ছবি: শাটারস্টক
গণতন্ত্রের জন্য হুমকি ও কর্তৃত্ববাদের উত্থান: আইজে উইকের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস ঘিরে বিশ্ব যখন কর্তৃত্ববাদের উত্থানের ফলে সৃষ্ট হুমকিগুলো নিয়ে চিন্তিত, তখন জনস্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মানবাধিকারের মতো গণতান্ত্রিক নীতিগুলোর সুরক্ষায় স্বাধীন সাংবাদিকতা এখনও অন্যতম শেষ ভরসা ।
এই হুমকিগুলো মোকাবিলায় নতুন কৌশল ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা আমলে নিয়ে আইজে উইক-এর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল সাজানো হয়েছে গণতন্ত্র এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদের হুমকির মতো বিষয় ঘিরে। গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের আসন্ন অনলাইন আয়োজনটি ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
প্রায় ৫০টি অধিবেশন ও অনলাইন কর্মশালা থাকছে আইজে উইকে। অংশ নিবেন ১৩০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বক্তা। গণতন্ত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কৌশলগুলো তুলে ধরা হবে। যার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্নীতি ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানসূচিতে ২০২৬ সালের সিগমা অ্যাওয়ার্ডজয়ীদের নিয়ে তিনটি পৃথক অধিবেশনও থাকবে। এসব অধিবেশনে সরকারি তথ্য ও নথি সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের উদ্ভাবনী পদ্ধতিগুলো তুলে ধরা হবে। যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শাসনব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
২০০১ সালে প্রথম গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হওয়ার ২৫তম বার্ষিকীতে আইজে উইক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অপরাধ ও প্রযুক্তি, ডেটা সাংবাদিকতা, পরিবেশ এবং অলাভজনক নিউজরুমসহ ১৩টি বিষয়ে আলোচনা হবে।
গণতন্ত্রের জন্য হুমকি তৈরি করে, এমন কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রবণতাগুলো নিয়ে কীভাবে আরো জোরালো অনুসন্ধান পরিচালনা করা যায় — এই বিষয়ের ওপর আইজে উইকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন সম্পর্কিত তথ্য এই লেখায় তুলে ধরা হলো:
কর্তৃত্ববাদী পরিস্থিতিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা

অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের নিজেদের জন্য প্রয়োজন হালনাগাদ নির্দেশিকা ও টুলকিট। যাতে তারা “কর্তৃত্ববাদীদের কৌশল” বুঝতে পারেন এবং এর গভীরে অনুসন্ধান চালাতে পারেন। নির্বাচনের আড়ালে ও আইনি বৈধতার দোহাই দিয়ে ক্ষমতা দখল ও ধরে রাখতে কর্তৃত্ববাদীরা ক্রমশ যেসব কৌশল ব্যবহার করছে, তার মধ্যে রয়েছে সংবাদমাধ্যম ও সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা এবং আইনের শাসন দুর্বল করে দেওয়া। শক্তিশালী এই প্যানেল আলোচনায় রাশিয়া, এল সালভাদর, ভারত ও বুরকিনা ফাসোর সাহসী সাংবাদিকেরা অংশ নেবেন। ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধের মধ্যেও কীভাবে তারা সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন, তুলে ধরবেন সে অভিজ্ঞতা। কর্তৃত্ববাদী চাপের মধ্যেও কীভাবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়া যায়, সোর্সের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি বজায় রাখা যায়—এই অধিবেশন থেকে সেসব কৌশল সম্পর্কে জানতে পারবেন।
(অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য জিআইজেএন নির্বাচনবিষয়ক গাইডের রাজনৈতিক বার্তা ও অপতথ্য অধ্যায় থেকে সাংবাদিকরা কর্তৃত্ববাদীদের কৌশল ও বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলার উপায় ও কৌশল সম্পর্কে আরও জানতে পারেন।)
আন্দ্রাস পেথোর সঙ্গে কথোপকথন

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলা করোনেলের সঞ্চালনায় হাঙ্গেরিতে নিজের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কৌশল নিয়ে কথা বলবেন তিনি। দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে ‘কর্তৃত্ববাদীদের কৌশল’ অনুসরণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণগুলোর একটি।
এক দশক ধরে ভিক্টর অরবানের শাসনামলে হাঙ্গেরিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আন্দ্রাস পেথো। ২০১৫ সালে তিনি অরিগো নামে যে সংবাদমাধ্যমটিতে কাজ করতেন, রাজনৈতিক চাপের মুখে সেটি সরকারের মুখপত্রে পরিণত হলে পেথো ডিরেক্ট৩৬ নামে একটি নতুন সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটিকে আইনি হুমকি ও রাষ্ট্রীয় নজরদারির (যার মধ্যে তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে স্পাইওয়্যারের ব্যবহারের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল) মোকাবিলা করতে হয়েছে।
২০২৫ সালে তিনি দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর নতুন একটি পদ্ধতি চালু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ‘দ্য ডাইনেস্টি’ নামে অরবানের পরিবারের সম্পদ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রটি ১০ মিলিয়নেরও কম জনসংখ্যার দেশটিতে লাখ লাখবার দেখা হয়।
এই অধিবেশনে পেথো কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে একটি স্বাধীন বার্তাকক্ষ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা, ডিরেক্ট৩৬-এর প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং হাঙ্গেরির রাজনৈতিক পরিবর্তন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ভবিষ্যতের জন্য কী অর্থ বহন করে — তা নিয়ে আলোচনা করবেন।
আজারবাইজান, বেলারুশ ও কিরগিজস্তান — চ্যালেঞ্জ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা

স্বাধীন সাংবাদিকেরা মধ্য এশিয়া ও সাবেক সোভিয়েত অঞ্চলের দেশগুলোতে একই ধরনের দমন-পীড়ন কৌশলের মুখোমুখি হন। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, নজরদারি, সাইবার হামলা, নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা এবং কখনো কখনো সহিংসতা। এই অধিবেশনে আজারবাইজান, বেলারুশ ও কিরগিজস্তান এবং এর আশপাশে কাজ করা অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও সম্পাদকেরা একত্রিত হবেন। কর্তৃত্ববাদী চাপের মধ্যে কীভাবে কাজ করা যায়, তারা সে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। তাছাড়া রাষ্ট্র নিজেই যখন অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে, তখন প্রকাশনা চালিয়ে যেতে কীসের প্রয়োজন হয় — তা জানারও চেষ্টা করা হবে।
সরকারি দমন-পীড়ন ও জোরপূর্বক নির্বাসনের মধ্যেও টিকে থাকার জন্য তারা কীভাবে নিজেদের বার্তকক্ষের কাজের ধরন বদলেছেন, কঠোর রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও মানবাধিকার নিয়ে প্রতিবেদন করার ক্ষেত্রে কী ধরনের নির্দিষ্ট ঝুঁকি রয়েছে এবং প্রতিবেদন তৈরির মতোই কাজের জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠা ডিজিটাল নিরাপত্তার কৌশলগুলো কী—প্যানেল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসবে।
শেরি লির সঙ্গে কথোপকথন

হুই ইউর সঞ্চালনায় এই আলোচনায় তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত দায় ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তাইওয়ানকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, বিশ্বের হাতে গোনা এমন কয়েকটি দেশের একটি তাইওয়ান। তবে একই সঙ্গে চীনের হুমকি, মিত্রদের দুর্বল সমর্থন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নানা ঝুঁকির কারণে দেশ ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন।
শেরি লি সুয়েহ-লি নির্বাহী কর্মকর্তা (ডেপুটি সিইও)। এটি তাইওয়ানের প্রথম অলাভজনক বার্তাকক্ষ এবং চীনা ভাষাভাষী বিশ্বে পাঠকের অর্থায়নে পরিচালিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। ২০১৫ সালে দ্য রিপোর্টার সহপ্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি এমন সব অনুসন্ধানের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা বাস্তবেও প্রভাব ফেলতে সমর্থ হয়েছে। তাদের স্লেভস অব দ্য ফার-সি ফিশিং অনুসন্ধানটি নতুন আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখে এবং অভিবাসী জেলেদের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ করতে সহায়তা করে। আর ইয়ুথ ইন দ্য রুইন্স অনুসন্ধানটি তাইওয়ানের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে ভাবনার সূত্রপাত ঘটায়। তার নেতৃত্বে দ্য রিপোর্টারের মাসিক অনুদানদাতার সংখ্যা চারজন থেকে বেড়ে প্রায় ৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে—কোনো বিজ্ঞাপন বা পেওয়াল ছাড়াই।
গণমাধ্যমের প্রতি অবিশ্বাস এবং দীর্ঘস্থায়ী বার্নআউটের পরিবেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা টিকিয়ে রাখতে কী প্রয়োজন, তা নিয়ে এই আলোচনায় কথা হবে। এক দশক ধরে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরও কী তাকে কাজ করে যেতে অনুপ্রাণিত করে, লি সেটিও তুলে ধরবেন।
(তাইওয়ানে সাংবাদিকেরা কীভাবে নির্বাচনী অপতথ্যের ঢেউ মোকাবিলা করেছিলেন, তা জানতে এই প্রতিবেদনটি পড়ুন।)
নির্বাসনে থেকেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা

নিজ দেশের সরকার যখন গণতান্ত্রিক নীতি ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা থেকে পুরোপুরি সরে যায়, তখন অনেক অনুসন্ধানী সাংবাদিক বাধ্য হয়ে নির্বাসনে চলে যান। নির্বাসনে থাকা এসব সাংবাদিকের নানা সমস্যার মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে দূরত্ব, তথ্য ও সূত্রে সীমিত প্রবেশাধিকার এবং দেশের সীমানা পেরিয়ে চলা দমন-পীড়ন। দূরে থেকেও কীভাবে তথ্যসূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যায় এবং প্রতিবেদন তৈরি করা যায়, সেটি একটি বড় বিষয়। নতুন একটি দেশে থেকে সাংবাদিকতার কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো কীভাবে সামলাতে হয়, তা নিয়েও খুব বেশি আলোচনা হয় না।
এই অধিবেশনে মিয়ানমার, রাশিয়া, মালি ও ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞ সাংবাদিকেরা নির্বাসনে থেকেও কীভাবে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই কৌশল নিয়ে কথা বলবেন। তারা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন এবং সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করেছেন, সে অভিজ্ঞতাও তুলে ধরবেন।
(সাংবাদিকেরা “প্রোপাগান্ডা ক্রিপ”—প্রোপাগান্ডার প্রভাব ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়া— এড়ানোর কৌশল এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে অপতথ্যের বয়ানকে আরও ছড়িয়ে দেওয়া ঠেকাতে জিআইজেএনের এই টিপশিটও দেখতে পারেন।)
অভিবাসন ও এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া মানুষদের নিয়ে অনুসন্ধান

গণতন্ত্রের অবস্থা ও মানবাধিকারের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের ব্যাপক স্থানচ্যুতি এবং অভিবাসন ঘিরে কঠোর নীতিমালাগুলো অনেক জরুরি বিষয়কে সামনে আনে। এসব বিষয়ে প্রতিবেদন করতে প্রয়োজন বিশেষায়িত সাংবাদিকতা পদ্ধতি। এই অধিবেশনে মিসর, কোস্টারিকা, ভারত ও বলিভিয়ার অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা অংশ নেবেন। তারা অভিবাসী পাচার, সীমান্তে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ, আটককেন্দ্র এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে কীভাবে অনুসন্ধান করা যায়, সে কৌশল তুলে ধরবেন। অভিবাসীদের কীভাবে নিরাপদ ও নৈতিকভাবে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়, নিরাপদ যোগাযোগের ব্যবস্থা কীভাবে তৈরি করা যায় এবং বাস্তুচ্যুতি, আশ্রয়প্রক্রিয়া ও মানবপাচার চক্র নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় সাংবাদিক ও তথ্যসূত্রের মধ্যে পেশাগত সীমারেখা কীভাবে বজায় রাখা যায়—বক্তারা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে এসব বিষয়ও তুলে ধরবেন।
(এই বিষয়ে ২০২৫ সালে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেলের ভিডিও সাংবাদিকেরা দেখতে পারেন।)

রোয়ান ফিলিপ গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের বৈশ্বিক প্রতিবেদক ও ইমপ্যাক্ট এডিটর। এর আগে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সানডে টাইমস–এর প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। বিদেশি সংবাদদাতা হিসেবে তিনি বিশ্বের দুই ডজনেরও বেশি দেশ থেকে সংবাদ, রাজনীতি, দুর্নীতি ও সংঘাত নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন।