এই ছবিগুলো দেখায় যে একসময় তুরস্কের এজিয়ান উপকূলে পরিযায়ী পাখিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টপ ছিল, যা এখন এক বর্গ কিলোমিটারের বেশি কংক্রিটের নীচে চাপা পড়েছে। ছবি: গ্রিন অ্যান্ড গ্রে
চলতি বছরের শুরুর দিকে, গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক (জিআইজেএন) এবং নাইট সেন্টার ফর জার্নালিজম যৌথভাবে অনুসন্ধানী জলবায়ু সাংবাদিকতা নিয়ে একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করে। জীবাশ্ম জ্বালানি ও খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিশ্রুতির মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় এই কোর্সে। এতে বিশ্বের সেরা জলবায়ুবিষয়ক কয়েক ডজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
এখানে চারটি অনুসন্ধানের নেপথ্যের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এসব অনুসন্ধানে সাংবাদিকেরা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, নথিপত্র ঘেঁটে তথ্য বের করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে, এই অনুসন্ধানগুলো দেখায়, জলবায়ুবিষয়ক সাংবাদিকতা নিয়ে ভালো প্রতিবেদন তৈরি করতে শুধু তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলেই হয় না, মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার নেওয়াও জরুরি।
সরকারের বনায়ন লক্ষ্যমাত্রা খতিয়ে দেখা
দীর্ঘদিন ধরেই নানারকম উড়ো খবর শুনে আসছিলেন দাভাও টুডের নির্বাহী পরিচালক লুসেল বনজো। অনেকেই বলাবলি করছিলেন, ফিলিপাইনের ন্যাশনাল গ্রিনিং প্রোগ্রাম (এনজিপি) নামক বিশাল ও ব্যয়বহুল প্রধান বনায়ন কর্মসূচিতে অসংখ্য সমস্যা রয়েছে।
সমস্যাগুলো নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গণমাধ্যমের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তবে এত বড় পরিসরে সমস্যার ব্যাপকতা কেউ তুলে ধরতে পারেননি। আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের ফেলোশিপের আওতায় লাইটহাউস রিপোর্টসের ডেটা সম্পাদক ইভা কনস্টান্টারাস এবং প্রতিষ্ঠানটির ডেটা বিজ্ঞানী লু মিন লুইনের সঙ্গে কাজ করেন বনজো। তারা দুই মিলিয়ন হেক্টরেরও বেশি জমিতে এই কর্মসূচির কার্যক্রম খতিয়ে দেখেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তারা কয়েক বছর ধরে চালানো এই অনুসন্ধানের ফলাফল যৌথভাবে প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, কর্মসূচিটি তার দুটি প্রধান লক্ষ্য বনায়ন এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, কোনোটিই যথাযথভাবে অর্জন করতে পারছে না।
এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তারা স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন তৈরির সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে যুক্ত করা হয়।
বনজো ফিলিপাইনের বিভিন্ন স্থানে এনজিপির আওতাভুক্ত এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি এলাকার তথ্য-উপাত্ত খুঁজে পান। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই তথ্য-উপাত্তে প্রতিটি এলাকার ভৌগোলিক সীমানা উল্লেখ ছিল। ফলে সেগুলো মানচিত্রে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি, কোন বছর এলাকাগুলো এনজিপির আওতাভুক্ত হয়েছিল, জমির মালিকানা কার ছিল বা কারা ইজারা নিয়েছিল এবং সেখানে কী ধরনের পণ্য উৎপাদন হতো বা কী ধরনের বনভূমি ছিল, এমন তথ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এরপর তারা মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ফরেস্ট চেঞ্জ প্রকল্প থেকে বনভূমি হারানোর তথ্য সংগ্রহ করেন। স্যাটেলাইটের ছবিতে প্রতিটি পিক্সেল ৩০ মিটার × ৩০ মিটার আয়তনের একটি এলাকার তথ্য তুলে ধরে। আগুনের কারণে বনভূমি হারানোর ঘটনা বাদ দিতে তারা আলাদা একটি তথ্যভান্ডারও ব্যবহার করেন। গুগল আর্থ ইঞ্জিন ব্যবহার করে তারা প্রতিটি এলাকার সীমানার সঙ্গে বনভূমি হারানোর তথ্য মিলিয়ে দেখেন। এতে দেখা যায়, প্রতি ২৫ হেক্টর জমির মধ্যে এক হেক্টর জমিতে বড় ধরনের বন উজাড়ের ঘটনা ঘটেছে।
দেশব্যাপী তথ্য-উপাত্ত হাতে পাওয়ার পর দলটি গবেষণার সময়কালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বনভূমি হারিয়েছে এমন দুটি এলাকা চিহ্নিত করে। এরপর বনজো ওই এলাকাগুলোতে গিয়ে প্রতিবেদন তৈরির কাজে হাত দেন। এ সময় তিনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন।
“মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন ও তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন কনস্টান্টারাস। তিনি আরও জানান, কিছু এলাকায় কেন বনভূমি হারিয়ে যাচ্ছিল, সে সম্পর্কে তারা বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য পেয়েছিলেন। যেমন, স্থানীয় পর্যায়ের দুর্নীতি। তাই তারা যদি কেবল বনভূমি হারানোর তথ্য বিশ্লেষণ করতেন, তাহলে এই কারণগুলো হয়তো তাদের নজর এড়িয়ে যেতো।

দাভাও টুডের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফিলিপাইন সরকারের জাতীয় বনায়ন কর্মসূচি দেশজুড়ে বন উজাড় ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। ছবি: স্ক্রিনশট, দাভাও টুডে
এই পদ্ধতি অনুসন্ধানের কাজকে সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালনা করতেও সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে দলটির সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। কারণ, ফিলিপাইনে পরিবেশবিষয়ক সাংবাদিকেরা নানা হুমকির মুখে পড়েন। কনস্টান্টারাস ব্যাখ্যা করে বলেন, “কোনো কোনো এলাকায় গিয়ে হুট করে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করাটা ঠিক হবে না। মাঠপর্যায়ে কোনো সাংবাদিককে ঝুঁকির মুখে ফেলার আগেই আমরা অনেক কিছু জানতে পেরেছিলাম।”
মাঠপর্যায়ে প্রতিবেদন তৈরির কাজের মাধ্যমে তারা আরও জানতে পারেন, জমির মালিকানা ও ব্যবহারের অধিকার এবং কী ধরনের ফসল চাষ করা হবে, সে-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোও ছিল বড় সমস্যা। অনেক এলাকার জন্য ইজারার মেয়াদ ছিল মাত্র তিন বছর। আবার কোনো কোনো এলাকায় শুধু একটি পণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, যার বাজারদর বা চাহিদায় বড় ধরনের ওঠানামার ঝুঁকি ছিল। মাত্র অল্প কিছু এলাকার ক্ষেত্রে ২৫ বছরের স্থায়ী চুক্তি ছিল।
দেশটির বন ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, কোনো অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হলে প্রমাণসহ তা তাদের কাছে জমা দিতে হবে। সংস্থাটি স্বীকার করে, কিছু এলাকায় গাছপালা পরিষ্কার করা হয়েছিল, তবে তা করা হয়েছিল পুনর্বনায়নের প্রস্তুতি হিসেবে। দলটি তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, “আমাদের বিশ্লেষণে বনভূমি হারানোর যে চিত্র উঠে এসেছে, এটি সেই ধরনের ঘটনা নয়।”
লাইটহাউস রিপোর্টসের দলটি এখন এই কাজ আরও বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা করছে। লুইন বলেন, “আমরা এখন তেল উৎপাদনের জন্য চাষ করা পাম বাগানের তথ্য নিয়ে কাজ করছি। কোকো ও রাবার চাষের জমি শনাক্ত করার কাজও পরীক্ষামূলকভাবে করেছি। জমির সীমানা এবং সেখানে কী ধরনের জমি ব্যবহার হচ্ছে, সে সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া গেলে একই পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা সম্ভব।”
সবুজ যখন ধূসর হয়ে যায়
তুরস্কের অনুসন্ধানী সাংবাদিক জেইনেপ সেন্টেক। ২০২৪ সালের দিকে তিনি নরওয়ের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়েন। যেখানে দেখানো হয়েছিল, সড়ক, ভবন ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশটির কী পরিমান প্রাকৃতিক পরিবেশ হারিয়ে গেছে। “আমার মনে হয়েছিল, ‘এটা দারুণ!’ ইউরোপজুড়েই আমাদের এমন কাজ করা উচিত,” স্মৃতিচারণ করে বলেন তিনি।
ইউরোপে সাংবাদিকতার জন্য কাজ করা অ্যারেনা ফর জার্নালিজম ইন ইউরোপে সেন্টেকের দল এনআরকেকে কয়েক মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি, ১১টি দেশের ৪১ জন সাংবাদিক ও বিজ্ঞানীকে নিয়ে পুরো ইউরোপজুড়ে শুরু করা হয় একটি যৌথ অনুসন্ধানী প্রকল্প। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত হয় গ্রিন টু গ্রে শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। এতে দেখা যায়, নির্মাণকাজের কারণে ইউরোপে প্রতিবছর ১ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার (৫৭৯ বর্গমাইল) প্রাকৃতিক ভূমি ও কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৬০০টি ফুটবল মাঠের সমান জমি এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। এই কাজের জন্য ২০২৬ সালে দলটি সিগমা অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়।
প্রথম ধাপ ছিল তথ্য-উপাত্ত খুঁজে বের করা। এ জন্য তারা ব্যবহার করেন ডায়নামিক ওয়ার্ল্ড। এটি ভূমি ব্যবহারের একটি তথ্যভান্ডার, যেখানে স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। প্রতিটি পিক্সেলে কী ধরনের ভূমির ব্যবহার রয়েছে, তা শনাক্ত করার জন্য এই তথ্যভান্ডারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যেমন, নির্মিত এলাকা, জলাশয়, গাছপালা, ঘাসের ভূমি এবং এ ধরনের আরও কয়েকটি শ্রেণি।
প্রকল্পটির ডেটা সমন্বয়ক লিওপোল্ড সালজেনস্টাইন ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা এমন সব পিক্সেল খুঁজে বের করেছি, যেগুলো নির্দিষ্ট একটি সময়ের মধ্যে প্রাকৃতিক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত অবস্থা থেকে এমন এলাকায় পরিণত হয়েছে, যেগুলো আর প্রাকৃতিক এলাকা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ নয়।”
তথ্যভান্ডারটি ছিল খুবই নির্ভুল। এতে প্রতিটি পিক্সেল বাস্তবের ১০ × ১০ মিটার আয়তনের একটি এলাকার তথ্য তুলে ধরত। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তারা সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটের প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ছবি বিশ্লেষণ করেন। এসব ছবি থেকে মোট ৮৪০০ কোটি পিক্সেলের তথ্য পরীক্ষা করা হয়। মডেলটি প্রতিটি পিক্সেলকে আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করেছিল। কিন্তু শুধু এই শ্রেণিবিন্যাসই যথেষ্ট ছিল না।
সালজেনস্টাইন বলেন, “আমরা জানতাম, এতে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং মডেলটি মাঝেমধ্যে ভুল করতে পারে। তাই আমাদের তথ্যগুলো যাচাই করে নিতে হতো।”
মডেলের ফলাফল ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে তারা প্রথমে ইউরোপের বিভিন্ন এলাকার ১,০০০টি স্থান নিজেরা পরীক্ষা করেন। এরপর ৪০ জন সাংবাদিক ও তথ্য যাচাইকারীকে নিয়ে একটি দল গঠন করেন। দলটি ইউরোপের বিভিন্ন এলাকা থেকে এলোমেলোভাবে বেছে নেওয়া আরও ৯,০০০টি পিক্সেলের তথ্য যাচাই করে। পুরো কাজটি করতে সময় লেগেছিল ৫০০ ঘণ্টারও বেশি।

গ্রিন টু গ্রে দলের পদ্ধতিতে শনাক্ত করা ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের নির্মাণ প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে র্যানডম বেছে নেওয়া কিছু প্রকল্প। ছবি: গ্রিন টু গ্রের স্ক্রিনশট।
প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা একটি অ্যাপ তৈরি করেছিলেন। অ্যাপটিতে লগইন করার পর, পর্যালোচকেরা পিক্সেলের বড় করা সংস্করণ দেখতে পেতেন। এরপর তাদের নির্ধারণ করতে হতো, ওই পিক্সেলে প্রাকৃতিক পরিবেশের জায়গায় কোনো স্থাপনা বা নির্মাণকাজ দেখা যাচ্ছে কি না। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তারা প্রায়ই গুগল আর্থ, প্ল্যানেট ল্যাবস বা ইএসআরআই ওয়ে ব্যাকের মতো প্ল্যাটফর্মের উন্নত মানের স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেন।
যেসব এলাকার শ্রেণিবিন্যাস তখনো পরিষ্কারভাবে বোঝা যেত না, কিংবা যেসব ক্ষেত্রে পর্যালোচকদের মতামত মডেলের ফলাফলের সঙ্গে মিলত না, সেগুলো সমন্বয়কারী দল আবার যাচাই করত। এই যাচাই ও সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলটি নির্ধারণ করতে পেরেছিল, মডেলটি কোথায় প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম এবং কোথায় বেশি করে দেখাচ্ছে।
এই যাচাইয়ের কাজ চলার পাশাপাশি ১১টি দেশের সাংবাদিকেরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন।
তাদের প্রতিবেদন থেকে সমস্যাটির ব্যাপকতা বোঝা যায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইউরোপজুড়েই প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সবুজ এলাকা দ্রুত কমে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, তুরস্কে পরিযায়ী পাখিদের একটি অভয়ারণ্যের জায়গায় তৈরি করা হয়েছে বিলাসবহুল ইয়ট নির্মাণ ও মেরামতের কারখানা। এ ছাড়া, ইতালির গার্দা হ্রদ এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ এবং গ্রিসে বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মতো প্রকল্পও উঠে এসেছে তাদের প্রতিবেদনে।
অ্যারেনা ফর জার্নালিজমের দলটি এখন আরও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। নতুন অনুসন্ধানী প্রকল্পের মাধ্যমে এই যৌথ উদ্যোগের পরিসরও বাড়াতে চাইছে তারা।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সবচেয়ে বড় বোঝা কাদের ওপর?
কয়েক বছর আগে জলবায়ুবিষয়ক সাংবাদিক সোফিয়া মুতিনহো ও এলিজাবেথ গথ্রপের মনে একটি প্রশ্ন জাগে। আর তা হচ্ছে তীব্র গরমের কারণে স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ার বিষয়টি কি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে?
কলাম্বিয়া জার্নালিজম ইনভেস্টিগেটসের ‘হিডেন এপিডেমিকস’ (আড়ালে থাকা মহামারি) সিরিজের অংশ হিসেবে তারা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনুসন্ধান শুরু করেন।
এর আগে হেলথকেয়ার কস্ট অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন প্রজেক্টের (এইচসিইউপি) তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিলেন গথ্রপ। এটি যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালের চিকিৎসাবিষয়ক তথ্যের সবচেয়ে বড় সংগ্রহশালা। কয়েক মাস ধরে এসব তথ্য বিশ্লেষণ এবং কয়েক ডজন মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর তারা একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুততম উষ্ণ হয়ে ওঠা অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে থাকা অ্যারিজোনা ও ফ্লোরিডায় তাপজনিত অসুস্থতা বেড়েছে। এর প্রভাবও অসমভাবে পড়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
এটি ছিল জবাবদিহিমূলক সাংবাদিকতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। অনুসন্ধানটি এমন একটি প্রবণতা সামনে আনে, যা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছিল। অথচ তা অনেকের নজরেই আসেনি।
এইচসিইউপি একটি বিস্তারিত ও সংবেদনশীল তথ্যভান্ডার। এতে হাসপাতালের কোটি কোটি রোগীর সেবা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য একত্র করা হয়েছে। পাশাপাশি, এতে রয়েছে পোস্টাল জিপ কোড, রোগ নির্ণয়ের তথ্য, রোগীদের জনতাত্ত্বিক পরিচিতি এবং হাসপাতালে ভর্তির বিবরণ। সাধারণত সাংবাদিকেরা নয়, গবেষকেরাই এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করেন।
তথ্যভান্ডারটি ব্যবহারের অনুমতি কিনে নেওয়ার পর নিরাপদে তথ্য ব্যবহারের জন্য গথ্রপকে একটি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে সনদ নিতে হয়েছিল। তবে তার এই প্রচেষ্টা পরবর্তীতে কাজে লাগে। এর আগে কোনো সংবাদমাধ্যমই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে এত গভীরভাবে অনুসন্ধান করেনি। হিট স্ট্রোক, অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া এবং পানিশূন্যতার মতো অসুস্থতার সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্পর্কও এভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি।
তথ্যভান্ডার হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশ্ন ছিল, কোথায় এবং কোন সময়ের তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। কোন কোন অঙ্গরাজ্য দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে, তা পর্যালোচনা করে তারা অ্যারিজোনা ও ফ্লোরিডাকে বেছে নেন। দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকায় এ দুটি অঞ্চলের অবস্থান ছিল যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয়। প্রথম স্থানে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ায় উষ্ণতম এলাকাগুলোতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
তাপমাত্রার সংস্পর্শে আসার প্রমাণ পাওয়া যায়—এমন রোগ নির্ণয়ের কোডগুলো চিহ্নিত করতে এবং কোন কোডগুলো বাদ দিতে হবে, তা নির্ধারণ করতে তারা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেন। এরপর পোস্টাল জিপ কোড অনুযায়ী তথ্যগুলো একত্রিত করেন।
তালিকার শীর্ষে থাকা দুটি এলাকার ওপর তারা বিশেষভাবে নজর দেন। প্রথমটি অ্যারিজোনার ফিনিক্স শহরের লিংকন পার্ক। সেখানে তাপজনিত অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তির মাথাপিছু হার ছিল অঙ্গরাজ্যটির গড় হারের ১০ গুণ। দ্বিতীয়টি ফ্লোরিডার ফোর্ট পিয়ার্স, যা মায়ামি থেকে ১২০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। সেখানে এই হার ছিল গড়ের প্রায় ছয় গুণ।
দলটি স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন, দমকল বিভাগ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কয়েক ডজন প্রতিনিধির সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তথ্য-উপাত্ত আরও ভালোভাবে বুঝতে তারা এভাবে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।
প্রতিবেদন তৈরির নেতৃত্বে থাকা মুতিনহো ব্যাখ্যা করে বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে ওঠা দল বা সংগঠন খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অসুস্থতা দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগের মতো নয়। তাই এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের লোকেদের খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই ঘটনা থেকে আমরা একটি শিক্ষা পেয়েছি। তা হলো, বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে এবং যত বেশি সম্ভব মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
মুতিনহোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই দুই এলাকার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অবস্থা ও জাতিগত পরিচয়েরও প্রভাব ছিল। এ ছাড়া, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো আগে থেকে থাকা অন্যান্য রোগের প্রকোপও বেশি ছিল। এই রোগগুলোর তথ্য খুঁজে বের করতে মুতিনহো ও গথ্রপ আবারও হাসপাতালে ভর্তির তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তারা আয় ও জাতিগত পরিচয় অনুযায়ী তথ্যগুলো আলাদা করে পর্যালোচনা করেন। এতে পরিস্থিতির ধরন ও কারণগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কলাম্বিয়া জার্নালিজম ইনভেস্টিগেটসের এই প্রতিবেদনে অ্যারিজোনা ও ফ্লোরিডার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে আয়ের ভিত্তিতে তাপজনিত অসুস্থতার অসম প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। ছবি: সেন্টার ফর পাবলিক ইন্টেগ্রিটির স্ক্রিনশট।
মুতিনহো বলেন, “বিষয়টি বেশ চমকপ্রদ, কারণ শুধু সংখ্যাগুলো দেখেই পুরো চিত্রটা বোঝা যায়নি। প্রতিবেদনটির প্রকৃত তাৎপর্য বুঝতে বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে আরও গভীরে অনুসন্ধান করতে হয়েছে।”
তারা নিজেদের অনুসন্ধানের ফলাফল যাচাই করতে আলাদা কিছু তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের সরকারি পরিসংখ্যান এবং ৯১১ নম্বরে আসা জরুরি ফোনকলের রেকর্ড। পরে তারা এসব তথ্য অরল্যান্ডো সেন্টিনেল ও অ্যারিজোনা রিপাবলিকসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেন।
তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পাশাপাশি উঠে এসেছে তীব্র গরমে ভোগা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা। বিশেষজ্ঞরাও তাদের অনুসন্ধানের ফলাফলকে প্রাসঙ্গিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন । প্রতিবেদনে আরও দেখানো হয়েছে, তাপজনিত অসুস্থতার পেছনে ঐতিহাসিক রেডলাইনিংয়েরও আংশিক ভূমিকা রয়েছে। রেডলাইনিং হলো এমন একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে দরিদ্র ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাহীন এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য করা এবং ধনী এলাকায় বসতি গড়তে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
মুতিনহোর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক নীতিনির্ধারকের কাছে এই প্রতিবেদনই প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা, জাতিগত পরিচয় ও আর্থসামাজিক অবস্থানের মধ্যকার অদৃশ্য সম্পর্ককে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
চিলির জন্য বিশেষভাবে তৈরি বিধিমালা
ফ্রান্সিসকো পাররা জলবায়ুবিষয়ক সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞ। তবে তার সাম্প্রতিক একটি অনুসন্ধানের শুরু হয়েছিল সাংবাদিকতার বাইরে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার সময় পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে তাকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিধিমালা বিশ্লেষণ করতে হয়েছিল। তিনি বেছে নেন চিলির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বায়ুদূষণ কমানোর নীতিমালা। ২০২৫ সালে এই নীতিমালার মানদণ্ড হালনাগাদ করার পাঁচ বছরব্যাপী প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

ছবি: এল ক্লিপের স্ক্রিনশট; অলংকরণ: গাস্তন গনসালেস
বিধিমালাটি খতিয়ে দেখতে গিয়ে পাররা জানতে পারেন, একটি কারিগরি বিষয় নিয়ে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো আপত্তি জানাচ্ছিল। চিলির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে নিঃসরণ সীমিত রাখতে হতো। কিন্তু সরকারি ডিক্রিতে ছিল একটি উল্লেখযোগ্য ফাঁক। একটি অস্থায়ী বিধানের আওতায়, যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘রূপান্তর পরিকল্পনা’ ছিল, সেগুলো অন্য কেন্দ্রগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত নিঃসরণ করতে পারত।
এই শর্ত পূরণ করতে পারে, এমন প্রযুক্তি ছিল মাত্র একটি। কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা। আর এমন রূপান্তর পরিকল্পনা ছিল কেবল একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের: ৭৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গুয়াকোলদা বিদ্যুৎকেন্দ্র।
সহকর্মী পাওলা দিয়াস লেভির সঙ্গে কাজ করে পাররা ও তার দল ২০২৫ সালে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে দেখানো হয়, বিধিমালার ব্যতিক্রমী এই সুবিধাটি কীভাবে গুয়াকোলদা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যই ‘বিশেষভাবে তৈরি’ করা হয়েছিল। তাদের সংগ্রহ করা নথিপত্রে প্রমাণ পাওয়া যায়, এই বিধান চিলির জলবায়ু পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। লাতিন আমেরিকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক অনুসন্ধান লাস রুইনাস দেল কার্বন-এর অংশ ছিল তাদের এই প্রতিবেদন।
এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পাররা ও দিয়াস লেভি নথিপত্রের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালান। বিধিমালাটি প্রণয়নের প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত নথির ফাইল তারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েন। এতে বৈঠকের কার্যবিবরণী, বিভিন্ন কোম্পানির জমা দেওয়া নথি এবং বাইরের বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কয়েক শত পৃষ্ঠা তারা হাতে ধরে পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে বিধিমালাটি কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করেন।
দিয়াস লেভি বলেন, “নথিপত্র থেকে শুরু করে মানুষের সঙ্গে কথা বলা—বিভিন্ন ধরনের সূত্র একসঙ্গে কাজে লাগানো অনুসন্ধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে ছিল এমন সাক্ষাৎকার, যেগুলোর তথ্য প্রকাশ করা যায়, আবার এমন অনেক কথোপকথনও ছিল, যেগুলোর তথ্য সোর্সের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যায় না।”
তারা খুঁজে বের করেন, ঠিক কখন বিধিমালার শর্ত শিথিল করা হয়েছিল। বৈঠকের কার্যবিবরণীতেও এ বিষয়ে একজন নাগরিক সমাজ বিশেষজ্ঞের মন্তব্যের উল্লেখ পান তারা। এরপর তারা ‘রূপান্তর পরিকল্পনা’ নিয়ে কোম্পানিটির নিজস্ব সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখেন। ওই সমীক্ষায় কোম্পানিটি স্বীকার করে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালনাকাল ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হলেই কেবল পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। পাররা বলেন, “এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, চিলিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার নির্ধারিত সময়সীমা ২০৪০ সাল হলেও কোম্পানিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রাখতে চেয়েছিল।”
পাররা ও দিয়াস লেভি একাধিকবার কোম্পানিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে প্রতিবেদন তৈরির বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় কোম্পানিটি।
রিপোর্টেয়াডটসিএলের সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে দলটি আরও জানতে পারে, কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিধিমালা প্রণয়নের পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তা অভ্যন্তরীণ অনুমোদন পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই চাকরি বদল করেন। জানতে চান তিনি কোথায় যোগ দিয়েছেন? চিলির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর স্বার্থ ও কার্যক্রমের পক্ষে কাজ করা একটি শিল্প খাতের বাণিজ্যিক সংগঠনে।

দিয়েগো আরগুয়েদাস অর্টিজ একজন সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম প্রশিক্ষক। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সাংবাদিকতায় বিশেষজ্ঞ। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজমের অধীনে অক্সফোর্ড ক্লাইমেট জার্নালিজম নেটওয়ার্কের সহযোগী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি ১২০টিরও বেশি দেশের ৮০০–এর বেশি সম্পাদক ও সাংবাদিককে জলবায়ুবিষয়ক সাংবাদিকতার মান ও প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করেন। তিনি বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে অভিজ্ঞ। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় সেন্ট্রাল আমেরিকান জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক, ফেস্টিভ্যাল গাবো এবং ইন্টার–আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করেছেন। সাংবাদিক হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রতিবেদন করছেন। বিবিসি ফিউচার, এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ ও দ্য অবজারভারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তার কাজের মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের ছয়টি জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে প্রতিবেদন, ২০১৬ সালে পানামা পেপারসের আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে অংশগ্রহণ এবং এক ডজন দেশের মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন। ২০১৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ওহো আল ক্লিমা’, যেটি মধ্য আমেরিকার প্রথম জলবায়ুবিষয়ক সংবাদমাধ্যম।