প্রবেশগম্যতা সেটিংস

An X-ray shows the lungs of a silicosis patient. The Daily Star dug deep into the court rulings against compensation claims filed by patients with the incurable disease. Photo: Zyma Islam/The Daily Star

লেখাপত্র

সম্পাদকের বাছাই: বাংলা-ভাষী অঞ্চলে ২০১৯ সালের সেরা অনুসন্ধান

English

আন্তসীমান্ত অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের শ্রম-দাসত্ব উন্মোচন, ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্তদের স্বঘোষিত হত্যাকারীর খোঁজ, দুরারোগ্য সিলিকোসিসে আক্রান্ত পাথরভাঙা শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের দাবি আদালতে নাকচ হবার পেছনের গল্প, কিংবা সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম-অপচয়ের প্রবণতা নতুন করে সামনে নিয়ে আসা “বালিশকাণ্ড” – ২০১৯ সালে এমনসব প্রতিবেদন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে আলোচনায় রেখেছে  বিশ্বের বাংলা-ভাষী অঞ্চল, বিশেষ করে বাংলাদেশে।

বছরটি এই অঞ্চলের সাংবাদিকদের জন্য বেশ কঠিন ছিল। অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। স্ব-আরোপিত নিয়ন্ত্রণ, চাপ বা অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে পেশাই ছেড়ে দিয়েছেন। পাঠকের আস্থাহীনতা, আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে গণমাধ্যমের আয় কমে যাওয়াও বড় বাধা হয়ে ছিল বছরজুড়ে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানও নেমে গেছে ১৫০-এ (১৮০টি দেশের মধ্যে)। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংবাদিকরা আলোচিত রিপোর্ট জন্ম দিয়ে গেছেন; তুলে এনেছেন অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য; জবাবদিহি করেছেন ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে।

এর পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক টাইমস, বিবিসি ও ভাইস-সহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও দৃষ্টি ছিল এই অঞ্চলের দিকে। তারা মানব পাচার, শিশুদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি ও অভিবাসন নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

২০১৯ সালে, এই অঞ্চলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যেসব প্রতিবেদন, এখানে থাকছে তার মধ্য থেকে বাছাই করা কয়েকটি।

মালয়েশিয়ায় শ্রমদাসত্ব

দাসত্ব ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর জঙ্গলে দিন কাটাচ্ছেন অভিবাসী শ্রমিকরা। ছবি: মালয়েশিয়াকিনি ও কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা দৈনিক কালেরকণ্ঠ এবং মালয়েশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন মালয়েশিয়াকিনির এই যৌথ অনুসন্ধান উন্মোচন করেছে – কীভাবে হাজারো বাংলাদেশী শ্রমিক সেখানে আটকে পড়েছেন নব্য-দাসত্বের জালে। বছরের অন্যতম আলোচিত এই অনুসন্ধানে তারা তুলে এনেছেন, দাসত্বের এই চক্রের পেছনে থাকা কোম্পানিগুলোকেও।

১০টিরও বেশি রিপোর্টের এই সিরিজে কালেরকণ্ঠ দেখিয়েছে, কীভাবে এক কোম্পানি থেকে আরেক কোম্পানিতে ভাড়া খাটানো হচ্ছে শ্রমিকদের, দেয়া হচ্ছে চুক্তির চেয়ে কম মজুরি, বাধ্য করা হচ্ছে অমানবিক পরিবেশে থাকতে, আর কেড়ে নেয়া হচ্ছে পাসপোর্ট যাতে তারা পালাতে না পারেন।

এই অনুসন্ধান করতে গিয়ে কালেরকণ্ঠ দুই সরকারের মধ্যকার জিটুজি প্লাস চুক্তির অধীনে পাঠানো শ্রমিকের প্রতিটি চালানের একটি ডেটাবেস তৈরি করে। তারা দেখায়, শত কোটি ডলারের এই বাণিজ্যে, ২ লাখ ৭৩ হাজার শ্রমিক থেকে কোন রিক্রুটিং এজেন্সি কত মুনাফা তুলে নিয়েছে। এই কাজের অংশ হিসেবে একশ’র বেশি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে কালেরকণ্ঠ; বক্তব্যের সমর্থনে প্রমাণ হিসেবে সংগ্রহ করেছে শ্রমিকদের পে-স্লিপ, ভিসার কপি, চুক্তির নকল, ছবি আর ভিডিও। তারা বিশ্লেষণ করেছে অন্তত ৩০টি কোম্পানির রেকর্ড, যাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা ও শোষণের অভিযোগ আছে। তাদের এই ধারাবাহিকে উঠে এসেছে, দুই সরকারের নীতিমালা অবহেলা কীভাবে টিকিয়ে রেখেছে দাসত্বের এই কাঠামো, যার অনিবার্য ফল হিসেবে প্রতিদিন গড়ে দুই জন শ্রমিক লাশ হয়ে ফিরেছে মালয়েশিয়া থেকে।

মালয়েশিয়ায় কোম্পানিগুলোকে নিয়ে সরেজমিন খোঁজ এবং কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎকার নিয়ে এই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মালয়েশিয়াকিনি। তারাও চার পর্বের একটি ধারাবাহিক প্রকাশ করেছে।

এই অনুসন্ধানের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয়েছে সরকারি তদন্ত, পুলিশ তল্লাশী চালিয়েছে অভিযুক্ত কোম্পানিতে, আর দুই দেশের সরকার থেকে তাদের নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি এসেছে।

তাঁরা বিশেষ বক্তা

গেল ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) গোটা দেশের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন করে। দেশটির শীর্ষ দৈনিক, প্রথম আলো অনুসন্ধান করে দেখতে পায়, ইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা “বিশেষ বক্তা” হিসেবে এইসব প্রশিক্ষণ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়েছেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি তাদের কাজেরই অংশ হবার কথা।

কমিশন সচিবালয় থেকে সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথম আলো দেখতে পায়, মাত্র ১৮ দিনে বিশেষ এই বক্তারা দেশের ৫২০টি জায়গায় বক্তব্য রেখেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদের মধ্যে চারজন বিশেষ বক্তার প্রতিটি প্রশিক্ষণে উপস্থিত থাকার কথা; যার মানে, তাদেরকে একই দিনে ১৪ জায়গায় কথা বলতে হবে। এই অনুসন্ধানে নথিপত্র পেতে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করেছেন প্রথম আলোর প্রতিবেদক। বিশ্লেষণ করেছেন, সেই সময়ে কমিশন কর্মকর্তাদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরও। তাদের এই অনুসন্ধান বাংলাদেশে বেশ সাড়া ফেলে।

যখন নিরাশ করে আদালত

উপযুক্ত মুখবন্ধনীর অনুপস্থিতিতে, পাথর ভাঙার সময় মুখে ওড়না জড়িয়ে নিয়েছেন এক শ্রমিক। ছবি: দ্য ডেইলি স্টার

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ইংরেজী দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারএই অনুসন্ধানে খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছে, ফুসফুসের ব্যাধি সিলিকোসিসে আক্রান্ত ৬৫ জন পাথর-ভাঙ্গা শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের আবেদন, আদালতে কেন নাকচ হলো। তারা সবাই কাজ করতেন উত্তরের জনপদ বুড়িমারিতে, যার অবস্থান ভারতের কুচবিহার সীমান্তের কাছে।

এই ৬৫টি আবেদনের মধ্যে ৫৬টিই বাতিল হয়। তাদের এক আইজনীবি জানান, নাকচের মূল কারণ, “আদালতে আবেদনকারীদের অনুপস্থিতি।” এই অনুসন্ধানে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদকরা আদালতের নথিপত্র খতিয়ে দেখেন, ভুক্তভোগীদের বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলেন, সাক্ষাৎকার নেন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের। তারা দেখতে পান, আদালতটি অসুস্থ শ্রমিকদের আবাসস্থল থেকে সাড়ে আট ঘন্টার দূরত্বে। দেখা যায়, আবেদনকারীদের অনেকে এতই অসুস্থ যে তাদের আদালতে যাবার শক্তি নেই, কেউ কেউ বলেন তারা শুনানিতে অংশ নেয়ার কোনো নোটিসই পাননি, আবার কেউ বলেছেন তারা গিয়েছেন ঠিকই কিন্তু তারপরও আবেদন নাকচ হয়েছে।

ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনটিতে উঠে আসে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আদালত ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়ার পরও কোম্পানিগুলো পাত্তা দেয়নি। খবরটি প্রকাশিত হবার পর, আইনী সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিকে যাচাই করে দেখতে শুরু করেছে। তারা দাবিগুলো নিয়ে ফের আদালতে যাবার কথাও জানিয়েছে।

বালিশকাণ্ড

ক্রয় করা কিছু গৃহসামগ্রীর তালিকা। সূত্র: দেশ রূপান্তর

রাজধানী ঢাকা থেকে ২১৬ কিলোমিটার দূরে, রূপপুরে নির্মান করা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার কাছ থেকে ১২৬৫ কোটি ডলার অর্থসাহায্য নিয়ে নির্মানাধীন এই প্রকল্প আগে থেকেই সমালোচিত ছিল ব্যয়বহুল হিসেবে। কিন্তু তুলনামূলক নতুন বাংলা দৈনিক, দেশ রূপান্তর যা উন্মোচন করেছে, তেমনটা কেউই কল্পনা করেনি। এটা ছিল এবছরের সবচেয়ে আলোচিত খবর

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের জন্য বানানো হচ্ছিল মোট ১৯টি আবাসিক ভবন। এগুলোর মধ্যে কিছু ভবনের কাজ শেষপর্যায়ে চলে আসায়, গণপূর্ত অধিদপ্তর কিছু আসবাবপত্র ও অন্যান্য গৃহসামগ্রী কিনেছিল। দেশ রূপান্তরের হাতে চলে আসে সেগুলো ক্রয়ের কিছু চুক্তিপত্রের কাগজ। সেখান থেকে দেখা যায়, একটি বৈদ্যুতিক কেটলি কেনা হয়েছিল ৫,৩১৩ টাকায় (প্রায় ৬২ ডলার)। কিন্তু সেটা ভবনে ওঠানোর জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ২,৯৪৫ টাকা (৩৪ ডলার)।

অবশ্য সামগ্রীর চড়া দামের চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে সেগুলো ভবনে ওঠানোর জন্য তাক লাগানো খরচের কারণে। রিপোর্টে দেখা যায়: অন্তত ৫০টি সামগ্রী বহনের খরচ, তাদের ক্রয়মূল্যের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ। উপকরণ অনেকই ছিল, কিন্তু পাঠকদের মনে নাড়া দিয়েছে “বালিশ।” নথিপত্র থেকে দেখা যায়, একটি বালিশ ভবনের নিচ থেকে ওপরে ওঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। এই খবর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় “বালিশকাণ্ড” হিসেবে।

পরবর্তীতে এ নিয়ে তদন্ত করে কর্তৃপক্ষ। দেখা যায় এসব কেনাকাটায় অনিয়ম করা হয়েছে (যার অর্থমূল্য ৪২ লাখ ডলার)। এবং বহিস্কার করা হয় ১৬ জন কর্মকর্তাকে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর, অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোও এজাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে সরকারি তহবিলের টাকা নয়ছয় নিয়ে। সে সব ঘটনা বালিশকান্ডের চেয়ে ছোট নাকি বড়, এমন তুলনামূলক বিচারও শুরু হয় এক পর্যায়ে।

এমপির পরীক্ষা

পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল-পরীক্ষার্থীর মুখোমুখি প্রতিবেদক। স্ক্রিনশট: নাগরিক টিভি ইউটিউব চ্যানেল

বছরের আরেকটি আলোচিত অনুসন্ধান ছিল, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্যের পরীক্ষা কেলেংকারি নিয়ে। তিনি, তার হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ভাড়া করেন কয়েকজন নারীকে। বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভির প্রতিবেদক হাতে নাতে ধরে ফেলেন এমন পরীক্ষার্থীকে, যিনি সেই সংসদ সদস্যের হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পরীক্ষাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন সংসদ সদস্যের এক সহযোগীর সঙ্গে। প্রকাশের পরপরই এই প্রতিবেদনটি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করছিলেন সেই সংসদ সদস্য। অনুসন্ধান থেকে দেখা যায়, ১৩টি পরীক্ষার একটিতেও তিনি নিজে অংশ নেননি। তাঁর বদলে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ভাড়া করেছিলেন ৮ জন নারীকে। একেক দিন একেকজনের উপস্থিতি প্রমাণ করতে  পরীক্ষার সিগনেচার শিট সংগ্রহ করেছিলেন এই প্রতিবেদক। সেখানে দেখা যায় একেক দিন একেক রকম সাক্ষর করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর, সেই সংসদ সদস্যকে বহিস্কার করা হয় শিক্ষা কার্যক্রম ও সরকারী দল থেকে। প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নজর কেড়েছিল

“হারকিউলিসের” খোঁজে

প্রথম আলোর ইলাস্ট্রেশন

জানুয়ারির শেষ ও ফেব্রুয়ারির শুরুতে, মাত্র দুই সপ্তাহে, বাংলাদেশে এক অজ্ঞাত হামলাকারী হত্যা করে তিন অভিযুক্ত ধর্ষণকারীকে। আর নিহতের শরীরের পাশে রেখে যায় একটি চিরকুট। তাতে লেখা, “আমি [ধর্ষণের শিকার]-এর ধর্ষণকারী। এটাই আমার পরিণতি।” প্রতিটি নোটের শেষে লেখা ছিল, “হারকিউলিস” – সেই রোমান দেবতা, যিনি দৈত্যদানোর সঙ্গে লড়াই করতেন।

দৈনিক প্রথম আলো বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম আলোর রিপোর্টার সাক্ষাৎকার নেন প্রত্যক্ষদর্শীদের, সংগ্রহ করেন সেই গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের ছবি যেটিতে করে হত্যার শিকার এক ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গাড়ি নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখে এর মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হন প্রতিবেদক। অভিযুক্ত ধর্ষণকারীদের খোঁজখবর জানতে হত্যাকারী কী ধরনের নজরদারি কৌশল ব্যবহার করেছিল, তাও পরীক্ষা করে দেখেছে প্রথম আলো। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, গাড়িটি একটি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদর দপ্তরের অধীনে আছে। তাদের অন্য তথ্যপ্রমাণও একই দিকে নির্দেশ করে। পত্রিকাটি তাদের প্রতিবেদনে সেই সংস্থার নাম উল্লেখ করেনি।

তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে, হারকিউলিসকে আর দেখা যায়নি।

যেভাবে কেড়ে নেয়া হয় নাগরিকত্ব

স্বামী সঙ্গে নিজের একটি পুরোনো ছবি ধরে আছেন লিলিমা বেগম, যাঁকে আদালত ঘোষণা করেছে একজন বিদেশী হিসেবে। সূত্র: টাইপ ইনভেস্টিগেশনস

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ইংরেজীতে, একটি বিদেশী গণমাধ্যমে। কিন্তু ভারতের আসামে থাকা লাখ লাখ বাঙালির জন্য এর গুরুত্ব অনেক। টাইপ ইনভেস্টিগেশন ও এর সহযোগী ভাইস এই অনুসন্ধান চালিয়েছে আসামের বাঙালিদের ভাগ্য নিয়ে, যেখানে “অস্বচ্ছ একটি বিচারিক ব্যবস্থার” মধ্য দিয়ে তাদের অনেককে ঘোষণা করা হচ্ছে বিদেশী হিসেবে। ফরেনার ট্রাইব্যুনাল নামে পরিচিত এই আদালতের দেওয়া ৫০০ রায় বিশ্লেষণ করে রিপোর্টাররা দেখেছেন, ১০টি রায়ের নয়টিই গেছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে। তাঁদের প্রায় ৯০ শতাংশকেই ঘোষণা করা হয়েছে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে। এর বিপরীতে হিন্দু জনগোষ্ঠীর মানুষদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশকে ঘোষণা করা হয়েছে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে। এসব রায়ের চারভাগের তিনভাগই ঘোষণা করা হয় অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, এই ট্রাইবুনালের নানা অসঙ্গতি ও ভুলভ্রান্তি।

আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি)-এ শেষপর্যন্ত অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ৩.১১ কোটি এবং  বাদ দেওয়া হয়েছে ১৯ লাখ মানুষকে। গত বছর প্রাথমিক একটা তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন ৪০ লাখ মানুষ, যাদের বেশিরভাগই বাঙালি। যারা আসামের মোট জনসংখ্যার চারভাগের তিনভাগ। তখন থেকে, এনআরসি হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়।

মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, জিআইজেএনএর বাংলা সম্পাদক। এর পাশাপাশি তিনি জিআইজেএনএর সদস্য সংগঠন, গণমাধ্যম উন্নয়ন সংস্থা এমআরডিআইয়ের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড কমিউনিকেশনস্ হিসেবে কাজ করছেন। সাংবাদিকতায় তার রয়েছে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা, যার বড় অংশই টেলিভিশনে।

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

স্বাস্থ্য নিয়ে ভুয়া তথ্য – অপতথ্য, অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা কীভাবে লড়তে পারেন

প্রতি বছর বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী কেবল চারটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। অথচ তাদের ব্যাপারে প্রতিবেদন নেই বললেই চলে। আপনি যদি কিছু খুঁজে পান, আর তা ভুক্তভোগী সম্প্রদায়, নীতিনির্ধারক, কর্মকর্তা কিংবা মন্ত্রীদের সামনে তুলে না ধরেন, তাহলে কাজটি আপনি কেন করছেন?

Recorder panel at IJF24

তহবিল সংগ্রহ পদ্ধতি পরামর্শ ও টুল

স্বাধীন নিউজরুমের আয়ের মডেল কী হতে পারে? 

অল্প বয়সী দর্শকদের কাছে যেন গ্রহণযোগ্য হয়— রেকর্ডারের তরুণ কর্মীরা ঠিক তেমনভাবে তাদের প্রতিবেদন তৈরি করে। পাঠকের পয়সা দিয়েই আয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তারা।

IJF24 Reframing Visual Journalism AI Deepfake

পদ্ধতি পরামর্শ ও টুল

ডিপফেকের যুগে ভিজ্যুয়াল সাংবাদিকতা: সত্য যাচাই ও আস্থা অর্জন

ভিজ্যুয়াল সাংবাদিকতা এখন তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এগুলো হলো সিন্থেটিক কনটেন্টের “উত্তাল সমুদ্রে” মৌলিক বিষয়বস্তু শনাক্ত; জনগণের আস্থা ধরে রাখা; এবং “প্রকৃত ছবি” দিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

environmental spill ocean liquid natural gas terminal

পরামর্শ ও টুল সংবাদ ও বিশ্লেষণ

কীভাবে খুঁজবেন, পরিবেশের ক্ষতির পেছনে কে বা কারা জড়িত?

পরিবেশ সম্পর্কিত যে কোন অবৈধ কাজের সঙ্গে অনেক বেশি আর্থিক সংশ্লেষ থাকে। আর তা উন্মোচনের জন্য নিবিড়ভাবে জানতে হয় বিভিন্ন অঞ্চল, আর সেখানকার আইন কানুন, গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরিতে কিছু কৌশল সাংবাদিকদের সাহায্য করতে পারে।