দীর্ঘ অনুসন্ধানে মনোযোগ ধরে রাখার ৬টি উপায়

কোনো কোনো সময় আপনি এমন অনুসন্ধানের মুখোমুখি হবেন, যা পদে পদে আপনাকে ভোগাবে। মাসের পর মাস গেলেও মনে হবে, কাজ ততটা এগুচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেন। পুলিৎজার পুরষ্কারের জন্য মনোনীত ”হার্টব্রোকেন” শিরোনামের অনুসন্ধানটি করতে গিয়ে একই সমস্যায় পড়েছিল মার্কিন পত্রিকা টাম্পা বে টাইমস। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা নিজেদের কীভাবে ধরে রেখেছিল – এখানে তা-ই তুলে ধরেছেন তাদের প্রতিবেদক নিল বেদি।

ডাঙায় বসে সাগরে থাকা জাহাজ অনুসরণ করবেন যেভাবে

English

বিশ্বের জলপথে ৯০,০০০ এর বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন সহজেই ট্র্যাক করা যায়, কোন জাহাজ কোথায় অবস্থান করছে। তা-ও বিনামূল্যে।

সাগরে চলাচলকারী এইসব জাহাজ (বড় ইয়ট এবং মাছ ধরার নৌকাসহ) ট্র্যাক করার যত রিসোর্স আছে, তার একটি বিশদ তালিকা সংকলন করেছে জিআইজেএন।

এখন সহজেই জানা সম্ভব, কোন জাহাজ কোথা থেকে এসেছে এবং ঠিক ঐ মুহূর্তে তারা কোথায় যাচ্ছে।  এছাড়াও, জাহাজের মালিক কে, আপনি তা-ও অনুসন্ধান করতে পারবেন। জানতে পারবেন জাহাজ সম্পর্কে নানা ধরণের তথ্য, দেখতে পারবেন সেই জাহাজের ছবিও। এমন টুলও আছে যা আপনাকে বলে দেবে, জাহাজটিতে থাকা পণ্য-ভর্তি কন্টেইনারের গন্তব্য কোথায়।

এই বিষয়ে সার্বিক ধারণা পেতে চাইলে, “পণ্যের শিপমেন্ট ট্র্যাকিংয়ের জন্য কাস্টমসের যে ভাষা জানতে হবে” শিরোনামের প্রেজেন্টেশনটি দেখুন। ২০১৮ সালের এশিয়ান ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্সে এটি উপস্থাপন করেন কলম্বিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক জিয়ানিনা সেগিনিনি।  তিনি এখানে তুলে ধরেছেন কাস্টমস কোড ও বিল অব লেডিংয়ের ব্যবহার এবং কন্টেইনার ও জাহাজ ট্র্যাকিংয়ের নানা উপায়। জাহাজ, চোরাচালান ও সরবরাহ চেইন অনুসরণ করবেন কীভাবে- এই লেখা থেকে আপনি জাহাজ অনুসরণ সম্পর্কে আরো জানতে পারবেন।

এই মানচিত্র আপনাকে চমকে দেবে। এখানে দেখবেন মহাসাগরে ঠিক এই মুহূর্তে ঠিক কত জাহাজ চলাচল করছে।

অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে জাহাজ ট্র্যাক করতে হয়, তার বিবরণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন। প্রতিদিন প্রায় ১৮০,০০০ জাহাজ থেকে পাঠানো এআইএস সংকেত বিভিন্ন স্টেশন এবং উপগ্রহের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এই বিষয়ে বেশিরভাগ তথ্য বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তবে স্পর্শকাতর, একেবারেই হালনাগাদ বা ঐতিহাসিক তথ্যের জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে টাকা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করতে হয়। কত টাকা লাগবে তা নির্ভর করে আপনি কেমন তথ্য চাইছেন তার ওপর। তবে সাধারণত এই ধরনের সেবার সাবস্ক্রিপশন ফি মাসে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত  হতে পারে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের সাথে কাজ করতে আগ্রহী। তারা আপনাকে ছবি এবং নানারকম তথ্য যোগান দিতে পারে।
ট্র্যাকিংয়ের ডেটা যত কাজে লাগে

সমুদ্রে জাহাজের সংঘর্ষ নিয়ে প্রতিবেদন করতে হলে ট্র্যাকিংয়ের ডেটা একরকম অপরিহার্য, তা সেটি স্পট রিপোর্টিংই হোক বা অনুসন্ধানী। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি রণতরী এবং সিঙ্গাপুরের একটি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে ২০১৭ সালে হওয়া সংঘর্ষের প্রতিবেদন যেভাবে তৈরি করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস, তার একটি উদাহরণ পাবেন এখানে। এই রিপোর্টের জন্য তাদেরকে তথ্য যোগান দিয়েছিল মেরিন ট্রাফিক।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা আরো নানা উপায়ে শিপিং ডেটা ব্যবহার করেছেন। এখানে তার কিছু উদাহরণ:

উত্তর কোরীয় জাহাজের চলাচল ফাঁস: সিএনএনের সাংবাদিক জশুয়া বার্লিংগারের প্রতিবেদন, উত্তর কোরিয়ার রহস্য-তরী:  হাও ফ্যান ৬ এর অদ্ভুত গল্প। আরো দেখতে পারেন, রয়টার্সের পোলিনা নিকোলস্কায়ার তৈরি রিপোর্ট, নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে উত্তর কোরিয়ার জ্বালানিবাহী জাহাজ কীভাবে রাশিয়া যাতায়াত করছে।
ট্রান্সপন্ডার বন্ধ হওয়ার পর জাহাজের গতিবিধি জানা: টাইমস অব লন্ডনের জন্য ফিয়ানা হ্যামিলটন লিখেছেন, সন্ত্রাসী এলাকার কাছে হঠাৎ অন্ধকারে পণ্যবাহী জাহাজ, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। ওশানা নামের একটি এনজিও তাদের একটি রিপোর্টে একই বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করেছে। তাদের রিপোর্টের নাম, যেভাবে সনাক্তকরণ এড়াতে চায় জাহাজ: সম্ভাব্য এআইএস ফাঁকির বৈশ্বিক কেস স্টাডি।
থাই সীফুড শিল্পে দাসপ্রথার সন্ধান: পিবিএস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে, এপি’র রিপোর্টার মার্থা মেন্ডোজা বর্ণনা করেছেন, তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা কীভাবে “মাছবাহী একটি জাহাজে মালামাল পরিবহনের ভিডিও এবং তার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।” তিনি আরো বলেন: “সেই জাহাজে এটি একটি স্যাটেলাইট ট্র্যাকার ছিল এবং সেই ট্র্যাকারটি একটি লোকেটরে নিজের অবস্থান জানান দিয়ে যাচ্ছিল। এরফলে আমরা ইন্টারনেটেই দেখতে পাচ্ছিলাম জাহাজটি কোথায় যাচ্ছে। এভাবে একটানা দুই সপ্তাহ, আমরা জাহাজটিকে ট্র্যাক করি, একেবারে বন্দরে পৌঁছা পর্যন্ত। যখন এটি বন্দরে পৌঁছায়, তখন এপির দলও সেখানে যায়। আমরা দেখতে পাই, পিকআপ ট্রাকে তোলা হচ্ছে জাহাজের মাছ। আমরা সেই ট্রাকগুলোকে কারখানাতে যাওয়া পর্যন্ত অনুসরণ করি।”

অনলাইনে ব্যক্তির খোঁজ: পল মায়ার্সের যত পরামর্শ

অনলাইন অনুসন্ধানের গুরু বলে ধরা হয় বিবিসির পল মায়ার্সকে। জিআইজেএনের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সম্মেলনগুলোতে তার সেশন দারুন জনপ্রিয়। অনলাইন ঘেঁটে মানুষ সম্পর্কে তথ্য খুঁজে বের করার নানান কৌশল আর টুলের কথা জানতে সবাই সেখানে ভিড় জমান। সম্প্রতি তাকে নিয়ে একটি ওয়েবিনার আয়োজন করি আমরা। পড়ুন, সেখানে তিনি কী বলেছেন।

ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জঙ্গি অর্থায়ন ট্র্যাকিং করবেন যেভাবে

টাকা লেনদেনের আনুষ্ঠানিক পথগুলো নজরদারির কারণে বন্ধ হয়ে পড়ায়, এখন অবৈধ অর্থ বিনিময় এবং সন্ত্রাসী অর্থায়নের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। কিন্তু অনেকেরই জানা নেই কীভাবে অনুসন্ধান করতে হয়, ভার্চুয়াল মুদ্রার এই অচেনা জগতে। এই প্রতিবেদনে, অনুসন্ধানের সেই পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে ধাপে ধাপে।

স্যাটেলাইট ছবিতে জীবন্ত হয়ে উঠেছে যে ৯টি অনুসন্ধান

স্যাটেলাইট ছবি এখন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সত্যানুসন্ধান থেকে শুরু করে কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতির প্রভাব অনুধাবন বা অবস্থার নিখুঁত বিবরণ জানতে, হরহামেশাই এর ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। সংঘাতপ্রবণ এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘন বা চলমান ঘটনাবলীর প্রকৃত ও সঠিক চিত্র তুলে আনার ক্ষেত্রেও স্যাটেলাইট ছবি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এখানে তেমন কিছু উদাহরণ।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় জরিপ: যে খবর এড়িয়ে যাওয়া কঠিন

কখনো কখনো ছোট ছোট স্থানীয় সংবাদপত্র এমন সব বড় খবরের জন্ম দেয়, যা হেভিওয়েট জাতীয় পত্রিকাগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় না। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় দুইশ কিলোমিটার দূরে, যশোরের গ্রামের কাগজের ঘটনাও ঠিক একই রকম।

অনলাইনে অনুসন্ধানের যত টুল

English
বিবিসির সাংবাদিক পল মায়ার্স, অনলাইনে অনুসন্ধানের জন্য বিখ্যাত। তাঁর অনলাইন গবেষণা টুল এবং অনুসন্ধানের কৌশল শিরোনামের লেখাটি দীর্ঘ দিন ধরেই জিআইজেএন পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়। মায়ার্সের ওয়েবসাইট, রিসার্চ ক্লিনিক বিভিন্ন গবেষণা লিংক ও পাঠ্য বিষয়বস্তুতে সমৃদ্ধ।

“অনলাইন অনুসন্ধান এবং  গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেইজ” নামে আমাদের একটি ভিডিও আছে। দেখতে চাইলে  ঘুরে আসুন জিআইজেএনের ইউটিউব চ্যানেল থেকে।মায়ার্সের লেখা আরো কিছু নির্দেশিকা পাবেন জিআইজেএনের ওয়েবসাইটে। যেমন:

টুইটার ব্যবহার করে ব্রেকিং স্টোরির দৃশ্য থেকে মানুষ খুঁজে বের করুন
আপনার ব্রাউজার কাস্টমাইজ করুন: অনলাইন গবেষণায় অ্যাড-অনস্ ব্যবহার
ব্রাউজার অ্যাড-অনস্ (দ্বিতীয় খন্ড): যথাসময়ে পেছনে ফিরে দেখা

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স ফ্রেমওয়ার্ক, হচ্ছে খুবই বিস্তারিত ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অনুসন্ধানী টুলের তালিকা। এছাড়া জিআইজিএনের অ্যালাস্টেয়ার ওটারের কলাম অনুসন্ধানী টুলবক্স থেকে জানতে পারবেন নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কে:

নাম ও ওয়েবসাইট ট্র্যাকিং, ভিডিও যাচাই এবং ক্লাস্টারিং সার্চ ইঞ্জিন
অন্তর্জালে জাল পেতে মানুষ খোঁজার পদ্ধতি
ব্যক্তি ও কোম্পানির খোঁজে
গোপন ডকুমেন্ট শেয়ার, টুইটারে তথ্য অনুসন্ধান এবং ওয়েবসাইটে নজরদারি
স্প্রেডশিট ছাড়িয়ে ওয়েবের গভীরে অনুসন্ধান

ইন্টেল টেকনিক মূলত মাইকেল বাজেলের সৃষ্টি। তিনি এক সময় মার্কিন সরকারের সাইবার অপরাধ তদন্তকারী হিসেবে কাজ করতেন। এখন লেখালেখি করেন। ইন্টেল টেকনিক মূলত ওয়েবে দ্রুত অনুসন্ধানের জন্য কাজে আসে, এমন কয়েক ডজন টুলের সংগ্রহ। এখানকার বেশিরভাগ টুল দিয়ে আপনি একই সাথে অনেক জায়গায় অনুসন্ধান চালাতে পারবেন। “টুলসের” নিচে বাম দিকের কলামে রিসোর্সগুলো সুসজ্জিত দেখতে পাবেন। (১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত এই ব্লগ পোস্টে নতুন কিছু ফিচার নিয়ে বিশ্লেষণ রয়েছে।) তার এই লেখায় জানতে পারবেন, অনলাইনে গাড়ির মালিক অনুসন্ধান করবেন কীভাবে। তাদের একটি নিউজ লেটার আছে এবং তিনি এই বিষয়ে প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন।

কে, কোথায়, কখন সম্পর্কে অনুসন্ধান করার অনলাইন পদ্ধতি – এটি লিখেছেন অনলাইন অনুসন্ধান বিশেষজ্ঞ হেঙ্ক ফন এস। জিআইজেএন পাঠকদের জন্য ভেরিফিকেশন হ্যান্ডবুকের এই অংশ তুলে ধরা হয়েছে।

ডিপ ওয়েবে অনুসন্ধান, জিয়ানিনা সেগনিনির তৈরি একটি প্রেজেন্টেশন। এটি তিনি তুলে ধরেন জিআইজেসি১৭-তে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেটা জার্নালিজম কর্মসূচীর এই পরিচালক, এখানে অ্যাডভান্সড গুগল সার্চের নানা উপায় তুলে ধরেছেন। মাদক পাচারের উদাহরণ ব্যবহার করে তিনি দেখিয়েছেন গুগল কীভাবে ডিপ ওয়েবে অনুসন্ধানের জন্য সেতু হিসেবে কাজ করে। কনটেইনার, জাহাজ, এবং কাস্টমস ট্র্যাকিংয়ের পাশাপাশি এখানে উঠে এসেছে ফেসবুক সার্চ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়।

দরকারি টুল, লিংক এবং রিসোর্স শিরোনামের এই তালিকা তৈরি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাউদার্ন টিপ মিডিয়ার সাংবাদিক ও প্রশিক্ষক রেমন্ড জোসেফ। এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভেরিফিকেশন, ডোমেইন, আইপি তথ্য ও  আন্তর্জাতিক ফোনবুকসহ ছয়টি বিষয়ে গবেষণার ওপর একটি তথ্য ভান্ডার। আর জিআইজেসি১৭-তে উপস্থাপন করা এই প্রেজেন্টেশনে জোসেফ ব্যাখ্যা করেন, “আপনি কীভাবে ডিজিটাল গোয়েন্দা হবেন”।

এএমএল রাইটসোর্স, একটি বেসরকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান। তারা “শুধু অর্থ পাচার প্রতিরোধ, ব্যাংক গোপনীয়তা আইন এবং আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে কাজ করে।” প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছে রিসোর্স শিটের এই সংকলন।

ইনভেস্টিগেট উইথ ডকুমেন্ট ক্লাউড, লিখেছেন ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার্স অ্যান্ড এডিটর্স (আইআরই) এর নির্বাহী পরিচালক ডগ হ্যাডিক্স। এই নির্দেশিকায় পাবেন সাংবাদিকদের শেয়ার করা ১.৬ মিলিয়ন সরকারি নথির ব্যবহার ও বিশ্লেষণ করার পদ্ধতি এবং নিজের নথি হাইলাইট, অন্যান্যদের সাথে সমন্বয়, ডকুমেন্ট ওয়ার্কফ্লো ব্যবস্থাপনা ও নিজের কাজ অনলাইনে শেয়ার করার কৌশল।

মালাকি ব্রাউনির টুলকিট, মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্রিক অনুসন্ধানের জন্য দরকারি টুলের একটি তালিকা। এই তালিকায় ৮০টিরও বেশি ওপেন সোর্স অনুসন্ধানী টুলের লিংক পাবেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রযোজক জিআইজেসি১৭’-তে তার সেশনের শেষ দিকে যখন এই স্লাইডটি দেখালেন, তখন প্রায় সব দর্শকই সেটি ব্যবহারের জন্য তাঁর কাছে অনুরোধ পাঠান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসন্ধান নামের প্রেজেন্টেশনটি জিআইজেসি১৭-তে উপস্থাপন করেন মাইকেল সালজউইডেল। “নট হ্যাকিং, নট ইলিগ্যাল” এই বাক্য দিয়ে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। তিনি ‘সোস্যাল উইভার’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রশিক্ষক।

সাবেক কর্মীদের কীভাবে খুঁজবেন শিরোনামের লেখাটি জেমস মিনজের। তিনি মিনজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, প্রেসিডেন্ট  এবং একজন অভিজ্ঞ প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর। তিনি মনে করেন, “অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তৈরির জন্য সাবেকদের সাথে যোগাযোগের এই ১০টি পরামর্শ বেশ কার্যকর।”

অনুসন্ধানী গবেষণার যত লিংক, সংকলন করেছেন মারগট উইলিয়াম। দ্য ইন্টারসেপ্টের সাবেক এই গবেষণা সম্পাদক “কার্যকর গুগল অনুসন্ধান” থেকে শুরু করে “রিসার্চ গুরু” সাইটের তালিকা পর্যন্ত – বিশদ পরামর্শ তুলে ধরেছেন এখানে।

বেলিংক্যাটের অনলাইন অনুসন্ধানী টুলকিট, মূলত মানচিত্র, ভৌগলিক অনুসন্ধান, ছবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পরিবহন, ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন, বিশেষজ্ঞ এবং আরো অনেক কিছুর বিশদ এক তথ্যসম্ভার।

ব্যুরো লোকাল কোলাবরেটিভ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম টুল, একটি ক্রাউড-সোর্সড স্প্রেডশিট। এখানে ৮০টিরও বেশি তালিকা রয়েছে। এর কয়েকটি পৃষ্ঠপোষকতা করেছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম।

রিপোর্টারদের জন্য টুল নামের সাইটটি তৈরি করেছেন সামাস্থা সান। খুঁজে পাওয়া দুষ্কর এমন ই-মেইল অনুসন্ধান বা এই জাতীয় নতুন নতুন কৌশল নিয়ে গ্রাহকদের নিয়মিত ই-মেইল পাঠান তারা।

এসপিজে জার্নালিস্টস্ টুলবক্স: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টসের হয়ে এটি উপস্থাপন করেছেন মাইক রাইলি। এটি দরকারি অনলাইন টুলের একটি সংকলন।

ডেভিড ট্রাইলিং, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শোরেনস্টেইন সেন্টার-এর জার্নালিস্টস্ রিসোর্সের নিজস্ব লেখক। অনলাইনে গবেষণাপত্র খোঁজার উপায় নিয়ে তিনি লিখেছেন একাডেমিক গবেষণা কীভাবে খুঁজবেন।

ওয়ার্ল্ড ১৯২.কম-এ আছে আন্তর্জাতিক টেলিফোন ডাইরেক্টরির একটি তালিকা।

ভিপিএন এবং গোপনীয়তা বিষয়ে একাডেমিক গবেষণার জন্য ডিপ ওয়েব সার্চ ইঞ্জিনের ব্যবহার, নামের প্রবন্ধটি লিখেছেন ক্রিস স্টোবিং। এটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানী কম্পেয়ারিটেক। এর লক্ষ্য, ভিপিএনের মত প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় গ্রাহকদের যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।

ভিপিএন এবং গোপনীয়তা বিষয়ে পল বিশপের প্রবন্ধ ধাপে ধাপে নিরাপদে ডার্ক নেট এবং ডিপ ওয়েবে প্রবেশের নির্দেশিকা। এটিও প্রকাশ করেছে কম্পেয়ারিটেক।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেন এডুকেশন ডেটাবেজের তৈরি সংকলন, গুগল ছাড়াই গবেষণা: ৫৬টি নির্ভরযোগ্য, অদৃশ্য এবং বিস্তৃত রিসোর্স। এখানে পাবেন সব ধরণের অনলাইন শিক্ষণ ডিরেক্টরির বিবরণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক এনজিও দ্য ইঞ্জিন রুম তৈরি করেছে ইন্ট্রোডাকশন টু ওয়েব রিসোর্সেস। এর একটি অংশে বলা আছে, হারিয়ে যাওয়া থেকে তথ্যকে রক্ষার জন্য কীভাবে, কোথায় কপি করে রাখবেন।

অসাম পাবলিক ডেটাসেট হলো নানা ধরণের সরকারি তথ্যের বিষয়ভিত্তিক সংকলন।

রিসোর্সেস ফ্রম স্টার্টমি.কম একটি রিসোর্স সংকলন । বিনামূল্যের এই লাইব্রেরির পাঁচটি পেইজে আছে শত শত লিংক:

অ্যাডঅন: https://start.me/p/nRQNRb/addons

ডেটাবেইজ: https://start.me/p/QRENnO/databases

সার্চ ইঞ্জিন: https://start.me/p/b56G5Q/search-engines

টুল: https://start.me/p/wMdQMQ/tools

টিউটোরিয়াল: https://start.me/p/aLBELX/tutorials

ডেটা বেইজেস্ নামের ওয়েবপেইজে নানা ধরনের  লিঙ্ক পাবেন। যেমন, চুরি হয়ে যাওয়া সম্পত্তি, আবহাওয়া, হ্যাকিং, মিডিয়া, যানবাহন চলাচল, বিশ্লেষণ, ডোমেইন নিবন্ধন, ভবন, প্রাণী, ড্রোন, অর্থ সংক্রান্ত এবং আরো অনেক কিছু।

মেরি এলেন বেটসের বেটস ইনফো টিপস হলো, নতুন নতুন ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে জানার দারুন একটি উৎস। যেমন, সময় দিয়ে গুগল নিউজ সার্চ সীমিত করা এবং ফেসবুক গ্রাফ সার্চের মাধ্যমে ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা। লেখিকা হলেন বেটস ইনফরমেশন সার্ভিসেসের প্রতিষ্ঠাতা এবং দীর্ঘ দিনের ‘ইনফো গীক্’।

রিসার্চ বাজের গোয়িং ওল্ড স্কুল টু সল্ভ এ গুগল সার্চ প্রবলেম লেখাটি গুগল অনুসন্ধানের ফলাফল থেকে কিছু সাইট বাদ দেয়ার একটি পদ্ধতি বর্ণনা করে।

মেক ইউজ অফ নিয়মিত ভালো ভালো পরামর্শ দিয়ে থাকে, যেমন-চারটি বেনামী ওয়েব ব্রাউজার যা আপনার পরিচয় গোপন রাখবে।

সার্চ ইঞ্জিন জার্নাল প্রকাশ করেছে, ৬টি অনন্য কী-ওয়ার্ড রিসার্চ টুল, যা আপনার জানা প্রয়োজন।

এই টুলটি আপনার চারপাশের ক্যামেরাগুলোকে দেখিয়ে দেয় – এই লেখায় জানতে পারবেন আশপাশের অনিরাপদ সার্ভিল্যান্স ক্যামেরাগুলো কীভাবে খুঁজে বের করবেন।

জিডিপিআর পরবর্তী ডোমেইন নাম গবেষণা: এখানে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় সাধারণ ডেটা সুরক্ষা আইনের কারণে ডোমেইন নাম নিবন্ধন নিয়ে অনুসন্ধান কেন কঠিন হয়ে উঠেছে। এ ধরণের গবেষণায় এখন বিভিন্ন টুল এবং কৌশলের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলে মনে করে ওসিন্ট কিউরিয়াস ।

একজন মায়ের ডায়েরি থেকে যেভাবে জন্ম নিলো মারাত্মক এক অনুসন্ধানী ন্যারেটিভ

প্রোপাবলিকা ইলিনয়ের সাংবাদিকরা গত অক্টোবরে কিয়েরনানের নির্দেশনায় “উই উইল কিপ অন ফাইটিং ফর হিম” শিরোনামের একটি অনুসন্ধানী ন্যারেটিভ প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনের মূল উপাদান ছিল অদ্ভুত এক ব্যক্তিগত নথি।