যখন সাংবাদিকতা খারাপ হয়ে ওঠে: দক্ষিণ আফ্রিকার একটি কেইস স্টাডি

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রভাবশালী পত্রিকা সানডে টাইমস। অর্থনৈতিক চাপের মুখে বিক্রি বাড়াতে, তারা নিয়মিত আলোড়ন তোলার মতো প্রতিবেদন ছাপার কৌশল নিয়েছিল। কিন্তু ক্রমেই ভুল বাড়তে থাকে তাদের রিপোর্টে। শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে তারা তথ্য-প্রমাণও অগ্রাহ্য করতে শুরু করে।  এই সুযোগে গোয়েন্দা সংস্থা ও ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো তাদের ব্যবহার করতে শুরু করে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে। আর এভাবে শতবর্ষী পত্রিকাটি হয়ে ওঠে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে নীলনকশা, তার অন্যতম অংশ।

ফ্রিল্যান্স অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: জেনে নিন কিভাবে পিচ করবেন

English

একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কোনো গণমাধ্যমের কাছে একটি সাধারণ রিপোর্ট যেভাবে প্রস্তাব করেন, একই পদ্ধতিতে অনুসন্ধানী রিপোর্টও প্রস্তাব করতে হয়। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বেলায় প্রস্তাব বিক্রি করা একটু কঠিন। কারণ, এধরণের ওয়াচডগ সাংবাদিকতায় আগ্রহী হবার মতো গণমাধ্যমের সংখ্যা খুব বেশি নয়।

অনিশ্চিত ও বিতর্কিত ফলাফল আসতে পারে, এমন অনুসন্ধান পিচ বা প্রস্তাব করার বিষয়টি আরো চ্যালেঞ্জিং। এক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের দরকার হয়।

সমস্যা আরো আছে। যে টাকা পাওয়া যায়, তাতে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অনুসন্ধানের বাড়তি খরচ মেটানোও অনেক সময় দায় হয়ে পড়ে। অনুসন্ধানটিতে আপনার ঠিক কতটা সময় ও শ্রম দিতে হবে, তা অনুমান করাও খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে লাভ-খরচের খসড়া হিসেব করতে গেলেও সেটি আন্দাজে ঢিল ছোঁড়া ছাড়া, আর কিছু হয় না।

সবশেষে, এই কাজে ব্যক্তিগত ঝুঁকি থাকে। বিতর্কিত ইস্যুতে কাজ করতে গিয়ে ফ্রিল্যান্সাররা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন; পড়তে পারেন আইনি ও শারিরীক ঝুঁকির মুখে; যা হয়তো সংবাদমাধ্যমগুলোর ধারণার বাইরে।

অনুসন্ধানটিতে আপনার ঠিক কতটা সময় ও শ্রম দিতে হবে, তা অনুমান করাও খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে লাভ-খরচের খসড়া হিসেব করতে গেলেও সেটি আন্দাজে ঢিল ছোঁড়া ছাড়া, আর কিছু হয় না।এতো কিছুর পরেও, অনেকেই কাজ করছেন ফ্রিল্যান্স অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে। কারণ এই কাজে স্বাধীনতা আছে। কোন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করবেন, কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন – সবকিছুই তিনি নিজেই বেছে নিতে পারেন। কেউ কেউ সম্পাদক ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কেউ কেউ বাড়তি আয়ের জন্য এর পাশাপাশি অন্যান্য আরো নানা কাজও করেন। নিজেদের পরিচিতি ও আয় বাড়িয়ে নেন লেখক, শিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে এই লেখায় জিআইজেএন তুলে ধরেছে: একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমের কাছে কিভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রস্তাব জমা দেবেন এবং কাজ পাওয়ার পথে মূল বাধাগুলো কিভাবে মোকাবিলা করবেন।

আমরা এখানে যে বিষয়গুলোতে নজর দিয়েছি:

সম্ভাব্য সংবাদমাধ্যম খুঁজে বের করা
কার্যকরীভাবে প্রতিবেদন পিচ করা
চিন্তা ও আইডিয়ার সুরক্ষা
বাজেট তৈরি করা

এই গাইডের বাইরে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ পরামর্শ ও কৌশল শিরোনামে আরেকটি লেখা তৈরি করেছে জিআইজেএন।
সম্ভাব্য সংবাদমাধ্যম খুঁজে বের করা
কোনো সংবাদমাধ্যম একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের ওপর তখনই বাজি ধরে, যখন তাদের গভীর বিশ্বাস ও আস্থা থাকে; যে কারণে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দেয়।

শুরু করুন – অনুসন্ধানী নয়, এমন প্রতিবেদন দিয়ে। এটি সম্পর্ক গড়ে তোলার ভালো উপায়। হুট করে একটি সংবেদনশীল প্রতিবেদন নিয়ে গিয়ে সেটি বিক্রির চেষ্টা করা কঠিন হতে পারে।

এক্ষেত্রে সাধারণ পরামর্শ হলো: বিভিন্ন সেমিনার বা সম্মেলনে গিয়ে সমমনা সম্পাদকদের সঙ্গে আলাপ করা।

গবেষণা করে নিন

আপনি যাদের কাছে আপনার প্রতিবেদন প্রস্তাব করতে পারেন, এমন সম্ভাব্য সংবাদমাধ্যমের ওপর গবেষণা করুন। সাধারণত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, শুধু এমন সংবাদমাধ্যমই নয়, বরং আপনার অনুসন্ধানের বিষয় নিয়ে আগ্রহ আছে, এমন প্রতিষ্ঠানেরও খোঁজ করুন।

সম্ভাবনা আছে, এমন মনে হলে এসব বিষয়ে আরো খোঁজখবর করুন:

দেখুন, আপনার বিষয়টি নিয়ে আগে কী কী প্রকাশিত হয়েছে।
তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানুন।
তাদের মিশন সম্পর্কে আরো খুঁটিয়ে দেখুন।
শীর্ষ সম্পাদকদের ব্যাপারে খোঁজখবর করুন।
খোঁজ নিন, পরিচিত এমন কেউ আছে কিনা, যার সাথে তাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে, এবং যিনি আপনাকে সেখানে নিয়ে যেতে পারেন।

২০১৯ সালের জিআইজেএন সম্মেলনে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে একাধিক সেশন ছিল। সেই আলোচনা নিয়ে একটি প্রবন্ধে রোয়ান ফিলিপ লিখেছিলেন, “সংবাদ সংগ্রহ প্রক্রিয়ার প্রতিটি অংশের যথাযথ মূল্য” বের করে আনার জন্য আপনাকে বিষয়টি একাধিক মাধ্যমে বিক্রি করার কথা চিন্তা করতে হবে।

অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক রোয়ান লিখেছেন, “বিকশিত হতে গেলে বা এমনকি টিকে থাকতে গেলেও, প্রতিটি রিপোর্টিং কর্মকাণ্ড একাধিক জায়গায় বিক্রি করাকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলতে হবে ফ্রিল্যান্স অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের।”

এই সেশনের আলোচকরা বলেছিলেন, কিভাবে আয় বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য সাংবাদিকরা একই অনুসন্ধানকে প্রিন্ট, ভিজ্যুয়াল ও অডিওসহ নানারকম ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাটে উপস্থাপনের কথা চিন্তা করতে পারেন।
এবার প্রস্তাব তৈরি করুন

প্রতিবেদন কোন জায়গায় পাঠাবেন, তা ঠিক করে ফেলার পর আপনাকে প্রস্তাব তৈরি করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সাধারণ পরামর্শগুলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিক্রির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। প্রতিবেদনের প্রস্তাব হওয়া উচিৎ যথাযথ, বলিষ্ঠ ও আকর্ষণীয়।

“সম্পাদককে আপনার বোঝাতে হবে যে, কাজটির জন্য আপনিই সঠিক ব্যক্তি। আসলে তাকে বোঝাতে হবে: এই প্রতিবেদনটি একমাত্র আপনিই করতে পারেন।” — সাংবাদিক কাতালিনা লোবো গেরেরো“সম্পাদককে আপনার বোঝাতে হবে যে, কাজটির জন্য আপনিই সঠিক ব্যক্তি। আসলে তাকে বোঝাতে হবে: এই প্রতিবেদনটি একমাত্র আপনিই করতে পারেন। কারণ বিষয়টির ইতিহাস, প্রেক্ষাপট, সোর্স, অভিজ্ঞতা, ইত্যাদি সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা আছে। বা আপনার কাছে ফাঁস হওয়া এমন কিছু নথি আছে, যা অন্য কারো কাছে নেই,” বলেছেন কলম্বিয়ার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও জিআইজেএন-এর সাবেক সম্পাদক কাতালিনা লোবো গেরেরো।

সম্পাদকদের পরামর্শ

২০১৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে এই পরামর্শগুলো দিয়েছিলেন আটলান্টিকের জাতীয় সংবাদ বিভাগের সম্পাদক স্কট স্টোসেল:

কিছু প্রি-রিপোর্টিং করুন। আপনার প্রতিবেদনের পিচ বা প্রস্তাবটি যেন সুবিবেচনাপ্রসূত হয়, তা নিশ্চিত করুন।
বিস্তারিত বর্ণনা দিন। এখানে কোন কোন চরিত্র সম্পৃক্ত, পরিণাম কী হতে পারে এবং পাঠকের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরুন।
আপনার লেখনীর দক্ষতা দেখান। আপনার এই প্রস্তাবটিই যেন একটি গল্প বলে দেয় এবং এখানেই যেন প্রতিবেদনের দৃষ্টিভঙ্গিটি ফুটে ওঠে।
কিছুটা নাটকীয় ভাব রাখুন। প্রস্তাবটিতেও সেই নাটকীয়তার কেন্দ্রে চলে যান।
সংবাদের গুরুত্ব বুঝুন। সমসাময়িক সংবাদের সঙ্গে এটির সংযোগ যত স্পষ্ট হবে, তত ভালো।
সময়োপযোগী করে তুলুন।

কনরাড অ্যাডেনাওয়ার স্টিফটুং-এর গ্লোবাল মিডিয়া প্রোগ্রাম প্রণীত, ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ম্যানুয়াল অনুযায়ী, একটি প্রস্তাবের মধ্যে থাকা উচিৎ:

প্রতিবেদনের ধারণা
প্রতিবেদনটি কেন এই নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যম বা তাদের পাঠকদের জন্য যথার্থ
কাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
সময় পরিকল্পনা
বাজেট

প্রতিবেদন প্রস্তাব লেখা নিয়ে একটি টিপশিট তৈরি করেছিলেন টাইপ ইনভেস্টিগেশনের (পূর্বের ইনভেস্টিগেটিভ ফান্ড) নির্বাহী সম্পাদক, সারাহ ব্লুস্টেইন। সেখানে তিনি জোর দেন, প্রস্তাবটিকে “ছোট রাখা”, “সুনির্দিষ্ট হওয়া”, এবং “প্রতিবেদনটি সামনে নিয়ে যাওয়ার জন্য সম্পাদকদের যা যা প্রয়োজন, তা সরবরাহ করার” দিকে। তিনি সাধারণত চার অনুচ্ছেদের একটি প্রতিবেদন প্রস্তাব তৈরির পরামর্শ দেন, যেখানে এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস থাকতে হবে:

প্রতিবেদনটি কী নিয়ে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন এটি এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি কী কী খুঁজে পেয়েছেন।
কেন একমাত্র আপনারই এই বিষয়টি নিয়ে লেখা উচিৎ।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি ম্যাগাজিন, মাদার জোনসও তাদের ফ্রিল্যান্স লেখক গাইডলাইনে এই বিষয়গুলোর দিকে জোর দিয়েছে:

“অল্প কয়েকটি অনুচ্ছদের মধ্যে আমাদের বলুন: আপনি কোন বিষয়টি কাভার করার পরিকল্পনা করছেন, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় এবং কিভাবে আপনি এটি রিপোর্ট করবেন। এখানে আপনার কাজের দৃষ্টিভঙ্গি, পদ্ধতি, প্রকাশভঙ্গি ইত্যাদি উঠে আসবে। এবং আপনাকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে: এই বিষয়টি নিয়ে লেখার জন্য আপনার কী কী নির্দিষ্ট যোগ্যতা আছে? সোর্সের সঙ্গে আপনার  বোঝাপড়া কেমন? এই বিষয়ে যদি অন্যান্য আরো অনেক বড় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তাহলে আপনারটি কিভাবে সবার চেয়ে আলাদা ও ভালো হবে?”

“আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে দুই-এক লাইন ও প্রাসঙ্গিক দুই বা তিনটি কাজের কথা যোগ করবেন।”

“অল্প কয়েকটি অনুচ্ছদের মধ্যে আমাদের বলুন: আপনি কোন বিষয়টি কাভার করার পরিকল্পনা করছেন, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় এবং কিভাবে আপনি এটি রিপোর্ট করবেন” – মাদার জোনস দ্য পিচ: অ্যাট দ্য গার্ডিয়ানস লং রিড, নো রিজিড ফর্মুলা অর জিওগ্রাফিক্যাল লিমিটস – ২০১৮ সালের নিম্যান স্টোরিবোর্ডে প্রকাশিত এই প্রবন্ধ, ঠিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে নয়। কিন্তু এখানে প্রতিবেদনের প্রস্তাব তৈরি নিয়ে অনেক খোলামেলা আলাপ করা হয়েছে। “সম্পাদকের পরামর্শ: আগে কী প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে গবেষণা করুন। নির্ভরযোগ্য, নতুন ও ‘মনোযোগ আটকে রাখার মতো’ কিছু করুন। সাহস করে, একটা দারুন পিচ পাঠিয়ে দিন।”

অনুদানের কথা মাথায় রেখে লেখা হলেও, এরিক কারস্টেন্সের এই লেখায় (হাও নট টু উইন এ জার্নালিজম গ্রান্ট) কোনো বিষয় উপস্থাপন করা নিয়ে ভালো কিছু ধারণা দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে এটি জিআইজেএন-এ পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রস্তাব পাঠানো নিয়ে সলিউশন জার্নালিজম নেটওয়ার্কের তিন পর্বের সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব ছিল: হোয়াট এডিটরস আর লুকিং ফর ইন সলিউশন পিচেস। এখানে আটটি বিষয় তুলে ধরেছিলেন জুলিয়া হটজ:

১. “পাঠকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? ”- এই প্রশ্নের স্পষ্ট, বিস্তারিত ও সময়োপযোগী উত্তর দিতে হবে।

২.

কোভিড-১৯: তথ্য কোথায় পাবেন, সোর্স কারা হবেন, এবং গল্প কত রকমের

ভাবছেন তথ্য নেই, রিপোর্ট কী দিয়ে করবেন। যাতায়াতেরই যেখানে উপায় নেই, সেখানে কথা কার সাথে বলবেন। শুধু হাসপাতাল আর রোগীর সংখ্যা নিয়ে কথা চারদিকে, খুঁজে পাচ্ছেন না প্রতিবেদন বা অনুসন্ধানের বিষয় কী হবে। এত প্রশ্নের মধ্যেও যদি জানতে চান, কীভাবে হতে পারে কোভিড-১৯ নিয়ে অনুসন্ধান – তাহলে পড়ুন তিন বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক কী বলছেন। 

জমির মালিকানা: রিপোর্ট আপনার পায়ের নিচেই!

English

সম্পত্তি রেকর্ডের স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে গণমাধ্যমে খুব একটা রিপোর্ট হয় না। কারণ বেশিরভাগ সাংবাদিকের এই বিষয় নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। ভূমি নীতি বিশেষজ্ঞরা সাংবাদিকদের এমন অনীহায় রীতিমত হতাশ।

কোনো কোনো সময় জাতীয় দৈনিকের শিরোনামে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও কর্পোরেট স্বার্থের মধ্যে ভূমি মালিকানা নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিবাদের খবর চোখে পড়ে। কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, দুর্নীতি, দুর্বল ভূমি অধিকার আইন এবং অস্পষ্ট রেকর্ডের মত নেপথ্য কারণগুলো নিয়ে পর্যাপ্ত রিপোর্ট হয়না।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে সঠিক রেকর্ডের অভাব। সম্পত্তি অধিকার নিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার পেছনেও এটিই কাজ করে।

দলিলবিহীন জমির সমস্যাটি বেশ প্রকট। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ ভূমির দলিল নেই।

“বিশ্বে বড়জোর অর্ধেক দেশের রাজধানীতে (আফ্রিকাতে মাত্র ১৩ শতাংশ দেশে) ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির নিবন্ধন বা মানচিত্র পাওয়া যাবে। বেশিরভাগ সময় সরকারি জমির নিবন্ধন থাকেই না” – ২০১৮ সালের একটি ব্লগ পোস্টে বলেছেন বিশ্বব্যাংকের ভূমি বিশেষজ্ঞ ক্লস ডেইনিংগার। এক-তৃতীয়াংশেরও কম দেশে ডিজিটাল রেকর্ড রাখা হয় বলে তিনি জানান।

এসব সমস্যার সামাজিক প্রভাব অনেক, বিশেষ করে, পরিবেশ এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর। এসব বিষয় নিয়ে রিপোর্ট হওয়া উচিৎ। দলিল না থাকলে আদিবাসী গোষ্ঠীর দখলে থাকা জমি চলে যেতে পারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অধীনে। তার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে তারা পরিবেশেরও ক্ষতি করতে পারে। ভূমির অপর্যাপ্ত রেকর্ড দূর্নীতির পৃষ্ঠপোষক হিসাবে কাজ করে। আরো ভালোভাবে বলতে গেলে, ভূমি অধিকারের অভাব বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সমস্যাটির গুরুত্ব এতই যে, জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যেও (লক্ষ্য ১.৪, সূচক ১.৪.২)  ভূমি ভোগদখলের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্লোবাল ল্যান্ড অ্যালায়েন্স এবং ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগ পিআর-ইনডেক্স ভূমি ভোগদখলের সুরাক্ষা নিয়ে দেশ-ভিত্তিক পরিস্থিতি পরিমাপ করবে। এটি ভবিষ্যতে লেখালেখির খোরাক যোগাতে পারে।
সংস্কারের সম্ভাব্য সুবিধা
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নির্ভুল, গতিশীল এবং স্বচ্ছ ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থার অনেক সুবিধা। যেমন

বিনিয়োগ বৃদ্ধি
দুর্নীতি হ্রাস
কর রাজস্ব বৃদ্ধি
অবকাঠামো উন্নয়নে প্রণোদনা
কৃষকের নিরাপত্তা
স্থির এবং স্বচ্ছ আবাসন বাজার তৈরি
দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেয়ার সক্ষমতা
নগর পরিকল্পনার উন্নয়ন
উন্নততর স্বাস্থ্য সেবায় সহায়তা
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রসার
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা

দুর্বল রেকর্ড-রক্ষণ এবং বিস্তৃতির অভাবের কারণে বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভূমি নিবন্ধন এবং ক্যাডেস্টারের আধুনিকীকরণ নিয়ে কাজ করছে (২০১৮ সালের সিস্টেমেটিক প্রোপার্টি রেজিস্ট্রেশন: রিস্কস অ্যান্ড রেমেডিস দেখুন)। এক্ষেত্রে সহায়তার সম্ভাব্য নতুন ক্ষেত্র হতে পারে এরিয়াল ছবি এবং ব্লকচেইন ব্যবস্থা। কিন্তু নতুন প্রযুক্তি প্রবর্তন এবং ধরে রাখার চড়া খরচ এবং আমলাদের প্রতিবন্ধকতার কারণে এর প্রসার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্গানাইজেশন অফ আমেরিকান স্টেটস ক্যাডেস্টার আধুনিকীকরণের জন্য একটি টুলকিট তৈরি করেছে।

ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই রেকর্ডের স্বচ্ছতা এবং ভূমি নীতিমালা হয়ে উঠেছে আলোচনার মূল বিষয়।
তথ্যের বড় উৎস বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের অসংখ্য রিপোর্ট আছে, যা আপনাকে সম্ভাব্য অনুসন্ধানের সূত্র যোগাবে।

জাতীয় পর্যায়েও এমন রিপোর্ট রয়েছে। যেমন, বিশ্বব্যাংক ২০১৪ সালে ভিয়েতনামের ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থা নিয়ে আলাদা প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

জমি বা সম্পত্তির রেকর্ড কীভাবে খুঁজবেন, জানতে হলে পড়ুন জিআইজেএনের প্রোপার্টি গাইড।ভিয়েতনাম ল্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি স্টাডি নামের সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী “স্বচ্ছতার সমস্যা প্রভাব ফেলেছে সেখানকার স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর আচরণ, সক্ষমতা আর নেতৃত্বে।”

বিশ্বব্যাংক অনেক ভূমি বিষয়ক প্রকল্পে যুক্ত। আরো জানতে “ল্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ক্যাডেস্টার” সার্চ করুন।

বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের এই রিপোর্ট নিয়ে ফলো-আপ করা উচিত সাংবাদিকদের। এখানে মানচিত্র ও ভূমি-কর ব্যবস্থার উন্নয়নের স্যাটেলাইট ছবির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

ল্যান্ড পোর্টাল ওয়েবসাইটে ডেটাসেটের দারুণ একটি সংকলন পাওয়া যায়।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পত্রিকা বিজনেস ডে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্নীতি দমন সংস্থা একটি ভূমি সংস্কার প্রকল্পে এমন “ব্যবস্থাপনাগত দূর্বলতা” খুঁজে পেয়েছে, যার মাধ্যমে ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার দামের জমি, প্রতারণার মাধ্যমে জবর দখল করা হয়েছিলো।
অন্যান্য রিপোর্ট
ইন্টারনেট ঘাঁটলেই ভূমি সংস্কার নিয়ে অনেক রিপোর্ট পাওয়া যায়। যেমন: ইনোভেশনস ইন ল্যান্ড রেজিস্ট্রি ম্যানেজমেন্ট নামের ২০১৮ সালের এই অ্যাকাডেমিক পেপার। এখানে বলা হয়েছে, “জমি নিবন্ধন ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণে ছোট-বড় দুই ধরণের দুর্নীতিকেই উৎসাহিত করে।” এই পেপারে ভূমি নিবন্ধন সংস্কারের কিছু কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে।

কম্বোডিয়া, ভারত এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে ভূমি বিষয়ক সেবা পেতে ঘুষের পরিমাণ অনেক সময় ৫০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়। এমন তথ্য পাবেন ল্যান্ডপোর্টাল ওয়েবসাইটের ল্যান্ড অ্যান্ড করাপশন পোর্টফোলিওতে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতে আফ্রিকায় মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ মানুষ ভূমি-দুর্নীতির শিকার। যুবসমাজকে ভূমি সংস্কারে আগ্রহী করে তোলার জন্য সম্প্রতি তারা একটি প্রতিযোগিতা শুরু করেছে।

কার্বিং করপোরেশন ভূমি অধিকার এবং দুর্নীতির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে একটি দুর্দান্ত গাইড প্রকাশ করেছে। সেখানে “ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির বিভিন্ন রূপ” সম্পর্কে সংক্ষেপে বলা হয়েছে।

টেরোরিজম, ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন সেন্টারের ২০১৮ সালের একটি রিপোর্টে জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের শার স্কুল অফ পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট বলছে, “আবাসনখাতে অর্থ পাচার – উন্নত এবং উন্নয়নশীল দুই ধরণের দেশের জন্যেই সমস্যা।”

ভূমি সংস্কারে অগ্রগণ্য দেশগুলোর একটি নেদারল্যান্ডস। তারা ক্যাডেস্টার অ্যাব্রোড নামের একটি নিউজলেটার প্রকাশ করে।

ভূমি রেকর্ডে প্রবেশাধিকার বেশিরভাগ সময়েই সংরক্ষিত থাকে। দেশের মাত্র এক শতাংশ মানুষ উন্মুক্তভাবে তাদের ভূমি মালিকানার তথ্য প্রকাশ করে, অন্যদিকে, ওপেন ডেটা ব্যারোমিটার বলছে, ১০ শতাংশ দেশে বাজেটের তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত। ওপেন নলেজ ইন্টারন্যাশনালের তৈরি গ্লোবাল ওপেন ডেটা ইনডেক্স অনুযায়ী, সবার জন্য উন্মুক্ত ১৫ ধরণের তথ্যের মধ্যে ভূমি মালিকানার তথ্য সবচেয়ে নিচে।

গণমাধ্যমের অনীহা
ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক পত্রিকাগুলো বাড়ী বেচাকেনা, আবাসনখাতে নতুন ধ্যানধারণা এবং বাজার-প্রবণতা নিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট করে। কিন্তু প্রচলিত গণমাধ্যমের মত, তারাও ভূমি বিষয়ক সমস্যাগুলো এড়িয়ে যায়।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা রাজনৈতিক দুর্নীতি জাতীয় প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে হয়তো সম্পত্তির রেকর্ড ব্যবহার করেন। কিন্তু তারা ভূমি ব্যবস্থাপনার ভেতরে খুব একটা ঢুকতে চান না বা ভূমি রেকর্ডের অস্বচ্ছতা নিয়ে অনুসন্ধান করেন না।

এদের মধ্যে ব্যতিক্রম হচ্ছে থমসন রয়টার্সের প্লেইস। তারা ভূমি নিয়েই কাজ করে। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টের মধ্যে আছে:

কেনিয়ার অধিবাসীরা জমি বিক্রি করছেন নামমাত্র মূল্যে
দরিদ্রদের বদলে কারখানাকে ভূমি দিতে আইন সংশোধন করলো ভারতের গুজরাট রাজ্য
কৃষকদের ভূমি অধিকার কি ঘানার কোকোয়া খাতকে বাচাঁতে পারবে? জমি দখলের প্রতিযোগিতায় ইথিওপিয়ার কফি চাষিরা বিপাকে

রেকর্ড ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টাগুলোও অবশ্য বিতর্কের উর্ধ্বে নয়। রয়টার্সের একটি রিপোর্টে উঠে আসে, কারো সাথে পরামর্শ না করেই কেনিয়ায় ভূমি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু পরে তা বন্ধ করার দাবি ওঠে।

ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থা বেসরকারিখাতের হাতে ছেড়ে দেয়ার বেশ কিছু সুবিধা আছে। আবার এ নিয়ে বিতর্কও কম নয়। অস্ট্রেলিয়ার ফাইনান্সিয়াল রিভিউতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিয়ে বিতর্কের খবর ছাপা হয়েছে।
প্রণোদনার অভাব
ভূমি নিয়ে রিপোর্টিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পান না সাংবাদিকরা।

বিশ্বব্যাপী স্বাধীন সাংবাদিকতাকে সহায়তা দেয় পুলিৎজার সেন্টার অন ক্রাইসিস রিপোর্টিং। তারা ভূমি এবং সম্পত্তির অধিকার বিষয়ক ডেটা জার্নালিজম প্রকল্পে পৃষ্ঠপোষকতা করে।

এন/কোর এবং ওমিডায়ার নেটওয়ার্ক পরিচালিত ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম গ্রান্ট, ভারতে ভূমি এবং সম্পত্তি বিষয়ক উদ্ভাবনী সাংবাদিকতার প্রসারে কাজ করছে।
এনজিওর তৈরি রিপোর্ট
বিভিন্ন এনজিও ভূমি নীতিমালা নিয়ে রিপোর্ট করে। তাদের রিপোর্টে  অনেক সময় অনুসন্ধানী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

জমির রেকর্ড থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা কীভাবে দুর্নীতি খুঁজে বের করেছেন, দেখুন জিআইজেএনের এই সংকলনে।মোঙ্গাবে, ২০১৮ সালের অগাস্টে প্রকাশিত এক রিপোর্টে তুলে ধরে, ইন্দোনেশিয়ার সরকার আদিবাসীদের জমি বাদ দিয়ে কীভাবে ভূমি-ব্যবহার ডেটাবেস ও মানচিত্র তৈরির পরিকল্পনা করছিল।

২০১৭ সালের এপ্রিলে “সাও পাওলো: ডাজ করাপশন লিভ নেক্সট ডোর?” নামের রিপোর্টে  ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল দেখায়, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পত্তির আসল মালিকদের পরিচয় কীভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই গবেষণায় তারা সাও-পাওলোর সবচেয়ে দামী এলাকা থেকে ব্রাজিলিয় বাড়ী-মালিকদের তথ্য খুঁজে বের করে। তারপর তারা সেখানকার স্টেট ট্রেড বোর্ড থেকে তথ্য নিয়ে ব্রাজিলিয় মালিকদের পেছনে থাকা বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও চিহ্নিত করে।

২০১৮ সালে  রাইটস অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনিশিয়েটিভ খুঁজে পায়, আদিবাসী এলাকায় বনের গাছ এবং মাটিতে বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা হচ্ছে। তারা দেখায়, হাজার বছর ধরে আগলে রাখা জমিতে আদিবাসীদের অধিকারের বিষয়টি স্বীকার করে নিতেও সরকার কতটা ব্যর্থ হয়েছে।

২০১৮ সালে ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইন্সটিটিউট স্ক্র্যাম্বল ফর ল্যান্ড রাইটস নামের রিপোর্টে লিখেছে, “ভূমি অধিকারের আইনগত স্বীকৃতি না থাকলে, বাইরের বিনিয়োগকারীদের হাত থেকে জমি বাঁচাতে সংগ্রাম করতে হয় প্রত্যেক সম্প্রদায়কেই।”

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ সালের একটি রিপোর্টে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন এবং অর্থ পাচারের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে জানায়, “আবাসন খাতে অর্থ পাচারের ঝুঁকি কমাতে বা সনাক্ত করতে প্রচলিত নিয়ম যথেষ্ট নয়।” আরও দেখুন তাদের ২০১৭ সালের রিপোর্ট টেইন্টেড ট্রেজারস: মানি লন্ডারিং রিস্কস ইন লাক্সারি মার্কেটস।

২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) কেনিয়ার একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর সম্পত্তির অধিকার সংরক্ষণে বিশ্বব্যাংকের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে রিপোর্ট করে।
এনজিও যখন তথ্যের উৎস
ভূমি অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো তথ্যের দারুণ উৎস হতে পারে।

যেমন, কিছু দেশে সম্মিলিত ভোগদখলের জন্য সুরক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

টেনিউর ফ্যাসিলিটি এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যান্ড কোয়ালিশন এর কাজগুলো দেখতে পারেন। অারো অনেক দেশের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেতে দেখুন কালেক্টিভ ল্যান্ড ওনারশিপ ইন দ্য টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি: ওভারভিউ অফ গ্লোবাল ট্রেন্ডস।

ভূুমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার গুরুত্ব নিয়ে ল্যান্ড পোর্টালে লরা মেগিওলারো এবং রামি সাতোর ব্লগ পোস্ট পড়ুন।

জেন্ডার অ্যান্ড ল্যান্ড রাইটস ডেটাবেইজ (জিএলআরডি) দিচ্ছে বিভিন্ন দেশের প্রোফাইল, লিঙ্গ ও ভূমি-বিষয়ক পরিসংখ্যান। তারা সম্প্রতি আইনি পর্যালোচনার এই টুল (এলএটি) তৈরি করেছে।

ঘানা এবং ইন্দোনেশিয়ায় মেরিডার বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। শহরের অধিবাসীদের ভূমি অধিকারের দলিল তৈরির টুল বানিয়েছে ক্যাডেস্টা। ভারতেও এমন একটি প্রকল্প আছে। একে “বস্তির মালিকানা নির্ধারণে বিশ্বের বৃহত্তম উদ্যোগ” হিসাবে অ্যাখ্যা দেওয়া হয়।

ভূমি সংস্কার নিয়ে কাজ করে এমন আরো অনেক আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এই গাইডটি সম্পাদনা করেছেন জিআইজেএন রিসোর্স সেন্টারের পরিচালক টবি ম্যাকিনটশ। তিনি ওয়াশিংটন-ভিত্তিক রিপোর্টার ছিলেন এবং ৩৯ বছর ধরে বুমেরাং বিএনএ এর সম্পাদক হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি অলাভজনক ওয়েবসাইট ফ্রিডমইনফো.ওআরজি এর সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। টবি আইঅনগ্লোবালট্রান্সপারেন্সি.নেট নামের একটি ব্লগ চালান।

জমির নথি থেকে যেভাবে দুর্নীতি উন্মোচন করলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা

English

জমির রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে অনেক বড় বড় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। যা দুর্নীতির নানান ঘটনা উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নিচে তেমন কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো। পড়লেই ‍বুঝতে পারবেন, সম্পত্তির রেকর্ড অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় কতটা বৈচিত্র্য আনতে পারে। এদের বেশিরভাগই করা হয়েছে ২০১৮ সালে।
কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রমাণে জমির নথি
“মিলিওনেয়ারস অ্যামোং দ্য নোমিনিস” নামের প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সারায়েভোর সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং (সিআইএন)। অনুসন্ধানটি পরিচালিত হয় বসনিয়ার ১২১ জন রাজনীতিবিদের সম্পত্তি নিয়ে, যার কেন্দ্রে ছিলেন শীর্ষ ১০ ধনী-রাজনীতিবিদ। সিআইএনের রিপোর্টাররা ভূমি রেকর্ড এবং ঘোষিত সম্পদের বিবরণ থেকে তাদের সম্পত্তির যাবতীয় তথ্য যোগাড় করেন। পরে সব তথ্য “রাজনীতিবিদদের সম্পদ” নামের একটি ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়।

মাঝে মাঝে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্পোরেট নির্বাহীদের বিলাসবহুল বাড়ীর খবরও উন্মোচন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। আর আর্মেনিয়ার সাংবাদিকরা এই কাজ করেছেন বেশ কয়েকবার।

আর্মেনিয়ার কর্মকর্তারা কীভাবে আয় গোপন করে সেই টাকা দিয়ে চেক রিপাবলিকে সম্পদ গড়েছেন – তা খুঁজে বের করে হেটকিউ নামের একটি অনলাইন। রিপোর্টটি প্রকাশ করে দেশটির অ্যাসোসিয়েশন অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস। গভীর এই অনুসন্ধানী সিরিজের আরেকটি পর্বে দেখানো হয়, আর্মেনিয়া পুলিশের সাবেক প্রধান কীভাবে ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি বিলাসবহুল বাড়ী ২০ লাখ ডলারে কিনে নেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে।”

ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারক মারসেলো এবং সিমোন ব্রেটাসের মালিকানাধীন ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের বিশাল অট্টালিকা নিয়ে রিপোর্ট করে দি ইন্টারসেপ্ট। পরে পিয়াউই ম্যাগাজিনের রিপোর্টাররা জমি নিবন্ধনের রেকর্ড ঘেঁটে খুঁজে বের করেন – এই বিপুল সম্পদের মালিক আসলে ব্রাজিলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিচেল তেমের।

চীনের কর্পোরেট গ্রুপ এইচএনএ’র নির্বাহীরা বিলাসবহুল যত বাড়ী কিনেছেন, তার তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। আর এই অনুসন্ধানে বড় ভূমিকা রেখেছে আবাসন রেকর্ড।

বিদেশে নাইরেজিয়ান রাজনীতিবিদরা কত সম্পদ গড়েছেন, এই নিয়ে একটি অনুসন্ধান করেছিল দ্য হেরাল্ড ইন নাইজেরিয়া। তারা রিপোর্টটি দাঁড় করিয়েছিল আবাসন বিষয়ক ওয়েবসাইট এবং গুগল থেকে নেয়া ছবি ব্যবহার করে।

রাশিয়ার সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত এলাকায় লাখ লাখ ডলার দাম দিয়ে জমি কেনা হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একজন বডিগার্ডের নামে – পড়ুন নোভায়া গেজেটার এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রোজেক্ট (ওসিসিআরপি), তাদের একটি রিপোর্টে দেখিয়েছে, রাশিয়ার সাবেক শিল্পমন্ত্রী কীভাবে একটি গলফ কোর্সের কয়েক লাখ ডলার মূল্যের শেয়ার আত্মসাৎ করেছেন। রিপোর্টে বলা হয়: “এই সম্পত্তির মালিক ছিলেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।  কিন্তু দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তা নজরে পড়ে যায়, সেই মন্ত্রীর।”

পেরুতে জাল-জালিয়াতি করে জমি বেচাকেনার একটি চক্রকে উন্মোচন করেছিল মোংগাবে।  এই রিপোর্টের কারণে, মিথ্যা নথিপত্র তৈরির অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তা আটক হন।
ফাঁস হওয়া তথ্যে সম্পত্তির বিবরণ
ওপরে যত রিপোর্টের কথা বলা হয়েছে, তাদের সবই উন্মুক্ত, তথা পাবলিক রেকর্ড-ভিত্তিক। কিন্তু নিচের প্রতিবেদনগুলো তৈরি করা হয়েছে ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে।

জমি বা সম্পত্তির রেকর্ড কীভাবে খুঁজবেন, জানতে হলে পড়ুন জিআইজেএনের প্রোপার্টি গাইড।সাবেক পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে জুলাই মাসে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০৬ লাখ মার্কিন ডলার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস – আইসিআইজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর কারণ ছিল পানামা পেপার্স। সেখানে উঠে আসে, বিদেশে নওয়াজ পরিবারের সম্পত্তির বিষয়টি।

“অবৈধ সম্পদ বিদেশে পাচার কীভাবে দুবাইয়ের সম্পত্তির বাজারকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলছে” সম্প্রতি তা বেরিয়ে আসে অনুসন্ধানী প্রকল্প স্যান্ডকাসলস থেকে। অনুসন্ধানটি করেছে সি৪এডিএস নামের একটি আমেরিকান সংগঠন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবাসন বিশেষজ্ঞরা দুবাইয়ে বিলাসবহুল বাড়ী বেচাকেনার যে তথ্য সংকলন করেছিলেন, সেটিই ফাঁস করে দেয়া হয় সি৪এডিএসের কাছে।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংগঠন ফাইনান্স আনকভার্ড ফাঁস হওয়া সেই তথ্য ব্যবহার করে লিখেছে, “দুবাই লিকস: গোপন সম্পত্তি রেকর্ড বলছে, আমিরাত হচ্ছে পৃথিবীর “কোস্তা দেল ক্রাইম।” এই প্রতিবেদন দুবাইয়ের শত শত বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিকদের পরিচয় উন্মোচন করে দেয়। সি৪এডিএস প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পেয়েছিলো, তার আরো গভীরে যাওয়ার জন্য এই গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে ওসিসিআরপি’র সংকলন করা রেকর্ড।

২০১৫ সালে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসে খুব বিখ্যাত একটি অনুসন্ধান প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখানো হয়, নিউ ইয়র্ক শহরের সবচেয়ে দামী কয়েকটি আবাসিক ভবন, কীভাবে কেনা হচ্ছে কাগজ-সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে। অনুসন্ধানটি শেষ করতে সময় লেগেছে দুই বছর। এই প্রতিবেদনে রিপোর্টাররা তাদের সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। ধনী ক্রেতাদের আগ্রহ কোথায় তা বুঝার জন্য তারা বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করেন। কাগজ-সর্বস্ব শেল কোম্পানিগুলোর তথ্য উদ্ঘাটন করতেও এই অনুসন্ধানটি কাজে এসেছে।
জমির তথ্যে লুকিয়ে থাকে সামাজিক সমস্যা
সামাজিক এবং নীতিমালার সমস্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদনেও ভূমি বিষয়ক তথ্য ব্যবহার করা যায়।

ক্যালিফোর্নিয়ার সম্পত্তি কর নীতিমালার কারণে কীভাবে মুষ্টিমেয় ধনী ব্যক্তি লাভবান হচ্ছেন এমন একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস। এই প্রতিবেদনের জন্য তারা ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি কাউন্টি থেকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হস্তান্তর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে।

ভূমিধ্বসের ঝুঁকিতে থাকা একটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণকাজের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে, ক্রাইম মলদোভা। “দ্য ‘স্লাইডিং’ বিজনেস অফ দা স্টাটি ফ্যামিলি” নামের সেই অনুসন্ধানে তারা সম্পত্তির মালিকানার রেকর্ড ব্যবহার করেছে।

একজন ইথিওপিয়ান কফিচাষীর পিতৃদত্ত জমি ফেরত পাওয়ার লড়াই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় প্লেইস-এ। জমির আনুষ্ঠানিক দলিল না থাকলে কী ধরণের সমস্যা হয়, তা-ই ছিল এই অনুসন্ধানের মূল উপজীব্য। প্লেইস হচ্ছে ভূমি অধিকার সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইট। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন তাদের পৃষ্ঠপোষক। পরিবেশ বিপর্যয় বা খাদ্যের অভাব থেকে শুরু করে সংঘাত এবং যুদ্ধের মত কারণে কেউ ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে – সমাজ, রাজনীতি বা অর্থনীতিতে তার যে প্রভাব পড়ে, তার সবকিছুই বিশ্লেষণ করে প্লেইস। তাদের আরেকটি প্রতিবেদন ছিল: “কৃষকদের জন্য ভূমি অধিকার কি ঘানার কোকোয়া খাতকে বাঁচাতে পারবে?” নেটওয়ার্ক অফ ইরাকি রিপোর্টারস ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ২০১৭ সালে “আইসিসের আবাসন সাম্রাজ্য: নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং সম্পত্তি জালিয়াতির প্রত্যাবর্তন,” শিরোনামে একটি অনুসন্ধান প্রকাশ করে। সেখানে তারা উন্মোচন করে, আইসিস কীভাবে জমির দলিল বিকৃত করে মানুষের বাড়িঘর দখল করে নিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্য প্রাণী চোরাচালান প্রতিরোধে ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের সীমানায় নিরাপদ অঞ্চল তৈরির প্রভাব নিয়ে অনুসন্ধান করে অক্সপেকার্স। তারা দেখতে পায় “দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের সহায়তায় ভিনদেশী ধনীরা জায়গাটি দখল করে ফেলেছে।” এই অনুসন্ধানে তারা কী পদ্ধতি এবং টুল ব্যবহার করেছে, দেখে নিন এই প্রতিবেদনে।
সচিত্র উপস্থাপনা
যেখানে ডেটা আছে, সেখানেই গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তা উপস্থাপনেরও সুযোগ থাকে।

গ্যাস স্টেশন, অবকাঠামো সংস্কার এবং ক্যাফেসহ কয়েকশ অবৈধ নির্মাণ-কাজের এলাকাভিত্তিক চিত্র, গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে কিয়েভ পোস্টের এই প্রতিবেদনে।

নিউ ইয়র্ক শহরের আবাসন বিষয়ক গণমাধ্যম রিয়েল ডিল “প্রথমবারের মতো একটি অসাধারণ র‍্যাংকিং” প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল “নিউ ইয়র্কের মালিক কে?” প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ নিউ ইয়র্কের সরকারী তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহার করছে। ভূমি মালিকানার নথিপত্রের পাশাপাশি সেখানে রাখা আনুষঙ্গিক অন্যান্য তথ্যও সবার কাজে আসে। যেমন, এর ভিত্তিতেই নগর কর্তৃপক্ষ চলমান নির্মাণ প্রকল্পের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। স্থানীয় আবাসন বিষয়ক প্রকাশনা কার্বড, নিয়মিতই ভূমি ব্যবহারের তথ্য থেকে খবর খুঁজে বের করে।

ব্রিটিশ ওয়েবসাইট হু ওউনস ইংল্যান্ড পরিচালনা করেন মাত্র দুই জন ব্যক্তি। তারা ব্রিটিশ ভূমি রেকর্ড থেকে তথ্য নিয়ে নিয়মিতভাবে দারুণ সব প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। দেশটির ভূমি রেকর্ড ব্যবহারের পদ্ধতি এবং মানচিত্র তৈরির ওপর তাদের তৈরি গাইডটি বেশ শিক্ষামূলক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অ্যানা পাওয়েল-স্মিথের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৫২ লাখ একর জমির কোনো নিবন্ধিত মালিক নেই।

পাঠকের জন্য সূত্র: “হু ওউনস” এর তথ্য যে কেউ ব্যবহার করতে পারেন। এর কোনো কপিরাইট নেই।

এই গাইডটি সম্পাদনা করেছেন জিআইজেএন রিসোর্স সেন্টারের পরিচালক টবি ম্যাকিনটশ। তিনি ওয়াশিংটন-ভিত্তিক রিপোর্টার ছিলেন এবং ৩৯ বছর ধরে বুমেরাং বিএনএ এর সম্পাদক হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি অলাভজনক ওয়েবসাইট ফ্রিডমইনফো.ওআরজি এর সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। টবি আইঅনগ্লোবালট্রান্সপারেন্সি.নেট নামের একটি ব্লগ চালান।