প্রবেশগম্যতা সেটিংস

ছবি: স্ক্রিনশট, জেইটিজেডটি

লেখাপত্র

বিষয়

গুপ্তচরবৃত্তি, মিথ্যা ও ‘ডার্টি ওয়াটার’: অস্ট্রিয়ার নতুন অনুসন্ধানী দলের সঙ্গে আলাপচারিতা

আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:

অস্ট্রিয়ায় মতো দেশে একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলার কাজটি মোটেও সহজ নয়। বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে সমর্থন করে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাটা বেশ কঠিন। রয়েছে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রিয়াই সবার শেষে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করে। যা কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে।

সংবাদমাধ্যমের ছোট্ট এই বাজারটি আবার শক্তিশালী সব ট্যাবলয়েড পত্রিকার দখলে। ভিয়েনাভিত্তিক স্বাধীন অনুসন্ধানী বার্তাকক্ষ এবং জিআইজেএন সদস্য ডসিয়েরের অনুসন্ধানে ‘ইনসেরেট’ বা সরকারি বিজ্ঞাপন ও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের চর্চার বিষয়টি উঠে আসে। এই প্রথা অনুসারে সরকার বিভিন্ন পত্রিকায় বড় অংকের বিজ্ঞাপন দেয়। ডসিয়ারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চর্চা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক। আর এর ফায়দা নেয় রাজনৈতিক নেতারা। তারা স্বাধীন পত্রিকাগুলোকে কোনো “বিজ্ঞাপন না দিয়ে অর্থকষ্টে রাখার” মাধ্যমে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করেন। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক ২০২৬-এ উল্লেখ করা হয়েছে, “অস্ট্রিয়ায় উদীয়মান সংবাদমাধ্যমের জন্য—বিশেষ করে ডিজিটাল পরিসরে—সহায়তার প্রায় পুরোপুরি অভাব রয়েছে।”

যে দেশে গোপনে এত গুপ্তচরবৃত্তি ও কূটকৌশল চলে, সেখানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ঘাটতি থাকার মানে হলো—অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা খবর প্রকাশ না হওয়া। বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক এবং আইনি ফাঁকফোকরের কারণে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা গুপ্তচরদের একটি বড় আস্তানা বা ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে, যা এরইমধ্যে প্রমাণিত। সম্প্রতি রাশিয়ার গুপ্তচরবৃত্তি, অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড ও প্রভাব খাটানোর প্রচেষ্টা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি, রাশিয়ার হয়ে গোপনে কাজ করার অপরাধে সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বহুল আলোচিত বিচার প্রক্রিয়া ও কারাদণ্ড প্রাপ্তির ঘটনা দেশটির সরকারকে একটি নতুন আইন প্রণয়নের কথা ভাবতে বাধ্য করেছে। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। গত মাসে, ভিয়েনায় রুশ কূটনৈতিক ভবনগুলোর ছাদে তথ্য সংগ্রহের জন্য বসানো “অ্যান্টেনার জঙ্গল” বা অসংখ্য স্যাটেলাইট ডিশের কারণে অস্ট্রিয়া সরকার তিনজন রুশ কূটনীতিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করে।

গত বছরের শেষ দিকে অস্ট্রিয়ার নতুন স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি দেশটিতে রাশিয়ার আরেকটি গোপন তৎপরতা উন্মোচন করে। যেখানে লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ সব অবকাঠামো। ২০২৫ সালের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করা ডিজিটাল সংবাদপত্র ইয়েৎস্ট (“এখন”) তাদের প্রথম অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ তোলে যে, রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউর এক সন্দেহভাজন সদস্য অস্ট্রিয়ার আপার অস্ট্রিয়া প্রদেশের একটি পানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন।

এই অনুসন্ধানে সহায়তা করেন বুলগেরিয়ার অনুসন্ধানী সাংবাদিক ক্রিস্তো গ্রোজেভ। তিনি ইয়েৎস্টের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে বেলিংক্যাটের রাশিয়াবিষয়ক প্রধান অনুসন্ধানকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যে নভিচককে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় জড়িত জিআরইউ এজেন্ট এবং ২০২০ সালে আলেক্সেই নাভালনিকে বিষ প্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয় তার নেতৃত্বে।

গ্রোজেভ তার জীবন বৃত্তান্তের পাতায় উল্লেখ করেছেন, অস্ট্রিয়ায় এখনও গুপ্তচরবৃত্তি–সংক্রান্ত অসংখ্য গল্প রয়েছে, যেগুলো উন্মোচনের অপেক্ষায়—বিশেষ করে রাশিয়ার তৎপরতাকে ঘিরে।

ইয়েৎস্ট-এর কর্মীরা। ছবি: ফিলিপ হোরাক, ইয়েৎস্ট

অস্ট্রিয়ার রেডিও সম্প্রচার খাতের উদ্যোক্তা ফ্লোরিয়ান নোভাকগুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকতাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার” লক্ষ্য নিয়ে ইয়েৎস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এর শুরুর লক্ষ্য ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট, কিন্তু স্থানীয় বাজারের তুলনায় উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ। প্রতি মাসে ১৭ দশমিক ৫০ ইউরো (২০ মার্কিন ডলার) করে দিবেন এমন ৫ হাজার সদস্য সংগ্রহ করা। বর্তমানে ইয়েৎস্টের সম্পাদনা দলে ১২ জন সদস্য কাজ করছেন। তারা প্রতিদিন দীর্ঘ আকারের প্রতিবেদন, নিউজলেটার, বৈশ্বিক খবরের বিশ্লেষণ, “বি-সাইড” নামক অডিওবিষয়ক গভীর বিশ্লেষণ অনুষ্ঠান—যেখানে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর বিশ্লেষণ করা হয়—এবং প্রতিটি প্রতিবেদনের একটি উচ্চমানের অডিও সংস্করণ প্রকাশ করেন। অস্ট্রোপপ সংগীত থেকে শুরু করে তাদের কভারেজের পরিধি বৈশ্বিক সংবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত।  সময় ও অন্যান্য সংস্থানের ব্যবস্থা হলে তারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাও করেন।

ডার্টি ওয়াটার

ক্রিস্তো গ্রোজেভের সঙ্গে মিলে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক নিকোলাই আতেফিয়ে এবং ইয়েৎস্টের সম্পাদক ইভা প্লাঙ্ক তৈরি করেন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ডার্টি ওয়াটার যা পরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আতেফিয়ে বলেন, গ্রোজেভ তাদের এমন সব “স্মোকিং গান” বা শক্ত প্রমাণের দিকে চোখ রাখতে সাহায্য করেছিলেন, সময় বা সম্পদের অভাবের কারণে তিনি নিজে সে কাজগুলোতে হাত দিতে পারেননি।”

সেই তথ্যটি ছিল সের্গেই কে. নামের একজন ব্যক্তির পাসপোর্ট সংক্রান্ত। রুশ গোয়েন্দা সংস্থার ব্যবহৃত সরকারি পরিচয়পত্রের সঙ্গে তথ্যগুলোর মিল ছিল এবং তা ব্যবহার করে ওই ব্যক্তি একাধিকবার অস্ট্রিয়ায় ভ্রমণ করেন।

প্লাঙ্ক এবং আতেফিয়ে এরপর খুঁজে বের করেন যে সের্গেই কে. কীভাবে একটি সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। এর মধ্যে ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুডো নিয়ে ইমোজি-ভরা মন্তব্য বিনিময় এবং মস্কোতে আসার আমন্ত্রণ। এই যোগাযোগ তিনি করেছিলেন এমন এক কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে, যিনি একটি বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। যার তৈরি প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য বর্জ্য পানি পরিশোধনে ব্যবহৃত হয়। অনুসন্ধানে তারা আরও দেখতে পান, সের্গেই কে. নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের রাশিয়া ও বেলারুশ শাখার জন্য একজন বর্জ্য পানি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন। কিন্তু অনুসন্ধান চলাকালে তারা জানতে পারেন, ওই প্রতিষ্ঠানের কথিত “ইউরেশিয়ান প্রতিনিধির” আসলে কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এমনকি সের্গেই কে.-এর কভার স্টোরিকে সমর্থন করা নকল (ক্লোন) ওয়েবসাইটগুলোও পরে মুছে ফেলা হয়েছে।

সের্গেই কে. নিজের পরিচয়ে (উপরের ছবিতে) এবং কথিত একজন গোয়েন্দা এজেন্ট হিসেবে ভ্রমণ করেন। দুইটি পাসপোর্টই দেখতে একেবারে একই। ছবি: স্ক্রিনশট, ইয়েৎস্ট

“সের্গেই কে. সম্ভবত কোনো সাধারণ পর্যায়ের রুশ গুপ্তচর নন,” তারা লেখেন। “আমাদের সহকর্মী ক্রিস্তো গ্রোজেভের গবেষণা অনুযায়ী, ধারণা করা হয় তিনি ইউনিট ২৯১৫৫-এর সদস্য। এই ইউনিট শুধু বিদেশে গুপ্তচরবৃত্তিই করে না, কৌশলগত কোম্পানিতে অনুপ্রবেশ, নতুন এজেন্ট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণও চালায়, পাশাপাশি হত্যাকাণ্ড ও বিষপ্রয়োগের ঘটনাতেও এদের সম্পৃক্ততা থাকে।”

“সের্গেই কে.-এর সঙ্গে যোগাযোগের তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে স্থানীয় কিছু তথ্যের সহায়তায় তারা অস্ট্রীয় প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।

জিআইজেএন সম্প্রতি আতেফিয়ে এবং প্লাঙ্কের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সেখানে ক্রিস্তো গ্রোজেভের সঙ্গে সহযোগিতা, অস্ট্রিয়ায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ এবং কেন ভিয়েনা এখনো ইউরোপের গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র—এই বিষয়গুলো উঠে আসে।

সাক্ষাৎকারটি সুষ্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য সম্পাদিত ও পরিমার্জন করা হয়েছে।

জিআইজেএন: আপনারা কীভাবে ইয়েৎস্টের অনুসন্ধানী দলটি গড়ে তুললেন? আপনাদের কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বলবেন?

ইভা প্লাঙ্ক: শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি নতুন মানসম্মত প্রকাশনার পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকেও সহায়তা করা হবে। তবে পুরোপুরি অনুসন্ধানী মাধ্যম হওয়ার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। যদিও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ইয়েৎস্ট-এর একটি অংশ। আমরা অবশ্যই একটি ছোট দল, যার মানে আমাদের সম্পদ সীমিত—এটা আমরা দ্রুতই বুঝতে পেরেছিলাম। অবশ্য শুরুতেই এটা আমরা জানতাম, কিন্তু এই ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করতে সময় এবং দলগত কাজের প্রয়োজন হয়।

নিকোলাই আতেফিয়ে: আমি একজন ফ্রিল্যান্স কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করি। বিশেষ করে প্রকল্প অনুযায়ী, যখন আমি মনে করি পর্যাপ্ত সম্পদ আছে বা পর্যাপ্ত সম্পদ পাওয়া যাবে। যেমন, কিট্সবিউয়েল গল্পটি [টাইরোলের একটি স্কি রিসোর্টে উল্লেখযোগ্য রিয়েল এস্টেট লেনদেন নিয়ে] একটি খুব ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছিল। এটি দুই ভাগে প্রকাশিত হয়, এবং প্রথম অংশের তুলনায় দ্বিতীয় অংশটিতে আরও গভীর অনুসন্ধান চালানো হয়। দুইটি অংশই আমাদের চমৎকার দুইজন সহকর্মী লিখেছিলেন।

প্রতিদিন একটি দীর্ঘ আকারের প্রতিবেদন প্রকাশ করার যে চাপ থাকে, তা বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমাদের সম্ভবত অনেক অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তুলনায় একটি গল্পে কাজ করার জন্য বেশি সময় থাকে, তবে আমার দৃষ্টিতে এখনও যথেষ্ট সময় পাওয়া যায় না…

ইপি: আর অবশ্যই, এরপর থাকে অডিও সংস্করণ [প্রতিটি প্রতিবেদনের অডিও ভার্সন]। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা শুধু টেক্সট পড়ে শোনাতে চাই না। আমরা এটিকে ভালো একটি স্ক্রিপ্টে রূপান্তর করতে চাই, সুন্দর টোন ও সাউন্ড ব্যবহার করতে চাই, যাতে এটি পডকাস্টের মানের হয়।

জিআইজেএন: ইয়েৎস্টের অনুসন্ধানী কাজে ক্রিস্তো গ্রোজেভের ভূমিকা নিয়ে কী একটু বলবেন? তার স্টাফ পেজে, উদাহরণ হিসেবে, ওএসআইএনটি প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ আছে।

ইপি: আমরা তার সঙ্গে সরাসরি কোনো প্রশিক্ষণ সেশন করি না। বরং আমরা ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি এবং তথ্য আদান-প্রদান করি।

ইয়েৎস্টের সম্পাদক ইভা প্লাঙ্ক। ছবি: ইয়েৎস্ট-এর সৌজন্যে

এনএ: অবশ্যই, ক্রিস্তো গ্রোজেভের সঙ্গে কাজ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। অস্ট্রিয়ায় এখনো খুব কম মানুষ আছেন যারা বোঝেন যে এখানে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান করা সম্ভব। তাই আমরা তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে খুবই আনন্দিত। আসলে এটি একটি দারুণ সহযোগিতা। কারণ তিনি অনেক সময় এমন “স্মোকিং গান” বা শক্ত প্রমাণ দেন, যেগুলো তিনি নিজে সময় বা সম্পদের অভাবে অনুসন্ধান করে সামনে আনতে পারেন না। এটা সত্যিই একটি শক্তিশালী পারস্পরিক সহযোগিতা।

ইপি: তিনি সাধারণত বড় পরিসরে—বিশ্বব্যাপী বা ইউরোপীয় পর্যায়ে—গল্পগুলো ভাবেন। কিন্তু তিনি আমাদের অস্ট্রিয়া-সম্পর্কিত কোনো বিষয়ের দিকে নজর দেওয়ার ইঙ্গিত দেন, এরপর আমরা তা নিয়ে অনুসন্ধান করি।

জিআইজেএন: এই অনুসন্ধানের পদ্ধতি সম্পর্কে বলবেন কি? অথবা প্রকাশ পরবর্তী কোনো নতুন তথ্য আছে কি? আপনি বলেছিলেন, প্রতিবেদন প্রকাশের পর অস্ট্রিয়ার কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া খুব একটা সন্তোষজনক ছিল নাএতে কি কোনো কিছুর পরিবর্তন হয়েছে?

ইপি: এটা সত্য যে কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে তেমন কিছুই করেনি। শেষ পর্যন্ত, আমাদের গবেষণার কারণেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয় যে কোনো অনুসন্ধানের প্রয়োজন আছে কি না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অনুসন্ধানই শুরু হয়নি।

এনএ: আমরা বেশ ভালো একটি কৌশল ব্যবহার করি। যা আমি আমার আগের আরেকটি অনুসন্ধান থেকে কিছুটা শিখেছিলাম। সেটিও ঘটনাচক্রে হয়েছিল। আমরা খুব করে প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলাম, কিন্তু তার নম্বর আমাদের কাছে ছিল না। তাই আমি খুঁজে বের করি তার প্রতিবেশীরা কারা এবং তাদের কাছ থেকে নম্বর পাওয়া যায় কি না…

এরপর আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলি এবং [অস্ট্রীয়] আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলি… এটা ছোট, খুবই অস্ট্রিয়াভিত্তিক একটি কৌশল, কিন্তু কাজে এসেছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা তার নম্বর পেয়ে যাই।

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক নিকোলাই আতেফিয়ে। ছবি: ইয়েৎস্টের সৌজন্যে

আমরা এটাও নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম যে ওই প্রকৌশলী ব্যক্তিটি যেন বুঝতে পারেন যে তার কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য আমাদের নেই। কিন্তু অস্ট্রিয়ায় অনেক মানুষই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করার বিষয়ে খুব একটা অভিজ্ঞ নন। সাধারণত প্রতিষ্ঠানগুলোর হয়ে একজন মুখপাত্র কথা বলেন। ফলে সাধারণ মানুষের সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ খুব কম হয়। সুইডেনের মতো দেশে পরিস্থিতি ভিন্ন—সেখানে মানুষ সাংবাদিকদের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি যোগাযোগ করে।

আর যখন কেউ আপনাকে নিয়ে বা আপনার জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে—এমন কোনো বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। সাংবাদিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে বিষয়টি স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে তুলে ধরা। কিন্তু তিনি হয়তো তা জানেন না। তিনি হয়তো ভাবতে পারতেন, আমরা কোনো চটকদার ট্যাবলয়েড পত্রিকার মতো কাজ করছি। তাছাড়া, আমরা যখন এই অনুসন্ধানের কাজটি শুরু করি তখনও কিন্তু আমাদের সংবাদমাধ্যমটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেনি। তাই আমরা তাকে পরিষ্কারভাবে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে আমরা বিষয়টি ন্যায্য পেশাদার উপায়ে পরিচালনা করব। তাই আমরা তার জন্য একটি ভয়েস মেসেজও দিয়ে রাখি।

শেষ পর্যন্ত তিনি ইমেইলের মাধ্যমে জবাব দেন। আমাদের কাছে যা পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল। তখন আমরা আরও একবার বুঝতে পারি যে অনেক মানুষই জানেন না, সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বা ধরনের অনুসন্ধানী কাজ আসলে কীভাবে পরিচালিত হয়।

জিআইজেএন: অস্ট্রিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তি এবং রাশিয়ার কার্যক্রম নিয়ে অনেক অনুসন্ধানী গল্প রয়েছে। আপনি কি বিষয়ে আরও বিস্তারিত বলবেন?

এনএ: অস্ট্রিয়ায় অন্য দেশের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করা আইনত অপরাধ নয়। আইন অনুযায়ী শুধু অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করাই স্পষ্টভাবে অবৈধ। এ কারণেই অস্ট্রিয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে খুবই আকর্ষণীয় একটি জায়গা।

ইপি: আর এখানে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থারও সদর দপ্তরও রয়েছে।

এনএ: আমাদের ধারণা, অস্ট্রিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এসব ঘটনার ক্ষেত্রে খুব বেশি কিছু করছে না—শুধু দেখে যাচ্ছে বা বড়জোর দূর থেকে নজর রাখছে। কিংবা তারা অনেক কিছুই জানে না। ফলে অস্ট্রিয়ায় অনেক কিছুই ঘটছে কিন্তু অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চোখে এসব ঘটনা খুব সাধারণ বা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেও মনে হতে পারে।

এখানে উদ্বেগের অনেক কিছুই আছে। বাস্তবে আমাদের হাতে যত রিপোর্ট করার মতো ঘটনা আছে, তার তুলনায় সাংবাদিকের সংখ্যা অনেক কম—বিষয়টি এভাবেও বলা যায়।

এপ্রিলের শেষ দিকে জানা যায়, অস্ট্রিয়ার চরম ডানপন্থী দল এফপিও-র সংসদ সদস্যদের ১০ জনেরও বেশি স্টাফকে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ডিএসএন নজরদারিতে রেখেছে। কারণ, তারা আইডেন্টিটারিয়ান নামের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যাকে ডিএসএন ডানপন্থী চরমপন্থী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই প্রতিবেদনটি অস্ট্রিয়ার সব গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়নি। কিন্তু পশ্চিম ইউরোপের অন্য কোনো দেশে হলে যা বড় ধরনের কেলেঙ্কারি হিসেবেই বিবেচিত হতো। কিন্তু অস্ট্রিয়াতে এমন হয় না। কারণ এখানে কেউ যখন আগে কোনো বিষয় প্রকাশ করে ফেলে, তখন অন্য মিডিয়া তা আর গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে না বা তাদের কৃতিত্ব দিতে চায় না। আমাদের নিজেদের অনুসন্ধানী কাজের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা হয়েছে। যেমন “ডার্টি ওয়াটার” প্রতিবেদনটি এএফপি নেয়ার করার কারণে সাতটি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রিয়ায় সেটি যতটা কাভার হওয়া উচিত ছিল, ততটা হয়নি।

জিআইজেএন: আপনাদের এবং ইয়েৎস্টের পরবর্তী পরিকল্পনা কী?

ইপি: আমরা অবশ্যই কিছু প্রতিবেদন নিয়ে কাজ করছি…

এনএ: এটা অত্যন্ত কঠিন একটি বাজার। তবে আমাদের একজন গ্রোথ ম্যানেজার আছেন, যিনি আমাদের সাংবাদিকতার বিপণনের দায়িত্বে আছেন—যা সত্যিই ভালো একটি দিক। বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপেও বলা হয়েছে যে এখানে সম্ভাবনা আছে, তবে সত্যি বলতে এটি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।


অ্যালেক্সা ভ্যান সিকল জিআইজেএনের সহযোগী সম্পাদক সাংবাদিক। তিনি ডিজিটাল প্রিন্ট সাংবাদিকতা, প্রকাশনা, এবং আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাঙ্ক অলাভজনক সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। জিআইজেএনে যোগ দেওয়ার আগে তিনি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিদেশি সংবাদ ভ্রমণ ম্যাগাজিন রোডস অ্যান্ড কিংডমসএর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক পডকাস্ট প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া অ্যান্থনি বোরডেইনের জনপ্রিয় টিভি শো পার্টস আননাউন এর সম্পূরক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এক্সপ্লোর পার্টস আননাউন লেখালেখি করতেন।

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

সংবাদ ও বিশ্লেষণ

প্যাট্রিক র‍্যাডেন কিফের নতুন বই ‘লন্ডন ফলিং’ থেকে সাংবাদিকদের জন্য চারটি শিক্ষা

প্যাট্রিক র‍্যাডেন কিফে যখন কোনো গল্পের খোঁজ পান, তখন তিনি সেটির পেছনে লেগে থাকেন, সহজে ছেড়ে দেন না। একের পর এক মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। ততক্ষণ বলতে থাকেন, যতক্ষণ না কথা বলার মতো আর কেউ অবশিষ্ট থাকে। তিনি দাবি যাচাই করার জন্য নথিপত্র ও প্রমাণ খোঁজেন। গল্পের কাঠামো তৈরিতে প্রচুর সময় দেন।  

environmental spill ocean liquid natural gas terminal

পরামর্শ ও টুল সংবাদ ও বিশ্লেষণ

কীভাবে খুঁজবেন, পরিবেশের ক্ষতির পেছনে কে বা কারা জড়িত?

পরিবেশ সম্পর্কিত যে কোন অবৈধ কাজের সঙ্গে অনেক বেশি আর্থিক সংশ্লেষ থাকে। আর তা উন্মোচনের জন্য নিবিড়ভাবে জানতে হয় বিভিন্ন অঞ্চল, আর সেখানকার আইন কানুন, গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরিতে কিছু কৌশল সাংবাদিকদের সাহায্য করতে পারে।

Studio, headphones, microphone, podcast

সংবাদ ও বিশ্লেষণ

ঘুরে আসুন ২০২৩ সালের বাছাই করা অনুসন্ধানী পডকাস্টের জগত থেকে

নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হয়েছে সাড়া জাগানো কিছু অনুসন্ধানী পডকাস্ট। এখানে তেমনই কিছু বাছাই করা পডকাস্ট তুলে এনেছে জিআইজেএনের বৈশ্বিক দল।

সংবাদ ও বিশ্লেষণ সম্পাদকের বাছাই

চিংড়ি চোরাচালান, হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড, তামাক শিল্পের ক্ষতিকর প্রভাব: চীন, হংকং ও তাইওয়ানের ২০২৩ সালের সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

অনেক বাধাবিপত্তি ও চ্যালেঞ্জের মুখেও চীন, হংকং ও তাইওয়ান থেকে ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে প্রভাব তৈরির মতো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। এমনই কিছু প্রতিবেদন জায়গা করে নিয়েছে জিআইজেএনের সম্পাদকের বাছাইয়ে।