কোভিড-১৯: সাংবাদিকদের জন্য যতরকম অর্থ সহায়তা

English

কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ে ভালো রিপোর্টিংকে উৎসাহিত করতে সাংবাদিকদের জন্য অনুদান নিয়ে এগিয়ে আসছে দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

আপনি কি কোভিড-১৯ কভার করার জন্য আরও রিসোর্স খুঁজছেন? তাহলে জিআইজেএন এর রিসোর্স সেন্টার থেকে ঘুরে আসতে পারেন।এর পাশাপাশি, এই মহামারির কারণে যেসব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপে পড়েছে তাদের জন্যেও সাহায্য দিচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন।

এই ধরণের যত সুযোগ এখন পর্যন্ত এসেছে, তাদের একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে জিআইজেএন। নিচে পাওয়া যাবে তার বিবরণ।

এর বাইরেও, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সরকার থেকে সহায়তা তহবিলের ঘোষণা এসেছে। এগুলো সরাসরি গণমাধ্যমের কথা না বললেও, সাংবাদিকরা তাকে নিজেদের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন।  উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন বেলআউট সম্পর্কে নিম্যান ল্যাবে প্রকাশিত এই নিবন্ধ, এবং কানাডা সরকারের এই মিডিয়া ইনজেকশনটি দেখে নিতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রিল্যান্সাররাও এমন আর্থিক সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারে।

কিছু কিছু সুযোগের ক্ষেত্রে সময়সীমা সীমিত। আপনি যদি এমন কোনো সুযোগের কথা জানেন, আমাদের জানাতে পারেন, এই ইমেইলে hello@gijn.org।
কোভিড-১৯ রিপোর্টিং অনুদান
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি (গ্লোবাল)

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের জন্য একটি জরুরি তহবিল গঠন করেছে। যারা নিজ নিজ এলাকা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব নিয়ে কাজ করতে চান, তারা এই তববিল পেতে পারেন।

প্রতিষ্ঠানটি অনুদানের আবেদন গ্রহণ করছে ধাপে ধাপে। একেক দফায় জমা পড়া আবেদন থেকে সেরা প্রস্তাব বাছাই করে, অনুদান দেয়া হচ্ছে। তারপর আবার আবেদন সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তারা প্রস্তাবের গুনাগুন বিবেচনা করে ১,০০০ থেকে ৮,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “বিশ্বব্যাপী এই মহামারির প্রস্তুতি, প্রতিক্রিয়া এবং প্রভাবের ওপর প্রমাণ-নির্ভর সাংবাদিকতা” যারা করতে চান, তারাই অর্থসহায়তা পাবেন।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক তহবিল “বেশি জোর দিচ্ছে, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে।” তারা আগ্রহী “আঞ্চলিক এবং এমনকি ক্ষুদ্র-অঞ্চলভিত্তিক (জেলা এমনকি তার চেয়েও ছোট পরিসরে কাজ করা গণমাধ্যম) বিতরণ মডেলে।” প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “কোভিড-১৯ এর কারণে যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে,” তারা সেই গল্পই দেখতে চায় বেশি করে। আরও তথ্যের জন্য তাদের ঘোষণা দেখুন।

লেখক, ফটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফার, অডিও সাংবাদিক, কার্টোগ্রাফার, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ডেটা ভিজুয়ালাইজেশন বিশেষজ্ঞরা এই তহবিলের জন্য আবেদন করতে পারেন।

পুলিৎজার সেন্টার (গ্লোবাল)

পুলিৎজার সেন্টার অন ক্রাইসিস রিপোর্টিং চালু করেছে করোনাভাইরাস নিউজ কোলাবরেশন চ্যালেঞ্জ। তাদের নতুন এই অনুদান, সাংবাদিক এবং নিউজরুমগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করছে। রাষ্ট্রীয় এবং জাতীয় সীমারেখার ভেতেরে ও বাইরে করোনাভাইরাস মহামারির খবর সংগ্রহকে বেগবান করতেই তাদের এই উদ্যোগ। এই সুযোগট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের সমস্ত স্বাধীন সাংবাদিক এবং নিউজরুমের জন্য উন্মুক্ত।

এই অনুদান পেতে হলে প্রতিবেদন তৈরি এবং প্রকাশের ক্ষেত্রে শক্তিশালী কোলাবরেশন বা সহযোগিতা কাঠামো থাকতে হবে। আবেদনের জন্য এর বাইরেও যা যা মাথায় রাখতে হবে:

করোনাভাইরাস সংকটের অন্তর্নিহিত সিস্টেমিক ইস্যুতে নজর দিন, যা নিয়ে খুব বেশি রিপোর্টিং হয়নি।
করোনাভাইরাস নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য ডেটাভিত্তিক এবং / অথবা বিষয়-নির্দিষ্ট পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
ক্ষমতাকে জবাবদিহি করার বিষয়টি রাখুন।

করোনাভাইরাস নিউজ কোলাবরেশন চ্যালেঞ্জের জন্য পুলিৎজার সেন্টার আবেদন জমা নিচ্ছে পর্যায়ক্রমিক ভিত্তিতে।

ইন্টারনিউজ (গ্লোবাল)

ইন্টারনিউজ গঠন করেছে ইনফরমেশন সেইভস লাইভস র‌্যাপিড রেসপন্স ফান্ড। সেই সব গণমাধ্যম, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি, এই তহবিল থেকে সহায়তা পেতে আবেদন করতে পারেন – যারা স্থানীয় ভাষায় কোভিড / করোনাভাইরাস মহামারি এবং তার প্রভাব সম্পর্কে তথ্য বা খবর জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চান। অনুদানের অংক হতে পারে ৫০০ থেকে ৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। এই টাকা খরচ করতে হবে, “ এমন তথ্যের নির্মাণ, প্রযোজনা এবং প্রচারের জন্য, যা করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে এবং তাদের নিজের পরিবার ও সম্প্রদায়ের জন্য সুষ্ঠু সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে: বিষয় হতে পরে বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন, রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা, স্থানীয় স্বাস্থ্য নীতি ও পদ্ধতি, এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিদিনের দরকারি খবর ও তথ্য, ইত্যাদি।”

এর পাশাপাশি ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসী, আরবি এবং রাশিয়ান সহ বিভিন্ন ভাষায় করোনভাইরাস কাভার করার জন্য বিনা পয়সায় পরামর্শ এবং বিশেষজ্ঞ সহায়তাসহ অ্যাডভাইজরি তৈরিতেও ইন্টারনিউজ অতিরিক্ত বিনিয়োগ করবে। বিস্তারিত এখানে।

ফান্ডটি চালু করার পর থেকে এতো বেশি আবেদন এসেছে যে, ইন্টারনিউজকে আপাতত আবেদন সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রথম দফায় যত আবেদন জমা পড়েছে, তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে, সেরা প্রস্তাবগুলোকে তারা সহায়তা দিবে। পরবর্তীতে কবে আবেদন করা যাবে, তাদের সাইটে জানিয়ে দেয়া হবে।

ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স মিডিয়া ফাউন্ডেশন (গ্লোবাল)

আইডব্লিউএমএফের সাংবাদিকতা ত্রাণ তহবিল, এমন নারী সাংবাদিকদের জন্য যারা চাকরি বা কাজ হারিয়ে গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছেন, এবং অপূরণীয় ক্ষতি এড়ানোর জন্য যাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। অনুরোধের ধরণ অনুসারে এই তহবিল একেকজনকে সর্বোচ্চ ২০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান প্রদান করবে। দ্রষ্টব্য: যাদের বেশি আর্থিক প্রয়োজন তাদের কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বিশেষ বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হবে।

উইমেন ফটোগ্রাফ (গ্লোবাল)

কোভিড-১৯ জরুরী তহবিল থেকে বিশ্বব্যাপী নন-বাইনারি এবং স্বাধীন নারী ফটোগ্রাফারদের জন্য একককালীন সহায়তা দিচ্ছে, উইমেন ফটোগ্রাফ। এই টাকা কোন কাজে খরচ করা যাবে, সে সম্পর্কে কোনো বিধিনিষেধ নেই। স্বাস্থ্যসেবা, শিশু যত্ন, বাসা ভাড়া, পেশাদার ব্যয় – এমন যেকোনো কাজেই  ইত্যাদি। প্রথম দফা আবেদনের সময়সীমা ৩ এপ্রিল শেষ হয়েছে। দাতাদের কাছ থেকে তহবিল পেলে তারা আবার আবেদন সংগ্রহ শুরু করবে।

লেখকদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল (গ্লোবাল)

অর্থ-সহায়তা কেবল তাদের জন্যই, যাঁরা বর্তমানে অসুস্থ বা কোনো অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন নিতে হয় বলে কাজ করতে পারেন না। আমেরিকান সোসাইটি অফ জার্নালিস্টস অ্যান্ড রাইটার্সের মতে, “আবেদনের জন্য লেখকদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তবে তাদের অবশ্যই ইংরেজী ভাষায় লেখা বই বা নিবন্ধ জমা দিতে হবে।”

ফটোগ্রাফার ফান্ড (গ্লোবাল)

ফটোগ্রাফার তহবিলটি গঠন করেছে ফর্ম্যাট। তাদের লক্ষ্য হলো, সেই সব স্ব-নিয়োজিত ফটোগ্রাফারদের সহায়তা করা, যারা কোভিড-১৯ এর কারণে আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। ফর্ম্যাট হলো একটি অনলাইন পোর্টফোলিও প্ল্যাটফর্ম, যেখানে পোর্টফোলিও তৈরির মাধ্যমে নিজেদের কাজ প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারেন ফটোগ্রাফাররা। এই তহবিল থেকে একেকজনকে ৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেয়া হয়।
সংবাদ প্রতিষ্ঠানের জন্য সহায়তা
ফেইসবুক (গ্লোবাল)

সংবাদ-শিল্পকে বাাঁচাতে ফেইসবুক এরিমধ্যে ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে থেকে আড়াই কোটি ডলার খরচ করা স্থানীয় ছোট ছোট গণমাধ্যমের জন্য জরুরী সহায়তা হিসেবে, ফেসবুক জার্নালিজম প্রজেক্টের মাধ্যমে। আর বাকি সাড়ে সাত কোটি ডলার তারা খরচ করবে বিপণন কার্যক্রমে, যেন বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমগুলোর কাছে অর্থ পৌঁছাতে পারে।

কোভিড-১৯ কমিউনিটি নেটওয়ার্ক গ্রান্ট প্রোগ্রামের আওতায় তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৫০টি স্থানীয় গণমাধ্যমকে সহায়তা দিয়েছে, প্রথম দফায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই দুই দেশের আরো ৪০০টি ক্ষুদ্র গণমাধ্যমকে সহায়তা দেয়া হয়। তবে তৃতীয় রাউন্ড কবে আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই তহবিলের আওতায় করোনাভাইরাসের খবর সংগ্রহ ও প্রকাশের জন্য ৫০০০ মার্কিন ডলার করে দেয়া হয় গণমাধ্যমগুলোকে।

আগ্রহীদেরকে এই লিংকে গিয়ে ফেসবুক জার্নালিজম প্রজেক্ট নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করতে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে।

এর বাইরে, স্মল বিজনেস গ্রান্ট প্রোগ্রামের আওতায় আরো ১০ কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছে ফেসবুক। এখান থেকে ৩০টি দেশের ৩০ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসা তাদের কাছ থেকে ছোট অনুদান বা বিজ্ঞাপন ক্রেডিট পাবে।

গুগল (গ্লোবাল)

স্থানীয় কমিউনিটি নিয়ে কাজ করছে, এমন ছোট ও মাঝারি নিউজরুমগুলোকে জরুরি অর্থ সহায়তা দেওয়ার জন্য জার্নালিজম ইমার্জেন্সি রিলিফ ফান্ড গঠন করেছে গুগল। কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্পন্ন সাংবাদিকতা জারি রাখাই এই অনুদানের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে তারা। অন্তত এক বছর ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং দুই থেকে একশ জন পূর্ণকালীন কর্মী আছে, এমন নিউজরুমগুলো এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবে।

করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্টচেকার এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৬৫ লাখ ডলার দেবে গুগল। সম্প্রতি তারা এই ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গুগল নিউজ ইনিশিয়েটিভ প্রথমে ফার্স্টড্রাফটকে সহায়তা করছে। তারা এরিমধ্যে কোভিড-১৯ নিয়ে সাংবাদিকদের জন্য একটি রিসোর্স হাব তৈরি করেছে, যেখানে প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ক্রাইসিস সিমুলেশন পর্যন্ত অনেক ধরণের রিসোর্স আছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা: সাংবাদিকদের যা যা জানা দরকার

English

ডিজিটাল স্পেসে সাংবাদিকদের জন্য হুমকি ক্রমেই বাড়ছে। একারণে অনলাইনে যোগাযোগ এবং তথ্য রক্ষায় তাদের বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া দরকার।

কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিপদের গভীরতা জেনেও সাংবাদিকরা কোনো ধরনের মৌলিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না।

“ছোট একটি পদক্ষেপ আনতে পারে বিরাট পরিবর্তন” শ্লোগানে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা গাইড প্রকাশ করেছে ররি পেক ফাউন্ডেশন। এই নির্দেশিকা তৈরির সময় বিষয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সাহায্য করেছে জিআইজেএন।

পিডিএন পালসের একটি সাক্ষাৎকারে ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ট্রিভোর টিম বলেন, “কেউ কখনো বলতে পারবেন না, তিনি শতভাগ নিরাপদ। কিন্তু কিছু মৌলিক পদ্ধতি অনুসরণ করে. যে কেউ ইন্টারনেটের ৯০ থেকে ৯৫  শতাংশ ব্যবহারকারীর তুলনায় নিজেকে আরো নিরাপদে রাখতে পারেন। এই নিরাপত্তা অনেক দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে ।”

কানাডা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাবের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবার্ট গুয়েরার সংক্ষিপ্ত সুপারিশ দিয়ে শুরু করছি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বেশির ভাগ সাংবাদিক ইন্টারনেট নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন না।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এনজিও কর্মী এবং সাংবাদিকদের “নিরাপদ যোগাযোগ এবং তথ্য ‍সুরক্ষার” উপর প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন গুয়েরা। তাঁর মতে, অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসাবে পরিচিতি পেলে, অনেকেই ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে আপনার ব্যক্তিগত এবং অনুসন্ধানী রিপোর্টের তথ্য চুরির চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “প্রথমে ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন, তারপর কায়দা-কানুনগুলো শিখুন।  এমন কিছু সহজ পদ্ধতি আছে, যা চাইলেই যে কেউ অনুসরণ করতে পারেন।”

গুয়েরার সুপারিশ:
ই-মেইল

যেসব দেশে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি হয়, সেখানে গেলে স্থানীয় ইমেইল সেবার উপর নির্ভর করবেন না।
নিজ বাড়িতে নিরাপদ ইমেইল সার্ভিস ব্যবহার করুন। যেমন, ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে “https” লেখা দেখলে ধরে নিতে পারেন ইমেইল সার্ভিসটি সুরক্ষিত। জিমেইল গতানুগতিক ভাবেই নিরাপদ। আর ইয়াহু ও ফেসবুকের সেটিংস্ বদলে নেয়া যায়। কেন সেটিংস বদলানো প্রয়োজন? কেননা, আপনি যদি বিনামূল্যের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন তবে বিনামূল্যের সাধারণ সফটওয়্যার দিয়েই আপনার মোবাইল কিংবা কম্পিউটার আয়ত্তে নিয়ে যেতে পারবে যে কেউই। সোর্সের সাথে যোগাযোগের সময় এটি বড় ধরণের সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গুয়েরার মতে, “ এটা অনেকটা, ভিড়ের মধ্যে দাড়িয়ে সোর্সের সাথে চিৎকার করে গোপন কথা বলার মত!”
যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, তারাই আপনার একাউন্ট নিরাপদে রাখবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনার অফিসের প্রযুক্তি ডেস্কের সাথে কথা বলুন। প্রয়োজনে  গুগল বা ইয়াহুতে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলুন, যাতে ইমেইলের নিরাপত্তার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকে।

পাসওয়ার্ড এবং টু-ফ্যাক্টর লগইন
আপনার যদি জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকে তবে সবাই আপনার ইউজারনেইম জানে। তার মানে, হ্যাকাদের শুধু আপনার পাসওয়ার্ড দরকার। তাই আত্মরক্ষার প্রথম ধাপ হল একটি তুলনামূলক জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড কীভাবে তৈরি করবেন, তা নিচে বলা হয়েছে। যারা আরো নিরাপত্তা চান, তাদের জন্য সুরক্ষার একটি অতিরিক্ত বা ঐচ্ছিক স্তর যোগ করেছে জিমেইল, টুইটার এবং ফেসবুক। একে বলা হয় টু-ফ্যাক্টর লগইন। যখন আপনি দুই ধাপে লগইন অপশনটি চালু করবেন তখন পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার ফোনে যাচাই কোডসহ একটি ক্ষুদে বার্তা যাবে। সেটি লেখার পরই আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাবে।
লগইন সেটিংস
কম্পিউটারে অন্তত একটি ডিফল্ট অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টসহ একাধিক ইউজার অ্যাকাউন্ট রাখুন। নিশ্চিত থাকুন যে দ্বিতীয় অ্যাকাউন্টে কোনো অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সুবিধা নেই। তারপর আপনার দৈনন্দিন কাজের জন্য ঐ লগইনটি ব্যবহার করুন। এরপর ম্যালওয়ার স্বয়ংক্রিয় ভাবে ইন্সটল হওয়ার চেষ্টা করলে, বার্তার মাধ্যমে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পাসওয়ার্ড চেয়ে আপনাকে সতর্ক করবে কম্পিউটার।
ম্যালওয়্যার

সন্দেহজনক অ্যাটাচমেন্ট থেকে সাবধান থাকুন, সফটওয়্যার আপডেট রাখুন এবং ভাল এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ইন্সটল করুন। টাকা দিয়ে কেনা লাগে, এমন সফটওয়্যার বেশি নিরাপত্তা দেয়।
আপনার চেনা কোনো ব্যক্তি বা দল থেকে মেইল এসেছে, কিন্তু ইমেইল অ্যাড্রেসের বানানে সামান্য হেরফের আছে – এমন কিছু দেখলেই সতর্ক হোন।
ম্যাক খুবই সুরক্ষিত এমন ভুলধারণা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাহীন পুরোনো কম্পিউটার আপনাকে আরো বড় বিপদে ফেলতে পারে।

গুয়েরা এখানে দরকারি কিছু টুলের বর্ণনা দিয়েছেন।

কম্পিউটার ভুতুড়ে আচরণ করছে – এমন দেখলেই সতর্ক হোন।  কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আছে যারা সাইবার হামলা শনাক্ত ও ট্র্যাকিংয়ের কাজে দক্ষ। বিপদ দেখলে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। এমন দলের মধ্যে:

অ্যাক্সেস-নাও, একটি ডিজিটাল সিকিউরিটি হেল্পলাইন পরিচালনা করে। তারা সাতটি ভাষায় ২৪ ঘন্টা সেবা দেয়।
নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের সহায়তায় কাজ করে।
প্যারিস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিপোর্টাস্ উইদাউট বর্ডারস্ সিপিজের মত একই ধরনের কাজ করে।
টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন ল্যাব ইন্টারনেট নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের উপর গবেষণা করে।

টিউটোরিয়াল ও টিপ শিট
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে গাইডের কোনো অভাব নেই। এদের বেশিরভাগই খুব জটিল। এদের সবই যে সাংবাদিকদের জন্য উপযোগী, তা-ও নয়। তবে সেখানে কিছু না কিছু পাবেন, যা আপনার কাজে আসবে। কাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আপনার বার্তাকক্ষ বা প্রতিষ্ঠানে এমন কাউকে দায়িত্ব দিন, যে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করবে। এখানে কিছু দরকারি রিসোর্স দেয়া হল:

পড়ুন, ২০১৯সালে জিআইজেএনের জন্য কাতারিনা সাবাদোসের লেখা প্রতিবেদন, অনলাইনে নিজেকে নিরাপদ রাখতে কোন টুল বেছে নেবেন। সাবাদোস একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং অরগানাইজড ক্রাইম এন্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের (ওসিসিআরপি) গবেষক।

নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের ব্যবহারিক গাইড নামের পাঠ্যক্রমটি তৈরি করেছে ওপেন নিউজ এবং বাজফিড ওপেন ল্যাব। ডেভেলপার, ডিজাইনার এবং ডেটা এনালিস্টদেরকে ওপেন জার্নালিজম প্রজেক্ট তৈরিতে সাহায্য করে ওপেননিউজ। আর বাজফিড ওপেন ল্যাব হলো বাজফিড নিউজের একটি কলা ও প্রযুক্তি বিষয়ক ফেলোশিপ প্রোগ্রাম।

সিউলে অনুষ্ঠিত আনকভারিং এশিয়া ২০১৮ সম্মেলনে ট্যাকটিক্যাল টেকনোলজি কালেক্টিভের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্রিস ওয়াকারের উপস্থাপনার ভিত্তিতে জিআইজেএন প্রকাশ করেছে  প্রত্যেক সাংবাদিকের জানা দরকার এমন চারটি ডিজিটাল নিরাপত্তা টিপস্।  নিজের, সোর্সের এবং রিপোর্টের সুরক্ষার জন্য সাংবাদিকরা কিছু মৌলিক পরামর্শ পাবেন এই লেখায়।

কারেন্ট ডিজিটাল সিকিউরিটি রিসোর্সের আগস্ট ২০১৭ সংস্করণে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মার্টিন শেলটন বলেন “সবচেয়ে সমৃদ্ধ ডিজিটাল সিকিউরিটি রিসোর্সও খুবই  দ্রুত পুরোনো হয়ে যায়।” টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন নিয়ে শেলটনের লেখাটি বেশ আলোচিত। সাংবাদিকরা কীভাবে ম্যালওয়্যার মোকাবেলা করবেন – তার আরেকটি অনবদ্য লেখা।

ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফউন্ডেশন নজরদারি থেকে আত্মরক্ষার একটি গাইড তৈরি করেছে। সেখানে নিরাপত্তার সাতটি প্রাথমিক ধাপসহ বেশকিছু পরামর্শ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে রয়েছে:

পাসওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহার:  শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরির জন্য ডাইসওয়্যার  ব্যবহার করুন।  একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করবেন না, এনক্রিপ্টেড ডেটাবেসে নিরাপদভাবে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের জন্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহারের কথা বিবেচনা করুন। নিরাপত্তা প্রশ্নের ক্ষেত্রে সহজেই বের করা যাবে এমন উত্তর পরিহার করুন, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন পদ্ধতি ব্যবহার করুন। আপনি যদি পাসওয়ার্ডটি কাগজে লিখে আপনার ওয়ালেটে রাখেন তবে প্রকৃত পাসওয়ার্ডের আগে এবং পরে নকল কিছু অক্ষর অবশ্যই লিখে রাখবেন এবং অ্যাকাউন্ট কখনোই স্পষ্টভাবে লেবেল করে রাখবেন না। একাধিক অ্যাকাউন্টের জন্য কখনোই একই ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস করা উচিত নয়।  আপনি কোন তথ্য রাখবেন আর কোনটি মুছে ফেলবেন তার একটি নীতিমালা তৈরি করুন।  এই নীতি যেন লিখিত থাকে এবং সবাই তা অনুসরণ করে।  “কখনো  আদালতে ডাক পড়লে এটাই আপনার জন্য সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।”
তথ্য সুরক্ষার প্রথমিক কথা: আপনার অ্যাকাউন্ট এবং স্ক্রিনসেভারের জন্য লগইন প্রয়োজন। আপনার পাসওয়ার্ডটি  শক্তিশালী করুন। নিশ্চিত করুন আপনার সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিরাপদ।
তথ্য এনক্রিপশন:  পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত তথ্য পাওয়া সরকারী সংস্থাগুলোর জন্য খুব একটা কঠিন নয়। তবে ভাল করে এনক্রিপ্ট করা তথ্য পাওয়া অনেক কঠিন। কোন কাজের জন্য কিভাবে এনক্রিপশন করবেন, সে বিষয়ে মৌলিক পরামর্শের একটি নির্দেশিকা রয়েছে এসএসডির।
ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা: অ্যান্টি-ভাইরাস সফ্টওয়্যার ব্যবহার করুন, সেগুলো আপডেট রাখুন এবং সন্দেহজনক লিঙ্ক এবং ফাইল এড়িয়ে চলুন।

ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের ইভা গালপারিনের পরামর্শ:

স্কাইপ ঠিক অতটা নিরাপদ নয় যতটা আপনি মনে করেন। আপনি কার সাথে যোগাযোগ করছেন, তা সরকার চাইলেই ট্র্যাক করতে পারে। এর পরিবর্তে গুগল হ্যাংআউটস বা নিরাপদ প্লাটফরম ব্যবহারের কথা বিবেচনা করুন।
টেক্সট ম্যাসেজ ব্যবহারও অনিরাপদ, কারণ তা এনক্রিপ্টেড নয়।

অয়্যার্ড ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে অয়ার্ড ডিজিটাল নিরাপত্তা গাইড, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের একটি কার্যকর উৎস।

মায়ানমার: সাংবাদিকদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা গাইড নামের নির্দেশিকাটি তৈরি করেছে সেন্টার ফর ল’ এ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিএলডি)। তাদের সহায়তা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (এইএমএস), ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউট এবং মায়ানমার প্রেস কাউন্সিল (এমপিসি)। এখানে সাংবাদিকদের জন্য যোগাযোগের সহজ ও সুলভ পদ্ধতি, ডিজিটাল হয়রানি, নজরদারি এবং হ্যাকিং ঠেকানোর ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য মিলবে।

“স্প্যাইক্র্যাফট: আপনার সোর্স গোপন রাখুন” শিরোনামের একটি প্রেজেন্টেশনে নিচের টিপস্ গুলো দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্টিভ ডোইগ:

ইন্টারনেটে সার্চের জন্য IXQuick ব্যবহার করুন। কেননা এই সার্চ ইঞ্জিনটি আপনার আইপি এ্যাড্রেস কিংবা অনুসন্ধানের বিষয় সেইভ করে রাখেনা।
স্পুফ কার্ড ব্যবহার করে কলার আইডি গোপন রাখুন। আন্তর্জাতিক কলের জন্যেও এটি ব্যবহার করতে পারেন।
যেখানে প্রযোজ্য নগদ টাকায় নো-কন্ট্রাক্ট সেল ফোন কিনুন।
এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের জন্য:

প্রিটি গুড প্রাইভেসি, শক্তিশালী এবং কার্যকর।
স্প্যাম মিমিক আপনার মেসেজগুলো এমনভাবে এনক্রিপ্ট করে, যেন দেখতে স্প্যাম মনে হয়।
উইব্রোট উইন্ডো ওয়াসার ব্যবহার করে ডিলিট করা ফাইলগুলো চিরতরে মুছে ফেলুন।
সরকারি অফিস থেকে ফাঁস হওয়া তথ্য পেলে অদৃশ্য জলছাপের বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের জন্য সিকিউরিটি ইন-এ-বক্স প্রকাশ করেছে ট্যাকটিকাল টেকনোলজি কালেক্টিভ। এটি নিয়মিত হালনাগাদ হয়। এতে আছে ১১টি বিষয়ে হাউ-টু-বুকলেট, ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এবং মোবাইল সিকিউরিটি নিয়ে হ্যান্ডস্-অন-গাইড।

নজরদারি থেকে আত্মরক্ষার চেক লিস্ট তৈরি করেছে দি ইন্টারসেপ্ট। এখানে নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিক, মধ্যবর্তী এবং উচ্চস্তরের পদক্ষেপ কী হবে, তা আলাদাভাবে বলা আছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নজরদারি থেকে আত্মরক্ষার উপায় নিয়ে লেখা এই প্রতিবেদনে ইন্টারসেপ্টের মিকাহ লি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাহী ক্ষমতার অবিরাম সম্প্রসারণের অর্থ হচ্ছে, “সামনে দীর্ঘ যুদ্ধ। কারিগরীভাবে যতই কঠিন হোক, আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই।

কানাডিয়ান জার্নালিস্টস্ ফর ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন বিপদে পড়া সাংবাদিকদের জন্য প্রকাশ করেছে আপনার ডিজিটাল জীবন সুরক্ষিত করুন।

এসএমএস প্রেরণ: অনেক বিশেষজ্ঞ সিগনাল কিংবা হোয়াটসআপ ব্যবহারের সুপারিশ করে। জার্নালিজম ডট কো ডট ইউকেতে সিগনাল সম্পর্কে আর্টিকেলটি দেখুন। আর  হোয়াটসআপ ব্যবহার নিয়ে ফার্স্ট ড্রাফটের আর্টিকেলটি দেখুন।

নাইট সেন্টার ফর জার্নালিজম পাঁচটি মৌলিক পরামর্শ তুলে ধরেছে এই লেখায়:

এইচডি এবং ফ্লাশ ড্রাইভ এনক্রিপশন- আপনার হার্ড ড্রাইভ এবং ইউএসবি ডিভাইসে একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখে  এনক্রিপশন। যাতে সেগুলো হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলেও ফাইল নিরাপদে থাকে।
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন- এটি অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাক্সেস, ইমেইল এবং সোসাল মিডিয়াতে ব্যবহার হয়। লগইনের জন্য এমন কিছু লাগে যা আপনি জানেন (আপনার পাসওয়ার্ড) এবং যা আপনাকে পাঠানো হয় (যেমন, আপনার ফোনে পাঠানো কোড )।
 সিগন্যাল- অ্যাপ্লিকেশনটি স্মার্টফোনের জন্য তৈরি।  আপনার সেল ফোনে বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করলেও, বুঝতে পারবেনা যে সেখানে কি লেখা রয়েছে।
 সিন্ক ডট কম- এখানে বিনামূল্যের ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবস্থা আছে। এটি তথ্য সংরক্ষণ করে। কিন্তু কি সংরক্ষণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা রাখেনা। আমরা সাধারণত যেসব ওয়েব সাইট ব্যবহার করি, তা ফাইল স্ক্যান করে,  একটি রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু সিন্ক তা করে না। এটি এনক্রিপ্টেড এবং আরো বেশি নিরাপদ, সেই সাথে ব্যবহার করাও সহজ।
 পিজিপি- পুরো নাম প্রিটি গুড প্রাইভেসি, ইমেইল এনক্রিপ্ট করার একটি মাধ্যম। এটি অনেকটা সিন্দুকের মত, তবে তার দুটি চাবি রয়েছে: একটি তালা লাগানোর জন্য এবং অন্যটি খোলার জন্য। তালা লাগানোর চাবিটি আপনি সবাইকে দেন যাতে করে সবাই আপনাকে ফাইল এবং বার্তাগুলো পাঠাতে পারে। কিন্তু তালা খোলার চাবিটি থাকবে শুধুমাত্র আপনার কাছেই।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রাইভেসি ফর জার্নালিস্টস নামের সাইটটি পরিচালনা করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ক্রিপ্টোঅস্ট্রেলিয়া। নতুন নতুন বিষয় নিয়ে লেখা প্রকাশ করা হয় তাদের ব্লগে। যেমন- ক্লাউডে গোপনীয়তার সাথে ফাইল সংরক্ষণ, নিরাপদ সার্চ ইঞ্জিন বাছাই এবং ইউএসবি ড্রাইভ এনক্রিপ্ট করা।

বাংলায় জিআইজেএনের এমন আরো রিসোর্স পেইজের সন্ধান পেতে ঘুরে আসুন অনুসন্ধানী রিসোর্স থেকে।২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত জেনিফার ভ্যালেনতিনো ডেভ্রিস এবং নাতাশা সিংগারের লেখা আপনার অবস্থান ট্র্যাক করা থেকে অ্যাপগুলোকে যেভাবে আটকাবেন। এই লেখায় তারা সেটিংস পরিবর্তনের সুপারিশ করেন।

কাভেহ ওয়াডেল মার্কিন ম্যাগাজিন আটলান্টিকে লিখেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে সাংবাদিকরা কিভাবে নিজেদের রক্ষা করবেন? অন্যান্য বিষয়ের সাথে, তিনি জটিল পাসওয়ার্ড তৈরির জন্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সফ্টওয়্যার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

নিউইয়র্ক ভিত্তিক অলাভজনক বার্তাকক্ষ প্রোপাবলিকার  জুলিয়া এঙ্গউইন যে নয়টি পরামর্শ দিয়েছেন তাতে তিনি লিখেছেন “প্রতি জানুয়ারিতে আমি ডিজিটাল টিউন-আপ করি…, এই বছর কাজটি বিশেষভাবে জরুরি বলে মনে হচ্ছে, কারণ আমরা এমন বিশ্বের মুখোমুখি হচ্ছি যেখানে আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নজিরবিহীন হুমকির সম্মুখিন।”

কম্প্যারিটেক-এর জন্য এইমি ও’ড্রিসকল ১১ টি পরামর্শ দিয়েছেন। “তার মধ্যে রয়েছে সাধারণ জ্ঞান থেকে শুরু করে আপ-টু-ডেট প্রযুক্তির ব্যবহার, যোগাযোগ এনক্রিপ্ট করা এবং জনপ্রিয় প্লাটফর্ম এড়িয়ে চলার মত কৌশল। এই পদ্ধতিগুলোর কিছু কিছু বাড়তি কাজ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এগুলোকে যখন একত্রিত করা হয়, তখন তথ্য হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়।”

“প্রযুক্তি বিশ্ব ভয় দেখাচ্ছে” এমন মন্তব্য করে ডেভিড ট্রিলিং সাংবাদিকদের জন্য দরকারি টিউটোরিয়ালের লিংকসহ একটি টিপ শিট তৈরি করেছেন। এটি প্রকাশ করেছে হার্ভার্ডস শোরেনস্টাইন সেন্টার।

আন্তর্জাতিক মিডিয়া উন্নয়ন বিষয়ক জার্মান প্রতিষ্ঠান ডিডাব্লিউ একাডেমি ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কিত ‍ লিংকের বিশাল একটি সংগ্রহ তৈরি করেছে।

আ ফার্স্ট লুক অ্যাট ডিজিটাল সিকিউরিটি – সাইবার নিরাপত্তার একটি ওপেনসোর্স বুকলেট – এটি গিটহাবে নিয়মিত আপডেট হয়।

অনুসন্ধানী গণমাধ্যমের জন্য উগান্ডা হাব একটি আর্টিকেলে পাঁচটি টিপস দিয়েছে, যা ডিডাব্লিউ একাডেমির সহায়তায় সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহার হয়।

এন্টি-ফিশিং অ্যান্ড ইমেইল হাইজিন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করেছে ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন। আপনার মোবাইল ফোন সুরক্ষায় আটটি টিপস্ নামের লেখায় একটি ইনফোগ্রাফি ব্যবহারের মাধ্যমে এর বর্ণনাও তুলে ধরেছে তারা। এখানে ফাউন্ডেশনের পরিচালক হারলো হোমসের একটি সাক্ষাৎকার রয়েছে। তিনি বলেছেন, “প্রতিটা দিনই বিচ্ছু-ভর্তি একটি গামলার মত।”

ডিজিটাল ফার্স্ট এইড কিট “মানবাধিকার আইনজীবী, ব্লগার, অধিকার কর্মী এবং সাংবাদিকরা – যারা নিজেরাই আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে তাদের জন্য ‘সেল্ফ-ডায়াগনস্টিক টুলসের’ একটি সেট। হুমকিতে থাকা ব্যক্তির সহায়তায় যিনি প্রথমে এগিয়ে আসেন তার জন্যও পরামর্শ আছে বইটিতে। ডিজিটাল ডিফেন্সারস্ পার্টনারশিপ এবং এক ডজনেরও বেশি এনজিও একত্রে এটি তৈরি করেছে।

দি সোর্সে প্রকাশিত জনাথন স্ট্রের লেখা সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা, প্রথম খন্ড: মৌলিক বিষয়  এবং দ্বিতীয় কিস্তি, সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা, দ্বিতীয় খন্ড: হুমকি মডেলিং।

টেড হান এবং কুইন নর্টনের লেখা সংবেদনশীল নথিপত্র প্রকাশের সময় সোর্সের সুরক্ষা, সাবটাইটেল: “মেটাডেটা ঘষামাজা, তথ্য যথাযথভাবে সম্পাদনা, মাইক্রোডট এবং আরো অনেক কিছু অনুসন্ধান করুন।”

ররি পেক ট্রাস্টের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক লেখায় ডিজিটাল নিরাপত্তার নানান দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের পাওয়ার পয়েন্ট উপাস্থাপনা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা টুলস্।

সোসাইটি ফর প্রফেশনাল জার্নালিস্টস্ কর্তৃক প্রকাশিত সাংবাদিকের টুলবক্সে অনেক রিসোর্সের লিঙ্ক রয়েছে।

সহজ প্রক্রিয়ায় একটি ছোট অনলাইন প্রোফাইল রক্ষনাবেক্ষন বিষয়ে সিকিউরিটি ইন এ বক্স দিচ্ছে ভিডিও টিউটোরিয়ালের একটি সিরিজ।

দি কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস্ এর সাংবাদিকতা সুরক্ষা গাইডের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর তৃতীয় অধ্যায় হলো প্রযুক্তি নিরাপত্তা।

রিপোর্টারস্ উইদাউট বর্ডারস্ পাঁচটি ভাষায় অনলাইন সার্ভাইভ্যাল কিট নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করেছে।

ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড, ফ্রিডম হাউজ, গ্লোবাল ভয়েজ, এবং ইন্টারনিউজ সহ প্রায় ডজন খানিক মিডিয়া সম্পর্কিত এনজিও ডিজিটাল ফার্স্ট এইড কিট নামে একটি গাইড তৈরি করেছে।

সাংবাদিকদের জন্য তথ্য নিরাপত্তা নামে ৮০ পৃষ্ঠার একটি হ্যান্ডবুক আছে লন্ডন ভিত্তিক সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের।

সাংবাদিকদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে ইউনেস্কোর রিপোর্টে, ১২টি সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে – যেগুলো হলো “অবৈধ অথবা অবাধ ডিজিটাল নজরদারি, অবস্থান ট্র্যাকিং এবং লক্ষ্যের ব্যাপারে কোন ধারণা ছাড়াই সফ্টওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের অবৈধ ব্যবহার”। আপনি কিভাবে নিজেকে এবং আপনার তথ্যকে রক্ষা করবেন সে বিষয়ে টিপস্ পাবেন এখানে।

ফেসবুকের ২০টি ভাষায় সাংবাদিকদের জন্যে নিরাপত্তা টিপস্ রয়েছে।

গাইড টু প্রাইভেসি রিসোর্সেস ২০১৯ এই নির্দেশিকাটি বিনামূল্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অ্যাপ, টুলস্ এবং সেবা সমূহের বিস্তৃত একটি তালিকা, যা এর ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের ডিভাইসে প্রয়োগ করতে পারে। এলএলআরএক্স (ল’ এন্ড টেকনোলোজি রিসোর্সেস্ ফর লিগাল প্রফেসনালস্)-এর জন্য এটি সংকলিত করেছেন মার্কাস পি জিলম্যান।

আ মাদারবোর্ড গাইড টু নট-গেটিং হ্যাক্ড, এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে মাদারবোর্ডের একটি বিস্তৃত নির্দেশিকা। রয়েছে মোবাইল নিরাপত্তার বিষয়ও।

আ ডিআইওয়াই গাইড টু ফেমিনিস্ট সাইবার সিকিউরিটি, লিখেছেন নোয়াহ কেলি, যিনি হ্যাক*ব্লুসুমের মাধ্যমে ‘সাইবার ফেমিনিজম’ বিষয়টি উন্মোচন করেছেন।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোম্পানি ইএসইটি-এর স্টিফেন কোব সাংবাদিক এবং সংবাদ মাধ্যমের জন্য সাইবার নিরাপত্তা নামের লেখায় এ সংক্রান্ত সাইট ও রিসোর্সের তালিকা দিয়েছেন।

২০১৭ সালে গাবোর সাটমারি লিখেছেন সাংবাদিকদের জন্য মৌলিক যোগাযোগ সুরক্ষা। এতে আছে ডকুমেন্ট থেকে মেটাডেটা ঘষামাজা, তাৎক্ষনিক বার্তা প্রেরণ, নিরাপদে ফাইল শেয়ার এবং যোগাযোগের মত বিষয়।

সাংবাদিকদের জন্য জরুরি সাহায্য

English
দুনিয়া জুড়ে সংবাদকর্মীরা নানারকম ঝুঁকির মুখে কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৯২ সাল থেকে ১ হাজারের বেশি সাংবাদিক মারা গেছেন, হাজার হাজার সাংবাদিক ভয়ভীতি, হামলা, নিগ্রহ ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন ।

বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বিপদগ্রস্ত সাংবাদিকদের জরুরি সাহায্য দিয়ে থাকে। সাহায্য নানা ধরনের হতে পারে, যেমন মেডিক্যাল বা আইনি সহায়তা। ক্ষেত্রবিশেষে ঝুঁকিতে থাকা সাংবাদিককে দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হয়। অতএব বিপদে পড়লে, আপনিও সাহায্য পেতে পারেন ।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) :

নিউ ইয়র্কে অবস্থিত  সিপিজে তাদের জার্নালিস্ট  অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে ঝুঁকিতে থাকা সাংবাদিকদের মেডিক্যাল, আইনি এবং রিলোকেশন (দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া) সহায়তা দিয়ে থাকে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি নিহত বা কারাগারে অন্তরীণ সাংবাদিক পরিবারকেও সাহায্য করে থাকে।

রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) :

প্যারিস ভিত্তিক আরএসএফ সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যমকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে, যাতে তারা নানা ধরনের আক্রমণ (মামলা বা হামলা) থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। বন্দী সাংবাদিকদের পরিবারকেও আরএসএফ সাহায্য করে থাকে।

ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড :

এটি ডাচ সাংবাদমাধ্যম উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান । সাংবাদিক ও মিডিয়া হাউসকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য এর আন্তর্জাতিক জরুরি তহবিল আছে । প্রতিষ্ঠানটি সাহায্যের আবেদন পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিয়ে থাকে ।

ইন্টারন্যাশনাল উইমেনস মিডিয়া ফাউন্ডেশন :

এই প্রতিষ্ঠান কর্মরত মহিলা সাংবাদিকদের (প্রিন্ট, ব্রডকাস্ট, অনলাইন বা ফ্রিল্যান্স) মেডিক্যাল, আইনি বা রিলোকেশন (অন্য কোনো দেশে নিয়ে যাওয়া) সহায়তা দিয়ে থাকে । তবে সাংবাদিক নন কিন্তু সংবাদ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, এমন কেউ সাহায্যের জন্য বিবেচিত হবেন না।

ক্যালিটি ফাউন্ডেশন :

সুইডেনে অবস্থিত এই ফাউন্ডেশন কাজের কারণে কারাগারে আটক সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারদের আর্থিক সাহায্য দিয়ে থাকে। দুনিয়ার যে-কোনো দেশের সাংবাদিকরা এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন ।

লাইফলাইন ফান্ড :

এই ফান্ড দমন-পীড়ন এবং আক্রমণের শিকার হওয়া সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটি প্রতিষ্ঠানকে জরুরি সহায়তা দিয়ে থাকে। ১৭টি সরকার এবং ফাউন্ডেশন মিলে লাইফলাইন ফান্ডকে সমর্থন জোগায় । এই ফান্ড মেডিক্যাল ও আইনি সহায়তা, নিরাপত্তা ও সাময়িক রিলোকেশন সাহায্য ছাড়াও মামলার অগ্রগতির ওপর নজর রাখে এবং অচল হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি বদলে দেয় । সাহায্য করার আগে লাইফলাইন একটি প্রতিষ্ঠানের অতীত রেকর্ড অর্থাৎ মানবাধিকার বা গণতন্ত্রের পক্ষে তাদের ভূমিকা বিবেচনা করে থাকে ।

মিডিয়া ডিফেন্স লিগ্যাল ইনিশিয়েটিভ :

লন্ডনে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠান সাংবাদিক, ব্লগার ও স্বাধীন সাংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে আইনি সহায়তা দেয়। এছাড়াও এই সংগঠন জনস্বার্থে পরিচালিত মামলায়ও  (যেমন, সাংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষা) সমর্থন জুগিয়ে থাকে ।

আরো আছে ররি পেক ট্রাস্ট এবং রেস্ট অ্যান্ড রিফিউজ ফেলোশিপ – যারা ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, তাদের পরিবার এবং যুদ্ধে লিপ্ত বা সংঘাতে বিধ্বস্ত দেশের সাংবাদিকদের সাহায্য করে।