তথ্য অধিকার আইন দিয়ে রান্না শেখা!
৫০ বছরের বেশী সময় ধরে ‘সুস্বাদু’ একটি ডকুমেন্ট গোপন করে রেখেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)। নথিটির শিরোনাম, “শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর পাচকদের জন্য নির্দেশিকা।”
৫০ বছরের বেশী সময় ধরে ‘সুস্বাদু’ একটি ডকুমেন্ট গোপন করে রেখেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)। নথিটির শিরোনাম, “শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর পাচকদের জন্য নির্দেশিকা।”
দর্শকদের একটি বড় অংশ এখন কন্টেন্ট দেখেন মোবাইলে। এখানে জনপ্রিয় ৯টি স্টোরিটেলিং ফরম্যাটের কথা বলা হয়েছে, যা মোবাইল উপযোগী এবং বিশ্বের বড় বড় গণমাধ্যমগুলো এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। ফিনল্যান্ডের সর্ববৃহৎ দৈনিক হেলসিংগিন সানোমাটের ভিজ্যুয়াল সাংবাদিক, এমা-লিনা ওভাসকাইনেন, তালিকাটি চূড়ান্ত করেছেন, সাথে বেশ কিছু উদাহরণও দিয়েছেন।
ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনার জন্য আমার সবচেয়ে প্রিয় টুলগুলোর একটি ডকুমেন্ট ক্লাউড। এর সবচে দুর্দান্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, পিডিএফ থেকে টেক্সট তৈরি এবং আপলোড করা ফাইল থেকে পরিসংখ্যান বের করা। কিন্তু আপনাকে তথ্যের জন্য যখন হাজার হাজার দলিল বা ফাইল ঘাঁটতে হবে, তখন কী করবেন?
আমরা যা-ই ব্যবহার করি তার প্রায় সবকিছুই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবহন করতে হয়। এটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য খুব ভালো। এর মানে, প্রায় সবকিছুকেই অনুসরণ করে তার উৎস পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব। কিন্তু এজন্য জানতে হবে শিপিং জগতের নিজস্ব ভাষা আর ব্যবহার করতে হবে কিছু কৌশল।
অনলাইনে অনুসন্ধানের এমন কোনো টুল নেই, যা আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। এটি অনেকটা ধাঁধার মতো। প্রতিটি টুকরা জোড়া দিতে দিতে আপনাকে এগোতে হবে – কোথাও হয়তো একটি নাম পাবেন, অন্য কোথাও তার সঙ্গে কোনো সংযোগ – বিষয়টা এমনই। তবে ভালো খবর হলো, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন অন্তত কয়েক ডজন টুল পাওয়া যায়, যারা সেই ধাঁধার টুকরোগুলোকে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
কিলিং পাভেল তৈরি হয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অলাভজনক সংগঠন Slistvo.info এবং ওসিসিআরপি’র নেতৃত্বে। এই অনুসন্ধানের মূলে ছিল ৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে পাওয়া ফুটেজ- যা অনুসন্ধানী দলটিকে হত্যাকান্ডের সময় এবং পরবর্তী দিনগুলোতে ঘটে যাওয়া ঘটনা জোড়া দিতে সাহায্য করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাঁচটি কৌশল থাকছে এখানে।
জিআইজেএনের নতুন আঞ্চলিক ভাষা উদ্যোগ জিআইজেএন বাংলা যাত্রা শুরু করেছে। এটি পরিচালিত হচ্ছে আমাদের সদস্য সংগঠন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) এর সাথে অংশীদারিত্বে। এখানে আমরা প্রতিদিন শেয়ার করা হবে সেরা অনুসন্ধানী টিপস ও টুলস্, সাড়া জাগানো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, অনুদান ও ফেলোশিপ, ডেটা সেট এবং আরও অনেক কিছু।
অনেক বড় বড় অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত কাঠখোট্টা প্রতিবেদনে পরিণত হয়। এই সব গল্প কখনো পাঠকের বিরক্তির কারণ হয়; আবার কখনো তা বুঝাই অসম্ভব হয়ে দাড়ায়। দুঃখজনকভাবে, এই সব প্রতিবেদনে প্রতিক্রিয়া হয় নেহাত সামান্য অথবা একেবারেই শূন্য। ফলে মাসের পর মাস ধরে অনুসন্ধানের যে কষ্ট তা একরকম বৃথা হয়ে দাঁড়ায়। পড়ুন, কীভাবে লিখবেন পাঠকপ্রিয় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
চারিদিকে ব্যক্তিগত ডেটা হাতিয়ে নেওয়ার যত খবর আসছে, তাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সবারই কমবেশী শংকিত হওয়া উচিত। কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশী মনোযোগ দেয়া দরকার। কারণ, তারা গোপন সোর্স আর স্পর্শকাতর তথ্য নিয়ে কাজ করেন। পড়ুন, তথ্যের সুরক্ষায় যে চারটি কৌশল আপনি এখনই নিতে পারেন।
ইনফোগ্রাফ কীভাবে বানাতে হয়, তা আমাদের অনেকেরই জানা নেই। সময় থাকলে ভারি কোনো সফটওয়্যার শিখে নেওয়া যায় বা অর্থের বিনিময়ে পেশাদার কাউকে ভাড়া করা যায়। কিন্তু এই দুটোর কোনোটিই যদি না থাকে? গ্রাফিক্সের কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই যদি ইনফোগ্রাফ বানাতে চান, তাহলে জেনে নিতে পারেন এই অনলাইন টুলগুলো সম্পর্কে । শুধু এগুলো দিয়েই জন্ম দেয়া সম্ভব রীতিমত পেশাদার মানের কাজ।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আর দশটা স্টোরির মতই, তবে তাতে অনেক শ্রম দিতে হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা নথিপত্র খোঁজাখুঁজি, উৎস যাচাই আর তথ্য বিশ্লেষণে অজস্র সময় ব্যয় করেন – অবশ্য শেষপর্যন্ত যদি সেই তথ্য পাওয়া যায়। একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদক হিসাবে, আমাকে অনেক স্টোরি করতে হয়। আর সেইসব স্টোরির উৎস, গল্প বা প্রাথমিক সূত্র খুঁজে বের করতে আমি কিছু টুল সবসময় ব্যবহার করি। তথ্য খুঁজে বের করা, কাজের গতি বাড়ানো এবং অনুসন্ধানের ট্র্যাক রাখার জন্য সেরা তেমন ১০ টি টুলের সাথে এবার আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।
মিরান্ডা প্যাট্রুচিচ, অসংখ্য ক্রসবর্ডার অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। উন্মোচন করেছেন মুদ্রা পাচারের জটিল নেটওয়ার্ক, শত কোটি ডলারের ঘুষ কেলেংকারি এবং মধ্য এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের শাসক গোষ্ঠীর সন্দেহজনক ব্যবসায়িক লেনদেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে আজারবাইজানী লন্ড্রোম্যাট, প্রডিগাল ডটার, এবং পানামা পেপারস। এই প্রশ্নোত্তরে মিরান্ডা তুলে ধরেছেন, কীভাবে সাংবাদিকরা টাকার সূত্র ধরে বড় বড় ঘটনা উন্মোচন করতে পারেন।
২০১৮ সালের শুরুর দিকে নির্বাচনের আগে ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য একজোট হয় মেক্সিকোর বিভিন্ন গণমাধ্যম, সংবাদ সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো। তারা তথ্য-যাচাই ও ভুয়া খবরকে মিথ্যা প্রমাণের একটি সমবেত উদ্যোগ নেয়, যার নাম দেয়া হয় ‘ভেরিফিকাদো ২০১৮’।
আগের মোজো ওয়ার্কিং কলামগুলোতে আমি মোজো ইকুইপমেন্ট, স্মার্টফোনে শব্দ রেকর্ড এবং সম্পাদনা সম্পর্কে লিখেছি। বাদ দিয়ে গেছি, স্টোরি নির্মাণ এবং প্রযোজনার অংশটি, যা একই সাথে সবচে জরুরী আবার হতাশারও। এখন সে বিষয়েই লিখবো। প্রথম পর্বে আলোকপাত করা হবে পরিকল্পনা, স্টোরি তৈরি এবং অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।
মোজোতে আপনাকে বুদ্ধিদীপ্ত হতে হবে এবং যেকোনো জায়গার আলাদা প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে হবে। আপনার ভাবনা ও কাজ হবে একজন সাংবাদিকের মত। শব্দ ধারণ ও সম্পাদনা করতে হবে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার মত মনোযোগ দিয়ে। জানতে হবে প্রযুক্তির ব্যবহারও। আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে প্রযুক্তি যাতে কখনো বেঁধে না ফেলে। এতো কিছু জানা বেশ কঠিন মনে হচ্ছে? কিন্তু এই জ্ঞান গল্পকে নিয়ন্ত্রণের এক অনন্য ক্ষমতা দিবে। চেষ্টা করে দেখুন!
ডিপ ফেইক হলো এমন ভিডিও যেখানে একজনের মুখ অন্যের শরীরের উপর বসিয়ে দেয়া হয়। যদিও তত্ত্বটি নতুন নয়, কিন্তু হালের ডিপফেইক ভিডিওগুলো আশ্চর্যরকমের বিশ্বাসযোগ্য। আর যে সফটওয়্যার দিয়ে এমন ভিডিও তৈরি করা হয়, তার ব্যবহারও বাড়ছে দ্রুত গতিতে, যা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডার বলা যেতে পারে ওসিসিআরপি ডেটাকে। মানুষের ঠিকানা, নাম, কোম্পানি, জমি-জমা থেকে শুরু করে আদালতের নথি, তদন্ত প্রতিবেদন, সরকারি কেনাকাটা, নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের তালিকা- কী নেই এখানে। তবে ২৫ কোটি ডেটার মধ্য থেকে আপনার চাহিদা মত তথ্য খুঁজে নিতে আপনাকে জানতে হবে এই ডেটাবেইস ব্যবহারের কৌশল।
অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে রিপোর্ট করতে চাইলে, আপনি অবশ্যই তাদের সাথে কথা বলতে চাইবেন। কিন্তু তাদেরকে কোথায় পাবেন? নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা ছুটি পান শুধু শুক্রবার। ছুটির দিনে আপনি তাদেরকে পাবেন করনিশে, আল ফারদান এক্সচেঞ্জ বাস টার্মিনালের আশপাশে, মুনতাজাহ পার্কের বাইরে এবং আল খোর এলাকায় অবস্থিত লুলু মলে।
পাচার হওয়া এবং দুর্দশাগ্রস্ত শ্রমিকদের সহায়তা দেয়, এমন অনেক প্রতিষ্ঠান কুয়েতে কাজ করে। তারা আপনাকে অভিবাসী সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেবে। অভিবাসী নেতা এবং সমাজসেবকরা বেশ পরিশ্রমী। তারা আপনাকে শ্রমিকদের ক্যাম্প বা আবাসস্থলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারে।
ওমানের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলেই কেবল তালিকা-বহির্ভূত শ্রমিক দেখা যায়। তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের। তারা প্রায় বসবাসের অযোগ্য স্থানে জীবন যাপন করে, খাবারও পায় খুব অল্প। পুলিশ এড়িয়ে আপনি কীভাবে তাদের কাছে পৌঁছাবেন? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন এখানে।
যে ব্যক্তিই চেম্বার অফ কমার্স, সংসদ, তথ্য মন্ত্রণালয়, কাউন্সিল অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস, আইনের শাসন, ঐতিহাসিক ধর্মীয় চরিত্র এবং বাহরাইনের রাজার সমালোচনা করেছেন – বাহরাইনের শাসকগোষ্ঠী তাকেই গ্রেফতার করেছে বা তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিয়েছে। তাহলে আপনি কীভাবে অনুসন্ধান করবেন?
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগেুলোতে শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হন ব্যাপকভাবে – কখনো চুক্তি ভঙ্গ বা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রের কারণে, কখনোবা মানব পাচারকারী, দালাল এবং মালিকপক্ষের মাধ্যমে। এ অঞ্চলের যে সাংবাদিকই মানব পাচার বা বলপূর্বক শ্রমের মত বিষয় কাভার করতে গিয়েছেন তাদের তথ্যে ঘাটতি ছিল, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা এসেছে এবং নিরাপত্তা হূমকির মুখে পড়েছে। কেউ কেউ আটক হয়েছেন, আবার কেউ হয়েছেন দেশ থেকে বিতাড়িত।
‘ভুয়া খবর’ নিয়ে সচেতনতা যত বাড়ছে, অনলাইনে পোস্ট দেখা মাত্রই তা শেয়ার করার ক্ষেত্রেও মানুষ ততটাই সতর্ক হয়ে উঠছে। কিন্তু আপনার দেখা ছবিটি সত্য কিনা, অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে নিশ্চিত হবেন, বিশেষ করে যখন ছবিটি দেখছেন মোবাইলে? আশার কথা হচ্ছে, এজন্য বেশ কিছু ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ আছে, যা বিনা পয়সায় ব্যবহার করা যায়। এখানে তেমনই তিনটি কার্যকর পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে, যা আপনাকে ভুয়া ছবি শেয়ারের লজ্জা থেকে বাঁচাতে পারে।