প্রবেশগম্যতা সেটিংস

Uighurs protest China
Uighurs protest China

Image: Shutterstock

লেখাপত্র

বিষয়

“সেলফি” প্রচারণার ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে অনুসন্ধান

আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:

English

Uighurs protest China

ছবি: শাটারস্টক

২০২১ সালের প্রথম দিকে চীনের জিনজিয়ান প্রদেশের হাজার হাজার সেলফি ভিডিওতে সামাজিক মাধ্যম ভেসে গিয়েছিল। ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছিল, ঐ অঞ্চলে উইঘুর সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে সরকারি দমনপীড়ন এবং জোর করে কাজে বাধ্য করার যে প্রমাণ পশ্চিমা মানবাধিকার সংগঠন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সেগুলোকে উইঘুর নারী ও পুরুষেরা জোরালোভাবে অস্বীকার করছেন। 

নাপিত, গাড়ি মেরামতকারী, ও কাপড়ের দোকানদারদের মতো ভুক্তভোগীরা যখন তাদের দুর্দশার অতিরঞ্জিত উপস্থাপনার জন্য – ব্যক্তিগতভাবে, এবং দৃশ্যত স্বতস্ফূর্তভাবে – পশ্চিমা সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের তিরস্কার করেন, তখন এর চেয়ে বিশ্বাসযোগ্য আর কী হতে পারে?

প্রোপাবলিকা ও নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার সাংবাদিকেরা দীর্ঘ চার মাস ধরে অনুসন্ধান করে দেখতে পেয়েছেন, পাঁচ হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং বটের মাধ্যমে সেগুলোকে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ছিল বিশ্বাসযোগ্যতার একটি অনুভূতি তৈরি করা। দলটির অনুসন্ধানে উঠে আসে, ভিডিওগুলো ছিল মূলত রাষ্ট্রীয় প্রভাবে পরিচালিত, সমন্বিত একটি প্রচারণা – যা খুব সতর্কতার সঙ্গে পশ্চিমা প্লাটফর্মগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সম্ভবত, ভিডিওগুলোতে দৃশ্যমান ব্যক্তিদের অনেককেই ফের শোষণের শিকার হতে হয়। তাদের বক্তব্যও ছিল সাজানো। কমপক্ষে ৬০০ জন উইঘুর তাদের ভাষায় “সম্পূর্ণ অনর্থক,” শব্দগুচ্ছটি ব্যবহার করেছেন এবং “জন্ম ও বেড়ে ওঠা” আর “আমরা খুব স্বাধীন” এর মতো বাক্য উচ্চারণ করেছেন আরও কয়েক শ’।

“সাধারণ মানুষকে দিয়ে” লিখিত বা জোর করে কথা বলানোর এমন গণ মিথ্যা-প্রচারাভিযান যে সামনে আরও বাড়তে পারে – এমন সম্ভাব্য কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা নিয়েও সতর্ক করেছে রিপোর্টিং দলটি। যেমন; অচিরেই কি দেখা যাবে “সাধারণ ইউক্রেনীয়রা” রুশ আগ্রাসন সমর্থন করছেন, অথবা রাশিয়ার সামরিক পরিবারগুলো যুদ্ধের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জোর দিয়ে বলছেন? 

সেলফি অপপ্রচারের ব্যবচ্ছেদ   

NICAR22 logo

ছবি: স্ক্রিনশট

ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টারস অ্যান্ড এডিটরস আয়োজিত নিকার২২ ডেটা সাংবাদিকতা সম্মেলনের একটি সেশনে, জিনজিয়ান প্রজেক্টের শীর্ষ ডেটা রিপোর্টার প্রোপাবলিকার জেফ কাও ও নিউইয়র্ক টাইমসের অ্যারন ক্রোলিক বহুস্তরবিশিষ্ট এই প্রচারণা উদঘাটনে তাঁদের ব্যবহার করা টুল ও কৌশলগুলো বর্ণনা করেছেন। এই দলের অন্য দুই সদস্য, রেমন্ড ঝং ও পল মজুরের তৈরি “চীন যেভাবে করোনাভাইরাস সেন্সর করেছে” শিরোনামের অনুসন্ধানটি, একটি বিশদ ধারাবাহিকের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে পাবলিক সার্ভিস রিপোর্টিংয়ের জন্য পুলিৎজার পুরষ্কার জিতেছে।

তাঁদের জিনজিয়ান স্টোরি এই প্রচারণাকে অভিহিত করেছে “বিশ্ব জনমত বদলে দিতে চীনের সবচেয়ে বিস্তৃত প্রচেষ্টাগুলোর একটি” হিসেবে এবং বলেছে, এখানে বিবৃতির যে ব্যবহার দেখা গেছে তা মিথ্যা প্রচারণাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার একটি “চতুরতর” চেষ্টার ইঙ্গিত বহন করে।  

কাও বলেছেন, সাধারণভাবে উইঘুরদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করাই প্রচারণাটির মূল বিষয় ছিল, তবে তারা সেখানে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার আরও দুটি বিষয়বস্তু এবং এই কার্যক্রম পরিচালনার তিনটি পর্ব খুঁজে পেয়েছেন:

  • প্রথম দফার ভিডিওগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর একটি বক্তব্যের নিন্দা জানানো হয়। ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারিতে দেয়া সেই বক্তব্যে তিনি উইঘুরদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নকে “গণহত্যা” বলে বর্ণনা করেছিলেন।
  • জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে পশ্চিমা পোশাকের পাইকারী ক্রেতারা যে জিনজিয়ানের তুলা শিল্প বর্জন করেছে – তার নিন্দা জানানো হয়, গত মার্চে, দ্বিতীয় দফায় ছাড়া বিপুল সংখ্যক ভিডিওতে।
  • কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ অ্যাপ, পোমেগ্রানেট ক্লাউডের জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে স্ক্রিপ্ট করা ভিডিও বার্তা চেয়ে অভিযানটির কার্যক্রম শুরু হয়। তাতে চীনা ভাষার সাবটাইটেলও যুক্ত করা হয়।
  • এরপর সরকারি এজেন্টরা সেই ভিডিও ক্লিপগুলোতে ইংরেজি সাবটাইটেল ও কোড জুড়ে দেন, যেন পশ্চিমা স্প্যাম ফিল্টার এড়ানো যায়।
  • তারপর এই নেটওয়ার্ক সেগুলোকে ইউটিউব ও টুইটারে ছড়িয়ে দেয় কিছু বট ও টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। কাও, এদেরকে “ওয়ারহাউজ অ্যাকাউন্ট” বলে অভিহিত করেছেন, যাদের কাজ-ই হল  ভিডিও বুস্ট ও হোস্ট করা। অনুসন্ধানে এমন ৩০০টি টুইটার অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়।

এই সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের অনুসন্ধানে দুটি অত্যাধুনিক টুল বেশি কাজে এসেছে: ইমেজ-লেবেলিং টুল গুগল ক্লাউড ভিশন (জিসিভি) যা টাকা দিয়ে কিনতে হয় এবং কমান্ড লাইন ডাউনলোড ম্যানেজার ইউটিউব-ডিএল যা ওপেন সোর্স ও বিনা পয়সায় ব্যবহার করা যায়। গত বছর এটি সাংবাদিকদের জন্য একটি শক্তিশালী টুল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা ক্লোজড-সোর্স পোমেগ্রানেট ক্লাউড অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটিকে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার করার জন্য উন্নত টুল এবং কোডিং কৌশলও ব্যবহার করেছেন, যাতে মূল ক্লিপগুলো খুঁজে বের করা যায়। 

প্রথাগত রিপোর্টিংও সেলফি-প্রচারণা উন্মোচন করতে পারে

এই সেশন থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল: এমন প্রকল্পের ছোট কিন্তু কার্যকর একটি অংশ, ম্যানুয়ালিই সম্পাদন করা যায়। এজন্য স্ক্র্যাপিং বা কোডিং দক্ষতা লাগে না। কেবল বিশ্লেষণের নীতিমালার একটি সেট প্রয়োগ (নিচে দেখুন) এবং ইউটিউব এবং টুইটার চ্যানেলগুলোতে বারবার ক্লিক করলেই চলে।

 ক্রোলিক বলেন, পার্থক্য ছিল মূলত ভিডিওর পরিমাণে। দলটি স্বয়ংক্রিয় টুল ব্যবহারে বাধ্য হয়েছিল, কারণ তাঁরা এই প্রচারণার ৫০০০ মৌলিক ও নকল  ভিডিও প্রক্রিয়াজাত ও বিশ্লেষণ করতে চেয়েছিলেন। যদিও সমন্বিত প্রচেষ্টা বোঝানোর জন্য প্রথম দিকে পাওয়া ২০০ ভিডিও, ম্যানুয়ালি বিশ্লেষণ করাই যথেষ্ট ছিল। 

তাদের মতে, প্রথাগত রিপোর্টিংও এই প্রচারণার সংগঠকদের মুখোশ উন্মোচন করতে পারে। 

যেমন, ভিডিওতে যারা কথা বলেছেন রিপোর্টাররা শুধু তাদেরই ফোন করার চেষ্টা করতে পারেন। একটি ঘটনায় প্রকল্পটির একজন প্রতিবেদক এক ব্যক্তিকে ফোন করেন, যার ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে পুরনো গাড়ির ডিলারশিপ দেখা গিয়েছিল। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই জানান, ভিডিওটি করেছিলেন একজন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা। “আপনি কেন প্রচারণা বিভাগের প্রধানকে প্রশ্ন করেননি?” – এই বলে তিনি সেই কর্মকর্তার ফোন নাম্বারও দিয়ে দেন।

ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড বৈশিষ্ট্য নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর অবশেষে তাদের অনুসন্ধান সফল হয়। ক্রোলিক বলেন, তারা ভিডিওর সাব-টাইটেলের প্রতিলিপি তৈরি করেন এবং সেই প্রতিলিপিতে চমকপ্রদ প্যাটার্ন খুঁজে পান।

তিনি বলেন, স্টোরিটি প্রকাশ পাওয়ার সপ্তাহখানেক আগে অনুসন্ধানী দলটি প্রচারণা-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর ইউআরএল সম্পর্কে টুইটার কর্তৃপক্ষকে জানায় এবং তারা দ্রুততার সাথে অ্যাকাউন্টগুলো সরিয়ে ফেলে। ক্রোলিক বলেন, অ্যাকাউন্টের স্বতন্ত্র প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখা প্লাটফর্মগুলো যখন ভিডিও ও অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নেয় – একেই রিপোর্টাররা সেগুলোর বিষাক্ততার বাড়তি নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। 

Screenshot of deleted Uighur "selfie" video dismissing claims of Chinese mass internment

২০২১ সালের জিনজিয়ান মিথ্যা প্রচার অভিযানের ৩০০০ মৌলিক ভিডিও ও সর্বমোট ৫০০০ ক্লিপের একটিকে ফিচার করা টুইটের স্থিরচিত্র, যা সম্প্রতি মুছে ফেলা হয়েছে। এই বার্তাগুলোতে বারবার “অবজেক্ট অবজেক্ট” লেখার মতো স্ক্রিপ্টিং ত্রুটি পাওয়া যায়, আর হলুদ রঙ দিয়ে দৃষ্টিগোচর করা পাঁচটি চীনা চিহ্নের মতো নানান প্রচেষ্টা দেখা যায়, যার উদ্দেশ্য মূলত প্লাটফর্মের স্প্যাম ফিল্টার এড়ানো। ছবি: স্ক্রিনশট

রাষ্ট্র সমর্থিত মিথ্যা “সেলফি” প্রচারণার নিদর্শন

  • লিখে দেওয়া বা প্রায় একই শব্দ-বিন্যাস ব্যবহার করে দেওয়া বিবৃতি।
  • পশ্চিমা প্লাটফর্মের বিভিন্ন চ্যানেলে, সাবলীল স্থানীয় ভাষায় এবং ইংরেজি সাব-টাইটেলসহ ভিডিও বারবার পোস্ট করা। 
  • সন্দেহজনকভাবে একইরকম ব্যাকড্রপ। (কাও এবং ক্রোলিক কখনই একই দোকানে শুট করা ভিন্ন ভিডিও খুঁজে পাননি — তবে যেমনটি তারা দেখেছেন যে জামাকাপড়ের তাক এবং পোশাকের দোকানের দেয়াল এই প্রচারণার বিবৃতিগুলোতে একটি পছন্দের ব্যাকড্রপ ছিল।)
  • টুইট এবং রিটুইটের শেষে বন্ধনী এবং শতাংশ চিহ্নের মতো অদ্ভুত চিহ্ন বা অক্ষরের একটি ছোট স্ট্রিং। যেমন, স্প্যাম ফিল্টারকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে জিনজিয়াং প্রচারণার অনেকগুলো টুইট শেষ করা হয়েছে পাঁচটি আপাতদৃষ্টিতে অর্থহীন চীনা অক্ষর দিয়ে, যা এই প্রচারণার মূল নির্দেশক হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।
  • হঠাৎ করে একই ধরনের অনেক বিবৃতির স্রোত।
  • একই বিষয়ের ওপর প্রায় একই ব্যাপ্তির ভিডিও ক্লিপ: যেমন, ৮০ থেকে ৯০ সেকেন্ড।
  • ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে, এমনভাবে প্রোপাগান্ডা স্লোগান দেখানো যেন মনে হয় তা “কাকতালীয়”। জিনজিয়ানের অন্তত একটি বিবৃতি ধারণ করা হয়েছে “কাজের মধ্যেই সুখ নিহিত” লেখা একটি ব্যানারের সামনে – যে স্লোগান, ক্রোলিকের মতে, নাৎসি প্রোপাগান্ডার উদ্বেগজনক প্রতিধ্বনি।
  • টুইটে জাভাস্ক্রিপ্ট ত্রুটি – যেমন, “অবজেক্ট অবজেক্ট” শব্দবিন্যাস বা লেখায় কম্পিউটার কোডের উপস্থিতি।
  • অবিশ্বাস্য বিবৃতি – যেমন, গণমাধ্যম বা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নথিবদ্ধ করা একটি গুরুতর সমস্যা সম্পর্কে জানার মতো অবস্থানে থাকার পরও কোনও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বা একাডেমিক যখন সরাসরি সমস্যাটির গুরুত্ব অস্বীকার করেন।
  • একই বিষয়ের ওপর অনেকগুলো ভিডিও পোস্ট করা টুইটার অ্যাকাউন্ট, যদিও অনুসারীর সংখ্যা হাতেগোনা। এগুলো উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণায় নিয়োজিত “ওয়্যারহাউজ অ্যাকাউন্ট” হতে পারে। কাও বলেন, “নিজেকে প্রশ্ন করুন: ‘মাত্র পাঁচ জন অনুসারী নিয়ে এই অ্যাকাউন্ট কী করে, কোথা থেকে এতসব ভিডিও পাচ্ছে?’”

পরিশেষে কাও বলেন, “নিছক টুইটার স্ক্রল করা এবং প্রচুর ব্রাউজ করাও কাজে আসে।”

তবে, কোঅর্ডিনেটেড (সমন্বিতভাবে একসঙ্গে দেওয়া) বিবৃতিকে মিথ্যা প্রমাণের জন্য ভাষাগত দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক জ্ঞানের ওপর জোর দিয়েছেন কাও। তিনি বলেন, “ভিডিওর ভাষায় কথা বলতে এবং তার প্রেক্ষাপট বুঝতে পারেন – এমন কেউ না থাকলে আমি কখনো এরকম অনুসন্ধান করতাম না। নয়তো, ‘এটি একটি প্রোপাগান্ডা ভিডিও’ বলে আপনি নিজেকে বোকা প্রমাণ করবেন; পরে দেখা যাবে সেটি নিছক একটি স্ন্যাকসের বিজ্ঞাপন।”

ক্রোলিক বলেন, শুরুর দিকে তাঁর দল এমন ভিডিও খুঁজেছে যেগুলো একই জায়গায় ধারণ করা হয়েছে অথবা যেখানে কোনো পেশাদার অভিনেতা বিভিন্ন জায়গা থেকে একই কথা বলে গেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত মিথ্যা প্রচারণার ধরনের সঙ্গে ভিডিওগুলোকে মিলিয়ে দেখা, কিন্তু তারা কিছুই পাননি।

তাঁরা বরং আরও উচ্চাভিলাষী অপপ্রচার প্রকল্পের সন্ধান পান, যেখানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে স্বতন্ত্র, আগে থেকে স্ক্রিপ্ট করা ভিডিও তৈরির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেগুলোকে ঘষামাজা করে পশ্চিমা প্লাটফর্মে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

সেলফি-প্রচারণা অনুসন্ধানে পরামর্শ

প্রোপাবলিকা/নিউইয়র্ক টাইমসের দলটি এধরনের বিবৃতিনির্ভর প্রচার অভিযান অনুসন্ধানের জন্য ১২টিরও বেশি পরামর্শ দিয়েছে:

  • সন্দেহজনক ভিডিও চিহ্নিত হওয়ার পর সেগুলোর মূল অ্যাকাউন্ট ও চ্যানেল “খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে” দেখুন এবং যে কোনো ব্রেকিং, ভাইরাল প্রচারণা সম্পর্কে আপনার রিয়েল-টাইম নোটটি দলগত চ্যাটে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
  • ভিডিওর ভাষা এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট জানেন এমন দলীয় সঙ্গীদের সাহায্য, তালিকাভুক্ত করুন৷
  • প্ল্যাটফর্মগুলোতে গিয়ে গিয়ে “ক্লিক করতে থাকুন” এবং স্ক্র্যাপিং ফিল্টার হিসাবে অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে অদ্ভুত অক্ষরের স্ট্রিং, একই রকম কনটেন্ট এবং পোস্টিংয়ের সময়ে মিল পেলে ক্লুগুলোকে  পিন করে রাখুন৷
  • সন্দেহজনক ভিডিও দেখামাত্র ডাউনলোড করুন, কারণ অনেক সময় অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী বা প্লাটফর্ম কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে সেগুলো সরিয়ে নেয় অথবা গোপন করে। আপনার যদি মৌলিক কমান্ড লাইন দক্ষতা থাকে, তবে ইউটিউব-ডিএল ব্যবহার করুন, কারণ তাঁদের মতে, এখন এই টুলটির শক্তিশালী যাচাই-সক্ষমতা আছে। (অন্য রিপোর্টারেরা টুইটার ভিডিও ডাউনলোডার ডট কম এর মতো ব্যবহারকারী-বান্ধব ডাউনলোড সাইট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর জন্য কোনো কোডিং দক্ষতার প্রয়োজন নেই, তবে সতর্ক থাকুন, কারণ কোনো থার্ড-পার্টি সাইট প্লাটফর্ম অধিকার নীতি ইস্যুতে আপত্তি তুলতে পারে।)
  • এই প্রচারণার একটি মানদণ্ড দাঁড় করান: কতগুলো মৌলিক ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে এবং কতগুলো প্লাটফর্মে ও কোন সময়ে সেগুলো পুনরায় পোস্ট করা হয়েছে?
  • আপনি যদি পোমেগ্রানেট ক্লাউডের মতো সবার জন্য উন্মুক্ত নয়, এমন অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা পান, তবে এই প্রচারণার জন্য নিবেদিত অংশে নজর দিন। তুলা শিল্প নিয়ে মিথ্যা প্রচারণার জন্য পোমেগ্রানেটে আলাদা একটি অংশ আছে দেখে  জিনজিয়ান প্রকল্পের অনুসন্ধানী দল অবাক হয়েছিল। কাও উল্লেখ করেছেন যে এ ধরনের অ্যাপে বেশিরভাগ সময় শক্তিশালী অথেনটিকেশন বা লগইন প্রয়োজন হয় না, এবং অ্যাপের কী-গুলো ডেটা রিপোর্টারদের নিজস্ব স্ক্র্যাপার তৈরি জন্য অ্যাক্সেস পয়েন্ট দিতে পারে।
  • নাম ও পোস্টিংয়ের তারিখের জন্য ভিডিওর মেটাডেটা খোঁজ করুন।
  • জিসিভি বা আপনার চেনা সবচেয়ে ভালো কনভার্সন টুল ব্যবহার করে ভিডিওকে স্থিরচিত্রের নমুনা ফ্রেমে রূপান্তরিত করুন।
  • ভিডিওফ্রেমে থাকা “ফিঙ্গারপ্রিন্ট” (পরিচিতিমূলত তথ্য) সংগ্রহ করুন – বিশেষ করে পরিমাণে বেশি হওয়ার কারণে যেগুলো গুগল ক্লাউড ভিশনের মতো অপটিকাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (ওসিআর) দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা বেশ কঠিন। ক্রোলিক ব্যাখ্যা করেন, এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পন্ন টুল ভিডিওতে কার্যকরভাবে মন্তব্য জুড়ে দেওয়া এবং এর উপাদানগুলোকে সার্চযোগ্য টেক্সটে রূপান্তরিত করার জন্য ওসিআর ব্যবহার করে থাকে। আরেকটি পরামর্শ হলো: আঙ্গুলের ছাপ খোঁজা অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করুন। ক্রোলিক বলেন, কারণ, আপনার কাজ চলতে চলতেই এই টুলগুলো তাদের অ্যালগরিদম হালনাগাদ করতে পারে, যা পরবর্তী ফলাফলগুলোকে সূক্ষ্মভাবে বদলে দিতে পারে।
  • আঙ্গুলের ছাপের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভিডিওগুলোকে গুচ্ছবদ্ধ করুন। কাও ব্যাখ্যা করেন, “দুই মিনিটের ৫০০০ ভিডিও দেখার মতো সময় আমাদের  হাতে নেই। তাই বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভাগ ভাগ করা বেশ সহায়ক।” এই প্রকল্পে কাওয়ের কাছে নথি পাঠাতে ক্রোলিক ব্যবহার করেছেন জিসিভি টুল, যা “হেয়ার সেলুন,” “গাছবেষ্টিত উঠান,” “কাপড়ের সামনে কেউ,” অথবা “ওখানে বাজার” – এমন বৈশিষ্ট্য ধরে ভিডিওগুলোকে তালিকাবদ্ধ করেছে। এরপর, কাও নথির টেক্সটকে ব্যবহার-উপযোগী ডেটায় বদলে নেন – আর সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করতে তিনি মিনহ্যাশএলএসএইচ এর মতো তুলনা করার আধুনিক সেট অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন।
  • ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হোক বা সফটওয়্যার ব্যবহার করে, সাবটাইটেলযুক্ত ভিডিওগুলোর ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরি এবং বিশ্লেষণ করুন। (এই প্রকল্প এফএফএমপেগ, ইমেজম্যাজিক, ও গুগলের ডিটেক্ট টেক্সট ব্যবহার করেছে।)
  • অটোমেটেড প্রকল্পগুলোর জন্য: সাব-টাইটেলের আশেপাশের ফ্রেমগুলো কার্টুন ও কাটা অংশগুলো একটি আনুভূমিক লাইনে জোড়া দিন। পরামর্শ: বেশ কিছু ওসিআর টুল ছবি প্রতি চার্জ ধার্য করে। তাই ক্রোলিক, ছবির সাব-টাইটেলযুক্ত কাটা অংশগুলোর একটি লম্বা সারি তৈরির পরামর্শ দেন, যেন প্রক্রিয়াজাতকরণে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য একটি মাত্র সংযুক্ত ছবি পেশ করা যায়।
  • কী-ওয়ার্ড ফিল্টারের মাধ্যমে প্রচারণার বাইরের সম্ভাব্য ভিডিওগুলো বাদ দিন। প্রচারণার প্রধান একটি বা দুইটি কী-ওয়ার্ড চিহ্নিত করুন, যেমন: জিনজিয়ান প্রকল্পের জন্য “পম্পেও” ও “তুলা” – এবং ম্যানুয়ালি সার্চ বা ওসিআর টুল ব্যবহার করে, কী-ওয়ার্ডের উল্লেখ নেই এমন ভিডিওগুলো বাদ দিন।
  • প্রকাশনার আগে প্রাসঙ্গিক সামাজিক মাধ্যম প্লাটফর্মের সঙ্গে প্রচারণার ইউআরএল শেয়ার করুন, এবং তাদের বাদ দেয়া অ্যাকাউন্টগুলো লিখে রাখুন।

কাও বলেন, “ভিডিওগুলোতে অস্বাভাবিক কিছু দেখলে, এগুলোর পিছনে কী থাকতে পারে, তা মনে মনে ভেবে রাখতে পারেন। এটি নিছক একজন সুখী গ্রামবাসীও হতে পারে, কিন্তু আপনি যখন একটি কাঠামো দেখতে পাবেন, তখনই একটি নতুন মডেল সামনে আসবে।”

তিনি আরও বলেন: “একই ধরনের কনটেন্ট নিয়ে অনেকগুলো ভিডিও দেখে বিষয়টি বেশ কৌতুহল জাগানিয়া বলে মনে হয়েছিল। বিরক্তিকর না হলে, এটি বেশ হাস্যকর হতে পারত।”

আরও পড়ুন

চীনা “গুগল ম্যাপ” ঘেঁটে জিনজিয়াংয়ের বন্দীশিবির অনুসন্ধান

এক্সপার্ট টিপস ফর ডিগিং আউট দ্য রুটস অব ডিসইনফরমেশন

ভুয়া তথ্য ছড়ানোর নেপথ্যে কারা – অনুসন্ধান করবেন কীভাবে?


রোয়ান ফিলিপ জিআইজেএনের প্রতিবেদক। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সানডে টাইমস পত্রিকার সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। বিদেশি প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বের ২৪টির বেশি দেশে সংবাদ, রাজনীতি, দুর্নীতি ও সংঘাত নিয়ে রিপোর্ট করেছেন।

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

BBC Newsnight NHS investigations lessons learned

কেস স্টাডি

যেভাবে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসেবা কেলেঙ্কারির স্বরূপ উন্মোচন করেছে বিবিসি নিউজনাইট

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে ছোট একটি অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করেছিল বিবিসি নিউজনাইট। কিন্তু পরবর্তীতে এক বছরব্যাপী অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে নানাবিধ অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বিস্তারিত চিত্র। পড়ুন, পুরস্কারজয়ী অনুসন্ধানটির নেপথ্যের গল্প ও অভিজ্ঞতা-পরামর্শ।

Studio, headphones, microphone, podcast

সংবাদ ও বিশ্লেষণ

ঘুরে আসুন ২০২৩ সালের বাছাই করা অনুসন্ধানী পডকাস্টের জগত থেকে

নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হয়েছে সাড়া জাগানো কিছু অনুসন্ধানী পডকাস্ট। এখানে তেমনই কিছু বাছাই করা পডকাস্ট তুলে এনেছে জিআইজেএনের বৈশ্বিক দল।

সংবাদ ও বিশ্লেষণ সম্পাদকের বাছাই

চিংড়ি চোরাচালান, হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড, তামাক শিল্পের ক্ষতিকর প্রভাব: চীন, হংকং ও তাইওয়ানের ২০২৩ সালের সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

অনেক বাধাবিপত্তি ও চ্যালেঞ্জের মুখেও চীন, হংকং ও তাইওয়ান থেকে ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে প্রভাব তৈরির মতো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। এমনই কিছু প্রতিবেদন জায়গা করে নিয়েছে জিআইজেএনের সম্পাদকের বাছাইয়ে।

InterNation international journalism network

সংবাদ ও বিশ্লেষণ

ইন্টারনেশন: (সম্ভবত) বিশ্বের প্রথম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নেটওয়ার্ক

প্রায় ৪০ বছর আগে, গড়ে উঠেছিল অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের (সম্ভবত) প্রথম আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেশন। পড়ুন, এটির নেপথ্যের কাহিনী।