অলংকরণ: জোয়ানা ডি মারকো
২০২৫ সালে জিআইজেএন প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে যে ১০টি অবশ্যই পড়া উচিত
২০২৫ সালে জিআইজেএন প্রকাশিত বেশিরভাগ প্রতিবেদনেই নিত্য-নতুন চিন্তা-ভাবনা আর উদ্ভাবনী বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে বলা হয়েছে। তাতে উঠে এসেছে, অর্থ-সম্পদের ক্রমাগত সংকোচন আর স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর বাড়তে থাকা হুমকি ও চাপের বিপরীতে দাঁড়িয়েও সাংবাদিকরা কীভাবে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন।
ইউএসএআইডির সহায়তা বন্ধের পর তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতা আর অন্যান্য অর্থায়নসংক্রান্ত বাধার মধ্যে টেকসই থাকার কৌশল নিয়ে অসংখ্য প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করেছি। এছাড়া, এশিয়ায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্স (জিআইজেসি২৫) সামনে রেখে জিআইজেএন এশিয়ার বার্তাকক্ষের সামনে আসা নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়েও বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। জিআইজেসি২৫ সম্মেলনটি সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রকাশিত লেখাগুলোতে বারবার উঠে এসেছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি, সৃজনশীলতা এবং তুমুল সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা। জিআইজেসি২৫–এর মূল বক্তব্যে নোবেলজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসা এই বিষয়টির গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
নিচের বাছাইকৃত তালিকায় ২০২৫ সাল জুড়ে জিআইজেএনের প্রতিনিধিদের লেখা আটটি প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো। যার মধ্যে রয়েছে বহুল পঠিত লেখা, অনুপ্রেরণামূলক পাঠ, সাংবাদিকের কাজের ধরন রাতারাতি বদলে দিতে পারে এমন টিপশিট, আর চৌকস চিন্তা থেকে আসা অনুসন্ধানের নতুন পদ্ধতি (টুল)।
হুইসেলব্লোয়ারদের ঝুঁকি কমানোর নতুন টুল

ছবি: শাটারস্টক
যারা সম্ভাব্য হুইসেলব্লোয়ার, তারা কিন্তু গোপন তথ্য প্রকাশের আইনি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির পাশাপাশি আরো নানা বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। হুইসেলব্লোয়ারের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরাও বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, সামনে এসে কথা বললে কী ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে পারেন—এইসব নিয়ে হুইসেলব্লোয়াররা বেশ উদ্বিগ্ন থাকেন।
২০২৫ সালে প্রকাশিত জিআইজেএনের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয় সাংবাদিকদের কাছে তথ্য প্রকাশের পরিধি আরো বৃদ্ধি এবং হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষা জোরদার করতে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো কীভাবে নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব উদ্যোগে এমন সব টুল ও সহায়তার কথা বলা হয়েছে, যা তথ্য ফাঁসকারীদের দ্বিধা ও ঝুঁকি দুটোই কমায়। প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের তথ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উবারের সাবেক কর্মী ও হুইসেলব্লোয়ার মার্ক ম্যাকগ্যানের বক্তব্য রয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকারীদের জন্য প্রকৃত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে এবং ‘ফার্স্ট মুভার’ সমস্যার সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ‘ফার্স্ট মুভার’ সমস্যা বলতে বোঝানো হয়েছে, যখন কেউ এককভাবে প্রথম কর্মী হিসেবে তথ্য প্রকাশ করতে ভয় পান।
প্রতিবেদনটিতে পিএসএসটিডটওআরজি নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নতুন ও ভিন্নধর্মী পরিষেবার সম্পর্কে বলা হয়। যা ছোটখাটো তথ্য উন্মোচনের ক্ষেত্রেও নিরাপদ ডিজিটাল সেফ (ডিজিটাল ভল্ট বা অনলাইন সংরক্ষণাগার, যেখানে কেউ নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে সংবেদনশীল তথ্য বা নথি নিরাপদে জমা রাখতে পারেন) সুবিধা দেয়। প্রয়োজন হলে বিনা খরচে আইনি সহায়তা এবং একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি অন্যান্য হুইসেলব্লোয়ারদের সঙ্গেও যোগাযোগ করিয়ে দেয়।
২০২৪ সালের শেষ দিকে চালু হওয়া এই উদ্যোগটি সরকারি দপ্তর ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করা সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসকারীদের দুশ্চিন্তা, হুমকি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর জন্য তৈরি করা। তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “পিএসএসটি আপনাকে পুরোপুরি ‘হুইসেলব্লোয়ার’ না হয়েও তথ্য জমা দেওয়া ও সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেয়।” জিআইজেএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম বছরেই পিএসএসটি প্রায় ১০০টি সহায়তার অনুরোধ পেয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ জন কর্মী এনক্রিপ্টেড সেফের পরীক্ষামূলক সংস্করণে তথ্য জমা দিয়েছেন।
চীনা ভাষাভাষী বিশ্বে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার এক অগ্রদূতের পরামর্শ

ছবি: জিআইজেএনের জন্য অলঙ্করণটি করেছেন ন্যুক
জিআইজেএনের দশটি প্রশ্ন বিভাগে বিশ্বের শীর্ষ অনুসন্ধানী রিপোর্টার ও সম্পাদকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। একটি পর্বে জিআইজেএনের চীনা সম্পাদক জোয়ি চি কথা বলেন তাইওয়ানের অগ্রগামী সাংবাদিক শেরি লি সুয়েহ-লির সঙ্গে। তাদের আলাপচারিতায় টেকসই সাংবাদিকতা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ধারণা উঠে আসে।
লি বর্তমানে দ্য রিপোর্টারের উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ডেপুটি সিইও) হিসেবে দায়িত্বরত। দ্য রিপোর্টার হলো তাইওয়ানের প্রথম অলাভজনক গণমাধ্যম, যেটি পাবলিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত। তিনি টেকসই সাংবাদিকতার দুটি দিক নিয়েই বাস্তবধর্মী ও অনুপ্রেরণামূলক কথা বলেছেন—একদিকে জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার জন্য সফল ব্যবসায়িক মডেল, অন্যদিকে চাপের মধ্যে থাকা অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা কীভাবে বার্নআউট এড়িয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুটি ক্ষেত্রেই পাঠকের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির বিপরীতে সহায়তাগুলো ক্রমশ কমছে। কিন্তু তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে প্রোপাবলিকা, জার্মানির করেক্টিভ, ও দক্ষিণ কোরিয়ার নিউজথাপার মতো অলাভজনক বার্তাকক্ষ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন লি। তিনি তুলে ধরেন কীভাবে ধারাবাহিক প্রভাবশালী গল্প, স্বচ্ছতা এবং কোনো পে–ওয়ালের শরণাপন্ন না হয়েও দ্য রিপোর্টারের দল পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে।
একটিমাত্র বিষয়কে গভীরভাবে অনুসরণ করার গুরুত্ব সম্পর্কেও জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইন্দোনেশিয়ার টেম্পোর সঙ্গে মিলে দ্য রিপোর্টারের আন্তসীমান্ত প্রতিবেদন স্লেভস অব দ্য ফার-সি ফিশিং এর কথা উল্লেখ করেন। যা ওই অঞ্চলের মানবপাচার ও শ্রম শোষণকে সামনে আনার পাশাপাশি নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা করে। এআই ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও সতর্ক করেন লি। এছাড়া, সীমিত সম্পদের বার্তাকক্ষের কাজে লাগে এমন ওপেন সোর্স টুল নিয়েও বলেছেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রসঙ্গে বলেন—গোপন সূত্রের সম্মতি থাকলেও প্রায়ই তা আপনার সুরক্ষা পরিকল্পনার জন্য যথেষ্ট নয়।
ভবিষ্যৎ নিয়ে লি বলেন: “আমি আশা করি মানুষ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ঝুঁকি ও মূল্যগুলো আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করুক।”
প্লেনস্পটার এবং পরিবহন পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেভাবে অনুসন্ধানে সহায়তা করতে পারে

টোবাগো উপকূলে ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তেল ছড়াতে থাকা উল্টে যাওয়া জাহাজের ছবি—যা পরবর্তী সময়ে বার্জ হিসেবে শনাক্ত হয়। শৌখিন সমুদ্রযানপ্রেমীদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বেলিংক্যাট অবশেষে জাহাজটির নাম-ঠিকানা সম্পর্কে আরও তথ্য খুঁজে বের করে। ছবি: স্ক্রিনশট, টোবাগোর প্রধান সচিবের কার্যালয়
অনুসন্ধানী টিপশিট প্রসঙ্গে এই গল্পটি নিঃসন্দেহে নতুন ধরনের। কারণ যেসব মানুষ সাধারণত নিজের শখের জন্য পরিবহন নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন, তাদের সবাই কমই গুরুত্ব দিয়ে দেখে, এবং তারা যে ডেটা তৈরি করেন তা প্রায়ই প্রচলিত তথ্যসূত্রের সঙ্গে মেলে না। তবে, এই লেখায় দেখা গেছে যে অনুসন্ধানী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, “প্লেনস্পটার” বা অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার, যারা যন্ত্রপাতির প্রতি আগ্রহী এবং অন্যান্য শৈখিন ব্যক্তিরা—তারা অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রতিবেদন তৈরির জন্য উপযুক্ত লিড সরবরাহ করতে পারে।
নিকার২৫ ডেটা সাংবাদিকতা সম্মেলনে চমৎকার কিছু তথ্য শেয়ার করেন অনুসন্ধানী অলাভজনক সংস্থা বেলিংক্যাটের গবেষকরা। তারা তুলে ধরেন, শখ করে তৈরি করা তথ্যের সাইট এবং চ্যাটরুমের ডেটা কীভাবে কয়েকটি “থমকে থাকা” অনুসন্ধানকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। যানবাহনপ্রেমীদের শৌখিন ওই সাইটগুলোতে জাহাজ ও উড়োজাহাজের মালিকানা এবং যাতায়াত সম্পর্কিত তথ্যও ছিল। উদাহরণস্বরূপ, শিপস্পটিংডটকম (ShipSpotting.com) এবং টাগবোটইনফরমেশনডটকম (tugboatinformation.com) নামক সাইটের তথ্য ক্যারিবিয়ান দ্বীপ টোবাগোতে উল্টে পড়ে তেল ছড়িয়ে দেওয়া একটি জাহাজ চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—যা পরবর্তী সময়ে বার্জ হিসেবে শনাক্ত হয়।
লেখাটিতে শৌখিন পর্যবেক্ষকদের গ্রুপগুলো খুঁজে পাওয়ার কিছু ব্যবহারিক পরামর্শও দেওয়া হয়। যেমন “log a sighting” ধরনের সার্চ টার্ম ব্যবহার করা। এছাড়া, নির্ভরযোগ্য সাইটগুলোর একটি তালিকাও যুক্ত করা হয়।
বেলিংক্যাটের গবেষক লোগান উইলিয়ামস আরও বলেন, শৌখিন পর্যবেক্ষকদের সাইটগুলো পড়ার একটি সুবিধা হলো—এর মাধ্যমে পরবর্তী অনুসন্ধান চালাতে কোন প্রযুক্তিগত শব্দ ব্যবহার করতে হবে তা জানা যায়। যেমন, অনুসন্ধানী দলটি যখন “WS3” (অস্ত্র সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা) এবং “PAS” (বিমান শেল্টার) এই দুইটি টার্ম খুঁজে পায়, তখন তারা ইউরোপে পারমাণবিক অস্ত্র নিরাপত্তা বিষয়ক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ফাঁস করতে সক্ষম হয়।
যারা কোডিং জানেন না, তাদের জন্য ডেটা ক্লিনিংয়ের কৌশল ও পরামর্শ

ছবি: শাটারস্টক
তুর্কি সম্পাদক পিনার দাগ একটি শক্তিশালী টিপশিট তৈরি করেছেন। যা ২০২৫ সালে জিআইজেএনের পরামর্শ বিষয়ক সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখাগুলোর মধ্যে একটি। যেখানে দেখানো হয়েছে কীভাবে কোডিং জানা ছাড়াই সাংবাদিকরা সরকারি অফিস থেকে প্রাপ্ত আগোছালো অসম্পূর্ণ ডেটাগুলো ব্যবহারযোগ্য করে সাজাতে পারেন।
লেখাটিতে বলা হয়েছে: “আজকের দিনে প্রায় ৮০ শতাংশ ডিজিটাল তথ্য অসংগঠিত অবস্থায় থাকে, যা সাংবাদিকদের জন্য একটি বাড়তি চ্যালেঞ্জ। অর্থপূর্ণ বিশ্লেষণমূলক তথ্য খুঁজে পাওয়ার আগে, প্রথমে এই তথ্যগুলোকে শোধরানো এবং সুশৃঙ্খলভাবে সাজাতে হয়।”
লেখাটিতে ডেটা ক্লিনিংয়ের স্পষ্ট ধাপ; ব্যবহার সহজ কিছু টুল; নৈতিক দিক; এবং স্প্রেডশিটে অসংগঠিত তথ্য সাজানোর সহজ সূত্র দেখানো হয়েছে। পাঠকরা শিখেছেন কিভাবে সহজে স্প্রেডশিটের ডুপ্লিকেট সারি মুছে ফেলা যায়; সব তারিখকে একটি ফরম্যাটে রূপান্তর করা যায়; ডুপ্লিকেট রেকর্ড একত্র করা যায়; এবং তথ্যকে ভিজ্যুয়ালি সাজানো যায়।
পিনার দাগ লেখাটির ইতি টেনেছেন এভাবে “নিজেকে একজন প্রকৌশলী না ভেবে গল্পকার হিসেবে ভাবুন—আর মনে রাখুন: প্রতিটি শক্তিশালী গল্পের ভিত্তি হলো মজবুত তথ্য। সঠিক টুল এবং পদ্ধতি ব্যবহার করলে, কোডিং না জানলেও সাংবাদিকরা ডেটা ক্লিনিং করে তা বিশ্বাসযোগ্য সংবাদে পরিণত করতে পারেন।”
২০২৫ সালের গ্লোবাল শাইনিং লাইট অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত তালিকা: বৃহৎ মিডিয়া আউটলেট

ছবি: জিআইজেএন
গ্লোবাল শাইনিং লাইট অ্যাওয়ার্ড (জিএসএলএ)-এর চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নেওয়া প্রতিবেদনগুলো সাধারণত জিআইজেএনের বার্ষিক সেরা প্রতিবেদনের তালিকায় স্থান পায়। কারণ নির্বাচিত এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করা হয়। এই বছরটি যার অন্যতম উদাহরণ।
বড় এবং ছোট/মাঝারি আকারের আউটলেটের জন্য ভাগ করা এই পুরস্কারটি নানা হুমকি, চাপ ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও উন্নয়নশীল কিংবা রূপান্তরপর্বে থাকা দেশগুলোতে যারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চালিয়ে যান তাদের স্বীকৃতি জানাতে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের সংস্করণে ৯৭টি দেশ থেকে ৪১০টি প্রতিবেদন জমা পড়ে।
বৃহৎ মিডিয়া আউটলেট বিভাগে জায়গা করে নেওয়া সাতটি শক্তিশালী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিবাসন, সংগঠিত অপরাধ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে মঙ্গাবের একটি সাড়া জাগানো অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। যেটি পেরুর আমাজনে মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত বিমানঘাঁটির নেটওয়ার্কের সঙ্গে আদিবাসী নেতা ও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র উন্মোচন করেছে। অন্য একটি প্রতিবেদনে এল ক্লিপের যৌথ সহযোগিতামূলক প্রকল্পের ওপর আলোকপাত করা হয়, যা মেক্সিকোর ভেতরে পাচার হওয়া অভিবাসীদের প্রাণঘাতী নিরাপত্তা হুমকির কথা বলে। এতে গাজা, ইউক্রেন, নাইজেরিয়া এবং তুরস্কে অত্যন্ত কঠিন বিষয় নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সাহস ও সৃজনশীলতার বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে।
• এটির পাশাপাশি জিআইজেএনের অন্য লেখাটিও পড়তে ভুলবেন না। যেখানে জিএসএলএর ছোট ও মাঝারি আউটলেট তালিকায় জায়গা করে নেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কেও বলা হয়েছে। পেরু, লিবিয়া, চিলি, সিরিয়া, ভারত এবং মিসরের ছোট নিউজরুমের ছয়টি ব্যতিক্রমী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এশিয়ায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রতিরোধ, রূপান্তর, সংহতি

জিআইজেএনের জন্য অলঙ্করণটি করেছেন ন্যুক
দুই সপ্তাহ ধরে প্রকাশিত “এশিয়া ফোকাস” সিরিজের মূল প্রতিবেদন হিসেবে তুলে ধরা এই নিবন্ধটি পিনার দাগ এবং জিআইজেএনের এশিয়া সম্পাদকেরা মিলে তৈরি করেছেন। যা মহাদেশটির স্বাধীন গণমাধ্যমের সামনে থাকা ক্রমবর্ধিত চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সহযোগিতামূলক সুযোগগুলোও তুলে ধরে।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয় “যদিও এশিয়ায় সাংবাদিকতা বর্তমানে কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা, সেন্সরশিপ ও ডিজিটাল ভুল তথ্যের হুমকির মধ্যে অবরুদ্ধ। তবুও নতুন প্রজন্মের হাতে থাকা আধুনিক মিডিয়া টুলের মাধ্যমে এটি নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাকে জবাবদিহি করার অমূল্য পদ্ধতি হিসাবে রয়ে গেছে।”
এশিয়ার সাংবাদিকদের সামনে থাকা মৌলিক প্রতিবন্ধকতাটি একটি গ্রাফিকের মাধ্যমে স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়। যেখানে গত এক দশকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নাটকীয় পতন চোখে পড়ে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড আর বিশেষ করে ফিলিপাইনের মতো দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রতি জনসমর্থন বৃদ্ধির চিত্রও উঠে এসেছে। এসব দেশে স্বাধীন নিউজরুমগুলো অনুসন্ধান ও জনসম্পৃক্ততার নতুন ও উদ্ভাবনী মডেলের মাধ্যমে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।
পাশাপাশি এশিয়ার ৩০টিরও বেশি জিআইজেএন সদস্য সংগঠনের ওপর পরিচালিত একটি জরিপের ফলাফল সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। এছাড়া মধ্য এশিয়া; ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া; এবং চীন, হংকং ও তাইওয়ানের সাংবাদিকরা যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সে বিষয়গুলো নিয়ে আঞ্চলিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
পাঁচ বছরের পথচলা: সিগমা অ্যাওয়ার্ডস কীভাবে ডেটা সাংবাদিকতার সেরা কাজগুলোকে একত্রিত ও উৎসাহিত করেছে

ছবি: জিআইজেএন, সিগমা অ্যাওয়ার্ডস
সিগমা অ্যাওয়ার্ডের নতুন আয়োজক গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি এই লেখাতে বিশ্বজুড়ে সেরা ডেটা সাংবাদিকতাকে স্বীকৃতি দেওয়া মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর আলোচনা করা হয়েছে।
তথ্যসমৃদ্ধ এই লেখায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, প্রতিযোগিতার প্রথম পাঁচ বছরে ১০০টিরও বেশি দেশের ২ হাজার ৮৭৫টি প্রকল্প কীভাবে সব অঞ্চল ও সব আকারের নিউজরুমের জন্য আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও উদ্ভাবনী জনস্বার্থভিত্তিক প্রকল্পের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। একই সঙ্গে, এসব প্রকল্প ডেটা সাংবাদিকতার বিকাশের পথপ্রদর্শক হিসেবেও কাজ করেছে।
সাবেক সিগমা নির্বাহী পরিচালক মারিয়ান বুশার্ট ব্যাখ্যা করেছেন: “কে সেরা— সিগমা শুধুমাত্র তা নির্ধারণ করে না—এটি সম্ভাবনার ক্ষেত্রও তুলে ধরে।”
পাঁচ বছরে সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেওয়া অংশগ্রহণকারীদের যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়েছে, সেগুলো বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জগুলোরই প্রতিফলন। যেমন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ব্যর্থতা, জলবায়ু পরিবর্তনের লুকানো প্রভাব, ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদ, এবং সীমান্ত পেরিয়ে বিস্তৃত সংগঠিত অপরাধ চক্রের উত্থান।
কোন কাজটি সম্ভাবনার নতুন পথ দেখিয়েছে—এমন প্রিয় উদাহরণ জানতে চাইলে, জুরি সদস্যরা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের হাউ চায়না ইজ টিয়ারিং ডাউন ইসলাম প্রতিবেদনের কথা বলেন। সেখানে উন্মুক্ত স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে দেখানো হয়, চীনে ২ হাজার ৩১২টি মসজিদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে ইসলামী স্থাপত্যশৈলী মুছে ফেলা যায়। তারা ম্যাপিং মাকোকো প্রকল্পটির কথাও উল্লেখ করেন। যেখানে কোড ফর আফ্রিকা ড্রোন ব্যবহার, নথি বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সক্রিয় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নাইজেরিয়ার একটি অবহেলিত অঞ্চলকে মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সিগমা পুরস্কার কমিটির প্রধান জিনা চুয়া আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথা তুলে ধরেছেন। যার ফলে বৈশ্বিক দক্ষিণ থেকে জমা পড়া আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে নাটকীয়ভাবে। একটি কারণ হলো আবেদনপত্রকে আটটি ভাষায় সম্প্রসারণ করা, আরেকটি পুরস্কারের সব বিভাগগুলো বাদ দেওয়া। লেখাটির ভেতরে থাকা একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ গ্রাফিকের মাধ্যমে প্রভাবগুলো স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে। (২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।)
কীভাবে একজন সাংবাদিক পৃথিবীর যেকোনো জায়গার স্যাটেলাইট ছবি বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন

বিনামূল্যে পাওয়া যায় এমন স্যাটেলাইট ডেটার বৈশ্বিক পরিধি কতটা প্রশস্ত, তা এই মানচিত্রে দেখানো হয়েছে। সবুজ রঙের (উপরে) অংশগুলো দিয়ে ওইসব স্থানকে বোঝানো হয়েছে যেখানে সেনটিনেল-২ স্যাটেলাইট মধ্যম থেকে উচ্চ-রেজ্যুলেশনের ছবি তুলতে সক্ষম। এছাড়া এখানে প্রতি পাঁচ থেকে ছয় দিন পর পর একই জায়গায় ছবি তোলা হয়। ছবি: ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি
বিনামূল্যে স্যাটেলাইট ছবির ব্যবহারের ওপর চলতি বছর জিআইজেএন একটি ওয়েবিনার আয়োজন করে। যুক্তরাষ্ট্রের নিকার ডেটা সাংবাদিকতা সম্মেলনের প্যানেল আলোচনায়ও যার প্রভাব চোখে পড়ে। পাশাপাশি অনুসন্ধানী দলগুলোর জন্য এই প্রযুক্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে—তা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। ওয়েবিনারটি মূলত জিআইজিএনের আগের একটি ফিচারের জনপ্রিয়তার সূত্র ধরে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এমন সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরা হয়, যারা আগে ব্যক্তিগত স্যাটেলাইট কোম্পানিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জিআইজিএনের এই প্রশিক্ষণ সিরিজে তুলে ধরা হয়, সাংবাদিকরা বিনামূল্যে স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে তথ্য পাওয়ার জন্য আগ্রহী। আর এসব ছবি এখন আরও উচ্চ মানের রেজোলিউশনে সহজে পাওয়া যাচ্ছে।
অনেক বার্তাকক্ষে এখনও ভুল ধারণা আছে যে স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহারের খরচ অনেক বা ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানির সঙ্গে বিশেষ চুক্তিতে যেতে হয়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের গ্রাফিক্স রিপোর্টার কার্ল চার্চিল বলেন: “অধিকাংশ স্যাটেলাইট ডেটা বিনামূল্যে পাওয়া যায়, যা বিশ্বজুড়ে সবার জন্য উন্মুক্ত।”
২০২৫ সালের এই প্রতিবেদনে ওপেন সোর্স কোপার্নিকাস ব্রাউজারের শক্তিশালী ও সহজ-ব্যবহারযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। যেগুলো সিঙ্গেল ইমেজ ডাউনলোড, সহজ ক্লাউড কভার ফিল্টার, ডেটা ওভারলে এবং টাইমল্যাপ ডিসপ্লে সরবরাহ করে। প্রতিবেদনে এই ইমেজগুলোর নতুন ব্যবহারও দেখানো হয়েছে, যেমন কোথাও যাওয়ার আগে ওই এলাকায় অবস্থা সম্পর্কে আগাম ধারণা নেওয়া। স্যাটেলাইট কোম্পানির সাবেক প্রকৌশলী ও ডেটা সাংবাদিকতা প্রশিক্ষক লরা কার্টজবার্গের উদ্ধৃতি টানা হয়েছে। অনুসন্ধানে আল্ট্রা-হাই রেজোলিউশনের ছবি ব্যবহার করতে বাণিজ্যিক ছবি সরবরাহকারীদের কীভাবে প্রস্তাবনা পাঠাবেন সে বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে।
ইউএসএইড সংকট এবং স্বাধীন মিডিয়ার ভবিষ্যৎ তহবিল

ছবি: শাটারস্টক
ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত জরুরি এই প্রতিবেদনটিতে ইউএসএইডের বৈদেশিক সহায়তা তহবিল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে স্বাধীন অলাভজনক গণমাধ্যমগুলোর ওপর নেমে আসা আকস্মিক সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপ এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিক সম্প্রদায়ের অনুপ্রেরণামূলক সংহতির কথাও উল্লেখ করা হয়।
৩০টিরও বেশি দেশে স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য বরাদ্দকৃত ২৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুত অনুদান আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, পাঠকদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার মডেল এবং অর্থায়নের বিকল্প উৎস তৈরির বিষয়ে জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই ঘটনাটি আরো দেখিয়ে দিয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলে জনস্বার্থমূলক সাংবাদিকতার কী ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেন, ক্যামেরুন এবং পুরো মধ্য আমেরিকার মতো জায়গাগুলোতে নির্বাসিত সংবাদমাধ্যম এবং স্বাধীন গণমাধ্যমগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই প্রতিবেদনটি তুলে ধরে কীভাবে ইউক্রেনের পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বাধীন অনুসন্ধানী সংস্থা ‘স্লিদস্তভো ডট ইনফো’ (Slidstvo.info) জানুয়ারির এক দিনেই তাদের অনুদানের ৮০ শতাংশ হারিয়েছে। পাশাপাশি, স্বাধীন সংস্থা অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিআরপি) তাদের মোট ফান্ডের ২৯ শতাংশ হারানোর ফলে ৪৩ জন দক্ষ সাংবাদিক ও কর্মীকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে।
বিশৃঙ্খলা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কীভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর প্রভাব ফেলছে

ছবি: শাটারস্টক
বৈশ্বিক মুক্ত গণমাধ্যমে দিবস উপলক্ষে সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখা এই নিবন্ধে স্বাধীন সাংবাদিকতার দুইটি প্রধান হুমকি—ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়াও, এতে ২০২৫ সালে সাংবাদিকরা এরইমধ্যে যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তা তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বডার্সের একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবস্থা অভূতপূর্বভাবে নীচে নেমেছে। বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে যা “কঠিন পরিস্থিতি” হিসেবে, আর অর্ধেক দেশে “নাজুক” হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন কিছু টুল—যার মধ্যে জেনারেটিভ এআই প্ল্যাটফর্মও আছে—অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে আসে, প্রতিবেদনের সূত্রগুলো বলেছে, এই প্রযুক্তি একই সঙ্গে নিউজরুমের টেকসইতা, জনস্বার্থে জবাবদিহিতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকিও সৃষ্টি করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, এটি দেখায় যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিশেষভাবে “এআই কৌশল ও ভুল তথ্যের প্রভাবের প্রতিষেধক” হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি, নিবন্ধটিতে বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী অনুসন্ধানী প্রকল্পের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেগুলো এরইমধ্যে এই অ্যালগরিদমিক সিস্টেম থেকে উদ্ভূত স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় হওয়া ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেছে।

রোয়ান ফিলিপ জিআইজেএনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। তিনি আগে দক্ষিণ আফ্রিকার সানডে টাইমসের প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। বিদেশি প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বজুড়ে দুই ডজনের বেশি দেশে সংবাদ, রাজনীতি, দুর্নীতি এবং সংঘর্ষ সম্পর্কিত প্রতিবেদন করেছেন।