প্রবেশগম্যতা সেটিংস

লেখাপত্র

বিষয়

বার্তাবাহকের মৃত্যুতেই বার্তার মৃত্যু হয় না: ইনভেস্টিগেটিভ সেন্টার অব ইয়ান কুসিয়াক

আর্টিকেলটি পড়ুন এই ভাষায়:

English

স্লোভাকীয় অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ইয়ান কুসিয়াক ও তাঁর বাগদত্তা মার্টিনা কুসনিরোভা হত্যার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। ছবি: শাটারস্টক

ফেব্রুয়ারি, ২০১৮। শীতের সে সকালে পৈতৃক বাড়ির রান্নাঘরে কফির কাপ হাতে বসে ছিলেন থমাস মাদলেনিয়াক। ল্যাপটপ খুলে তিনি ফেসবুকে ঢুকলেন। দেখতে পেলেন, তাঁর নিউজফিড ভরে গেছে সম্প্রতি আপলোড করা কালো রঙের অসংখ্য প্রোফাইল ছবিতে।

প্রকৃত ঘটনা বুঝতে তিনি আরও নিচে স্ক্রল করতে থাকলেন। হঠাৎ খবরটি দেখে চমকে উঠলেন। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।

“নামটি ছিল ইয়ান কুসিয়াক। আমার মনে হচ্ছিল, ‘না, না, না। এটি ইয়ান হতে পারে না,’” সে সময় যে অবিশ্বাসের অনুভূতি তাকে গ্রাস করেছিল, তার কথা স্মরণ করে বলছিলেন মাদলেনিয়াক। তিনি কখনোই ভাবেননি, কমিউনিস্ট-যুগে চেকোস্লোভাকিয়ার অংশ-বিশেষ এবং মধ্য ইউরোপের ৫৫ লাখ অধিবাসীর দেশ, স্লোভাকিয়ায় এমন হামলা হতে পারে। “তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভের চেয়ে বরং বিস্ময় ছিল বেশি। আসলে আমরা এখনো বিস্মিত।”

ইয়ান কুসিয়াক ও তাঁর বাগদত্তা মার্টিনা কুসনিরোভা – দু’জনেরই বয়স ২৭ বছর। এই যুগলকে ভেলকা মাচা গ্রামের নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কুসিয়াক ছিলেন দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য বিখ্যাত। তাঁর ওপর এই হামলাকে স্লোভাকিয়ার আধুনিক ইতিহাসে প্রথম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধরা হয়। এর জের ধরে গণ আন্দোলন শুরু হয় এবং ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বাড়তে থাকা রাজনৈতিক সংকটের মাঝপথে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এবং পুলিশপ্রধান – সবাই পদত্যাগ করেন। 

স্লোভাকিয়া একসময়ের কমিউনিস্ট নিয়ন্ত্রিত চেকোস্লোভাকিয়ার অংশ ছিল। মানচিত্র: ডেটার‌্যাপার

তবে দুঃখজনক এই ঘটনা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের পরিবেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এবং এই ঘটনার অনুপ্রেরণায় কুসিয়াকের সম্মানে গড়ে উঠেছে একটি নতুন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান: দ্য ইনভেস্টিগেটিভ সেন্টার অব ইয়ান কুসিয়াক (আইসিজেকে)। তাঁর মৃত্যুর প্রায় চার বছর পর, মাদলেনিয়াকসহ সাংবাদিকদের ছোট একটি দল স্লোভাকিয়ায় সংগঠিত অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে, সম্ভাবনাময় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, এবং বার্তাকক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে। গত ডিসেম্বরে এই অনুসন্ধানী সেন্টার-কে অন্যতম নতুন সদস্য হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে জিআইজেএন।

যৌথ কাজের শক্তি  

মৃত্যুর আগে ইতালির কুখ্যাত সংগঠিত অপরাধ সিন্ডিকেট নেদ্রাঙ্ঘেতা ও স্লোভাকিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসাজশ নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন কুসিয়াক। তিনি প্রাণঘাতী হামলার শিকার হওয়ার পর সংবাদ সাইট অ্যাকচুয়ালিটিতে তাঁর প্রাক্তন সহকর্মীরা এবং বেশ কয়েকটি সংবাদ সংগঠন মিলে তাঁর শেষ রিপোর্টটি সমাপ্ত ও প্রকাশের কাজে হাত দেয়।

এই প্রকল্পে জিআইজেএনের আরও তিন সদস্য সংগঠন সম্পৃক্ত ছিল: অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিআরপি), ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং প্রজেক্ট ইতালি (আইআরপিআই), এবং চেক সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম (ইনভেস্টিগাটসে ডট সিজেড)। কুসিয়াক বরাবরই এই ধরনের আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার প্রশংসা করতেন এবং নিজ কর্মজীবনে এই কর্মকৌশলের উন্নয়নে কাজ করে গেছেন।

২০১৮ সালের শেষদিকে এসে, একদল অনুসন্ধানী সাংবাদিক তাঁর নামে নতুন একটি সংগঠন দাঁড় করান। এদের কেউ কেউ অতীতে তাঁর সহকর্মী ছিলেন। আর্পাদ সোল্টেজ, জুজানা পেটকোভা, এবং ইনভেস্টিগাটসে ডট সিজেড সংবাদ সাইটের চেক রিপোর্টার পাবলা হলসোভা আইসিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল: প্রতিযোগিতার বদলে, সংবাদকক্ষ যেন জ্ঞান, সম্পদ ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে আরও জোরালো ও প্রভাবশালী রিপোর্ট করতে পারে।

আইসিজেকের প্রধান সম্পাদক লুকাস ডিকো ব্যাখ্যা করে বলেন, “এই ঘটনার অন্যতম সুফল হলো তাঁর মৃত্যুর পর সাংবাদিকদের মধ্যে সহযোগিতা আরও নিবিড় হয়েছে। তিনি বলেন, সহযোগিতামূলক সম্পর্ক শুধুমাত্র একটি দলের “বিশ্লেষণী সক্ষমতা” বাড়ায় না, বরং রিপোর্টারদের নিরাপত্তা রক্ষায়ও সাহায্য করতে পারে। 

আইসিজেকের প্রথম বড় প্রকল্পগুলোর একটির উদাহরণ টেনে ডিকো তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। ব্যবসায়ী মারিয়ান কোচনের ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট ৭০ টেরাবাইট ডেটা ও তথ্য-উপাত্ত যাাচাই করতে, ২০১৯ সালে ইনভেস্টিগাটসে ডট সিজেড ও ওসিসিআরপির সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে এই সেন্টার।

মৃত্যুর আগে কোচনেরকে নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন কুসিয়াক। এই ব্যবসায়ী পরবর্তীতে প্রতারণার দায়ে ১৯ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। কুসিয়াক ও তাঁর বাগদত্তাকে হত্যার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং মুক্তিও পেয়েছিলেন, তবে সর্বোচ্চ আদালত পুনর্বিচারের আদেশ দিয়েছে

“কোচনের লাইব্রেরি” নামে পরিচিত এই ডেটাবেস, স্লোভাকিয়ার সাংবাদিকেরা বিনা পয়সায় ব্যবহার করতে পারেন, যা তাদের ক্ষমতাকে জবাবদিহি করার সুযোগ করে দেয়। এই অনন্য উদ্যোগ নিয়ে দেশটির সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশ কিছু রিপোর্ট হয়। আর আজ অবধি এই সেন্টারের কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, সহযোগিতামূলক সম্পর্ক।

মাদলেনিয়াক বলেন, “এই সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমরা লেখা প্রকাশ করার পর যদি কেউ সেগুলো নেন, নতুন করে লেখেন এবং তাদের নিজেদের নামে প্রকাশ করেন, আমরা বরং তাতে খুশি-ই হই।”

মাদলেনিয়াক স্বীকার করেন, প্রকাশকের দিক থেকে মৌলিক কাজ থেকে আয় বাড়ানোর তাগিদ থাকায় স্লোভাকিয়ার গণমাধ্যম জুড়ে “এক্সক্লুসিভ করার তাড়না” ব্যাপকভাবে চোখে পড়ে। তবে আইসিজেকের উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদকক্ষগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পথ দেখিয়েছে।

প্রতিবেশি দেশে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান সরকারের প্রভাব, পূর্ব ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে অতি রক্ষণশীল আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং অঞ্চলটিতে বাঘের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ে অনুসন্ধানের মত অনেকগুলো আর্ন্তজাতিক পর্যায়ের আন্তঃসীমান্ত প্রকল্পে এই সেন্টার অংশ নিয়েছে।

আইসিজেকে’র সাংবাদিকেরা (বাম থেকে) – লুকাস ডিকো, কারিন কোভারি সলিমোস, ও থমাস মাদলেনিয়াক। ছবিটি আইসিজেক’র সৌজন্যে ।

ইউরোপে হামলা

কুচিয়াককে হত্যার পাঁচ মাস আগে, ৯০০ মাইল দূরের একটি ইউরোপীয় দ্বীপে আরেক জন সাংবাদিককে হত্যার ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, গোপনীয়তা ও অবৈধ কার্যকলাপ উন্মোচনের জন্য সাংবাদিকদের কতটা দাম চোকাতে হয়।

২০১৭ সালের অক্টোবরে গাড়ি বোমা হামলায় প্রাণ হারান “ওয়ান-ওম্যান উইকিলিকস” নামে পরিচিত ডাফনে কারুয়ানা গালিৎসিয়া। তিনি নিজ দেশ মাল্টা ও বিদেশে দুর্নীতির নেটওয়ার্ক উন্মোচন করেছিলেন। 

এই মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা তাঁর নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন (দ্য ডাফনে কারুয়ানা গালিৎসিয়া ফাউন্ডেশন সম্প্রতি ‍জিআইজেএনের সদস্য হয়েছে)। ফাউন্ডেশনটি অনুসন্ধানী রিপোর্টারদের নিরাপত্তা এবং বিচারহীনতার অবসান নিয়ে কাজ করে। এই হত্যাকাণ্ড, গালিৎসিয়ার অসমাপ্ত প্রতিবেদনটি নিয়ে দলবদ্ধভাবে অনুসন্ধান এবং বিষয়টির আরও গভীরে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছিল ফ্রান্সভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ফরবিডেন স্টোরিজ-কে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় এই ধরনের প্রয়াসের সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে। গাড়ি বোমা হামলায় অ্যারিজোনা রিপাবলিকের রিপোর্টার ডন বোলেসের মৃত্যুর পর, ১৯৭৬ সালে আরিজোনা প্রজেক্ট শুরু হয়েছিল।

কুসিয়াকের উপর হামলার ঘটনায় স্লোভাকিয়ার সাংবাদিকদের মধ্যেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ে। আইসিজেকে’র মতো সংগঠনগুলো মনে করে, চাপের মুখে হাল না ছেড়ে, বরং অন্য যে কোন সময়ের তুলনায়, এখনই কাজ করার প্রকৃত সময়। তাঁদের প্রয়াস মূলত ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা একটি প্রবণতার অংশ, যেখানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ওপর হামলা বরং ক্ষমতাকে চাপে ফেলে দেয় – এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্কল্প আরও দৃঢ় করে। 

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া কর্মসূচি সমন্বয়ক গুলনোজা সাইদ বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডগুলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের কর্মকৌশলে পরিবর্তন এনেছে। পরবর্তী  শিকার হওয়া এড়াতে, টিকে থাকার স্বার্থে, তাঁদের অনুসন্ধানী কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে।” সাইদ জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিসর আরও বিস্তৃত করে এবং একটি স্পষ্ট ভাষ্য তুলে ধরে: “বার্তাবাহকের মৃত্যুতেই বার্তার মৃত্যু হয় না।”

ইয়ান কুসিয়াকের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালিত হয়। ইউরোপীয় সংসদের তৎকালীন সভাপতি অ্যান্তোনিও তাজানি এই হত্যাকাণ্ডকে “গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর অগ্রহণযোগ্য হামলা” বলে অভিহিত করেন। ছবি: ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১৮ / ইউরোপীয় সংসদ

প্রকৃতপক্ষে কুসিয়াকের মৃত্যু মাদলেনিয়াককে বিশ্লেষক হিসেবে একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মোটা বেতনের চাকরি ছাড়তে এবং একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক বনে যেতে উদ্বুদ্ধ করে। কুসিয়াকের সাথে তাঁর পরিচয় ছিল এবং কলেজে এক সাথে পড়ালেখা করার সময় তাঁদের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্কও ছিল। এই হত্যাকাণ্ড মাদলেনিয়াকের জীবন বদলে দেয়।

মাদলেনিয়াক জনস্বার্থে কাজ করতে চেয়েছিলেন এবং স্লোভাকিয়ায় গণতন্ত্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে চেয়েছিলেন। কুসিয়াকের উপর হামলা তাঁর জীবনের গতিপথ পরিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। গর্ব করার মতো তাঁর অনুসন্ধানগুলোর একটি হলো, পুনর্বাসন কেন্দ্রে শারীরিকভাবে দুর্বল মাদকাসক্তদের মাদক সেবন করানো ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। এই অনুসন্ধানের ডেটা এসেছিল কোচনের লাইব্রেরি প্রকল্প থেকে। 

২০২০ সালে এই সেন্টারের প্রধান সম্পাদক হওয়া ডিকো বলেন, দেশে আরও সামর্থ্যবান ও সক্রিয় অনুসন্ধানী রিপোর্টার প্রয়োজন।

ডিকো ব্যাখ্যা করেন, “এটি বইয়ের কোনো রোমান্টিক গল্পের মতো নয়। মানুষ যখন উপলব্ধি করতে পারে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কী, তখন তারা আর বসে থাকতে চায় না, বরং ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন এবং মাসের পর মাস ধরে ডেটায় ডুবে থাকে এবং সংযোগ খুঁজে বের করতে চায়।

ডিকোর জন্য নতুন সাংবাদিক খুঁজে পাওয়া ও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বরং প্রতিবেদন প্রক্রিয়ার চেয়ে আরও কঠিন। তাই এই সেন্টার, স্লোভাকিয়ার অন্য বার্তাকক্ষ এবং আর্ন্তজাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা ও রিসোর্স দিয়ে থাকে। তবে আইসিজেকের উদ্দেশ্য তাদেরকে ভয়ভীতি ও হুমকির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। ডিকোর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে এই সেন্টার তিনটি মামলার শিকার হয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ ও টেকসই ব্যবসায় মডেল প্রস্তুতের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয়েছে।

পূর্বসূরীদের দেখানো পথ সচল রাখা

স্লোভাকিয়ার গণমাধ্যম জগতে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে আইসিজেকে সম-গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আর্থিক উৎসের ওপর নির্ভর করে। এই উৎসগুলোর মধ্যে দূতাবাস ও ফাউন্ডেশনের মতো প্রাতিষ্ঠানিক দাতা এবং প্রকল্প অনুদান উল্লেখযোগ্য। ডিকো জোর দিয়েছেন, তৃতীয় স্তম্ভের ওপর। তৃতীয় স্তম্ভ কোনটি? সাধারণ মানুষ, যারা মাস প্রতি দুই থেকে পাঁচ ডলারের আর্থিক সহায়তা করে। ২০২০ সালে সেন্টারটির বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ হাজার ইউরোতে (এক লাখ দুই হাজার মার্কিন ডলার)। 

বিশেষ করে এ ধরনের উদ্যোগে জনগণের আস্থার গুরুত্ব উল্লেখ করে ডিকো বলেন, “আর্থিক হিসাব-নিকাশে আমরা স্বচ্ছতা বজায় রাখি। এই অর্থ দিয়ে আমরা কী করি, সবাই তা দেখতে পারে।” একনিষ্ঠ পাঠক গোষ্ঠী গড়ে তোলা ও জোরালো স্টোরি বুনন নিশ্চিত করতে এই সেন্টারে ২০২২ সালে তিনজন নতুন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে সাইটটির কর্মী সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এই দলে এখন তিনজন সাংবাদিক, দুইজন শিক্ষানবিশ এবং একজন খণ্ডকালীন অফিস ম্যানেজার কাজ করছেন। এই সম্প্রসারণ, আইসিজেকে দলটিকে উচ্চাকাঙ্খী প্রকল্পগুলো সচল রাখতে সাহায্য করবে বলে তিনি মনে করেন।

সাইদ বলেন, “সময় ও অর্থের বিচারে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বেশ ব্যয়বহুল। তবে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে, একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উচিত সেই সব স্টোরির পেছনে ছোটা, যেগুলোর পেছনে অন্যেরা ছোটে না।”

স্বতন্ত্র কর্মপন্থার গুণে সেন্টারটি এরই মধ্যে দেখিয়েছে, মৌলিক রিপোর্টিং ও সহযোগিতা একে অপর থেকে আলাদা নয়। মাদলেনিয়াক মনে করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার উন্মোচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের জন্য কুসিয়াকের সংগ্রাম সচল রাখতে নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করছে তাঁর দল।

মাদলেনিয়াক বলেন, “বৃহত্তর কল্যাণ এবং জনস্বার্থের খাতিরে সাংবাদিকদের মধ্যে সহযোগিতার অবদান দীর্ঘমেয়াদী। এটি সবসময়ের জন্যই জরুরি।”

কুসিয়াকের পরিবার মনে করে, এই উদ্যোগ দেখলে কুসিয়াক গর্ব বোধ করতেন।

তাঁর ভাই ইয়োসেফ কুসিয়াক স্লোভাক ভাষায় ইয়ানের আদর করে ডাকা নাম উল্লেখ করে সেন্টারটির প্রতিষ্ঠাতাদের বলেন, “আমার আফসোস হয়, ইয়ানকো এই উদ্যোগ দেখে যেতে পারেনি। আমাদের স্থানীয় মামলার অনেকগুলোর যোগসূত্র দেশের বাইরেও বিদ্যমান, বিশেষত ট্যাক্স হ্যাভেনে (যে দেশগুলোতে বিদেশীরা বিনা কর বা নাম মাত্র করে অর্থ সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করতে পারেন)। তাই এই ভেবে আমি খুশি যে, আইসিজেকে ইয়ানকোর কাজকে এগিয়ে নেবে এবং আর্ন্তজাতিক মাত্রার ঘটনাগুলো উদঘাটন করবে, যা মৌলিক কাজ হয়ে উঠতে পারে।”

আরও পড়ুন

জান’স অ্যান্ড ডাফনে’স ল: হাও টু স্টপ দ্য মার্ডার অব জার্নালিস্টস

অনুসন্ধানই বাঁচিয়ে রাখে থামিয়ে দেওয়া সাংবাদিকদের অসমাপ্ত কাজ

হাও টু ইনভেস্টিগেট অ্যাটাকস অন জার্নালিস্টস অ্যান্ড মেক দেম ব্যাকফায়ার টু কালপ্রিটস 


পিটার জর্জিয়েভ বুলগেরিয়ান ন্যাশনাল টেলিভিশনের ব্রডকাস্ট রিপোর্টার ও সম্পাদক। এর আগে তিনি জিআইজেএনের সোশ্যাল মিডিয়া ও এনগেজমেন্ট এডিটর ও নিউইয়র্কের এনবিসি নিউজের অনুসন্ধানী দলের অংশ ছিলেন। তাঁর প্রতিবেদন গার্ডিয়ান, ডয়েচে ভেলে ও অন্যান্য আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানে প্রকাশিত হয়েছে।

ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে আমাদের লেখা বিনামূল্যে অনলাইন বা প্রিন্টে প্রকাশযোগ্য

লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করুন


Material from GIJN’s website is generally available for republication under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International license. Images usually are published under a different license, so we advise you to use alternatives or contact us regarding permission. Here are our full terms for republication. You must credit the author, link to the original story, and name GIJN as the first publisher. For any queries or to send us a courtesy republication note, write to hello@gijn.org.

পরবর্তী

সদস্য প্রোফাইল

আমি যা শিখেছি: দ্য ক্যারাভানের বিনোদ কে. যোশির শিক্ষা ও পরামর্শ

বিশ্বজুড়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার নিয়ে নতুন একটি ধারাবাহিক শুরু করেছে জিআইজেএন। ’১০ প্রশ্ন’ শীর্ষক এই ধারাবাহিকের প্রথম পর্বে আছে ভারতের প্রথম সারির লং-ফর্ম সাংবাদিকতা সাময়িকী, দ্য ক্যারাভানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সম্পাদক বিনোদ কে. যোশির সাক্ষাৎকার। এখানে তিনি জানিয়েছেন তাঁদের অনুসন্ধান, এর প্রভাব, ভুলভ্রান্তি ও চ্যালেঞ্জগুলোর কথা। এবং দিয়েছেন কিছু শিক্ষণীয় পরামর্শ।

সদস্য প্রোফাইল

আফ্রিকা থেকে: পরিবেশ নিয়ে অনুসন্ধানে যেভাবে শক্তি যোগাচ্ছে জিও-জার্নালিজম

অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম হিসেবে, অক্সপেকার্স সব সময়ই মনোযোগ দিয়েছে ডেটা বিশ্লেষণে। এর সাথে অ্যানিমেটেড ম্যাপ ও ইনফোগ্রাফিক্সের মতো ইন্টারঅ্যাকটিভ ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন টুল ব্যবহার করে তারা খুবই আকর্ষণীয়ভাবে বর্ণনা করে: কিভাবে দূষণ হয়, পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং এর জন্য কারা কিভাবে দায়ী। জিও-জার্নালিজমের এই ধারা তাদের পরিবেশগত অনুসন্ধানকে আরো শক্তিশালী করেছে।

সদস্য প্রোফাইল

মুক্ত সাংবাদিকতার তিউনিসিয় মডেল ইনকিফাদা

তারা কোনো সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানির বিজ্ঞাপন নেন না। দেশি-বিদেশী দাতাদেরও খুব একটা পরোয়া করেন না। বিজ্ঞাপণ ও অনুদানের কথা ভাবতে হয় না বলে, তারা সাংবাদিকতাও করতে পারেন কোনোরকম চাপের কাছে নতি স্বীকার না করেই। তাহলে আয় কোথা থেকে আসে ইনকিফাদার? কেমন তাদের মুক্ত সাংবাদিকতার মডেল? যদি জানতে চান আপনাকে অবশ্যই পড়তে হবে, এই লেখা।

সদস্য প্রোফাইল

আলবার্তো দোনাদিও: যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকের নাম শোনেনি এই প্রজন্ম

আলবার্তো দোনাদিও। কলম্বিয়ায় তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগের জনক বলতে পারেন তাকে। ল্যাটিন আমেরিকায় যারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে পথ দেখিয়েছেন, তিনি তাদেরও একজন বটে। তারপরও রয়ে গেছেন সবার চোখের আড়ালে। তরুণ সংবাদ-কর্মী হুয়ান সেরানো এক বইয়ে তুলে এনেছেন এই অনুসন্ধানী সাংবাদিকের গল্প। পড়ুন তাঁর এই সাক্ষাৎকারে।