প্রবেশগম্যতা সেটিংস

লেখাপত্র

বিষয়

জীবন নাকি মৃত্যু: ক্যানসার চিকিৎসার জটিল জিসাব-নিকাশ নিয়ে আইসিআইজের অনুসন্ধান

আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:

ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে লড়াইয়ে সক্ষম করার জন্য রয়েছে বেশ সফল একটি ওষুধ। এটি এতটাই সফল যে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধে পরিণত হয়। আইসিআইজের প্রধান প্রতিবেদক সিডনি পি. ফ্রিডবার্গের মতে, এটি ভবিষ্যতে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধগুলোর একটিতেও পরিণত হতে পারে।

২০১৪ সালে প্রথম অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্কের তৈরি কিট্রুডা লাখো ক্যানসার রোগীর জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসায় পরিণত হয়েছে। তবে ওষুধটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আর এর দামও বিশ্বের সব দেশে এক নয়।

আইসিআইজের ক্যানসার ক্যালকুলাস অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া ৪৭টি গণমাধ্যমের একটি দ্য ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “ব্রাজিলে বেশিরভাগ ক্যানসার রোগীর পক্ষে কিট্রুডার খরচ বহন করা সম্ভব নয়। তাই ওষুধটি পাওয়ার জন্য হাজারো মানুষ আদালতের দ্বারস্থ হন। আর ভারতে এক মাসের জন্য কিট্রুডা চিকিৎসার খরচ অনেকের এক বছরের বেতনেরও বেশি। ফলে চিকিৎসা নাকি ন্যূনতম জীবনধারণের খরচ— পরিবারগুলোকে এই অসম্ভব এক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”

এক বছর ধরে পরিচালিত এই অনুসন্ধানে ৩৭টি দেশের ১২৪ জন সাংবাদিক অংশ নেন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কের কিট্রুডার মূল্য নির্ধারণ ও পেটেন্ট কৌশল ওষুধটির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে জীবনরক্ষাকারী এই চিকিৎসা অনেক রোগীর নাগালের বাইরেই থেকে যাচ্ছে।

সম্প্রতি আইসিআইজের ডিজিটাল প্রডিউসার কারমেন মোলিনা আকোস্তা ক্যানসার ক্যালকুলাস অনুসন্ধানের ফলাফল ও অনুসন্ধান পদ্ধতি নিয়ে সরাসরি এক আলোচনার আয়োজন করেন। এতে অংশ নেন আইসিআইজের প্রধান প্রতিবেদক সিডনি পি. ফ্রিডবার্গ এবং সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ডেটা প্রতিষ্ঠান সেরিফ হেলথের অ্যানালিটিকস বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ বিল পাজেরোভস্কি।

আইসিআইজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে কিট্রুডা বিক্রি করে মার্ক প্রায় ১,৬৩০০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১৬৩ বিলিয়ন ডলার) আয় করেছে। দ্য ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের ভাষায়, প্রতিযোগিতা সীমিত রেখে ক্যানসারের এই ওষুধের দাম অনেক বেশি ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটি “আইনসম্মত হলেও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক” বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছে। এর মাধ্যমে “ম্যাকডোনাল্ডসের চেয়েও বেশি অর্থ” আয় করেছে তারা।

কিট্রুডা (জেনেরিক নাম পেমব্রোলিজুম্যাব) একটি ইমিউনোথেরাপি ওষুধ, যা সাধারণত শিরায় প্রয়োগ করা হয়। টিউমার কোষ যাতে টি-সেলের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না করতে পারে, এটি তা নিশ্চিত করে। ফলে শরীর আবার ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করতে সক্ষম হয়। কেমোথেরাপির মতো দ্রুত বিভাজিত হওয়া কোষকে সরাসরি আক্রমণ করার পরিবর্তে, “কিট্রুডা ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে একজন মানুষের নিজের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকেই কাজে লাগায়,” বলেন ফ্রিডবার্গ

“কিট্রুডাকে এতটা বিশেষ করে তুলেছে এই কারণে যে এটি শুধু একটি নয়, বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রেই কার্যকর। ফুসফুসের ক্যানসার, মেলানোমা (ত্বকের ক্যানসারের সবচেয়ে গুরুতর ধরন), কিডনির ক্যানসার, ট্রিপল-নেগেটিভ স্তন ক্যানসারসহ আরও কয়েক ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় এটি অনুমোদিত।”

পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে

কিট্রুডা কীভাবে ক্রয়, বিক্রয় ও সরবরাহ করা হয়, তা এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মার্কের এই ওষুধের পেটেন্ট সুরক্ষার মেয়াদ শিগগিরই শেষ হতে শুরু করবে। এর ওপরই নির্ভর করবে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রোগীরা আরো কম মূল্যে কিট্রুডা কিনতে পারবেন কি না।

ফ্রিডবার্গ বলেন, “ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও নীতিনির্ধারক—সবাই নজর রাখছেন, ২০২৮ সালে এই ওষুধের পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হতে শুরু করলে কী ঘটে তা দেখার জন্য।” তিনি আরও বলেন, “কিট্রুডার মতো বহুল বিক্রীত একটি ওষুধের একচেটিয়া বাজারসুবিধা শেষ হলে অন্য কোম্পানিগুলো এর কম দামের সংস্করণ বাজারে আনতে পারে। অতীতে দেখা গেছে, এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশ্লেষকেরা একে ‘পেটেন্ট ক্লিফ’ বলে থাকেন।”

তবে এই অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্মোচন হলো, মার্ক বিশ্বজুড়ে কিট্রুডার জন্য ১ হাজার ২০০টিরও বেশি পেটেন্টের আবেদন করে বসে আছে, ‘এভারগ্রিনিং’ নামে পরিচিত এই কৌশলের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারে প্রবেশ বিলম্বিত হতে পারে। ফলে ওষুধটির দামও দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকতে পারে। এই অতিরিক্ত পেটেন্টগুলো ওষুধটির বিভিন্ন ফর্মুলেশন, উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং চিকিৎসা পদ্ধতিকে সুরক্ষা দেয়। শুধু তাই-ই না, এর মধ্যে অন্য চিকিৎসার সঙ্গে কিট্রুডা ব্যবহার করার পদ্ধতির ওপরও পেটেন্ট নেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানের একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে মার্ক পেটেন্ট কৌশল ব্যবহার করে কিট্রুডার উচ্চ মূল্য ধরে রাখতে সহায়তা করছে। ছবি: স্ক্রিনশট, আইসিআইজে

এই ওষুধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও ব্যাপক। আইসিআইজের সঙ্গে যে সব ক্যানসার গবেষকেরা কথা বলেছেন, তারা মার্কের বিরুদ্ধে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রার কিট্রুডা ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ফ্রিডবার্গ বলেন, ওষুধটির উচ্চ মূল্য “বিশ্বজুড়ে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও রোগীদের এমন আর্থিক ও আইনি লড়াইয়ে ঠেলে দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।” ওষুধটির উচ্চ মূল্যের কারণে নকল ওষুধের উৎপাদন এবং কালোবাজারও গড়ে উঠেছে

দামের ব্যাপক বৈষম্য

আইসিআইজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কিট্রুডার এক বছরের চিকিৎসার খরচ দেশভেদে ব্যাপকভাবে ভিন্ন। প্রচলিত তালিকাভুক্ত মূল্য (লিস্ট প্রাইস) অনুযায়ী, জার্মানিতে এই চিকিৎসার বার্ষিক খরচ প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৮ হাজার ডলার, লেবাননে ৯৩ হাজার ডলার এবং কলম্বিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। একই চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় খরচ প্রায় ৬৫ হাজার ডলার, আর ক্রোয়েশিয়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার।

আইসিআইজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম আয়ের মানুষ এবং বুলগেরিয়া ও হাঙ্গেরির মতো তুলনামূলক দরিদ্র পূর্ব ইউরোপীয় দেশের মানুষের জন্য কিট্রুডা, পশ্চিম ইউরোপের কিছু ধনী দেশের মানুষের তুলনায় আরও বেশি ব্যয়বহুল।”

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ বিল পাজেরোভস্কি বলেন, কিট্রুডার কোনো একক নির্ধারিত মূল্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রে এ কারণেই এর দামে ব্যাপক তারতম্য দেখা যায়। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা দেয় এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দরকষাকষির ক্ষমতা ভিন্ন, আর সরকারি মূল্য নির্ধারণ কর্মসূচির কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাতার কাছ থেকে ছাড় পেলেও ওষুধটি অতিরিক্ত মূল্য যোগ করে রোগীদের দিতে উৎসাহিত হয়।

তিনি বলেন, “কিট্রুডার লাখ লাখ, এমনকি শতকোটি ভিন্ন ভিন্ন মূল্য থাকতে পারে। এটি নির্ভর করে কে ওষুধটি কিনছে এবং কে সেটি বিক্রি করছে তার ওপর।”

ফ্রিডবার্গ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিট্রুডার দামের বৈষম্যের কিছু কারণও ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “ক্যানসারের ওষুধের বাজারে উচ্চ মূল্য অনেক সময় গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। কারণ এসব চিকিৎসা রোগীর জীবন দীর্ঘায়িত করতে পারে। তাই ক্রেতারা সাধারণ ভোক্তার মতো আচরণ করেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার খরচের বড় অংশ বহন করে বীমা প্রতিষ্ঠান বা সরকার।”

আইসিআইজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিট্রুডার দাম উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখতে মার্ক বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছে। যদিও এসব কৌশলের কোনোটিই আইনবিরোধী নয়। প্রতিবেদকদের মতে, এগুলো এমনভাবে পরিকল্পিত যে ওষুধটিকে ঘিরে একটি সুরক্ষাবলয়’ তৈরি হয়। যা এর উচ্চ মূল্য দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখতে সাহায্য করে।

  • ওষুধের মূল্য নির্ধারণে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই।
  • শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই কিট্রুডা বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ ফি, ভ্রমণ ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ বাবদ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবার পেশাজীবীদের কয়েক কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।
  • শেয়ারহোল্ডারদের প্রায় ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লভ্যাংশ দিয়েছে এবং নিজস্ব শেয়ার পুনঃক্রয়ে ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে।
  • সুইজারল্যান্ডের মতো কম করের দেশে মুনাফা দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের করের পরিমাণ কমিয়েছে

অনুসন্ধান পদ্ধতি

এই অনুসন্ধানটি বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা বিপুল পরিমাণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আইসিআইজে এবং তাদের অংশীদার গণমাধ্যমগুলো এসব তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও যাচাই করেছে। পরে সেই অনুসন্ধানের ফলাফল একাধিক প্রতিবেদন, ভিডিও এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ গ্রাফিক্সের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

  • আইসিআইজে এবং তাদের অংশীদার গণমাধ্যমগুলো ২৭টি দেশে ১ হাজার ১৮টি জনতথ্য (পাবলিক রেকর্ড) বিষয়ক আবেদন জমা দেয়। এর মাধ্যমে তারা জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত নথি, সভার কার্যবিবরণী, ওষুধের মূল্য ও ব্যয় পরিশোধ (রিমবার্সমেন্ট)–সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য দলিল সংগ্রহ করে।
  • মার্কের ওয়েবসাইট, বিভিন্ন সরকারি উৎস এবং নলেজ ইকোলজি ইন্টারন্যাশনালের ড্রাগডেটাবেস.ইনফো থেকে কিট্রুডার মূল্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে আইসিআইজে।
  • যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপেন পেমেন্টস ডেটাবেসে কিট্রুডাসংশ্লিষ্ট অর্থপ্রদানের যে তথ্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে, আইসিআইজে তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যনীতি–বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেএফএফের সংগ্রহ করা বিভিন্ন পরামর্শ বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করেছে।
  • বেলজিয়ামের সংবাদপত্র ডে টাইড বিট্রান্সপারেন্ট.বি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, যাতে বেলজিয়ামে রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মার্কের দেওয়া অর্থপ্রদানের হিসাব শনাক্ত করা যায়। পরে আইসিআইজে এই তথ্য লবিফ্যাক্টসের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করেছে।
  • ক্লিনিক্যালট্রায়ালস.গভ–এর তথ্যের ভিত্তিতে আইসিআইজে ও তাদের সুইজারল্যান্ডভিত্তিক অলাভজনক অংশীদার সংস্থা পাবলিক আই কিট্রুডার গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় বিশ্লেষণ করেছে।
  • হেলথকেয়ার কস্ট ইনস্টিটিউট এবং সেরিফ হেলথ যুক্তরাষ্ট্রে কিট্রুডা চিকিৎসার ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য আইসিআইজের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে।
  • গুয়াতেমালা, মেক্সিকো এবং চিলিতে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে কিট্রুডা পাওয়ার জন্য আদালতে দাখিল করা রোগীদের করা ১৬৩টি আবেদন পর্যালোচনা করেছে আইসিআইজে। আর ব্রাজিলের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ড্যাশবোর্ড থেকে।
  • আইসিআইজে ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ম্যানেজড হেলথ কেয়ার–এর উন্মুক্ত অনুসন্ধানব্যবস্থা থেকে কিট্রুডার প্রাপ্যতা সংক্রান্ত ২৭টি সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করেছে।

প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া

এককভাবে কেবল মার্ক নয়, অনুসন্ধানে বহুজাতিক এই ওষুধ কোম্পানির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হলেও, একই সঙ্গে ওষুধশিল্পে প্রচলিত বিভিন্ন কৌশল এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বৈষম্যকে আরও গভীর করে তোলা কাঠামোগত সমস্যাগুলোকেও তুলে ধরা হয়েছে। ফ্রিডবার্গের ভাষায়, এটি একটি ভেঙে পড়া ব্যবস্থা, যা বিশ্বজুড়ে বহুল বিক্রীত ওষুধগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে।

ফ্রিডবার্গ বলেন, “ওষুধের বাজারে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের মূল সাফল্যের তুলনায় একচেটিয়া বাজারব্যবস্থার অর্থনীতিকে বেশি পুরস্কৃত করা হয়। কিট্রুডার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, একটি বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন কার্যত অসংখ্য একচেটিয়া বাজারসুবিধায় পরিণত হয়েছে। আর কিট্রুডার কিছু চিকিৎসাপদ্ধতি অন্যান্য চিকিৎসার তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।”

তিনি বলেন, বর্তমান পেটেন্ট ব্যবস্থা কোম্পানিগুলোকে নতুন নতুন ক্যানসারের ধরন, ওষুধের মাত্রা নির্ধারণের সময়সূচি এবং সমন্বিত চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নতুন পেটেন্ট নিয়ে তাদের একচেটিয়া বাজারসুবিধার মেয়াদ বারবার বাড়ানোর সুযোগ দেয়। ফ্রিডবার্গের ভাষায়, “মূল উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত একটি নির্দিষ্ট সময়ের একচেটিয়া বাজারসুবিধার বদলে একটি ওষুধের চারপাশে এত বেশি পেটেন্টের দেয়াল গড়ে তোলা সম্ভব হয় যে, প্রতিযোগীদের জন্য বাজারে প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।”

আইসিআইজে জানায়, এই অনুসন্ধান প্রকাশের পর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিক, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়

আইসিআইজকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানা হারম্যান কিট্রুডার মূল্য নির্ধারণের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি লেখেন, “রোগী, অর্থ পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের জন্য ওষুধের যে মূল্য রয়েছে, তা বিবেচনায় রেখে দায়িত্বশীলভাবে মূল্য নির্ধারণ করার দীর্ঘ ইতিহাস আমাদের রয়েছে।” তিনি যোগ করেন, “রোগীদের সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও সততার যে উচ্চ মানদণ্ড আমরা অনুসরণ করি, তা থেকে আমরা বিচ্যুত হয়েছি—এমন যেকোনো দাবি আমরা প্রত্যাখ্যান করি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গবেষণা, উন্নয়ন এবং উৎপাদনে কোম্পানিটি প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে। তার দাবি, মার্ক “এখন পর্যন্ত গ্রহণ করা সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওষুধ গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কর্মসূচিগুলোর একটি” পরিচালনা করেছে।


অ্যালেক্সা ভ্যান সিকল একজন সাংবাদিক সম্পাদক। ডিজিটাল প্রিন্ট সাংবাদিকতা, প্রকাশনা এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। জিআইজেএনে যোগ দেওয়ার আগে তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ভ্রমণবিষয়ক সাময়িকী রোডস অ্যান্ড কিংডমসের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক এবং পডকাস্ট প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন।

 

 

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

يبحث الفيلم الوثائقي الذي تنتجه هيئة الإذاعة البريطانية "تحت سماء مسمومة" في تأثير حرق حقول النفط العراقية على المجتمعات المجاورة وعلى البيئة. الصورة: لقطة الشاشة، بي بي سي

কেস স্টাডি

ইরাকি জনগোষ্ঠীর ওপর গ্যাস ফ্লেয়ারিংয়ের প্রভাব যেভাবে উঠে এসেছে বিবিসির অনুসন্ধানে 

২০৩০ সালের মধ্যে সব শীর্ষ তেল কোম্পানি ও অনেক দেশ নিয়মিত গ্যাস ফ্লেয়ারিং বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও ইরাকের মতো দেশগুলোতে এখনও ফ্লেয়ারিং হচ্ছে। এবং এতে পরিবেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। দক্ষিণ ইরাকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর গ্যাস ফ্লেয়ারিংয়ের প্রভাব অনুসন্ধান করেছে বিবিসি আরবি সংস্করণের একটি দল। পড়ুন, কীভাবে হয়েছে এই পুরস্কারজয়ী অনুসন্ধানটি।

কেস স্টাডি

নতুন বা নারাজ সোর্সকে কথা বলাবেন যেভাবে

এমন অনেক কর্মকর্তা, ভুক্তভোগী ও সম্ভাব্য হুইসেলব্লোয়ার সোর্স আছেন যারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারেন, কিন্তু রিপোর্টারেরা তাদের নাগাল পান না। কীভাবে তাদের সন্ধান পেতে পারেন এবং কথা বলতে নারাজ— এমন ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিতে পারেন, তা নিয়ে কার্যকরী কিছু পরামর্শ পাবেন এই লেখায়।

কেস স্টাডি পরামর্শ ও টুল

ব্রাজিলের রাজনীতি নিয়ে অনুসন্ধান ও ফ্যাক্ট চেকিংয়ের টুল বানান তাই নালন

২০১৫ সালে, ব্রাজিলের বড় এক সংবাদমাধ্যমের চাকরি ছেড়ে নিজেই একটি অনুসন্ধানী ও ফ্যাক্ট চেকিং সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাই নালন। এখন তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২০ জনের একটি পুরস্কারজয়ী দলকে। এই লেখায় তিনি জিআইজেএন-কে জানিয়েছেন, ফ্যাক্ট চেকিংয়ের কাজে তাঁরা কোন ধরনের টুলগুলো বেশি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে সুপরিচিত অনেক টুল যেমন আছে, তেমনি আছে তাদের নিজেদের বানানো কিছু টুল।

কেস স্টাডি

কল্যাণ তহবিলের টাকা নিয়ে নয়ছয় যেভাবে উন্মোচিত হলো এক পুরস্কারজয়ী অনুসন্ধানে 

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি রাজ্যে দারিদ্রের হার সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জনকল্যান তহবিলে টাকা দেওয়া হলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে তা সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কাছে পৌঁছায়নি। এ নিয়ে তিন বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে এই আর্থিক কেলেঙ্কারি উন্মোচন করেছেন আনা উলফ। জিতেছেন গোল্ডস্মিথ পুরস্কার। পড়ুন, তাঁর এই অনুসন্ধানের নেপথ্যের গল্প।