশি স্থানীয় রিপোর্টার প্রয়োজন যারা জলবায়ু পরিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সংবাদ সংগ্রহ করবেন। আরও বেশি অর্থনীতি, খেলাধুলা এবং ফ্যাশন সাংবাদিক প্রয়োজন, কারণ জলবায়ু পরিবর্তন কেবল বৈষম্যই বাড়িয়ে তোলে।

পরামর্শ ও টুল

‘গল্পটি যখন আপনার’: ব্যক্তিগত ঘটনা অনুসন্ধানের চ্যালেঞ্জ ও মোকাবিলার উপায়

প্রায়ই ধরে নেওয়া হয়, কোনো সাংবাদিক যখন প্রতিবেদন তৈরির সময় ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকেন, তখন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেই সম্পর্ক পক্ষপাত তৈরি করতে পারে এবং নিরপেক্ষতাকে বিকৃত বা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

পরামর্শ ও টুল সম্পাদকের বাছাই

জিআইজেএন: ২০২৫ সালের সেরা অনুসন্ধানী টুল

আমরা এমন একটি বছর নিয়ে কথা বলছি—যখন বিশ্বজুড়ে লুটেরা শাসনব্যবস্থা (চৌর্যতন্ত্র) আর স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর হামলা, দুটোই বেড়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা এ সময় সহযোগিতা, সাহস, প্রথাগত রিপোর্টিং এবং নতুন ও কার্যকর ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে কাজ করেছেন।