গ্লোবাল শাইনিং লাইট অ্যাওয়ার্ড

English

gsl-header

২০১৯ গ্লোবাল শাইনিং লাইট অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদনের সময় শেষ হয়েছে ১৯শে মে ২০১৯, রাত ১১.৫৯ মিনিটে (ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম)।


উন্নয়নশীল বা উদীয়মান দেশগুলোতে হুমকি, কারাবরণের ঝুঁকি বা প্রবল বিপদের মধ্যে থেকেও যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করা হয়, তার সম্মানে প্রতি দুই বছর পর পর গ্লোবাল শাইনিং লাইট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক।

এ বছর পুরষ্কার দেয়া হবে দুটি বিভাগে: ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান (যেখানে ফ্রিল্যান্সসহ কর্মী সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০ জন বা তার কম) এবং বড় প্রতিষ্ঠান (যেখানে কর্মী ১০ এর বেশি)। শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত সাংবাদিকরা পাবেন সম্মাননা স্মারক, ২০০০ মার্কিন ডলার, এবং হামবুর্গে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৯ গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্সে  গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রিত শত শত সহকর্মীর সামনে এই পুরষ্কার গ্রহণের সুযোগ।

আবেদন করতে হবে অনলাইনে। এই পুরষ্কার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে ইমেইল করুন shininglightaward@gijn.org ঠিকানায়।

আপনার রিপোর্ট যদি ইংরেজি ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় হয়, তাহলে প্রিন্ট বা অনলাইন স্টোরির সাথে অবশ্যই ইংরেজিতে লেখা একটি বিস্তারিত সারাংশ জুড়ে দিতে হবে। প্রতিবেদনটি ব্রডকাস্ট হলে সাথে স্ক্রিপ্টের ইংরেজি প্রতিলিপি যুক্ত করতে হবে।

এই পুরষ্কার বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ২০১৭ সালে ৬৭টি দেশ থেকে রেকর্ড ২১১ টি আবেদন জমা পড়ে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। জমা পড়া রিপোর্টের মান ছিল অসাধারণ। চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত হন ভারত, ইরাক, নাইজেরিয়া এবং পূর্ব ইউরোপ এর ১২ জন সাংবাদিক। বিচারকরা তাদের মধ্য থেকে চারটি আবেদনকে পুরষ্কারের জন্য বেছে নেন।

পটভূমি

প্রতি বছর কেবল সাংবাদিকতা করার জন্য বহু সংখ্যক সাংবাদিককে হত্যা করা হয় – এবং আরো শত শত সাংবাদিক হামলা, কারাবন্দীত্ব বা হূমকির শিকার হন। মত প্রকাশের স্বাধীনতায় এমন বাধার ঘটনা উন্নয়নশীল বা উদীয়মান দেশগুলোতে অনেক বেশি দেখা যায়, আর দেখা যায় সামরিক সংঘাতের এলাকাগুলোতে। বাধার মুখেও মত প্রকাশের চেষ্টাকে স্বীকৃতি দিতে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরষ্কার রয়েছে।

sheila-coronel-draft-1

কিন্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের ওপর হামলার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কারণ তারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে উদঘাটন করে চলেছেন সেই সব সত্য, যা ক্ষমতাধরদের জন্য অস্বস্তিকর। তারা সামনে তুলে আনছেন রাষ্ট্রব্যবস্থায় জেঁকে বসা দুর্নীতি। তারা জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করছেন গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের জন্য মুখিয়ে থাকা সমাজে। কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বলছে, প্রতি বছর যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে যত সাংবাদিক খুন হন, তার চেয়ে বেশি খুন হন দুর্নীতি আর রাজনীতি কাভার করতে গিয়ে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জিআইজেএন, সাহসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং তাদের কাজকে স্বীকৃতি ও সম্মান দিতে পেরে আনন্দিত। এর আগে যারা এই পুরষ্কার জিতেছেন, তাদের অসাধারণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে পারবেন নিচে।

আবেদনের শর্ত

স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক, দল বা গণমাধ্যমের তৈরি এমন প্রতিবেদন, যা:

  • উন্নয়নশীল বা উদীয়মান দেশ কেন্দ্রিক
  • ১ জানুয়ারি ২০১৭ এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ এর মধ্যে প্রচারিত বা প্রকাশিত
  • অনুসন্ধানী ধাঁচের
  • জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর এমন সমস্যা, অপরাধ বা দুর্নীতি উদঘাটন করেছে
  • তৈরি করতে হয়েছে আটক, কারাবরণ, ভীতি, সহিংসতা এবং হূমকির মুখে থেকে

আবেদনের পরবর্তী সময়সীমা ২০১৯ এর মার্চের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।


সাবেক বিজয়ী

২০১৭ (যুগ্ম বিজয়ী)

দক্ষিণপূর্ব নাইজেরিয়ায় সংঘটিত ব্যাপক বিচার-বহির্ভূত হত্যার গভীরে এবং ওনিৎশা ম্যাসাকার: যেভাবে বিয়াফ্রা সমর্থকদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়

সাংবাদিক: ইমালুয়েল মায়াহ্‌, সম্পাদক: মুসিকিলু মোজিদ। (প্রিমিয়াম টাইমস, নাইজেরিয়া)

ছবি: ম্যাডেলিন ক্রোনিয়ে

সাংবাদিক: ইমালুয়েল মায়াহ্‌, সম্পাদক: মুসিকিলু মোজিদ। (প্রিমিয়াম টাইমস, নাইজেরিয়া)

মায়াহ্‌ দুই মাস ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে একাধিক গণ-কবর খুঁজে বের করেন। এর মাধ্যমে পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন এবং বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগটি আরো পাকাপোক্ত হয়। রিপোর্টে ছবিসহ প্রমাণ পাওয়ার পর মানবাধিকার সংস্থাগুলো স্বাধীন তদন্তের দাবি জানায়, যার ফলে সামরিক বাহিনী নতুন করে তদন্তের ঘোষণা দেয়

প্রজেক্ট নম্বর ১

সাংবাদিক: আসাদ আল-জালজালি; চিত্রগ্রহণ: থায়ের খালিদ (বেলাডি টিভি চ্যানেল, ইরাক)

ছবি: ম্যাডেলিন ক্রোনিয়ে

ইরাকের সরকারি স্কুলগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত ২০ কোটি মার্কিন ডলার যখন উধাও হয়ে গেলো, তখন সাংবাদিক আল-জালজালি সেই অর্থ কোথায় গেছে, তা অনুসরণ করলেন। এই অনুসন্ধান তাকে একটি ব্যাংক থেকে ভিন্ন আরেক দেশ পর্যন্ত নিয়ে যায়। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির ব্যাপকতা উন্মোচিত হয়। প্রতিক্রিয়ায় অভিযুক্তদের সাজা এবং চুরি হওয়া অর্থের অর্ধেক ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি

মেকিং আ কিলিং

সাংবাদিক: লরেন্স মারজুক, ইভান আঞ্জেলোভস্কি এবং মিরান্ডা প্যাট্রুচিচ; অতিরিক্ত রিপোর্টিং: আতানাস শোবানভ, ডুসিকা তোমোভিচ, ইয়েলেনা কোসিচ, ইয়েলেনা স্‌ভিরচিচ, লিন্ডিতা চেলা, আরআইএসই মলদোভা, পাভলা হালকোভা, স্টেভান দইচিনোভিচ এবং পাভলে পেত্রোভিচ; সম্পাদক: ড্রিউ সুলিভান, জোডি ম্যাকফিলিপস, রোজমেরি আরমাও, গোরদানা ইগরিচ এবং আনিতা রাইস (বলকান ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং নেটওয়ার্ক এবং অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রোজেক্ট)

ছবি: ডেলিন পল

যৌথভাবে করা এই অনুসন্ধানে, কেন্দ্রীয় ও পূর্ব ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে ১২০ কোটি ইউরো মূল্যের একটি অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থা উন্মোচিত হয়। অনুসন্ধানকারীরা খুঁজে পান, অস্ত্রের এই সরবরাহে অর্থায়ন আসছিলো সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তুরস্ক থেকে, এবং পরবর্তীতে তা কৌশলে ইসলামিক স্টেট এর মতো চরমপন্থী সংগঠনগুলোর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর ইউরোপিয় ইউনিয়ন অস্ত্র সরবরাহের ওপর নজরদারি জোরদারের ঘোষণা দেয় এবং অনেকগুলো দেশ তাদের নীতিমালা পুণর্মূল্যায়ন করে।

শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি

গুজরাট ফাইলস: অ্যানাটমি অফ আ কাভারআপ

সাংবাদিক: রানা আইয়ুব (স্ব-প্রকাশিত)

Picture: Daylin Paul.

সাংবাদিক রানা আইয়ুব গুজরাটে ২০০২ সালে হওয়া দাঙ্গার বিষয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের কথাবার্তা লুকিয়ে রেকর্ড করার জন্য নয় মাস আত্মগোপন করে ছিলেন। গুজরাটের এই দাঙ্গায় অন্তত ১০০০ মুসলিম মারা যান। যখন জানা যায়, আইয়ুবের অনুসন্ধানের একজন লক্ষ্য দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী, ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো তখন চুপচাপ হয়ে যায়। কিন্তু হুমকি আর নজরদারির মধ্যেও আইয়ুব তার রিপোর্টের অনুলিপি নিজেই প্রকাশ করেন, যেখানে সেই দাঙ্গায় ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভূমিকার বিষয়টি উন্মোচিত হয়।


২০১৫ (যুগ্ম বিজয়ী)  

আনহোলি অ্যালায়েন্সেস

সাংবাদিক: মিরান্ডা প্যাট্রুচিচ, দেয়ান মিলোভাক, স্টেভান দইচিনোভিচ, লেইলা কামজিক, ড্রেউ সুলিভান, যদি ম্যাকফিলিপস, রোজমেরি আরমাও (অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রোজেক্ট)

miranda-patrucic-global-shining-light-awardবছরব্যাপী এই অনুসন্ধানে প্রকাশিত হয়, একসময়ের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা মন্টেনেগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলো ডিয়ুকানোভিচ এবং তার পারিবারিক ব্যাংককে কেন্দ্রে রেখে কীভাবে সরকার, সংগঠিত অপরাধ এবং ব্যবসায়ীদের একটি অশুভ জোট গড়ে ওঠে; এবং ইইউর আদর্শ রাষ্ট্রের সংজ্ঞা থেকে বহু দূরে সরে গিয়ে, মন্টেনেগ্রো কীভাবে একটি মাফিয়া রাষ্ট্র হিসাবে কাজ করছে।

এমপায়ার অফ অ্যাশেজ

সাংবাদিক: মাউরি কোনিগ, আলবারি রোসা এবং ডিয়েগো আন্তোনেল্লি (ব্রাজিল); মার্থা সোতো (কলম্বিয়া); এবং রনি রোহাস (কোস্টা রিকা), গাজেতা দো পোভো, ব্রাজিল।

yanukovych-leaks-global-shining-light-awardইউক্রেইনে ২০১৪ সালের বিপ্লবের বিশৃঙ্খল দিনগুলোতে সাংবাদিকদের একটি দল জোট বাঁধে পরিত্যক্ত ২৫ হাজার নথি খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে। সেই নথিগুলো ছিল দেশটির পলায়নপর প্রেসিডেন্টের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাদের এই কাজের মাধ্যমে দুর্নীতির এক অনন্য ইতিহাস সবার সামনে আসে। ইয়ানুকোভিচ ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলার চুরির ফৌজদারি মামলায়, তাদের প্রতিবেদন প্রমাণ হিসাবে কাজ করে।

২০১৫ সালের চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য এখানে এবং ভিডিও এখানে


২০১৩*

আজারবাইজান করাপশন

সাংবাদিক: খাদিজা ইসমাইলোভা, নিশাবে ফেতুল্লায়েভা, পাভলা হলকোভা এবং জারোমির হাসন, সাথে সহযোগিতায় অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রোজেক্ট, রেডিও ফ্রি ইউরোপ এবং চেক সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম।

khadija-ismayilova-global-shining-light-awardপ্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ পরিবারের প্রশ্নবিদ্ধ ব্যবসা তুলে ধরে এই প্রতিবেদন। তিনি স্বর্ণের খনি পরিচালনা করে তার পাহাড় পরিমাণ সম্পর্কে আরো কোটি কোটি ডলার যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। এই দলটি উন্মোচন করে, কীভাবে একটি ব্রিটিশ এবং তিনটি প্রতিবেশী দেশের প্রতিষ্ঠানকে সামনে রেখে এই পরিবারটি তাদের ব্যবসা চালাতো।

শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি

ট্যাক্সেশন উইদাউট রিপ্রেজেন্টেশন

সাংবাদিক: উমার চিমা, সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং ইন পাকিস্তানumar-cheema-global-shining-light-award

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টসহ দেশটির সংসদের ৪৪৬ জন সদস্যের আয়কর রেকর্ড যোগাড় করেন এবং তা বিশ্লেষণ করেন উমর চিমা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংসদ সদস্যদের প্রায় ৭০ শতাংশই কর দেন না। এই প্রতিবেদন পাকিস্তানে ব্যাপক বিতর্ক জন্ম দেয়। উল্লেখ্য, পাকিস্তান রাজস্ব সংগ্রহের দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলোর একটি।

 


২০১১

সিক্রেট ডায়েরিজ

সাংবাদিক: জেমস আলবেরতি, কাতিয়া ব্রেমবাত্তি, কার্লোস কোলবাখ এবং গায়ব্রিয়েল তাবাতশেইক, গাজেতা দো পোভো এবনগ পিআরসি টেলিভিশন, ব্রাজিল

পারানা রাজ্যের আইনসভা কিভাবে কৌশলে জনতহবিল থেকে অন্তত ৪০ কোটি মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেয়, তা উন্মোচন করতে এই সাংবাদিকরা দুই বছর ধরে একটি ডেটাবেইজ তৈরি করেন। ২০১০ সালের এই ধারাবাহিক রিপোর্টটি দুর্নীতি বিরোধী প্রতিবাদে ৩০ হাজার মানুষকে রাস্তায় নামিয়ে আনে, যার ফলে ২০টিরও বেশি অপরাধের তদন্ত শুরু হয়।

 


ইনভেস্টিগেটিং দ্য ইকোনোমিক স্ট্রাকচার বিহাইন্ড দা মলদোভান রেজিম

সাংবাদিক: ভিতালি কালুগারিয়ানু (মলদোভা), ভ্লাদ লাভ্রভ (ইউক্রেইন), স্টেফান ক্যান্ডিয়া (রোমানিয়া), দুমিত্রু লাজুর (মলদোভা) এবং ইরিনা কডরিয়ান (মলদোভা)।gijc2010-global-shining-light-award-winning-story

মলদোভার সাবেক প্রেসিডেন্ট কিভাবে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের এবং পরিবারের সম্পত্তি বৃদ্ধি করেছেন, তা উন্মোচন করার জন্য সাংবাদিকরা কাজ করেছেন একসাথে। তারা ১৯৯৬-২০০৯ সালের মধ্যে ভোরোনিন কত ব্যক্তিগত সম্পত্তি গড়েছেন, তার তথ্য যোগাড় করেন। দেখান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কীভাবে বাজারে একক আধিপত্য সৃষ্টি করে।


২০০৮

গ্যাংস্টারিজম অ্যান্ড ফল্টি লিগাল সিস্টেম

সাংবাদিক: সোনালি সামারাসিংহে (শ্রীলঙ্কা)

sonali-samarasinghe-global-shining-light-award

ছবি: এসকেইউপি

একজন ক্ষমতাশালী মন্ত্রী তার প্রভাব এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ব্যবহার করে গণমাধ্যম এবং বিচার ব্যবস্থাকে কিভাবে বাধাগ্রস্ত করেছেন, তা উন্মোচন করেছেন সোনালি সামারাসিংহে। এই ঘটনার পর সামারাসিংহের স্বামীকে হত্যা করা হয় এবং তার জীবনের ওপরও হুমকি আসতে থাকে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে দেশত্যাগ করেন।

 


২০০৭

পাওয়ার ব্রোকারস

সাংবাদিক: পল ক্রিশ্চিয়ান রাদু এবং সোরিন ওজন, রোমানিয়া শ্যেনটার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম; এলডিনা প্লেহো এবং অ্যালিসন নেজেভিচ, শ্যেনটার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং ইন বসনিয়া; স্টানিমির ভ্লাগলেনভ (বুলগেরিয়া), এবং আলটিন রাশিমি (আলবেনিয়া)।

gijc2007-global-shining-light-award-winning-story-power-brokersতারা এই অনুসন্ধান করেছেন রোমানিয়া, বসনিয়া, বুলগেরিয়া এবং আলবেনিয়া জুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নেপথ্যে থাকা জ্বালানি সংকট নিয়ে। তাদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানে উন্মোচন হয়েছে, কীভাবে পর্দার আড়ালে থেকে বলকান দেশগুলোতে কাজ করছেন ব্যবসায়ীরা। রিপোর্টে তুলে ধরা হয়, ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ লাভ তুলে নিয়ে, কীভাবে দরিদ্র নাগরিকদের ওপর বিদ্যুতের গলাকাটা দাম চাপিয়ে দিচ্ছে।


*দ্রষ্টব্য: ২০১৩ গ্লোবাল শাইনিং লাইট অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন দুইজন। কিন্তু একজন সাংবাদিকদের কাজ নিয়ে বিতর্ক থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার সানডে টাইমস ক্যাটো ম্যানর: ইনসাইড আ সাউথ আফ্রিকান পুলিস ডেথ স্কোয়াড এর জন্য দেওয়া পুরষ্কারটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।