২০১৯ সালে শ্রীনগরে আয়োজিত এক বিক্ষোভের সময় ভারতীয় পুলিশ কাশ্মীরি সাংবাদিকদের সামনে এগিয়ে যেতে বাধা দেয়। ছবি: শাটারস্টক
নির্বাসনে থেকে সাংবাদিকতা: তথ্য যাচাই, সোর্সের সুরক্ষা ও বিশ্বাসযোগ্যতার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবে সংবাদমাধ্যম
নিজ দেশ থেকে শত শত বা হাজার হাজার মাইল দূরে বসে একটি সংবাদমাধ্যম পরিচালনা করা তাৎক্ষণিকভাবেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। সাংবাদিকেরা যখন নিরাপদে সরেজমিনে গিয়ে কাজ করতে পারেন না, তখন কীভাবে তারা পাঠকদের কাছে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পৌঁছে দেবেন?
তবে নিজের দেশের বাইরে থেকে কাজ করতে বাধ্য হওয়া সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে নির্বাসন মানেই সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্ব থেকে মুক্তি নয়। এটি বরং নতুন কিছু নৈতিক চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। আপনি যেসব ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করছেন, সেগুলো থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেও কীভাবে তথ্য যাচাই, সূত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পাঠকদের কাছে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা যায়—সাংবাদিক ও সম্পাদকদের সেই উপায় খুঁজে বের করতে হয়।
এ বিষয়ে পরামর্শ নিতে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব জার্নালিজম ইনস্টিটিউট কথা বলেছে নির্বাসনে থাকা আফগান সংবাদমাধ্যম আমু টিভির অনলাইন সম্পাদকীয় বিভাগের প্রধান সিয়ার সিরাতের এবং কাশ্মীর টাইমসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক অনুরাধা ভাসিনের সঙ্গে। নির্বাসনে থেকে কিংবা দূরবর্তী স্থান থেকে পরিচালিত সংবাদমাধ্যমগুলো কীভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে, সে বিষয়ে তারা পরামর্শ দিয়েছেন।
সম্পাদকদের মতে, নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংবাদ প্রকাশের প্রতিটি ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। আর পাঠকদের আস্থা বজায় রাখার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্য যাচাই: ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও সংবাদ পরিবেশন
নির্বাসনে থেকে সাংবাদিকতা করার সবচেয়ে কঠিন দিকগুলোর একটি হলো, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সরাসরি ঘটনা দেখার সুযোগ না থাকা। কী ঘটছে, তা জানতে সাংবাদিক ও সম্পাদকদের বিভিন্ন সহযোগী, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, স্থানীয় যোগাযোগ এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণের ওপর নির্ভর করতে হয়।
নির্বাসিত সংবাদমাধ্যমের জন্য তথ্য যাচাই তাই শুধু একটি কারিগরি প্রক্রিয়া নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্বও। কারণ, ভুল তথ্য যেন পাঠক-দর্শকের কাছে না পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হয়। এসব পাঠক-দর্শকের অনেকেরই সংবাদ যাচাই করার জন্য অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থাকে না। তাই কোনো খবর প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তা প্রচার না করে, তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সিরাত বলেন, “আমরা কোনো তথ্য প্রকাশের জন্য তাড়াহুড়ো করি না। আমাদের কাছে অনেক তথ্য আসে, যার বেশির ভাগই ভুল হতে পারে। তাই আমরা যে তথ্য প্রকাশ করি, তা সঠিক ও যাচাইকৃত কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করি।”
সিরাত সম্প্রতি কাবুলে ঘটে যাওয়া একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার কথা স্মরণ করেন। ওই ঘটনায় আফগানিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ৫০ জনের বেশি মানুষের হতাহতের খবর প্রকাশ করেছিল। আমু টিভি সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য পুনঃপ্রকাশ না করে অপেক্ষা করে। তাদের প্রতিবেদক দল বিভিন্ন উৎস থেকে স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করার পরই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়। দেখা যায়, কয়েক ঘণ্টা পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিশ্চিত করা হতাহতের সংখ্যা আমু টিভির প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলে যায়। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সংখ্যা ছিল প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে কম।
সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর বাইরে থেকে সংবাদমাধ্যমটি পরিচালনা করার কারণে কাশ্মীর টাইমসের সম্পাদকদের পক্ষে সরাসরি ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা সহজ নয়। তাই একাধিক সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা অপরিহার্য বলে জানান ভাসিন।
তিনি বলেন, “আপনি যদি একটি সূত্র থেকে কোনো খবর পান, তাহলে অন্য সূত্র থেকেও তা যাচাই করে নিতে হবে।”
তথ্য পুরোপুরি যাচাই করা হয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাশ্মীর টাইমসও প্রায়ই সংবাদ প্রকাশে দেরি করে।
ভাসিন বলেন, “আমরা ব্রেকিং নিউজ প্রকাশ করি না। আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে পারি। কখনো কখনো কোনো খবর নিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে যেতে পারি এবং যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারি।”
সূত্র ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা
তথ্য যাচাই করা যদি একটি চ্যালেঞ্জ হয়, তাহলে সোর্সের সুরক্ষা অনেক সময় টিকে থাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। নির্বাসিত সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য ঘটনাস্থলে থাকা সোর্স, প্রতিবেদক ও সংবাদদাতাদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। এর মধ্য দিয়ে একটি মৌলিক নৈতিক অঙ্গীকারও প্রতিফলিত হয়: সাংবাদিকদের এমন কোনো ঝুঁকিতে কাউকে ফেলা উচিত নয়, যা এড়ানো সম্ভব।
কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা বা কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে যেসব সাংবাদিক প্রতিবেদন তৈরি করেন, তারা জানেন, প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদক, সংবাদদাতা কিংবা সাক্ষাৎকারদাতাকে নজরদারি, হয়রানি, আটক বা আরও গুরুতর বিপদের মুখে ফেলতে পারে। ফলে কোন তথ্য প্রকাশ করা হবে এবং কীভাবে তা প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে সম্পাদকদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
উদাহরণ হিসেবে, ২০১৯ সালে ভারত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর কাশ্মীর টাইমসের ওপর চাপ ও নজরদারি বেড়ে যায় বলে জানান ভাসিন। পরবর্তী বছরগুলোতে সংবাদমাধ্যমটি তাদের সম্পাদকীয় নীতিতে পরিবর্তন আনে। এর ফলে সাংবাদিক ও সোর্সের পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ আগের চেয়ে বেশি দেওয়া হয়। ভাসিন বলেন, “এখন আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পরিচয় গোপন রাখি। ২০১৯ সালের আগে আমরা সাধারণত এমনটা করতে চাইতাম না। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে এখন তা করতে হচ্ছে।”
তবে পরিচয় গোপন রাখার কারণে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে। ভাসিনের মতে, পরিচয় গোপন রাখা তথ্যসূত্রের বক্তব্য আরও সতর্কভাবে যাচাই করতে হয় এবং সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য বাড়তি যাচাই প্রয়োজন। কারণ, তথ্যসূত্রের পরিচয় জানা না থাকলে পাঠক-দর্শকের পক্ষে নিজেরাই তার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় না।
ভাসিন জোর দিয়ে বলেন, কম অভিজ্ঞ সাংবাদিকেরা যেসব ঝুঁকি পুরোপুরি বুঝতে নাও পারেন, সেগুলো মূল্যায়ন করার দায়িত্ব সম্পাদকের। সম্পাদকদের তাই সংবেদনশীল কোনো প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করা উচিত, “এই ঝুঁকিগুলো রয়েছে, আপনি কি সেগুলো সম্পর্কে জানেন? আর আপনি কতটা গভীরে যেতে চান?”
মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, নজরদারি, ব্যাপক ধরপাকড় এবং বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে সম্পাদকদের ঝুঁকি মূল্যায়নে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। ভাসিনের মতে, এসব বিষয়ে সরকার প্রায়ই “চরম অসহিষ্ণু” আচরণ করে।
বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিবেশগুলোর একটিতে কাজ করেন আমু টিভির মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদকেরা। সেখানে কিছু সাংবাদিকের পরিচয় এমন ভাবে গোপন রাখা হয় যে, সম্পাদকদেরও সব সময় তাদের প্রকৃত পরিচয় জানেন না।

আফগানিস্তানের নির্বাসিত সংবাদমাধ্যম আমু টিভির অনলাইন সম্পাদকীয় বিভাগের প্রধান সিয়ার সিরাত। ছবি: এনপিসির সৌজন্যে
সিরাত বলেন, “আফগানিস্তানে কাজ করা আমাদের অনেক ফ্রিল্যান্সার, সাংবাদিক ও সহকর্মীর প্রকৃত নাম আমরা জানি না।”
নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা ও এমন প্রতিবেদন তৈরির কাঠামোর ওপর আমু টিভি নির্ভর করে, যার মাধ্যমে দেশের ভেতরে কর্মরত সাংবাদিকদের পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি কমানো যায়। প্রতিবেদকেরা নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জনসমক্ষে তাদের সাংবাদিকতার কাজের পরিচয় যতটা সম্ভব আড়ালে রাখেন। এর উদ্দেশ্য হলো, কর্তৃপক্ষের নজরে না পড়েই যেন তারা তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।
সিরাত বলেন, “তারা যখন বাড়িতে থাকেন, তখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আর যখন বাইরে থাকেন, তখন তারা অন্য এক পরিচয়ে থাকেন।”
কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে সোর্স বা তথ্যসূত্র বা সাংবাদিকের জন্য অগ্রহণযোগ্য মাত্রার ঝুঁকি তৈরি হলে সেই প্রতিবেদন তৈরির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানান সিরাত।
তিনি বলেন, “আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সহকর্মীদের নিরাপত্তা এবং তথ্যসূত্রের সুরক্ষা। তাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা অনেক প্রতিবেদন প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
বিশ্বাসযোগ্যতা: সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ
বিদেশ থেকে কাজ করা স্বাধীন ও নির্বাসিত সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে সরকার প্রায়ই পক্ষপাত, ভুল তথ্য প্রচার কিংবা বিদেশি প্রভাবের অভিযোগ তোলে। অন্যদিকে, এসব সংবাদমাধ্যমের পাঠক-দর্শক আশা করেন, ঘটনাস্থল থেকে দূরে থেকেও তারা নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশন করবে।
সিরাত বলেন, আমু টিভির সঙ্গে তার পাঠক-দর্শকদের সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। আর এ কারণেই সংবাদমাধ্যমটি তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এত কঠোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।
এ পর্যায়ে সিরাত যোগ করেন, “এই সংবাদমাধ্যমটির পেছনে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের ওপর আফগানিস্তানের মানুষ বছরের পর বছর ধরে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছেন। এখন তারা চান না, সেই আস্থা নষ্ট হোক।”
ভাসিন মনে করেন, কঠোরভাবে তথ্য যাচাই এবং স্বচ্ছতা—দুটির ওপরই বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে। সংবাদ প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় বিভাগ সতর্কতার সঙ্গে তথ্য যাচাই করলেও ভুল যে হতে পারে, তা তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা ভুল করলে তা সংশোধন করি। পাঠকদের সঙ্গে আমরা স্বচ্ছতা বজায় রাখি।”
তথ্যসূত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই এবং গুজব, ভুল তথ্য কিংবা অযাচাইকৃত দাবি প্রকাশ এড়াতে কাশ্মীর টাইমসের প্রতিবেদকদের সংশয়বাদী মনোভাব ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা নিয়ে তথ্য যাচাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে জানান ভাসিন।
তিনি বলেন, “আমরা তাদের সবকিছু প্রশ্ন করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে বলি। তথ্যসূত্র কে? কে তাদের এই তথ্য দিচ্ছে? এর ভিত্তি কী?”
সেন্সরশিপ, নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহে বিধিনিষেধ রয়েছে এমন পরিস্থির ক্ষেত্রে সম্পাদকরা জোর দিয়ে বলেন, জনগণের জানার অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে নির্বাসিত সাংবাদিকদের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
সিরাত বলেন, “প্রতিদিনের কাজ করতে গিয়ে প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের মাথায় যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়, তা হলো আমাদের মানুষের কাছে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা।”
সম্পাদকদের কাছ থেকে পাওয়া মূল শিক্ষা
তথ্য যাচাই
- একাধিক স্বাধীন সূত্রের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করুন;
- সবার আগে ব্রেকিং নিউজ প্রকাশের চেয়ে তথ্যের নির্ভুলতাকে অগ্রাধিকার দিন;
- সংবাদ প্রকাশের আগে ছবি, ভিডিও ও ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ যাচাই করুন;
- প্রতিটি প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে সংশয়বাদী মনোভাব ও গভীরভাবে প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
তথ্যসূত্রের সুরক্ষা
- তথ্যসূত্রের পরিচয় প্রকাশের ফলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন ক্ষেত্রে পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টি বিবেচনা করুন;
- স্থানীয় পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিবর্তন করুন;
- কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে তথ্যসূত্র ও প্রতিবেদকের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে কি না, তা সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করুন;
- সন্দেহ থাকলে প্রতিবেদন প্রকাশের চেয়ে প্রতিবেদকের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন।
বিশ্বাসযোগ্যতা
- মনে রাখুন, নির্বাসনে থেকে স্বাধীন সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা;
- কেবল সেই তথ্যই প্রকাশ করুন, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব;
- ভুল হলে তা দ্রুত ও প্রকাশ্যে সংশোধন করুন;
- প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে কী কী সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা পাঠক-দর্শকদের কাছে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরুন।
সম্পাদকের নোট: এই প্রতিবেদনটি প্রথমে প্রকাশ করে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব জার্নালিজম ইনস্টিটিউট। তাদের অনুমতি নিয়ে এটি এখানে পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে।

আসমামাও কাসা ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব জার্নালিজম ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের প্রেস ফ্রিডম ফেলো। মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, সম্পাদকীয় নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রচার বিষয়ে তার ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ) এবং ইথিওপিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনে (ইবিসি) কাজ করেছেন।