প্রবেশগম্যতা সেটিংস

অলংকরণ: জিআইজেএন

লেখাপত্র

বিষয়

বিক্ষোভে প্রাণঘাতী গুলির নির্দেশ, অবরুদ্ধ বম জনগোষ্ঠী, বিপদে দ্বীপটির আবাসস্থল: ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:

গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে একটি অন্তবর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। তবে, এই সরকারের শাসনামলেও বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা বা নির্যাতন থেমে নেই। এই সময়ে অন্তত দুজন সাংবাদিক নিহত ও ২৯৭ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ও সন্ত্রাসবিরোধীসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। অন্তত দুই ডজন সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়েছে। এখনো ৫ জন সাংবাদিক জেলে আছেন।

২০২৫ সালের শেষ মাসে এক ন্যক্কারজনক হামলায় বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুটি গণমাধ্যম—প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রধান কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং সেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ক্ষয়ক্ষতির ফলে ১৯ ডিসেম্বর এই দুটি পত্রিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনা পত্রিকা দুটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দৈনিক সংস্করণ প্রকাশে ব্যর্থ হওয়ার নজির সৃষ্টি করে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন বলছে অন্তবর্তী সরকারের সময় প্রভাবশালী সরকারি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাপে বাংলাদেশের অন্তত ২০টি গণমাধ্যমের বিভিন্ন শীর্ষ পদে (সম্পাদক, হেড অব নিউজ, প্রধান বার্তা সম্পাদক) বদল, চাকরিচ্যুতি ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

গণমাধ্যম নানামুখী চাপের মধ্যে থাকলেও এই সময় কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বরং বিগত সরকারের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশ কিছু গণমাধ্যম এবং নতুন করে অনুমোদন নিয়ে আরও কয়েকটি গণমাধ্যম সম্প্রচার ও প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।

তবে আশার কথা হলো ২০২৫ সালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪৯ তম। অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৬৫ তম অবস্থান থেকে সামান্য উন্নতি হয়েছে।

দেশের সংবাদমাধ্যমের মালিকানা মূলত সরকারপন্থী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। যাঁরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করার বদলে দমন করতেই বেশি আগ্রহী। ফলে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে। আরএসএসও বলছে, বাংলাদেশে সংবাদ ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ভূমিকা বাড়ছে।

এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ও স্বাধীন করতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করলেও এই কমিশনের সুপারিশগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

তবে পরিস্থিতি যাই থাকুক গত এক বছরে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরকার ও ক্ষমতাশালীদের জবাবদিহির উদ্দেশে বেশ কিছু ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রচেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা পতিত সরকারের সময়ের পাশাপাশি বর্তমান সময়ে দুর্নীতি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন, অর্থ ও মানব পাচার, কৃষি, পরিবেশ ও জলবায়ু, ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন।

 

বিক্ষোভ দমাতে প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ

During student-led protests against the Bangladeshi government in the summer of 2024, numerous demonstrators were gunned down by police.

২০২৪ সালের গ্রীষ্মে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সংঘটিত প্রতিবাদ আন্দোলন। গ্রীষ্মজুড়ে অনুষ্ঠিত একাধিক বিক্ষোভে পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ছবি: শাটারস্টক

বাংলাদেশে গত বছর সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই দিয়েছিলেন বলে বিবিসি আই ও বিবিসি বাংলার যৌথ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। একটি ফাঁস হওয়া অডিও রেকডিং যাচাই করে বিবিসি বলছে, শেখ হাসিনার সেই নির্দেশনায় বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের “যেখানে পাবে, সোজা গুলি করবে”।

জাতিসংঘের তদন্তকারী দলের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ওই আন্দোলন ও সহিংসতায় অন্তত ১,৪০০ জন মানুষ প্রাণ হারান। বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তৎকালিক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছেন।

ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংটি “শেখ হাসিনার বেআইনি কোনও উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটায় না” বলেও মন্তব্য করেছেন তার দলের নেতারা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয় ফাঁস হওয়া অডিওটি গত ১৮ই জুলাই নিজের সরকারি বাসভবন থেকে শেখ হাসিনার ফোনালাপের। বিবিসি ইয়ারশটের অডিও ফরেনসিক এক্সপার্টদের দিয়ে এই রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করেছে এবং তারা এটিতে এডিট করার বা কোনো রকম পরিবর্তন করার কোনো প্রমাণ পায়নি। অডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে এমন সম্ভাবনাও খুবই কম বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাষ্ট্রের নজরদারি

Daily Star Bangladesh's Surveillance State

ছবি: স্ক্রিনশট, দ্য ডেইলি স্টার

ডেইলি স্টারের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত মোবাইল ফোনে আড়ি পেতে ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করতে এবং কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে একসঙ্গে কয়েক হাজার মানুষের সব ধরনের যোগাযোগে আড়িপাতার সক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল পরিকাঠামো কিনেছে বাংলাদেশ সরকার।

পত্রিকাটি বলছে, পুলিশ, র‍্যাব ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) যৌথভাবে নজরদারির সরঞ্জাম কিনে  ইন্টিগ্রেটেড ল’ফুল ইন্টারসেপশন সিস্টেম (আইএলআইএস) নামে দেশব্যাপীবিস্তৃত একটি পরিকাঠামো তৈরি করেছে। যা সব নাগরিকের ইন্টারনেট ও টেলিকমিউনিকেশন ট্রাফিকের বিপুল তথ্য, অনায়াসেই নজরদারি, বিশ্লেষণ এবং সংরক্ষণ করতে সক্ষম। এবং বিভিন্ন সংস্থার জন্য রিয়েল-টাইম কেন্দ্রীয় নজরদারি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।

অন্যদিকে, র‍্যাব ও পুলিশ লক্ষ্যভিত্তিক আড়িপাতা যন্ত্র, মোবাইল ফোন ও যানবাহন জ্যামার এবং জিপিএস ট্র্যাকারও সংগ্রহ করেছে।

ডেইলি স্টার বলছে আড়িপাতার এই পুরো ব্যবস্থাটি অপরাধ প্রতিরোধ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি নিরসনে ব্যবহৃত হতে পারে ঠিকই, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, স্বচ্ছতার অভাবে এমন শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

অবরুদ্ধ বম জনগোষ্ঠী

Netra News Bawm community oppression

ছবি: স্ক্রিনশট, নেত্র নিউজ

নেত্র নিউজ সম্প্রতি বান্দরবানে বম জনগোষ্ঠীর উপর চলা সেনা অভিযান ও তাদের অবরুদ্ধ জীবন নিয়ে  প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০২২ সাল থেকে বম সম্প্রদায়ের ১৯ জন সদস্য নিহত এবং ৫৯ জনকে বিনা বিচারে আটক রাখার তথ্য উঠে এসেছে, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বমদের নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, নাগরিক অধিকার হরণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বমদের জীবনযাত্রার দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

নেত্র নিউজ বলছে, ১১ জন বম নারী এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিলেন।  প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সেনা অভিযানে অন্তত ৩০ জন বম নারী ও শিশুকে গ্র্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আট মাসের অন্তসত্ত্বা নারীও ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বম সম্প্রদায়ের একজন সদস্যের তৈরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নামে জনগোষ্ঠীর মানুষের চলাফেলা ও জীবিকা কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। বাজারে যেতে হলেও সেনা বাহিনীর অনুমতি নিতে হয়। সেনা অভিযান ও গ্রেপ্তারের ভয়ে বমদের ছয়টি পাড়া এখন জনশূন্য।

গুমের শিকার প্রজন্ম

Star News generation of disappearances

ছবি: স্ক্রিনশট, স্টার নিউজ, ইউটিউব

বাংলাদেশের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে বহু অপহরণ ও গুমের অভিযোগ উঠেছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ১,৯০০ জন মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৫০ জনের অবস্থার কোনো তথ্য নেই।

বেসরকারি টেলিভিশন স্টার নিউজ অনুসন্ধান করেছে এই নিখোঁজ মানুষের ভাগ্যে কি ঘটেছে? চ্যানেলটি তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলছে, গুম হওয়ার পর যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের অনেককেই হত্যা করা হয়েছে এবং নাম-নিশানা বা শনাক্তকরণ এড়াতে তাদের মৃতদেহ বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

স্টার নিউজের অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শী, ট্রলার চালক, বেঁচে ফিরে আসা কয়েকজনের বক্তব্য রয়েছে। তাছাড়া গুমের সঙ্গে জড়িত এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সোর্সরাও কথা বলেছেন। এই সূত্রগুলো কিছু কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেছে যারা হত্যার পর মৃত্যদেহগুলো ফেলার সঙ্গে জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একবারে এক থেকে নয়জন মানুষকে হত্যা করা হতো এবং এই এলাকায় প্রায় ২০০ লাশ গুম করা হয়েছে।


সন্দ্বীপে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

Prothom Alo climate change on Sandwip Island

ছবি: স্ক্রিনশট, প্রথম আলো

২০ বছর আগেও দ্বীপটির মিষ্টি আলুর কদর ছিল। অথচ  সেই সন্দ্বীপে এখন মিষ্টি আলুর দেখা তো নেই-ই। চার মাস রাজাশাইল আমন ধান ছাড়া বছরের বাকি আট মাস বলা যায় শূণ্য থাকে ফসলের মাঠ। উর্বর পলিমাটির এই দ্বীপ থেকে উধাও হয়ে গেছে ডাল, তিল, তিশি, মরিচ, আলু, তরমুজ, বাঙ্গি, শীতের সবজির মতো ফসলও। রবিশস্য বলে তেমন কিছুই নেই এখানে।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে সন্দ্বীপের কৃষি হ্রাসের সাতটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে: তীব্র তাপদাহে কৃষকদের মাঠে টিকতে না পারা, মাটি-পানির লবণাক্ততা বেড়ে ফলন নষ্ট হওয়া, সেচের জন্য মিঠাপানির হাহাকার, অনাবৃষ্টি-অতিবৃষ্টি বা অসময়ে বৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী খরা, ঘন ঘন ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং নতুন নতুন রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উৎপাত। কারণগুলোর প্রতিটিই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রথম আলো সেখানকার কৃষকদের ওপর একটি সমীক্ষা চালায়। তাছাড়া কৃষি বিশেষজ্ঞ, জলবায়ু ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ও  সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ২০ বছরে কৃষি উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, যার ফলে অনেক কৃষক পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

নিডেল ডিভাইস, চাপে শ্রমিকেরা

Rest of World, digital tracking pressures garment workers

স্ক্রিনশট, রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে স্মার্ট মনিটরিং ও অটোমেশন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকার শীর্ষ গার্মেন্টস কারখানাগুলো এখন “Nidle” নামে ইন্টারনেট‑যোগাযোগযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করছে, যা শ্রমিকদের সেলাই কাজের গতি ও নির্দিষ্ট উৎপাদন লক্ষ্য পূরণের ওপর ডিজিটাল নজর রাখে।

রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ডের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশি পোশাক খাতে ডিজিটাইজেশন ও অটোমেশনের নেতিবাচক প্রভাব উঠে এসেছে। নতুন এই ট্র্যাকিং প্রযুক্তি শ্রমিকদের, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের মধ্যে চাপ ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং চাকরি হারানোর কারণও হয়েছে। শ্রমিকরা জানান, মেশিনের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে না পারলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি থাকে এবং চাপ এতটাই বেশি যে অনেকে সামান্য বিশ্রামও নিতে পারছেন না।

কারখানিগুলো উৎপাদন বাড়াতে এসব প্রযুক্তি গ্রহণ করলেও শ্রমিকদের কাজের ব্যাপ্তির সঙ্গে তাদের আয় বাড়েনি, বরং বেতন বৃদ্ধি মূলত রাজপথে শ্রমিক সংগঠনের আন্দোলনের মাধ্যমেই এসেছে।

নির্লজ্জভাবে নদী তীরের ভূমি দখল

The Daily Star cement company land grab

স্ক্রিনশট, দ্য ডেইলি স্টার

 মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনায় সিমেন্ট উৎপাদন কারখানা উভয় নদীর কিছু অংশ দখল করেছে, যা প্রাকৃতিক প্রবাহ ও পরিবেশব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যহত করছে— চারটি সরকারি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ডেইলি স্টার।

যদিও সিমেন্ট কোম্পানিটি বেআইনিভাবে দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কিন্তু, তারা দুটি নদীর মাঝের এই জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে রাজি হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দশক আগে এই সিমেন্ট কারখানাটি স্থাপনের আগে ধলেশ্বরী ছিল একটি জীবন্ত নদী। স্থানীয়দের জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। ২০০৫ সালের দিকে প্রথমে কারখানাটি ছোট্ট একটি জায়গায় গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বালু ফেলে ধীরে ধীরে তারা জায়গা বাড়াতে থাকে।

সরকারি গ্যাস নিয়ে লুটপাট

Jamuna TV looting government gas

ছবি: স্ক্রিনশট, যমুনা টিভি, ইউটিউব

বেসরকারি কোম্পানির মূল্যের অর্ধেকেরও কম দামে বাংলাদেশ সরকার এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে। অথচ সাধারণ মানুষ জানেই না এই দামে এই গ্যাস কোথায় পাওয়া। যমুনা টেলিভিশনের থ্রি সিক্সটি ডিগ্রির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সরকারি গ্যাস নিয়ে লুটপাটের এমন চিত্র। যেখানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারের ভর্তুকি দেওয়া গ্যাসকে খোলা বাজারে পাচারের একটি কৌশলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

গত এপ্রিল মাসে যমুনা টেভিশিন তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এরপর ডিসেম্বরে একটি ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশের পর জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই তদন্ত কমিটি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৯টি সুপারিশ করেছে। কিন্তু এতো কিছুর পরও ঠেকানো যাচ্ছে না চক্রটিকে। ফলে কম দামের অন্য সিলিন্ডারে ভরে গ্যাস বেশি দামে বিক্রি করেই চলেছে চক্রটি।


শেখ তানভীর মাহমুদ জিআইজেএন-এর বাংলা সম্পাদক। তিনি এর আগে প্রথম আলোতে ডেপুটি চিফ রিপোর্টার এবং ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন ডিজিটালে সিএনই হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রধান সংবাদকক্ষগুলোর মধ্যে মাল্টিমিডিয়া সোশ্যাল মিডিয়া কৌশল উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দুটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত (সহকারী) অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। রিপোটিং, নিউজ ম্যানেজার হিসেবে ছাপা পত্রিকা ও ডিজিটাল মিডিয়ায় তার ২১ বছরেরও বেশি সময় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

 

 

 

 

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

সংবাদ ও বিশ্লেষণ সম্পাদকের বাছাই

জিআইজেএন রিসোর্স সেন্টার: ২০২৫ সালের সেরা গাইড ও টিপশিট

অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য প্রাসঙ্গিক নানা পরামর্শ ও নির্দেশনা রয়েছে এই রিসোর্স সেন্টারে । বর্তমানে এর আর্কাইভে ১৪টি ভাষায় ২ হাজারের বেশি টিপশিট ও গাইড থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণমূলক ভিডিও রয়েছে। আমাদের বাছাই করা এই বছরের সেরা গাইড ও টিপশিটগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।

সংবাদ ও বিশ্লেষণ সম্পাদকের বাছাই

জিআইজেএন রিসোর্স সেন্টারের ২০২৪ সালের সেরা গাইড ও টিপশিট

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় সাংবাদিকদের। তথ্য সংগ্রহ, অংশীদারত্বমূলক কাজ, প্রকল্পের অর্থ যোগান , পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা জ্বালানী বিষয়ক প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার রসদ পেতে বেশ কিছু গাইড প্রকাশ করেছে জিআইজেএন। দেখুন এই প্রতিবেদন।

পরামর্শ ও টুল সংবাদ ও বিশ্লেষণ সম্পাদকের বাছাই

জিআইজেএনের ২০২৪ সালের সেরা অনুসন্ধানী টুল

কৌতূহল, সাহস ও অংশিদারত্ব বছরজুড়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিয়েছে। এই সাংবাদিকতাকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে দারুন কিছু টুল। একনজরে দেখে নিন চলতি বছরের সাড়া জাগানো অনুসন্ধানে ব্যবহৃত টুল ছিল কোনগুলো।

সংবাদ ও বিশ্লেষণ সম্পাদকের বাছাই

চীন-পন্থী প্রচারণা, গুপ্তচরবৃত্তির সরঞ্জাম, সবুজ বিভ্রম: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ২০২৩ সালের সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

অনলাইনে প্রচারণা, ভুয়া তথ্য, নারী অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর সাইবার হামলা, অবৈধভাবে খনন বা গাছ কাটা বিষয়ে পরিচালিত কয়েকটি অনুসন্ধান জায়গা করে নিয়েছে জিআইজেএনের সম্পাদকের বাছাইয়ে।