প্রবেশগম্যতা সেটিংস

লেখাপত্র

টুলবক্স: অন্তর্জালে জাল পেতে মানুষ খোঁজার পদ্ধতি

English

ইন্টারনেট ভিত্তিক অনুসন্ধানে মূলত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ছোট ছোট তথ্য সংগ্রহ করে, সেগুলোকে সাজিয়ে, একটি সামগ্রিক চিত্র তৈরি করতে হয়। এর ওপরই নির্ভর করবে আপনার গবেষণা কতটা কার্যকর। ইমেল ঠিকানা, ইউজার নেম, বিভিন্ন সাইটে অ্যাকাউন্ট – এমন তথ্য দিয়ে আপনি যে কারো প্রোফাইল তৈরি করতে পারেন এবং সেটি কাজে লাগাতে পারেন আরো গভীর অনুসন্ধানের জন্য।

ইমেল ঠিকানা কীভাবে পাবেন?

হান্টার ডট আইও

আপনি যে ব্যক্তি বা সংস্থাকে নিয়ে গবেষণা করছেন তাদের ইমেল ঠিকানা খুঁজে বের করাই হচ্ছে অনলাইন অনুসন্ধানের প্রাথমিক ভিত্তি। অনেকে অনুমাননির্ভর ঠিকানায় একটি ইমেইল পাঠিয়ে অপেক্ষায় থাকেন, সেটি (বাউন্স ব্যাক) প্রত্যাখ্যাত হয়ে ফিরে আসে কিনা (যদি ফিরে না আসে তাহলে ইমেইলটি সঠিক ধরে নেয়া হয়)। কিন্তু এটা কোনো কার্যকর পদ্ধতি নয়। কারণ, এতে প্রতিপক্ষ আপনার গবেষণার বিষয় সম্পর্কে সতর্ক হয়ে যেতে পারে।

ইমেইল ঠিকানা খোঁজার একটি ভালো উপায় হল হান্টার.আইও। এই অনলাইন সার্ভিসের মাধ্যমে (১০০ অনুসন্ধান চালানো যায় বিনামূল্যে) সহজে নির্দিষ্ট ডোমেইনের সাথে যুক্ত ইমেল ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়। ধরুন, আপনি অনুসন্ধান করছেন মাইক্রোসফট নিয়ে। ডোমেইন নাম দেয়ার সাথে সাথে মাইক্রোসফটের সাথে যুক্ত হাজার হাজার ইমেল ঠিকানা দেখিয়ে দেবে হান্টার। প্রতিটি ইমেল ঠিকানার জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া লিঙ্কও তুলে ধরবে সার্ভিসটি।

নামের তালিকা ধরে একসাথে অনেক ইমেইল ঠিকানা অনুসন্ধানের সুযোগ দেয় হান্টার। কোনো ইমেইল ঠিকানায় বার্তা পাঠিয়ে সেটি এখনো কার্যকর আছে কিনা তা-ও যাচাই করা যায় এর মাধ্যমে। গুগল ক্রোম এর জন্য হান্টারের একটি ব্রাউজার এক্সটেনশান আছে, যা দিয়ে তাদের বেশিরভাগ সেবা ব্যবহার করা যায়, দ্রুতগতিতে।

কারো ইউজার নেইম খুঁজছেন?

ইউজার শার্লক

আরেকটি দরকারী গবেষণা কৌশল হচ্ছে, ইউজারনেইম অনুসন্ধান। এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে কার কী সংযোগ তা জানা যায়। ধরুন, আপনি জানেন কোনো ব্যক্তির একটি অনলাইন সাইটে একটি নির্দিষ্ট ইউজারনেইম আছে। সেই নামে সার্চ দিয়ে, তিনি আর কোন ওয়েবসাইট বা অনলাইন সার্ভিসের সাথে যুক্ত, তা অনুসন্ধান করতে পারেন। আপনি যদি সঠিক ইউজারনেইম না-ও জানেন, তবু তার নামের অংশ বিভিন্নভাবে সাজিয়ে সার্চ দিতে পারেন। এই কৌশল প্রায়ই ফলপ্রসূ হয়।

একাধিক সাইট থেকে ইউজারনেইম খুঁজে বের করার জন্য বেশ কিছু সার্ভিস আছে। তাদেরই একটি ইউজার শার্লক। কোনো নাম লিখে সার্চ দিলে ২০টির বেশি জনপ্রিয় অনলাইন সাইট ঘেঁটে একই ইউজারনেইমে থাকা অন্যান্য অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করে ইউজার শার্লক।

গবেষণাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে চাইলে যেতে পারেন ইন্টেলটেকনিক্স-এ। এটি এমন এক সার্ভিস, যা ইউজার শার্লকসহ একই রকমের আরো ২০টি সাইটে অনুসন্ধান চালায়।  ইন্টেলটেকনিক্স মূলত অন্য সব ‘ইউজারনেইম সার্চ সাইট’ ঘাঁটাঘাটি করে অপ্রত্যাশিত রকমের বড় ফলাফল এনে দেয়।

খুঁজে দেখুন ওয়েব খুঁড়ে

অনলাইনে যেসব অনুসন্ধান টুল পাওয়া যায় তাদের বেশিরভাগই একটি নির্দিষ্ট ধরণের তথ্য খুঁজে বের করার জন্য: যেমন, ইমেইল ঠিকানা, ইউজারনেইম, ইত্যাদি। কিন্তু এখন এমনও বেশ কিছু টুল আছে, যাদের মাধ্যমে একসাথে কয়েক ডজন বা এমনকি শত শত সোর্স থেকে তথ্য খুঁজে বের করা সম্ভব। এগেুলো যে কোনো অনুসন্ধানী কাজে, তথ্য আবিষ্কারের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। এমন কাজের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় টুল ইন্টেলটেকনিক্স। এটি অনুসন্ধানের কয়েক ডজন জনপ্রিয় উৎসকে একটি একক টুলের অধীনে নিয়ে আসে। এই তালিকায় নতুন সংযোজন স্পাইডারফুট। এতে অনেক ধরণের OSINT (ওপেন সোর্স বুদ্ধিমত্তা) খোঁজা যায়।

ওয়েবে ম্যাপিং: স্পাইডারফুট শত শত উন্মুক্ত উৎসে অনুসন্ধান চালিয়ে তার ফলাফলকে ছবির মাধ্যমে তুলে ধরতে পারে। ক্রেডিট: স্ক্রিনশট।

স্পাইডারফুট হচ্ছে পাইথনে লেখা একটি ওপেন সোর্স টুল। এটি একসাথে ১০০ উন্মুক্ত ডেটা সোর্স থেকে তথ্য খুঁজে বের করতে পারে। এখান থেকে পাওয়া ফলাফল ভিজ্যুায়ালাইজ করা যায়, অধিকতর বিশ্লেষণের প্রয়োজনে। এই তালিকার অন্য টুলগুলোর তুলনায় স্পাইডারটুল কিছুটা টেকনিক্যাল এবং এটি ব্যবহারের জন্য আগে কম্পিউটারে ডাউনলোড করে নিতে হয়। কীভাবে কোন প্লাটফরমে একে ইন্সটল করতে হবে, তার একটি বিশদ নির্দেশনা পাওয়া যায়।  যদিও সেখানে শুধু উইন্ডোজ এবং লিনাক্স প্লাটফরমের কথা বলা আছে, কিন্তু আমি ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমেও একে ইন্সটল করেছি এবং চালিয়ে দেখেছি। প্রাথমিকভাবে স্পাইডারফুট ব্যবহার কঠিন বলে মনে হতে পারে, কিন্তু একটু সময় দিয়ে ব্যবহারপদ্ধতি শিখে নিলে মনে হবে, সময়টা অপচয় হয়নি।

নিজের তথ্য নিরাপদ রাখবেন কীভাবে?

অনলাইন গবেষণায় মনোনিবেশের পর বুঝতে পারবেন, আপনি যেভাবে অপরের তথ্য খুঁজে বের করছেন, তেমনি অন্য কেউ খুব সহজে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য খুঁজে বের করতে পারে। নাম এবং পার্সোনাল ডিটেইল ব্যবহার করে উপরে বর্ণিত টুলের মাধ্যমে আপনার সম্পর্কে অনেক তথ্যই বের করে আনা যাবে। আজকের হাইপারকানেডেড বিশ্বে অনেক কিছুই আপনি হয়ত চাইলেও পুরোপুরি গোপন রাখতে পারবেন না। তবে আপনার জীবনকে আরো নিরাপদ করার জন্য একটি কার্যকর টুল হতে পারে, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার।

এই মাসের গোড়ার দিকে, অনলাইন থেকে হাতিয়ে নেয়া তথ্যের একটি বিশাল ডেটাবেইস প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ৭০ কোটির বেশি রেকর্ড রয়েছে। তার মানে, আমার বা আপনার মত বেশিরভাগ মানুষের তথ্যই হ্যাকারদের হাতে পড়ার ঝুঁকিতে। একারণে অনলাইনে ব্যবহার করা পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করা এবং তা জটিল হওয়া জরুরী। কিন্তু পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ছাড়া এই কাজ বেশ কঠিন।

লাস্টপাস, ড্যাশলেন এবং ওপেন সোর্স কিপাস এর মত অনেক পাসওয়ার্ড ম্যানেজার বাজারে পাওয়া যায়। এদের বেশিরভাগের কাজই এক। ধারণাটি হল, আপনি আপনার সমস্ত পাসওয়ার্ড একটি কেন্দ্রীয় সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ করবেন। একটি মাস্টার পাসওয়ার্ড দিয়ে তা সুরক্ষিত থাকবে। ফলে সমস্ত পাসওয়ার্ড মনে রাখার বা কোথাও লিখে রাখার প্রয়োজন পড়বে না। এর সুবিধা অনেক। প্রথমত, আপনি আপনার প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য খুব অনন্য, দীর্ঘ এবং অনুমান-অযোগ্য পাসওয়ার্ড তৈরি করতে পারবেন। দশ অক্ষর লম্বা হলেও, তা মনে রাখতে হবে না। আপনার ব্রাউজারে তার একটি এক্সটেনশন বা ফোনে একটি অ্যাপ্লিকেশন থাকবে। যখন আপনি পরিচিত কোনো সাইটে যাবেন, তখন পাসওয়ার্ড ম্যানেজার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই সাইটের পাসওয়ার্ড পূরণ করে দেবে।

অবশ্য, এখানে ঝুঁকিও আছে। মাস্টার পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে, আপনার পাসওয়ার্ড স্টোর চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ কারণে প্রত্যেক ভালো পাসওয়ার্ড প্রোভাইডার নিশ্চিত করে, যেন মাস্টার পাসওয়ার্ড এনক্রিপ্ট করা হয় এবং কখনো তা সাধারণ টেক্সট বা লিখিত ফরম্যাটে সংরক্ষণ না করা হয়। আপনি যতক্ষণ আপনার মাস্টার পাসওয়ার্ডের অনুলিপি কোনো নিরাপদ জায়গায় রাখছেন (ডেস্কটপে নয়) ততক্ষন চিন্তা নেই। একেকটি অ্যাকাউন্টের জন্য একের পর এক নতুন পাসওয়ার্ড তৈরিতে সময় নষ্ট করার চেয়ে, একটি নিরাপদ সিন্দুকে (পাসওয়ার্ড ম্যানেজার) সমস্ত পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করাই লাভজনক।

আপনি কি কোনো টুল সুপারিশ করতে চান? তাহলে আমাকে alastair.otter@gijn.org একটি ইমেইল পাঠিয়ে দিন।

অ্যালাস্টেয়ার ওটার জিআইজেএন এর আইটি সমন্বয়কারী। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় অসংখ্য ডেটা জার্নালিজম প্রকল্পে কাজ করেছেন এবং ইন্টারেক্টিভ ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশান প্রোগ্রামিংয়ে বিশেষজ্ঞ

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

টেকসইতা পদ্ধতি

সাংবাদিকতার প্রভাব পরিমাপ — আমরা নতুন যা জানি

সব সংবাদমাধ্যমই চেষ্টা করে তাদের রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে সমাজে প্রভাব তৈরির জন্য। কিন্তু এই প্রভাব পরিমাপ করার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলো ব্যবহার করে একেক ধরনের সূচক। পড়ুন, এ নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার মাধ্যমে নতুন কী জানা গেছে।

BBC Newsnight NHS investigations lessons learned

কেস স্টাডি

যেভাবে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসেবা কেলেঙ্কারির স্বরূপ উন্মোচন করেছে বিবিসি নিউজনাইট

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে ছোট একটি অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করেছিল বিবিসি নিউজনাইট। কিন্তু পরবর্তীতে এক বছরব্যাপী অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে নানাবিধ অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বিস্তারিত চিত্র। পড়ুন, পুরস্কারজয়ী অনুসন্ধানটির নেপথ্যের গল্প ও অভিজ্ঞতা-পরামর্শ।

টিপশীট ডেটা সাংবাদিকতা পরামর্শ ও টুল

টিপশিট: আপনার অনুসন্ধানে কীভাবে সামুদ্রিক ডেটা ব্যবহার করবেন

সমুদ্র সংক্রান্ত ডেটার ধরন হতে পারে বহুবিচিত্র। সমুদ্রে দূষণ, জীববৈচিত্র্য পরিস্থিতি অথবা অর্থবাণিজ্য— এমন বিভিন্ন ধরনের ডেটা, সাংবাদিকেরা ব্যবহার করতে পারেন তাদের রিপোর্টিংয়ে। এই টিপশিটে পাবেন অনুসন্ধানে সামুদ্রিক ডেটা ব্যবহারের পরামর্শ ও রিসোর্সের খোঁজ।

Investigating AI Audio Deepfakes

টিপশীট গবেষণা পরামর্শ ও টুল

২০২৪ সালের নির্বাচন ঘিরে হুমকি এআই অডিও ডিপফেক সনাক্ত ও অনুসন্ধান করবেন কীভাবে

২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সব জাতীয় নির্বাচন। এবং এসব নির্বাচনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি অডিও ডিপফেক। পড়ুন, এমন ডিপফেক কীভাবে সনাক্ত করবেন এবং সেগুলোর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি, নেটওয়ার্ক নিয়ে কীভাবে অনুসন্ধান করবেন।