হারিয়ে যাওয়াদের পদচিহ্ন যেভাবে খোঁজেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা

মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, গুম-খুন ইত্যাদি নানা কারণে প্রতি বছর নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন লাখো মানুষ। কখনো কখনো কেউ হয়তো নিজে থেকেই লুকিয়ে থাকছে। কিভাবে এসব হারিয়ে যাওয়া মানুষদের নিয়ে করা যায় অনুসন্ধান? এই লেখায়, অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছেন উদাহরণ দেখিয়ে। এবং দিয়েছেন দরকারী সব পরামর্শ।

মার্কিন নির্বাচন কাভার করবেন? সাংবাদিকদের জন্য দরকারি সব রিসোর্স এখানে পাবেন

English

আগামী ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট দেবেন মার্কিন জনগণ। একই সঙ্গে বেছে নেবেন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য, আর হাজারো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। ভুল হবে না, যদি বলি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবারের মতো পরিস্থিতি আগে কখনোই দেখেনি। এবার শঙ্কা আছে ভোটারদের ভয় দেখাতে কিংবা মেইল-ইন-ব্যালট পদ্ধতিতে বাধা দিতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে সশস্ত্র পর্যবেক্ষক; আছে ভোট জালিয়াতির আর বিদেশি হস্তক্ষেপের ঝুঁকি, প্রকাশ্য বা গোপন অনুদানের কল্যাণে রেকর্ড পরিমাণ টাকার ছড়াছড়ি, আর ভুয়া তথ্যের জোয়ার। আবার এত কিছু কিনা হচ্ছে এমন একটি মহামারির মধ্যে, যা শত বছরে একবার দেখা যায়।

এই নির্বাচনের সঙ্গে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা বিশ্বেরই অনেক স্বার্থ জড়িয়ে আছে। এ কারণে নির্বাচনী মৌসুমের বাকি সময়টাতে জিআইজেএন মনোনিবেশ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। যাবতীয় রিসোর্স ঘেঁটে গোটা বিশ্বের সাংবাদিকদের জন্য আমরা গড়ে তুলেছি সেরা টিপস ও টুলের এই সংগ্রহ, যাতে তাঁরা এই মার্কিন নির্বাচন নিয়ে অনুসন্ধান করতে পারেন।
যাঁরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কাভার করছেন, তাঁরা টুইটারে ফলো করতে পারেন আমাদের এই হ্যাশট্যাগ: #gijnElectionWatchdog। এখানে প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশল ও পরামর্শের আপডেট পাবেন। আর যদি কোনো মতামত বা হালনাগাদ তথ্য দিতে চান, তাহলে ইমেইল করুন এখানে: ElectionWatchdog@gijn.org

এই গাইডে থাকছে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বাছাই করা সেরা রিসোর্স:

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস-এর বিশেষ একটি প্রকল্পে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটিং ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো। সঙ্গে আছে সেগুলো মোকাবিলার পরামর্শ ও নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগের উপায়।বিশ্লেষণ, জরিপ ও রাউন্ডআপ

প্রচার অর্থায়ন

বিজ্ঞাপন ব্যয়

ভুয়া খবর ও যাচাই

নির্বাচনী কাভারেজের “হাউ-টু

নির্বাচনে নিরাপত্তা

নির্বাচনী এক্সপ্লেইনার

আইনি ইস্যু ও নোংরা কৌশল

ভাষণ, অনুলিখন, টুইট ও ভিডিও

ভোটার ডেটা

ভোটের অধিকার ও নীতিমালা

ভোটের ফলাফল
বিশ্লেষণ, জরিপ ও রাউন্ডআপ
কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট হলো স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষ নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের একটি গ্রুপ, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রবণতা নিয়ে কাজ করে। তাদের সাইটে ফ্রি ও সাবস্ক্রিপশন; দুই ধরনের কনটেন্ট পাবেন।

ফাইভথার্টিএইট, নামটি অদ্ভুত শোনালেও  এটি এসেছে মূলত ইউএস ইলেকটোরাল কলেজের (যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন) সদস্য সংখ্যা থেকে। সংগঠনটির কাছ থেকে খুবই গভীর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। পোলিং অ্যাগ্রিগেশনের জন্যও এটি খুব কাজের সাইট।

ইলেকশনল্যান্ড২০২০ হলো অলাভজনক গণমাধ্যম প্রোপাবলিকার একটি সহযোগিতামূলক সাংবাদিকতা প্রকল্প। তারা ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটদানের অধিকার, সাইবার নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য ও নির্বাচনী সততা ইত্যাদি নিয়ে কাজ করছে।

প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রে একজন করে রিপোর্টার আছেন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-র। তাঁরা প্রতিদিন মাঠপর্যায়ের নানা খবরাখবর দিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী কাভারেজের মাধ্যমে।
প্রচার অর্থায়ন
সেন্টার ফর রেসপনসিভ পলিটিকস (সিআরপি) একটি দলনিরপেক্ষ গবেষণা গ্রুপ, যারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অর্থের লেনদেন ট্র্যাক করে এবং নির্বাচনে ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তার প্রভাব নির্ধারণ করে। ফেডারেল ক্যাম্পেইন কন্ট্রিবিউশন, লবিং ডেটা ও নানা রকম বিশ্লেষণের জন্য যেতে পারেন তাদের ওয়েবসাইট ওপেনসিক্রেটস-এ।

নির্বাচনী প্রচারণায় যে অর্থায়ন হয়েছে, তা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ, টুল ও টাইমলাইন পাওয়া যাবে সিআরপির লার্নিং সেন্টারে; স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় পর্যায় থেকে আসা অনুদান ট্র্যাক করে এই সেন্টার; এবং তাদের নিউজরুম স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতির ওপর নানা ধরনের বিশ্লেষণ হাজির করে।

ফেডারেল ইলেকশন কমিশন (এফইসি)-র কাছ থেকে পাওয়া নির্বাচনী অর্থায়নের ইলেকট্রনিক ফাইলগুলো খুব সহজে ব্রাউজ করতে পারবেন প্রোপাবলিকার এফইসি আইটেমাইজার-এর মাধ্যমে। এখানে তারিখ, কমিটি, সুপার প্যাকস, রেস ইত্যাদি অনেক বিষয় ধরে সার্চ করতে পারবেন।

ফেডারেল ইলেকশন কমিশন (এফইসি)-র কাছ থেকে পাওয়া নির্বাচনী অর্থায়নের ইলেকট্রনিক ফাইলগুলো খুব সহজে ব্রাউজ করতে পারবেন প্রোপাবলিকার এফইসি আইটেমাইজার-এর মাধ্যমে। এখানে তারিখ, কমিটি, সুপার প্যাকস, রেস ইত্যাদি অনেক বিষয় ধরে সার্চ করতে পারবেন।ফলো দ্য মানি প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থায়নের দিকে নজর রাখে এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন মানি ইন পলিটিকস (এনআইএমপি)।

এই সব নির্বাচনী অর্থায়নের ডেটার সূত্র এফইসি। এটিই কেন্দ্রীয় নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থায়ন-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা পর্যবেক্ষেণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান।

রাজ্য পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থায়নের ডেটা ও বিধিমালা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে, দেখুন ন্যাশনাল কনফারেন্স অব স্টেট লেজিসলেটরস (এসসিএসএল) ডিসক্লোজার অ্যান্ড রিপোর্টিং রিকয়ারমেন্টস এবং দ্য ক্যাম্পেইন ফিন্যান্স ইনস্টিটিউটের অফিশিয়াল স্টেট এজেন্সিস অ্যান্ড ডিসক্লোজার রিপোর্টস।
বিজ্ঞাপন ব্যয়
অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারণায় কেমন খরচ করা হয়েছে, জানতে চান? সিআরপি সেটিও ট্র্যাক করে। এর পলিটিক্যাল অ্যাডস ট্র্যাকারের মাধ্যমে জানতে পারবেন ফেসবুক ও গুগলে এবং রেডিও ও টেলিভিশনে কত টাকার  বিজ্ঞাপন চালানো হয়েছে।

কান্তার মিডিয়া, অ্যাডভারটাইজিং অ্যানালিটিকস বা মিডিয়া মনিটরস-এর মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও আপনি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনী ব্যয়ের ডেটা কিনে নিতে পারেন। অ্যাডভারটাইজিং অ্যানালিটিকস তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও নিয়মিত তথ্য জানায়।

বিজ্ঞাপনী ব্যয়সংক্রান্ত এসব ডেটা বিনা মূল্যে পাবেন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)-র পাবলিক ইন্সপেকশন ফাইলস এবং এফইসি ক্যাম্পেইন ফিন্যান্স ডেটায়। কিন্তু এগুলো এমন ফরম্যাটে থাকে যে, সেগুলো সেখান থেকে বিশ্লেষণ করাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এফইসি ডেটায় বিজ্ঞাপনী ব্যয় খুঁজে পাওয়ার জন্য স্পেন্ডিং ট্যাবে গিয়ে “ডিসবার্সমেন্টস” নির্বাচন করুন, এরপর ফিল্টার করুন “অ্যাডভারটাইজিং” দিয়ে।

অনলাইন বিজ্ঞাপনে কত টাকা খরচ করা হয়েছে, তা ট্র্যাক করার পাশাপাশি এটি বোঝাও জরুরি, কীভাবে সেই বিজ্ঞাপনে দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।  এবং এ ব্যাপারে ফেসবুক, গুগল, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাট ও টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর নীতিমালা কী? বড় বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাবেন দ্য সেন্টার ফর ইনফরমেশন, টেকনোলজি অ্যান্ড পাবলিক লাইফ (সিআইটিএপি)-র ডিজিটাল পলিটিকস-এ। আরও দেখুন: প্ল্যাটফর্ম অ্যাডভারটাইজিং এবং পলিটিক্যাল অ্যাড ডেটাবেস কম্প্যারিজনস।

১৪টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের নির্বাচন-সংক্রান্ত ভুয়া তথ্য মোকাবিলার নীতিমালা পর্যালোচনা করেছে ইলেকশন ইন্টেগ্রিটি পার্টনারশিপ। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা ও তার কার্যকারিতা তারা আলাদা করে দেখিয়েছে।

গুগলের পলিটিক্যাল অ্যাডভারটাইজিং লাইব্রেরি পরিচালিত হয় এর ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টের অংশ হিসেবে। এবং এটি সাধারণত প্রতিদিন হালনাগাদ করা হয়। এ বিষয়ে আরও জানতে দেখুন তাদের সবচেয়ে বেশি আসা প্রশ্ন।

ফেসবুকের অ্যাড লাইব্রেরি রিপোর্টে আপনি বেশ কিছু বিষয় ধরে সার্চ করতে পারবেন। প্রার্থী, বিজ্ঞাপনদাতা ও জায়গা ধরে দেখতে পারবেন বিজ্ঞাপনী ব্যয়।

এনওয়াইইউ অনলাইন ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট সম্প্রতি একটি অ্যাড অবজারভেটরি চালু করেছে। এখানে ফেসবুকের অ্যাড লাইব্রেরির চেয়েও আরও অনেক সার্চ ফাংশন থাকায়  আপনি বিজ্ঞাপনী ব্যয় দেখতে পারবেন রাজ্য ধরে ধরে। এ ছাড়া বিভিন্ন ট্রেন্ড সার্চ এবং নোটিফিকেশন তৈরি করা যাবে।
ভুয়া খবর ও যাচাই
নির্বাচনী প্রার্থীদের দাবি করা নানা তথ্য ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পোস্টের সত্যতা দ্রুততার সঙ্গে যাচাই করে পয়েন্টার ইনস্টিটিউটের পোলিটিফ্যাক্ট।

অ্যানেনবার্গ পাবলিক পলিসি সেন্টার অব দ্য ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার একটি প্রকল্প, ফ্যাক্টচেক ডট অর্গ। পয়েন্টারের মতো তারাও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের সময় বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করা শিরোনাম, বক্তৃতা ও বিভিন্ন দাবির সত্যতা যাচাই করে।

আমেরিকান প্রেস ইনস্টিটিউটের ফ্যাক্টচেকিং অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি জার্নালিজম প্রজেক্ট-এর সাপ্তাহিক নিউজলেটার, ফ্যাকচুয়ালি। এখানে অনুসন্ধান করা হয় ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মতো ইস্যুগুলো নিয়ে।

১৪টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের নির্বাচনসংক্রান্ত ভুয়া তথ্য মোকাবিলার নীতিমালা পর্যালোচনা করেছে ইলেকশন ইন্টেগ্রিটি পার্টনারশিপ। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা ও তার কার্যকারিতা তারা আলাদা করে দেখিয়েছে।ফার্স্ট ড্রাফট-এর ইনফোদ্যকিউ২০২০-তে পাবেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভুয়া তথ্য নিয়ে প্রাথমিক ধারণা। এগুলো মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য একটি টুলকিট ও নিউজরুমের জন্য তথ্য যাচাইয়ের রিসোর্স তৈরি করেছে ফার্স্ট ড্রাফট। দেখতে পারেন তাদের বিভিন্ন সাইবার অপরাধ কাভারের (ফিশিং, হ্যাকিং ও ভুয়া তথ্য) গাইডটিও, অ্যাট্রিবিউশন.নিউজ।

সাধারণভাবে বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের জন্য, অবশ্যই দেখুন ডেটাজার্নালিজম ডট কমের ভেরিফিকেশন হ্যান্ডবুক, বেলিংক্যাটের অনলাইন ইনভেস্টিগেশন টুলকিট, এবং ক্রেইগ সিলভারম্যানের ভেরিফিকেশন অ্যান্ড ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন রিসোর্স।
নির্বাচনী কাভারেজের “হাউ-টু
আমেরিকান প্রেস ইনস্টিটিউট (এপিআই) বিভিন্ন নির্বাচনী প্রকল্পে সহায়তা দেয়, যেগুলো নিউজরুম ম্যানেজারদের সংযুক্ত করে এবং সেখানে উদ্ভাবনী উপায়ে নির্বাচন কাভার, ভুয়া তথ্য মোকাবিলা ও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

এপিআই-এর ট্রাস্টেড ইলেকশন নেটওয়ার্ক প্রকাশ করেছে “গাইড টু কাভারিং ইলেকশন অ্যান্ড মিসইনফরমেশন”। আরও দেখুন: এপিআই-এর চার পর্বের প্রতিবেদন: গেটিং ইট রাইট: স্ট্র্যাটেজিস ফর ট্রুথ-টেলিং ইন আ টাইম অব মিসইনফরমেশন অ্যান্ড পোলারাইজেশন।”

সাবেক এক নির্বাচনী কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কাভারের জন্য দিয়েছেন এই আট পরামর্শ। সব কটির মধ্যেই মূল একটা বিষয় বারবার এসেছে: নির্বাচনী প্রক্রিয়া, নিয়মনীতি সম্পর্কে ভালোমতো জানুন এবং হালনাগাদ থাকুন।

মেইল-ইন ভোটিং নিয়ে একটি কার্যকরী রিপোর্টিং গাইড তৈরি করেছে প্রোপাবলিকা। এখানে আছে প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট ও পরামর্শ।
নির্বাচনে নিরাপত্তা
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস-এর বিশেষ একটি প্রকল্পে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটিং ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো। সঙ্গে আছে সেগুলো মোকাবিলার পরামর্শ ও নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগের উপায়। নিরাপদে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তাকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সেটিও ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে এখানে। স্থানীয় কর্মকর্তারা কতটা প্রস্তুত, তা যাচাই করতে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর বিশেষ সিরিজটিও এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়ার ভালো উপায়।

নির্বাচনের দিনে যে সাতটি বাজে পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে, তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। এবং বলেছে: এগুলো মোকাবিলায় কী করা যেতে পারে।
নির্বাচনী এক্সপ্লেইনার
নির্বাচন প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যামূলক বিশ্লেষণ পাওয়ার জন্য দারুণ জায়গা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ইলেকশন ডেটা + সায়েন্স ল্যাব (এমইডিএসএল)। এখানে পাবেন বিভিন্ন পর্যায়ের ভোটিং, ব্যালট প্রাপ্তি ও পুরো ভোটিং ব্যবস্থার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা। এ ছাড়া পাবেন নির্বাচনী ডেটাসেট ও টুল এবং বিশেষজ্ঞের খোঁজ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী মানচিত্র কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা নজরে রাখে ফাইভথার্টিএইট (যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায়, একজন প্রার্থী জনগণের ভোটে জিতলেও নির্বাচনে হেরে যেতে পারেন)।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই ইন্টারঅ্যাকটিভে, প্রতিটি রাজ্যকে উপস্থাপন করা হয়েছে বর্তমান কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের রেটিং দিয়ে; যা থেকে বোঝা যায় কোনো রাজ্যে কোন প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা বেশি। এটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।

ভোটার অংশগ্রহণ ও ভোটের ধরনে সম্ভাব্য কিছু পরিবর্তনের দিকে নজর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং বোঝার চেষ্টা করেছে, এতে ট্রাম্প না বাইডেন—কে লাভবান হবেন। প্রতিবেদনের নিচে সব ডেটার সূত্রেরও একটি তালিকা দিয়েছে তারা।
আইনি ইস্যু ও নোংরা কৌশল
ডিজিটাল ডিসইনফরমেশন ও ভোট সাপ্রেশন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস। এখানে বলা হয়েছে: ২০২০ সালের নির্বাচন কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো বা নিবৃত্ত করার জন্য কী ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হতে পারে, তার সম্ভাব্য একটি তালিকাও করেছে সেন্টার। অন্য আরও কিছু নোংরা কৌশলের দিকে নজর রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে এখানে।

২০২০ সালের নির্বাচনের সঙ্গে যেসব আইনি মামলার বিষয় জড়িয়ে আছে, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে এনসিএসএল-এর নিউজলেটার, দ্য ক্যানভাস-এ। এখানে চারটি মূল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে: মেইলে নির্বাচন, অ্যাবসেন্টি ব্যালটের যোগ্য হবেন যে শর্তে, সাক্ষী হবার পূর্বশর্ত এবং কীভাবে ব্যালট ফেরত দেওয়া যায়।

২০২০ সালের নির্বাচনের সঙ্গে যেসব আইনি মামলার বিষয় জড়িয়ে আছে, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে এনসিএসএল-এর নিউজলেটার, দ্য ক্যানভাস-এ। এখানে চারটি মূল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।স্টানফোর্ড-এমআইটি-র হেলদি ইলেকশনস প্রজেক্ট, একটি নির্বাচনী মামলাসংক্রান্ত ট্র্যাকার তৈরি করেছে। কোভিড-সংক্রান্ত নির্বাচনী মামলাগুলো এই ডেটাবেসে যুক্ত হয়।

নির্বাচনসংক্রান্ত আইনকানুন সম্পর্কে জানানোর জন্য ইবেঞ্চবুক তৈরি করেছে উইলিয়াম অ্যান্ড ম্যারি ল স্কুল এবং দ্য ন্যাশনাল সেন্টার ফর স্টেট কোর্টস। এখানে আপনি রাজ্য ধরে ধরে আইনকানুন সম্পর্কে সার্চ করতে পারবেন। এবং প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন আইনি নথি পাবেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থায়ন, ভোটের অধিকার ও সরকারের নৈতিকতা নিয়ে কাজ করে অলাভজনক, দলনিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পেইন লিগাল সেন্টার।

নির্বাচন কাভারের সময়, কোনো ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের কী ধরনের আইনি অধিকার থাকে, সে সম্পর্কে জানা-বোঝা তৈরির জন্য একটি গাইড তৈরি করেছে রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেস।

২০২০ মার্কিন নির্বাচনের সময় সাংবাদিকদের শারীরিক ও ডিজিটাল—দুই ধরনের সুরক্ষার জন্য অনেক বাস্তবিক পরামর্শ ও রিসোর্স দিয়ে একটি সুরক্ষা গাইড বানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস। কীভাবে বট শনাক্ত করবেন এবং আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারকে সেগুলো থেকে রক্ষা করবেন, অনলাইন ট্রল বা ভুয়া তথ্যের জোয়ার কীভাবে মোকাবিলা করবেন; ইত্যাদি জরুরি প্রসঙ্গ এখানে আলোচনা করা হয়েছে।
ভাষণ, অনুলিখন, টুইট ও ভিডিও
প্রচারণা ও নির্বাচনের ভিডিও এবং ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণার আর্কাইভে আপনি বিভিন্ন কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করতে পারবেন। এগুলোর সবকিছুই পাওয়া যাবে পাবলিক-সার্ভিস কেবল নেটওয়ার্ক, সি-স্প্যানে।

আরও দেখতে পারেন ভোট স্মার্ট। এখানে প্রার্থীদের অবস্থান, বিগত নির্বাচনের রেকর্ড ও জনসমক্ষে দেওয়া বক্তৃতা ট্র্যাক করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন টুইটারকে। ফলে ট্রাম্প টুইটার আর্কাইভ ও ট্রাম্পের ডিলিট করে দেওয়া টুইটগুলো নিয়ে ফ্যাক্টবেসের এই আর্কাইভ থেকেও আপনি অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। আর প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সরকারি নথিপত্রের জন্য দেখুন এই আর্কাইভ।
ভোটার ডেটা
ডেমোগ্রাফিক ডেটার ওপর ভিত্তি করে মানুষ খোঁজা ও চিহ্নিত করার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ভোটার নিবন্ধন ডেটা। এগুলো ব্যবহৃত হয় নির্বাচনী প্রচারণায়, সংবাদমাধ্যমে এবং অন্য আরও নানা ক্ষেত্রে। এল২ পলিটিকাল-এর মতো জায়গা থেকে এ রকম ডেটাসেট পাওয়া যায়। লেক্সিসনেক্সিস-এর মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও এগুলো পাওয়া যায়। ডেটাসেটের দাম নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের ওপরে।

ভোটার নিবন্ধন তালিকা, সবার জন্য উন্মুক্ত নথি। যেকোনো নাগরিক এটি পেতে পারে। কোন রাজ্যে কী ধরনের তথ্য, কার জন্য উন্মুক্ত অবস্থায় আছে; তা দেখতে পারবেন এখানে।

ভোটার নিবন্ধন ডেটায় কী ধরনের তথ্য আছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে রাজ্য পর্যায়ের বা স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ভোটকেন্দ্রের তালিকা, ব্যালট ব্যবস্থাপনা, নির্বাচনী আইনসহ নানা বিষয়ে তথ্যও আপনি পেতে পারেন এমন যোগাযোগের মাধ্যমে।
ভোটের অধিকার ও নীতিমালা
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচন আসলে স্থানীয় পর্যায় থেকে গড়ে ওঠে। নির্বাচনগুলো আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকে নিজ নিজ রাজ্য ও অঞ্চলের। দুটি রাজ্যের কর্মপদ্ধতি কখনো একই রকম হয় না।

ভোটার আইডির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভোটিং সেন্টারের ঠিকানা, অনুপস্থিতদের ব্যালট কবে মেইল করা হবে, কবে ভোট গণনা শুরু হতে পারে; ইত্যাদি নানা তথ্য ক্রমাগত হালনাগাদ করে দ্য ন্যাশনাল কনফারেন্স অব স্টেট লেজিসলেটরস (এসসিএসএল)। রাজ্যভিত্তিক নির্বাচনী আইনকানুনের একটি সার্চ-যোগ্য ডেটাবেসও আছে তাদের।

এটির সঙ্গে যোগ করুন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট ইলেকশন ডিরেক্টরস-এর এই রিসোর্স তালিকা এবং ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সেক্রেটারিয়েট অব স্টেট (এনএএসএস)-এর ক্যান আই ভোট ওয়েবসাইটকে। এগুলো একসঙ্গে মিলিয়ে দেখলে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনসংক্রান্ত নীতিমালা, পদ্ধতি ও প্রযুক্তি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেয়ে যাবেন।

নির্বাচনী প্রশাসনিক জরিপের মাধ্যমে অনুপস্থিতদের ভোট দেওয়ার তারিখ, রাজ্যের নির্বাচনী আইনসহ নানা বিষয়ে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করে এনএএসএস।

এসিএলইউ-এর লেট পিপল ভোট সাইটটির মাধ্যমে সহজেই প্রতিটি রাজ্যের ভোটিং নিবন্ধনের তারিখ এবং নানা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

অনুপস্থিতদের ভোট দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে থাকা নাগরিকদের নিবন্ধনের সেবা দেওয়া নিয়ে যারা কাজ করে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছে ইউএস ভোট ফাউন্ডেশন।

এবং প্রতিটি রাজ্যে মেইলের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তা ও অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করছে ন্যাশনাল ভোট অ্যাট হোম ইনস্টিটিউট।

আগে থেকেই বিতর্কিত অবস্থায় থাকা ভোটিং ইস্যুকে আরও সমস্যাদায়ক করে তুলেছে কোভিড-১৯ মহামারি। পুরো প্রক্রিয়ায় গতি আনার জন্য কোন রাজ্য কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার একটি বিবরণ তুলে ধরেছে এনবিসি নিউজ।
ভোটের ফলাফল
২০২০ সালের এই নির্বাচনে অনেক বেশি মাত্রায় ভোটার অনুপস্থিতি দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ফলাফল নিয়ে রিপোর্টিংয়েও বিলম্ব হতে পারে। সংকটপূর্ণ সময়ে বৈধ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে পড়ুন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির এরভিন স্কুল অব ল-এর এই লেখা। বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সুপারিশের কথাও বলা হয়েছে এখানে।

দ্য ইলেকটরাল কলেজ: এ ২০২০ প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশন টাইমলাইন। কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের এই প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে: কীভাবে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত এসেছে। এবং এখানে সব কটি ডেডলাইন, নিয়মনীতি ও দৃশ্যপটের কথা বর্ণনা করা হয়েছে যে, ভোট দেওয়ার পর কী কী ঘটতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি রাজ্য ও ন্যাশনাল প্রাইমারি, সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল সুবিন্যস্তভাবে হিসাব করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। কীভাবে তারা সেই কাজ করে, তা জানতে পারবেন এখানে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাদের তাৎক্ষণিক খবরাখবর জানতে টুইটারে ফলো করুন: #APracecall।

নির্বাচনের পর ফলাফল নিয়ে আইনি বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ শুরু হলে, তার পরিণতি কী হতে পারে? এ বিষয়ে খুবই বিস্তারিত একটি বিশ্লেষণ দিয়েছেন ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক এডওয়ার্ড বি. ফলি। প্রিপেয়ারিং ফর আ ডিসপুটেড প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশন: এন এক্সারসাইজ ইন ইলেকশন রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট।

ভোট গ্রহণ শেষ হয়ে যাওয়ার পর মানুষ যদি নির্বাচনী ফলাফল মেনে না নেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, ইলেকটোরাল কলেজ, কংগ্রেস ও ভাইস প্রেসিডেন্টের ভূমিকা কী হবে, তা এই লেখায় ব্যাখ্যা করেছেন হার্ভার্ড ল স্কুলের অধ্যাপক কাস আর.

নিখোঁজের খোঁজে: গুম, অপহরণ ও হারানো মানুষ নিয়ে অনুসন্ধানের গাইড

English

এই বিশ্বে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ নিখোঁজ হয়ে যান। ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন মিসিং পিপল বলছে, এসব ঘটনার বেশির ভাগের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র; বিশেষ করে মাদক পাচারকারীরা।  এ ছাড়া বন্য প্রাণী চোরাচালান, মানব পাচার, প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি—এমন আরও অনেক অপরাধী চক্র মানুষের এভাবে হারিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

এমন অপরাধ ঠেকাতে সাংবাদিকদের বড় ভূমিকা আছে; বিশেষ করে যেসব জায়গায় রাষ্ট্র ও আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে। সেটি হতে পারে লেখালেখির মাধ্যমে নিরুৎসাহিত করে, অথবা ঘটনার গভীর অনুসন্ধানের মাধ্যমে।সবচেয়ে ডাকসাইটে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড, সাধারণত হয় বিশ্বজোড়া। তারা খুবই সুসংগঠিত, আর তাদের কারবারও বেশ নিয়মতান্ত্রিক। তাদের চোখে পড়বে আমাদের চারপাশে, নিত্যদিনের জীবনে; কখনো কখনো তারা ঢুকে পড়ে সিস্টেমের একেবারে গভীরে; তাদের দেখা যায় গুরুত্বপূর্ণ সব সামাজিক সংগঠনে।

যখন সব জায়গায় দুর্নীতি প্রবলভাবে জেঁকে বসে, তখন সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর কারণে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এসব মানুষ নিয়ে কোনো অনুসন্ধান হয় না। জাতীয় বা আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকে তারা প্রায়ই চুপ করিয়ে রাখে অর্থের বিনিময়ে। আবার কখনো অপরাধী গোষ্ঠীর ক্ষমতা ও ব্যাপ্তি এতই বড় হয়ে ওঠে যে, কোথাও অপরাধের কোনো তথ্যই পাওয়া যায় না। যেসব গুমের সঙ্গে কোনোভাবে রাষ্ট্র জড়িত;  যেখানে একজন মানুষকে কেউ তুলে নিয়ে গেছে, গোপনে আটকে রেখেছে অথবা মেরে ফেলেছে এবং লাশটাকে লুকিয়ে ফেলেছে—তাদের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য।

এই অপরাধের ধরন অনেক রকম হতে পারে: একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, একসঙ্গে অনেক মানুষের গুম হয়ে যাওয়া, অথবা নির্দিষ্ট সময়ে পরস্পর সংযুক্ত একাধিক ঘটনা। অনেকে আবার নিখোঁজ হন নিজের ইচ্ছাতেও।

এমন অপরাধ ঠেকাতে সাংবাদিকদের বড় ভূমিকা আছে; বিশেষ করে যেখানে রাষ্ট্র ও আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে। সেটি হতে পারে লেখালেখির মাধ্যমে নিরুৎসাহিত করে, অথবা ঘটনার গভীর অনুসন্ধানের মাধ্যমে। কিন্তু নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক নিজেও এ ধরনের অপরাধের শিকার হতে পারেন। তাঁরা কোনোভাবেই ঝুঁকির বাইরে নন।

এসব কারণে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে অনুসন্ধান করার কাজটি হয়ে ওঠে জটিল ও সূক্ষ্ম। এই বিষয় নিয়ে কাজ করতে গেলে একজন সাংবাদিককে সব সময় সতর্ক থাকতে হয় এবং চিন্তা করে এগোতে হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই হারিয়ে যাওয়া মানুষ নিয়ে বড় বড় অনুসন্ধান হয়েছে। আমরা এই গাইডে তুলে ধরেছি তেমন কিছু উদাহরণ, গবেষণাসূত্র, প্রাসঙ্গিক সংগঠনের পরিচিতি এবং মাঠপর্যায়ে রিপোর্টিংয়ের পরামর্শ।

গাইডটি প্রকাশিত হয়েছে জিআইজেএন ও রেজিলিয়েন্স ফান্ড আয়োজিত “ডিগিং ইনটু ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স” ওয়েবিনার সিরিজের অংশ হিসেবে। এই সিরিজের বিষয় ছিল সংঘবদ্ধ অপরাধ ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে অনুসন্ধান। এটি দেখতে পাবেন ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায়। ফরাসি ভাষায় আয়োজিত ওয়েবিনারে উঠে এসেছে নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার কথা। এবং বিভিন্ন ভাষায় প্রচারিত হয়েছে: কীভাবে খুঁজবেন নিখোঁজদের।

সূচিপত্র

কেস স্টাডি
দরকারি গাইড ও সংগঠন
রিপোর্টিং টিপস

ঘটনাস্থল সম্পর্কে জানুন
নিরাপদ থাকা ও রাখা
তথ্য দেবে কারা
সূত্র খুঁজবেন কী করে
সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ
যখন কাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে
মানসিকভাবে বিপর্যস্তদের নিয়ে কাজ
নিজের যত্ন

কেস স্টাডি
নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষদের নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বাছাই করা হয়েছে এখানে।

সার্চিং উইথ দ্য মাদারস অব মেক্সিকো’স ডিজঅ্যাপিয়ার্ড (২০২০)। এই প্রতিবেদনে, মেক্সিকোতে গুম বা নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য নিউ ইয়র্কা, যারা এখনো হারানো স্বজনকে খুঁজে পেতে মরিয়া।
মিসিং ইন ফ্রান্স: দ্য প্লাইট অব ভিয়েতনামিজ চিলড্রেন হু আর ট্রাফিকড ইনটু ইউরোপ (২০২০)। ভিয়েতনামের শিশুরা কীভাবে নিখোঁজ হচ্ছে, তা নিয়ে এই অনুসন্ধান করেছেন সাংবাদিকেরা। এতে দেখা গেছে, ফ্রান্সের একটি বিমানবন্দর থেকে তুলে নিয়ে এই শিশুদের ইউরোপের অন্য দেশে পাচার করা হয়েছে।
রুয়ান্ডায় গণহত্যা, ফ্রান্সে আত্মগোপন ও পিছে লেগে থাকা এক সাংবাদিক (২০২০)। এই লেখায় জিআইজেএন কথা বলেছে থিও এঙ্গেলবার্টের সঙ্গে। যিনি বেশ কয়েক বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে খুঁজে বের করেছিলেন রুয়ান্ডার সাবেক সেনা কর্মকর্তা অ্যালোয়েস নিউইরাগাবোকে। যিনি দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপন করে ছিলেন।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে যেভাবে বেরিয়ে এলো ২০০০ গুপ্ত কবর (২০১৯)। তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ, ডেটা বিশ্লেষণ ও পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিয়ে মেক্সিকোতে নিখোঁজ হওয়া মানুষদের ওপর অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন মার্সেলা তুরাতি ও তাঁর দল। এই লেখায় তিনি সেই অনুসন্ধান নিয়ে কথা বলেছেন জিআইজেএন-এর সঙ্গে।
মিসিং অ্যান্ড মার্ডারড: দ্য আনসলভড কেসেস অব ইনডিজিনাস ওমেন অ্যান্ড গার্লস (২০১৭-১৮)। সিবিসি নিউজের এই পুরস্কারজয়ী পডকাস্টে উন্মোচিত হয়েছে, কানাডার আদিবাসী নারীদের ব্যাপক হারে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলো কেন অমীমাংসিত থেকে গেছে।
জোনাস বার্গোস: ট্র্যাপড ইন আ ওয়েব অব লাইভস (২০১৩)। ফিলিপিনো বিদ্রোহী জোনাস বার্গোসকে নিয়ে এই অনুসন্ধান করেছেন র‌্যাপলারের গ্লোরিয়া গ্লেন্ডা।
দ্য সার্চ: মিসিং অ্যান্ড মার্ডারড ইনডিজিনাস ওমেন (২০১৯)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আদিবাসী নারীদের নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া নিয়ে এই তথ্যচিত্র তৈরি করেছে আল-জাজিরা।
দ্য এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স অব দ্য আয়োজিনাপা স্টুডেন্টস (২০১৭)। ডেটা মাইনিং ও থ্রিডি ইন্টারঅ্যাকটিভ মডেলিং ব্যবহার করে ২০১৪ সালে মেক্সিকোতে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ৪৩ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে অনুসন্ধান করেছে ফরেনসিক আর্কিটেকচার ।
হাউ দ্য ইউএস ট্রিগার্ড আ ম্যাসাকার ইন মেক্সিকো (২০১৭)। মেক্সিকোর আলেন্দে-তে মাদক সংশ্লিষ্ট গণহত্যা  এবং এর ফলে কয়েক শ মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নিয়ে এই রিপোর্ট করেছিলেন জিনজার থম্পসন ও আলেক্সান্দ্রা জানিক ভন বারট্রাব।
হোয়াই আর ১০,০০০ মাইগ্রেন্ট চিলড্রেন মিসিং ইন ইউরোপ? (২০১৬)। এখানে শিশু পাচার ও হারিয়ে যাওয়া অভিবাসীদের নিয়ে তৈরি ইউরোপোলের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখেছে বিবিসি।
দ্য রুম অব বোনস (২০১৫)। এল সালভাদরে তিন দশকের সামাজিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে চার মা খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাঁদের সন্তানদের মৃতদেহ। এমন এক পরিস্থিতি নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই তথ্যচিত্র।
লস্ট গার্লস অব ইন্দোনেশিয়া অ্যামং ৬১,০০০ ডেড অ্যান্ড মিসিং মাইগ্রেন্টস (২০১৮)। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইন্দোনেশিয়ার সেসব মেয়ের কথা, যাদের বিদেশে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ঘরছাড়া করা হয়েছে এবং আর কখনো দেখা যায়নি।

দরকারি গাইড ও সংগঠন
ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন মিসিং পিপল (আইসিএমপি) বিশেষভাবে নজর দেয় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মামলাগুলোর দিকে। এই বিষয় সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনকানুন সম্পর্কে তাদের ভালো দখল আছে।

অফিস অব দ্য ইউনাইটেড নেশনস হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ওএইচসিএইচআর) কাজ করে অভিবাসী ও অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে হওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে। গুম বা অপহরণের শিকার হয়ে যাঁরা হারিয়ে গেছেন, তাঁদের জন্য একটি কমিটিও আছে এই প্রতিষ্ঠানের।
অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের কেউ মারা গেছে কি না কিংবা নিখোঁজ হয়েছে কি না, তার খবর রাখছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর দ্য মিসিং প্রজেক্ট।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বলপূর্বক নিখোঁজ বা গুম হওয়া ব্যক্তিদের ঘটনা নিয়ে কাজ করে।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স জার্নালিস্টস গাইড টু অর্গানাইজড ক্রাইম। এই গাইড থেকে জানা যাবে, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কীভাবে সাংবাদিকদের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিআরপি) নিখোঁজ সাংবাদিকদের নিয়ে বেশ কিছু অনুসন্ধান ও রিপোর্ট করেছে।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) নিখোঁজ সাংবাদিকদের নিয়ে প্রকাশিত সব প্রতিবেদন এক জায়গায় সংরক্ষণ করে। এবং তাদের এই বিষয়ে তাদের একটি ডেটাবেসও আছে।
মেক্সিকোতে, ডেটা ব্যবহার করে গণকবর খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে হিউম্যান রাইটস ডেটা অ্যানালাইসিস গ্রুপ (এইচআরডিএজি)। তারা গুম বা অপহরণের কারণে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে অনুসন্ধান করে এবং নির্দিষ্ট দেশ ধরে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
আর্জেন্টাইন ফরেনসিক অ্যানথ্রোপোলজিস্টস টিম (ইএএএফ), নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্ত ও খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানভিত্তিক ফরেনসিক কৌশল ব্যবহার করে।
ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রস (আইসিআরসি) বিশ্বজুড়ে গুম বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার দিকেও নিবিড় নজর রাখে।

রিপোর্টিং টিপস
এলাকাটি সম্পর্কে জানুন
কোনো নির্দিষ্ট কেস নিয়ে কাজ করার সময়, সেই এলাকা সম্পর্কে ভালোমতো জেনে নেওয়া জরুরি। এতে করে আপনি কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে বুঝতে পারবেন: সেখানে কী ধরনের সংগঠিত অপরাধী চক্র সক্রিয় আছে এবং কারা জড়িত থাকতে পারে। একই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটলে, সেই মামলাগুলো থেকে আপনার অনুসন্ধান শুরু করতে পারেন।  সেই এলাকায় আগে কাজ করেছে, এমন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলুন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খোঁজাখুঁজি করুন এবং সেখানকার অপরাধ জগতের কর্মকাণ্ড বোঝার চেষ্টা করুন।

বিশ্বস্ত কোনো সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ না করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যাবেন না। এবং প্রয়োজন হলে কীভাবে দ্রুত সেই এলাকা ছেড়ে যাবেন, তার একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি রাখুন।

নিরাপদ থাকা ও রাখা
সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র নিয়ে অনুসন্ধান শুরুর সময়, আপনার নিজের ও সূত্রদের নিরাপত্তার দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এ জন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা পরিকল্পনা। প্রথমত, আপনাকে ঠিক করতে হবে: আপনি কী ধরনের অনুসন্ধান করতে চান এবং আপনিই এই নির্দিষ্ট অনুসন্ধানটি করার জন্য সঠিক সাংবাদিক কি না।

এরপর, আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে: আপনি কীভাবে নিরাপদে তথ্য সংরক্ষণ করবেন এবং আপনার দল ও সাক্ষাৎকারদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আপনার কম্পিউটার বা ফোনে সংবেদনশীল কোনো তথ্য নিয়ে চলাচল করবেন না। কোথাও যাওয়ার সময় অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে: আপনি কোথায় যাচ্ছেন, তা যেন আপনার দলের অন্য সদস্যরা জানেন। কোনো বিপদের মুখে পড়লে কীভাবে তাঁদের সতর্কসংকেত দেবেন, তা-ও আগে থেকে ঠিক করে রাখুন।

অনুসন্ধান প্রকাশিত হওয়ার পর সোর্সদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তারা হয়তো আপনার এই কাজের জন্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাদেরকে হামলার লক্ষ্য বানানো হতে পারে। বিষয়-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর (যেমন: কোনো এনজিও) সঙ্গে জোট বেঁধে কাজ করলে আপনার সূত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হতে পারে। তখন আপনিও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, কখন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করলে ভালো হয়। সাধারণভাবে, আপনার প্রতিবেদনে সূত্রের এমন কোনো ব্যক্তিগত তথ্য রাখবেন না, যাতে করে তিনি বা তাঁর স্বজনেরা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষভাবে, এমন ছবি ও ভিডিও-র ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, যেখান থেকে বোঝা যেতে পারে: কারা আপনার সূত্র এবং তারা কোথায় আছে। সাক্ষাৎকারদাতা কেমন পোশাক পরে ছিলেন, সেখান থেকেও তাঁর পরিচয় সম্পর্কে ধারণা মিলতে পারে। আরও তথ্য লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার ছবির মেটাডেটায়।
তথ্য দেবে কারা
অন্য যেকোনো অনুসন্ধানের মতো, এখানেও আপনাকে শুরু করতে হবে সূত্র চিহ্নিত করা ও গড়ে তোলা দিয়ে। কী ঘটেছিল—এই প্রশ্ন সামনে রেখে যাবতীয় তথ্য সবার আগে এক জায়গায় করুন। তারপর আপনার কাজ শুরু করুন। বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে আপনি প্রাথমিক তথ্য পেতে পারেন:

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন
আদালতের নথিপত্র
তথ্য অধিকার আইনের আবেদন
প্রত্যক্ষদর্শী
এনজিও
আইনজীবী
পুলিশ
নিখোঁজ ব্যক্তির বন্ধুবান্ধব ও পরিবার

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কাছে স্থানীয় অপরাধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য থাকে। হয়তো দেখবেন, সেই এলাকায় অপরাধী চক্রগুলো কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কেও তাদের জানাশোনা আছে। আবার কখনো কখনো নিখোঁজ ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য তার প্রিয়জনেরা অনেক তথ্য বাদ দেয় বা গোপন করে। সব খুঁটিনাটিই সাংবাদিকদের বিবেচনা করতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে। গুম বা অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করবে। তবে তাদের দেওয়া সেই তথ্যগুলো আপনাকে যাচাই করে নিতে হবে বিশ্লেষণী দৃষ্টি দিয়ে।

অন্যান্য স্থানীয় সূত্র

আপনার অনুসন্ধানের এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গেছে, এমন ব্যক্তিরা হয়তো আরও বেশি খোলামেলা কথা বলতে আগ্রহী হবে। কারণ, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। এমন সূত্র ও তথ্যদাতাদের একটি ম্যাপ তৈরি করে নিলে আপনার সুবিধা হতে পারে। কারাগারের বন্দিরাও আপনার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। কারণ, অপরাধী চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের আছে। তবে তাদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিটি তথ্য সব সময় ক্রসচেক করে নেওয়া উচিত।

সোশ্যাল মিডিয়া

ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত (নিখোঁজ বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি) মানুষদের কর্মকাণ্ড নজরে রাখার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রায়ই অনেক সহায়তা পেতে পারেন। এখান থেকে আপনি সেই অঞ্চলের অপরাধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও অনেক প্রাসঙ্গিক তথ্য পেতে পারেন। মাঠপর্যায়ের সূত্রদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য যাচাই করে নেওয়ারও একটি ভালো মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া।

সূত্র খুঁজবেন কোথায়
কিছু ক্ষেত্রে, নিখোঁজ ব্যক্তিরা তাঁদের সোশ্যাল নেটওয়ার্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বা সূত্র রেখে যান। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যে তাঁরা শেষ কার সঙ্গে কথা বলেছেন, তা খুঁজে বের করার মাধ্যমে আপনি আপনার কাজ শুরু করতে পারেন, বিশেষভাবে আধুনিক দাসপ্রথা ও মানব পাচারের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে।

আপনি যদি নিখোঁজ ব্যক্তির সেলফোন বা অন্য কোনো মোবাইল ডিভাইস ট্র্যাক করতে পারেন, তাহলে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে অনেক মূল্যবান তথ্য পাবেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের তথ্য থেকেও বেরিয়ে আসতে পারে যে নিখোঁজ ব্যক্তিটি কোথায় আছেন বা তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে।

আরও তথ্য পাওয়ার জন্য এবং নতুন সূত্রদের আকৃষ্ট করার জন্য, আপনি প্রাথমিক কিছু তথ্য দিয়েও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু এ-ও মাথায় রাখবেন: এমন প্রতিবেদন বাড়তি ঝুঁকিও তৈরি করবে।
সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ
কখনো কখনো আপনার অনুসন্ধান চলার সময়ই কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো গ্রুপ একটি মৃতদেহ খুঁজে পেতে পারে। আপনি যে নিখোঁজ ব্যক্তিকে নিয়ে অনুসন্ধান করছেন, মৃতদেহটি তারই কি না, তা যাচাই করে দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি লাশের গায়ে থাকা জামাকাপড় বা ট্যাটুর বর্ণনা মিলে যায়, বা তার সঙ্গে সঠিক শনাক্তকরণ কাগজপত্র পাওয়া যায়, তারপরও আপনার সেটি ভালোমতো যাচাই করা উচিত। কারণ, দুজন মানুষের মধ্যে একই রকম শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে বা তাদের জামাকাপড় ও শনাক্তকরণ কাগজপত্র বদলে দেওয়া হতে পারে। আদর্শ পদ্ধতি হলো: প্রতিবেদন প্রকাশের আগে আপনি ফরেনসিক ভেরিফিকেশন করিয়ে নেবেন।

অনেক দেশেই, পুলিশ খুব বিশদভাবে তদন্ত করে না এবং তাদের বাজেট, সক্ষমতা বা ইচ্ছার ঘাটতি থাকে। তাদের কাছে প্রায়শই কোনো ডিএনএ ল্যাব বা জটিল মামলা নিয়ে কাজ করার মতো পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ থাকে না। এমন জায়গায় তদন্তের ফলাফল বাইরের কোনো বিশেষজ্ঞকে দিয়ে যাচাই করে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বা সরকারি তদন্তকারীদের কাছ থেকে যেসব ফরেনসিক প্রমাণ ও বিশ্লেষণ পাবেন, সেগুলোর ব্যাপারে সংশয়ী থাকুন। এখানে কোনো স্বার্থের সংঘাত বা দুর্নীতির সংযোগ থাকতে পারে, যা হয়তো ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে।
কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ
কিছু ক্ষেত্রে, সাংবাদিকদের সতর্ক থাকতে হবে কর্তৃপক্ষের ব্যাপারেও। মাথায় রাখতে হবে যে, তাদেরও অপরাধীদের সঙ্গে সংযোগ থাকতে পারে। ঘটনা আসলেও এমন কি না, তা জানার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন এবং অন্য যেকোনো সূত্রের মতো তাদের কথাগুলোও যাচাই করে নিন। তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও আপনি সহায়ক নথিপত্র পেতে পারেন।

তবে কিছু ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে সহায়ক ভূমিকাতেও দেখা যায়। সেসব ক্ষেত্রে এমন কোনো তথ্য প্রকাশের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, যার কারণে তাদের অনুসন্ধান বাধাগ্রস্ত হতে পারে বা নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

মানসিকভাবে বিপর্যস্তদের নিয়ে কাজ
এ ধরনের অনেক প্রতিবেদনের কেন্দ্রে থাকে স্বজন হারানোর কষ্ট। তাই আপনাকে অবশ্যই সংবেদনশীল হতে হবে। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার বা প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলার সময় ভাষার ব্যবহার নিয়ে সতর্ক থাকুন। যদি কোনো পরিবার বিশ্বাস করে, হারানো ব্যক্তিটি এখনো জীবিত, তাহলে তাদের সঙ্গে “অতীতকাল সূচক ভাষায়” তা কথা বলবেন না।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সততা ও স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। কথা বলার আগেই পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া উচিত, সাংবাদিক হিসেবে আপনি একই বিষয় নিয়ে অন্য কোনো সোর্স—যেমন অপরাধী চক্রের সদস্য বা এমন কারও সঙ্গে কথা বলেছেন কি না। এতে সেই পরিবারটি বুঝতে পারবে, ভবিষ্যতে কী হতে পারে। তবে যাচাই করা হয়নি, এমন কোনো তথ্য তাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন না। তাদের কোনো মিথ্যা আশা দেবেন না।

আগে সংঘবদ্ধ অপরাধের শিকার হয়েছেন, এমন কোনো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সময় খুবই স্পষ্টভাবে বলুন: আপনি কে এবং কী করছেন। আপনার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সেই ব্যক্তির নতুনভাবে ট্রমার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এবং সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে, তাঁরা হয়তো ভয় পেয়ে আবার লুকিয়ে যেতে পারেন। সোর্সরা যেন বিপদে না পড়েন, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।

সাংবাদিক হিসেবে আপনার সীমাবদ্ধতার কথা খেয়াল রাখুন। এবং রাখতে পারবেন না, এমন কোনো ওয়াদা করবেন না। কীভাবে কোনো ভিকটিমের সাক্ষাৎকার নেবেন, তা আগে থেকেই ভেবে নেওয়াটা জরুরি। কীভাবে এমন ভিকটিম ও সারভাইভারদের সঙ্গে কাজ করতে হয়, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ পাবেন ডার্ট সেন্টারের এই টিপশিটে। আরও পড়ুন: ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার ক্ষেত্রে মেক্সিকান সাংবাদিক মার্সেলা তুরাতির পরামর্শ।
নিজের যত্ন
নিখোঁজ খোঁজ করার কাজটা হয়ে উঠতে পারে ক্লান্তিকর, হতাশাজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে, গণকবরে গিয়েও খোঁজাখুঁজি করতে হতে পারে সাংবাদিকদের, দেখতে হতে পারে বীভৎস সব দৃশ্য। অথবা এমন কোনো ভিকটিমের সঙ্গে কাজ করতে হতে পারে, যার ওপর চালানো হয়েছে ভয়াবহ শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন।

এই ঘটনাগুলো প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। আপনি যদি খুব শক্ত মনেরও হন, তবু ট্রমা কাটিয়ে উঠতে বাইরের কারও সহায়তা দরকার হতে পারে। সহকর্মী, বন্ধু ও ভালো থেরাপিস্টের সাপোর্ট নেটওয়ার্ক তৈরির মাধ্যমে, আপনি এমন কাজের জন্য নিজেকে আগেভাগেই তৈরি রাখতে পারেন।

গাইডটি তৈরি করেছেন জিআইজেএন-এর সম্পাদনা সহযোগী হানা কুগানস। তিনি সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। হংকংয়ে গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন বন্য প্রাণী পাচারসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ে। কাজ করেছেন যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ফোর-এর বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্যও। বর্তমানে আছেন লন্ডনে।

এই গাইডে অবদান রাখার জন্য মার্সেলা তুরাতিকে বিশেষ ধন্যবাদ। তুরাতি একজন ফ্রিল্যান্স অনুসন্ধানী সাংবাদিক, যিনি নিখোঁজ মানুষ, বলপূর্বক গুম, অভিবাসীদের গণহত্যা, গণকবর এবং সহিংসতার ঘটনা অনুসন্ধানের জন্য বিখ্যাত।

গাইডটি প্রকাশিত হয়  ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে এবং আরও কিছু রিসোর্স যোগ করে ডিসেম্বর ২০২০-এ  হালনাগাদ করা হয়।

দেশ ধরে ধরে বিশ্বব্যাংকের কোভিড-১৯ অর্থায়ন ট্র্যাক করবেন যেভাবে

English

কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে অর্থ সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এখন পর্যন্ত ১০০টির বেশি দেশে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু এই অর্থ কীভাবে খরচ করা হচ্ছে? কাদের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে? এই টাকার ব্যবহার নিয়ে যদি অনুসন্ধান করতে চান, তাহলে জাতীয় পর্যায়ের ক্রয়সংক্রান্ত নথির পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অনলাইন ডেটাও আপনার কাজে আসবে।

এই রিসোর্স তৈরি করা হয়েছে এমন অনুসন্ধানকে অনুপ্রাণিত করার জন্য। এখানে আমরা দেখাব, কীভাবে বিশ্বব্যাংকের রেকর্ড সিস্টেম নিয়ে কাজ করতে হয়। জাতীয় পর্যায়ের কেনাকাটা-সংক্রান্ত নথিগুলোর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের রেকর্ডগুলো মিলিয়ে গবেষণা করার কিছু পদ্ধতির কথাও এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশ্বব্যাংকই সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক দাতা। কিন্তু আরও অনেক প্রতিষ্ঠান (যেমন ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড (আইএমএফ)) থেকেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অর্থসাহায্য দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বিস্তারিত দেখুন গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, ডেভেক্সের এই প্রবন্ধে।)

এর সঙ্গে যদি অন্যান্য দেশ ও ব্যক্তিমালিকানার ফাউন্ডেশন থেকে আসা অর্থসাহায্য যোগ করা হয়; তাহলে ডেভেক্সের তথ্য অনুসারে, “গত জানুয়ারি থেকে, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে সাহায্য দেওয়া হয়েছে ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।” দাতাগোষ্ঠীর অর্থসাহায্য নিয়ে তথ্যের জন্য দেখুন কোভিড-১৯ ফান্ডিং ট্র্যাকিং প্রোটোটাইপ (বর্ণনা পাবেন এখানে) এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রজেক্টের আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম কোভিড-১৯ ডিএফআই ট্র্যাকার।

কোভিড-১৯ মহামারিতে অনেক ক্ষেত্রে অর্থসাহায্য দেওয়া হয়েছে জরুরি ভিত্তিতে। এই দিকটি বিশেষভাবে মাথায় রেখে এবং এই তহবিল নিয়ে নয়ছয় হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে জাতীয় পর্যায়ের ক্রয় ব্যবস্থা আরও উন্নত করার পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। কার্যকর ও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কিছু বেসরকারি সংগঠনও।
বিশ্বব্যাংকের কোভিড-১৯ প্রকল্প অনুসরণ এবং কিছু স্টোরি আইডিয়া
কোভিড-১৯ সামাল দিতে যে টাকা খরচ হচ্ছে, তা এখন সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। শুধু বিশ্বব্যাংকের নথিপত্র ঘেঁটেই এ ধরনের অনেক প্রতিবেদন করা সম্ভব। যেমন:

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় পাওয়া অর্থ নিয়ে কী ধরনের প্রতারণা ও দুর্নীতি হচ্ছে? আপনার দেশে এই অর্থ দিয়ে কী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে? বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে কেমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সে ক্ষেত্রে আপনার দেশ কেমন করছে?

কোভিড-১৯: যখন আতশী কাঁচের নিচে সরকারি কেনাকাটা

English

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলার জন্য বিশ্বের দেশগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খুব দ্রুত খরচ করছে। কোন ধরণের সরকারি চুক্তির মাধ্যমে এসব অর্থ খরচ করা হচ্ছে, তা তলিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়ছে।

এই সংকট কিছু নতুন চ্যালেঞ্জ হাজির করেছে। দেশে দেশে সরকারি কর্মকর্তারা এসব কেনাকাটা করছেন জরুরি ভিত্তিতে। জনসাধারণের কাছে সেসব তথ্য ‍উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে তৈরি করছেন প্রতিবন্ধকতা, এবং তথ্য অধিকার আইনে করা আবেদনগুলোর জবাব দিচ্ছেন দেরিতে।

এমন নতুন ও পুরোনো প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও, রিপোর্টাররা প্রতিনিয়ত প্রকাশ করে যাচ্ছেন সরকারি কেনাকাটা সংক্রান্ত প্রতিবেদন।

কিভাবে এসব প্রতিবেদন তৈরি করা যায়, তার কিছু পরামর্শ থাকছে জিআইজেএন-এর এই রিসোর্স গাইডে। সঙ্গে থাকছে নানা উদাহরণ। এখান থেকে জানা যাবে: দুর্নীতির আভাস-ইঙ্গিত কিভাবে পাবেন এবং কেনাকাটা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য কোথায় মিলবে? জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায় তে বটেই, আমরা এখানে তুলে ধরেছি বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে আসা অর্থের হিসেব চিহ্নিত করার উপায়ও।

সরকারি চুক্তি ও কেনাকাটা নিয়ে কাজ করার মৌলিক পরামর্শগুলো সংক্ষেপে সংকলন করা হয়েছে এই এক পৃষ্ঠার টিপশিটে।
সূচিপত্র
তথ্য কোথায় খুঁজবেন

আগেই সতর্ক হবেন যেসব চিহ্ন দেখে

কাজ কে পেলো ঘোষণা হলে কী খুঁজবেন

ঠিকাদার ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুসন্ধান

কাজের মান যাচাই

প্রকিউরমেন্ট ডেটা ব্যবহার

আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থসাহায্য অনুসন্ধান

আরো তথ্যসূত্র

পরামর্শ কোথায় পাবেন

এই গাইডের জন্য জিআইজেএন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে ওপেন কন্ট্রাক্টিং পার্টনারশিপের কর্মীদের কাছে। তাদের সাপ্তাহিক নিউজলেটারে এসব চুক্তি নিয়ে অনুসন্ধানের নানা উপকরণ থাকে।
মৌলিক, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ
প্রথমেই আপনাকে নিজ দেশের সরকারি ক্রয় কাঠামো বুঝে নিতে হবে এবং জানতে হবে দুর্নীতি, দরপত্র জালিয়াতি, গোপনীয়তা ও প্রতারণার বিষয়গুলো খুঁজে পেতে কোন জায়গাগুলোতে নজর দিতে হবে।

এখানে থাকছে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

সাধারণত একটি ক্রয়‍চুক্তির প্রক্রিয়ায় পাঁচটি পর্যায় থাকে:

পরিকল্পনা – যখন কী কী জিনিস কিনতে হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আলোচনা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পরিকল্পনার পর্যায়টি খুব তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করা হচ্ছে। কখনো কখনো এসব সিদ্ধান্তের কথা জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করা হচ্ছে না এবং কোনো নথিপত্রও থাকছে না।
টেন্ডারিং – এই পর্যায়ে সরকার কোট, বিড বা প্রস্তাব আহ্বান করে। (কখনো কখনো এটিকে অন্য নামেও ডাকা হয়। যেমন রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল, অ্যাপ্রোচ টু মার্কেট ও সলিসিটেশন)
কাজ দেওয়া – এই পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, চুক্তিটি কার সঙ্গে করা হবে। এটা নির্ধারিত হয় হাই বিডার দেখে বা অন্য কোনো উপায়ে।
চুক্তি – এই পর্যায়ে চুক্তির নানা শর্ত বিস্তারিত লেখা হয়। এটি আইনি সমঝোতার বিষয়। কখনো কখনো, এসব চুক্তিপত্রের সংশোধন ও সংযোজনের জায়গাগুলোতে পাওয়া যায় সবচে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য।
বাস্তবায়ন – কাজটি কি শেষ হয়েছে? পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে, সরবরাহকারীর অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে? আমার দেশের কী অবস্থা? মূল বিষয়গুলো এক হলেও, সরকারি ক্রয়ের প্রক্রিয়া একেকখানে একেক রকম। খুব অল্প কিছু দেশে এটি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাপারটি তেমন নয়।

সরকারি ক্রয়ের পরিভাষা, আইনি কাঠামো ও আমলাতন্ত্র সম্পর্কে জানা থাকলে রিপোর্টিং সহজ হয়। এগুলো জানতে জনস্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংগঠন, এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ বেসরকারি পেশাজীবী এবং এমনকি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন।

কোভিড-১৯ মহামারি,  বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে। অনেক সরকারই আগেকার স্বাভাবিক ধাপ বাদ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে নানা ধরণের পণ্য ও সেবা কিনছে। ফলে স্বচ্ছতা বজায় থাকছে না।কোভিড-১৯ মহামারি,  বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে। অনেক সরকারই আগেকার স্বাভাবিক ধাপ বাদ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে নানা ধরণের পণ্য ও সেবা কিনছে। “জরুরি অধ্যাদেশ” জারির মাধ্যমে, সাধারণ নিয়মনীতি পাশ কাটিয়ে কেনাকাটা করা হচ্ছে। ফলে স্বচ্ছতা বজায় থাকছে না।

এই নতুন নিয়মনীতি হয়তো উসকে দিচ্ছে নানা দুর্নীতি। যেমন, তথাকথিত “সোল সোর্স” বা “নো-বিড” চুক্তি। প্রতিযোগিতাবিহীন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করা হয় বলে, এখানে দুর্নীতি-অনিয়মের অনেক সুযোগ থাকে। ইউরোপিয় ইউনিয়নে, সরকারগুলো কোনো বিজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেও আলোচনার ভিত্তিতে কেনাকাটার চুক্তি করতে পারে। পরিণতিতে এখানে স্বচ্ছতার ঘাটতি থেকে যায়। (ইউরোপিয় ইউনিয়নের পরিস্থিতি এবং সংস্কারের সুপারিশ সংক্রান্ত তথ্য দেখতে পারেন এখানে: অ্যাকসেস ইনফো ইউরোপ রিপোর্ট।)

ক্রয় চুক্তি সংক্রান্ত তথ্য উন্মুক্ত করার নীতিমালা ও চর্চার বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিছু দেশে সেগুলো উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। এমনকি চুক্তি সইয়ের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সেগুলো যে কেউ ডাউনলোড করতে পারে। আবার অনেক জায়গায় কম তথ্য জানানো হয় বা চুক্তি সাক্ষরের কয়েক সপ্তাহ পরে সেটি জানানো হয়।

এ কারণে নিজ নিজ দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাটা গুরুত্বপূর্ণ। আইন ও কেনাকাটা সংক্রান্ত সংস্থার দেশভিত্তিক তথ্য জানতে পারবেন বিশ্বব্যাংকের এই ডেটাবেজ থেকে। দেখতে পারেন ওসিপির সংক্ষিপ্ত তালিকাও।

সংবাদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া

সরকারের কোনো চুক্তি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক  ঘোষণা পাওয়া যেতে পারে সরকারি প্রকাশনা বা ওয়েবসাইটে। কোথায়, কিভাবে এগুলো প্রকাশিত হয়, তা খুঁজে বের করার জন্য স্থানীয় জ্ঞান খুব জরুরি।

মাথায় রাখুন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের মতোই রাজ্য, আঞ্চলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও (যেমন হাসপাতাল) কেনাকাটা হচ্ছে।

তথ্য পাওয়ার সম্ভাব্য সূত্রগুলো নিয়মিত নজরে রাখুন। এগুলোর মধ্যে থাকতে পারে ক্রয়-কমিটির সভার সারাংশ, প্রেস রিলিজ, ই-প্রকিউরমেন্ট পোর্টাল, সংবাদপত্রে দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি। এগুলোতে কোনো ক্রয় কর্মকর্তার নাম আছে কিনা, এ জাতীয় বিষয়গুলো খেয়াল করুন।

বাজার ব্যবস্থা ভালো বোঝেন, এমন কোনো সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করুন। স্বাস্থ্য বিষয়ক রিপোর্টাররা, অর্থবাণিজ্য বিষয়ক রিপোর্টারদের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করতে পারেন।

কেনাকাটার এই পদ্ধতির প্রতিটি পর্যায়ে কোন ডেটা ও তথ্যগুলো প্রাসঙ্গিক, তা জানা থাকলে আপনি সব কিছু এক জায়গায় জুড়তে পারবেন এবং কোন জায়গায় অব্যবস্থাপনা, প্রতারণা ও দুর্নীতির ঝুঁকি রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে পারবেন।

(ডেটা স্ক্রাপিং নিয়ে আরো আলোচনা আছে নিচে)

সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো তথ্য অবশ্যই ‍গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভেতরকার খবরও জানতে হবে।

এধরনের তথ্যের জন্য সম্ভাব্য আদর্শ জায়গা হতে পারে বাণিজ্যিক প্রতিযোগীরা। কাজের জন্য আবেদন করে হেরে যাওয়া কোম্পানি হয়তো তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে পারে। এই পুরো প্রক্রিয়া ও নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানাতে পারে। প্রকিউরমেন্ট এজেন্সিগুলো সাধারণত বিডারদের কাছ থেকে আসা, এমন অভিযোগের রেকর্ড রাখে। আপনি যদি খুব ভাগ্যবান হন, তাহলে এসব নথিপত্র তাদের ওয়েবসাইটের কোথাও পেয়ে যেতে পারেন।

যাদের ওপর এই এই কেনাকাটা প্রক্রিয়ার প্রভাব পড়বে, তাদের সঙ্গে কথা বলুন। যেমন হাসপাতালের ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, ও নার্স।

কোনো কোনো তথ্য পাওয়ার জন্য হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার প্রয়োজনও হতে পারে। কোভিড-১৯ বিষয়ে কিভাবে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করবেন তা নিয়ে দেখতে পারেন জিআইজেএন-এর এই পরামর্শগুলো।

চিহ্ন দেখে দুর্নীতি চেনা
কেনাকাটায় প্রতারণা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা দুর্নীতির কিছু লক্ষণ সনাক্ত করেছেন। এগুলো সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে সাহায্য করবে। এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে বুঝতে হবে দুর্নীতি-অনিয়মের শংকা আছে।

করোনাভাইরাস সংক্রান্ত কেনাকাটার ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু চিহ্নের দিকে খেয়াল রাখব।

এ বিষয়ে ওসিপির পরামর্শ: “ক্রয়প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে আলাদা আলাদা কিছু লক্ষণ দেখা যায়। ক্রমাগত তথ্য যাচাই করা এবং কোথাও পর্যাপ্ত ডেটা না থাকলে সেটি স্পষ্ট করে বলে দেওয়ার মাধ্যমে রিপোর্টিংয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে পারেন। শুধু একটিমাত্র লক্ষণের ওপর ভরসা করবেন না। যতটা সম্ভব বেশি আঙ্গিক থেকে বিবেচনা করুন। স্বার্থের সংঘাত নিয়ে চট করে কোনো সিদ্ধান্তে চলে আসবেন না। প্রায়ই দেখা যায়, কোনো বিষয় বাস্তবের চেয়ে বেশি সন্দেহজনক মনে হয়। এবং সেখানে প্রেক্ষাপটের ঘাটতি থাকে বা ডেটায় ভ্রান্তি থাকে।

দুর্নীতি-অনিয়ম চেনার চিহ্ন সম্পর্কে আরো তথ্যের হদিস আছে নিচে।

পরিকল্পনা পর্যায়ে সতর্ক চিহ্ন

বর্তমান পরিস্থিতিতে, ক্রয়-পরিকল্পনা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হচ্ছে খুব দ্রুত এ সংক্ষেপে। তারপরও এই পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: যে পণ্য বা সেবা কেনা হচ্ছে, সেগুলোর আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা এবং এখানে কোন কোন সংস্থা জড়িত।

এই পর্যায়ে আপনি সহায়তা পেতে পারেন সরকারি বিভিন্ন নথিপত্র থেকে। কিন্তু তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ করে সেগুলো পেতে গেলে সময়ের প্রয়োজন। এখন অনেক সরকারই তথ্য অধিকার আইনে করা আবেদনের উত্তর দিতে অনেক সময় নিচ্ছে।

কী দেখবেন এসব নথিপত্রে?