জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জনেরও কম প্রকাশিত সংবাদের ওপর আস্থা রাখেন। ছবি: ২০২৬ রয়টার্স ইনস্টিটিউট ডিজিটাল নিউজ রিপোর্টের স্ক্রিনশট
রয়টার্স ইনস্টিটিউটের ডিজিটাল নিউজ রিপোর্ট: সামাজিক মাধ্যম-ভিডিও নির্মাতা-এআই চ্যাটবটের উত্থান, অন্যদিকে সংবাদ মাধ্যমের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আস্থার পতন
আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:
রয়টার্স ইনস্টিটিউটের ডিজিটাল নিউজ রিপোর্টের ১৫তম সংস্করণে উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমের অস্থির পরিবেশের তথ্য। যেখানে বলা হয়েছে, মানুষের সংবাদ গ্রহণের অভ্যাসের ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটছে। আর ভূমিকা বাড়ছে তৃতীয় পক্ষীয় মধ্যস্থতাকারীদের। একই সঙ্গে সংবাদ ঘিরে ক্রমশ আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। গণমাধ্যমের সততা ও নির্ভুলতার প্রতিও আস্থা কমছে। তবে পাঠকেরা এখনো সংবাদের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতাকে মৌলিক মূল্যবোধ হিসেবেই উল্লেখ করছেন। তারা মনে করেন, এটি সমাজের জন্য অপরিহার্য।
“রয়টার্সের প্রতিবেদনের নির্বাহী সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, চলতি বছরের রিপোর্টের কিছু অংশ পড়তে খানিকটা অস্বস্তিকর লাগতে পারে। তবে সংবাদমাধ্যম খাত আর সমগ্র বিশ্ব—উভয়ই এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। “এই বছরের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘প্ল্যাটফর্মাইজেশন’ প্রবণতা বৃদ্ধি।” (প্ল্যাটফর্মাইজেশন বলতে সাধারণত বোঝানো হয় যে সংবাদ উৎপাদন, বিতরণ এবং গ্রহণের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা চ্যানেলের বদলে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।) “জরিপকৃত বাজারগুলোর গড় হিসাবে, প্রথমবারের মতো খবরের উৎস হিসেবে টেলিভিশন এবং সংবাদ মাধ্যমের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও অ্যাপ—এই দুই মাধ্যমের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও ভিডিও নেটওয়ার্কগুলো বেশি জনপ্রিয়।”
তথ্য পাওয়ার নতুন মাধ্যম হিসেবে এআই চ্যাটবট ব্যবহার নিয়েও পরীক্ষানিরীক্ষাও করছেন অনেকে। আর সে সংখ্যাটা মোটেও কম নয়। অনলাইনে মানুষ এখন খবর পড়ার চেয়ে দেখতে বেশি পছন্দ করছেন। একই সঙ্গে তারা তথ্যের জন্য আরও বৈচিত্র্যময় উৎস ও মতামতের দিকে ঝুঁকছেন। নতুন এসব কনটেন্ট নির্মাতার মধ্যে অনেকে বিশ্বাসযোগ্য, উদ্ভাবনী এবং সংবাদ নির্বাচনের বৈচিত্র্য বাড়াতে ইতিবাচক অবদানও রাখছেন। এই প্রতিবেদনে কনটেন্ট নির্মাতা ও অন্যান্য উদীয়মান সংবাদ উৎপাদনকারীদের উত্থান, পরিবর্তিত এই পরিবেশে তাদের ভূমিকা এবং তাদের কনটেন্টের কোন দিকগুলো দর্শক-শ্রোতারা মূল্যায়ন করেন, তা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রয়টার্স ইনস্টিটিউট দেখতে পেয়েছে, চারটি প্ল্যাটফর্ম থেকে পাঠকদের সংবাদ সংগ্রহের হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে—ওয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, টিকটক এবং ইনস্টাগ্রাম।
ফেসবুক, যা কয়েক বছর ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছিল, ২০২৫ সালের পর থেকে সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে সামান্য পুনরুদ্ধার বা বৃদ্ধি দেখিয়েছে। তবে টুইটার/এক্স, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার এবং স্ন্যাপচ্যাটের ক্ষেত্রে খুব অল্প সংখ্যক ব্যবহারকারীই এগুলোকে সংবাদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সংবাদের উৎস হিসেবে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর উল্লেখযোগ্য কোনো বৃদ্ধি দেখা যায়নি।
তবে প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, “বিভিন্ন দেশে চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা থাকলেও সংবাদমাধ্যমের মৌলিক মূল্যবোধের বিষয়টি আজও প্রাসঙ্গিক। যদিও অনেক দেশে মতামতের ভিন্নতা বা বিভাজন তৈরি হচ্ছে, তবুও নিরপেক্ষতার মতো নীতিগুলোর প্রতি সমর্থন রয়েছে। যদিও পাঠকেরা তাদের বর্তমান সংবাদ বিষয়ক অভিজ্ঞতার কিছু দিক নিয়ে অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন। তবে নতুন বা প্রচলিত— যেকোনো মাধ্যমেই হোক, মানুষ এখনো সংবাদ ও সাংবাদিকতা ঘিরে আগ্রহী।”
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্প্রচার মাধ্যম (পিএমএস) রয়েছে এমন ২৬টি দেশে জরিপ চালানো হয়। জনসেবামূলক সাংবাদিকতা “ইতিবাচক সামাজিক প্রভাব” ফেলে—এমনটাই মনে করেন সেসব দর্শক-শ্রোতারা। একই সঙ্গে একটি বড় অংশ মনে করেন, তাদের নিজ নিজ দেশে পিএসএমের ইতিবাচক বা কার্যকর প্রভাব রয়েছে (৩৭ শতাংশ ইতিবাচক, ২২ শতাংশ নেতিবাচক)।
তবে জরিপে আরও বলা হয় জার্মানি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশে রাজনৈতিক মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর প্রতি জনমত ব্যাপকভাবে ভিন্ন হয়ে থাকে।

২০২৬ সালের রয়টার্স ইনস্টিটিউট ডিজিটাল নিউজ রিপোর্টে দেখা যায়, পাঠক ও শ্রোতারা সাধারণত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রভাব সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে বেশি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন (বাম দিকে)। একই সঙ্গে, জনসেবামূলক মিডিয়া সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ছিল সহজলভ্যতা, আস্থা, গণতন্ত্রকে সমর্থন করার ভূমিকা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা (ডান দিকে)। ছবি: রয়টার্স ইনস্টিটিউটের স্ক্রিনশট।
এই বিভাজনের একটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, খবর শোনা বা দেখার জন্য ক্রমশ সামাজিক মাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতার প্রবণতা বৃদ্ধি। ৪৮টি দেশের মধ্যে ৩০টিতে সংবাদ মাধ্যমের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও অ্যাপের তুলনায় এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম সংবাদ সংগ্রহের জনপ্রিয় উৎস হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের আগ্রহ ও অনলাইন আচরণের ভিত্তিতে তাদের আলাদা আলাদা দলে ভাগ করে ফেলে। এরপর তারা ব্যবহারকারীর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিল আছে এমন আরও কনটেন্ট, যার মধ্যে সংবাদও রয়েছে, তা বেশি করে দেখায়। ফলে মতের বিভাজন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
এদিকে ১৮–২৪ বছর বয়সীদের অর্ধেকেরও বেশি (৫২ শতাংশ) এখন বলছেন, সামাজিক মাধ্যম, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই তাদের সংবাদ সংগ্রহের প্রধান উৎস। পরবর্তী বয়সগোষ্ঠীর (২৫–৩৪ বছর) প্রায় অর্ধেক (৪৪ শতাংশ) একই কথা বলেছেন। গত পাঁচ বছরে এই দুই শ্রেণীর কাছে প্রধান সংবাদ উৎস হিসেবে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। অন্যদিকে, সব বয়সের মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে প্রধান সংবাদ উৎস হিসেবে টেলিভিশন এবং সংবাদ ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে।

৩৫ বছরের কম বয়সীদের প্রতি ছয়জনের একজন জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে তারা সংবাদ পাওয়ার জন্য একটি এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন। এ ধরনের চ্যাটবটের ব্যবহার বিশ্বজুড়েই বাড়ছে। ছবি: রয়টার্স ইনস্টিটিউটের স্ক্রিনশট।
সংবাদের ক্ষেত্রে নতুন হলেও দ্রুত বিকাশমান একটি মাধ্যম হলো এআই চ্যাটবট। যা সংবাদ খোঁজা ও গ্রহণের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনগুলোর জায়গা নিয়ে নিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “চলতি বছরের তথ্য বলছে, সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্রে এআই চ্যাটবটের ব্যবহার বিস্ফোরণধর্মী নয়, বরং দ্রুত গতিতে বাড়ছে।” প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, “বিশ্বব্যাপী সংবাদ পাওয়ার জন্য সাপ্তাহিকভাবে এআই চ্যাটবট ব্যবহারের হার ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ তিন শতাংশ পয়েন্ট করে বৃদ্ধি পেয়েছে।” এআই চ্যাটবটের প্রতি মানুষের বাড়তি আগ্রহের পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত তথ্য দেওয়ার সক্ষমতা, জটিল বিষয় বা দীর্ঘ প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্তসার তৈরি করার সুবিধা, এবং অনুবাদ বা পরবর্তী প্রশ্ন করার মতো ইন্টারঅ্যাকটিভ ফিচার।
এআই চ্যাটবটের ব্যবহার বাড়লে তা সংবাদ ওয়েবসাইটগুলোর ওয়েব ট্রাফিকের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। কারণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের মধ্যে মাত্র ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা চ্যাটবটের দেওয়া উত্তরের সূত্র ধরে সবসময় বা প্রায়ই মূল সংবাদ উৎসে প্রবেশ করেন।
সংবাদের মূল উৎস থেকে সরাসরি সংবাদ গ্রহণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিও মানুষের আস্থা কমছে। এই প্রবণতার একটি কারণ হলো, মানুষ ক্রমেই পরোক্ষভাবে সংবাদ পাচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃতীয় পক্ষের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাওয়া সংবাদের প্রতি মানুষের আস্থা সামগ্রিকভাবে সংবাদের প্রতি তাদের আস্থার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। মাত্র ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তারা সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে পাওয়া সংবাদে আস্থা রাখেন। সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া সংবাদের ক্ষেত্রে এই হার ২২ শতাংশ, আর এআইয়ের উত্তরের মাধ্যমে পাওয়া সংবাদের ক্ষেত্রে তা ২০ শতাংশ।
বিশ্বে বর্তমানে গড়ে ৩৭ শতাংশ মানুষ সংবাদ মাধ্যমের ওপর আস্থা রাখেন। যা ২০২৫ সালের তুলনায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট কম। গত বছর ৪৮টি দেশের মধ্যে ৩৮টি দেশেই সংবাদের ওপর থেকে মানুষের আস্থা কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে ফিলিপাইনসে ( মাইনাস ১০ শতাংশ পয়েন্ট), আয়ারল্যান্ডে ( মাইনাস ৯ শতাংশ পয়েন্ট), পোল্যান্ডে ( মাইনাস ৮ শতাংশ পয়েন্ট), থাইল্যান্ডে (মাইনাস ৮ শতাংশ পয়েন্ট) এবং পেরুতে ( মাইনাস ৮ শতাংশ পয়েন্ট)। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য—উভয় দেশেই মানুষের আস্থা ৫ শতাংশ পয়েন্ট করে কমেছে।
হাতেগোনা কয়েকটি দেশে পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি দেখা যায়। যেমন জার্মানি ও সিঙ্গাপুরে সংবাদ মাধ্যমকে বিশ্বাস করার হার বেড়েছে ১ শতাংশ পয়েন্ট করে। জাপান ও স্পেনে ২ শতাংশ পয়েন্ট করে এবং কেনিয়ায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট আস্থা বেড়েছে।

সংবাদমাধ্যমের ওপর অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক প্রভাব খাটায়— জরিপে অংশগ্রহণকারীরা এমন অনেক পক্ষকে চিহ্নিত করেছেন। ছবি: রয়টার্স ইনস্টিটিউটের স্ক্রিনশট।
এই আস্থাহীনতার পেছনে পক্ষপাত এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক উদ্বেগও ভূমিকা রাখে । জরিপে অন্তর্ভুক্ত ২৬টি দেশের বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ মনে করেন, সংবাদ প্রকাশ ও পরিবেশনে বিভিন্ন পক্ষের অতিরিক্ত প্রভাব থাকে। যেমন, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা করপোরেট প্রতিষ্ঠান (৭০ শতাংশ), সরকার বা রাজনীতিবিদ (৭০ শতাংশ), বিজ্ঞাপনদাতা (৫৯ শতাংশ) এবং বিশেষজ্ঞরা (৫৭ শতাংশ)।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “জেনারেটিভ এআইয়ের দ্রুত বিকাশ ও বিস্তারকে কীভাবে মোকাবিলা করা যাবে—সংবাদমাধ্যমের নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের জন্য এটাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এআই চ্যাটবটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, তবে সাধারণভাবে এআই টুলের ব্যবহার যত দ্রুত বাড়ছে, সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ততটা দ্রুত বাড়ছে না।”
এটি হয়তো একটি ছোট সুযোগ তৈরি করছে, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে এআই প্ল্যাটফর্মগুলো প্রকাশকদের কনটেন্ট ব্যবহার করতে পারবে কি না। যদি পারে, তাহলে এআই চ্যাটবটে সেই কনটেন্ট ব্যবহারের জন্য প্রকাশকদের কীভাবে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে—এসব জটিল বিতরণ-সংক্রান্ত বিষয় সমাধানের পথ খোঁজা যেতে পারে।
তবে প্রতিবেদনে আরো তুলে ধরা হয়েছে, “খবরের ওপর আস্থা ও আগ্রহ দুটোই কমে যাচ্ছে, ভুল তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে; একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, কিছু নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যম খুব বেশি এবং ব্যাপকভাবে আস্থার জায়গা ধরে রেখেছে। বিপুল পরিমাণ কনটেন্টের ভিড়ে তারা আলাদা করে নজর কাড়ছে এবং তাদের নির্দিষ্ট পাঠক-শ্রোতার সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে পারছে।”
শেষ পর্যন্ত এটি ইঙ্গিত দেয়, অনুসন্ধানী ও জবাবদিহিতামূলক সাংবাদিকতার মতো গভীর ও প্রভাবশালী প্রতিবেদন বৃহত্তর পাঠকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে এবং পাঠকের আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “সংবাদমাধ্যম বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের পরিবর্তনকে মানুষকে বুঝতে সাহায্য করতে পারে এবং এমন সমাজ ও পাড়া-মহল্লায় আস্থা গড়ে তুলতে মধ্যস্থতা ও সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারে। যেখানে মানুষ মনে করতে পারে—তাদের মধ্যে মিলের চেয়ে বিভাজনই বেশি।”