মোজো ওয়ার্কিং: স্মার্টফোনে অডিও রেকর্ড

Print More

English

প্রথম মোজো ওয়ার্কিং কলামে আমি মোবাইল সাংবাদিকতার দরকারি টুলস সম্পর্কে লিখেছি। এখানে জানবো ভিডিও প্রোডাকশনের অন্যতম অংশ, শব্দ রেকর্ডিং সম্পর্কে, যার গুরুত্ব আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

বেশ কিছু পাঠক জানতে চেয়েছেন, মোজো হিসাবে একা কাজ করার সময় কিভাবে অডিও রেকর্ড করতে হবে। কয়েক বছর ধরে টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণ করতে করতে স্থান-ভিত্তিক সাউন্ড রেকর্ডিং সম্পর্কে আমি যা শিখেছি, তা-ই আপনাদের বলবো। পরামর্শগুলো মোবাইল সাংবাদিকতার জন্যও প্রযোজ্য।

টিভির জগতে একটা কথা আছে, “শব্দের জন্য অপেক্ষা।” এর চেয়ে বড় সত্যি, আর কিছু নেই। আমরা যখন ব্যস্ত, তখন সাউন্ড রেকর্ডিস্টরা হয়তো অপেক্ষা করছেন কখন তার ধরে টানাটানি বা বিমান উড়ে যাওয়ার বিরক্তিকর শব্দ শেষ হবে। তারা কাজ করেন নিরবে। কিন্তু তারা থামতে বললে, চুপ হতে হয় সবাইকে।

একজন মোজো সাধারণত একাই কাজ করেন। তার সাথে  সাউন্ড রেকর্ডিস্ট থাকে না। তাই সাক্ষাৎকার, ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড করার সময় শব্দ নিয়ে সতর্ক থাকতে হয়। এটা কঠিন, কিন্তু সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের কিছু মূলনীতি জানা থাকলে, হয়ে উঠতে পারে মোবাইলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কার্যকর টুল। আপনি শব্দের কাজ ঠিকভাবে করতে পারলে শ্রোতার মনোযোগও নিশ্চিতভাবে ধরে রাখতে পারবেন, কারণ তখন তারা স্টোরির আবেগ বুঝতে পারবে।

স্থান বুঝে শব্দ রেকর্ড ১০১

প্রস্তুত থাকলে স্পষ্ট শব্দ রেকর্ড করা কঠিন কিছু না। প্রস্তুত থাকার মানে হচ্ছে আপনার কাছে সঠিক মাইক্রোফোন থাকা, লোকেশন বুঝে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া এবং আগেই শব্দ রেকর্ডের একটি কৌশল ঠিক করা। কাজের ক্ষেত্র বুঝে – হোক তা আফ্রিকার জঙ্গলে কোনো পশুর শব্দ কিংবা কোথাও বসে নেওয়া সাক্ষাৎকার – সঠিক মাইক্রোফোন নির্বাচন করা হচ্ছে পরিকল্পনার প্রথম ধাপ।

সস্তা কিন্তু শক্তিশালী মাইক্রোফোন বা ল্যাপেলেই আপনার কাজ হওয়ার কথা। মোবাইল সাংবাদিকতার দরকারি টুলস নামের লেখায় তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছি। আপনার কাছে যদি টাকা থাকে, তাহলে মসৃণ এবং অ্যাক্যুস্টিক শব্দের জন্য ফ্যান্টম-পাওয়ার্ড কনডেনসার মাইক্রোফোন ব্যবহার করুন। সংবাদ সম্মেলেনের মত জায়গায় তার থাকলে সমস্যা হতে পারে। সেখানে তারহীন বা ওয়্যারলেস ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর। আপনার মাইকটি ল্যাপেল, শটগান বা ওয়্যারলেস যাই হোক না কেন, জেনে রাখা ভালো, কোন মাইক্রোফোনে রেকর্ডিংয়ের মৌলিক বৈশিষ্ট্য কী এবং তারা কীভাবে কাজ করে।

একটি মাইক্রোফোনের পোলার বা পিক-আপ প্যাটার্ন নির্ধারণ করে, সেটি কিভাবে শব্দ রেকর্ড করবে – মাইক্রোফোন ক্যাপসুলের সামনে, পাশে না কি পিছন দিয়ে:

  • অমনি-ডিরেকশনাল মাইক্রোফোনগুলোতে ৩৬০ ডিগ্রি প্যাটার্ন থাকে। এটি টেবিলে রেখে, অনেক উৎসের শব্দ একসাথে রেকর্ড বা নেক মাইক হিসাবে ব্যবহারের জন্য দারুণ।
  •  কার্ডিওয়েড বা শটগান মাইক্রোফোনে সংকীর্ণ পিক-আপ প্যাটার্ন থাকে। যেসব সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা একা কাজ করেন, তাদের হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস বা ভিডিও ক্যামেরায় এর ব্যবহার দেখা যায়।

পরামর্শঃ মাইক্রোফোন কাজ করে স্বল্প দূরত্বে। এটি শব্দের উৎসের যতো কাছে হবে এবং এর প্যাটার্ন যতো নির্দিষ্ট (একমুখী) হবে, ততো ভালো শব্দ আসবে।

শব্দ ধারণের কিছু সাধারণ পরিস্থিতির উদাহরণ, ইকুইপমেন্ট সম্পর্কে ধারণা এবং মোজো হিসাবে একা কীভাবে অডিও রেকর্ড করবেন, তার কিছু পরামর্শ নিচে দেয়া হলো।

বাস্তব অডিও রেকর্ডিং

বাস্তবতা হচ্ছে সময়ের ওপর নির্ভরশীল কন্টেন্ট, যেটা তৈরি করতে হয় না – পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স অথবা দুর্ঘটনাস্থলে মানুষের চিৎকার – এগুলোর ওপর  সাংবাদিকের নিয়ন্ত্রণ নেই। এদেরকে বি-রোল, কাটঅ্যাওয়ে, ওভার-লে এবং আরো অনেক নামে ডাকা হয়। সম্পাদনার সময় পরিস্থিতি বা পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দিতে, দুই দৃশ্যের মাঝখানে এবং স্টোরিতে গতি আনার জন্য ব্যবহার করা হয়।

পরামর্শঃ কখনো শব্দহীন বি-রোল রেকর্ড করবেন না।

গতিশীল কোন ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের জন্য শটগান মাইক বেশ ভালো বিকল্প। কারণ, মোজো সাংবাদিকরা উৎসের কাছে থেকে কাজ করেন। তারা লম্বা লেন্সও ব্যবহার করেন না। এই একমুখী মাইক্রোফোনগুলোকে প্রায়ই দেখা যায় বড় ইএনজি ক্যামেরার ওপরে। এর কার্ডিওয়েড (সংকীর্ণ) প্যাটার্ন, ব্যাকগ্রাউন্ডের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে উৎসের শব্দ বাড়িয়ে অডিও রেকর্ড করে।

একজন পেশাদার কর্মী হয়তো বুম পোল এবং মাইক ধরার জন্য সাথে একজন সাউন্ড রেকর্ডিস্ট সঙ্গে নেন। দ্রুত চলমান দৃশ্যে বা ব্যস্ত মুহূর্তে ক্যামেরাম্যান তার ক্যামেরা থেকে শব্দ রেকর্ডকারীর তার খুলে দিয়ে শুধু ক্যামেরার মাইক্রোফোন ব্যবহার করেই কাজ চালন। তখন রেকর্ডিস্ট তার ডিজিটাল রেকর্ডারে আলাদাভাবে শব্দ রেকর্ড করতে থাকেন। এই বিভক্ত পদ্ধতিতে কাজ করলে ক্যামেরা পার্সন মুক্তভাবে ঘুরে ঘুরে আশেপাশের চলমান সময়-নির্ভর অডিও এবং ভিডিও আরো বেশি করে রেকর্ড করতে পারেন।

আগের লেখায় আমরা দুইটি সস্তা শটগান মাইক্রোফোন সম্পর্কে জেনেছিলাম। আপনি যদি আরো দামী একমুখী কনডেনসার মাইক্রোফোন চান, তাহলে রোড ভিডিওমিক প্রো (২২৯ ইউএস ডলার) অথবা সেনহেইজার এমকেই ৪০০ (১৯৯ ইউএস ডলার) ব্যবহার করতে পারেন।

রোড মাইক্রোফোনটি প্লাস্টিকের তৈরি এবং অপেক্ষাকৃত বড়। আর সেনহেইজার ছোট এবং স্টিলের তৈরি। দুই মাইক্রোফোনেই অ্যাটেনিউয়েশন (মসৃণ শব্দ) সুবিধা রয়েছে যা সামনে থেকে সরাসরি গান রেকর্ডের জন্য জরুরী। বাতাসের বাধা আছে এমন জায়গায় দুই মাইক্রোফোনেই, বায়ুরোধী তুলার আচ্ছাদন ব্যবহার করতে হবে।

সাক্ষাৎকার কীভাবে রেকর্ড করবেন?

একক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার সাধারণত মিডিয়াম ক্লোজ-আপ (এমসিইউ) শটে নেওয়া হয়, যেটা প্রায় বুক পর্যন্ত হয়। এই শটে ব্যক্তির অনুভূতি যেমন বোঝা যায় তেমন একজন শব্দ রেকর্ডকারী ফ্রেমের কাছাকাছি বুম নিয়ে এসে শব্দ রেকর্ড করারও সুযোগ পান। একজন মোজোও বেশিরভাগ সাক্ষাৎকার এমসিইউতেই শ্যুট করবেন। বিষয়বস্তু যদি স্থির থাকে, তাহলে মাইক্রোফোন ও তার অবস্থান নির্বাচন করা তুলনামূলক সহজ।

ল্যাপেল অথবা ল্যাভেলিয়ের মাইক্রোফোন সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য উপযুক্ত। সাক্ষাৎকারদাতার মুখ থেকে ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি (এক বিঘাত) নিচে রাখলে সেটা শব্দের উৎসের কাছে থাকে এবং ব্যক্তির শরীর এক্ষেত্রে বাতাসের জন্য বাধা হিসাবে কাজ করে।

মাইক্রোফোনের তার অন্তত দেড় মিটার লম্বা হওয়া জরুরী, যাতে ক্যামেরায় সেটি না দেখা যায়। ল্যাভেলিয়ের মাইক্রোফোন তারসহ এবং তার ছাড়া, দুই রকমই পাওয়া যায়। দাম নির্ভর করে মাইক্রোফোন ক্যাপসুলের আকৃতির ওপর।

শব্দের উৎস থেকে এক মিটারের মধ্যে (৭৫০ মিমি) থাকলে এবং অপ্রয়োজনীয় শব্দ কম থাকলে ক্যামেরার ওপর রাখা শটগান মাইক্রোফোন বেশ ভালোই কাজ করে।

পরামর্শঃ ওয়াইড লেন্স ব্যবহার করলে আপনি মাইক্রোফোন নিয়ে এমসিইউ ফ্রেমের তুলনায় বিষয়বস্তুর বেশি কাছে যেতে পারবেন।

আপনি যদি দুইজন মানুষের সাক্ষাৎকার নেন, তাহলে স্প্লিটার ব্যবহার করুন। এভাবে দুটি ল্যাপেল মাইক্রোফোনে একসাথে রেকর্ড করতে পারবেন (রোড এর এসসি৬ এর দুইটি মাইক ইনপুট এবং একটি হেডফোন জ্যাক রয়েছে)। যদি অপ্রয়োজনীয় শব্দ না থাকে এবং বক্তা দুজন পাশাপাশি বসে থাকেন, তাহলে স্ট্যান্ডের ওপর বহুমুখী মাইক্রোফোন ব্যবহার করুন। ভুলে গেলে চলবে না, স্মার্টফোনে ভিডিও ধারণের সময় দুইটি মাইক্রোফোনে শব্দ রেকর্ড করলে একটি কম্পোজিট অডিও ট্র্যাক তৈরি হয়। আপনার যদি সম্পাদনার সময় দুইজন ব্যক্তির আলাদা অডিও ট্র্যাক প্রয়োজন হয়, তাহলে দুইটি আলাদা রেকর্ডার ব্যবহার করুন (নিচে দেখুন)।

পরামর্শঃ ভিডিও জুম ইন করলে সেটা অডিও জুম করেনা। শটগান মাইক্রোফোনের অবস্থানের প্রেক্ষিতে, শব্দে কোনো পরিবর্তন হয়না। এর চেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ওয়াইড লেন্স ব্যবহার করা এবং ক্যামেরা ট্র্যাকিং-ইন করা। এতে হ্যান্ডহেল্ড শট আরও স্থির এবং কম গ্রেইনি হয়।

হ্যান্ডহেল্ড মাইক্রোফোন দুই রকম হয় – তারসহ এবং তার ছাড়া। এগুলো সাধারণত কোলাহলপূর্ণ জায়গায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি রিপোর্টার এবং সাক্ষাৎকারদাতার মাঝখানে পিভট হিসাবে কাজ করে, অনেকটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বুম ব্যবহার করার মতো। যারা একা কাজ করেন, তারা এই কৌশল চর্চা করতে পারেন।

আইরিগ মাইক এইচডি (৭৯ ইউএস ডলার) তুলনামূলক সস্তা এবং কার্যকর একটি হ্যান্ডহেল্ড কনডেনসার মাইক্রোফোন (দেখুন ikmultimedia.com)।

পরামর্শঃ সাক্ষাৎকারদাতার হাতে হ্যান্ডহেল্ড মাইক্রোফোন দিয়ে দেবেন না। তারা নিশ্চিতভাবেই সেটি মুখের কাছ থেকে সরিয়ে ফেলে রেকর্ডে ব্যাঘাত ঘটাবে।

ওয়্যারলেস নামে পরিচিত রেডিও মাইক্রোফোন সাধারণত ল্যাপেল বা হ্যান্ডহেল্ড হয়। সেগুলো ১৫০ মিটার দূরত্বের মধ্যে থাকা স্মার্টফোন বা ক্যামেরাতে তারের বদলে ট্রান্সমিটারের সাহায্যে সিগনাল পাঠায়। রিপোর্টার বা সাক্ষাৎকারদাতা যখন হাঁটাচলা করেন, তখন এগুলো খুবই কার্যকরী।

আমি নিচের ছবিতে দেয়া তিনটি সিস্টেম ব্যবহার করি। রোড ফিল্মমেকার কিট হচ্ছে সবচেয়ে সস্তা (৩৯৯ ইউএস ডলার), সম্ভবত এটি প্লাস্টিকের তৈরি এবং সনি (৭৯৯ ইউএস ডলার) বা সেনহেইজার (৯৯৯ ইউএস ডলার) থেকে আকারে বড়। এতে ট্রান্সমিটার, রিসিভার, ল্যাপেল এবং হ্যান্ডহেল্ড মাইক্রোফোনের কম্বো কিটও রয়েছে।

আপনার সামর্থ্যের মধ্যে সবচেয়ে ভালো রেডিও মাইক্রোফোনটি কিনুন। আপনার যদি একটি ভালো সেট কেনার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে এই লিঙ্ক থেকে বিকল্প বেছে নিন। এটি পুরনো স্মার্টফোন এবং ল্যাপেল মাইক্রোফোন ব্যবহারের মাধ্যমে একটি ওয়্যারলেস ব্যবস্থা তৈরি করে। ক্যামেরা থেকে একশ মিটার দূরেও এটি দারুণ ভাবে কাজ করে।

দুইটি আলাদা ট্র্যাক দরকার হলে আলাদা অডিও রেকর্ড করার জন্য ডিজিটাল রেকর্ডার বেশ কাজের, বিশেষ করে, মাত্র একজন দাঁড়াতে পারে এমন ছোট স্থানে। জুম এইচ১ (১০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) ছোট, সস্তা এবং কার্যকর। আমি টাসক্যাম ডিআর-১০সি পিসিএম রেকর্ডারও (৩৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) ব্যবহার করি। এটি শিশুর হাতের মধ্যেও সহজে এঁটে যায়।

পরামর্শঃ আপনি যখন দুইজন সাক্ষাৎকারদাতা নিয়ে কাজ করবেন, তাদেরকে বলুন যেন একজন কথা বলার সময় অন্য জন্য কথা না বলেন।

ধারাবর্ণনা রেকর্ড করবেন কীভাবে?

ন্যারেশন বা ধারাবর্ণনা সাধারণত সম্পাদনার সময় রেকর্ড করা হয়। স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে অডিওসহ ভিডিও রেকর্ড হয় ক্যামেরা রোল (আইওএস) এবং গ্যালারিতে (অ্যান্ড্রয়েড)। দ্রুত কাজ করার সময় ভিডিওর লোকেশনে ধারাবর্ণনার অডিও, রেকর্ড করে ফেলা ভালো। এই কাজের সহজ পদ্ধতি হচ্ছে ধারাবর্ণনার অডিওটি, ভিডিও আকারে ধারণ করা। লেন্সের ওপর হাত দিয়ে স্ক্রিন কালো করে রেকর্ড করুন, যাতে সহজেই একে ধারাবর্ণনার ভিডিও বলে চেনা যায়। এরফলে ভিডিও এবং অডিও, দুই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসই অ্যাপের একই ফোল্ডারে পাওয়া যায়। সম্পাদনার সময় আলাদা করে ধারাবর্ণনা খুঁজতে হয়না। সম্পাদনার সময় আপনি ভিডিও থেকে অডিও আলাদা করতে পারবেন।

পরামর্শঃ আমি তখন কাজ করতাম সমসাময়িক আন্তর্জাতিক বিষয় ভিত্তিক এক অনুষ্ঠানে। আমরা ধারাবর্ণনা রেকর্ড করতাম পার্ক করা গাড়ির ভেতর অথবা হোটেল রুমে, দুই বালিশ বা ম্যাট্রেসের মধ্যে বসে। আপনি যদি গাড়ি বা রুমের মধ্যে ঢুকতে না পারেন, তাহলে কোনো তোয়ালে বা জ্যাকেটের মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে ধারাবর্ণনা রেকর্ড করুন।

আপনার মাইক্রোফোন কোন প্ল্যাটফর্মের জন্য তৈরি, নিশ্চিত হোন। আইওএস উপযোগী মাইক্রোফোনে তিনটি রাবার রিংসহ টিআরআরএস (টিপ, রিং, রিং, স্লিভ) প্লাগ থাকে। অ্যান্ড্রয়েডের জন্য সাধারণত দুইটি রাবার রিংসহ টিআরএস (টিপ, রিং, স্লিভ) প্রয়োজন হয়। টিআরআরএস ব্যবহার করলে মেরুগুলো সিটিআইএ (নতুন) এবং ওএমটিপি (পুরনো) মানদণ্ডের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। (দেখুন www.rode.com)

পরামর্শঃ কেনার আগে পরীক্ষা করে নিন। টিআরএস থেকে টিআরআরএস এবং টিআরআরএস থেকে টিআরএস অ্যাডাপ্টর তৈরি করে রোড।

শব্দ রেকর্ডের জন্য যা করবেন

  • সবসময় এয়ারপ্লেন মোড চালু রাখুন, যাতে ফোন কল বা ওয়াইফাই কাজে ব্যাঘাত না ঘটায়।
  • সবসময় একটি একমুখী মাইক্রোফোন স্মার্টফোনে লাগিয়ে রাখুন।
  • সবসময় সাথে একটা ল্যাপেল মাইক্রোফোন সঙ্গে রাখুন।
  • সবসময় ফ্যান্টম-পাওয়ার্ড মাইক্রোফোনের জন্য সাথে অতিরিক্ত ব্যাটারি রাখুন।
  • সবসময় আউটডোরে ভিডিও করার জন্য মাইক্রোফোনের সাথে বায়ুরোধী আবরণ রাখুন।
  • সবসময় অপ্রয়োজনীয় শব্দ এড়ানোর জন্য সাক্ষাৎকারদাতার যথাসম্ভব কাছে যান।
  • সবসময় শব্দের উৎসের দিকে মাইক্রোফোন তাক করে রাখুন।
  • সবসময় লোকেশন ছেড়ে যাওয়ার আগে অডিও চেক করে নিন।
  • সবসময় রেকর্ডের সময়ই নিশ্চিত করুন শব্দ স্পষ্ট কিনা। পরে সংশোধনের ওপর নির্ভর করবেন না।

প্রতিটি শ্যুটকেই এমনভাবে দেখুন, যেন দেশের বাইরে কাজ করছেন। যেখানে আপনার ফিরে আসার কোন সুযোগ নেই এবং ঘটনাস্থলে বসেই সব নির্ভুলভাবে রেকর্ড করতে হবে।

যদি সময় থাকে, তাহলে ৩০ সেকেন্ডের একটি বাজ ট্র্যাক, অর্থ্যাৎ নির্দিষ্ট জায়গার পরিবেশ বা প্রকৃতির শব্দ নিন। এই বাজ ট্র্যাক বি-রোল শটের ভেতরে, মন্তাজ (সিনেমায় ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি) হিসাবে বা দুই দৃশ্যের ট্রানজিশনকে মসৃণ করতে ব্যবহার করা যায়।

এখানে নয় ধরণের মাইক্রোফোনের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত পরীক্ষার লিংক রয়েছে। এটি আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।

সবশেষে, সম্পাদনা শেষ হওয়ার পর, প্রতিটি কন্ঠ আলাদাভাবে খেয়াল করে শুনুন এবং সেগুলো ঠিকভাবে মিক্স করুন, যাতে রেন্ডার করার আগে সব শব্দের মধ্যে সমতা থাকে। আমি স্মার্টফোনের স্পিকার থেকেই অডিও শুনি এবং একদম শেষবার শুনি হেডফোন দিয়ে।

অডিও রেকর্ডিং এর জন্য সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হচ্ছে মাইক্রোফোনকে শব্দের উৎসের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া এবং সেই জায়গার নিজস্ব শব্দ খেয়াল করা – উন্নতমানের “লোকেশন অডিও” রেকর্ড করার জন্য এটিই সবচেয়ে মৌলিক ও জরুরী বিষয়।

এবার তাহলে মোজো শুরু করে দিন!


ইভো বুরাম একজন অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক সাংবাদিক, লেখক এবং পুরস্কারজয়ী টেলিভিশন প্রোডিউসার। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ২৫০০ ঘণ্টার বিভিন্ন ধরণের প্রাইম টাইম অনুষ্ঠান প্রযোজনার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। ইভো মোবাইল সাংবাদিকতার একজন অগ্রদূত। বুরাম মিডিয়া নামে একটি মোজো এবং ওয়েব টিভি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাঁর, যা বিশ্বসেরা মিডিয়া প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাংবাদিক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক সাংবাদিকদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *