অনলাইনে অনুসন্ধানের যত টুল

English
বিবিসির সাংবাদিক পল মায়ার্স, অনলাইনে অনুসন্ধানের জন্য বিখ্যাত। তাঁর অনলাইন গবেষণা টুল এবং অনুসন্ধানের কৌশল শিরোনামের লেখাটি দীর্ঘ দিন ধরেই জিআইজেএন পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়। মায়ার্সের ওয়েবসাইট, রিসার্চ ক্লিনিক বিভিন্ন গবেষণা লিংক ও পাঠ্য বিষয়বস্তুতে সমৃদ্ধ।

“অনলাইন অনুসন্ধান এবং  গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেইজ” নামে আমাদের একটি ভিডিও আছে। দেখতে চাইলে  ঘুরে আসুন জিআইজেএনের ইউটিউব চ্যানেল থেকে।মায়ার্সের লেখা আরো কিছু নির্দেশিকা পাবেন জিআইজেএনের ওয়েবসাইটে। যেমন:

টুইটার ব্যবহার করে ব্রেকিং স্টোরির দৃশ্য থেকে মানুষ খুঁজে বের করুন
আপনার ব্রাউজার কাস্টমাইজ করুন: অনলাইন গবেষণায় অ্যাড-অনস্ ব্যবহার
ব্রাউজার অ্যাড-অনস্ (দ্বিতীয় খন্ড): যথাসময়ে পেছনে ফিরে দেখা

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স ফ্রেমওয়ার্ক, হচ্ছে খুবই বিস্তারিত ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অনুসন্ধানী টুলের তালিকা। এছাড়া জিআইজিএনের অ্যালাস্টেয়ার ওটারের কলাম অনুসন্ধানী টুলবক্স থেকে জানতে পারবেন নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কে:

নাম ও ওয়েবসাইট ট্র্যাকিং, ভিডিও যাচাই এবং ক্লাস্টারিং সার্চ ইঞ্জিন
অন্তর্জালে জাল পেতে মানুষ খোঁজার পদ্ধতি
ব্যক্তি ও কোম্পানির খোঁজে
গোপন ডকুমেন্ট শেয়ার, টুইটারে তথ্য অনুসন্ধান এবং ওয়েবসাইটে নজরদারি
স্প্রেডশিট ছাড়িয়ে ওয়েবের গভীরে অনুসন্ধান

ইন্টেল টেকনিক মূলত মাইকেল বাজেলের সৃষ্টি। তিনি এক সময় মার্কিন সরকারের সাইবার অপরাধ তদন্তকারী হিসেবে কাজ করতেন। এখন লেখালেখি করেন। ইন্টেল টেকনিক মূলত ওয়েবে দ্রুত অনুসন্ধানের জন্য কাজে আসে, এমন কয়েক ডজন টুলের সংগ্রহ। এখানকার বেশিরভাগ টুল দিয়ে আপনি একই সাথে অনেক জায়গায় অনুসন্ধান চালাতে পারবেন। “টুলসের” নিচে বাম দিকের কলামে রিসোর্সগুলো সুসজ্জিত দেখতে পাবেন। (১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত এই ব্লগ পোস্টে নতুন কিছু ফিচার নিয়ে বিশ্লেষণ রয়েছে।) তার এই লেখায় জানতে পারবেন, অনলাইনে গাড়ির মালিক অনুসন্ধান করবেন কীভাবে। তাদের একটি নিউজ লেটার আছে এবং তিনি এই বিষয়ে প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন।

কে, কোথায়, কখন সম্পর্কে অনুসন্ধান করার অনলাইন পদ্ধতি – এটি লিখেছেন অনলাইন অনুসন্ধান বিশেষজ্ঞ হেঙ্ক ফন এস। জিআইজেএন পাঠকদের জন্য ভেরিফিকেশন হ্যান্ডবুকের এই অংশ তুলে ধরা হয়েছে।

ডিপ ওয়েবে অনুসন্ধান, জিয়ানিনা সেগনিনির তৈরি একটি প্রেজেন্টেশন। এটি তিনি তুলে ধরেন জিআইজেসি১৭-তে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেটা জার্নালিজম কর্মসূচীর এই পরিচালক, এখানে অ্যাডভান্সড গুগল সার্চের নানা উপায় তুলে ধরেছেন। মাদক পাচারের উদাহরণ ব্যবহার করে তিনি দেখিয়েছেন গুগল কীভাবে ডিপ ওয়েবে অনুসন্ধানের জন্য সেতু হিসেবে কাজ করে। কনটেইনার, জাহাজ, এবং কাস্টমস ট্র্যাকিংয়ের পাশাপাশি এখানে উঠে এসেছে ফেসবুক সার্চ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়।

দরকারি টুল, লিংক এবং রিসোর্স শিরোনামের এই তালিকা তৈরি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাউদার্ন টিপ মিডিয়ার সাংবাদিক ও প্রশিক্ষক রেমন্ড জোসেফ। এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভেরিফিকেশন, ডোমেইন, আইপি তথ্য ও  আন্তর্জাতিক ফোনবুকসহ ছয়টি বিষয়ে গবেষণার ওপর একটি তথ্য ভান্ডার। আর জিআইজেসি১৭-তে উপস্থাপন করা এই প্রেজেন্টেশনে জোসেফ ব্যাখ্যা করেন, “আপনি কীভাবে ডিজিটাল গোয়েন্দা হবেন”।

এএমএল রাইটসোর্স, একটি বেসরকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান। তারা “শুধু অর্থ পাচার প্রতিরোধ, ব্যাংক গোপনীয়তা আইন এবং আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে কাজ করে।” প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছে রিসোর্স শিটের এই সংকলন।

ইনভেস্টিগেট উইথ ডকুমেন্ট ক্লাউড, লিখেছেন ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার্স অ্যান্ড এডিটর্স (আইআরই) এর নির্বাহী পরিচালক ডগ হ্যাডিক্স। এই নির্দেশিকায় পাবেন সাংবাদিকদের শেয়ার করা ১.৬ মিলিয়ন সরকারি নথির ব্যবহার ও বিশ্লেষণ করার পদ্ধতি এবং নিজের নথি হাইলাইট, অন্যান্যদের সাথে সমন্বয়, ডকুমেন্ট ওয়ার্কফ্লো ব্যবস্থাপনা ও নিজের কাজ অনলাইনে শেয়ার করার কৌশল।

মালাকি ব্রাউনির টুলকিট, মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্রিক অনুসন্ধানের জন্য দরকারি টুলের একটি তালিকা। এই তালিকায় ৮০টিরও বেশি ওপেন সোর্স অনুসন্ধানী টুলের লিংক পাবেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রযোজক জিআইজেসি১৭’-তে তার সেশনের শেষ দিকে যখন এই স্লাইডটি দেখালেন, তখন প্রায় সব দর্শকই সেটি ব্যবহারের জন্য তাঁর কাছে অনুরোধ পাঠান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসন্ধান নামের প্রেজেন্টেশনটি জিআইজেসি১৭-তে উপস্থাপন করেন মাইকেল সালজউইডেল। “নট হ্যাকিং, নট ইলিগ্যাল” এই বাক্য দিয়ে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। তিনি ‘সোস্যাল উইভার’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রশিক্ষক।

সাবেক কর্মীদের কীভাবে খুঁজবেন শিরোনামের লেখাটি জেমস মিনজের। তিনি মিনজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, প্রেসিডেন্ট  এবং একজন অভিজ্ঞ প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর। তিনি মনে করেন, “অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তৈরির জন্য সাবেকদের সাথে যোগাযোগের এই ১০টি পরামর্শ বেশ কার্যকর।”

অনুসন্ধানী গবেষণার যত লিংক, সংকলন করেছেন মারগট উইলিয়াম। দ্য ইন্টারসেপ্টের সাবেক এই গবেষণা সম্পাদক “কার্যকর গুগল অনুসন্ধান” থেকে শুরু করে “রিসার্চ গুরু” সাইটের তালিকা পর্যন্ত – বিশদ পরামর্শ তুলে ধরেছেন এখানে।

বেলিংক্যাটের অনলাইন অনুসন্ধানী টুলকিট, মূলত মানচিত্র, ভৌগলিক অনুসন্ধান, ছবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পরিবহন, ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন, বিশেষজ্ঞ এবং আরো অনেক কিছুর বিশদ এক তথ্যসম্ভার।

ব্যুরো লোকাল কোলাবরেটিভ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম টুল, একটি ক্রাউড-সোর্সড স্প্রেডশিট। এখানে ৮০টিরও বেশি তালিকা রয়েছে। এর কয়েকটি পৃষ্ঠপোষকতা করেছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম।

রিপোর্টারদের জন্য টুল নামের সাইটটি তৈরি করেছেন সামাস্থা সান। খুঁজে পাওয়া দুষ্কর এমন ই-মেইল অনুসন্ধান বা এই জাতীয় নতুন নতুন কৌশল নিয়ে গ্রাহকদের নিয়মিত ই-মেইল পাঠান তারা।

এসপিজে জার্নালিস্টস্ টুলবক্স: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টসের হয়ে এটি উপস্থাপন করেছেন মাইক রাইলি। এটি দরকারি অনলাইন টুলের একটি সংকলন।

ডেভিড ট্রাইলিং, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শোরেনস্টেইন সেন্টার-এর জার্নালিস্টস্ রিসোর্সের নিজস্ব লেখক। অনলাইনে গবেষণাপত্র খোঁজার উপায় নিয়ে তিনি লিখেছেন একাডেমিক গবেষণা কীভাবে খুঁজবেন।

ওয়ার্ল্ড ১৯২.কম-এ আছে আন্তর্জাতিক টেলিফোন ডাইরেক্টরির একটি তালিকা।

ভিপিএন এবং গোপনীয়তা বিষয়ে একাডেমিক গবেষণার জন্য ডিপ ওয়েব সার্চ ইঞ্জিনের ব্যবহার, নামের প্রবন্ধটি লিখেছেন ক্রিস স্টোবিং। এটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানী কম্পেয়ারিটেক। এর লক্ষ্য, ভিপিএনের মত প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় গ্রাহকদের যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।

ভিপিএন এবং গোপনীয়তা বিষয়ে পল বিশপের প্রবন্ধ ধাপে ধাপে নিরাপদে ডার্ক নেট এবং ডিপ ওয়েবে প্রবেশের নির্দেশিকা। এটিও প্রকাশ করেছে কম্পেয়ারিটেক।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেন এডুকেশন ডেটাবেজের তৈরি সংকলন, গুগল ছাড়াই গবেষণা: ৫৬টি নির্ভরযোগ্য, অদৃশ্য এবং বিস্তৃত রিসোর্স। এখানে পাবেন সব ধরণের অনলাইন শিক্ষণ ডিরেক্টরির বিবরণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক এনজিও দ্য ইঞ্জিন রুম তৈরি করেছে ইন্ট্রোডাকশন টু ওয়েব রিসোর্সেস। এর একটি অংশে বলা আছে, হারিয়ে যাওয়া থেকে তথ্যকে রক্ষার জন্য কীভাবে, কোথায় কপি করে রাখবেন।

অসাম পাবলিক ডেটাসেট হলো নানা ধরণের সরকারি তথ্যের বিষয়ভিত্তিক সংকলন।

রিসোর্সেস ফ্রম স্টার্টমি.কম একটি রিসোর্স সংকলন । বিনামূল্যের এই লাইব্রেরির পাঁচটি পেইজে আছে শত শত লিংক:

অ্যাডঅন: https://start.me/p/nRQNRb/addons

ডেটাবেইজ: https://start.me/p/QRENnO/databases

সার্চ ইঞ্জিন: https://start.me/p/b56G5Q/search-engines

টুল: https://start.me/p/wMdQMQ/tools

টিউটোরিয়াল: https://start.me/p/aLBELX/tutorials

ডেটা বেইজেস্ নামের ওয়েবপেইজে নানা ধরনের  লিঙ্ক পাবেন। যেমন, চুরি হয়ে যাওয়া সম্পত্তি, আবহাওয়া, হ্যাকিং, মিডিয়া, যানবাহন চলাচল, বিশ্লেষণ, ডোমেইন নিবন্ধন, ভবন, প্রাণী, ড্রোন, অর্থ সংক্রান্ত এবং আরো অনেক কিছু।

মেরি এলেন বেটসের বেটস ইনফো টিপস হলো, নতুন নতুন ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে জানার দারুন একটি উৎস। যেমন, সময় দিয়ে গুগল নিউজ সার্চ সীমিত করা এবং ফেসবুক গ্রাফ সার্চের মাধ্যমে ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা। লেখিকা হলেন বেটস ইনফরমেশন সার্ভিসেসের প্রতিষ্ঠাতা এবং দীর্ঘ দিনের ‘ইনফো গীক্’।

রিসার্চ বাজের গোয়িং ওল্ড স্কুল টু সল্ভ এ গুগল সার্চ প্রবলেম লেখাটি গুগল অনুসন্ধানের ফলাফল থেকে কিছু সাইট বাদ দেয়ার একটি পদ্ধতি বর্ণনা করে।

মেক ইউজ অফ নিয়মিত ভালো ভালো পরামর্শ দিয়ে থাকে, যেমন-চারটি বেনামী ওয়েব ব্রাউজার যা আপনার পরিচয় গোপন রাখবে।

সার্চ ইঞ্জিন জার্নাল প্রকাশ করেছে, ৬টি অনন্য কী-ওয়ার্ড রিসার্চ টুল, যা আপনার জানা প্রয়োজন।

এই টুলটি আপনার চারপাশের ক্যামেরাগুলোকে দেখিয়ে দেয় – এই লেখায় জানতে পারবেন আশপাশের অনিরাপদ সার্ভিল্যান্স ক্যামেরাগুলো কীভাবে খুঁজে বের করবেন।

জিডিপিআর পরবর্তী ডোমেইন নাম গবেষণা: এখানে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় সাধারণ ডেটা সুরক্ষা আইনের কারণে ডোমেইন নাম নিবন্ধন নিয়ে অনুসন্ধান কেন কঠিন হয়ে উঠেছে। এ ধরণের গবেষণায় এখন বিভিন্ন টুল এবং কৌশলের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলে মনে করে ওসিন্ট কিউরিয়াস ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা: সাংবাদিকদের যা যা জানা দরকার

English

ডিজিটাল স্পেসে সাংবাদিকদের জন্য হুমকি ক্রমেই বাড়ছে। একারণে অনলাইনে যোগাযোগ এবং তথ্য রক্ষায় তাদের বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া দরকার।

কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিপদের গভীরতা জেনেও সাংবাদিকরা কোনো ধরনের মৌলিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না।

“ছোট একটি পদক্ষেপ আনতে পারে বিরাট পরিবর্তন” শ্লোগানে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা গাইড প্রকাশ করেছে ররি পেক ফাউন্ডেশন। এই নির্দেশিকা তৈরির সময় বিষয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সাহায্য করেছে জিআইজেএন।

পিডিএন পালসের একটি সাক্ষাৎকারে ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ট্রিভোর টিম বলেন, “কেউ কখনো বলতে পারবেন না, তিনি শতভাগ নিরাপদ। কিন্তু কিছু মৌলিক পদ্ধতি অনুসরণ করে. যে কেউ ইন্টারনেটের ৯০ থেকে ৯৫  শতাংশ ব্যবহারকারীর তুলনায় নিজেকে আরো নিরাপদে রাখতে পারেন। এই নিরাপত্তা অনেক দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে ।”

কানাডা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাবের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবার্ট গুয়েরার সংক্ষিপ্ত সুপারিশ দিয়ে শুরু করছি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বেশির ভাগ সাংবাদিক ইন্টারনেট নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন না।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এনজিও কর্মী এবং সাংবাদিকদের “নিরাপদ যোগাযোগ এবং তথ্য ‍সুরক্ষার” উপর প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন গুয়েরা। তাঁর মতে, অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসাবে পরিচিতি পেলে, অনেকেই ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে আপনার ব্যক্তিগত এবং অনুসন্ধানী রিপোর্টের তথ্য চুরির চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “প্রথমে ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন, তারপর কায়দা-কানুনগুলো শিখুন।  এমন কিছু সহজ পদ্ধতি আছে, যা চাইলেই যে কেউ অনুসরণ করতে পারেন।”

গুয়েরার সুপারিশ:
ই-মেইল

যেসব দেশে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি হয়, সেখানে গেলে স্থানীয় ইমেইল সেবার উপর নির্ভর করবেন না।
নিজ বাড়িতে নিরাপদ ইমেইল সার্ভিস ব্যবহার করুন। যেমন, ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে “https” লেখা দেখলে ধরে নিতে পারেন ইমেইল সার্ভিসটি সুরক্ষিত। জিমেইল গতানুগতিক ভাবেই নিরাপদ। আর ইয়াহু ও ফেসবুকের সেটিংস্ বদলে নেয়া যায়। কেন সেটিংস বদলানো প্রয়োজন? কেননা, আপনি যদি বিনামূল্যের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন তবে বিনামূল্যের সাধারণ সফটওয়্যার দিয়েই আপনার মোবাইল কিংবা কম্পিউটার আয়ত্তে নিয়ে যেতে পারবে যে কেউই। সোর্সের সাথে যোগাযোগের সময় এটি বড় ধরণের সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গুয়েরার মতে, “ এটা অনেকটা, ভিড়ের মধ্যে দাড়িয়ে সোর্সের সাথে চিৎকার করে গোপন কথা বলার মত!”
যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, তারাই আপনার একাউন্ট নিরাপদে রাখবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনার অফিসের প্রযুক্তি ডেস্কের সাথে কথা বলুন। প্রয়োজনে  গুগল বা ইয়াহুতে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলুন, যাতে ইমেইলের নিরাপত্তার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকে।

পাসওয়ার্ড এবং টু-ফ্যাক্টর লগইন
আপনার যদি জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকে তবে সবাই আপনার ইউজারনেইম জানে। তার মানে, হ্যাকাদের শুধু আপনার পাসওয়ার্ড দরকার। তাই আত্মরক্ষার প্রথম ধাপ হল একটি তুলনামূলক জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড কীভাবে তৈরি করবেন, তা নিচে বলা হয়েছে। যারা আরো নিরাপত্তা চান, তাদের জন্য সুরক্ষার একটি অতিরিক্ত বা ঐচ্ছিক স্তর যোগ করেছে জিমেইল, টুইটার এবং ফেসবুক। একে বলা হয় টু-ফ্যাক্টর লগইন। যখন আপনি দুই ধাপে লগইন অপশনটি চালু করবেন তখন পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার ফোনে যাচাই কোডসহ একটি ক্ষুদে বার্তা যাবে। সেটি লেখার পরই আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাবে।
লগইন সেটিংস
কম্পিউটারে অন্তত একটি ডিফল্ট অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টসহ একাধিক ইউজার অ্যাকাউন্ট রাখুন। নিশ্চিত থাকুন যে দ্বিতীয় অ্যাকাউন্টে কোনো অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সুবিধা নেই। তারপর আপনার দৈনন্দিন কাজের জন্য ঐ লগইনটি ব্যবহার করুন। এরপর ম্যালওয়ার স্বয়ংক্রিয় ভাবে ইন্সটল হওয়ার চেষ্টা করলে, বার্তার মাধ্যমে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পাসওয়ার্ড চেয়ে আপনাকে সতর্ক করবে কম্পিউটার।
ম্যালওয়্যার

সন্দেহজনক অ্যাটাচমেন্ট থেকে সাবধান থাকুন, সফটওয়্যার আপডেট রাখুন এবং ভাল এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ইন্সটল করুন। টাকা দিয়ে কেনা লাগে, এমন সফটওয়্যার বেশি নিরাপত্তা দেয়।
আপনার চেনা কোনো ব্যক্তি বা দল থেকে মেইল এসেছে, কিন্তু ইমেইল অ্যাড্রেসের বানানে সামান্য হেরফের আছে – এমন কিছু দেখলেই সতর্ক হোন।
ম্যাক খুবই সুরক্ষিত এমন ভুলধারণা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাহীন পুরোনো কম্পিউটার আপনাকে আরো বড় বিপদে ফেলতে পারে।

গুয়েরা এখানে দরকারি কিছু টুলের বর্ণনা দিয়েছেন।

কম্পিউটার ভুতুড়ে আচরণ করছে – এমন দেখলেই সতর্ক হোন।  কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আছে যারা সাইবার হামলা শনাক্ত ও ট্র্যাকিংয়ের কাজে দক্ষ। বিপদ দেখলে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। এমন দলের মধ্যে:

অ্যাক্সেস-নাও, একটি ডিজিটাল সিকিউরিটি হেল্পলাইন পরিচালনা করে। তারা সাতটি ভাষায় ২৪ ঘন্টা সেবা দেয়।
নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের সহায়তায় কাজ করে।
প্যারিস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিপোর্টাস্ উইদাউট বর্ডারস্ সিপিজের মত একই ধরনের কাজ করে।
টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন ল্যাব ইন্টারনেট নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের উপর গবেষণা করে।

টিউটোরিয়াল ও টিপ শিট
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে গাইডের কোনো অভাব নেই। এদের বেশিরভাগই খুব জটিল। এদের সবই যে সাংবাদিকদের জন্য উপযোগী, তা-ও নয়। তবে সেখানে কিছু না কিছু পাবেন, যা আপনার কাজে আসবে। কাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আপনার বার্তাকক্ষ বা প্রতিষ্ঠানে এমন কাউকে দায়িত্ব দিন, যে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করবে। এখানে কিছু দরকারি রিসোর্স দেয়া হল:

পড়ুন, ২০১৯সালে জিআইজেএনের জন্য কাতারিনা সাবাদোসের লেখা প্রতিবেদন, অনলাইনে নিজেকে নিরাপদ রাখতে কোন টুল বেছে নেবেন। সাবাদোস একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং অরগানাইজড ক্রাইম এন্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের (ওসিসিআরপি) গবেষক।

নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের ব্যবহারিক গাইড নামের পাঠ্যক্রমটি তৈরি করেছে ওপেন নিউজ এবং বাজফিড ওপেন ল্যাব। ডেভেলপার, ডিজাইনার এবং ডেটা এনালিস্টদেরকে ওপেন জার্নালিজম প্রজেক্ট তৈরিতে সাহায্য করে ওপেননিউজ। আর বাজফিড ওপেন ল্যাব হলো বাজফিড নিউজের একটি কলা ও প্রযুক্তি বিষয়ক ফেলোশিপ প্রোগ্রাম।

সিউলে অনুষ্ঠিত আনকভারিং এশিয়া ২০১৮ সম্মেলনে ট্যাকটিক্যাল টেকনোলজি কালেক্টিভের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্রিস ওয়াকারের উপস্থাপনার ভিত্তিতে জিআইজেএন প্রকাশ করেছে  প্রত্যেক সাংবাদিকের জানা দরকার এমন চারটি ডিজিটাল নিরাপত্তা টিপস্।  নিজের, সোর্সের এবং রিপোর্টের সুরক্ষার জন্য সাংবাদিকরা কিছু মৌলিক পরামর্শ পাবেন এই লেখায়।

কারেন্ট ডিজিটাল সিকিউরিটি রিসোর্সের আগস্ট ২০১৭ সংস্করণে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মার্টিন শেলটন বলেন “সবচেয়ে সমৃদ্ধ ডিজিটাল সিকিউরিটি রিসোর্সও খুবই  দ্রুত পুরোনো হয়ে যায়।” টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন নিয়ে শেলটনের লেখাটি বেশ আলোচিত। সাংবাদিকরা কীভাবে ম্যালওয়্যার মোকাবেলা করবেন – তার আরেকটি অনবদ্য লেখা।

ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফউন্ডেশন নজরদারি থেকে আত্মরক্ষার একটি গাইড তৈরি করেছে। সেখানে নিরাপত্তার সাতটি প্রাথমিক ধাপসহ বেশকিছু পরামর্শ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে রয়েছে:

পাসওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহার:  শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরির জন্য ডাইসওয়্যার  ব্যবহার করুন।  একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করবেন না, এনক্রিপ্টেড ডেটাবেসে নিরাপদভাবে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের জন্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহারের কথা বিবেচনা করুন। নিরাপত্তা প্রশ্নের ক্ষেত্রে সহজেই বের করা যাবে এমন উত্তর পরিহার করুন, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন পদ্ধতি ব্যবহার করুন। আপনি যদি পাসওয়ার্ডটি কাগজে লিখে আপনার ওয়ালেটে রাখেন তবে প্রকৃত পাসওয়ার্ডের আগে এবং পরে নকল কিছু অক্ষর অবশ্যই লিখে রাখবেন এবং অ্যাকাউন্ট কখনোই স্পষ্টভাবে লেবেল করে রাখবেন না। একাধিক অ্যাকাউন্টের জন্য কখনোই একই ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস করা উচিত নয়।  আপনি কোন তথ্য রাখবেন আর কোনটি মুছে ফেলবেন তার একটি নীতিমালা তৈরি করুন।  এই নীতি যেন লিখিত থাকে এবং সবাই তা অনুসরণ করে।  “কখনো  আদালতে ডাক পড়লে এটাই আপনার জন্য সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।”
তথ্য সুরক্ষার প্রথমিক কথা: আপনার অ্যাকাউন্ট এবং স্ক্রিনসেভারের জন্য লগইন প্রয়োজন। আপনার পাসওয়ার্ডটি  শক্তিশালী করুন। নিশ্চিত করুন আপনার সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিরাপদ।
তথ্য এনক্রিপশন:  পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত তথ্য পাওয়া সরকারী সংস্থাগুলোর জন্য খুব একটা কঠিন নয়। তবে ভাল করে এনক্রিপ্ট করা তথ্য পাওয়া অনেক কঠিন। কোন কাজের জন্য কিভাবে এনক্রিপশন করবেন, সে বিষয়ে মৌলিক পরামর্শের একটি নির্দেশিকা রয়েছে এসএসডির।
ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা: অ্যান্টি-ভাইরাস সফ্টওয়্যার ব্যবহার করুন, সেগুলো আপডেট রাখুন এবং সন্দেহজনক লিঙ্ক এবং ফাইল এড়িয়ে চলুন।

ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের ইভা গালপারিনের পরামর্শ:

স্কাইপ ঠিক অতটা নিরাপদ নয় যতটা আপনি মনে করেন। আপনি কার সাথে যোগাযোগ করছেন, তা সরকার চাইলেই ট্র্যাক করতে পারে। এর পরিবর্তে গুগল হ্যাংআউটস বা নিরাপদ প্লাটফরম ব্যবহারের কথা বিবেচনা করুন।
টেক্সট ম্যাসেজ ব্যবহারও অনিরাপদ, কারণ তা এনক্রিপ্টেড নয়।

অয়্যার্ড ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে অয়ার্ড ডিজিটাল নিরাপত্তা গাইড, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের একটি কার্যকর উৎস।

মায়ানমার: সাংবাদিকদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা গাইড নামের নির্দেশিকাটি তৈরি করেছে সেন্টার ফর ল’ এ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিএলডি)। তাদের সহায়তা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (এইএমএস), ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউট এবং মায়ানমার প্রেস কাউন্সিল (এমপিসি)। এখানে সাংবাদিকদের জন্য যোগাযোগের সহজ ও সুলভ পদ্ধতি, ডিজিটাল হয়রানি, নজরদারি এবং হ্যাকিং ঠেকানোর ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য মিলবে।

“স্প্যাইক্র্যাফট: আপনার সোর্স গোপন রাখুন” শিরোনামের একটি প্রেজেন্টেশনে নিচের টিপস্ গুলো দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্টিভ ডোইগ:

ইন্টারনেটে সার্চের জন্য IXQuick ব্যবহার করুন। কেননা এই সার্চ ইঞ্জিনটি আপনার আইপি এ্যাড্রেস কিংবা অনুসন্ধানের বিষয় সেইভ করে রাখেনা।
স্পুফ কার্ড ব্যবহার করে কলার আইডি গোপন রাখুন। আন্তর্জাতিক কলের জন্যেও এটি ব্যবহার করতে পারেন।
যেখানে প্রযোজ্য নগদ টাকায় নো-কন্ট্রাক্ট সেল ফোন কিনুন।
এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের জন্য:

প্রিটি গুড প্রাইভেসি, শক্তিশালী এবং কার্যকর।
স্প্যাম মিমিক আপনার মেসেজগুলো এমনভাবে এনক্রিপ্ট করে, যেন দেখতে স্প্যাম মনে হয়।
উইব্রোট উইন্ডো ওয়াসার ব্যবহার করে ডিলিট করা ফাইলগুলো চিরতরে মুছে ফেলুন।
সরকারি অফিস থেকে ফাঁস হওয়া তথ্য পেলে অদৃশ্য জলছাপের বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের জন্য সিকিউরিটি ইন-এ-বক্স প্রকাশ করেছে ট্যাকটিকাল টেকনোলজি কালেক্টিভ। এটি নিয়মিত হালনাগাদ হয়। এতে আছে ১১টি বিষয়ে হাউ-টু-বুকলেট, ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এবং মোবাইল সিকিউরিটি নিয়ে হ্যান্ডস্-অন-গাইড।

নজরদারি থেকে আত্মরক্ষার চেক লিস্ট তৈরি করেছে দি ইন্টারসেপ্ট। এখানে নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিক, মধ্যবর্তী এবং উচ্চস্তরের পদক্ষেপ কী হবে, তা আলাদাভাবে বলা আছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নজরদারি থেকে আত্মরক্ষার উপায় নিয়ে লেখা এই প্রতিবেদনে ইন্টারসেপ্টের মিকাহ লি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাহী ক্ষমতার অবিরাম সম্প্রসারণের অর্থ হচ্ছে, “সামনে দীর্ঘ যুদ্ধ। কারিগরীভাবে যতই কঠিন হোক, আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই।

কানাডিয়ান জার্নালিস্টস্ ফর ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন বিপদে পড়া সাংবাদিকদের জন্য প্রকাশ করেছে আপনার ডিজিটাল জীবন সুরক্ষিত করুন।

এসএমএস প্রেরণ: অনেক বিশেষজ্ঞ সিগনাল কিংবা হোয়াটসআপ ব্যবহারের সুপারিশ করে। জার্নালিজম ডট কো ডট ইউকেতে সিগনাল সম্পর্কে আর্টিকেলটি দেখুন। আর  হোয়াটসআপ ব্যবহার নিয়ে ফার্স্ট ড্রাফটের আর্টিকেলটি দেখুন।

নাইট সেন্টার ফর জার্নালিজম পাঁচটি মৌলিক পরামর্শ তুলে ধরেছে এই লেখায়:

এইচডি এবং ফ্লাশ ড্রাইভ এনক্রিপশন- আপনার হার্ড ড্রাইভ এবং ইউএসবি ডিভাইসে একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখে  এনক্রিপশন। যাতে সেগুলো হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলেও ফাইল নিরাপদে থাকে।
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন- এটি অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাক্সেস, ইমেইল এবং সোসাল মিডিয়াতে ব্যবহার হয়। লগইনের জন্য এমন কিছু লাগে যা আপনি জানেন (আপনার পাসওয়ার্ড) এবং যা আপনাকে পাঠানো হয় (যেমন, আপনার ফোনে পাঠানো কোড )।
 সিগন্যাল- অ্যাপ্লিকেশনটি স্মার্টফোনের জন্য তৈরি।  আপনার সেল ফোনে বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করলেও, বুঝতে পারবেনা যে সেখানে কি লেখা রয়েছে।
 সিন্ক ডট কম- এখানে বিনামূল্যের ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবস্থা আছে। এটি তথ্য সংরক্ষণ করে। কিন্তু কি সংরক্ষণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা রাখেনা। আমরা সাধারণত যেসব ওয়েব সাইট ব্যবহার করি, তা ফাইল স্ক্যান করে,  একটি রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু সিন্ক তা করে না। এটি এনক্রিপ্টেড এবং আরো বেশি নিরাপদ, সেই সাথে ব্যবহার করাও সহজ।
 পিজিপি- পুরো নাম প্রিটি গুড প্রাইভেসি, ইমেইল এনক্রিপ্ট করার একটি মাধ্যম। এটি অনেকটা সিন্দুকের মত, তবে তার দুটি চাবি রয়েছে: একটি তালা লাগানোর জন্য এবং অন্যটি খোলার জন্য। তালা লাগানোর চাবিটি আপনি সবাইকে দেন যাতে করে সবাই আপনাকে ফাইল এবং বার্তাগুলো পাঠাতে পারে। কিন্তু তালা খোলার চাবিটি থাকবে শুধুমাত্র আপনার কাছেই।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রাইভেসি ফর জার্নালিস্টস নামের সাইটটি পরিচালনা করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ক্রিপ্টোঅস্ট্রেলিয়া। নতুন নতুন বিষয় নিয়ে লেখা প্রকাশ করা হয় তাদের ব্লগে। যেমন- ক্লাউডে গোপনীয়তার সাথে ফাইল সংরক্ষণ, নিরাপদ সার্চ ইঞ্জিন বাছাই এবং ইউএসবি ড্রাইভ এনক্রিপ্ট করা।

বাংলায় জিআইজেএনের এমন আরো রিসোর্স পেইজের সন্ধান পেতে ঘুরে আসুন অনুসন্ধানী রিসোর্স থেকে।২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত জেনিফার ভ্যালেনতিনো ডেভ্রিস এবং নাতাশা সিংগারের লেখা আপনার অবস্থান ট্র্যাক করা থেকে অ্যাপগুলোকে যেভাবে আটকাবেন। এই লেখায় তারা সেটিংস পরিবর্তনের সুপারিশ করেন।

কাভেহ ওয়াডেল মার্কিন ম্যাগাজিন আটলান্টিকে লিখেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে সাংবাদিকরা কিভাবে নিজেদের রক্ষা করবেন? অন্যান্য বিষয়ের সাথে, তিনি জটিল পাসওয়ার্ড তৈরির জন্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সফ্টওয়্যার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

নিউইয়র্ক ভিত্তিক অলাভজনক বার্তাকক্ষ প্রোপাবলিকার  জুলিয়া এঙ্গউইন যে নয়টি পরামর্শ দিয়েছেন তাতে তিনি লিখেছেন “প্রতি জানুয়ারিতে আমি ডিজিটাল টিউন-আপ করি…, এই বছর কাজটি বিশেষভাবে জরুরি বলে মনে হচ্ছে, কারণ আমরা এমন বিশ্বের মুখোমুখি হচ্ছি যেখানে আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নজিরবিহীন হুমকির সম্মুখিন।”

কম্প্যারিটেক-এর জন্য এইমি ও’ড্রিসকল ১১ টি পরামর্শ দিয়েছেন। “তার মধ্যে রয়েছে সাধারণ জ্ঞান থেকে শুরু করে আপ-টু-ডেট প্রযুক্তির ব্যবহার, যোগাযোগ এনক্রিপ্ট করা এবং জনপ্রিয় প্লাটফর্ম এড়িয়ে চলার মত কৌশল। এই পদ্ধতিগুলোর কিছু কিছু বাড়তি কাজ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এগুলোকে যখন একত্রিত করা হয়, তখন তথ্য হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়।”

“প্রযুক্তি বিশ্ব ভয় দেখাচ্ছে” এমন মন্তব্য করে ডেভিড ট্রিলিং সাংবাদিকদের জন্য দরকারি টিউটোরিয়ালের লিংকসহ একটি টিপ শিট তৈরি করেছেন। এটি প্রকাশ করেছে হার্ভার্ডস শোরেনস্টাইন সেন্টার।

আন্তর্জাতিক মিডিয়া উন্নয়ন বিষয়ক জার্মান প্রতিষ্ঠান ডিডাব্লিউ একাডেমি ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কিত ‍ লিংকের বিশাল একটি সংগ্রহ তৈরি করেছে।

আ ফার্স্ট লুক অ্যাট ডিজিটাল সিকিউরিটি – সাইবার নিরাপত্তার একটি ওপেনসোর্স বুকলেট – এটি গিটহাবে নিয়মিত আপডেট হয়।

অনুসন্ধানী গণমাধ্যমের জন্য উগান্ডা হাব একটি আর্টিকেলে পাঁচটি টিপস দিয়েছে, যা ডিডাব্লিউ একাডেমির সহায়তায় সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহার হয়।

এন্টি-ফিশিং অ্যান্ড ইমেইল হাইজিন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করেছে ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন। আপনার মোবাইল ফোন সুরক্ষায় আটটি টিপস্ নামের লেখায় একটি ইনফোগ্রাফি ব্যবহারের মাধ্যমে এর বর্ণনাও তুলে ধরেছে তারা। এখানে ফাউন্ডেশনের পরিচালক হারলো হোমসের একটি সাক্ষাৎকার রয়েছে। তিনি বলেছেন, “প্রতিটা দিনই বিচ্ছু-ভর্তি একটি গামলার মত।”

ডিজিটাল ফার্স্ট এইড কিট “মানবাধিকার আইনজীবী, ব্লগার, অধিকার কর্মী এবং সাংবাদিকরা – যারা নিজেরাই আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে তাদের জন্য ‘সেল্ফ-ডায়াগনস্টিক টুলসের’ একটি সেট। হুমকিতে থাকা ব্যক্তির সহায়তায় যিনি প্রথমে এগিয়ে আসেন তার জন্যও পরামর্শ আছে বইটিতে। ডিজিটাল ডিফেন্সারস্ পার্টনারশিপ এবং এক ডজনেরও বেশি এনজিও একত্রে এটি তৈরি করেছে।

দি সোর্সে প্রকাশিত জনাথন স্ট্রের লেখা সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা, প্রথম খন্ড: মৌলিক বিষয়  এবং দ্বিতীয় কিস্তি, সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা, দ্বিতীয় খন্ড: হুমকি মডেলিং।

টেড হান এবং কুইন নর্টনের লেখা সংবেদনশীল নথিপত্র প্রকাশের সময় সোর্সের সুরক্ষা, সাবটাইটেল: “মেটাডেটা ঘষামাজা, তথ্য যথাযথভাবে সম্পাদনা, মাইক্রোডট এবং আরো অনেক কিছু অনুসন্ধান করুন।”

ররি পেক ট্রাস্টের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক লেখায় ডিজিটাল নিরাপত্তার নানান দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের পাওয়ার পয়েন্ট উপাস্থাপনা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা টুলস্।

সোসাইটি ফর প্রফেশনাল জার্নালিস্টস্ কর্তৃক প্রকাশিত সাংবাদিকের টুলবক্সে অনেক রিসোর্সের লিঙ্ক রয়েছে।

সহজ প্রক্রিয়ায় একটি ছোট অনলাইন প্রোফাইল রক্ষনাবেক্ষন বিষয়ে সিকিউরিটি ইন এ বক্স দিচ্ছে ভিডিও টিউটোরিয়ালের একটি সিরিজ।

দি কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস্ এর সাংবাদিকতা সুরক্ষা গাইডের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর তৃতীয় অধ্যায় হলো প্রযুক্তি নিরাপত্তা।

রিপোর্টারস্ উইদাউট বর্ডারস্ পাঁচটি ভাষায় অনলাইন সার্ভাইভ্যাল কিট নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করেছে।

ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড, ফ্রিডম হাউজ, গ্লোবাল ভয়েজ, এবং ইন্টারনিউজ সহ প্রায় ডজন খানিক মিডিয়া সম্পর্কিত এনজিও ডিজিটাল ফার্স্ট এইড কিট নামে একটি গাইড তৈরি করেছে।

সাংবাদিকদের জন্য তথ্য নিরাপত্তা নামে ৮০ পৃষ্ঠার একটি হ্যান্ডবুক আছে লন্ডন ভিত্তিক সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের।

সাংবাদিকদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে ইউনেস্কোর রিপোর্টে, ১২টি সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে – যেগুলো হলো “অবৈধ অথবা অবাধ ডিজিটাল নজরদারি, অবস্থান ট্র্যাকিং এবং লক্ষ্যের ব্যাপারে কোন ধারণা ছাড়াই সফ্টওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের অবৈধ ব্যবহার”। আপনি কিভাবে নিজেকে এবং আপনার তথ্যকে রক্ষা করবেন সে বিষয়ে টিপস্ পাবেন এখানে।

ফেসবুকের ২০টি ভাষায় সাংবাদিকদের জন্যে নিরাপত্তা টিপস্ রয়েছে।

গাইড টু প্রাইভেসি রিসোর্সেস ২০১৯ এই নির্দেশিকাটি বিনামূল্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অ্যাপ, টুলস্ এবং সেবা সমূহের বিস্তৃত একটি তালিকা, যা এর ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের ডিভাইসে প্রয়োগ করতে পারে। এলএলআরএক্স (ল’ এন্ড টেকনোলোজি রিসোর্সেস্ ফর লিগাল প্রফেসনালস্)-এর জন্য এটি সংকলিত করেছেন মার্কাস পি জিলম্যান।

আ মাদারবোর্ড গাইড টু নট-গেটিং হ্যাক্ড, এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে মাদারবোর্ডের একটি বিস্তৃত নির্দেশিকা। রয়েছে মোবাইল নিরাপত্তার বিষয়ও।

আ ডিআইওয়াই গাইড টু ফেমিনিস্ট সাইবার সিকিউরিটি, লিখেছেন নোয়াহ কেলি, যিনি হ্যাক*ব্লুসুমের মাধ্যমে ‘সাইবার ফেমিনিজম’ বিষয়টি উন্মোচন করেছেন।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোম্পানি ইএসইটি-এর স্টিফেন কোব সাংবাদিক এবং সংবাদ মাধ্যমের জন্য সাইবার নিরাপত্তা নামের লেখায় এ সংক্রান্ত সাইট ও রিসোর্সের তালিকা দিয়েছেন।

২০১৭ সালে গাবোর সাটমারি লিখেছেন সাংবাদিকদের জন্য মৌলিক যোগাযোগ সুরক্ষা। এতে আছে ডকুমেন্ট থেকে মেটাডেটা ঘষামাজা, তাৎক্ষনিক বার্তা প্রেরণ, নিরাপদে ফাইল শেয়ার এবং যোগাযোগের মত বিষয়।

মোজো ওয়ার্কিং: দেখে শুনে কিনুন আপনার নতুন স্মার্টফোন

দামী অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন এর মধ্যে কি বড় ধরণের তফাৎ রয়েছে? উত্তর হলো – কিছুটা। তুলনামূলক সস্তা অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো কি ভালো? অবশ্যই। পুরনো ফোনটি দিয়ে কি আমার চলবে? যদি না হয়, তাহলে কোন ফোনটি আমার কেনা উচিৎ?

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার যত ম্যানুয়াল

English

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা

ডেটা সাংবাদিকতা

শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ

অন্যান্য দরকারী গাইড

আপনি কি টিপস, টুলস এবং টিউটোরিয়াল খুঁজছেন? নিচের সহায়িকাগুলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে। পাবেন সারা বিশ্ব থেকে সংগ্রহ করা কেস স্টাডি আর উদাহরণ। গাইডগুলোর বেশীরভাগই পাওয়া যায় বিনামূল্যে।

চাইলে চীনা এবং স্প্যানিশ ভাষার গাইডও পেতে পারেন। আর আপনার কাছে শেয়ার করার মত কিছু থাকলে আমাদের ইমেইল করুন এবং জানান।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ম্যানুয়াল: এটি প্রণয়ন করেছে জার্মান ফাউন্ডেশন কনরাড অ্যাডেনোয়ার স্টিফটুং। বেশকিছু কেস স্টাডি ও অনুশীলনসহ এটি প্রথম বের করা হয় মূলত আফ্রিকার সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিকতার হ্যান্ডবুক হিসেবে। তবে হ্যান্ডবুকটির সর্বশেষ সংস্করণ ডিজাইন করা হয়েছে সেইসব সাংবাদিকদের জন্যে যারা কাজ করেন সম্পদের সীমাবদ্ধতা, দমনমূলক গণমাধ্যম আইন এবং স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে – এমন পরিবেশে। এটি বাহাসা ও মঙ্গোলীয় ভাষায় অনুদিত হয়েছে। এই গাইডের একটি ইন্টার‌অ্যাক্টিভ ওয়েবসাইটও রয়েছে।

ডিগিং ডিপার: বলকান অঞ্চলের অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য নির্দেশিকা: এটি প্রকাশ করেছে বলকান ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং নেটওয়ার্ক (বিআইআরএন)। কীভাবে নথিপত্র এবং তথ্য-উপাত্তের গভীরে যেতে হয়, এই সহায়িকায় সেদিকেই দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। বইটি লিখেছেন শীলা করোনেল। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাবিল সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম এর পরিচালক। এখানে পাবেন অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের বেশ কিছু টিপস ও কলা-কৌশল। ভাষা: ইংরেজি, ম্যাসিডোনীয়।

ফলো দ্যা মানি: এ ডিজিটাল গাইড টু ট্র্যাকিং করাপশন: বিনামূল্যের এই হ্যান্ডবুক প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর জার্নালিস্টস। ভাষা: ইংরেজি, রাশিয়ান, জর্জীয়

গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কেসবুক: এই কেসবুকে প্রেক্ষাপটসহ বেশকিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের উদাহরন আছে। সেখানে সাংবাদিকরা কীভাবে গবেষণা করেছেন এবং প্রতিবেদন লিখেছেন তাও তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। ভাষা: ইংরেজি

গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম: স্ট্র্যাটেজিস ফর সাপোর্ট: এই নির্দেশিকায় একটি জরিপ ও আলোচনার উপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাপী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিস্তার সম্পর্কে লিখেছেন জিআইজেএনের ডেভিড ই কাপলান। এখানে অলাভজনক অনুসন্ধানী উদ্যোগের কাঠামো এবং অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে টিপস রয়েছে। আর পাবেন বিশ্বব্যাপী অনুসন্ধানী দলগুলোর একটি তালিকা। এটি প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া অ্যাসিসটেন্স-সিআইএমএ। ভাষা: ইংরেজি

গাইড টু ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম: একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদক কোথায় তার রিপোর্টের বিষয়বস্তু খুঁজে পাবেন,  কীভাবে নিবেন অনুসন্ধানী সাক্ষাৎকার, কোথায় পাবেন দরকারী নথিপত্র, গল্পের কাঠামো তৈরী করবেন কীভাবে আর তাকে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিবেন কেমন করে? একটি অনুসন্ধানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায়ে যা যা করতে হয়, তার সবই তুলে ধরা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিসের ২০০৭ সালের এই সিরিজে। ভাষা: ইংরেজি

হিডেন সিনারিও, লিখেছেন লুক সেনজারস এবং মার্ক লি হান্টার [কেনার জন্য পাওয়া যাচ্ছে সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমে]। এতে দেখানো হয়েছে, গল্প বলার ধরণ কীভাবে ঠিক করে দেয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় ফোকাস এবং কাঠামো কী হবে। ভাষা: ইংরেজি।ইন্ট্রোডাকশন টু ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং, লিখেছেন ব্রান্ট হাউস্টন (পয়েন্টার নিউজ ইউনিভার্সিটি)। এই স্ব-পরিচালিত অনলাইন কোর্সে খরচ পড়বে ২৯.৯৫ মার্কিন ডলার।

ইনভেস্টিগেটিং রিলিজিয়ন: অ্যান ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার্স গাইড, যৌথভাবে লিখেছেন ডেবরা এল ম্যাসন এবং অ্যামি বি হোয়াইট [বিক্রি করছে আইআরই]। ভাষা: ইংরেজি

ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ম্যানুয়াল: প্রকাশ করেছে ফোরাম ফর আফ্রিকান ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার্স (এফএআইআর)। এতে পাবেন অনুসন্ধানী টিপসের রীতিমত বিশাল এক ভান্ডার। আরো আছে স্বাস্থ্যখাত, নৈতিকতা এবং আফ্রিকার বেশকিছু কেস স্টাডি নিয়ে বিশেষ অধ্যায়। ভাষা: ইংরেজি, ফরাসী, পর্তুগীজ

ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট’স গাইড টু কোম্পানী অ্যাকাউন্ট, লিখেছেন রাজ বৈরোলিয়া। প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম (ক্রয়ের জন্য পাওয়া যাচ্ছে)। নির্দেশিকাটি সেইসব অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য যারা কোম্পানি অ্যাকাউন্ট (মূলত ট্রেডিং কোম্পানী) কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে একটি পূর্নাঙ্গ ধারণা পেতে চান।

ইনভেস্টিগেটিভ অনলাইন সার্চ: ২০১১ সালে এটি প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম। এখানে আলোচনা করা হয়েছে অনলাইনে কীভাবে তথ্য খুঁজতে হয় এবং তার সত্যতা যাচাই করতে হয়। ভাষা: ইংরেজি

ইনভেস্টিগেটিভ ফটোগ্রাফি: সাপোর্টিং এ স্টোরি উইথ পিকচার্স, যৌথভাবে লিখেছেন সিজে ক্লার্ক, ড্যামিয়েন স্প্লিটারস এবং জুলিয়েট ফার্গুসন [ কিনতে পারবেন সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম থেকে]। ভাষা: ইংরেজি

ইনভেস্টিগেটিভ রিপোটার্স হ্যান্ডবুক, পঞ্চম সংস্করণ, লিখেছেন ব্রান্ট হাউস্টন এবং ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার্স অ্যান্ড এডিটর্স। দুর্নীতি ও কেলেংকারি উন্মোচন সম্পর্কিত এই ধ্রুপদি নির্দেশিকা পাওয়া যাচ্ছে আইআরই বিক্রয় কেন্দ্রে। ভাষা: ইংরেজি

ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং: এ টুলকিট ফর রিপোর্টার্স: ২০০৯ সালে একশ’ সাত পৃষ্ঠার বইটি প্রকাশ করে ইউএস সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজ। এতে অর্থায়ন করে ইউএসএইড এবং আল-মাসরি আল-ইয়ুম ফর জার্নালিজম অ্যান্ড পাবলিকেশন। ভাষা: ইংরেজি

ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং ইন ইমার্জিং ডেমোক্রেসিস: মডেলস, চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড লেসনস লার্ন্ড: এটি অরগানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট, ওসিসিআরপির ড্রিউ সুলিভানের লেখা একটি নিবন্ধ। এখানে তিনি তুলে ধরেছেন কীভাবে একটি প্রকল্প ডিজাইন করতে হয়, তার গুণগত মান ঠিক রাখার উপায়, সেখানে কেন সম্পাদক প্রয়োজন, এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তাসহ অনেক টিপস। এটি প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া অ্যাসিসট্যান্স। ভাষা: ইংরেজি

ম্যানুয়াল ফর আরব জার্নালিস্টস অন ফ্রিডম অব ইনফরমেশন এন্ড ইনভেস্টিগেটিভ রিপোটিং: জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থায়নে আর্টিকেল নাইনটিন প্রকাশিত ২১ পৃষ্ঠার হ্যান্ডবুকটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। ভাষা: ইংরেজি, আরবি

রেইজিং হেল: এ সিটিজেন’স গাইড টু দ্যা ফাইন আর্ট অব ইনভেস্টিগেশন (পিডিএফ): বিশ্বের প্রথম অলাভজনক অনুসন্ধানী রিপোর্টিং কেন্দ্র দি সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং এই নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকার উদ্দেশ্য হলো কীভাবে “অনুসন্ধানের মাধ্যমে দুর্নীতি ও ক্ষমতার দুর্বলতা উন্মোচন করতে হয়,” সে বিষয়ে সাধারন মানুষকে প্রশিক্ষিত করা। ভাষা: ইংরেজি

রিসার্চ ইন প্র্র্যাকক্টিস: গেট ইনফরম্যান্টস টু টক, গেট হার্ড ফ্যাক্টস এন্ড আনকভার অ্যাবিউজেস: লিখেছেন ক্যাথরিন বস এবং ডমিনিক স্ট্রেবেল (কেনার জন্য পাওয়া যাচ্ছে)। ভাষা: জার্মান।

স্টোরি বেইজড ইনকোয়ারি: অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের একটি বিস্তৃত নির্দেশিকা। লিখেছেন মার্ক হান্টার। তার সাথে ছিলেন ড্রিউ সুলিভান, পিয়া থসডেন, রানা সাবাগ এবং লুক সেনজার্স। ইউনেস্কোর অর্থায়নে প্রণীত এই ম্যানুয়ালে কেস স্টাডির মাধ্যমে গবেষণা, লেখা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রচারের কার্যকর পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ভাষা: ইংরেজি; আরবি; চীনা; ফরাসি; রাশিয়ান; পর্তুগিজ; স্প্যানিশ।

দি স্টোরি টেলস দ্যা ফ্যাক্টস, লিখেছেন মার্ক লি হান্টার এবং লুক সেনজারস, (সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম থেকে কিনতে পারবেন)। এখানে গতিশীল, পাঠক টানতে সক্ষম এবং শক্তিশালী উপসংহারসহ বর্ণনামূলক প্রতিবেদন কীভাবে লিখতে হয়, তার কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা: ইংরেজি।

আন্ডারকভার রিপোর্টিং, এটি কোনো ম্যানুয়াল নয়, বরং একটি অনলাইন ডাটাবেজ এবং রিসোর্স সেন্টার। আন্ডারকাভার রিপোর্টিং: দ্যা ট্রুথ অ্যাবাউট ডিসেপশন বইয়ের জন্য করা গবেষণা থেকে এর জন্ম। সাইটে একশ’ বছরেরও বেশি পুরনো উদাহরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আ ওয়াচডগ’স গাইড টু ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং: এখানে আফ্রিকার রিপোর্টিংকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ২০০৫ সালের এই ইংরেজি ম্যানুয়ালে দৃষ্টি দেয়া হয়েছে ” অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার উত্তম চর্চা এবং অনুসন্ধানে আগ্রহী সাংবাদিকদের জন্য বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ” এর ওপর।” ভাষা: ইংরেজি

এক্সপোজিং দ্যা ট্রুথ: আ গাইড টু ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং ইন আলবেনিয়া: ৭৩ পৃষ্ঠার এই ম্যানুয়ালে রয়েছে বেশকিছু কেস স্টাডি, কার্যকর টিপস এবং কৌশল। এটি প্রকাশ করেছে ওএসসিই এবং বলকান ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং নেটওয়ার্ক। ভাষা: আলবেনীয়, ইংরেজি।

স্ক্রিপ্ট ফর ইনভেস্টিগেশন: লিখেছেন মার্ক লি হান্টার ও লুক সেনজারস। এটি প্রকাশ করেছে জার্মানির নেটওয়ার্ক রিসার্চ। ভাষা: জার্মান

দি নিউজ ইনিশিয়েটিভ, গুগলের এই উদ্যোগে রয়েছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিষয়ক নয়-ধাপের কোর্স এবং গুগল টুল ব্যবহারের উপায়।

রিপোর্টিং ইন ইনডিজেনাস কমিউনিটিস: প্রকাশ ২০১২ সালে। লিখেছেন কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের প্রতিবেদক ডানকান ম্যাককিউ। আন্তর্জাতিকভাবে আদিবাসী জনগোষ্ঠী কাভার করার নানান প্রায়োগিক দিক সম্পর্কে জানা যাবে এখান থেকে। আরো জানতে দেখুন রিপোর্টারের চেকলিস্ট, একটি ব্লগ এবং ২০১৮ সালে ম্যাককিউর দেয়া একটি সাক্ষাৎকার ।

ডেটা সাংবাদিকতা
কম্পিউটার অ্যাসিসটেড রিপোর্টিং: আ কম্প্রিহেনসিভ প্রাইমার: লিখেছেন ফ্রেড ভ্যাল্যান্স-জোনস ও ডেভিড ম্যাককি [ক্রয়ের জন্য পাওয়া যাচ্ছে।) ভাষা: ইংরেজি

কম্পিউটার-অ্যাসিস্টেড রিপোর্টিং: আ প্র্যাকটিসাল গাইড: ব্রান্ট হাউস্টন লিখিত নির্দেশিকাটির চতুর্থ সংস্করণ এখন বাজারে কেনার জন্য পাওয়া যাচ্ছে। ভাষা: ইংরেজি

কম্পিউটার অ্যাসিসটেড রিসার্চ: ইনফরমেশন স্ট্র্যাটিজিস এন্ড টুলস ফর জার্নালিস্টস: লিখেছেন নোরা পল এবংক্যাথলিন এ হানসেন (আইআরই থেকে কিনতে পারবেন)। ভাষা: ইংরেজি

ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিজম এডুকেশন কনসোর্টিয়াম: কম্পিউটার অ্যাসিসটেড এবং ডেটাভিত্তিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন পাঠ্যসূচির লিঙ্ক ও বর্ণনা (বর্ণের ক্রমানুসারে বিশ্ববিদ্যালয়, পরে অধ্যাপকের নাম)।

ডেটা জার্নালিজম, হ্যান্ডবুকটি সেই সাংবাদিকদের জন্য, যারা সংখ্যাকে একের পর এক প্রশ্ন করে উত্তর বের করার দক্ষতা অর্জন করতে চায়। লিখেছেন, এলেনা ইগাওহারি এবং সিনথিয়া ও’মুরচু। প্রতিবেদনের তৈরির জন্য সংখ্যা বের করা ও তা ব্যবহারের মৌলিক কৌশল জানা যাবে এই ম্যানুয়াল থেকে। এটি প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং। ভাষা: ইংরেজি

ডেটা জার্নালিজম হ্যান্ডবুক হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক, সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা, যার সাথে কয়েক ডজন ডেটা সাংবাদিকতা বিশেষজ্ঞ জড়িত। এখানে সংজ্ঞা, কেস স্টাডি এবং টিপসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে তথ্য-উপাত্ত প্রাপ্তি, তার ব্যবহার এবং বিশ্লেষণের উপায়। এটি ইউরোপীয় সাংবাদিকতা কেন্দ্র এবং ওপেন নলেজ ফাউন্ডেশনের একটি উদ্যোগ। ভাষা: আরবি, ইংরেজি, ফরাসী, রুশ এবং স্প্যানিশ। হ্যান্ডবুকটি আরো কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে।

ফ্লোয়িং ডেটা নির্মাণ করেছেন সংখ্যাতত্ত্ববিদ নাথান ইয়াউ। তিনি ডেটা পয়েন্টস: ভিজ্যুয়ালাইজেশন দ্যাট মিনস সামথিং এবং ভিজুয়ালাইজ দিস: দি ফ্লোয়িং ডাটা গাইড টু ডিজাইন, ভিজুয়ালাইজেশন এন্ড স্ট্যাটিসটিকস বই দুটির লেখক। ডেটা শিক্ষণ বিভাগে তার টিউটোরিয়াল, বই এবং তথ্য সম্পর্কিত নির্দেশিকাগুলোর লিঙ্ক রয়েছে।

ম্যাপিং ফর স্টোরিস: আ কম্পিউটার অ্যাসিসটেড রিপোর্টিং গাইড: যৌথভাবে লিখেছেন জেনিফার লাফলুর এবং অ্যান্ডি লেহরেন (আইআরই থেকে কেনা যাবে)। ভাষা: ইংরেজি

নোডএক্সএল ফর নেটওয়ার্ক এনালিসিস হচ্ছে নেটওয়ার্ক  গ্রাফ (নোডএক্সএল) অনুসন্ধানের জন্য বিনামূল্যে এক্সেল এবং ওপেন-সোর্স টেমপ্লেট ব্যবহারের প্রাথমিক পাঠ। এটি সংকলন করেছেন বিজ্ঞান বিষয়ক সাংবাদিক পিটার আলদুস।

প্রিসিশিন জার্নালিজম: অা রিপোর্টার্স ইন্ট্রোডাকশন টু সোশ্যাল সায়েন্স মেথডস, লিখেছেন ফিলিপ মায়ার (ক্রয়ের জন্য পাওয়া যাচ্ছে)। ভাষা: ইংরেজি

সাধারণ ডেটা সাংবাদিকতার রিসোর্স সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য দেখুন, আমাদের ডেটা জার্নালিজম রিসোর্স পেইজ।

শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ
মডেল কারিকুলা ফর জার্নালিজম এডুকেশন: উন্নয়নশীল এবং উদীয়মান গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিকতা শিক্ষাকে লক্ষ্য করে প্রণীত একটি নির্দেশিকা। ইউনেস্কোর এই ম্যানুয়ালে অনুসন্ধানী রিপোর্টিংসহ ১৭টি কোর্সের পাঠক্রম রয়েছে – যা প্রতিটি দেশের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। ভাষা: ইংরেজি ; ফরাসি ; স্প্যানিশ; রুশ; আরবি; চীনা; নেপালি; পর্তুগিজ; ফার্সি।

ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিজম এডুকেশন কনসোর্টিয়াম: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিভিন্ন কোর্সের বর্ণনা ও পাঠ্যক্রম। (বর্ণমালা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়, পরে অধ্যাপকের নাম)।

দ্য জেমস ডব্লিউ ফোলে জার্নালিজম সেইফটি গাইড: কলেজ পর্যায়ে যারা সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ পড়ান, তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে পাঁচ সেশনের এই পাঠ্যসূচি। সিরিয়ায় ২০১৪ সালের ১৯ আগস্ট নিহত হন সাংবাদিক জেমস ফোলে। তার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মানের অংশ হিসেবে, বিশদ এই কোর্স পরিকল্পনা তৈরি হয়। এখানে আছে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা এবং অনেক রেফারেন্স। আলোচনার পাশাপাশি বর্ণনা করা হয়েছে দৃশ্যকল্পও। এই পাঠ্যক্রমে প্রবেশের পাসওয়ার্ড FoleySafety।

বেটার নিউজ: আমেরিকান প্রেস ইনস্টিটিউট পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট, যেখানে রয়েছে অনেক রিসোর্স।

এইজেএমসি টাস্ক ফোর্স ফর ব্রিজেস টু দ্য প্রোফেশন্স রিপোর্ট ২০১৭) এসোসিয়েশন ফর এডুকেশন ইন জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন-এইজেএমসি থেকে একাডেমিয়া ও সাংবাদিক, উভয়ের সহযোগিতায় তৈরী ২০১৭ সালের একটি প্রতিবেদন।

অবজারভেশন্স অন হাউ উই টিচ ড্রোন জার্নালিজম: আকাশ থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে বইটি লিখেছেন মিসৌরি স্কুল অব জার্নালিজম এর পরিচালক জাড স্লিভকা।

কলাম্বিয়া সাংবাদিকতা স্কুলের অ্যালগরিদম কোর্স: সেখানে অ্যালগরিদম সংক্রান্ত পাঠ দান করেন প্রফেসর জোনাথন স্ট্রে।

হ্যাকিং দ্য কারিকুলাম: হাউ টু টিচ ডেটা রিপোর্টিং ইন জার্নালিজম স্কুলস: ২০১৮ সালে এই রিপোর্ট প্রকাশ করে আমেরিকান প্রেস ইনস্টিটিউট। তারা বলেছে “সাংবাদিকতা স্কুলের জন্য আমাদের প্রধান সুপারিশ হলো ডেটা ও কম্পিউটেশন চর্চাকে সকল শিক্ষার্থীর জন্য মৌলিক দক্ষতা হিসাবে গণ্য করতে হবে।”

দ্য ফিল্ড গাইড টু সিকিউরিটি ট্রেনিং হলো ওপেন নিউজ ও বাজফিড ওপেন ল্যাব পরিচালিত একটি পাঠ্যক্রম। ডেভেলপার, ডিজাইনার ও ডেটা বিশ্লেষকদেরকেউন্মুক্ত ও সহযোগিতামূলক সাংবাদিকতা প্রকল্পে অংশ নিতে সাহায্য করে ওপেন নিউজ। আর বাজফিড ওপেন ল্যাব হলো বাজফিড নিউজের কলা ও প্রযুক্তি বিষয়ক ফেলোশিপ প্রোগ্রাম।

ডিগ ডিপ অ্যান্ড এইম হাই: ২০০০ সালে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর জার্নালিজম অনুসন্ধানী কৌশল শেখানোর জন্য এই নির্দেশিকা প্রকাশ করে। ভাষা: ইংরেজি

অন্যান্য দরকারী গাইড
এমপাওয়ারিং ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া: ইউএস এফোর্টস টু ফস্টার আ ফ্রি প্রেস অ্যান্ড ওপেন ইন্টারন্টে অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড: গণমাধ্যম উন্নয়নের একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যাবে এই নির্দেশিকায়। কাজে আসবে মূলত ননপ্রফিট মিডিয়া এবং এনজিওদের, বিশেষ করে যারা উন্নয়নশীল ও গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোতে কাজ করে। এর সাতটি মূল অংশ জুড়ে রয়েছে: অর্থায়ন, ডিজিটাল মিডিয়া, টেকসই, গণমাধ্যম আইন, নিরাপত্তা, শিক্ষা, এবং পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন। ভাষা: ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি।

সাংবাদিকদের জন্য গুগল অনুসন্ধান টিপস: সংক্ষিপ্ত, সহজ এই নির্দেশিকায় পাবেন কীভাবে গুগল সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে আরো কার্যকর গবেষণা করা যায়। এটি সংকলন করেছেে Experiseiseinder.com. জার্নালিস্ট সার্ভাইভাল গাইড: বৈরুত ভিত্তিক সামির কাসির ফাউন্ডেশনের তৈরী করা অ্যানিমেটেড এই নির্দেশিকা প্রাথমিকভাবে যুদ্ধ ও সংঘাতময় এলাকায় কর্মরত সাংবাদিক এবং ত্রাণকর্মীদের সহায়তার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এখানে ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কিত টিপস এবং নিজের ট্র্যাক লুকোনোর পদ্ধতি সম্পর্কেও ধারনা দেয়া হয়েছে। ভাষা: ইংরেজি, আরবি

লিগ্যাল লিক্স টুলকিট: সাংবাদিকরা কীভাবে সরকারী তথ্যে প্রবেশ করবেন তার একটি নির্দেশিকা। আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে সরকারী নথিপত্র পাওয়ার মৌলিক কৌশলগুলো তুলে ধরা হয়েছে ৭৫ পাতার এই বইয়ে। এটি প্রণয়ন করেছে অ্যাক্সেস ইনফো ইউরোপ এবং পূর্ব ইউরোপ রিপোর্টিং নেটওয়ার্ক এস-ওএসটি। ইংরেজি ও ইতালীয়সহ আটটি পূর্ব ইউরোপীয় ভাষায় এটি পাওয়া যায়।

রিপোর্টিং অ্যাট্রোসিটিজ: আ টুলবক্স ফর কাভারিং ভায়োলেন্ট কনফ্লিক্ট অ্যান্ড অ্যাট্রোসিটি: ৬১ পাতার বিশদ এই নির্দেশিকায় সংঘাতের প্রকৃতি, কীভাবে এটি কাভার করা যায় এবং এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাংবাদিকের ভূমিকার কী হবে, সেদিকে সজর দেয়া হয়েছে। লিখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবাদিক পিটার ডু টোইট এবং প্রকাশ করেছে ইন্টারনিউজ। ভাষা: ইংরেজি

রিপোর্টিং অন করাপশন: আ রিসোর্স টুল ফর গভর্নমেন্টস অ্যান্ড জার্নালিস্টস: মাদক ও অপরাধ বিষয়ক জাতিসংঘ অফিসের ১১৭ পৃষ্ঠার এই গাইড বইতে আমলাতান্ত্রিক আলোচনা এবং জাতিসংঘে হওয়া কথাবার্তাই বেশী। তবে এতে দরকারী কিছু কেস স্টাডি এবং রিসোর্সও পাবেন। অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে সোর্সের সুরক্ষা, তথ্য অধিকার এবং স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

সীমো সেফটি নেট ম্যানুয়াল: গাইডলাইনস ফর জার্নালিস্টস ইন এক্সট্রাঅর্ডিনারি অর ইমারজেন্সি সিচুয়েশন্স: অস্বাভাবিক বা জরুরী পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা কী করবেন, তা রয়েছে এই নির্দেশিকায়। সাউথ ইস্ট ইউরোপ মিডিয়া অর্গানাইজেশন-সীমো প্রকাশিত নিরাপত্তা ম্যানুয়ালটি এই অঞ্চলের গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষার জন্য একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। ভাষা: ইংরেজী এবং অনুরোধের ভিত্তিতে সার্বিয়, ইতালীয়, রোমানিয়, গ্রিক, তুর্কি, বুলগেরিয়, ক্রোয়েশীয় এবং স্লোভেনিয়।

ট্রাজেডিস এন্ড জার্নালিস্টস: সহিংসতা নিয়ে রিপোর্টিংয়ের ভিকটিম এবং প্রতিবেদক উভয়ের সুরক্ষায় কৌশল বলা আছে এই নির্দেশিকায়। ৪০ পাতার এই প্রকাশনায় সাংবাদিক, চিত্রগ্রাহক এবং সম্পাদকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস রয়েছে অনেক। ডার্ট সেন্টার ফর জার্নালিজম অ্যান্ড ট্রমা প্রকাশিত গাইডটি লিখেছেন জো হাইট এবং ফ্র্যাঙ্ক স্মিথ। ভাষা: ইংরেজি, স্প্যানিশ, চীনা।

ভেরিফিকেশন হ্যান্ডবুক: এটি প্রকাশ করেছে  ইউরোপিয়ান জার্নালিজম সেন্টার। মূলত সাংবাদিক এবং ত্রাণকর্মীদের জন্য একটি সহায়ক রিসোর্স, যা জরুরী পরিস্থিতিতে ইউজার-জেনারেটেড কনটেন্ট (ইউজিসি) ব্যবহারের টুলস এবং ধাপে ধাপে এগুনোর কৌশল বাতলে দেয়। ভাষা: ইংরেজি, পর্তুগীজ, আরবী, এবং স্প্যানিশ।

হু’জ রানিং দ্য কোম্পানী: আ গাইড টু রিপোর্টিং অন কর্পোরেট গভর্ন্যান্স:  পরিচালনা পর্ষদ, আর্থিক প্রতিবেদন এবং কোম্পানির পারফরম্যান্স ট্র্যাকিংসহ কর্পোরেট গভর্নেন্স বিষয়ে রিপোর্টিংয়ের একটি প্রাথমিক পাঠ। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর জার্নালিস্ট এবং বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন মিলে এটি তৈরী করেছে। ভাষা: ইংরেজি; ফরাসি; স্প্যানিশ; বাহাসা ইন্দোনেশিয়া; মঙ্গোলিয়ান; আরবি; রুশ; এবং পর্তুগিজ।

সংঘাতে সংবাদ সংগ্রহ ও নিরাপত্তা: সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং সংঘাতে সংবাদ সংগ্রহ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার যত নির্দেশিকা আছে, তার একটি সংকলন তৈরি করেছে আইজেনেট। এদের কিছু কিছু আরবি, চীনা, রুশ এবং স্প্যানিশ ভাষায় পাওয়া যায়।

তাঁরা যে আগুন ছড়িয়ে দিলেন সবখানে

শুরু চার পৃষ্ঠার এক পরীক্ষামূলক উদ্যোগ দিয়ে, যেন সদ্য লেখাপড়া শিখতে থাকা নারীরা সঠিক তথ্য পেতে পারেন। সেই উদ্যোগই একসময় রূপ নিল সংবাদপত্রে, যা কিনা নারীদের সাথে অসদাচরণ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের ত্রুটি পর্যন্ত সব কিছু উন্মোচন করতে লাগলো একে একে। খবর লহরিয়া নামের সেই পত্রিকার নাম, রাতারাতি ছড়িয়ে পড়লো জাতীয় পর্যায়ে।

জিআইজেসি ১৯ এর জন্য কোনো সেশনের আইডিয়া থাকলে এখনই জানান!

১১তম গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে চলতি বছরের ২৬-২৯ সেপ্টেম্বর, জার্মানীর হামবু্র্গ শহরের দুই নান্দনিক ভেন্যু – স্পিগেল পাবলিশিং হাউস এবং হাফেনসিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সম্মেলনের যৌথ আয়োজক গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক (জিআইজেএন), নেটজোয়ের্ক রিসার্সে (এনআর) এবং ইন্টারলিঙ্ক একাডেমী ফর ইন্টারন্যাশনাল ডায়ালগ অ্যান্ড জার্নালিজম।

নিজের প্রথম অনুসন্ধানী পডকাস্ট তৈরি করতে গিয়ে যে ৭টি বিষয় শিখেছি

ঘটনাটি ১৯৯৪ সালের। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের এক মাসের মধ্যে দিনের আলোয় একটি নৃশংস ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যেখানে দুইজন নিরাপত্তাকর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা নিয়ে আমার ১৮ মাস ব্যাপী অনুসন্ধানটি আট পর্বের একটি সিরিজ হিসাবে ২০১৭ সালের মার্চে মুক্তি পায়। এটি দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতীয় পুরস্কার জয়ী প্রথম অনুসন্ধানী পডকাস্ট, যা “আদতেই দক্ষিণ আফ্রিকান” বলে প্রশংসিত হয় এবং অনেক আন্তর্জাতিক শ্রোতা টানতেও সক্ষম হয়। ‘অ্যালিবাই’ নামের অনুসন্ধানী পডকাস্ট লেখা, তৈরি ও সম্পাদনা করতে গিয়ে, আমি যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি, এখানে তা-ই তুলে ধরছি।