অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় জরিপ: যে খবর এড়িয়ে যাওয়া কঠিন

কখনো কখনো ছোট ছোট স্থানীয় সংবাদপত্র এমন সব বড় খবরের জন্ম দেয়, যা হেভিওয়েট জাতীয় পত্রিকাগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় না। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় দুইশ কিলোমিটার দূরে, যশোরের গ্রামের কাগজের ঘটনাও ঠিক একই রকম।

মোবাইল সাংবাদিকতা গাইড: যেভাবে আপনিও হতে পারেন মোজো!

English
জিআইজেএনের মোজো ওয়ার্কিং কলামে মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির নানান পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আমাদের বিশেষজ্ঞ ইভো বুরাম অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক একজন পুরষ্কারজয়ী সাংবাদিক। টিভি প্রযোজক, লেখক, নির্দেশক এবং নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে তাঁর রয়েছে ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা। বুরাম জিআইজেএন সম্মেলনগুলোতে নিয়মিত বক্তা এবং তাঁর স্মার্টমোজো নামে একটি ওয়েবসাইট রয়েছে।

আইজেএশিয়া১৮ সম্মেলনে বুরাম উপস্থাপন করেন মোজো আনপ্যাকড – দ্য টোয়েন্টি মোস্ট আস্কড কোয়েশ্চেন।

মোজো ওয়ার্কিং: স্মার্টফোনে প্রতিবেদন তৈরি (পর্ব ১) এই কলামে রয়েছে স্টোরি পরিকল্পনা, কাঠামো, চরিত্র এবং দৃশ্যায়ন নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ।

মোজো ওয়ার্কিং: স্মার্টফোনে প্রতিবেদন তৈরি (পর্ব ২) এই কলামে বুরাম মোজো সরঞ্জাম, কাভারেজ এবং অডিও ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

জিআইজেসি১৭ তে তিনি গেরিলা মোজো উপস্থাপন করেন।

জিআইজেএন তাঁর পরামর্শমূলক কলামগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছে এবং তার সংকলন রয়েছে এখানে। প্রথমেই থাকছে “দরকারি টুলস” কলামটি:

মোজো ওয়ার্কিং: মোবাইল সাংবাদিকতার জন্য দরকারি টুল

মোজো ওয়ার্কিং: স্মার্টফোনে অডিও রেকর্ড

মোজো ওয়ার্কিং: মোবাইল ফোনে সম্পাদনা                       

মোজো ওয়ার্কিং: দেখে শুনে কিনুন আপনার নতুন স্মার্টফোন

সামগ্রিক চিত্র পেতে দেখুন আইজেএশিয়া ১৬ তে ইভোর কর্মশালার সব পরামর্শ।
অন্যান্য উৎস
এই মোবাইল জার্নালিজম ম্যানুয়াল তৈরি করেছে কনরাড অ্যাডেনোয়ার স্টিফটুংয়ের এশিয়া মিডিয়া প্রোগ্রামের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এখানে পাবেন অ্যাপ, যন্ত্রপাতি, “লাইভ” এবং আরো অনেক পরামর্শ।

এর সাথে দেখে নিতে পারেন টুলসের লম্বা এই তালিকা, যা ইআইজে১৭ তে উপস্থাপন করেন মাইক রাইলি এবং ভিক্টর এরনান্দেজ।

আফ্রিকান ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০১৬ তে শেমাস রেনল্ডস উপস্থাপিত পরামর্শগুলোও দেখে নিতে পারেন। এখানে রয়েছে ভিডিও সাংবাদিকতা, অন্যান্য উৎস এবং টুইটারে কাদের ফলো করতে হবে সে ব্যাপারে তথ্য সহ বেশ কিছু পরামর্শ।

ফিনল্যান্ডের বৃহত্তম সংবাদপত্র হেলসিংগিন সানোমাত-এর ভিজুয়াল সাংবাদিক এমা-লিনা ওভাস্কাইনেন মোবাইলে ৯ ধরণের ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং (বাংলায়) এর এই টিপস দিয়েছেন।

আরো দেখুন সৃজনশীল মোবাইল স্টোরিটেলিং এর জন্য ৫টি আইওএস অ্যাপ। এটি তৈরি করেছেন বিবিসি একাডেমির স্মার্টফোন প্রশিক্ষক মার্ক সেটল। প্রয়োজনীয় অ্যাপস এবং নতুন আবিষ্কার নিয়ে তাঁর লেখাটি ২০১৮ সালের মার্চে প্রকাশ করে জার্নালিজম.সিও.ইউকে। একটি সাক্ষাৎকারে আরো কী বলছেন সেটল পড়তে পারেন এখানে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে আইওএস ১২ এবং তার নতুন ফিচার নিয়ে বিবিসি একাডেমিতে আরেকটি সাক্ষাৎকার দেন সেটল। এই ফিচারগুলোর বেশিরভাগই সাংবাদিকদের কাজে লাগবে।

আইজেনেট যেসব টিপস প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালের কার্যকর তিনটি মোবাইল ভিডিও এডিটিং অ্যাপ এবং কিভাবে নতুন মাধ্যমে গবেষণা করবেন নব্য মোবাইল সাংবাদিক।

আরো দেখুন জার্নালিস্ট’স টুলবক্স , যেখানে পাবেন মোবাইল সাংবাদিকতার আরো অনেক রিসোর্স।

অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকলি কলেজের সাংবাদিকতার শিক্ষক কোরিন পজার লিখেছেন “মোবাইল সাংবাদিকতা শেখানোর এক বছরে, যে সাতটি বিষয় শিখেছি।”

মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ৩৬০ স্টোরি তৈরির উপায় লিখেছেন ভিআর/এআর স্টুডিও ভ্রাগমেন্টস এর সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্কাস বশ।

থমসন ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষক, মোবাইল সাংবাদিকতা বিশেষজ্ঞ গ্লেন মালক্যাহি তার পরামর্শ দিয়েছেন আট মিনিটের এই ভিডিওতে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণের কৌশল

English
আন্তর্জাতিক প্রেস ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত ’রিপোর্টার্স গাইড টু দ্যা মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস: কাভারিং ডেভেলপমেন্ট কমিটমেন্টস ফর ২০১৫ এন্ড বিয়োন্ড’ ধারাবাহিকের ১৪তম পর্ব থেকে এটি নিয়েছে জিআইজেএন।

সাংবাদিক হিসেবে আমাদের তথ্য সংগ্রহ করতে হয়; বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে হয়; এবং ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ পেতে সেই তথ্যের স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দিতে হয়। আর এই কাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার। মূলত “কে, কি, কোথায়, কিভাবে, কখন এবং কেন”- সাংবাদিকতার এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উপর ভিত্তি করে তথ্যকে আরও সম্প্রসারিত করার জন্য, আমরা সাক্ষাৎকার ব্যবহার করি। স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি কিংবা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি)- তা সে যে বিটই কাভার করি না কেন, সাক্ষাৎকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।  শুধু বিশেষজ্ঞ নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের কন্ঠস্বর তুলে ধরার অন্যতম পন্থাও এই সাক্ষাৎকার; বিশেষ করে দারিদ্র্য নিরসন, দুর্নীতি, লিঙ্গ সমতা, পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের মত বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে। যাদের কথা কেউ শোনেনি, সেইসব দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা, বৃহত্তর গোষ্ঠীর সামনে আসে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অনেক সাংবাদিক মনে করেন, সাক্ষাৎকার কেবলমাত্র প্রশ্ন জিজ্ঞাসা এবং জবাব নেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জনে আমরা খুব একটা মনোযোগ দেই না। কিন্তু ভালো সাংবাদিক হতে হলে, সাক্ষাৎকার গ্রহণের দক্ষতাকে শিল্পের পর্যায়ে নিতে হবে। আর তা তৈরি হয় অনুশীলন এবং নিচের সুনির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে:
১। প্রস্তুতি, প্রস্তুতি, প্রস্তুতি
সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া তথ্যের গুণগত মান অনেকটাই নির্ভর করে, আমরা কতটা প্রস্তুতি নিচ্ছি তার উপর। যে বিষয়টি কাভার করছেন, তার প্রেক্ষাপট এবং অন্ততঃপক্ষে সাক্ষাৎকারদাতা সম্পর্কে মৌলিক তথ্য জানা থাকা জরুরী। আর এখানেই আসে, আপনার স্টেশন বা পত্রিকার পুরোনো ফাইল, ইন্টারনেট এবং লাইব্রেরি ব্যবহারের বিষয়টি।

হাতের কাছে একটি প্রশ্নের তালিকা তৈরি রাখুন, অথবা অন্তত কিছু বুলেট পয়েন্ট, যা আপনি জিজ্ঞেস করতে চান। কিন্তু নিজেকে শুধু সেই তালিকায় আটকে রাখবেন না। তাহলে আপনি সাক্ষাৎকার গ্রহনের পরবর্তী নিয়মটি ভঙ্গ করবেন।
২। শুনুন, শুনুন এবং শুনুন
সাক্ষাৎকার গ্রহনের সময় সক্রিয় ও মনোযোগী শ্রোতা হয়ে উঠুন। শুধু প্রশ্ন তালিকার দিকে তাকিয়ে থাকলে, হয়ত এমন কোন বক্তব্য আপনার কান এড়িয়ে যাবে, যে বিষয়ে আপনি ফলো-আপ প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন, অথচ সাক্ষাৎকারদাতা এরইমধ্যে তা বলে ফেলেছেন।

বিশেষ করে যখন সাধারণ মানুষের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন, তখন তাদের দিকে পুরোপুরি মনোযোগ দিন। প্রায়ই তারা নিজেদের কষ্টের কথা বলেন- তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন, ভদ্রতা, সহানুভূতি ও সক্রিয়তার সাথে তাদের কথা শুনুন।
৩। নিজেকে প্রশ্ন করুন: সাক্ষাৎকার থেকে কী বের করে আনতে চাই? আপনি কি একটি তাৎক্ষণিক মন্তব্য বা সাউন্ড-বাইট পেতে সাক্ষাৎকারটি নিচ্ছেন? অথবা আপনি কি কোনও বিষয়ের উপর প্রোফাইল তৈরি করছেন, যেখানে লম্বা সময় লাগবে এবং ভিন্ন ভিন্ন সেটিংয়ে একাধিক সাক্ষাৎকার দরকার হবে? সাক্ষাৎকারটি যদি রেডিও বা টেলিভিশনের জন্য হয়, তাহলে জেনে নিন, ওই ব্যক্তিকে কতটা ভালো দেখায় অথবা কতটা ভালো শোনায়। নিশ্চিত হতে, আগেই টেলিফোনে একটি প্রাক-সাক্ষাৎকার নিয়ে রাখা ভালো।

নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন: সাক্ষাৎকারের কেন্দ্রবিন্দু  বা ফোকাস কী? আমার কি কোন পরিকল্পনা রয়েছে?

মোজো ওয়ার্কিং: স্মার্টফোনে প্রতিবেদন তৈরি (পর্ব ১)

আগের মোজো ওয়ার্কিং কলামগুলোতে আমি মোজো ইকুইপমেন্ট, স্মার্টফোনে শব্দ রেকর্ড এবং সম্পাদনা সম্পর্কে লিখেছি। বাদ দিয়ে গেছি, স্টোরি নির্মাণ এবং প্রযোজনার অংশটি, যা একই সাথে সবচে জরুরী আবার হতাশারও। এখন সে বিষয়েই লিখবো। প্রথম পর্বে আলোকপাত করা হবে পরিকল্পনা, স্টোরি তৈরি এবং অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।

মোজো ওয়ার্কিং: স্মার্টফোনে প্রতিবেদন তৈরি (পর্ব ২)

মোজোতে আপনাকে বুদ্ধিদীপ্ত হতে হবে এবং যেকোনো জায়গার আলাদা প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে হবে। আপনার ভাবনা ও কাজ হবে একজন সাংবাদিকের মত। শব্দ ধারণ ও সম্পাদনা করতে হবে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার মত মনোযোগ দিয়ে। জানতে হবে প্রযুক্তির ব্যবহারও। আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে প্রযুক্তি যাতে কখনো বেঁধে না ফেলে। এতো কিছু জানা বেশ কঠিন মনে হচ্ছে? কিন্তু এই জ্ঞান গল্পকে নিয়ন্ত্রণের এক অনন্য ক্ষমতা দিবে। চেষ্টা করে দেখুন!