জিআইজেএন স্টাফ

ডেভিড . কাপলান, নির্বাহী পরিচালক। ডেভিড কাপলান দুই ডজন দেশ থেকে ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসাবে কাজ করেছেন এবং একক বা যৌথভাবে ২৫টির বেশি পুরষ্কার জিতেছেন। অলাভজনক নিউজরুম, অনুসন্ধানী দল এবং অসংখ্য ক্রসবর্ডার প্রকল্প পরিচালনা করেছেন তিনি। আশির দশক ও নব্বইয়ের গোড়ার দিকে সানফ্রান্সিসকোর সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা মিলে গড়ে তুলেছিলেন অলাভজনক অনুসন্ধানী সংবাদ সংস্থার মডেল।

শিখরে থাকা অবস্থায় সিআইআর-এর আয়ের ৪০ শতাংশ আসতো বাণিজ্যিক রাজস্ব, টেলিভিশন সংবাদ রিটেইনিং, ডকুমেন্টারি নির্মান, প্রকাশনা চুক্তি ও সিন্ডিকেশন থেকে। ২০০৮ সালে তিনি সেন্টার ফর পাবলিক ইন্টেগ্রিটির সম্পাদকীয় পরিচালক হন। সিপিআই-এ নিউজরুমের সম্পাদকীয় কাঠামো ও ডেটা জার্নালিজম ইউনিট পুননির্মাণ করেন এবং তাদের গ্লোবাল টিমকে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) নামে পুনরুজ্জীবিত করেন। আইসিআইজে পরিচালক হিসাবে তিন বছর সময়কালে তিনি তহবিল তিনগুণ বাড়ান, ২০টি ভাষায় সম্প্রসারিত করেন এবং তামাক, অ্যাসবেস্টস, মাছ ধরা ও জ্বালানিখাত নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত অনুসন্ধান তত্ত্বাবধান করেন।

কাপলান ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার অ্যান্ড এডিটরস পুরস্কার জিতেছেন চারবার, যার তিনটিই ছিল আইআরই-র সর্বোচ্চ সম্মানসূচক পদক। ওভারসিজ প্রেস ক্লাব চারবার তাঁর কাজকে সম্মানিত করেছে। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট-এর প্রধান অনুসন্ধানী সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। এটি সেসময় ছিল ২০ লাখের বেশি প্রচার সংখ্যার সাপ্তাহিক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাপলানের উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদনগুলো ছিল উত্তর কোরীয় কূটনীতিকদের কালোবাজারি, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে সৌদি অর্থায়ন এবং রাশিয়ার লুটপাট। তাঁর বইগুলোর মধ্যে ইয়াকুজা ১২টি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে এবং জাপানী মাফিয়া বিষয়ে উল্লেখযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি ২০ বছর ধরে সাংবাদিকতার উন্নয়নে কাজ করেছেন এবং বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার সাংবাদিককে তাঁর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

ইউনিস অউ, প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী। ইউনিস অউ আট বছর ধরে মালয়েশিয়ায় সাংবাদিকতা করেছেন। লিখেছেন রাজনীতি, অপরাধ, পরিবেশ, সন্ত্রাসবাদ ও বিনোদনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন নিউ স্ট্রেইটস্ টাইমস-এর জন্য এবং মালয়েশিয়ার দুটি বিমান ট্র্যাজেডি নিয়ে ব্যাপকভাবে রিপোর্ট করেছেন।

ওই সময় ভারপ্রাপ্ত প্রাদেশিক ব্যুরো প্রধান হিসাবে তিনি সেলগর রাজ্যের বিভিন্ন সাংবাদিক ও সংবাদ কভারেজ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। দ্য সান, মালয়েশিয়ান টুডে এবং ম্যাডাম চেয়ারে লেখালেখি করেছেন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে। জিআইজেএন-এ যোগদানের আগে তিনি ছিলেন সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমসের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি।

মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, বাংলা সম্পাদক। জিআইজেএন বাংলা পরিচালিত হচ্ছে জিআইজেএন ও বাংলাদেশের গণমাধ্যম উন্নয়ন সংস্থা ম্যানেজমেন্ট রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর  অংশীদারিত্বে। মিরাজ, জিআইজেএন-এর বাংলা সম্পাদক। পাশাপাশি এমআরডিআই-এর হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড কমিউনিকেশনস্ হিসেবে কাজ করছেন। সাংবাদিকতায় তাঁর রয়েছে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা, যার বড় অংশই টেলিভিশনে। তাঁর কাজের প্রধান ক্ষেত্র ব্যবসা ও অর্থনীতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী রাজনৈতিক দলের লবিং এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিং নিয়ে তাঁর কয়েকটি আলোচিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর।

উমর চিমা, উর্দু সম্পাদক। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক, দ্য নিউজ-এর অনুসন্ধানী সাংবাদিক। সরকারকে নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন লেখার কারণে ২০১০ সালে তাঁকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়েছিল। পার্লামেন্টের সদস্যদের কর ফাঁকি নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক প্রতিবেদনের কারণে আইনপ্রণেতা ও নাগরিকদের কর সংক্রান্ত কাগজপত্র উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস-এর নেতৃত্বে পানামা পেপার্স ও প্যারাডাইস পেপার্সের মতো আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানেও অংশ নিয়েছিলেন চিমা। তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলে প্রাদেশিক একটি সরকারের তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের কাজ ত্বরাণ্বিত হয়েছিল।
রিপোর্টিংয়ের জন্য বেশ কয়েকটি পুরস্কার জিতেছেন চিমা। এর মধ্যে আছে নাইট ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড, ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড, মিসোরি অনার মেডাল ফর ডিসটিঙ্গুইশড সার্ভিস ইন জার্নালিজম, টালি ফ্রি স্পিচ অ্যাওয়ার্ড ও মার্থা গ্যালহর্ন প্রাইস ফর জার্নালিজম। এছাড়াও তিনি পেয়েছিলেন ড্যানিয়েল পার্ল ফেলোশিপ। প্রথম পার্ল ফেলো হিসেবে তিনি কাজ করেছিলেন নিউ ইয়র্ক টাইমসে।

মাজদোলিন হাসান, আরবি সম্পাদক। সাংবাদিকতায় মাজদোলিন হাসানের অভিজ্ঞতা ১২ বছরের এবং তিনি তিনটি পুরস্কার জিতেছেন। গ্লোবাল ইন্টিগ্রেটি, 100 রিপোর্টারস এবং আরব রিপোর্টার্স ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমসহ একাধিক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া সংস্থায় তিনি কাজ করেছেন।

মাজদোলিন জর্ডানে একটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ইউনিটের পরিচালক ছিলেন এবং তিনি দেশটির প্রথম নাগরিক যিনি তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী তথ্য না দেয়ায় জর্ডান সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাজনীতি বিজ্ঞানে এমএ এবং সাংবাদিকতায় বিএ রয়েছে তাঁর।

ক্যারোলিন ল্যাংস্টন জারবো, উন্নয়ন পরিচালক। ক্যারোলিন জারবো এসেছেন দ্য আটলান্টিক থেকে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ডাইরেক্টর অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড প্ল্যানিং ফর ফাউন্ডেশন রিলেশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্য আটলান্টিকে থাকার সময় তিনি এটার প্রথম মাল্টি প্ল্যাটফর্ম উদ্যোগের জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন, যেখান থেকে প্রথমে একটা বিশ্বব্যাপী ধর্ম বিষয়ক বিট এবং এখনকার রেস + জাস্টিস: অ্যা আটলান্টিক সামিট নামের বার্ষিক লাইভ ইভেন্টের জন্ম নেয়। ক্যারোলিন এর আগে সেন্টার ফর পাবলিক ইন্টিগ্রেটিতে ফাউন্ডেশন ডাইরেক্টর ছিলেন। তাঁর ডেভেলপমেন্ট ক্যারিয়ার শুরু এনপিআর-এ, আট বছরের কাজের সুবাদে। সেখানে তাঁর তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্র ছিল আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং এবং নতুন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ। তিনি হিউস্টন ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রোগ্রাম এবং টুলেন ইউনিভার্সিটির এমএফএ স্নাতক, যেখানে তিনি ফি বিটা কাপা নির্বাচিত হন।

লিন ডোমবেক, রিসোর্স সেন্টার ডিরেক্টর। ৩০ বছর ধরে এনবিসি নিউজ, এবিসি নিউজ, টাইম ও অ্যাসোসিয়েট প্রেসের গবেষণা দলের সঙ্গে কাজ করেছেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েট প্রেসে তিনি ১০ বছর ধরে পালন করেছেন রিসার্চ ডিরেক্টরের দায়িত্ব। নতুন ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ফার্স্ট লুক মিডিয়া নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। সেখানে জড়ো করেছেন অনুসন্ধানী গবেষক, অ্যাক্টিভিস্ট, তথ্য যাচাইকারী, প্রকৌশলী, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দারুন একটি দল। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্থ মেইন থেকে ইংরেজিতে স্নাতক এবং সেইন্ট জন ইউনিভার্সিটি থেকে লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

কাতালিনা লোবো-গেরেরো, স্প্যানিশ সম্পাদক। কাতালিনা লোবো-গেরেরো একজন কলম্বিয়ান ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। এই পেশায় তাঁর অভিজ্ঞতা ১০ বছরের বেশি। তিনি রিপোর্টিং করেছেন মূলত ল্যাটিন আমেরিকার রাজনীতি, সশস্ত্র সংঘাত, মানবাধিকার এবং দুর্নীতির মত বিষয়ে। তাঁর কাজের এলাকা ছিল নিজ দেশ কলম্বিয়া ও ভেনেজেুয়েলায়। সেখানে ফরেন করেসপন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন তিন বছর। নিউ ইয়র্ক টাইমস, এল পেইস, দ্য গার্ডিয়ান, সেমানা এবং লা সিলা ভাসিয়ার মত গণমাধ্যমে তাঁর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি কাজ করেছেন গবেষক, স্ট্রিঙ্গার ও বিভিন্ন তথ্যচিত্রের স্থানীয় প্রযোজক হিসেবে। স্বাধীন পরামর্শক হিসেবে এই অঞ্চলের সাংবাদিকদের নির্বাচন সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টনি স্ট্যাবাইল সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের একজন ফেলো।

মারিয়েল লোজাদা, স্প্যানিশ সহযোগী সম্পাদক। ভেনেজুয়েলার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। এখন আছেন চিলিতে। পাঁচ বছর ধরে তিনি কাজ করছেন ডিজিটাল সাংবাদিকতা নিয়ে। ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে তিনি দুই দেশেই কাজ করেছেন স্বাস্থ্য, জেন্ডার ও মানবাধিকার নিয়ে। এখন তিনি কাজ করছেন লা তেরসেরা নিউজলেটারের অংশ হিসেবে, যেটি স্যালুদ কন লুপা ও সোয় আরেপিতার সঙ্গে জোট বেঁধে কাজ করে। এছাড়াও তিনি লাটঅ্যাম নেটওয়ার্ক অব ইয়ং জার্নালিস্টস-এর তৃতীয় প্রজন্মের অংশ ছিলেন। দুই বছর কাজ করেছেন ইফেকতো কোকুয়োর সঙ্গে।

 অ্যান কোক, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর। দুর্নীতি বিরোধী এনজিও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক হিসেবে যোগ দেয়ার আগে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মূলত বিবিসিতে সাংবাদিক ও নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন অ্যান কোক। বিবিসির সাংবাদিকতা জীবনে তিনি ইংরেজি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর, রেডিও নিউজের নির্বাহী সম্পাদক এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে অনুষ্ঠান ওয়ার্ল্ড টুনাইট-এর সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১০০টি ডকুমেন্টারি তৈরি বা সম্পাদনা করেছেন এবং বিবিসি রেডিও ফোর-এর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রোগ্রাম ফাইল ফর ফোর-এ প্রযোজক হিসাবে কাজ করেছেন। টিআই-তে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার পরিচালক হিসেবে তিনি প্রায় ৫০টি স্বাধীন চ্যাপ্টারের তত্ত্বাবধান করেছেন। 

গাব্রিয়েলা মানুলি, ডেপুটি ডিরেক্টর। আর্জেন্টিনার অধিবাসী গ্যাব্রিয়েলা মানুলি ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করেছেন রেডিও, টিভি, ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি আর্জেন্টিনার পারফিল নিউজপেপারে অনুসন্ধানী রিপোর্টিং দলের সদস্য ছিলেন এবং লাতিন আমেরিকায় অভিবাসন, মানবাধিকার ও বৈষম্যের মতো বিষয় কভার করেছেন। তিনি আইজেনেটের স্প্যানিশ সম্পাদক এবং কমিউনিটি ম্যানেজার হিসাবেও কাজ করেছেন। একজন ফ্রিল্যান্স প্রতিবেদক হিসেবে লিখেছেন লা ন্যেসিয়ন (আর্জেন্টিনা), এল মুন্ডো (স্পেন) এবং অরসাই পত্রিকাসহ বিভিন্ন প্রকাশনার জন্য।

তিনি বুদাপেস্টের সেন্ট্রাল ইউরোপীয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক পলিসিতে (গণমাধ্যম, তথ্য ও যোগাযোগ নীতি) এমএ ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তথ্যে প্রবেশাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক মাধ্যম ও নাগরিক সাংবাদিকতা নিয়ে করেছেন একাডেমিক গবেষণা। তাঁর এমএ থিসিসের বিষয় ছিল কিভাবে রাজনীতিবিদরা পাবলিক পলিসি সংক্রান্ত যোগাযোগে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করেন। তিনি ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় পারদর্শী। লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে তাঁর ব্যাপক আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং বর্তমানে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে বসবাস করছেন।

টবি ম্যাকিনটশ, রিসোর্স সেন্টার পরিচালক। টবি ম্যাকিনটশ জিআইজেএন-এর রিসোর্স সেন্টারের পরিচালক হিসেবে কাজ করেন, যা বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অনলাইন রিসোর্স সরবরাহ করে। তিনি ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা আইন বিষয়ক অলাভজনক ওয়েবসাইট FreedomInfo.org এর সম্পাদক ছিলেন, ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। টবি ৩৯ বছর ধরে ব্লুমবার্গ বিএনএ-র সাথে ছিলেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করে অনেক আবেদন দায়ের করেছেন। তিনি বিশ্বব্যাপী তথ্য অধিকার আইন নিয়ে লেখলেখি করেন এবং মুক্ততথ্য সমর্থকদের নেটওয়ার্ক FOIANet-এর স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য।

কোরা মায়ানো, বিজনেস ম্যানেজার। কোরা মায়ানো একজন শিল্প প্রকৌশলী এবং আর্জেন্টিনার রোজারিও ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্নাতক। তাঁর পড়াশোনা গণিত, পদার্থবিদ্যা, পরিসংখ্যান, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, শ্রম প্রবিধান, অ্যাকাউন্টিং ও প্রশাসনের মত বিষয় নিয়ে। তিন বছর ধরে তিনি আর্জেন্টিনার রোজারিওতে অবস্থিত কাসা রেইমুন্ডো নামের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে কারখানা চালানোর দায়িত্বে ছিলেন। স্থাপত্য, নির্মাণ ও আসবাবপত্র শিল্পের জন্য ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা কাঁচ সরবরাহ করে আসছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি হাঙ্গেরি চলে যান এবং করভিনাস ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ব্যবসায় এমএ করেন।

বেনন হারবার্ট ওলুকা, আফ্রিকা সম্পাদক। ওলুকা উগান্ডার মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক। দেশটির অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের কেন্দ্র, দ্য ওয়াচডগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং আফ্রিকান ইনভেস্টিগেটিভ পাবলিশিং কালেক্টিভ-এর সদস্য।

দ্য ইস্ট আফ্রিকান, ডেইলি মনিটর ও দ্য অবজার্ভার-এ রিপোর্টার ও এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন ওলুকা। জোহানেসবার্গে রয়টার্স নিউজ এজেন্সির সাব-সাহারান আফ্রিকা ব্যুরো এবং লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস রেডিও-র নিউজডে প্রোগ্রামেও কাজ করেছেন তিনি। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে, ওলুকার লেখাপত্র প্রকাশিত হয়েছে দ্য আফ্রিকা রিপোর্ট, আফ্রিকা রিভিউ, মেইল অ্যান্ড গার্ডিয়ান আফ্রিকা মোনগাবে ও জেডএএম ম্যাগাজিনে।

আফ্রিকা মহাদেশে ওলুকার কাজ তিনবার পুরস্কৃত হয়েছে। ২০০৮ সালে তিনি পেয়েছেন আকিনটোলা ফাতোয়িনবো আফ্রিকা এডুকেশন জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড (ইংরেজি বিভাগে প্রথম স্থান), ২০১১ সালে সিএনএন-মাল্টি চয়েস আফ্রিকান জার্নালিস্ট অব দ্য ইয়ার পুরস্কার (পর্যটন ক্যাটাগরি) ও একই বছরে থমসন রয়টার্সের নিয়াল ফিটজজেরার্ড প্রাইজ ফর ইয়ং আফ্রিকান জার্নালিস্ট।

অ্যালাস্টেয়ার ওটার, আইটি সমন্বয়কারী/প্রশিক্ষণ পরিচালক। অ্যালাস্টেয়ার ওটার ২০ বছরের বেশী সময় ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় সাংবাদিকতা করছেন। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বেশিরভাগ নামকরা সংবাদপত্রের জন্য কাজ করেছেন। এখন প্রযুক্তি ও ব্যবসা নিয়ে অনলাইনে লেখালেখি করেন। টেকটনিক নামে  একটি অনলাইন প্রকাশনা চালান অ্যালাস্টেয়ার। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতাও বটে। বিগত ১০ বছর ধরে মূলত ওপেন সোর্স সফটওয়্যার কভার করছে টেকটনিক । সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষ সংবাদ সাইট আইওএল-এর সম্পাদক ছিলেন । গত পাঁচ বছর ধরে তিনি ডেটা জার্নালিজমের ওপর, বিশেষ করে ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশানের উপর মনযোগ দিয়েছেন এবং শিক্ষা-ভিত্তিক ডেটা জার্নালিজম প্রকল্প মিডিয়া হ্যাক কালেক্টিভপাসমার্কের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ইন্টারেক্টিভ কনটেন্ট প্রকাশ করেছেন।

তানিয়া প্যাম্পালোনি, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। তানিয়া প্যাম্পালোনি, ২0 বছরেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করেছেন। লেখক ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন লস এঞ্জেলস, প্রাগ, সান ফ্রান্সিসকো এবং জোহানেসবার্গে। এখন তিনি জোহানেসবার্গেই থাকেন। তানিয়া মেইল অ্যান্ড  গার্ডিয়ান পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, ম্যাভেরিক ম্যাগাজিনের (বর্তমানে ডেইলি ম্যভারিক) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এবং আফ্রিকায় কার্যক্রম প্রসারের শুরু থেকে দ্য কনভারসেশন আফ্রিকার হেড অব স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপ অ্যান্ড অডিয়েন্স ডেভেলপমেন্ট পদে কাজ করেছেন।

২০১৩ সালে ডিউক ইউনিভার্সিটিতে মিডিয়া ফেলো ছিলেন তানিয়া। উইটস ইউনিভার্সিটিতে তিনি পাঠদান করেছেন ডিজিটাল স্টোরিটেলিং ও সাংবাদিকদের ক্রিয়েটিভ রাইটিং নিয়ে। রোডস ইউনিভার্সিটির সোল প্লাজে ইন্সটিটিউটে পড়িয়েছেন নৈতিকতা ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নিয়ে। আই ওয়ান্ট টু গো হোম ফরেভার: স্টোরিজ অব বিকামিং অ্যান্ড বিলঙ্গিং ইন সাউথ আফ্রিকাস গ্রেট মেট্রোপলিস (উইটস প্রেস, ২০১৮) বইয়ের সহ-সম্পাদক ছিলেন তানিয়া। কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করেছেন সাউদার্ন আফ্রিকান মাকরেকিং: ১৫০ ইয়ারস অব ইনভেস্টিগেটিং জার্নালিজম হুইচ শেপড দ্য রিজিওন (জাকানা, ২০১৮) ও প্রকাশিতব্য আনবায়াস দ্য নিউজ (হোস্টরাইটার, ২০১৯) বইয়ে।

মার্থে হুবিও, ফরাসি সম্পাদক। মার্থে হুবিও একজন ফরাসি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। স্পেন ও আর্জেন্টিনায় পাঁচ বছর কাজ করার পর, তিনি ফ্রান্সে ফিরে আসেন এবং এখন সেখানেই কাজ করছেন। মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনভেস্টিগেটিভ ও ডেটা জার্নালিজম নিয়ে পড়শোনার অংশ হিসাবে স্পেনের গণমাধ্যমে ভর্তুকির ব্যবহার নিয়ে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী অনুসন্ধান এল মুন্ডোতে প্রকাশিত হয়। এরপর আর্জেন্টিনার লা ন্যেসিওনের ডেটা টিমে তিনি দুই বছর কাজ করেন। স্লেট এবং লিবারেশন-এ তাঁর লেখা ছাপা হয়েছে এবং ফরাসি সংবাদপত্র লে ফিগারো ও মিডিয়াপার্টের বুয়েনস আইরেস প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেছেন।

ওলগাসিমানোভিচ, রাশিয়ান সম্পাদক। ওলগা সিমানোভিচ ইউক্রেনের নাগরিক। টেলিভিশনে ১৩ বছর কাজ করেছেন সাংবাদিক, চিত্রনাট্যকার ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসাবে। এর মধ্যে সাত বছর পার করেছেন এসটিবিতে, ভিকনানভনি অনুষ্ঠানের প্রতিবেদক হিসেবে। সেখানে তিনি বিশেষভাবে কাজ করেছেন রাজনীতি, পরিবেশ, মানবাধিকার ও চিকিৎসার মতো বিষয় নিয়ে। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত, তিনি বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থায় মিডিয়া প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন এবং স্কুপ (SCOOP)-এর সাথে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে অংশ নেন। ওলগা ইউক্রেনের তারাস শেভচেঙ্কো ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্নাতক। ইউক্রেনীয় ও রাশিয়ান ভাষায় পারদর্শী, ইংরেজী ও গ্রিক ভাষাতেও তাঁর দখল রয়েছে।

ইনা হাজিনস্কা, জিআইজেএন রাশিয়ানের সহযোগী সম্পাদক। রিপোর্টার ও এডিটর হিসেবে অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়াতে ১০ বছরেরও বেশি কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। এছাড়াও দুই বছর কাজ করেছেন জনসংযোগ বিভাগে। ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত, তিনি রিপোর্টার ও ডেপুটি এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন কিয়েভের দৈনিক সংবাদপত্র ও ওয়েবসাইট হাজেতা পোকিয়েভস্কিতে। একই সঙ্গে পালন করেছেন আঞ্চলিক একটি সাপ্তাহিক সংবাদপত্র চেইনের এডিটর ইন চিফের দায়িত্ব। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি এডিটর ইন চিফ হিসেবে কাজ করেছেন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান উয়েসবার্গ অ্যান্ড পার্টনার্স-এ। এই প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন তিনি। এর আগে মধ্য এশিয়ার দুটি নির্বাসিত স্বাধীন সংবাদমাধ্যমে কন্ট্রিবিউটিং এডিটর হিসেবে কাজ করেছিলেন। জিআইজেএন এর সদস্য সংগঠন রিজিওনাল প্রেস ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউটে কাজ করেছেন কমিউনিকেশন ম্যানেজার ও প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর হিসেবে। সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট, স্টোরিটেলিং, এডিটরিয়াল ফ্লো, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ইত্যাদি নিয়ে ৫০টিরও বেশি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। তাঁর মাতৃভাষা ইউক্রেনিয়ান। তবে তিনি রাশিয়ান ও ইংরেজিতেও সমান পারদর্শী।

রোয়ান ফিলিপ জিআইজেএন-এর রিপোর্টার। দক্ষিণ আফ্রিকার সানডে টাইমসে কাজ করেছেন প্রধান প্রতিবেদন হিসেবে। বিদেশী প্রতিনিধি হিসেবে রাজনীতি, দুর্নীতি ও সংঘাত নিয়ে রিপোর্ট করেছেন বিশ্বের দুই ডজনেরও বেশি দেশ থেকে। এছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার কয়েকটি নিউজরুমে কাজ করেছেন অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর হিসেবে।

পরামর্শক

ব্রিজিট গ্যালাঘার গণমাধ্যম, তথ্যে প্রবেশাধিকার ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তহবিল সংগ্রহের কৌশল, বাস্তবায়ন সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করেন। ননপ্রফিট বা অলাভজনক খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা ১৫ বছরের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দিককার অলাভজনক নিউজরুম ‘সেন্টার ফর পাবলিক ইন্টিগ্রেটি’র মাধ্যমে অলাভজনক মিডিয়া প্রকল্পগুলির সাথে কাজ শুরু করেন ব্রিজিট। ২০১০ সালে গ্যালাঘার গ্রুপ এলএলসি চালুর পর তিনি স্টার্টআপ থেকে শুরু করে সু-প্রতিষ্ঠিত সব ধরনের সংস্থার সাথেই কাজ করেছেন। তার ক্লায়েন্টের তালিকায় রয়েছে কন্টেন্ট নির্মান ও সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন সংস্থা, থিংকট্যাংক এবং বিশ্ববিদ্যালয়।

রস সেটলস হংকং ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক। তিনি বিশেষভাবে শেখান ডিজিটাল মিডিয়া ও উদ্যোক্তা হওয়া নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও পূর্ব এশিয়াতে দুই দশকের বেশি সময় তিনি কাজ করেছেন মিডিয়া কোম্পানিগুলোর স্ট্র্যাটেজি, মার্কেটিং ও প্রোডাক্ট উন্নয়ন নিয়ে। রস দেখেছেন, গত শতকজুড়ে বিজ্ঞাপনদাতা ও প্রকাশকরা কিভাবে দ্রুত পরিবর্তনশীল মিডিয়া পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর জন্য কষ্ট করেছেন। পরামর্শক ও মিডিয়া মার্কেটিং কর্মকর্তা হিসেবে, সেটলস অনেক মার্কেটিং দলের সঙ্গে কাজ করেছেন, কিভাবে বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য কনটেন্টের ভালো মিশেল ঘটিয়ে সেটি বাজারে আনা যায়, তা ঠিক করার জন্য। রস বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করেছেন মার্কেটিং মাথায় রেখে, প্রোডাক্ট ও রেভিনিউ উন্নয়ন নিয়ে। কাজ করেছেন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে প্রোমোশন ও মার্কেটিং নিয়েও।

খুব সম্প্রতি, সেটলস মনোযোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও পূর্ব এশিয়ায় অনলাইন মিডিয়া কোম্পানিগুলোর জন্য কোন ধরনের বিজ্ঞাপনী মডেল কাজে লাগবে এবং পেইড কনটেন্টের কর্মকাণ্ডের দিকে। তাঁর ক্লায়েন্টদের মধ্যে আছে মিডিয়া নিউজ গ্রুপ এবং নাইট ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিজম ফেলোশিপের সুবাদে, মালয়েশিয়ার সবচে বড় অনলাইন নিউজ সাইট মালয়েশিয়াকিনি ডট কম।

মিডিয়াতে কাজ শুরুর আগে সেটলস ট্রান্সপোর্ট, আর্থিক সেবা ও কনজ্যুমার প্রোডাক্ট খাতের বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের স্ট্রাটেজি ও মার্কেটিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।