প্রবেশগম্যতা সেটিংস

৩ মে, ২০২৫: পাকিস্তানের কোয়েটায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের প্রাক্কালে সাংবাদিকদের অধিকারের জন্য বিক্ষোভ করছেন বেলুচিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যরা। ছবি: শাটারস্টক

লেখাপত্র

বিষয়

পাকিস্তানের অভিজ্ঞতায় চাপের মুখে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার যত কৌশল 

আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:

২০২৪ সালের নভেম্বরে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় পাকিস্তানি সাংবাদিক মতিউল্লাহ জান এবং সাদিক বশিরকে রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে সাদা পোশাকধারী সদস্যরা আটক করেন। তারা কোথায়—তিনদিন ধরে তা কেউ জানতে পারিনি। এরপর তাদের প্রকাশ্যে আনা হয়। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তখন জানায়, জান ও তার এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এর সমালোচনা করে এবং একে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে। তাদের মতে, দেশটিতে যেখানে ক্রমাগত আইনি চাপ, নজরদারি ও হুটহাট আটক হওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এসব ঘটনা নতুন কিছু নয়।

এটি একক কোনো ঘটনা নয়। বিনা নোটিশে পাকিস্তানে সাংবাদিকদের  আটক, আইনি হয়রানি এবং ফৌজদারি মামলা মোকাবিলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। যা প্রায়ই সরকারি কোনো জবাবদিহি ছাড়াই শেষ হয়। এসব পরিস্থিতি পাকিস্তানে সবচেয়ে সংবেদনশীল রিপোর্টিংকে প্রভাবিত করে। দুর্নীতি, নিরাপত্তা সংস্থা, জঙ্গিবাদ এবং ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে কাজ করা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সীমিত আইনি সুরক্ষার মধ্যে কাজ করতে হয়। একটি মিশ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কর্তৃত্বের সীমানা স্পষ্ট নয়, ফলে কে সিদ্ধান্ত নেয় বা কার কাছে জবাবদিহি করতে হবে—তা পরিষ্কার থাকে না। এর কারণে সাংবাদিকদের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার পথও খুব সীমিত থাকে।

এইসব চাপ সামলে পাকিস্তানি অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা সাড়া জাগানো প্রতিবেদন প্রকাশ করে চলেছেন। তারা তাদের কাজের ধরন, সময়সূচি এবং সুরক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তন করে তারা চরম সীমাবদ্ধতার মধ্যে সংবাদসংগ্রহের জন্য ব্যবহারিক কৌশল ও প্রযুক্তি তৈরি করেছেন। এসব পদ্ধতি কেবল পাকিস্তানে সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখে না, বরং বিশ্বের যে কোনো কঠোর পরিবেশে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য এটি শিক্ষনীয় হয়ে ওঠে।

ঝুঁকির মুখে কী নিয়ে অনুসন্ধান করবেন এবং কী গোপন রাখবেন, তা ঠিক করুন

পাকিস্তানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য কোনো গল্প নির্বাচন করার সময় ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যখন প্রভাবশালী রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকে, তখন প্রমাণ, দলিলপত্র এবং আইনি ভিত্তি খুব সতর্কভাবে যাচাই করতে হয়। এ ধরনের সংবেদনশীল গল্পে কাজ করতে হলে সংযম ও সতর্কতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং ইন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা উমার চিমা বলেন, কোনো গল্পের বিস্তারিত তথ্য বেশি মানুষের সঙ্গে ভাগ করলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

Stories like this one, from Pakistani investigative site, Sujag, often run with no byline to protect the journalists who reported it. Image: Screenshot, Sujag

পাকিস্তানি অনুসন্ধানী আউটলেট সুজাগে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো প্রায়ই কোনো লেখকের নাম উল্লেখ না করেই প্রকাশিত হয়, যেন প্রতিবেদন তৈরির দায়ে সাংবাদিককে হুমকির মুখে পড়তে না হয়। ছবি: স্ক্রিনশট, সুজাগ

“স্পর্শকাতর সংবাদ নিয়ে কাজ করার সময় ‘জিজ্ঞেস না করা, না জানানো’ (Don’t ask, don’t tell) হলো সেরা নীতি,” বলেন চিমা। সাক্ষাৎকার এবং গবেষণার কাজের সময় সরাসরি অনুসন্ধান হিসেবে না নিয়ে সাধারণ তথ্য জানার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত। আর শুধুমাত্র যাদের একান্তই প্রয়োজন, তাদেরকেই সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এভাবে কাজ করলে সাংবাদিকরা অন্যের নজরের বাইরে থাকতে পারেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগও বজায় রাখতে পারেন।

তবে সাংবাদিকরা স্পর্শকাতর বিষয়গুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়ার বদলে প্রায়ই কাজের চাপ এবং সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নেন: কিছু সংবাদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ জোগাড় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা চালিয়ে যাওয়া হয়, আবার কিছু সংবাদ ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হয় অথবা ঝুঁকি কমাতে বিশ্বস্ত সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে মিলে করা হয়। চিমা আরও বলেন: “ প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য সবসময় একটি প্রাসঙ্গিক মাধ্যম খুঁজে নিন। নিজের নাম (বাইলাইন) ছাড়াই আপনার সংবাদটি প্রকাশিত হলে অনর্থক ঝুঁকি এড়ানো যায় এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর হস্তক্ষেপও সীমিত করা সম্ভব হয়।”

পাকিস্তানসহ বিশ্বজুড়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য, বিচক্ষণতা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত প্রচারের চেয়ে সংবাদকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলো নিরাপদভাবে স্পর্শকাতর বিষয় নির্বাচন ও তা অনুসরণের অপরিহার্য কৌশল।

কাগজে লেখা একটি সূত্র থেকে অনুসন্ধানের শুরু: দলিল, ডেটা, আর উন্মুক্ত উৎস

পাকিস্তানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য স্বশরীরে সব জায়গায় যাওয়াটা এখনও বেশ চ্যালেঞ্জের, বিশেষ করে এমন এলাকায় যেমন বালুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া। যেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বিদ্রোহ চলমান। কর্তৃপক্ষ নিয়মিত এখানে  প্রবেশাধিকারের ওপর কড়াকরি আরোপ করে। মনে করা হয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোও সাংবাদিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল নয়— যা একধরনের সমান্তরাল হুমকি তৈরি করে।

এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাংবাদিকরা ক্রমবর্ধমানভাবে দলিলভিত্তিক এবং ডেটাভিত্তিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছেন।  তাই আদালতের নথি, ক্রয় সংক্রান্ত রেকর্ড, বাজেটের বিবরণ, কোম্পানির রেজিস্ট্রি, ফাঁস হওয়া টেন্ডার, এবং তথ্য অধিকার সংক্রান্ত অনুরোধ প্রায়শই অনুসন্ধানের মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। যখন সরকার পক্ষের উত্তর দিতে দেরি হয় বা তাদের পক্ষ থেকে বিষয়গুলোকে অস্বীকার করা হয়, তখন সাংবাদিকরা আংশিক ডেটাসেটকে বাণিজ্যিক রেকর্ড বা আন্তর্জাতিক ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন।

বিভিন্ন ওপেন সোর্স টুল—যেমন স্যাটেলাইট ছবি, ভূ-স্থানিক ডেটা, সামাজিক মাধ্যম পর্যবেক্ষণ এবং উন্মুক্ত ডেটাসেট—ব্যবহার করা হয় প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য, প্যাটার্ন চিহ্নিত করতে এবং রাজনৈতিক বা সামরিক সংশ্লিষ্ট জমি ব্যবহার, উন্নয়ন প্রকল্প বা অবকাঠামো নিয়ে করা দাবিগুলো যাচাই করতে।

ইসলামাবাদভিত্তিক সাংবাদিক আদনান আমির রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন, সংঘাত এবং নিরাপত্তা বিষয়ক খবর সংগ্রহ করেন। উন্মুক্ত উৎসের তথ্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংকে তিনি প্রতিবেদন তৈরির প্রথম স্তর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “মাঠে নেমে সরাসরি কাজ শুরু করার আগেই এসব টুল প্রেক্ষাপট বুঝতে এবং কোন ধারা চলছে তা ধরতে সাহায্য করে।”

তথ্য-প্রমাণভিত্তিক গবেষণা আর সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করার মাধ্যমে সাংবাদিকরা সীমিত প্রবেশাধিকারজনিত ঘাটতিগুলো পুষিয়ে নিতে পারেন। এতে চরম সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নির্ভরযোগ্য গল্প তৈরির ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

সীমাবদ্ধতার মধ্যে উৎস চিহ্নিত করা: দক্ষতা, দূরত্ব, এবং সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ

একবার নথি ও ডেটা গুছিয়ে নেওয়া হলে, সাংবাদিকরা তাদের ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কগুলোকে কাজে লাগাতে পারেন—যাতে অনুসন্ধানকে শক্তিশালী এবং প্রাসঙ্গিক করা যায়। আমির সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও মানুষগুলোর ওপর নির্ভর করেন। এমন পরিবেশ যেখানে “তথ্যের বা সুযোগের নাগাল পাওয়া খুব কঠিন বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, সেখানে এই প্রক্রিয়াটিকে তিনি সময়সাপেক্ষ কিন্তু অনিবার্য” বলে মনে করেন।

CPJ Umar Cheema abduction anti-press attack

২০১১ সালে সাংবাদিক উমার চিমার অপহরণ ও মারধরের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস। আক্রমণের সময় তাকে সরকারকে সমালোচনা বন্ধ করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। ছবি: স্ক্রিনশট, সিপিজে

তবে সোর্স চিহ্নিত (সোর্স ম্যাপিং) করার পাশাপাশি সম্পাদকীয় বিচক্ষণতাও জরুরি। উমার চিমা এখানে আবারও জোর দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “কখনো কখনো আপনি অনেক কিছু করতে চান, কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য বা উৎস থাকে না।” তিনি আরও বলেন, “প্রমাণ সংগ্রহের জন্য  আপনার পরিচিত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। তাদের কাছ থেকে আরো কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির নাম- ফোন নম্বর নিন। কে জানে, এই বিশেষজ্ঞরা আপনাকে যাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে, তারাই হয়তো আপনার গল্পের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান উৎস হয়ে উঠতে পারে।”

উমার উৎসের নির্ভরযোগ্যতা এবং গুরুত্ব মূল্যায়নের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, “দেখা জরুরি, আপনার গল্পের সঙ্গে কোন ব্যক্তি কতটা সম্পর্কিত। একজন মানুষের মতামত পুরো একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন ভাবা ভুল।” তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানাতে পারেন এবং কোথা থেকে ডেটা সংগ্রহ করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন, কিন্তু তারা আপনার গল্পের সীমা নির্ধারণ করবেন না। তাদের মতামত ও আপনার নিজের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা মিলিয়ে আপনাকেই বুঝতে হবে গল্পটি কীভাবে এগোবে।”

অনেক সময় সরাসরি ঘটনাস্থলে যাওয়ার সুযোগ না থাকে—তখন গোছানো পরিকল্পনা, তথ্যের উৎসের সঠিক বিন্যাস এবং প্রাপ্ত তথ্যের কৌশলগত ব্যবহারের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেন। এই পদ্ধতিটি বিশ্বজুড়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।

প্রতিবেদন ঘিরে প্রতিক্রিয়া প্রতিশোধ আশঙ্কার আগাম অনুমান

অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা এবং প্রতিশোধ বা পাল্টা আঘাত আসাটা কাল্পনিক কোনো বিষয় নয়। বলা যায় এগুলো তাদের প্রতিদিনের কাজের অংশ। আইনি হয়রানি, নজরদারি, মানহানির মামলা এবং গ্রেফতারের হুমকিকে এখন আর বিরল কোনো ঘটনা নয়, বরং সম্ভাব্য ফলাফল হিসেবেই দেখা হয়। এই ঝুঁকিগুলো পূর্বানুমান করা অনুসন্ধানী পদ্ধতির একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানে প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট (পিইসিএ)-এর মতো আইনগুলো প্রমাণ করে যে কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বিপদকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। লাহোর-ভিত্তিক আইনজীবী এবং হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আওএম)-এর পরামর্শক আজহার শাকিল যেমনটা উল্লেখ করেছেন: “পিইসিএ বর্তমানে যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, তাতে কাগজে-কলমে এর লক্ষ্য ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ করা হলেও, এর আসল উদ্দেশ্য হলো ভিন্নমত দমন করা এবং বাকস্বাধীনতা খর্ব করা।”  পাশাপাশি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে দায়িত্বহীনতা এবং গভীরভাবে জমে থাকা দুর্নীতি আইনের অপব্যবহারকে সহজ করে তোলে, যা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পিইসিএর মতো আইন প্রয়োগ করতে সাহায্য করে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্টতাও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।”

পিইসিএর মতো আইনগুলো একেক দেশে একেক রকম হতে পারে, তবে এর মূল শিক্ষাটি বিশ্বজনীন: যেসব দেশে আইনি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অপব্যবহারের সুযোগ থাকে, সেখানে সাংবাদিকদের অবশ্যই সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক চাপের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে।

প্রস্তুতি নেওয়ার অর্থ হলো কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া: যেমন গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য একাধিক গোপন ও সুরক্ষিত জায়গায় জমিয়ে রাখা, রিপোর্টটি কখন প্রকাশ করা হবে তার সঠিক পরিকল্পনা করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ তথ্যগুলো বিশ্বস্ত কোনো দেশি বা বিদেশি সহকর্মীর কাছে পাঠিয়ে রাখা। আদনান আমির নথিপত্র সংরক্ষণের গুরুত্ব দিয়ে বলেন: “তথ্য প্রমাণ সঠিক হওয়া এবং তার প্রমাণ থাকা খুবই জরুরি। এটি কেবল আপনার রিপোর্টকেই শক্তিশালী করে না, বরং আপনার বিরুদ্ধে মামলা হলে তা মোকাবিলা করতেও সাহায্য করে।” একইসঙ্গে তিনি বাস্তব পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন: “পাকিস্তানে থেকে আমি এমন সব বিষয় নিয়ে কাজ করা এড়িয়ে চলি, যা সরাসরি আমার জীবনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”

উমার ২০১০ সালে সরকারের সমালোচনা করে রিপোর্ট করার জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ঝুঁকি কমানোর জন্য  নিজেকে আড়ালে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি । আরো বলেন: “জনসমক্ষে নিজেকে কম প্রকাশ করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগাম ঘোষণা দেওয়া বন্ধ রাখা, প্রতিবেদনে নিজের নাম (বাইলিন) কম ব্যবহার করা এবং ব্যক্তিগত স্বীকৃতির চেয়ে গল্পকে প্রাধান্য দেওয়া—এসব প্রতিশোধের ঝুঁকি কমায় এবং সাংবাদিক ও তার কাজকে সুরক্ষা দেয়।”

বিপদ আসবে না—এমনটা ভেবে বসে না থেকে, বিপদ আসবেই—এটা মাথায় রেখে কাজের পরিকল্পনা করা উচিত। এতে সাংবাদিক যেমন নিরাপদ থাকেন, তেমনি তার রিপোর্টটিও নিখুঁত হয়।

Police in Pakistan at protest in Lahore.

২০২৪ সালের নির্বাচনের পর পাকিস্তানের লাহোরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের গণহারে গ্রেপ্তার করছে। দেশটিতে ২০১৬ সালে পিইসিএ  আইন পাস হয়। ২০২৫ সালে এর আরেকটি কঠোর সংশোধনী আসার পর থেকে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন তৈরির স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। ছবি: শাটারস্টক।

একা প্রতিবেদন করার বদলে দলগত প্রচেষ্টা: যৌথ সাংবাদিকতা এবং আইনি সুরক্ষা

ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি পাকিস্তানের অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা এখন দলগতভাবে কাজ করার পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন। তথ্য বিশ্লেষণ, নথিপত্র যাচাই, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ এবং সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কাজগুলো এখন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সম্পাদকরা সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো যাচাই করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে প্রতিবেদনের কৃতিত্ব বা বাইলাইন কি বেনামী থাকবে নাকি কোনো ব্যক্তির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকাশিত হবে। যদিও এই যৌথ সাংবাদিকতার ধারণাটি এখনও নতুন, তবে এটি কোনো একজন সাংবাদিকের ওপর ঝুঁকি কমাতে বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে দলের কোনো সদস্য হয়রানি বা আইনি মারপ্যাঁচে পড়লেও অনুসন্ধান থেমে থাকে না। সাংবাদিক চিমার মতে: “সাংবাদিকতায় ‘একা লড়াই’ করার ধারণাটি এখন বদলানো দরকার; বড় কোনো পরিবর্তন আনতে হলে দলগত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।”

দলগত কাজের পাশাপাশি সমন্বিত আইনি এবং পেশাদার সহায়তা থাকা প্রয়োজন, যা সামগ্রিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে। এইচআরসিপির শাকিল সাংবাদিকদের জন্য “সম্মিলিত ও তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক সহায়তা, আইনি দল, স্বচ্ছ বিতর্কের সুযোগ এবং জন-জবাবদিহির” প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যারা আইনের অপব্যবহার করেন বা সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখান, তাদের চিহ্নিত করা উচিত যাতে তা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।

এই অভ্যন্তরীণ সহযোগিতাগুলো কেবল স্থানীয়ভাবে ঝুঁকি হ্র্রাস বা অনুসন্ধানকে শক্তিশালীই করে না, বরং কার্যকর আন্তঃসীমান্ত অংশীদারিত্বের ভিত্তি হিসেবেও কাজ করে। নিজেদের দলের মধ্যে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ, তথ্য সুরক্ষার চর্চা এবং সমন্বিত সম্পাদকীয় তদারকি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাংবাদিকরা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারেন। এতে সংবেদনশীল তথ্য ও অনুসন্ধানগুলো দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নিরাপদে প্রচার এবং সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।

সুরক্ষার জন্য নিজ দেশের বাইরে প্রকাশনা: আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুরক্ষা বলয়

পরিশেষে, পাকিস্তানের অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা একইসঙ্গে ব্যাপক প্রচার এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার ফলে সাংবাদিকরা তাদের সংবেদনশীল অনুসন্ধানগুলো বিশ্বজুড়ে ডজনখানেক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একযোগে প্রকাশ করতে পারেন, যা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি ঢাল বা সুরক্ষা বলয় তৈরি করে।

চিমা এই ধরনের নেটওয়ার্কের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “পানামা পেপারস থেকে শুরু করে প্যান্ডোরা পেপারস এবং দুবাই লিকস অনুসন্ধান পর্যন্ত এই পারস্পরিক সহযোগিতা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। যখনই আমরা কোনো সম্ভাব্য সমস্যার আশঙ্কা করি, আমরা আন্তর্জাতিক সমন্বয়কদের অনুরোধ করি প্রশ্নগুলো এমনভাবে সাজাতে যেন প্রতিবেদনটিকে কেবল পাকিস্তান-কেন্দ্রিক মনে না হয়ে বৈশ্বিক বলে মনে হয়। এই প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত জানতেন না যে কোনো পাকিস্তানি সাংবাদিক এতে জড়িত। যা ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।”

সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রকাশনা তৎক্ষণাত প্রতিশোধের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় এবং একবার ফলাফলগুলো বিশ্বব্যাপী রেকর্ডে ঢুকে গেলে দমন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। এছাড়া, যেখানে প্রেস স্বাধীনতার পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব দেশে সাংবাদিকরা ভাগ করা সম্পাদকীয় পর্যালোচনা, সীমান্ত পেরিয়ে আইনি যাচাই, এবং নিরাপদ অফশোর ডেটা সংরক্ষণ থেকে উপকৃত হতে পারেন, যা উৎস এবং সংবেদনশীল তথ্যকে সুরক্ষা দেয়। এসব অংশীদারত্ব এমন দৃশ্যমানতা তৈরি করে যা হামলা ঠেকাতে পারে; একাধিক সম্মানজনক গণমাধ্যম দ্বারা সমর্থিত গল্পের প্রভাব থাকে যা শুধুমাত্র স্থানীয় অনুসন্ধান প্রায়শই অর্জন করতে পারে না।

আমির আরও একটি দিক তুলে ধরেন: “স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করলে সোর্সের সংখ্যা বাড়ে, বিশেষ করে আন্তঃসীমান্ত সংবাদের ক্ষেত্রে; একইসঙ্গে এটি চাপের মুখে এক ধরনের সুরক্ষা কবচ হিসেবেও কাজ করে।” তিনি আরো বলেন, “আন্তর্জাতিক যোগাযোগগুলো এমন দৃশ্যমানতা এবং সমর্থন যোগায় যা স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রায়ই এটির অভাব থাকে।”

এমনকি বড় মাপের প্রকল্পের বাইরেও, অভ্যন্তরীণ সাংবাদিকতার ধরন বদলে দিচ্ছে এই সহযোগিতা। পাকিস্তানের সাংবাদিকরা এখন তথ্য যাচাই, আইনি পরামর্শ এবং প্রকাশনা কৌশলের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদেশি সহকর্মীদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমানভাবে সমন্বয় করছেন। এর ফলে স্থানীয় চাপ বৃদ্ধি পেলেও কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য এই আন্তঃসীমান্ত অংশীদারত্ব কেবল কাজের পরিধি বাড়ানোর বিষয় নয়, বরং এটি টিকে থাকা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি কৌশল।

পাকিস্তানের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার টিকে থাকার লড়াই থেকে যা শেখার আছে

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কীভাবে দুর্বল আইনি সুরক্ষা এবং নিয়মিত চাপের মুখেও টিকে থাকতে পারে, তার একটি শক্তিশালী উদাহরণ হলো পাকিস্তান। দেশটির অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা যেসব কৌশল তৈরি করেছেন—যেমন নথিনির্ভর রিপোর্টিং, দলগত কর্মপদ্ধতি, আগাম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা—সেগুলো হয়তো একেবারে নতুন কিছু নয়। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে এই কৌশলগুলো প্রয়োগ করা হয়, যা আজ বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষণীয়।

একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের সফলতার প্রকৃত মানদণ্ড হলো ব্যক্তিগত খ্যাতির চেয়ে সমাজে প্রভাব ফেলা। সংক্ষিপ্ত, তাৎক্ষণিক গল্প হয়তো মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে, কিন্তু শুধুমাত্র সেই রিপোর্টিংই প্রতিষ্ঠানিক চাপ সহ্য করে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে যা সঠিক তথ্য, দলিলভিত্তিক প্রমাণ এবং জনস্বার্থের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

একইভাবে সীমাবদ্ধ বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য, পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ তুলে ধরে। একটি অনুসন্ধান কী উন্মোচন করে তা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি কিভাবে তৈরি হয়—তারও সমান গুরুত্ব আছে। পদ্ধতি, সহযোগিতা, এবং প্রস্তুতি কোনো রক্ষণমূলক কৌশল নয়; এগুলো সেই শর্তাবলী যা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে টিকে থাকতে, প্রভাব ফেলতে এবং সময়ের সঙ্গে সহনীয় হতে সক্ষম করে।


Natasha Matloobনাতাশা মাতলুব অক্সফোর্ড গ্লোবাল সোসাইটিতে একজন গবেষণা সহকারী। তিনি ইসলামাবাদের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে এমফিল করছেন। ডিপ্লোম্যাট, স্টিমসন সেন্টার, এবং দ্য ফ্রাইডে টাইমসের মতো সংবাদমাধ্যমে তিনি রাজনীতি, মানবাধিকার, ও নিরাপত্তা বিষয়ক নিবন্ধ লিখেন।

 

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

সংবাদ ও বিশ্লেষণ

বছরে অর্থপাচার হয় প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, সাংবাদিকরা যেভাবে প্রতিরোধ গড়তে পারে

অর্থপাচারের একদিকে আইনজীবী, প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর অন্যদিকে অর্থপাচারকারী। এদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা রয়েছে। অর্থ পাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে যেকোনো চেষ্টা করা হলে, সঙ্গে সঙ্গেই তারা নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করে।

সংবাদ ও বিশ্লেষণ

ইরানের স্কুলে বোমা হামলা, যুক্তরাষ্ট্র কেন স্যাটেলাইট ছবিতে গণমাধ্যমের প্রবেশ সীমিত করেছিল

মার্কিন সরকারের অনুরোধে প্ল্যানেট ল্যাবস মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত স্যাটেলাইট চিত্র গোপন রাখছে।  অন্যদিকে একাধিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে টমাহক হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী।]

সংবাদ ও বিশ্লেষণ

কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সত্য বলা: কার্লোস দাদার সাক্ষাৎকার

আমরা অর্থ-সম্পদ ছাড়াই সাংবাদিকতা করছি, কারণ স্বৈরাচারী শাসক সব আর্থিক পথ বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ আমাদের কাছে চাওয়া হচ্ছে বিশাল প্রভাব সৃষ্টিকারী কাজ। যেহেতু পারছি না, তাই আমাদের বদলে এমন কাউকে আনতে চাওয়া হচ্ছে, যাদের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডাকা হয়।

অনুসন্ধান পদ্ধতি সংবাদ ও বিশ্লেষণ

‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট পুতিন’: অস্কারজয়ী এই তথ্যচিত্র দেখে শিখতে পারেন  ছদ্মবেশী সাংবাদিকতা ও গোপনে তথ্য সংগ্রহের কৌশল

এটা আমি—পাশা তালানকিন। এই মুহূর্তে আমি একদমই জানি না, নিজের জন্য কত বড় ঝামেলা ডেকে আনতে যাচ্ছি।
এভাবেই শুরু হয় অসাধারণ গল্পটি। তিনি রাশিয়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ একজন শিক্ষক। যিনি পরে হয়ে ওঠেন একজন হুইসেলব্লোয়ার। তিনি ঝুঁকি নিয়ে রুশ স্কুলগুলোর সামরিকীকরণের চিত্র, ক্যামেরাবন্দি করে গোপনে বাইরে পাঠান।