ডিজিটাল নিরাপত্তা: সাংবাদিকদের যা যা জানা দরকার

English

ডিজিটাল স্পেসে সাংবাদিকদের জন্য হুমকি ক্রমেই বাড়ছে। একারণে অনলাইনে যোগাযোগ এবং তথ্য রক্ষায় তাদের বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া দরকার।

কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিপদের গভীরতা জেনেও সাংবাদিকরা কোনো ধরনের মৌলিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না।

“ছোট একটি পদক্ষেপ আনতে পারে বিরাট পরিবর্তন” শ্লোগানে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা গাইড প্রকাশ করেছে ররি পেক ফাউন্ডেশন। এই নির্দেশিকা তৈরির সময় বিষয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সাহায্য করেছে জিআইজেএন।

পিডিএন পালসের একটি সাক্ষাৎকারে ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ট্রিভোর টিম বলেন, “কেউ কখনো বলতে পারবেন না, তিনি শতভাগ নিরাপদ। কিন্তু কিছু মৌলিক পদ্ধতি অনুসরণ করে. যে কেউ ইন্টারনেটের ৯০ থেকে ৯৫  শতাংশ ব্যবহারকারীর তুলনায় নিজেকে আরো নিরাপদে রাখতে পারেন। এই নিরাপত্তা অনেক দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে ।”

কানাডা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাবের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবার্ট গুয়েরার সংক্ষিপ্ত সুপারিশ দিয়ে শুরু করছি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বেশির ভাগ সাংবাদিক ইন্টারনেট নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন না।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এনজিও কর্মী এবং সাংবাদিকদের “নিরাপদ যোগাযোগ এবং তথ্য ‍সুরক্ষার” উপর প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন গুয়েরা। তাঁর মতে, অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসাবে পরিচিতি পেলে, অনেকেই ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে আপনার ব্যক্তিগত এবং অনুসন্ধানী রিপোর্টের তথ্য চুরির চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “প্রথমে ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন, তারপর কায়দা-কানুনগুলো শিখুন।  এমন কিছু সহজ পদ্ধতি আছে, যা চাইলেই যে কেউ অনুসরণ করতে পারেন।”

গুয়েরার সুপারিশ:
ই-মেইল

যেসব দেশে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি হয়, সেখানে গেলে স্থানীয় ইমেইল সেবার উপর নির্ভর করবেন না।
নিজ বাড়িতে নিরাপদ ইমেইল সার্ভিস ব্যবহার করুন। যেমন, ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে “https” লেখা দেখলে ধরে নিতে পারেন ইমেইল সার্ভিসটি সুরক্ষিত। জিমেইল গতানুগতিক ভাবেই নিরাপদ। আর ইয়াহু ও ফেসবুকের সেটিংস্ বদলে নেয়া যায়। কেন সেটিংস বদলানো প্রয়োজন? কেননা, আপনি যদি বিনামূল্যের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন তবে বিনামূল্যের সাধারণ সফটওয়্যার দিয়েই আপনার মোবাইল কিংবা কম্পিউটার আয়ত্তে নিয়ে যেতে পারবে যে কেউই। সোর্সের সাথে যোগাযোগের সময় এটি বড় ধরণের সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গুয়েরার মতে, “ এটা অনেকটা, ভিড়ের মধ্যে দাড়িয়ে সোর্সের সাথে চিৎকার করে গোপন কথা বলার মত!”
যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, তারাই আপনার একাউন্ট নিরাপদে রাখবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনার অফিসের প্রযুক্তি ডেস্কের সাথে কথা বলুন। প্রয়োজনে  গুগল বা ইয়াহুতে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলুন, যাতে ইমেইলের নিরাপত্তার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকে।

পাসওয়ার্ড এবং টু-ফ্যাক্টর লগইন
আপনার যদি জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকে তবে সবাই আপনার ইউজারনেইম জানে। তার মানে, হ্যাকাদের শুধু আপনার পাসওয়ার্ড দরকার। তাই আত্মরক্ষার প্রথম ধাপ হল একটি তুলনামূলক জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড কীভাবে তৈরি করবেন, তা নিচে বলা হয়েছে। যারা আরো নিরাপত্তা চান, তাদের জন্য সুরক্ষার একটি অতিরিক্ত বা ঐচ্ছিক স্তর যোগ করেছে জিমেইল, টুইটার এবং ফেসবুক। একে বলা হয় টু-ফ্যাক্টর লগইন। যখন আপনি দুই ধাপে লগইন অপশনটি চালু করবেন তখন পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার ফোনে যাচাই কোডসহ একটি ক্ষুদে বার্তা যাবে। সেটি লেখার পরই আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাবে।
লগইন সেটিংস
কম্পিউটারে অন্তত একটি ডিফল্ট অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টসহ একাধিক ইউজার অ্যাকাউন্ট রাখুন। নিশ্চিত থাকুন যে দ্বিতীয় অ্যাকাউন্টে কোনো অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সুবিধা নেই। তারপর আপনার দৈনন্দিন কাজের জন্য ঐ লগইনটি ব্যবহার করুন। এরপর ম্যালওয়ার স্বয়ংক্রিয় ভাবে ইন্সটল হওয়ার চেষ্টা করলে, বার্তার মাধ্যমে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পাসওয়ার্ড চেয়ে আপনাকে সতর্ক করবে কম্পিউটার।
ম্যালওয়্যার

সন্দেহজনক অ্যাটাচমেন্ট থেকে সাবধান থাকুন, সফটওয়্যার আপডেট রাখুন এবং ভাল এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ইন্সটল করুন। টাকা দিয়ে কেনা লাগে, এমন সফটওয়্যার বেশি নিরাপত্তা দেয়।
আপনার চেনা কোনো ব্যক্তি বা দল থেকে মেইল এসেছে, কিন্তু ইমেইল অ্যাড্রেসের বানানে সামান্য হেরফের আছে – এমন কিছু দেখলেই সতর্ক হোন।
ম্যাক খুবই সুরক্ষিত এমন ভুলধারণা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাহীন পুরোনো কম্পিউটার আপনাকে আরো বড় বিপদে ফেলতে পারে।

গুয়েরা এখানে দরকারি কিছু টুলের বর্ণনা দিয়েছেন।

কম্পিউটার ভুতুড়ে আচরণ করছে – এমন দেখলেই সতর্ক হোন।  কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আছে যারা সাইবার হামলা শনাক্ত ও ট্র্যাকিংয়ের কাজে দক্ষ। বিপদ দেখলে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। এমন দলের মধ্যে:

অ্যাক্সেস-নাও, একটি ডিজিটাল সিকিউরিটি হেল্পলাইন পরিচালনা করে। তারা সাতটি ভাষায় ২৪ ঘন্টা সেবা দেয়।
নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের সহায়তায় কাজ করে।
প্যারিস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিপোর্টাস্ উইদাউট বর্ডারস্ সিপিজের মত একই ধরনের কাজ করে।
টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন ল্যাব ইন্টারনেট নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের উপর গবেষণা করে।

টিউটোরিয়াল ও টিপ শিট
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে গাইডের কোনো অভাব নেই। এদের বেশিরভাগই খুব জটিল। এদের সবই যে সাংবাদিকদের জন্য উপযোগী, তা-ও নয়। তবে সেখানে কিছু না কিছু পাবেন, যা আপনার কাজে আসবে। কাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আপনার বার্তাকক্ষ বা প্রতিষ্ঠানে এমন কাউকে দায়িত্ব দিন, যে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করবে। এখানে কিছু দরকারি রিসোর্স দেয়া হল:

পড়ুন, ২০১৯সালে জিআইজেএনের জন্য কাতারিনা সাবাদোসের লেখা প্রতিবেদন, অনলাইনে নিজেকে নিরাপদ রাখতে কোন টুল বেছে নেবেন। সাবাদোস একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং অরগানাইজড ক্রাইম এন্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের (ওসিসিআরপি) গবেষক।

নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের ব্যবহারিক গাইড নামের পাঠ্যক্রমটি তৈরি করেছে ওপেন নিউজ এবং বাজফিড ওপেন ল্যাব। ডেভেলপার, ডিজাইনার এবং ডেটা এনালিস্টদেরকে ওপেন জার্নালিজম প্রজেক্ট তৈরিতে সাহায্য করে ওপেননিউজ। আর বাজফিড ওপেন ল্যাব হলো বাজফিড নিউজের একটি কলা ও প্রযুক্তি বিষয়ক ফেলোশিপ প্রোগ্রাম।

সিউলে অনুষ্ঠিত আনকভারিং এশিয়া ২০১৮ সম্মেলনে ট্যাকটিক্যাল টেকনোলজি কালেক্টিভের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্রিস ওয়াকারের উপস্থাপনার ভিত্তিতে জিআইজেএন প্রকাশ করেছে  প্রত্যেক সাংবাদিকের জানা দরকার এমন চারটি ডিজিটাল নিরাপত্তা টিপস্।  নিজের, সোর্সের এবং রিপোর্টের সুরক্ষার জন্য সাংবাদিকরা কিছু মৌলিক পরামর্শ পাবেন এই লেখায়।

কারেন্ট ডিজিটাল সিকিউরিটি রিসোর্সের আগস্ট ২০১৭ সংস্করণে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মার্টিন শেলটন বলেন “সবচেয়ে সমৃদ্ধ ডিজিটাল সিকিউরিটি রিসোর্সও খুবই  দ্রুত পুরোনো হয়ে যায়।” টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন নিয়ে শেলটনের লেখাটি বেশ আলোচিত। সাংবাদিকরা কীভাবে ম্যালওয়্যার মোকাবেলা করবেন – তার আরেকটি অনবদ্য লেখা।

ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফউন্ডেশন নজরদারি থেকে আত্মরক্ষার একটি গাইড তৈরি করেছে। সেখানে নিরাপত্তার সাতটি প্রাথমিক ধাপসহ বেশকিছু পরামর্শ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে রয়েছে:

পাসওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহার:  শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরির জন্য ডাইসওয়্যার  ব্যবহার করুন।  একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করবেন না, এনক্রিপ্টেড ডেটাবেসে নিরাপদভাবে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের জন্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহারের কথা বিবেচনা করুন। নিরাপত্তা প্রশ্নের ক্ষেত্রে সহজেই বের করা যাবে এমন উত্তর পরিহার করুন, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন পদ্ধতি ব্যবহার করুন। আপনি যদি পাসওয়ার্ডটি কাগজে লিখে আপনার ওয়ালেটে রাখেন তবে প্রকৃত পাসওয়ার্ডের আগে এবং পরে নকল কিছু অক্ষর অবশ্যই লিখে রাখবেন এবং অ্যাকাউন্ট কখনোই স্পষ্টভাবে লেবেল করে রাখবেন না। একাধিক অ্যাকাউন্টের জন্য কখনোই একই ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস করা উচিত নয়।  আপনি কোন তথ্য রাখবেন আর কোনটি মুছে ফেলবেন তার একটি নীতিমালা তৈরি করুন।  এই নীতি যেন লিখিত থাকে এবং সবাই তা অনুসরণ করে।  “কখনো  আদালতে ডাক পড়লে এটাই আপনার জন্য সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।”
তথ্য সুরক্ষার প্রথমিক কথা: আপনার অ্যাকাউন্ট এবং স্ক্রিনসেভারের জন্য লগইন প্রয়োজন। আপনার পাসওয়ার্ডটি  শক্তিশালী করুন। নিশ্চিত করুন আপনার সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিরাপদ।
তথ্য এনক্রিপশন:  পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত তথ্য পাওয়া সরকারী সংস্থাগুলোর জন্য খুব একটা কঠিন নয়। তবে ভাল করে এনক্রিপ্ট করা তথ্য পাওয়া অনেক কঠিন। কোন কাজের জন্য কিভাবে এনক্রিপশন করবেন, সে বিষয়ে মৌলিক পরামর্শের একটি নির্দেশিকা রয়েছে এসএসডির।
ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা: অ্যান্টি-ভাইরাস সফ্টওয়্যার ব্যবহার করুন, সেগুলো আপডেট রাখুন এবং সন্দেহজনক লিঙ্ক এবং ফাইল এড়িয়ে চলুন।

ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের ইভা গালপারিনের পরামর্শ:

স্কাইপ ঠিক অতটা নিরাপদ নয় যতটা আপনি মনে করেন। আপনি কার সাথে যোগাযোগ করছেন, তা সরকার চাইলেই ট্র্যাক করতে পারে। এর পরিবর্তে গুগল হ্যাংআউটস বা নিরাপদ প্লাটফরম ব্যবহারের কথা বিবেচনা করুন।
টেক্সট ম্যাসেজ ব্যবহারও অনিরাপদ, কারণ তা এনক্রিপ্টেড নয়।

অয়্যার্ড ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে অয়ার্ড ডিজিটাল নিরাপত্তা গাইড, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের একটি কার্যকর উৎস।

মায়ানমার: সাংবাদিকদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা গাইড নামের নির্দেশিকাটি তৈরি করেছে সেন্টার ফর ল’ এ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিএলডি)। তাদের সহায়তা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (এইএমএস), ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউট এবং মায়ানমার প্রেস কাউন্সিল (এমপিসি)। এখানে সাংবাদিকদের জন্য যোগাযোগের সহজ ও সুলভ পদ্ধতি, ডিজিটাল হয়রানি, নজরদারি এবং হ্যাকিং ঠেকানোর ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য মিলবে।

“স্প্যাইক্র্যাফট: আপনার সোর্স গোপন রাখুন” শিরোনামের একটি প্রেজেন্টেশনে নিচের টিপস্ গুলো দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্টিভ ডোইগ:

ইন্টারনেটে সার্চের জন্য IXQuick ব্যবহার করুন। কেননা এই সার্চ ইঞ্জিনটি আপনার আইপি এ্যাড্রেস কিংবা অনুসন্ধানের বিষয় সেইভ করে রাখেনা।
স্পুফ কার্ড ব্যবহার করে কলার আইডি গোপন রাখুন। আন্তর্জাতিক কলের জন্যেও এটি ব্যবহার করতে পারেন।
যেখানে প্রযোজ্য নগদ টাকায় নো-কন্ট্রাক্ট সেল ফোন কিনুন।
এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের জন্য:

প্রিটি গুড প্রাইভেসি, শক্তিশালী এবং কার্যকর।
স্প্যাম মিমিক আপনার মেসেজগুলো এমনভাবে এনক্রিপ্ট করে, যেন দেখতে স্প্যাম মনে হয়।
উইব্রোট উইন্ডো ওয়াসার ব্যবহার করে ডিলিট করা ফাইলগুলো চিরতরে মুছে ফেলুন।
সরকারি অফিস থেকে ফাঁস হওয়া তথ্য পেলে অদৃশ্য জলছাপের বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের জন্য সিকিউরিটি ইন-এ-বক্স প্রকাশ করেছে ট্যাকটিকাল টেকনোলজি কালেক্টিভ। এটি নিয়মিত হালনাগাদ হয়। এতে আছে ১১টি বিষয়ে হাউ-টু-বুকলেট, ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এবং মোবাইল সিকিউরিটি নিয়ে হ্যান্ডস্-অন-গাইড।

নজরদারি থেকে আত্মরক্ষার চেক লিস্ট তৈরি করেছে দি ইন্টারসেপ্ট। এখানে নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিক, মধ্যবর্তী এবং উচ্চস্তরের পদক্ষেপ কী হবে, তা আলাদাভাবে বলা আছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নজরদারি থেকে আত্মরক্ষার উপায় নিয়ে লেখা এই প্রতিবেদনে ইন্টারসেপ্টের মিকাহ লি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাহী ক্ষমতার অবিরাম সম্প্রসারণের অর্থ হচ্ছে, “সামনে দীর্ঘ যুদ্ধ। কারিগরীভাবে যতই কঠিন হোক, আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই।

কানাডিয়ান জার্নালিস্টস্ ফর ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন বিপদে পড়া সাংবাদিকদের জন্য প্রকাশ করেছে আপনার ডিজিটাল জীবন সুরক্ষিত করুন।

এসএমএস প্রেরণ: অনেক বিশেষজ্ঞ সিগনাল কিংবা হোয়াটসআপ ব্যবহারের সুপারিশ করে। জার্নালিজম ডট কো ডট ইউকেতে সিগনাল সম্পর্কে আর্টিকেলটি দেখুন। আর  হোয়াটসআপ ব্যবহার নিয়ে ফার্স্ট ড্রাফটের আর্টিকেলটি দেখুন।

নাইট সেন্টার ফর জার্নালিজম পাঁচটি মৌলিক পরামর্শ তুলে ধরেছে এই লেখায়:

এইচডি এবং ফ্লাশ ড্রাইভ এনক্রিপশন- আপনার হার্ড ড্রাইভ এবং ইউএসবি ডিভাইসে একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখে  এনক্রিপশন। যাতে সেগুলো হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলেও ফাইল নিরাপদে থাকে।
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন- এটি অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাক্সেস, ইমেইল এবং সোসাল মিডিয়াতে ব্যবহার হয়। লগইনের জন্য এমন কিছু লাগে যা আপনি জানেন (আপনার পাসওয়ার্ড) এবং যা আপনাকে পাঠানো হয় (যেমন, আপনার ফোনে পাঠানো কোড )।
 সিগন্যাল- অ্যাপ্লিকেশনটি স্মার্টফোনের জন্য তৈরি।  আপনার সেল ফোনে বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করলেও, বুঝতে পারবেনা যে সেখানে কি লেখা রয়েছে।
 সিন্ক ডট কম- এখানে বিনামূল্যের ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবস্থা আছে। এটি তথ্য সংরক্ষণ করে। কিন্তু কি সংরক্ষণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা রাখেনা। আমরা সাধারণত যেসব ওয়েব সাইট ব্যবহার করি, তা ফাইল স্ক্যান করে,  একটি রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু সিন্ক তা করে না। এটি এনক্রিপ্টেড এবং আরো বেশি নিরাপদ, সেই সাথে ব্যবহার করাও সহজ।
 পিজিপি- পুরো নাম প্রিটি গুড প্রাইভেসি, ইমেইল এনক্রিপ্ট করার একটি মাধ্যম। এটি অনেকটা সিন্দুকের মত, তবে তার দুটি চাবি রয়েছে: একটি তালা লাগানোর জন্য এবং অন্যটি খোলার জন্য। তালা লাগানোর চাবিটি আপনি সবাইকে দেন যাতে করে সবাই আপনাকে ফাইল এবং বার্তাগুলো পাঠাতে পারে। কিন্তু তালা খোলার চাবিটি থাকবে শুধুমাত্র আপনার কাছেই।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রাইভেসি ফর জার্নালিস্টস নামের সাইটটি পরিচালনা করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ক্রিপ্টোঅস্ট্রেলিয়া। নতুন নতুন বিষয় নিয়ে লেখা প্রকাশ করা হয় তাদের ব্লগে। যেমন- ক্লাউডে গোপনীয়তার সাথে ফাইল সংরক্ষণ, নিরাপদ সার্চ ইঞ্জিন বাছাই এবং ইউএসবি ড্রাইভ এনক্রিপ্ট করা।

বাংলায় জিআইজেএনের এমন আরো রিসোর্স পেইজের সন্ধান পেতে ঘুরে আসুন অনুসন্ধানী রিসোর্স থেকে।২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত জেনিফার ভ্যালেনতিনো ডেভ্রিস এবং নাতাশা সিংগারের লেখা আপনার অবস্থান ট্র্যাক করা থেকে অ্যাপগুলোকে যেভাবে আটকাবেন। এই লেখায় তারা সেটিংস পরিবর্তনের সুপারিশ করেন।

কাভেহ ওয়াডেল মার্কিন ম্যাগাজিন আটলান্টিকে লিখেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে সাংবাদিকরা কিভাবে নিজেদের রক্ষা করবেন? অন্যান্য বিষয়ের সাথে, তিনি জটিল পাসওয়ার্ড তৈরির জন্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সফ্টওয়্যার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

নিউইয়র্ক ভিত্তিক অলাভজনক বার্তাকক্ষ প্রোপাবলিকার  জুলিয়া এঙ্গউইন যে নয়টি পরামর্শ দিয়েছেন তাতে তিনি লিখেছেন “প্রতি জানুয়ারিতে আমি ডিজিটাল টিউন-আপ করি…, এই বছর কাজটি বিশেষভাবে জরুরি বলে মনে হচ্ছে, কারণ আমরা এমন বিশ্বের মুখোমুখি হচ্ছি যেখানে আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নজিরবিহীন হুমকির সম্মুখিন।”

কম্প্যারিটেক-এর জন্য এইমি ও’ড্রিসকল ১১ টি পরামর্শ দিয়েছেন। “তার মধ্যে রয়েছে সাধারণ জ্ঞান থেকে শুরু করে আপ-টু-ডেট প্রযুক্তির ব্যবহার, যোগাযোগ এনক্রিপ্ট করা এবং জনপ্রিয় প্লাটফর্ম এড়িয়ে চলার মত কৌশল। এই পদ্ধতিগুলোর কিছু কিছু বাড়তি কাজ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এগুলোকে যখন একত্রিত করা হয়, তখন তথ্য হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়।”

“প্রযুক্তি বিশ্ব ভয় দেখাচ্ছে” এমন মন্তব্য করে ডেভিড ট্রিলিং সাংবাদিকদের জন্য দরকারি টিউটোরিয়ালের লিংকসহ একটি টিপ শিট তৈরি করেছেন। এটি প্রকাশ করেছে হার্ভার্ডস শোরেনস্টাইন সেন্টার।

আন্তর্জাতিক মিডিয়া উন্নয়ন বিষয়ক জার্মান প্রতিষ্ঠান ডিডাব্লিউ একাডেমি ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কিত ‍ লিংকের বিশাল একটি সংগ্রহ তৈরি করেছে।

আ ফার্স্ট লুক অ্যাট ডিজিটাল সিকিউরিটি – সাইবার নিরাপত্তার একটি ওপেনসোর্স বুকলেট – এটি গিটহাবে নিয়মিত আপডেট হয়।

অনুসন্ধানী গণমাধ্যমের জন্য উগান্ডা হাব একটি আর্টিকেলে পাঁচটি টিপস দিয়েছে, যা ডিডাব্লিউ একাডেমির সহায়তায় সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহার হয়।

এন্টি-ফিশিং অ্যান্ড ইমেইল হাইজিন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করেছে ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন। আপনার মোবাইল ফোন সুরক্ষায় আটটি টিপস্ নামের লেখায় একটি ইনফোগ্রাফি ব্যবহারের মাধ্যমে এর বর্ণনাও তুলে ধরেছে তারা। এখানে ফাউন্ডেশনের পরিচালক হারলো হোমসের একটি সাক্ষাৎকার রয়েছে। তিনি বলেছেন, “প্রতিটা দিনই বিচ্ছু-ভর্তি একটি গামলার মত।”

ডিজিটাল ফার্স্ট এইড কিট “মানবাধিকার আইনজীবী, ব্লগার, অধিকার কর্মী এবং সাংবাদিকরা – যারা নিজেরাই আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে তাদের জন্য ‘সেল্ফ-ডায়াগনস্টিক টুলসের’ একটি সেট। হুমকিতে থাকা ব্যক্তির সহায়তায় যিনি প্রথমে এগিয়ে আসেন তার জন্যও পরামর্শ আছে বইটিতে। ডিজিটাল ডিফেন্সারস্ পার্টনারশিপ এবং এক ডজনেরও বেশি এনজিও একত্রে এটি তৈরি করেছে।

দি সোর্সে প্রকাশিত জনাথন স্ট্রের লেখা সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা, প্রথম খন্ড: মৌলিক বিষয়  এবং দ্বিতীয় কিস্তি, সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা, দ্বিতীয় খন্ড: হুমকি মডেলিং।

টেড হান এবং কুইন নর্টনের লেখা সংবেদনশীল নথিপত্র প্রকাশের সময় সোর্সের সুরক্ষা, সাবটাইটেল: “মেটাডেটা ঘষামাজা, তথ্য যথাযথভাবে সম্পাদনা, মাইক্রোডট এবং আরো অনেক কিছু অনুসন্ধান করুন।”

ররি পেক ট্রাস্টের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক লেখায় ডিজিটাল নিরাপত্তার নানান দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের পাওয়ার পয়েন্ট উপাস্থাপনা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা টুলস্।

সোসাইটি ফর প্রফেশনাল জার্নালিস্টস্ কর্তৃক প্রকাশিত সাংবাদিকের টুলবক্সে অনেক রিসোর্সের লিঙ্ক রয়েছে।

সহজ প্রক্রিয়ায় একটি ছোট অনলাইন প্রোফাইল রক্ষনাবেক্ষন বিষয়ে সিকিউরিটি ইন এ বক্স দিচ্ছে ভিডিও টিউটোরিয়ালের একটি সিরিজ।

দি কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস্ এর সাংবাদিকতা সুরক্ষা গাইডের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর তৃতীয় অধ্যায় হলো প্রযুক্তি নিরাপত্তা।

রিপোর্টারস্ উইদাউট বর্ডারস্ পাঁচটি ভাষায় অনলাইন সার্ভাইভ্যাল কিট নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করেছে।

ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড, ফ্রিডম হাউজ, গ্লোবাল ভয়েজ, এবং ইন্টারনিউজ সহ প্রায় ডজন খানিক মিডিয়া সম্পর্কিত এনজিও ডিজিটাল ফার্স্ট এইড কিট নামে একটি গাইড তৈরি করেছে।

সাংবাদিকদের জন্য তথ্য নিরাপত্তা নামে ৮০ পৃষ্ঠার একটি হ্যান্ডবুক আছে লন্ডন ভিত্তিক সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের।

সাংবাদিকদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে ইউনেস্কোর রিপোর্টে, ১২টি সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে – যেগুলো হলো “অবৈধ অথবা অবাধ ডিজিটাল নজরদারি, অবস্থান ট্র্যাকিং এবং লক্ষ্যের ব্যাপারে কোন ধারণা ছাড়াই সফ্টওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের অবৈধ ব্যবহার”। আপনি কিভাবে নিজেকে এবং আপনার তথ্যকে রক্ষা করবেন সে বিষয়ে টিপস্ পাবেন এখানে।

ফেসবুকের ২০টি ভাষায় সাংবাদিকদের জন্যে নিরাপত্তা টিপস্ রয়েছে।

গাইড টু প্রাইভেসি রিসোর্সেস ২০১৯ এই নির্দেশিকাটি বিনামূল্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অ্যাপ, টুলস্ এবং সেবা সমূহের বিস্তৃত একটি তালিকা, যা এর ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের ডিভাইসে প্রয়োগ করতে পারে। এলএলআরএক্স (ল’ এন্ড টেকনোলোজি রিসোর্সেস্ ফর লিগাল প্রফেসনালস্)-এর জন্য এটি সংকলিত করেছেন মার্কাস পি জিলম্যান।

আ মাদারবোর্ড গাইড টু নট-গেটিং হ্যাক্ড, এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে মাদারবোর্ডের একটি বিস্তৃত নির্দেশিকা। রয়েছে মোবাইল নিরাপত্তার বিষয়ও।

আ ডিআইওয়াই গাইড টু ফেমিনিস্ট সাইবার সিকিউরিটি, লিখেছেন নোয়াহ কেলি, যিনি হ্যাক*ব্লুসুমের মাধ্যমে ‘সাইবার ফেমিনিজম’ বিষয়টি উন্মোচন করেছেন।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোম্পানি ইএসইটি-এর স্টিফেন কোব সাংবাদিক এবং সংবাদ মাধ্যমের জন্য সাইবার নিরাপত্তা নামের লেখায় এ সংক্রান্ত সাইট ও রিসোর্সের তালিকা দিয়েছেন।

২০১৭ সালে গাবোর সাটমারি লিখেছেন সাংবাদিকদের জন্য মৌলিক যোগাযোগ সুরক্ষা। এতে আছে ডকুমেন্ট থেকে মেটাডেটা ঘষামাজা, তাৎক্ষনিক বার্তা প্রেরণ, নিরাপদে ফাইল শেয়ার এবং যোগাযোগের মত বিষয়।

হুইসেলব্লোয়িং: যারা গোপনে জানিয়ে দেন অনিয়মের খবর

English

হুইসেলব্লোয়ার তারাই, যারা প্রতিষ্ঠান বা কর্মপ্রক্রিয়ার ভেতরে থেকে দুর্নীতি বা অনিয়মের খবর ফাঁস করে দেন। সাংবাদিকদের জন্য তারা তথ্যের খুব গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের ভেতরে থেকে মারাত্মক সব তথ্য তারা জানিয়ে দেন। ফলে প্রতারণা ও অপচয় থেকে শুরু করে অপরাধের চক্রান্ত এবং যুদ্ধাপরাধের মত খবরও প্রকাশ হয়ে যায়।

হুইসেলব্লোয়ারদের উদ্দেশ্য বুঝে তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা সাংবাদিকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একইরকম গুরুত্বপুর্ণ হচ্ছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সৌভাগ্যক্রমে, হুইসেলব্লোয়িং নিয়ে বিশ্বব্যাপী অনেক এনজিও কাজ করে এবং প্রচুর তথ্যও পাওয়া যায়।

এই বিষয়ে সাংবাদিকদের সাহায্যের জন্য জিআইজেএন তৈরি করেছে এই রিসোর্স। এখানে হুইসেলব্লোয়িং ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক এবং ন্যাশনাল হুইসেলব্লোয়ার্স সেন্টার থেকে বিভিন্ন তথ্য নেয়া হয়েছে। আপনি সংশ্লিষ্ট কোনো গ্রুপের বিবরণ বা রিসোর্স যুক্ত করতে চাইলে hello@gijn.org এ লিখুন।
কোনো প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি, অবৈধ, প্রতারণামূলক বা ক্ষতিকর কাজের সাথে জড়িত থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী যখন প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের ওপরে জনস্বার্থকে স্থান দিয়ে সেই কার্যক্রমের গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন – তাকেই হুইসেলব্লোয়িং বলে। – রালফ নেডার, ভোক্তা আইনজীবী ও অ্যাক্টিভিস্ট

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান
হুইসেলব্লোয়িং ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক এনজিও এবং সুশীল সমাজের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। তারা হুইসেলব্লোয়ারদের নিরাপত্তায় কাজ করে। লন্ডন-ভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্ম তার সদস্যদের আইনি সহায়তা দেয় এবং দক্ষতা বাড়াতে কাজ করে। তাদের লক্ষ্য হলো, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হুইসেলব্লোয়িংয়ের প্রতি গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত করা।

ন্যাশনাল হুইসেলব্লোয়ার্স সেন্টার একটি ওয়াশিংটন, ডিসি ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। হুইসেলব্লোয়িং আইন এবং রিসোর্স নিয়ে একটি দেশ-ভিত্তিক অনলাইন ডেটাবেইজ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। বাকস্বাধীনতা পরামর্শক, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং সরকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের লক্ষ্য হচ্ছে দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। তাদের সদর দপ্তর বার্লিনে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী একশ’র বেশি দেশে টিআইয়ের কার্যক্রম রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে তাদের তিনটি অফিসের হুইসেলব্লোয়িং বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। তারা হলো: গুয়াতেমালার আকসিওন সিউদাদানা, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল আয়ারল্যান্ড এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল রাশিয়া।

জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য বহুমুখী অংশীদারদের সাথে হুইসেলব্লোয়িং নিয়ে কাজ করে ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টিবিলিটি প্রোজেক্ট। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি-বিরোধী আইন এবং সাক্ষী সুরক্ষার ওপর প্রশিক্ষণ। ১৯৭৭ সাল থেকে পাঁচ হাজারেরও বেশি সরকারি এবং বেসরকারি হুইসেলব্লোয়ারদের সহায়তা করেছে জিএপি।

অ্যাসোসিয়েটেড হুইসেলব্লোয়িং প্রেস (এডব্লিউপি) একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। তারা সাংবাদিক, নাগরিক এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ এবং পরামর্শদাতা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। এটি বিভিন্ন স্থানীয় হুইসেলব্লোয়িং উদ্যোগের মধ্যে সহযোগিতা এবং যোগাযোগ বাড়াতে কাজ করে। তাদের সদস্য হচ্ছে আইসল্যান্ডের লিয়স্ট এবং স্প্যানিশ ফিলত্রা।
টিপস অ্যান্ড টুলস
গ্লোবাললিকস একটি উন্মুক্ত হুইসেলব্লোয়িং ফ্রেইমওয়ার্ক। তারা গণমাধ্যম, কর্মীদের সংগঠন, সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করে থাকে। এটি পরিচালিত হয় হার্মিস সেন্টার ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড ডিজিটাল হিউম্যান রাইটস ইন মিলান এর তত্ত্বাবধানে। গোপনে যারা দুর্নীতির খবর জানাতে চান তাদের সহায়তায় নিরাপদ সফটওয়্যার তৈরি করে গ্লোবাললিকস।

লিকডিরেক্টরি একটি উইকি। এটি যে কেউ সম্পাদনা করতে পারে। এতে হুইসেলব্লোইইং সাইটগুলোর একটি পরিপূর্ণ তালিকা রয়েছে। আরো আছে হুইসেলব্লোয়িং এর ওপর দরকারী অনেক লিঙ্ক এবং তথ্য।

 

সিকিউর ড্রপ হুইসেলব্লোয়ারদের তথ্য দেওয়ার জন্য একটি ওপেন সোর্স ব্যবস্থা। এর ব্যবস্থাপনায় আছে ফ্রিডম অফ দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন এবং অজ্ঞাত সোর্স থেকে নিরাপদভাবে তথ্য গ্রহণ করে, এমন কিছু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান। স্যান ফ্রান্সিসকো থেকে পরিচালিত এই ফাউন্ডেশন সিকিউর ড্রপ ব্যবহার করার প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে থাকে।

ইন্টারন্যাশনাল এন্টি-করাপশন কনফারেন্স একটি বৈশ্বিক সম্মেলন। এখানে দুর্নীতি মোকাবেলার চালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য সমবেত হন সরকার, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের আইএসিসি টিম প্রতি দুইবছরে একবার এই সম্মেলন আয়োজন করে।

ওয়ার্কিং উইথ হুইসেলব্লোয়ার্স: গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্সের এই প্যানেল আলোচনায় – হুইসেলব্লোয়ার এবং সাংবাদিকরা কী কী চালেঞ্জের মুখোমুখি হন, সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। হুইসসেলব্লোয়ারদের সাথে সাংবাদিকদের সম্পর্ক অনেক গভীর হলেও বেশ জটিল। বাকিটা জানতে সেশনের ভিডিও দেখুন এখানে।
দেশভিত্তিক সংস্থা
আফ্রিকা
আফ্রিলিকস চালায় আফ্রিকান সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি জোট। তারা ড্রপবক্সের মাধ্যমে নিরাপদে তথ্য ফাঁস করার সুযোগ দেয়। যে কেউ তাদেরকে তথ্য পাঠাতে পারেন। কোন প্রতিষ্ঠানটি সেই অনিয়ম অনুসন্ধান করবে তা-ও নির্ধারণ করে দেয়া যায় এখানে। এটি হার্মিস সেন্টার ফর ট্রান্সপারেন্সি, ডিজিটাল হিউম্যান রাইটস এবং আফ্রিকান নেটওয়ার্ক অফ সেন্টারস ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিংয়ের একটি যৌথ প্রকল্প।

দক্ষিণ আফ্রিকা

ওপেন ডেমোক্রেসি অ্যাডভাইস সেন্টার এর উদ্দেশ্য হচ্ছে গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা এবং কর্পোরেট ও সরকারি পর্যায়ে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা। সংগঠনটির কাজ মূলত স্বচ্ছতা ও তথ্যে প্রবেশাধিকার নিয়ে। তারা হুইসেলব্লোয়ারদেরও সহায়তা করে।
ইউরোপ/ইউরেশিয়া
অস্ট্রেলিয়া

দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার উন্মোচন করার কাজে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার জন্য ২০১১ সালে হুইসেলব্লোয়িং অস্ট্রেলিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়।

জার্মানি

হুইসেলব্লোয়ার্স নেটওয়ার্ক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ২০০৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন দেশটির সাংবাদিক এবং হুইসেলব্লোয়াররা। সংস্থাটি হুইসেলব্লোয়ার, গবেষক এবং সাংবাদিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা এবং পরামর্শ দিয়ে থাকে। হুইসেলব্লোয়িং বিষয়ক তথ্যের একটি প্ল্যাটফর্ম এবং একটি সংবাদ ব্লগও রয়েছে তাদের।

হাঙ্গেরি

হাঙ্গেরিয় এবং আন্তর্জাতিক দুর্নীতি-বিষয়ক সংবাদে আলোকপাত করার জন্য ২০০৭ সালে কে মনিটর ওয়াচডগ ফর পাবলিক ফান্ডস প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে একটি তথ্য-ভিত্তিক সমাজের ধারণা প্রচার করে। এদের ওয়েবসাইটে সাংবাদিকদের জন্য রয়েছে তথ্যের ডেটাবেইজ এবং হুইসেলব্লোয়ারদের জন্য রিসোর্স।

আয়ারল্যান্ড

ক্রিয়েটিভ কমনস সি/ও অলি ব্রাউন, ফ্লিকার

সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির উদ্দেশ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল আয়ারল্যান্ড প্রতিষ্ঠা হয় ২০০৪ সালে। শিক্ষা, তথ্য ও গবেষণার মাধ্যমে মানুষকে শক্তিশালী করে তোলাই এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য।

নেদারল্যান্ডস

অ্যাডভাইস সেন্টার ফর হুইসেলব্লোয়ার্স একটি হটলাইনের মাধ্যমে হুইসেলব্লোয়ারদের সহায়তা দেয়। তাদের এই কার্যক্রম শুরু হয় ২০১২ সালে।

পাবলিকস হলো নিরাপদে তথ্য ফাঁসের একটি প্ল্যাটফর্ম। এর পেছনে আছে চল্লিশটির বেশি ডাচ গণমাধ্যম। হার্মিস সেন্টারের তৈরি করা গ্লোবালিকস সফটওয়্যার ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মটি ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

পোল্যান্ড

স্টেফান বাটোরি ফাউন্ডেশন একটি স্বাধীন বেসরকারি পোলিশ প্রতিষ্ঠান। মুক্ত, শিক্ষিত এবং গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের লক্ষ্যে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি।

রাশিয়া

১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-রাশিয়া নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমকে সাথে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে। তারা সরকারি ও বেসরকারিখাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।

যুক্তরাজ্য

পাবলিক কনসার্ন অ্যাট ওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৩ সালে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে জনস্বার্থের জন্য আশঙ্কাজনক হতে পারে এমন বিপদ, অপতৎপরতা এবং ঝুঁকি সনাক্ত করা। এজন্য তারা হুইসেলব্লোয়ারদের কাজে লাগায় এবং বড় ধরণের ক্ষতি হওয়ার আগেই বাধা দেয়। পিসিডব্লিউ একটি গোপনে তথ্য ফাঁসের হেল্পডেস্ক চালায়।

দ্য হুইসলার একটি ফেলোশিপ সংস্থা যেটি কমপ্যাশন ইন কেয়ার এবং সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমকে সাথে নিয়ে বর্ণ, ধর্ম, রাজনীতি নির্বিশেষে সকল হুইসেলব্লোয়ারকে নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কাজ করে। হুইসেলব্লোয়ারদের তৈরি করা এই প্রতিষ্ঠান আইনি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে পেশাদারী সাহায্য, পরামর্শ এবং সহযোগিতা দেয়।
দক্ষিণ আমেরিকা/ক্যারিবিয়ান
গুয়াতেমালা

আকসিওন সিউদাদানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালে। ২০০৬ সাল থেকে এটি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর অংশ হয়ে যায়। এটি গুয়াতেমালায় স্বচ্ছতা এবং ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে কাজ করা নাগরিক সংগঠনের জোট।

মেক্সিকো

মেক্সিকোলিকস এর পেছনে আছে আটটি মেক্সিকান প্রতিষ্ঠান। আনিমাল পলিতিকো, এমেএকিস, মাসদে১৩১, পেরিওদিস্তাস দে না পিয়ে, পোদের, প্রোসেসো, এরে৩দে এবং আরেস্তেগি নোতিসিয়াস।
উত্তর আমেরিকা
কানাডা

কানাডিয়ানস ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটি হুইসেলব্লোয়ারদের সহায়তা করে। তারা কানাডার নাগরিকদের মধ্যে হুইসেলব্লোয়িংয়ের ধারণা প্রচার করে এবং শেখায়। সততা ও স্বচ্ছতার চর্চা এবং কানাডার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে তারা।

ফেডারেল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ইনিশিয়েটিভ ফর রিফর্ম একটি কানাডিয় প্রতিষ্ঠান। তারা জনস্বার্থে হুইসেলব্লোয়ারদের নিরাপত্তায় আইনি সহায়তা দেয় এবং চর্চার ব্যবস্থা করে।

যুক্তরাষ্ট্র

ক্রিয়েটিভ কমনস ফটো সি/ও ফ্লিকার

গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রজেক্ট (জিএপি) একটি ওয়াশিংটন, ডিসি ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। তারা জনস্বার্থে হুইসেলব্লোয়িংয়ের চর্চাকে উৎসাহিত করে।

প্রজেক্ট অন গভার্নমেন্ট ওভারসাইট (পিওজিও) একটি ওয়াশিংটন, ডিসি ভিত্তিক স্বাধীন পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান। তারা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য হুইসেলব্লোয়ার, সাংবাদিক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজ করে।

ন্যাশনাল হুইসেলব্লোয়ারস সেন্টার একটি ওয়াশিংটন, ডিসি ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যারা হুইসেলব্লোয়িং বিষয়ে পরামর্শ, শিক্ষা এবং সহায়তামূলক প্রকল্পে পৃষ্ঠপোষকতা করে।
এশিয়া
ইন্দোনেশিয়ালিকস একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নিজের পরিচয় গোপন রেখে যে কোনো ব্যক্তি তথ্য দিতে পারেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা সেই তথ্য নিয়ে অনুসন্ধান করেন।

নাম ও ওয়েবসাইট ট্র্যাকিং, ভিডিও যাচাই এবং ক্লাস্টারিং সার্চ ইঞ্জিন

চলতি মাসের টুলবক্সে আমরা নজর দিয়েছি অনলাইন গবেষণার রিয়েল-টাইম রেকর্ড সংরক্ষণের ওপর। এজন্য সার্চ ইঞ্জিন ও ভিডিও ভেরিফিকেশন টুলসসহ বেশকিছু উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, যা আপনাকে পুরনো সার্চ ফলাফল খুঁজে বের করার নানান উপায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে।

জমির মালিকানা: রিপোর্ট আপনার পায়ের নিচেই!

English

সম্পত্তি রেকর্ডের স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে গণমাধ্যমে খুব একটা রিপোর্ট হয় না। কারণ বেশিরভাগ সাংবাদিকের এই বিষয় নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। ভূমি নীতি বিশেষজ্ঞরা সাংবাদিকদের এমন অনীহায় রীতিমত হতাশ।

কোনো কোনো সময় জাতীয় দৈনিকের শিরোনামে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও কর্পোরেট স্বার্থের মধ্যে ভূমি মালিকানা নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিবাদের খবর চোখে পড়ে। কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, দুর্নীতি, দুর্বল ভূমি অধিকার আইন এবং অস্পষ্ট রেকর্ডের মত নেপথ্য কারণগুলো নিয়ে পর্যাপ্ত রিপোর্ট হয়না।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে সঠিক রেকর্ডের অভাব। সম্পত্তি অধিকার নিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার পেছনেও এটিই কাজ করে।

দলিলবিহীন জমির সমস্যাটি বেশ প্রকট। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ ভূমির দলিল নেই।

“বিশ্বে বড়জোর অর্ধেক দেশের রাজধানীতে (আফ্রিকাতে মাত্র ১৩ শতাংশ দেশে) ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির নিবন্ধন বা মানচিত্র পাওয়া যাবে। বেশিরভাগ সময় সরকারি জমির নিবন্ধন থাকেই না” – ২০১৮ সালের একটি ব্লগ পোস্টে বলেছেন বিশ্বব্যাংকের ভূমি বিশেষজ্ঞ ক্লস ডেইনিংগার। এক-তৃতীয়াংশেরও কম দেশে ডিজিটাল রেকর্ড রাখা হয় বলে তিনি জানান।

এসব সমস্যার সামাজিক প্রভাব অনেক, বিশেষ করে, পরিবেশ এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর। এসব বিষয় নিয়ে রিপোর্ট হওয়া উচিৎ। দলিল না থাকলে আদিবাসী গোষ্ঠীর দখলে থাকা জমি চলে যেতে পারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অধীনে। তার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে তারা পরিবেশেরও ক্ষতি করতে পারে। ভূমির অপর্যাপ্ত রেকর্ড দূর্নীতির পৃষ্ঠপোষক হিসাবে কাজ করে। আরো ভালোভাবে বলতে গেলে, ভূমি অধিকারের অভাব বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সমস্যাটির গুরুত্ব এতই যে, জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যেও (লক্ষ্য ১.৪, সূচক ১.৪.২)  ভূমি ভোগদখলের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্লোবাল ল্যান্ড অ্যালায়েন্স এবং ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগ পিআর-ইনডেক্স ভূমি ভোগদখলের সুরাক্ষা নিয়ে দেশ-ভিত্তিক পরিস্থিতি পরিমাপ করবে। এটি ভবিষ্যতে লেখালেখির খোরাক যোগাতে পারে।
সংস্কারের সম্ভাব্য সুবিধা
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নির্ভুল, গতিশীল এবং স্বচ্ছ ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থার অনেক সুবিধা। যেমন

বিনিয়োগ বৃদ্ধি
দুর্নীতি হ্রাস
কর রাজস্ব বৃদ্ধি
অবকাঠামো উন্নয়নে প্রণোদনা
কৃষকের নিরাপত্তা
স্থির এবং স্বচ্ছ আবাসন বাজার তৈরি
দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেয়ার সক্ষমতা
নগর পরিকল্পনার উন্নয়ন
উন্নততর স্বাস্থ্য সেবায় সহায়তা
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রসার
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা

দুর্বল রেকর্ড-রক্ষণ এবং বিস্তৃতির অভাবের কারণে বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভূমি নিবন্ধন এবং ক্যাডেস্টারের আধুনিকীকরণ নিয়ে কাজ করছে (২০১৮ সালের সিস্টেমেটিক প্রোপার্টি রেজিস্ট্রেশন: রিস্কস অ্যান্ড রেমেডিস দেখুন)। এক্ষেত্রে সহায়তার সম্ভাব্য নতুন ক্ষেত্র হতে পারে এরিয়াল ছবি এবং ব্লকচেইন ব্যবস্থা। কিন্তু নতুন প্রযুক্তি প্রবর্তন এবং ধরে রাখার চড়া খরচ এবং আমলাদের প্রতিবন্ধকতার কারণে এর প্রসার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্গানাইজেশন অফ আমেরিকান স্টেটস ক্যাডেস্টার আধুনিকীকরণের জন্য একটি টুলকিট তৈরি করেছে।

ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই রেকর্ডের স্বচ্ছতা এবং ভূমি নীতিমালা হয়ে উঠেছে আলোচনার মূল বিষয়।
তথ্যের বড় উৎস বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের অসংখ্য রিপোর্ট আছে, যা আপনাকে সম্ভাব্য অনুসন্ধানের সূত্র যোগাবে।

জাতীয় পর্যায়েও এমন রিপোর্ট রয়েছে। যেমন, বিশ্বব্যাংক ২০১৪ সালে ভিয়েতনামের ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থা নিয়ে আলাদা প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

জমি বা সম্পত্তির রেকর্ড কীভাবে খুঁজবেন, জানতে হলে পড়ুন জিআইজেএনের প্রোপার্টি গাইড।ভিয়েতনাম ল্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি স্টাডি নামের সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী “স্বচ্ছতার সমস্যা প্রভাব ফেলেছে সেখানকার স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর আচরণ, সক্ষমতা আর নেতৃত্বে।”

বিশ্বব্যাংক অনেক ভূমি বিষয়ক প্রকল্পে যুক্ত। আরো জানতে “ল্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ক্যাডেস্টার” সার্চ করুন।

বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের এই রিপোর্ট নিয়ে ফলো-আপ করা উচিত সাংবাদিকদের। এখানে মানচিত্র ও ভূমি-কর ব্যবস্থার উন্নয়নের স্যাটেলাইট ছবির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

ল্যান্ড পোর্টাল ওয়েবসাইটে ডেটাসেটের দারুণ একটি সংকলন পাওয়া যায়।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পত্রিকা বিজনেস ডে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্নীতি দমন সংস্থা একটি ভূমি সংস্কার প্রকল্পে এমন “ব্যবস্থাপনাগত দূর্বলতা” খুঁজে পেয়েছে, যার মাধ্যমে ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার দামের জমি, প্রতারণার মাধ্যমে জবর দখল করা হয়েছিলো।
অন্যান্য রিপোর্ট
ইন্টারনেট ঘাঁটলেই ভূমি সংস্কার নিয়ে অনেক রিপোর্ট পাওয়া যায়। যেমন: ইনোভেশনস ইন ল্যান্ড রেজিস্ট্রি ম্যানেজমেন্ট নামের ২০১৮ সালের এই অ্যাকাডেমিক পেপার। এখানে বলা হয়েছে, “জমি নিবন্ধন ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণে ছোট-বড় দুই ধরণের দুর্নীতিকেই উৎসাহিত করে।” এই পেপারে ভূমি নিবন্ধন সংস্কারের কিছু কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে।

কম্বোডিয়া, ভারত এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে ভূমি বিষয়ক সেবা পেতে ঘুষের পরিমাণ অনেক সময় ৫০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়। এমন তথ্য পাবেন ল্যান্ডপোর্টাল ওয়েবসাইটের ল্যান্ড অ্যান্ড করাপশন পোর্টফোলিওতে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতে আফ্রিকায় মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ মানুষ ভূমি-দুর্নীতির শিকার। যুবসমাজকে ভূমি সংস্কারে আগ্রহী করে তোলার জন্য সম্প্রতি তারা একটি প্রতিযোগিতা শুরু করেছে।

কার্বিং করপোরেশন ভূমি অধিকার এবং দুর্নীতির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে একটি দুর্দান্ত গাইড প্রকাশ করেছে। সেখানে “ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির বিভিন্ন রূপ” সম্পর্কে সংক্ষেপে বলা হয়েছে।

টেরোরিজম, ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন সেন্টারের ২০১৮ সালের একটি রিপোর্টে জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের শার স্কুল অফ পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট বলছে, “আবাসনখাতে অর্থ পাচার – উন্নত এবং উন্নয়নশীল দুই ধরণের দেশের জন্যেই সমস্যা।”

ভূমি সংস্কারে অগ্রগণ্য দেশগুলোর একটি নেদারল্যান্ডস। তারা ক্যাডেস্টার অ্যাব্রোড নামের একটি নিউজলেটার প্রকাশ করে।

ভূমি রেকর্ডে প্রবেশাধিকার বেশিরভাগ সময়েই সংরক্ষিত থাকে। দেশের মাত্র এক শতাংশ মানুষ উন্মুক্তভাবে তাদের ভূমি মালিকানার তথ্য প্রকাশ করে, অন্যদিকে, ওপেন ডেটা ব্যারোমিটার বলছে, ১০ শতাংশ দেশে বাজেটের তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত। ওপেন নলেজ ইন্টারন্যাশনালের তৈরি গ্লোবাল ওপেন ডেটা ইনডেক্স অনুযায়ী, সবার জন্য উন্মুক্ত ১৫ ধরণের তথ্যের মধ্যে ভূমি মালিকানার তথ্য সবচেয়ে নিচে।

গণমাধ্যমের অনীহা
ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক পত্রিকাগুলো বাড়ী বেচাকেনা, আবাসনখাতে নতুন ধ্যানধারণা এবং বাজার-প্রবণতা নিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট করে। কিন্তু প্রচলিত গণমাধ্যমের মত, তারাও ভূমি বিষয়ক সমস্যাগুলো এড়িয়ে যায়।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা রাজনৈতিক দুর্নীতি জাতীয় প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে হয়তো সম্পত্তির রেকর্ড ব্যবহার করেন। কিন্তু তারা ভূমি ব্যবস্থাপনার ভেতরে খুব একটা ঢুকতে চান না বা ভূমি রেকর্ডের অস্বচ্ছতা নিয়ে অনুসন্ধান করেন না।

এদের মধ্যে ব্যতিক্রম হচ্ছে থমসন রয়টার্সের প্লেইস। তারা ভূমি নিয়েই কাজ করে। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টের মধ্যে আছে:

কেনিয়ার অধিবাসীরা জমি বিক্রি করছেন নামমাত্র মূল্যে
দরিদ্রদের বদলে কারখানাকে ভূমি দিতে আইন সংশোধন করলো ভারতের গুজরাট রাজ্য
কৃষকদের ভূমি অধিকার কি ঘানার কোকোয়া খাতকে বাচাঁতে পারবে? জমি দখলের প্রতিযোগিতায় ইথিওপিয়ার কফি চাষিরা বিপাকে

রেকর্ড ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টাগুলোও অবশ্য বিতর্কের উর্ধ্বে নয়। রয়টার্সের একটি রিপোর্টে উঠে আসে, কারো সাথে পরামর্শ না করেই কেনিয়ায় ভূমি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু পরে তা বন্ধ করার দাবি ওঠে।

ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থা বেসরকারিখাতের হাতে ছেড়ে দেয়ার বেশ কিছু সুবিধা আছে। আবার এ নিয়ে বিতর্কও কম নয়। অস্ট্রেলিয়ার ফাইনান্সিয়াল রিভিউতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিয়ে বিতর্কের খবর ছাপা হয়েছে।
প্রণোদনার অভাব
ভূমি নিয়ে রিপোর্টিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পান না সাংবাদিকরা।

বিশ্বব্যাপী স্বাধীন সাংবাদিকতাকে সহায়তা দেয় পুলিৎজার সেন্টার অন ক্রাইসিস রিপোর্টিং। তারা ভূমি এবং সম্পত্তির অধিকার বিষয়ক ডেটা জার্নালিজম প্রকল্পে পৃষ্ঠপোষকতা করে।

এন/কোর এবং ওমিডায়ার নেটওয়ার্ক পরিচালিত ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম গ্রান্ট, ভারতে ভূমি এবং সম্পত্তি বিষয়ক উদ্ভাবনী সাংবাদিকতার প্রসারে কাজ করছে।
এনজিওর তৈরি রিপোর্ট
বিভিন্ন এনজিও ভূমি নীতিমালা নিয়ে রিপোর্ট করে। তাদের রিপোর্টে  অনেক সময় অনুসন্ধানী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

জমির রেকর্ড থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা কীভাবে দুর্নীতি খুঁজে বের করেছেন, দেখুন জিআইজেএনের এই সংকলনে।মোঙ্গাবে, ২০১৮ সালের অগাস্টে প্রকাশিত এক রিপোর্টে তুলে ধরে, ইন্দোনেশিয়ার সরকার আদিবাসীদের জমি বাদ দিয়ে কীভাবে ভূমি-ব্যবহার ডেটাবেস ও মানচিত্র তৈরির পরিকল্পনা করছিল।

২০১৭ সালের এপ্রিলে “সাও পাওলো: ডাজ করাপশন লিভ নেক্সট ডোর?” নামের রিপোর্টে  ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল দেখায়, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পত্তির আসল মালিকদের পরিচয় কীভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই গবেষণায় তারা সাও-পাওলোর সবচেয়ে দামী এলাকা থেকে ব্রাজিলিয় বাড়ী-মালিকদের তথ্য খুঁজে বের করে। তারপর তারা সেখানকার স্টেট ট্রেড বোর্ড থেকে তথ্য নিয়ে ব্রাজিলিয় মালিকদের পেছনে থাকা বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও চিহ্নিত করে।

২০১৮ সালে  রাইটস অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনিশিয়েটিভ খুঁজে পায়, আদিবাসী এলাকায় বনের গাছ এবং মাটিতে বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা হচ্ছে। তারা দেখায়, হাজার বছর ধরে আগলে রাখা জমিতে আদিবাসীদের অধিকারের বিষয়টি স্বীকার করে নিতেও সরকার কতটা ব্যর্থ হয়েছে।

২০১৮ সালে ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইন্সটিটিউট স্ক্র্যাম্বল ফর ল্যান্ড রাইটস নামের রিপোর্টে লিখেছে, “ভূমি অধিকারের আইনগত স্বীকৃতি না থাকলে, বাইরের বিনিয়োগকারীদের হাত থেকে জমি বাঁচাতে সংগ্রাম করতে হয় প্রত্যেক সম্প্রদায়কেই।”

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ সালের একটি রিপোর্টে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন এবং অর্থ পাচারের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে জানায়, “আবাসন খাতে অর্থ পাচারের ঝুঁকি কমাতে বা সনাক্ত করতে প্রচলিত নিয়ম যথেষ্ট নয়।” আরও দেখুন তাদের ২০১৭ সালের রিপোর্ট টেইন্টেড ট্রেজারস: মানি লন্ডারিং রিস্কস ইন লাক্সারি মার্কেটস।

২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) কেনিয়ার একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর সম্পত্তির অধিকার সংরক্ষণে বিশ্বব্যাংকের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে রিপোর্ট করে।
এনজিও যখন তথ্যের উৎস
ভূমি অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো তথ্যের দারুণ উৎস হতে পারে।

যেমন, কিছু দেশে সম্মিলিত ভোগদখলের জন্য সুরক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

টেনিউর ফ্যাসিলিটি এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যান্ড কোয়ালিশন এর কাজগুলো দেখতে পারেন। অারো অনেক দেশের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেতে দেখুন কালেক্টিভ ল্যান্ড ওনারশিপ ইন দ্য টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি: ওভারভিউ অফ গ্লোবাল ট্রেন্ডস।

ভূুমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার গুরুত্ব নিয়ে ল্যান্ড পোর্টালে লরা মেগিওলারো এবং রামি সাতোর ব্লগ পোস্ট পড়ুন।

জেন্ডার অ্যান্ড ল্যান্ড রাইটস ডেটাবেইজ (জিএলআরডি) দিচ্ছে বিভিন্ন দেশের প্রোফাইল, লিঙ্গ ও ভূমি-বিষয়ক পরিসংখ্যান। তারা সম্প্রতি আইনি পর্যালোচনার এই টুল (এলএটি) তৈরি করেছে।

ঘানা এবং ইন্দোনেশিয়ায় মেরিডার বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। শহরের অধিবাসীদের ভূমি অধিকারের দলিল তৈরির টুল বানিয়েছে ক্যাডেস্টা। ভারতেও এমন একটি প্রকল্প আছে। একে “বস্তির মালিকানা নির্ধারণে বিশ্বের বৃহত্তম উদ্যোগ” হিসাবে অ্যাখ্যা দেওয়া হয়।

ভূমি সংস্কার নিয়ে কাজ করে এমন আরো অনেক আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এই গাইডটি সম্পাদনা করেছেন জিআইজেএন রিসোর্স সেন্টারের পরিচালক টবি ম্যাকিনটশ। তিনি ওয়াশিংটন-ভিত্তিক রিপোর্টার ছিলেন এবং ৩৯ বছর ধরে বুমেরাং বিএনএ এর সম্পাদক হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি অলাভজনক ওয়েবসাইট ফ্রিডমইনফো.ওআরজি এর সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। টবি আইঅনগ্লোবালট্রান্সপারেন্সি.নেট নামের একটি ব্লগ চালান।

জমির নথি থেকে যেভাবে দুর্নীতি উন্মোচন করলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা

English

জমির রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে অনেক বড় বড় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। যা দুর্নীতির নানান ঘটনা উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নিচে তেমন কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো। পড়লেই ‍বুঝতে পারবেন, সম্পত্তির রেকর্ড অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় কতটা বৈচিত্র্য আনতে পারে। এদের বেশিরভাগই করা হয়েছে ২০১৮ সালে।
কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রমাণে জমির নথি
“মিলিওনেয়ারস অ্যামোং দ্য নোমিনিস” নামের প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সারায়েভোর সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং (সিআইএন)। অনুসন্ধানটি পরিচালিত হয় বসনিয়ার ১২১ জন রাজনীতিবিদের সম্পত্তি নিয়ে, যার কেন্দ্রে ছিলেন শীর্ষ ১০ ধনী-রাজনীতিবিদ। সিআইএনের রিপোর্টাররা ভূমি রেকর্ড এবং ঘোষিত সম্পদের বিবরণ থেকে তাদের সম্পত্তির যাবতীয় তথ্য যোগাড় করেন। পরে সব তথ্য “রাজনীতিবিদদের সম্পদ” নামের একটি ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়।

মাঝে মাঝে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্পোরেট নির্বাহীদের বিলাসবহুল বাড়ীর খবরও উন্মোচন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। আর আর্মেনিয়ার সাংবাদিকরা এই কাজ করেছেন বেশ কয়েকবার।

আর্মেনিয়ার কর্মকর্তারা কীভাবে আয় গোপন করে সেই টাকা দিয়ে চেক রিপাবলিকে সম্পদ গড়েছেন – তা খুঁজে বের করে হেটকিউ নামের একটি অনলাইন। রিপোর্টটি প্রকাশ করে দেশটির অ্যাসোসিয়েশন অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস। গভীর এই অনুসন্ধানী সিরিজের আরেকটি পর্বে দেখানো হয়, আর্মেনিয়া পুলিশের সাবেক প্রধান কীভাবে ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি বিলাসবহুল বাড়ী ২০ লাখ ডলারে কিনে নেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে।”

ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারক মারসেলো এবং সিমোন ব্রেটাসের মালিকানাধীন ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের বিশাল অট্টালিকা নিয়ে রিপোর্ট করে দি ইন্টারসেপ্ট। পরে পিয়াউই ম্যাগাজিনের রিপোর্টাররা জমি নিবন্ধনের রেকর্ড ঘেঁটে খুঁজে বের করেন – এই বিপুল সম্পদের মালিক আসলে ব্রাজিলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিচেল তেমের।

চীনের কর্পোরেট গ্রুপ এইচএনএ’র নির্বাহীরা বিলাসবহুল যত বাড়ী কিনেছেন, তার তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। আর এই অনুসন্ধানে বড় ভূমিকা রেখেছে আবাসন রেকর্ড।

বিদেশে নাইরেজিয়ান রাজনীতিবিদরা কত সম্পদ গড়েছেন, এই নিয়ে একটি অনুসন্ধান করেছিল দ্য হেরাল্ড ইন নাইজেরিয়া। তারা রিপোর্টটি দাঁড় করিয়েছিল আবাসন বিষয়ক ওয়েবসাইট এবং গুগল থেকে নেয়া ছবি ব্যবহার করে।

রাশিয়ার সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত এলাকায় লাখ লাখ ডলার দাম দিয়ে জমি কেনা হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একজন বডিগার্ডের নামে – পড়ুন নোভায়া গেজেটার এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রোজেক্ট (ওসিসিআরপি), তাদের একটি রিপোর্টে দেখিয়েছে, রাশিয়ার সাবেক শিল্পমন্ত্রী কীভাবে একটি গলফ কোর্সের কয়েক লাখ ডলার মূল্যের শেয়ার আত্মসাৎ করেছেন। রিপোর্টে বলা হয়: “এই সম্পত্তির মালিক ছিলেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।  কিন্তু দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তা নজরে পড়ে যায়, সেই মন্ত্রীর।”

পেরুতে জাল-জালিয়াতি করে জমি বেচাকেনার একটি চক্রকে উন্মোচন করেছিল মোংগাবে।  এই রিপোর্টের কারণে, মিথ্যা নথিপত্র তৈরির অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তা আটক হন।
ফাঁস হওয়া তথ্যে সম্পত্তির বিবরণ
ওপরে যত রিপোর্টের কথা বলা হয়েছে, তাদের সবই উন্মুক্ত, তথা পাবলিক রেকর্ড-ভিত্তিক। কিন্তু নিচের প্রতিবেদনগুলো তৈরি করা হয়েছে ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে।

জমি বা সম্পত্তির রেকর্ড কীভাবে খুঁজবেন, জানতে হলে পড়ুন জিআইজেএনের প্রোপার্টি গাইড।সাবেক পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে জুলাই মাসে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০৬ লাখ মার্কিন ডলার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস – আইসিআইজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর কারণ ছিল পানামা পেপার্স। সেখানে উঠে আসে, বিদেশে নওয়াজ পরিবারের সম্পত্তির বিষয়টি।

“অবৈধ সম্পদ বিদেশে পাচার কীভাবে দুবাইয়ের সম্পত্তির বাজারকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলছে” সম্প্রতি তা বেরিয়ে আসে অনুসন্ধানী প্রকল্প স্যান্ডকাসলস থেকে। অনুসন্ধানটি করেছে সি৪এডিএস নামের একটি আমেরিকান সংগঠন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবাসন বিশেষজ্ঞরা দুবাইয়ে বিলাসবহুল বাড়ী বেচাকেনার যে তথ্য সংকলন করেছিলেন, সেটিই ফাঁস করে দেয়া হয় সি৪এডিএসের কাছে।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংগঠন ফাইনান্স আনকভার্ড ফাঁস হওয়া সেই তথ্য ব্যবহার করে লিখেছে, “দুবাই লিকস: গোপন সম্পত্তি রেকর্ড বলছে, আমিরাত হচ্ছে পৃথিবীর “কোস্তা দেল ক্রাইম।” এই প্রতিবেদন দুবাইয়ের শত শত বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিকদের পরিচয় উন্মোচন করে দেয়। সি৪এডিএস প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পেয়েছিলো, তার আরো গভীরে যাওয়ার জন্য এই গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে ওসিসিআরপি’র সংকলন করা রেকর্ড।

২০১৫ সালে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসে খুব বিখ্যাত একটি অনুসন্ধান প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখানো হয়, নিউ ইয়র্ক শহরের সবচেয়ে দামী কয়েকটি আবাসিক ভবন, কীভাবে কেনা হচ্ছে কাগজ-সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে। অনুসন্ধানটি শেষ করতে সময় লেগেছে দুই বছর। এই প্রতিবেদনে রিপোর্টাররা তাদের সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। ধনী ক্রেতাদের আগ্রহ কোথায় তা বুঝার জন্য তারা বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করেন। কাগজ-সর্বস্ব শেল কোম্পানিগুলোর তথ্য উদ্ঘাটন করতেও এই অনুসন্ধানটি কাজে এসেছে।
জমির তথ্যে লুকিয়ে থাকে সামাজিক সমস্যা
সামাজিক এবং নীতিমালার সমস্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদনেও ভূমি বিষয়ক তথ্য ব্যবহার করা যায়।

ক্যালিফোর্নিয়ার সম্পত্তি কর নীতিমালার কারণে কীভাবে মুষ্টিমেয় ধনী ব্যক্তি লাভবান হচ্ছেন এমন একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস। এই প্রতিবেদনের জন্য তারা ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি কাউন্টি থেকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হস্তান্তর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে।

ভূমিধ্বসের ঝুঁকিতে থাকা একটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণকাজের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে, ক্রাইম মলদোভা। “দ্য ‘স্লাইডিং’ বিজনেস অফ দা স্টাটি ফ্যামিলি” নামের সেই অনুসন্ধানে তারা সম্পত্তির মালিকানার রেকর্ড ব্যবহার করেছে।

একজন ইথিওপিয়ান কফিচাষীর পিতৃদত্ত জমি ফেরত পাওয়ার লড়াই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় প্লেইস-এ। জমির আনুষ্ঠানিক দলিল না থাকলে কী ধরণের সমস্যা হয়, তা-ই ছিল এই অনুসন্ধানের মূল উপজীব্য। প্লেইস হচ্ছে ভূমি অধিকার সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইট। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন তাদের পৃষ্ঠপোষক। পরিবেশ বিপর্যয় বা খাদ্যের অভাব থেকে শুরু করে সংঘাত এবং যুদ্ধের মত কারণে কেউ ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে – সমাজ, রাজনীতি বা অর্থনীতিতে তার যে প্রভাব পড়ে, তার সবকিছুই বিশ্লেষণ করে প্লেইস। তাদের আরেকটি প্রতিবেদন ছিল: “কৃষকদের জন্য ভূমি অধিকার কি ঘানার কোকোয়া খাতকে বাঁচাতে পারবে?” নেটওয়ার্ক অফ ইরাকি রিপোর্টারস ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ২০১৭ সালে “আইসিসের আবাসন সাম্রাজ্য: নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং সম্পত্তি জালিয়াতির প্রত্যাবর্তন,” শিরোনামে একটি অনুসন্ধান প্রকাশ করে। সেখানে তারা উন্মোচন করে, আইসিস কীভাবে জমির দলিল বিকৃত করে মানুষের বাড়িঘর দখল করে নিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্য প্রাণী চোরাচালান প্রতিরোধে ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের সীমানায় নিরাপদ অঞ্চল তৈরির প্রভাব নিয়ে অনুসন্ধান করে অক্সপেকার্স। তারা দেখতে পায় “দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের সহায়তায় ভিনদেশী ধনীরা জায়গাটি দখল করে ফেলেছে।” এই অনুসন্ধানে তারা কী পদ্ধতি এবং টুল ব্যবহার করেছে, দেখে নিন এই প্রতিবেদনে।
সচিত্র উপস্থাপনা
যেখানে ডেটা আছে, সেখানেই গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তা উপস্থাপনেরও সুযোগ থাকে।

গ্যাস স্টেশন, অবকাঠামো সংস্কার এবং ক্যাফেসহ কয়েকশ অবৈধ নির্মাণ-কাজের এলাকাভিত্তিক চিত্র, গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে কিয়েভ পোস্টের এই প্রতিবেদনে।

নিউ ইয়র্ক শহরের আবাসন বিষয়ক গণমাধ্যম রিয়েল ডিল “প্রথমবারের মতো একটি অসাধারণ র‍্যাংকিং” প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল “নিউ ইয়র্কের মালিক কে?” প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ নিউ ইয়র্কের সরকারী তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহার করছে। ভূমি মালিকানার নথিপত্রের পাশাপাশি সেখানে রাখা আনুষঙ্গিক অন্যান্য তথ্যও সবার কাজে আসে। যেমন, এর ভিত্তিতেই নগর কর্তৃপক্ষ চলমান নির্মাণ প্রকল্পের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। স্থানীয় আবাসন বিষয়ক প্রকাশনা কার্বড, নিয়মিতই ভূমি ব্যবহারের তথ্য থেকে খবর খুঁজে বের করে।

ব্রিটিশ ওয়েবসাইট হু ওউনস ইংল্যান্ড পরিচালনা করেন মাত্র দুই জন ব্যক্তি। তারা ব্রিটিশ ভূমি রেকর্ড থেকে তথ্য নিয়ে নিয়মিতভাবে দারুণ সব প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। দেশটির ভূমি রেকর্ড ব্যবহারের পদ্ধতি এবং মানচিত্র তৈরির ওপর তাদের তৈরি গাইডটি বেশ শিক্ষামূলক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অ্যানা পাওয়েল-স্মিথের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৫২ লাখ একর জমির কোনো নিবন্ধিত মালিক নেই।

পাঠকের জন্য সূত্র: “হু ওউনস” এর তথ্য যে কেউ ব্যবহার করতে পারেন। এর কোনো কপিরাইট নেই।

এই গাইডটি সম্পাদনা করেছেন জিআইজেএন রিসোর্স সেন্টারের পরিচালক টবি ম্যাকিনটশ। তিনি ওয়াশিংটন-ভিত্তিক রিপোর্টার ছিলেন এবং ৩৯ বছর ধরে বুমেরাং বিএনএ এর সম্পাদক হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি অলাভজনক ওয়েবসাইট ফ্রিডমইনফো.ওআরজি এর সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। টবি আইঅনগ্লোবালট্রান্সপারেন্সি.নেট নামের একটি ব্লগ চালান।

জমির মালিকানা: জানা জরুরি, কিন্তু পাওয়া কঠিন

English

জমির মালিকানা কার – এই তথ্য খুঁজে বের করা বেশ কঠিন কাজ। সব দেশেই সম্পত্তির নিবন্ধন পদ্ধতি চালু আছে, তবু তথ্যের মান এবং তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রায়ই বলে থাকেন, বিশ্বে মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩০ শতাংশের নিজ মালিকানাধীন জমির আইনগত নিবন্ধন রয়েছে। কিন্তু তাদের এই পরিসংখ্যানও অনুমান-নির্ভর।

তারওপর সম্পত্তির অসম্পূর্ণ বা ভুল রেকর্ড তো আছেই।

২০১৮ সালের একটি ব্লগ পোস্টে বিশ্বব্যাংকের ভূমি বিশেষজ্ঞ ক্লস ডেইনিংগার বলেন, “বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশ, তাদের রাজধানীতে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির নিবন্ধন বা মানচিত্র তৈরি করতে পারেনি। রাজধানীর বাইরে তো দূরের কথা, অনেক সময় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির নিবন্ধনই করা হয় না।” বিশ্বব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ভূমি রেকর্ডের নিরাপত্তায় ঘাটতির মানে, একই জমি একাধিক মালিকের নামে তালিকাভুক্ত হতে পারে যে কোনো সময়ই।

তারপরও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও হংকংয়ের মতো অনেক উন্নত দেশে  ভূমি নিবন্ধনের তালিকা সবার জন্য উন্মুক্ত। এখান থেকে মূল্যবান তথ্য বের করে আনা সম্ভব। রেকর্ডগুলো সাধারণত স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হয়। কেন্দ্রীয় জাতীয় নিবন্ধন এবং অনলাইনে তা না-ও পাওয়া যেতে পারে। ডেইনিংগারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের এক তৃতীয়াংশেরও কম দেশ ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করে।

আরেকটি জটিলতা হচ্ছে. ব্যক্তি-গোপনীয়তা রক্ষার্থে অনেক দেশে সম্পত্তির মালিকের নাম প্রকাশ করা হয় না। উন্নয়নশীল এবং উন্নত – দুই ধরণের দেশেই এমনটা ঘটতে দেখা যায়।

খুঁজে পাওয়া সম্ভব এমন যে কোনো ভূমি রেকর্ড পেতে আপনাকে সাহায্য করবে জিআইজেএনের এই নির্দেশিকা। শুরুতেই থাকছে আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং জাতীয় উৎসগুলোর লিংক এবং বর্ণনা।
জমির তথ্য কী কাজে আসে? অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির একটি বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম হচ্ছে জমি বা বাড়ী। এই সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোতে, সম্পত্তির মালিকানা খুঁজে বের করা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এবার জেনে নিন সম্পত্তির রেকর্ড কোথায় কাজে আসে:

রাজনীতিবিদদের সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ।
অর্থ পাচারের ঘটনা উন্মোচন।
পরিবেশ অপরাধী সনাক্তকরণ।
আদিবাসী শোষণের চিত্র তুলে ধরা।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির গতিপথ অনুসরণ।
অনিরাপদ বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে জড়িতদের খুঁজে বের করা।
বৈষম্যের স্বরূপ ব্যাখ্যা।

জমির রেকর্ড ব্যবহার করে তৈরি কয়েক ডজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সংকলন করেছে জিআইজেএন। উদাহরণগুলো দেখে নিতে পারেন এখানে।

মানসম্পন্ন ভূমি রেকর্ডের অনুপস্থিতি নিজেই একটি রিপোর্টের বিষয়বস্তু। এখানে বেশ কিছু দরকারি উৎসের সন্ধান পাবেন, যা আপনাকে এই বিষয়ে রিপোর্ট তৈরিতে সাহায্য করবে।
কী খুঁজবেন? ভূমি রেকর্ড অনুসন্ধানের জন্যে আপনাকে নিজ দেশের আইন বুঝতে হবে সবার আগে:

সম্পত্তির অধিকার নিয়ে কী আইন রয়েছে এবং কোন বিষয়ে রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক? সম্পত্তির সীমানা সংক্রান্ত তথ্য কোথায় সংরক্ষণ করা হয়?

প্লেনস্পটিং: বিমানটি এখন কোথায় আছে?

বিমান-উৎসাহী। পর্যবেক্ষক। সৌখিন। অনুসরণকারী। বিমান-গুরু। এরকম নানান শব্দে নিজেদের পরিচয় দিতে ভালোবাসেন প্লেনস্পটাররা। এক জায়গাতেই তাদের মিল – উড়োজাহাজ খুঁজে বের করা। তারা বিমান ওঠা-নামা পর্যবেক্ষণ করেন, সময় লিখে রাখেন, ছবি তোলেন এবং  লোগো বা ডিজাইনে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্য পেলে তা-ও লিপিবদ্ধ করেন। এমন অনেক বিমান-স্পটার আছেন যারা ছবি, ভিডিও এবং টেইল নাম্বার থেকে শুরু করে চলাচলের পথসহ সনাক্ত করার মত সব তথ্য অনলাইনে পোস্ট করেন।

প্লেনস্পটিংয়ের যত রিসোর্স আছে তা এই তালিকায় সংকলন করেছে অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিআরপি)। ২০১৮ সালের সেই লেখায় তারা যেসব সাইট ঘুরে দেখার পরামর্শ দিয়েছে. তা হলো:

প্লেইন ফাইন্ডার
ফ্লাইট রাডার
ফ্লাইট অ্যাওয়্যার

বিশ্বে ফিল্টারবিহীন ফ্লাইট ডেটার সবচে বড় উৎস এডিএসবি এক্সচেঞ্জ এবং সিফরঅ্যাডস (C4ADS)। তারা এই তথ্য সংগ্রহ এবং ব্যবস্থাপনা করে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে ওসিসিআরপি’র ডেটা টিম শাসকগোষ্ঠীর অনুগত ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতারা, কোথায়-কীভাবে ভ্রমন করেন তা খুঁজে বের করার একটি ব্যবস্থা দাঁড় করিয়েছে। এরকম বেশ কিছু উদাহরণসহ একটি বিবরণ পাবেন এই ব্লগপোস্টে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলা করোনেল তার নিজের ব্লগ ওয়াচডগ ওয়াচারে প্লেনস্পটিং এবং সাংবাদিকতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, বিমান খুঁজে বের করার এইসব সাইট সাংবাদিকদের জন্য দারুণ কার্যকরী। সাংবাদিকরা বিমান চলাচলের তথ্য ঘেঁটে কীভাবে নানা অনিয়মের ঘটনা উন্মোচন করেছেন, এখানে তার বেশকিছু উদাহরণ আছে। তার মধ্যে একটি হলো তিউনিসিয়ান ব্লগার আসট্রুবালের, যিনি তুলে ধরেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বেন আলীর স্ত্রী সরকারি অর্থের কতটা অপচয় করেন। গুগল ম্যাপ ও প্লেনস্পটিং সাইটের তথ্য ব্যবহার করে তিনি প্রেসিডেন্টের বিমান ট্র্যাক করেন এবং দেখান, সেটি ইউরোপের ফ্যাশন-নগরীগুলোতে কতবার অনানুষ্ঠানিক ট্রিপ দিয়েছে।

করোনেল আরেক সাংবাদিকের উদাহারন দেন, যিনি তার অনুসন্ধানে প্লেনস্পটিং সাইট থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন, “সম্ভাব্য সন্ত্রাসীদের সিআইএ কোথায় রাখছে” তা প্রমাণ করার জন্যে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিকরা খুঁজে বের করেন কীভাবে কর্পোরেট জেট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রমোদ ভবনে যাচ্ছেন বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরা। পরে এই সব তথ্য দিয়ে তারা জেটট্র্যাকার নামে একটি ডেটাবেসও তাদের সাইটে প্রকাশ করেন।

শিলা করোনেলের প্রতিবেদন থেকে আমরা নিচের তালিকাটি তৈরি করেছি। যেসব সাংবাদিক তাদের রিপোর্টে উড়োজাহাজ স্পটিং সাইটের ডেটা ব্যবহার করতে আগ্রহী, এটি তাদের কাজে আসবে।

 

 

 

 

 

 

 

অনলাইনে ঘাঁটলেই এমন অনেক সাইট পাবেন যারা প্লেনস্পটারদের তোলা ছবি আপলোড করে থাকে। আপনার কোনো বিমানের ছবি দরকার হলে, বা ছবি মেলাতে হলে এসব সাইট ঘুরে আসতে পারেন।

কিছু সাইট আছে যেখানে এয়ারক্রাফটের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য পাওয়া যায়।  সার্চ করে নিবন্ধন তথ্য বের করা যায় এমন দুটি ডেটাবেস হলো ল্যান্ডিংস এবং এয়ারফ্রেমস।

বিমান চলাচলের পথ এবং তা ট্র্যাক করার জন্য আপনার কাজে আসবে ফ্লাইট এক্সপ্লোরার, প্লেনফাই্ন্ডার, ফ্লাইট অ্যাওয়্যার, এবং ফ্লাইটরাডার২৪। এসব সাইট আপনাকে নির্দিষ্ট বিমানের ওঠানামা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রাখতে সাহায্য করবে।

বিশ্বের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ডিরেক্টরি পাবেন এয়ারলাইন্স আপডেট ডট কমে।

এসম্পর্কে আপনার নতুন কোনো পরামর্শ থাকলে আমাদের জানাতে পারেন। যোগাযোগ করুন hello@gijn.org এই ইমেইল ঠিকানায়।