প্লেনস্পটিং: আকাশের উড়োজাহাজ ট্র্যাক করবেন যেভাবে

English

ছবি: পেক্সেলস

উড়োজাহাজ ট্র্যাকিংয়ের কৌশল ক্রমশই অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য মূল্যবান হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে। নতুন নতুন ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা তাদের অনুসন্ধানকে বিস্তৃত করছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু নজিরও তারা গড়েছেন। যেমন:

  • এক রাশিয়ান ধনকুবেরের মালিকানাধীন বিমানের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় সন্দেহজনক ভ্রমন পর্যবেক্ষণ
  • হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিমালিকানাধীন উড়োজাহাজ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন
  • তুরস্ক সরকারের রেনডিশন ফ্লাইটের (উড়োজাহাজে গোপনে বন্দী স্থানান্তর) তথ্য উন্মোচন
  • সরকারি কর্মকর্তাদের সফর অনুসরণ
  • কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের যাতায়ত পর্যবেক্ষণ
  • বিমান দুর্ঘটনা বিশ্লেষণসহ এমন অনেক ঘটনা।

উড়োজাহাজ ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দারুন সময় পার করেছেন রিপোর্টাররা।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে জিআইজেএন তৈরি করেছে এই রিসোর্স। এখানে পাবেন:

সেই অভিজ্ঞতা থেকে জিআইজেএন তৈরি করেছে এই রিসোর্স। এখানে পাবেন:

এই লেখা বেশ বিস্তৃত। শুধু সংক্ষিপ্ত ধারণা পেতে আমাদের এক পৃষ্ঠার সারমর্মটি দেখতে পারেন।

ট্র্যাকিংয়ের পুরনো ও আধুনিক পদ্ধতি

শৌখিন পর্যবেক্ষণকারীরা ( উড়োজাহাজ প্রেমী) দূরবিন এবং ক্যামেরা নিয়ে বিমানবন্দরে যান। উড়োজাহাজ দেখার পাশাপাশি তারা এর সনাক্তকরণ চিহ্নটি খুঁজে বের করেন, ছবি তোলেন এবং তথ্য টুকে রাখেন । এই ব্যাপারটি উড়োজাহাজ চলাচলের শুরুর দিককার সময় থেকে এখন পর্যন্তও চালু রয়েছে।

সব উড়োজাহাজেই অক্ষর আর সংখ্যার সমন্বয়ে একটি আলাদা সনাক্তকরণ চিহ্ন থাকে। এর মাধ্যমে উড়োজাহাজটি কোন দেশে নিবন্ধিত সেটি যেমন বোঝা যায়, তেমনি তার পরিচিতিও জানা যায়। এই নিবন্ধন নম্বরটি মূলত বিমানের লেজের দিকে থাকে। দেখার সুবিধার্থে এটি কমপক্ষে ১২ ফুট উচ্চতায় স্পষ্ট করে লেখা হয়।

ছবি: পিক্সাবে

বিমানটি কোন দেশে নিবন্ধিত তা জানান দেয় শুরুর কয়েকটি অক্ষর (দেশভিত্তিক নিবন্ধন নম্বরের তালিকা দেখুন)। এরপরের সংখ্যা এবং বর্ণগুলো মূলত ঐ উড়োজাহাজের নির্দিষ্ট পরিচিতি নম্বর। তবে সামরিক উড়োজাহাজের সনাক্তকরণ (আইডি) ব্যবস্থা আলাদা।

এর সাথে প্রতিটি উড়োজাহাজের আরেকটি স্বতন্ত্র ‘হেক্স কোড’ থাকে। এটি নেয়া হয় ২৪ বিটের একটি সাংকেতিক ঠিকানা থেকে। প্রতিটি দেশের জন্য আলাদাভাবে এই কোড বরাদ্দ করে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও)।

আপনি উড়োজাহাজের লেজে থাকা নম্বরটি চোখে দেখার পাশাপাশি আর কোথায় খুঁজে পাবেন? এক্ষেত্রে নাম দিয়ে খোঁজার জন্য উড়োজাহাজের মালিকানা সংক্রান্ত জাতীয় রেজিস্ট্রি বা নথি হতে পারে সবচেয়ে ভাল উৎস। পাশাপাশি আদালতের ডকুমেন্ট দেখতে পারেন এবং অনলাইনে গবেষণাও করতে পারেন। (নিচে মালিকানার অংশটি দেখুন)

এখানে একটি উদাহরণ দেয়া হল: এন৯৭৪ (N974HR.)

যেহেতু এন (N) দিয়ে শুরু হয়েছে তাই বোঝা যাচ্ছে উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত।

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ রেজিস্ট্রিতে অনুসন্ধান চালিয়ে আপনি দেখতে পাবেন এটি একটি ফ্যালকন ২০০০ জেট বিমান। এর মালিকানা প্রতিষ্ঠান নিউজার্সির ব্র্যাঞ্চবুর্গ ভিত্তিক রোশ ম্যানুফেকচারিং সিস্টেমস।

এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের মত ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যভান্ডারে এই নম্বরটি দিয়ে অনুসন্ধান করলে উড়োজাহাজটির চলাচল সম্পর্কিত তথ্য জানা যাবে। উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে, ২০১৯ সালের ২১ মার্চ এটি আটলান্টা থেকে নিউজার্সিতে উড়ে যায়। যাবতীয় ফ্লাইট রেকর্ডই এভাবে বের করা সম্ভব।

ট্র্যাকিং প্রক্রিয়া

উড্ডয়নের পর বিভিন্নভাবে উড়োজাহাজ ট্র্যাকিং সম্ভব। নতুন একটি ব্যবস্থা আন্তর্জাতিভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্যও পাওয়া যায় তুলনামূলক বেশি।

সেদিকে যাওয়ার আগে পেছনে ফিরে, যুগ যুগ ধরে ব্যবহার হয়ে আসা রাডার ভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে কিছুটা নজর দেয়া যাক।

‘প্রাইমারি’ রাডার: এটি রেডিও সিগন্যাল বা বেতার সংকেতের প্রতিফলন বিশ্লেষণ করে উড়োজাহাজের একটি সম্ভাব্য অবস্থান বের করে।

“সেকেন্ডারি সার্ভেইল্যান্স রাডার”: কোনো উড়োজাহাজ বেতার সংকেত গ্রহণের পর সেই তথ্য যখন আবার ফেরত পাঠায়, সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিমানের তথ্য জানা যায় এই পদ্ধতিতে। এর মাধ্যমে উড়োজাহাজের পরিচিতি নম্বর (আইসিএও হেক্স কোড) এবং উচ্চতারও তথ্য মেলে। কিন্তু অবস্থান জানা সম্ভব হয় না। তবে একাধিক স্থান থেকে পাঠানো সংকেত পেলে, সেখান থেকে বিমানের গতিপথ বের করা যায়। এভাবে অবস্থান নির্ণয় করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় মাল্টিল্যাটারেশন বা এমএলএটি। (এখানে একটি গ্রাফিকের মাধ্যমে বিস্তৃত ব্যাখ্যা আছে।)

রাডারের এসব তথ্য মূলত দেশের সরকার থেকেই সংগ্রহ করা হয়। অনেকসময় সেগুলো সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

আগ্রহী ব্যক্তিরাও সেকেন্ডারি রাডার সিগন্যাল ট্র্যাক করতে পারেন। তারা অনেকসময় ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন।

এডিএস-বি: বহরে নতুন সংযোজন

বিমান ট্র্যাকিংয়ের নতুন একটি প্রযুক্তি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফ্রিকোয়েন্সি, তথ্যের যথার্থতা আর বিস্তৃতি, সব দিক থেকে এটি ভালো। খরচও কম। এর নাম এডিএসব-বি, যার পূর্ণ রূপ অটোমেটিক ডিপেনডেন্ট সার্ভেইল্যান্স ব্রডকাস্ট।

এডিএস-বি পদ্ধতিতে বিমানের ভেতরে বসানো একটি যন্ত্র – স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবহার করে, তার অবস্থান নির্ণয় করে। আধা সেকেন্ড অন্তর উড়োজাহাজের উচ্চতা, গতি, দিক, পরিচিতি নম্বরসহ জিপিএস তথ্যটি ট্রান্সমিট করা হয়। একে বলা হয় এডিএস-বি আউট। গতি, উচ্চতা ও অবস্থানের নিরিখে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণের বিষয়ও অনুমান করা যায়।

এডিএস-বির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, এই সংকেতটি ধারণ করতে যে যন্ত্র লাগে তার জন্য মাত্র ১০০ ডলার খরচ করলেই চলে (রাডার বসানোর চেয়েও এটি সাশ্রয়ী)। এই আনএনক্রিপ্টেড সংকেত ১০৯০ মেগাহার্টজে ট্রান্সমিট করা হয়, যা ২০০ মাইলের মধ্যে থাকলে ধারণ করা যায়। পৃথিবীতে এখন এমন লাখো রিসিভার আছে, যা এই সংকেত ধারণ করতে পারে। এর বেশিরভাগই রয়েছে শৌখিন উড়োজাহাজ পর্যবেক্ষকদের কাছে। তারা ধারণ করা সংকেত পাঠিয়ে দেন বাণিজ্যিক অথবা অলাভজনক ট্র্যাকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। অনেক সময় এর বিনিময়ে ভাল অঙ্কের সম্মানীও পান তারা।

এমন ব্যক্তি পর্যায়ের ডেটাগুলোকে এক করে সার্বিক একটি ট্র্যাকিং রেকর্ড তৈরি করা যেতে পারে।

ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইট এওয়্যার এর এডিএস-বি কাভারেজ স্টেশনগুলো। স্ক্রিনশট: ফ্লাইট এওয়্যার

এই রেকর্ডগুলো অবশ্য সব সময় সম্পূর্ণ নয়। মরুভূমি, সমুদ্র, মেরু অঞ্চল ও স্বল্প আয়ের কিছু দেশসহ অনেক জায়গায় কোন রিসিভার নেই। তবে স্যাটেলাইট ভিত্তিক এডিএস-বি রিসিভারের সহায়তায় এই সমস্যাটি সামনে অনেকটাই দূর হবে। টেরেস্ট্রিয়াল এডিএস-বি রিসিভারের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে।  সবচেয়ে বড় ট্র্যাকিং সাইটগুলোর একটি ফ্লাইট এওয়্যার। এর দখলেই রয়েছে ২০,০০০ কন্ট্রিবিউটিং রিসিভার।

এডিএস-বির কাভারেজ সামনের দিনে আরো বাড়বে, কেননা আরো অনেক উড়োজাহাজে এই যন্ত্র বসানো হবে।

আন্তর্জাতিকভাবেও এডিএস-বি প্রযুক্তি বসানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ এবং ইউরোপে ৭ জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরে এডিএস-বি বাস্তবায়ন হয়েছে। (এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ইউএস এয়ারক্রাফট ওনার্স অ্যান্ড পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন। আরো দেখতে পারেন স্কাইব্রেরি।)

স্বচ্ছতা বাড়ছে

এডিএস-বি প্রযুক্তি উড়োজাহাজ শিল্পে স্বচ্ছতা বাড়াচ্ছে। কেননা এই সংকেত খুবই সাধারণ যন্ত্রপাতি দিয়ে যে কেউ ধারণ করতে পারে।

কোনোভাবে যদি উড়োজাহাজের পরিচিতি নম্বরটি জানা যায় তাহলে তার মালিকানা সংক্রান্ত তথ্যও উন্মোচন করা সম্ভব।

তবে বড় বাধা হল অনেক দেশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে উড়োজাহাজ নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে না। (আরো জানতে, নিচের মালিকানা অংশটি দেখুন।)

যুক্তরাষ্ট্র সরকার উড়োজাহাজের মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। কিন্তু উড়োজাহাজের মালিক চাইলে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে আবেদন করে, তাদের ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে পারে। এয়ারক্রাফট সিচ্যুয়েশন ডিসপ্লে টু ইন্ডাস্ট্রি (এএসডিআই) ব্লকিং প্রোগ্রাম নামে দেশটির ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটির (এফএএ) একটি বিধি রয়েছে। (এই বিষয়ে এখানে বিস্তারিত পাবেন।)

এর আওতায় এফএএ-এর ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চয়তা দেয়, তারা ব্লক লিস্টে থাকা উড়োজাহাজের তথ্য প্রকাশ করবে না।

ফ্লাইট এওয়্যার এবং ফ্লাইট রাডার টুয়েন্টিফোর এর মত বৃহৎ বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানগুলো এই গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে চলে।

যে প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে সব কিছু

এডিএস-বি এক্সচেইঞ্জ নামের এই ট্র্যাকিং প্রযুক্তি হাজারো মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের দেয়া (ক্রাউডসোর্সড) তথ্যের উপর নির্ভরশীল। এখানকার কোনো তথ্যই সরকারি নয়। তথ্যদাতারা স্বাধীন,  তাই গোপনীয়তার কোনো অনুরোধ মানতে বাধ্য নন।

মজার ব্যাপার হল, যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের বিমানের ভ্রমন-তথ্য গোপন রাখার আবেদন করেন, তাদের তালিকাও কিছুদিন পরপরই প্রকাশ পায়। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকরা ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্টের আওতায় সেই তথ্য সংগ্রহ করেন।

এডিএস-বি প্রযুক্তির কারণে এখন অনেক ফ্লাইটের তথ্যই আর গোপন থাকছে না। এ কারণে সেইসব উড়োজাহাজের মালিক ও পাইলটরা সরকারকে চাপ দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রে উড়োজাহাজ শিল্প ও সরকারের সমন্বয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। তারা খতিয়ে দেখছে, কীভাবে গোপনীয়তা নিশ্চিত করা যায়।

নতুন একটি পরিকল্পনাও ইদানিং আলোচনায় এসেছে। গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাওয়া উড়োজাহাজ মালিকদেরকে “রোলিং আইসিএও কোডস” নামের একটি সাময়িক নম্বর দেয়া হবে। এই কোডটি বজায় থাকবে শুধু নির্দিষ্ট একটি ফ্লাইটের জন্যই। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থা ছাড়া সাধারণ পর্যবেক্ষণকারীরা সেটি চিহ্নিত করতে পারবে না।

পরিকল্পনাটির বিস্তারিত রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটি বাস্তবায়ন হলে উড়োজাহাজ চিহ্নিত করার উদ্যোগ বাধাগ্রস্থ হবে।

২৩ মে ২১০৯ তারিখে বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ চলাচলের একটি স্ন্যাপশট। এটি নেয়া হয়েছে ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইট এওয়্যার থেকে।

ট্র্যাকিংয়ের তথ্য মিলবে যেসব সাইটে

বাণিজ্যিক ও অলাভজনক সংস্থাগুলো সরকারি ও বেসরকারি উৎস থেকে বিপুল পরিমান ফ্লাইট ডেটা সংগ্রহ করে। এর মাধ্যমে তারা অন্যদেরও উড়োজাহাজ ট্র্যাকিংয়ের সুযোগ করে দেয়।

এখানে ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের কয়েকটি প্রধান সোর্স বা উৎস দেয়া হল। এর সবগুলোতেই বিনা খরচে সার্চের সুবিধা রয়েছে। তবে কিছু তথ্যের জন্য যেমন, কোনো নির্দিষ্ট বিমানের উড্ডয়নের অ্যালার্ট পেতে কিংবা তথ্যভান্ডারে পুরোপুরি প্রবেশাধিকারের জন্য আপনাকে সাবসক্রিপশন নিতে হবে।

এডিএস-বি এক্সচেঞ্জ নিজেদেরকে যথার্থভাবেই বিশ্বের ‘আনফিল্টারড ফ্লাইট ডেটার সবচেয়ে বড় সাইট’ হিসেবে দাবি করে। এখানে আনফিল্টারড বলতে বোঝানো হয়েছে সাইটটি এডিএস-বি সিগন্যালের উপর নির্ভরশীল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইট সংক্রান্ত কোনো তথ্য তারা সেখানকার সরকারের অনুরোধক্রমে বাদ দেয় না বা মুছে ফেলে না। আর এ কারণে এটি সংবাদকর্মীদের কাছেও বেশ আকর্ষণীয়। ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে একমাত্র তারাই এমন সেবা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের পাইলট ড্যান স্ট্রুফার্টের হাতে গড়া এডিএস-বি এক্সচেঞ্জ, শুরু থেকেই ট্র্যাকিং শিল্পে নিজেদের একটি ডিসরাপটিভ অর্থ্যাৎ প্রথাভাঙা শক্তি হিসেবে প্রমাণ করেছে।

সাইটটি নির্ভর করে ২০০০ এরও বেশি মানুষের একটি সম্প্রদায়ের উপর। তারা রিয়েলটাইম এমএলএটি ও এডিএসবি ডেটা পাঠাতে থাকেন। সেগুলো সার্চযোগ্য একটি সাইটে আপলোড করা হয়। অবাণিজ্যিক ব্যবহার এবং সহযোগিতার জন্য তা উন্মুক্ত থাকে। বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে চাইলে অনুমোদন নিতে হয়।

কোনো একটি নির্দিষ্ট উড়োজাহাজ অনুসন্ধানের জন্য সাইটের “আদার ট্র্যাকিং ইনফরমেশন’’ ট্যাবে গিয়ে, ড্রপডাউন মেন্যু থেকে “ফ্লাইট হিস্ট্রি ডেটা” ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। আর এই মুহুর্তে চলাচলকালী ফ্লাইটগুলো দেখতে, “গ্লোবাল রাডার ভিউ” অপশনের অধীনে “গ্লোবাল রাডার” ট্যাবে যেতে হবে। সেখানে অপশন মেন্যু থেকে ডেটা নিজের মত সাজিয়ে নেয়াও সম্ভব। যেমন, চাইলে শুধু সামরিক উড়োজাহাজগুলোর তথ্য দেখতে পাবেন। অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেইস বা এপিআইয়ের মাধ্যমে আরো গভীরে গিয়েও তথ্য খোঁজা সম্ভব (আরো তথ্য মিলবে এখানে)।  সম্ভব ডেটা ডাউনলোডও। তবে এজন্য কিছু অর্থ খরচ করতে হয়।

সাংবাদিকরা তাদের প্রয়োজনে এই ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন।

ফ্লাইট এওয়্যার FlightAware অতিথি ব্যবহারকারীদের বিনা খরচে ট্র্যাকিং সুবিধা দিয়ে থাকে। পছন্দের নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজের অ্যালার্টও এর মাধ্যমে পাওয়া যায়। “বেসিক অ্যাকসেস” পেতে আপনাকে নিবন্ধন করতে হবে। “প্রিমিয়াম” ও “এন্টারপ্রাইজ” ব্যবহারকারীদেরকে তারা বাড়তি সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে, অর্থের বিনিময়ে। ৯৫ টি দেশের ২০,০০০ এডিএস-বি সংকেত সরবরাহকারীকে নিয়ে তাদের কারবার।

২০১৮ সালে স্যাটেলাইট ভিত্তিক উড়োজাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান এইরিয়ন এর সাথে একটি চুক্তি করে ফ্লাইট এওয়্যার। যার মাধ্যমে তাদের ট্র্যাকিং সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তবে এই সুবিধাটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। ফ্লাইট এওয়্যার মার্কিন আইন অনুযায়ী গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ফ্লাইট এওয়্যার এর বিপণন পরিচালক সারা ওরসি বলেন, “যখনই সম্ভব হয় আমরা সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা দেয়ার সব ধরনের চেষ্টা করি।” তারা সাংবাদিকদের বিনা পয়সায় ডেটা ব্যবহার করতে দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ডেটা বিশ্লেষকরা প্রয়োজনমাফিক প্রতিবেদন তৈরি করে বলেও জানান ওরসি। তবে কিছু সংবেদনশীল ক্ষেত্রে কোম্পানিটি সূত্র হিসেবে নিজেদের নাম গোপন রাখে।

ফ্লাইট রাডার টুয়েন্টি ফোর বিশ্বজুড়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো অনুসরণের সুযোগ করে দেয়। তা-ও বিনাপয়সায়। সাইটটিতে নিবন্ধন নম্বর, ফ্লাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান অথবা বিমানবন্দর ধরে তথ্য খোঁজার সুবিধা রয়েছে। তবে বাড়তি তথ্যের জন্য আছে বিভিন্ন ধরণের সাবসক্রিপশন বা গ্রাহক স্তর। যেমন: সিলভার (প্রতি মাসে ১.৫০ ডলার অথবা বছরে ১০ ডলার) এবং গোল্ড (প্রতি মাসে ৪ ডলার অথবা বছরে ৩৫ ডলার)। গ্রাহকরা ফ্লাইটের ঐতিহাসিক তথ্য এবং আবহাওয়ার তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ পেয়ে থাকেন। কোম্পানিটি মার্কিন আইন অনুযায়ী গোপনীয়তার অনুরোধ বজায় রেখে চলে। পাশাপাশি টাকার বিনিময়ে গ্রাহকদের উড়োজাহাজ ট্র্যাকিং বন্ধ রাখার ‍সুযোগ দেয়।

প্রতিষ্ঠানটি ডেটা বিক্রি করে। তবে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তারা সাংবাদিকদের সাথেও কাজ করে। “অনেক সময় আমরা গণমাধ্যমের অনুরোধে বিনাপয়সায় এমন সব ডেটা সরবরাহ করি, যেগুলো খুব একটা বিস্তৃত ও জটিল নয় এবং যা আমাদের সিস্টেমের উপর খুব একটা চাপ ফেলে না,” বলেন ইয়ান পেচেনিক। তিনিই প্রতিষ্ঠানটির এই ধরনের অনুরোধগুলো সামলান (তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনে এই ঠিকানায় ian@fr24.com)।  তাঁর মতে ফ্লাইট রাডার টুয়েন্টি ফোরের ডেটা তার প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক স্পষ্ট। তাদের অধীনে আছে ২১,০০০ স্টেশন নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্ক। তাদের ডেটার ব্যবহার নিয়ে দেখুন ২০১৬ সালে এক রিপোর্টারের লেখা প্রতিবেদন, “ফ্লাইট রাডার টুয়েন্টি ফোরের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং”।

ওপেন স্কাই নেটওয়ার্ক হচ্ছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা। তারা দাবি করে, বিশ্বে বিমান চলাচলের সবচেয়ে বড় সার্ভেইল্যান্স ডেটার ভান্ডারটি তাদের দখলে। “আমরা প্রতিটি বিমান থেকে পাওয়া প্রতিটি বার্তাই সংরক্ষণ করি,” জিআইজেএনকে জানান তাদের একজন স্বেচ্ছাসেবী। তাদের এয়ারক্রাফট ডেটাবেজ-এ গিয়ে  উড়োজাহাজের লেজে থাকা নম্বরটি দিয়ে অনুসন্ধান করলে নিবন্ধন তথ্য, ফ্লাইট ইতিহাস এমনকি সেটি আকাশে নাকি মাটিতে, তা-ও জানিয়ে দিবে। এক্সপ্লোরার ফিচারে গেলে, যেসব উড়োজাহাজ আকাশে আছে শুধু সেগুলোই দেখাবে।

যত উড়োজাহাজ ট্র্যাক করা হয়েছে তার সবগুলোর ৩০ দিনের ইতিহাসও দেয়া আছে। জরুরী সতর্কবার্তার তালিকা নিয়ে রয়েছে আরেকটি ফিচার।

ওপেনস্কাই মূলত একাডেমিক এবং অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি। তবে সুনির্দিষ্ট অনুরোধ জানালে তারা সাংবাদিকদেরও সহযোগিতা করে। নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, এমন ক্ষেত্রে তারা গণমাধ্যমের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।

২০ মে ২০১৯ তারিখের একটি ফ্লাইটের গতিপথের চিত্র। স্ক্রিনশট: এডিএস-বি এক্সচেঞ্জ

অন্যান্য ট্র্যাকিং সেবাদাতা

এর বাইরে আরও কিছু ট্র্যাকিং সাইট রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই বিনামূল্যে তথ্য সরবরাহ করে। কিন্তু স্পর্শকাতর তথ্যের জন্য টাকা দিতে হয়। মার্কিন গোপনীয়তা বিধি মেনে চলে তারা। বেশিরভাগ সাইটই ইংরেজিতে।

প্লেনরাডার ডট আরইউ রাশিয়ার একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি মূলত রুশ বিমানের তথ্য দেয়।

আরও কয়েকটি ট্র্যাকিং সেবাদাতা সাইট: এভিডেলফি, প্লেন ফাইন্ডার, ফ্লাইট স্ট্যাটস, প্লেন ম্যাপার, ফ্লাইট বোর্ড, ফ্লাইটভিউ, ওএজি, প্লেনপ্লটার এবং এয়ারফ্লিটস

বেশিরভাগ বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠান এবং অনেক বিমানবন্দরেরও নিজস্ব সাইট রয়েছে।

মালিকানা তথ্য

একটি উড়োজাহাজের পরিচিতি তথ্য থাকলে তাত্ত্বিকভাবে এর মালিকের পরিচয়ও খুঁজে বের করা সম্ভব বলে ধরে নেয়া যায়।

অক্ষর ও সংখ্যা দিয়ে তৈরি পরিচিতি নম্বরটি প্রতিটি উড়োজাহাজের ক্ষেত্রেই আলাদা। সেই নম্বরই আপনাকে বলে দেবে, বিমানটি কোন দেশে নিবন্ধিত। (দেশ সনাক্তকরণের র্পূণাঙ্গ তালিকাটি এখানে দেখুন।)

প্রায় ৬০ টি দেশের সরকার মালিকানা সংক্রান্ত কিছু তথ্য প্রকাশ করে। যা মূলত জাতীয় রেজিস্ট্রিতে থাকে। সেগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ, অনলাইনে এই তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ দেয়। কিছু দেশের ক্ষেত্রে ডেটা ডাউনলোডও করা যায়।

তবে ব্যক্তি-গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে বেশিরভাগ দেশই মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য উন্মুক্ত করেনি। উদাহরণস্বরুপ, জার্মানিতে কেবল মালিকের অনুমোদন সাপেক্ষেই মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করার নিয়ম রয়েছে।

অনেক সময় প্রকাশিত তথ্য থেকে বিমানের ধরণ ও মালিকের নাম ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। কিছু রেজিস্ট্রি প্রতিদিন হালনাগাদ হয়। কিন্তু এমনও অনেক রেজিস্ট্রি আছে, যা মাসে বা বছরে একবার হালনাগাদ হয়।

মালিকানার তথ্য কোথায় মিলবে

এরো ট্রান্সপোর্ট, এ ধরণের তথ্য অনুসন্ধানের জন্য একটি ভাল জায়গা। এই ডেটা ব্যাংকে ৬০ টি দেশের তথ্য রয়েছে। সেগুলো বিভিন্ন উপায়ে সার্চের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিছু সার্চ বিনা মূল্যেই করা যায়, অন্যগুলোর জন্য টাকা খরচ করতে হয়। সেক্ষেত্রে এক মাসের জন্য ১২০ ইউরো এবং বছরব্যাপী ব্যবহারে জন্য ১২০০ থেকে ১৭০০ ইউরো পর্যন্ত খরচ করতে হবে।

এয়ারফ্রেইমস  এ মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য খোঁজার সুযোগ রয়েছে (ব্যবহার বিনা পয়সায় হলেও নিবন্ধন করতে হয়)। এখানে বিভিন্ন উৎসের তথ্য রয়েছে। এমনকি কানাডিয়, ফরাসী, মার্কিন, ড্যানিশ, ডাচ, সুইডিশ এবং অস্ট্রেলিয় রেজিস্ট্রির তথ্যও এখানে পাওয়া যায়।

আরজেডজেটস উড়োজাহাজের লেজে থাকা সনাক্তকরণ নম্বরসহ বিভিন্ন উপায়ে সার্চের সুযোগ দেয়। এখানে উড়োজাহাজের বিভিন্ন মডেলের একটি লম্বা তালিকাও আছে। বোয়িং ম্যাক্সের মত কোনো একটি মডেলে ক্লিক করলে, এই মডেলের যত বিমান আছে, তাদের সবার মালিকের তথ্য এখানে দেখতে পাবেন।

ফ্লাইট এওয়্যার ও ফ্লাইট রাডার টুয়েন্টি ফোরেও মালিকানা সংক্রান্ত কিছু তথ্য পাওয়া যায়।

ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি

সার্চ করার সুবিধা রয়েছে এমন কয়েকটি রেজিস্ট্রির তালিকা এখানে দেয়া হল:

কিছু ওয়েবসাইটে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রির তালিকা রয়েছে:

এয়ারনেট ওয়েব সাইট-এ অনলাইন ও জিপফাইলভিত্তিক ন্যাশনাল রেজিস্ট্রির তালিকা আলাদা আলাদাভাবে পাওয়া যাবে।

এয়ার ডেটা সার্চ, একটি ডাচ সাইট। তথ্যবহুল ৪৫ টি সাইটের তালিকা রয়েছে এখানে। যদিও সেগুলোতে অনলাইন সার্চের সুবিধা আছে কিনা তার কোনো নির্দেশিকা নেই।

এয়ারলাইন কোডস ওয়েবসাইট-এ ২৮ টি অফিসিয়াল সাইটের একটি তালিকা আছে। কিছু আনঅফিসিয়াল সাইটের একটি তালিকাও সেখানে আছে, যার বেশিরভাগই পুরাতন।

ল্যান্ডিংস-এ গেলে অসম্পূর্ণ একটি তালিকা পাবেন।

উইকিপিডিয়াতে ন্যাশনাল এভিয়েশন অথরিটি বা জাতীয় বিমান পরিহন কর্তৃপক্ষের একটি তালিকা রয়েছে। তবে সেখানে মালিকানা নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য নাও থাকতে পারে।

কর্পোরেট জেট ইনভেস্টর তাদের অফিসিয়াল গাইড টু এয়ারপ্ল্যান রেজিস্ট্রেশন ২০১৯ এ জাতীয় নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেছে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশভিত্তিক সংস্থাগুলোর নাম সেখানে দেয়া থাকলেও তাদের কোন লিংক নেই। তবে সেটি দেখে বুঝা যায়, কোন দেশে পাবলিক রেজিস্ট্রি আছে। তাদের “কান্ট্রি ডেটা এট আ গ্ল্যান্স” বিভাগে (৭৬ পৃষ্টা থেকে শুরু) রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধন পাবলিক কিনা সেটি বলা থাকলেও বিস্তারিত কিছু দেয়া নেই।

মূলত স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের দিয়ে এই সংক্ষিপ্তসারটি তৈরি করা হয়েছে। তাদের নাম এবং যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্যও তালিকাবদ্ধ রয়েছে।

রিপোর্টারদের হতাশা

তথ্যে ফাঁকফোকর থাকলে তা প্রতিবেদন তৈরির কাজটিকে অনেক জটিল করে তোলে।

ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি ব্যবহার করে কীভাবে বড় ধরণের একটি অনুসন্ধান চালিয়েছিল রয়টার্স তার ব্যাখ্যা রয়েছে তাদের ২০১৮ সালের এই প্রতিবেদনে। রিপোর্টটির বিষয় ছিল, “কীভাবে পশ্চিমা বিমান শেষ পর্যন্ত কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের হাতে পৌছে”।

প্রতিবেদনে রিপোর্টার রিনাত সাগদিয়েভ একটি সাইডবারে দেখিয়েছেন, কীভাবে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মালিকদের চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। “রয়টার্সের রিপোর্টারদের ট্র্যাকিং অনুযায়ী বেশিরভাগ  উড়োজাহাজই ইউক্রেনের পর ইরান, আফগানিস্তান ও সিরিয়ায় গিয়েছিল। এসব দেশের কোনোটিরই সবার জন্য উন্মুক্ত এয়ারক্রাফট রেজিস্টার নেই,’’ লিখেছেন তিনি।

আরো বিস্ময়কর খবরও রয়েছে।

সার্বিয়ার রিপোর্টার ইভান আনগেলোভস্কি, ২০১৯ সালে তাদের প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহার করা একটি জেট নিয়ে অনুসন্ধান চালান। বলকান ইনসাইটে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে তিনি বিভিন্ন টুল ব্যবহার করেন। আনগেলোভস্কি খুুঁজে পান উড়োজাহাজটি ব্রাজিলের একটি ঔষধ কোম্পানির কাছ থেকে কেনা হয়েছিল। “তার কয়েকমাস আগেই সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কেনার অনুমোদন পায় প্রতিষ্ঠানটি।” ৬০ লাখ ডলারে এটি কেনা হলেও, তার কোনো দাপ্তরিক নথি নেই। কিন্তু ইভান খুঁজে পান, জেট বিমানটি নিবন্ধন করা হয় সার্বিয়া সরকারের নামেই।

রেকর্ড বা তথ্যে বিভ্রান্তি

উড়োজাহাজের প্রকৃত মালিকের তথ্য গোপন করা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

রেজিস্ট্রেশন ডেটাবেজে থাকা নামটি শেষ পর্যন্ত হয়তো কোনো দেশের একটি ছায়া কোম্পানি হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। যেখানে প্রকৃত মালিক কে, তা প্রমাণ করা খুব কঠিন।

এর মানে হল বেনামী কোম্পানি এবং ছায়া ব্যক্তিদের পেছনে ছোটা।

মালিককে চিহ্নিত করতে না পারার হতাশাটি মিডল ইস্ট আইয়ের এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, “আইল অব ম্যান ভিত্তিক কোম্পানি মাল্টিবার্ড ওভারসিজ লিমিটেড এর নামে গত বছর একটি উড়োজাহাজ নিবন্ধিত হয়েছে। কিন্তু তার আসল মালিক কে সেটি অস্পষ্ট রয়ে গেছে। আইল অব ম্যান এর সিভিল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালক সাইমন উইলিয়ামস এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে অপারগতা জানান।”

যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মালিকানা গোপন রাখা হয়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক অথবা ট্রাস্টের মাধ্যমে নিবন্ধন করে কিছু মালিক তাদের উড়োজাহাজের পরিচিতি আড়াল করেন। দেশটির অনুসন্ধানী প্রতিবেদকরা এমন কিছু ঘটনা উন্মোচন করেছেন।

তাদের আইনে বিদেশী উড়োজাহাজের মালিকানা, সেখানে নিবন্ধিত কোনো ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ আছে। দেশটিতে ১,০০০ এর বেশি বিমান ট্রাস্টের ঠিকানায় নিবন্ধিত। তারই একটি এয়ারক্রাফট গ্যারান্টি র্কপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির সবকিছুই টেক্সাসের ওনালাস্কায়। অথচ এটি এমন এক শহর যেখানে কোন বিমানবন্দরই নেই। ডব্লিউএফএএ ২০১৯ সালে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বোস্টন গ্লোব, বেনামী নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে আকাশে গোপনীয়তা শিরোনামে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, “ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শিথিল নজরদারি যুগের পর যুগ ধরে মাদক কারবারি, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ এবং এমনকি সন্ত্রাসের সাথে জড়িতদের ব্যক্তিগত বিমান নিবন্ধন এবং পরিচয় লুকানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। যা বেরিয়ে এসেছে স্পটলাইটের (বোস্টন গ্লোবসের অনুসন্ধানী ইউনিট) একটি দলের অনুসন্ধানে।” গ্লোবের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত প্রতি ছয়টি উড়োজাহাজের একটির পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব নয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছে কীভাবে রাশিয়ার একজন সম্পদশালী নিবন্ধনের এই ফাঁকফোকরের সুবিধা নিয়েছেন। (এই ধরনের চর্চার পক্ষ নিয়ে, বিজনেস জেট ট্রাভেলারের পর্যবেক্ষণধর্মী প্রতিবেদনটি পড়ুন।)

নিবন্ধনের জনপ্রিয় দেশ

উড়োজাহাজের মালিক যেখানে বসবাস করেন সেখানেই নিবন্ধন করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। উড়োজাহাজ পুনঃনিবন্ধনও করা যায়। অনেক সময় বদলে ফেলা যায় আইডি নম্বরও।

কর্পোরেট জেট ইনভেস্টর এর অফিসিয়াল গাইড টু এয়ারপ্লেন রেজিস্ট্রেশন ২০১৯ এ উড়োজাহাজ নিবন্ধনের জাতীয় বিধিবিধানগুলোর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে উড়োজাহাজ শিল্পের ব্যবসা সংক্রান্ত খবরাখবরও থাকে। শিথিল নিবন্ধন, গোপনীয়তা ও কর সুবিধা তাদের আগ্রহের বিষয়।

উড়োজাহাজ নিবন্ধনের অন্যতম জনপ্রিয় একটি গন্তব্য আইল অব ম্যান। ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বশাসিত এই দ্বীপটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে করফাঁকির সুযোগ করে দেয়।

এমন সুবিধা পাওয়া যায় আরুবা, বারমুডা এবং কেম্যান আইল্যান্ডসের মত জায়গায়ও।

ইজারার জটিলতা

যখন উড়োজাহাজ লিজ বা ইজারা দেয়া হয়, তখন কে তার টাকা পরিশোধ করছে সেটি বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।

এমনই এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন হাঙ্গেরিয়ান অনুসন্ধানী সাইট আটলাটসোর রিপোর্টার এর্দেলি কাতালিন। তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওর্বানের ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার অনুসন্ধানে পাওয়া যায় উড়োজাহাজটি অস্ট্রিয়ায় নিবন্ধিত। কিন্তু কে এর জন্য অর্থ ব্যয় করেছে সেটি জানা যায়নি। জেটটি পরিচালনা করত বিজনেস জেট পরিচালনার জন্য খ্যাত অস্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল জেট ম্যানেজমেন্ট।

ভিক্টর ওর্বান সেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জেট থেকে বের হচ্ছেন। ছবি: আটলাসজো/ড্যানিয়েল নেমেথ

এই অনুসন্ধানের বর্ণনা দিয়ে আটলাটসোর রিপোর্টারদের একটি লেখা প্রকাশ করেছে জিআইজেএন। যার শিরোনাম, “একটি ব্যক্তিগত ইয়ট, একটি বিলাসবহুল জেট এবং হাঙ্গেরির শাসক এলিট।”

দরকারি নথির অন্যান্য উৎস

আরো কিছু সরকারি নথি কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে যেগুলো এভিয়েশন খাতের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। দুর্ঘটনার প্রতিবেদন থেকেও মালিকানা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেশে উড়োজাহাজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো দুর্ঘটনা ও তদন্তের নথি প্রকাশ করে।

এ বিষয়ে এভিয়েশন সেইফটি নেটওয়ার্ক (এএসএন) নামে একটি বেসরকারি ও স্বাধীন উদ্যোগ রয়েছে। তারা যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ, সামরিক বিমান এবং কর্পোরেট জেটের দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলোর একটি অনলাইন তথ্যভান্ডার পরিচালনা করে। এএসএন সেইফটি ডেটাবেজে রয়েছে ২০,৩০০ টি ঘটনা, ছিনতাই এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ।

দুর্ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব পালন করা সংস্থাগুলোর একটি আন্তর্জাতিক তালিকাও আছে এএসএন-এ। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে কাজ করে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড সেইফটি বোর্ড। এর পাশাপাশি ক্রয় ও চুক্তি সংক্রান্ত সংস্থার রেকর্ডগুলোও সরকারি উড়োজাহাজ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের কার্যকর উৎস হতে পারে।

বাজফিড তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করে দেখিয়েছে কীভাবে মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিবন্ধন হস্তান্তরের মাধ্যমে তাদের বিমান বহরের আকার গোপন করেছে।

নথি কিনতে পারেন এফএএ থেকে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিমান নিবন্ধনের ডেটাবেজটি ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটির (এফএএ) অধীনে। তবে এগুলো বেশ প্রাথমিক পর্যায়ের ডেটা।  এক্ষেত্রে বাড়তি তথ্য পাওয়া যেতে পারে ভিন্ন দুটি প্রতিবেদনে।

তাদের একটি হল নিবন্ধন ও বিক্রয় ইতিহাস; আর অন্যটি উড়োজাহাজের মান সনদ, যেখানে আধুনিকায়ন ও মেরামত সংক্রান্ত তথ্য থাকে। এই সনদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি উড়োজাহাজে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে সেটি জানা যায়। যেমন উড়োজাহাজের কাঠামোতে ছিদ্র করে ক্যমেরা বসানো।

এইসব প্রতিবেদন ১০ ডলারেই পাওয়া যায় এবং অনলাইনে অর্ডার দিলেই চলে। আপনার লাগবে এন নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বরটি। তথ্য পেতে সময় লাগবে এক সপ্তাহ।

ধনী ও বিখ্যাতদের নিয়ে বিশেষ সাইট

কিছু সাইট আছে যেগুলো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, নির্বাহী ও সরকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত বিমানের তথ্য সংগ্রহ করে।

এখানে তার কয়েকটির তালিকা:

প্রাইভেট জেট ওনার রেজিস্টার মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের একটি নির্বাচিত তালিকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি এটি চালান। একই ব্যক্তি সুপার ইয়ট ফ্যান নামের একটি সাইটও পরিচালনা করেন।

এয়ার চার্টার সার্ভিস বিশ্বের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের বহনকারী উড়োজাহাজের তালিকা ও বিস্তারিত বিবরণ সংরক্ষণ করে।

ডিক্টেটর অ্যালার্ট মূলত একটি টুইটার বট (সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে)। এটি জেনেভা বিমানবন্দরে নামা ও উড্ডয়ন করা, একনায়কতান্ত্রিক সরকারের নামে নিবন্ধিত উড়োজাহাজ সনাক্ত করে। প্রাপ্ত তথ্য টুইটার এবং ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। ফ্রাঁসোয়া পিলে এবং ইমানুয়েল ফ্রয়েডেনথাল নামের দুজন এই প্রকল্পটি চালান। পিলেট একজন ফ্রিল্যান্স অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং ভেসপার ডট মিডিয়া নামের একটি সংবাদ সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা। আর ফ্রয়েডেনথাল আফ্রিকায় ফ্রিল্যান্স অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করেন। উন্মুক্তএবং আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের সূত্র ধরেই উড়োজাহাজ ট্র্যাকের তালিকাটি করা হয়। ট্র্যাক করা উড়োজাহাজের হালনাগাদ তালিকাটি আপনি এক্সেল ফাইল হিসেবে ডাউনলোড করতে পারেন।

রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজারা কীসে চড়েন? উইকিপিডিয়ার এই তালিকাটি দেখুন।

ফ্লাইট ডেটা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি

এই বিভাগে যেসব বিষয় থাকবে

  • ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণের জন্য প্রোগ্রামিং
  •  এডিএস-বি ডেটার অস্পষ্টতা
  • যাত্রীর পরিচয় জানা
  • ঝুঁকি মোকাবেলা

ডেটার প্রাপ্যতা ও ব্যবহার

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর পাবলিক টুল ব্যবহার করেই অনেক তথ্যই সংগ্রহ করা সম্ভব।

এই সাইটগুলো থেকে তথ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) থাকে। সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট উড়োজাহাজের উড্ডয়নের অ্যালার্ট পেতে সাবসক্রিপশন প্রয়োজন হতে পারে।

উপাত্ত পুরোপুরি ব্যবহারের সুযোগ পেতে কিংবা সেগুলোকে কাস্টম প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধন করতে চাইলে আরো উচ্চাভিলাষী প্রকল্প নিতে হবে। তবে যেমনটা আগেই বলা হয়েছে, বৃহৎ ট্র্যাকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও চাইলে ডেটা যোগাড় করা সম্ভব।

ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের বিস্তর ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের জন্য আপনাকে ‘আর’ অথবা পাইথন প্রোগ্রামিং জানতে হবে। যদি আপনার কাছে অনেক বড় আকারের ডেটা থাকে তাহলে সেগুলোকে একটি ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা লাগতে পারে। এজন্য PostgreSQL ভাল উপায়। এর PostGIS এক্সটেনশন ডেটাকে ভৌগলিক উপাদান হিসেবে সংরক্ষণের সুযোগ করে দেয়। এর ফলে এলাকাভিত্তিক অনুসন্ধান চালানো যায়। যেমন: এর মাধ্যমে ফ্লাইট ট্রান্সপন্ডার থেকে পাঠানো পয়েন্ট ডেটা বিশ্লেষন করে বিমানের গতিপথ বের করা যায়।

ফ্লাইট ডেটা ব্যবহারে একজন বিশেষজ্ঞ পিটার আল্ডহাউজ। তিনি কাজ করেন বাজফিড নিউজে। তিনি ফ্লাইটরাডার টুয়েন্টি ফোরের ডেটা ব্যবহার করেছেন।

২০১৬ সালে আল্ডহাউজ “আকাশে গোয়েন্দা নজরদারি” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেন। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন এফবিআই এবং ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি পরিচালিত উড়োজাহাজগুলো নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সবগুলো প্রধান শহরে টহল দেয়।  তিনি পরবর্তীতে গোয়েন্দা নজরদারিতে ব্যবহৃত আরো উড়োজাহাজ সনাক্ত করতে মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এফবিআই এবং ডিএইচএস উড়োজাহাজের ডেটা ব্যবহারের উপর তিনি প্রশিক্ষণ নেন। (বিস্তারিত জানতে এই ব্যাখ্যাটি পড়ুন)

মার্কিন শহরে এফবিআই উড়োজাহাজের টহল নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেন বাজফিডের পিটার আল্ডহাউস। ছবি: বাজফিড

পাইথনের মাধ্যমে কীভাবে সহজে ফ্লাইট ট্র্যাকিং করা যায় তা নিয়ে জিওডোসের একটি  টিউটোরিয়াল রয়েছে এখানে। আর ২০১৯ সালের আপডেট পাবেন এখানে

ডেটার অস্পষ্টতা

ফ্লাইট ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু অস্পষ্টতার বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে।

সিস্টেম বহু ধরনের ডেটা তৈরি করতে পারে। যার মধ্যে অবস্থান এবং উচ্চতাও থাকে, কিন্তু (উড়োজাহাজ) অবতরণ করেছে কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ থাকে না। তবে যখন ডেটাতে দেখা যায়, একটি বিমান কোন বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, সেখান থেকে বুঝা যায় সেটি কোথায় অবতরণ করেছে।

সাহারা মরুভূমির মত যেসব জায়গায় এডিএস-বি কাভারেজ ভাল নয় সেখান থেকে কোন সংকেত নাও মিলতে পারে। এটি আরেক জটিলতা। কোনো রিসিভার, বা ডেটা না থাকলে এমনটি হবে। উড়োজাহাজটি হয়তো সেই জায়গাটি পেরিয়ে আবার দেখা দিতে পারে।

ইচ্ছাকৃতভাবে ট্র্যাকিং এড়ানোর সম্ভাবনাও থাকে। সেক্ষেত্রে পাইলটরা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখতে পারেন। ব্যাপারটি আইনসম্মত অথবা নিরাপদ না হলেও এডিএস-বি ট্র্যাকিং এড়ানোর জন্য কার্যকর।

কারা চড়ছেন?

বিমানটিতে কে চড়েছেন বা কেন সেটি যাত্রা করেছে – এই তথ্য সহজে জানা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইটের তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু ওইটুকুই। সামনে এগুনোর জন্য আরো যাচাই-বাছাই এবং তথ্য অনুসন্ধান দরকার হয়।

কখনো কখনো তথ্যের অস্পষ্টতা রিপোর্টারদের অথৈ সাগরে ফেলে দেয়।

ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারিৎজ-এর ইংরেজি সংস্করণের সম্পাদক আভি সার্ফ নিয়মিত সামরিক ফ্লাইট চলাচলের উপর টুইট করেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তিনি একটি প্রতিবেদন লেখেন যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সার্ফ তার প্রতিবেদনে তেল আবিব থেকে ইসলামাবাদের পথে একটি বেসরকারি ব্যবসায়িক জেট এর অস্বাভাবিক ফ্লাইটের কথা জানান। পাকিস্তানের সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে ফ্লাইট ডেটার অস্পষ্টতার কারণে সার্ফ বলতে বাধ্য হন যে, বিমানটি পাকিস্তানের পথে অগ্রসর হলেও সেখানে অবতরণ করেছে কিনা তা তিনি শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন না। পাকিস্তানি সংবাদপত্র দৈনিক ডনের এক প্রতিবেদনে তিনি এমনটা বলেন।

কয়েক সপ্তাহ পরে মিডল ইস্ট আই থেকে একজন প্রতিবেদক বিমানবন্দর কর্মীদের বরাত দিয়ে অবতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। “তারপরও একটি বড় রহস্য রয়ে গেছে।” লিখেছেন প্রতিবেদক সাদাফ চৌধুরী। “বিমানটি পাকিস্তানে কী করছিল- যেখানে দেশটির সাথে ইসরায়েলের কোনো কুটনৈতিক সম্পর্কই নেই- কে ছিল এর ভেতরে?”

সফরের নেপথ্যে কী?

ভ্রমণের কারণটি হয়তো অজানাই থেকে যেতে পারে।

এমন একটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল রুশ পত্রিকা নোভায়া গেজেটা এবং অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট। তারা রাশিয়া সরকারের অনেকগুলো চুক্তির সাথে জড়িত ইয়াভগেনি প্রিগোগিনি নামের একজন ব্যবসায়ীর বিমান ট্র্যাক করেছিল। দেশটিতে তাকে অনেক সময় ক্রেমলিন কুক বা ক্রেমলিনের রাঁধুনী নামেও ডাকা হয়।

প্রশ্ন ছিল, রেইথিয়ন হকার ৮০০ এক্সপি উড়োজাহাজটি কেন প্রতি মাসেই আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে উড়ে যায়? তার নিবন্ধন নম্বর ছিল এম-ভিআইটিও M-VITO । রিপোর্টার ইরিনা ডলিনিনা, অ্যালোসা মারোখোভস্কে এবং নোভায়া গেজেটার ডেটা টিম ২৬ মাস ধরে, এর চলাচল অনুসরণ করেন। বিমানটি যে প্রিগোগিনির সেটি তারা নিশ্চিত হয়েছেন ইনস্টাগ্রামে তার মেয়ের পোস্ট করা বিমানের ভেতরকার একটি ছবি থেকে।  ফ্লাইটে কে ছিল সেটি নিশ্চিত হতে তাদের সহযোগিতা করেছিল ফাঁস হওয়া কিছু তথ্য। (এ ধরণের তথ্য পাওয়া খুবই বিরল।)

নোভায়া গেজেটা, সিরিয়ায় উড়োজাহাজটির অনেকগুলো সফরের সন্ধান পায়। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার আফ্রিকাতেও গেছে বিমানটি। যাতায়াতের এইসব প্রামাণ্য তথ্যের পথ ধরে তারা এগিয়ে যান সফরের কারণ অনুসন্ধানে।

স্বর্ণ ও হীরা খনিতে বিনিয়োগ আছে এমন কিছু কোম্পানির সাথে প্রিগোগিনি যুক্ত। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সফরের সাথে হয়ত এর একটি যোগসূত্র থাকতে পারে। রিপোর্টাররা একটি চুক্তিপত্র খুঁজে পান যেটি সেখানকার কর্মকর্তাদের সাথে রাশিয়ানদের নগদে লেনদেনের অনুমোদন দিয়েছিল। তবে শর্ত ছিল টাকার লেনদেন “শুধু ব্যক্তিগত জেটের মধ্যেই হতে হবে।”

দীর্ঘ সময় ধরে উড়োজাহাজ অনুসরণ করার আরেকটি কাজ করেছিল ওয়াশিংটন পোস্ট। এটি ২০১৯ সালেরই ঘটনা। এর ফলে যে প্রতিবেদনটি তৈরি হয় তার শিরোনাম ছিল, “ইলন মাস্কের উড়ন্ত ২০১৮: ব্যক্তিগত বিমানে ১৫০,০০০ মাইল যাত্রা তার ‘পীড়াদায়ক’ বছর নিয়ে যা বলছে”। তার উড়োজাহাজের ২৫০ টি ফ্লাইট অনুসরণ করে পত্রিকাটি। তাদের প্রতিবেদন “মার্কিন প্রযুক্তি জগতের এই তারকার নিয়ন্ত্রণহীন জীবন যাপনের আভাস দেয়।” – এমনটাই লিখেছেন রিপোর্টার ড্রিউ হারওয়েল।

গোটা বছর জুড়েই ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবেদনটির জন্য কী ধরনের রিপোর্টিং প্রয়োজন ছিল সেটি ব্যাখা করেছেন হারওয়েল। “ফ্লাইট চলাকালে যাত্রী কে ছিলেন ডেটা সেটি দেখাতে পারছে না ঠিকই, কিন্তু মাস্কই যে ভ্রমণ করেছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায় তাঁর প্রকাশ্য উপস্থিতি, সাক্ষাৎকার ও টুইটে।

সামরিক ও সরকারি উড়োজাহাজ

বেশিরভাগ সামরিক ও সরকারি উড়োজাহাজে ট্র্যাকের সুযোগ বন্ধ করে রাখা হয়। তবে অনেক সময় এর ব্যতিক্রমও থাকে। রিপোর্টাররা তাদের যাতায়তের বিবরণ দিয়ে অনেক প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

সরকার প্রধানদের উড়োজাহাজ ব্যবহারের তথ্যও সহজলভ্য, এবং বিস্ময়কর পরিমানে। একটি একাডেমিক গবেষণায় দেখা গেছে “৮০ ভাগের বেশি সামরিক ও ৬০ ভাগ সরকারি উড়োজাহাজে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। এই ডেটার অবশ্য দেশভেদে বেশ ভিন্নতা রয়েছে।” এই গবেষণার ছয়জন রচয়িতার মধ্যে একজন ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের মার্টিন স্ট্রমায়ার।

বিভিন্ন সাইট ব্যবহার করে, বেশিরভাগ বিমানই ট্র্যাকিংই করা সম্ভব। যেমনটা আগেই বলা হয়েছে। নিচে আরো কয়েকটি আকর্ষণীয় তথ্যসূত্র এবং ভালো প্রতিবেদনের উদাহরণ পাবেন।

সামরিক ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের বিশেষ সাইট

কয়েকটি সাইট সামরিক ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ে জন্য বিখ্যাত। এডিএস-বি ডট এনএল তাদেরই একটি। এটি বিশ্বজুড়ে সামরিক উড়োজাহাজ ট্র্যাক করা এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের কাছ থেকে রিয়েল টাইম বা তাৎক্ষণিক ডেটা সংগ্রহ করে। ৭০ টি দেশের সামরিক উড়োজাহাজের তথ্য আছে তাদের কাছে। সাইটটিতে তথ্য দেখার বিভিন্ন অপশন রয়েছে। এর প্রতিষ্ঠাতা পিটার লেমারটিংক এর ব্যাখ্যা পড়ুন।

রাডারবক্স-এ খরচ ছাড়াই সার্চের কিছু সুযোগ থাকে। এটি আপনাকে চলমান উড়োজাহাজ ট্র্যাকের সুযোগও করে দিবে। তবে সামরিক অভিযানের নিরাপত্তার কারণে, সেই সঙ্গে ব্যক্তিমালিকানাধীন উড়োজাহাজ পরিচালনাকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায়, রাডারবক্স তাদের ট্র্যাকিং প্রক্রিয়া বন্ধ রাখে।

স্ক্র্যাম্বল এ পাবেন ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার বিমান বাহিনীর বিভিন্ন উড়োজাহাজের ডেটাবেজ। সেই সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু দেশের বিমান বাহিনীর তথ্যও রয়েছে। সাইটটি পরিচালিত হয় ডাচ এভিয়েশন সোসাইটির মাধ্যমে। তাদের একটি কার্যকর ফোরামও রয়েছে। স্ক্র্যাম্বল সোভিয়েত ট্রান্সপোর্ট ডেটাবেজ নামে আরেকটি সাইট চালায়।

প্লেনফ্লাইটট্র্যাকার ন্যাটো এবং রাশিয়ার সামরিক বিমানের জন্য বিশেষজ্ঞ সাইট।

অনুসরণ করুন @CivMilAir, যেখানে দেখতে পাবেন সৌদি যুবরাজ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে ভাইস প্রেসিডেন্টের মত ব্যক্তিরা কোথায় যাচ্ছেন। (এই প্রকল্পটি একটি সাইটের সহযোগিতায় পরিচালিত। আপনি সেখান থেকে তিন পাউন্ড দিয়ে এক কাপ কফি কিনলে, সেই টাকার একটি অংশ CivMilAir পাবে।)

জিভিএ ডিকটেটর অ্যালার্ট মূলত একটি বট (সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোন কাজ করতে পারে)। জেনেভা বিমানবন্দরে কোনো স্বৈরাচারী শাসকের বিমান অবতরণ করলে তা ট্র্যাকিং করে বটটি। ফ্রাঁসোয়া পিলেট এবং ইমানুয়েল ফ্রয়েডেনথাল নামের দুজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ডিকটেটর অ্যালার্ট পরিচালনা করেন।  এখানে স্বৈরশাসকদের ব্যবহার করা বিমানের একটি তালিকা পাবেন।

এয়ারক্রাফট সিরিয়াল নম্বর মার্কিন সামরিক বিমান খোঁজার সুযোগ দেয়।  এটি পরিচালনা করেন জো বোগার। তিনি নিজেকে “উড়োজাহাজ সিরিয়াল নম্বর আসক্ত” হিসেবে অভিহিত করেন। তার ওয়েবসাইটে উড়োজাহাজ বিষয়ক সাইটগুলোর  অবাক করা সংগ্রহ রয়েছে।

২৩ মে ২০১৯ তারিখে ইউরোপের আকাশে সামরিক বিমান। ট্র্যাকিং সাইট এডিএসবি এক্সচেঞ্জ থেকে স্ক্রিনশটটি নেয়া।

সামরিক বিমান খোঁজায় গণমাধ্যমের সফলতা

রোম ভিত্তিক সাংবাদিক ডেভিড সিনসিওত্তি। এভিয়েশন ব্লগ নামের একটি সাইটও আছে তার। এরই মধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি সাড়া জাগানো ট্র্যাকিং করেছেন।  তিনি দেখিয়েছেন ২০১৮ সালের একটি ঘটনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রিমিয়ার কাছে সামরিক বিমানের উপস্থিতি বৃদ্ধি করে। এপ্রিল ২০১৮ সালে তিনি সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের চালানো হামলায় ব্যবহৃত বিমানের একটি তালিকা করেন। বিমানের গতিপথ বিশ্লেষণ করে এটি বের করেছিলেন তিনি। তিনি নিয়মিত মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজগুলোর যাতায়াতও বিশ্লেষণ করেন। যেমন, মার্কিন বিমান বাহিনী কাতারের আকাশে বি ৫২ (জঙ্গিবিমান) পাঠানোর পর এ নিয়ে ২০১৯ সালের ১০ মে তিনি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

একই পথ ধরে রয়টার্স ২০১৮ সালে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে: “উড়োজাহাজের ট্র্যাকিং ডেটার তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ার সামরিক খাতের বেসরকারি ঠিকাদারদের গোপন ফ্লাইটে করে সিরিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। পশ্চিম থেকে আসা উড়োজাহাজ শেষ পর্যন্ত কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌছায় সেটিও একটি নথির মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে। রয়টার্সের রিপোর্টাররা রোস্তভ বিমানবন্দরের উপর চোখ রাখে। সবার জন্য উন্মুক্ত ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা ব্যবহার করে চিহ্নিত করে উড়োজাহাজের অস্বাভাবিক চলাচল। মালিকানা নিবন্ধন বা নথি অনুসন্ধানের পাশাপাশি তারা নিয়েছে কয়েক ডজন সাক্ষাৎকার। যার মধ্যে সোভিয়েত নৌবাহিনীর সাবেক এক  মেজরও ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত এই ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেয়া হয় একটি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয়। ”

রয়টার্স প্রাথমিকভাবে তিনটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ করেছে: ফ্লাইট রাডার টুয়েন্টিফোর, প্লেন ফাইন্ডার এবং ভার্চুয়াল রাডার।

এমনকি সরাসরি দেখা থেকেও প্রতিবেদন তৈরি সম্ভব। ব্যাপারটি যত সেকেলেই মনে হোক না কেন। ভেনেজুয়েলার সাংবাদিক হাভিয়ের মেয়রকা চলতি বছরের মার্চে টুইটারে লিখেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রধান বিমান বন্দরে রাশিয়ার উড়োজাহাজ থেকে ১০০ সৈন্য ও সরঞ্জাম নামাতে দেখেছেন তিনি। রয়টার্স আরো বিস্তারিত লিখেছে, “একটি ইলিউশিন আইএল -৬২ যাত্রিবাহী জেট এবং একটি আন্তোনোভ এএন-১২৪  সামরিক কার্গো বিমান রাশিয়ার সামরিক বিমান বন্দর চকালোভোস্কি থেকে কারাকাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইট রাডার টুয়েন্টি ফোরের ডেটা অনুযায়ী সেটি সিরিয়ায় যাত্রাবিরতি দেয়।”

তুর্কী বাহিনীর গোপন অপহরণ

মার্চের এক ভোরবেলা। কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় অবতরণ করল একটি উড়োজাহাজ। যার লেজের পরিচিতি চিহ্নটিতে ছিল টিসি-কেএলই। দুই ঘন্টা পর সেটি রওনা দিল ছয়জন তুর্কী নাগরিক নিয়ে, যাদের পাঁচজন শিক্ষক। উড়োজাহাজটি অবতরণ করল আঙ্কারার একটি বিমান ঘাঁটিতে। ২০১৮ সালে জার্মান সংবাদ আউটলেট কারেক্টিভ এবং ফ্রন্টাল টুয়েন্টি ওয়ানের যৌথ অনুসন্ধানে এই খবর ফাঁস হয়। অন্য একটি দেশ থেকে এই তুর্কি নাগরিকদের গ্রেপ্তার করে তুরস্কে ফিরিয়ে আনে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি। অসমর্থিত উৎস থেকে প্রথমে তথ্য পান রিপোর্টাররা। এরপর তারা তুরস্কের সিভিল রেজিস্টার থেকে উড়োজাহাজটি ব্যবহারের তথ্য এবং সেই সঙ্গে এটি যে তাদের গোয়েন্দা বাহিনীর বিমান তার প্রমাণও পান।

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) উড়োজাহাজ ব্যবহার করে এই ধরনের অপহরণের আরেকটি বড় ঘটনা নিয়ে বই লিখেছেন ব্রিটিশ  সাংবাদিক স্টিফেন গ্রে। নাম “ঘোস্ট প্লেন” বা ভৌতিক বিমান।

একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন:

আমার সত্যিই জানা ছিল না কীভাবে সিআইএ এর মত বিশ্ব বিখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থার গোপনীয়তার দেয়াল ভেদ করা যায়। এবং শেষে আমি যখন অন্যদের সাথে সফল হলাম তখন এটা বিস্ময়কর মনে হচ্ছিল যে আপনি চাইলে সত্যিই সিআইএর কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ট্র্যাক করতে পারেন। তারা অসাধারণ সব সূত্র রেখে যাবে। এবং আপনি বাস্তবিকই সিআইএ এর ফ্লাইট এর পরিকল্পনা আঁচ করতে পারেন। বলতে গেলে বিশ্বজুড়ে তাদের অভিযানগুলোর পুরো নেটওয়ার্কই আপনার সামনে ছড়িয়ে রয়েছে। আমি সিআইএর কয়েক হাজার ফ্লাইটের তথ্য পেয়েছি। যেগুলোর মাধ্যমে বন্দীদের নিয়ে আসা বা সব ধরণের অপহরণের ঘটনা চিহ্নিত করতে এবং নিশ্চিত হতে পেরেছি।

বাজফিড নিউজ “গোপন গোয়েন্দা বিমান অনুসন্ধানে একটি কম্পিউটারকেও প্রশিক্ষিত করেছে”। এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৭ সালে প্রকাশিত পিটার আল্ডহাউসের এই প্রতিবেদনে। যার শুরুতেই বলা হয়েছে, “প্রতি সপ্তাহান্তে মার্কিন সরকারের কয়েক ডজন বিমান আকাশে যাত্রা করে এবং ধীরে ধীরে সেগুলো আমেরিকার শহরগুলোর উপর চক্কর দেয়।”

সরকারি সফর

সরকারি নেতাদের বিমান সফর অনেক সময়ই বেশ ফলাও করে প্রচার করা হয়। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও ঘটে।

একটি অপ্রত্যাশিত ছবি দিয়ে যুক্তরাজ্যের একজন পাখি পর্যবেক্ষক গত বছর বেশ আলোচনায় আসেন। তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানের একটি ছবি তোলেন। যেটিতে চেপে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকে আকস্মিক এক সফরে যাচ্ছিলেন। “এই কারণে হোয়াইট হাউস যথাসময়ের আগেই এই সফরের বিস্তারিত প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। যা নিয়ে (ট্রাম্পের) গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়,” গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে।

কানাডিয়ান এক উড়োজাহাজ অনুসন্ধানকারী একটি ফ্লাইট ট্র্যাকার ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মালি সফরের ঘটনা বের করেছিলেন।

অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে টুইটারে, @CivMilAir উড়োজাহাজ ট্র্যাকিংয়ের ছবি দিয়ে এমন প্রশ্নও করে “এরদোয়ান কী কোথাও যাচ্ছেন?”

ব্যক্তিগত জেটের আকর্ষণ

জেট বিমান যথেষ্ট ব্যয়বহুল।  সেগুলো কিনে অথবা অন্যদের জেটে চড়েও প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হয় কর্মকর্তাদের।

২০১৮ সালে হাঙ্গেরির সংবাদপত্র আটলাটসো একটি অনুসন্ধান করে। তারা হাঙ্গেরির এলিট গোষ্ঠীর কয়েক সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বানের সাথে একটি বিলাসবহুল ইয়ট ও ব্যক্তিগত জেট বিমানের যোগসূত্র খুঁজে পায়। দু’টিরই নিবন্ধন ছিল দেশটির বাইরে।

মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকো আরেক লেখায় দেখিয়েছে, কীভাবে তাদের সাংবাদিকরা, দেশটির স্বাস্থ্য ও মানব সেবা মন্ত্রী টম প্রাইসের ব্যক্তি মালিকানাধীন জেট বিমান ব্যবহারের খবর বের করেছে। প্রাইস অনেকটা ফেডারেল ভ্রমণ নীতিমালা ভঙ্গ করেই এই ধরনের বিমানে সফর করতেন। এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য রিপোর্টাররা প্রথমে তার সফরের একটি ডেটাবেজ তৈরি করেন। তারপর তিনি কোন বিমানটি ব্যবহার করেন তা বের করার জন্য তারা বিমান বন্দরে নজর রাখতে শুরু করেন।  এরপর গবেষণা করে এর ভাড়া ও খরচ বের করেন।

ট্রাম্প সম্পর্কিত ট্র্যাকিং

২০১৭ সালের মার্চে ম্যাকক্লেচি একটি প্রতিবেদন ছাপায়। এর শিরোনাম ছিল “ট্রাম্প ও রাশিয়ান বিলিওনেয়ার বলছেন তাদের কখনও দেখা হয়নি। কিন্তু তাদের জেট বিমানের ঠিকই দেখা হয়েছিল- শারলোটে।” কেভিন জি হল, অ্যাডাম বেল, রিক রথহ্যাকার এবং গ্রেগ গর্ডন মিলে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। যার মূল বিষয় ছিল, প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্রাম্প ও রুশ ব্যবসায়ী দিমিত্রি রিবোলোব্লেভের আকাশযাত্রা সম্পর্কে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করা।

তারা অন্য সাংবাদিকের সাথে নিয়ে ট্রাম্প এবং বিভিন্ন রুশ নাগরিকের বিমান অনুসরণ শুরু করেন। কাকতালীয়ভাবে তারা এই দুই উড়োজাহাজের এক জায়গায় অবতরণের ঘটনাটি খুঁজে পান। নিয়মিত ফ্লাইট ডাটা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তৈরি তাদের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম। বাকি প্রতিবেদনগুলো ছিল রিবোলোব্লেভের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে। ট্রাম্প ও রিবোলোব্লেভের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে  নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদন ছাপায় ২০১৭ সালে। “একজন ধনকুবেরের ইয়ট ও জেট বিমান ট্র্যাকিং” শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “নতুন প্রযুক্তি, বিশেষায়িত ওয়েবসাইট এবং বিশ্বজুড়ে সৌখিন উড়োজাহাজ ও ইয়ট পর্যবেক্ষণকারীদের দলের কারণে যেকোন সময়ের চেয়ে এখন সহজে একজন বিলিয়নেয়ারের ইয়ট অথবা জেট বিমানের নির্দিষ্ট অবস্থান এবং যাতায়তের তথ্য বের করা যায়। সেটি পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেন।”

প্লেন স্পটিং: মাইকেল কোহেনের অসাধারণ সফর,” এই শিরোনামে লুইস মেনচ ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারিতে একটি লেখা প্রকাশ করেন তার ব্লগ পেট্রিয়বোটিক্সে। এতে পাওয়া যাবে এভিয়েশন রেকর্ড ব্যবহার করে কীভাবে ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেনের হদিস বের করা হয়েছিল। জানালা থেকে ডানাসহ তোলা একটি ইনস্টগ্রাম ছবি, বিমানটি চিহ্নিত করতে সহায়তা করেছিল।

ট্র্যাকিং যখন লাভজনক

ব্যবসায়ী ও তারকাদের জেট বিমানও ট্র্যাক করেন সাংবাদিকরা। কোম্পানির বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দীরাও এমন ট্র্যাকিং করে।

নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে কোনো কর্পোরেট জেটের উড্ডয়ন অথবা অবতরণ সম্পর্কে জানতে অতীতে উড়োজাহাজ পর্যবেক্ষকদের ভাড়া করা হত। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইনসাইডার ট্রেডিং (তৃতীয় কোন পক্ষকে দিয়ে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেচাকেনা করা, যার কাছে ঐ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে গোপন তথ্য রয়েছে।) বিষয়টি অবৈধ কিনা তখন এসব বিষয়েও বিতর্ক হয়েছে। (জবাব হল: না। বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে সিএনবিসির এই প্রবন্ধে।)

অনলাইনে এডিএস-বি ট্র্যাকিং অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্যই ব্যবসার নতুুন দ্বার উন্মোচন করেছে। তারা কর্পোরেট জেট বিমানের যাতায়ত সংক্রান্ত তথ্য বের করে সেগুলো বিক্রি করে। পর্যবেক্ষণকারীরা কর্পোরেট জেটগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে সেগুলোর ধরণ, কোথায় যাওয়া আসা করছে তার উপর নজর রাখে। কোনো সংবাদ বা তথ্যের প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট কোনো ফ্লাইটের যাত্রা তারা বিশ্লেষণ করে দেখে।

জেট ট্র্যাক

জেট ট্র্যাক বিনিয়োগকারীদের কাছে তথ্য বিক্রি করে। অনুসন্ধানগুলো পরবর্তীতে তারা কেইস স্টাডি হিসেবেও প্রকাশ করে। তারই একটি এমন, “জেট ট্র্যাক ব্যবহার করে একজন বিশ্লেষক ২০১৮ সালে কনস্টেলেশনের (যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান) শীর্ষ নির্বাহীদের সফর অনুসরণ করেন। প্রতিষ্ঠানটি যে ক্যানোপিতে বাড়তি বিনিয়োগে আগ্রহী সেই ঘোষণা দেয়ার ঠিক আগে, এই ঘটনা ঘটে।”

“ব্যবসার খাত ধরে অনুসন্ধানেরও সুযোগ দেয় জেট ট্র্যাক। যার মাধ্যমে, একটি কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের সফরের প্রবণতার সাথে শেয়ার বাজারের অন্য তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সফরের তুলনা করা যায়।”

স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত গবেষকরা বিনামূল্যেই তাদের ডেটা ব্যবহার করতে পারেন।

কুয়ানডল

২০১৮ সালে কর্পোরেট এভিয়েশন ইন্টেলিজেন্স নামের একটি সেবা চালু করে কুয়ানডল। “ কর্পোরেটদের অস্বাভাবিক বিমানযাত্রা অনেক সময়ই এমঅ্যান্ডএ (মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন), কোম্পানি সম্প্রসারণ, অংশিদারিত্বে পরিবর্তনসহ অনেক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিতে পারে।” প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাফল্য সম্পর্কে লিখেছে এভাবে:

“আমরা নিশ্চিত: সানট্রাস্ট | বিবিএন্ডটি। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান সানট্রাস্ট ও বিবিএন্ডটি ৬৬ বিলিয়ন ডলারে একীভূত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ বৃহত্তম ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। সানট্রাস্টের কর্মকর্তারা গত সপ্তায় দুই বার নর্থ ক্যারোলাইনা ভ্রমন করেন, বিবিএন্ডটির সাথে সাক্ষাতের জন্যে। আর দুই প্রতিষ্ঠানই নিউইয়র্কে গিয়েছে ডিসেম্বরের তিন তারিখে।

কর্পোরেট গোয়েন্দাগিরিতে উড়োজাহাজ ট্র্যাকিংয়ের ব্যবহার নিয়ে একাডেমিক গবেষণাও হয়েছে।

একাডেমিক গবেষণা

কোনো প্রতিষ্ঠান কেনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার আগে সাধারণত সেই কর্পোরেশন সফর করেন সম্ভাব্য ক্রেতারা। তারা ভ্রমন করেন বিমানে চেপেই। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ফ্লাইট ডাটা ব্যবহার করে এই তথ্য বের করেছেন। গবেষকরা তাদের লেখায় এই বিষয়ে গোপনীয়তার সুযোগ রাখার সুপারিশ করেছেন। গবেষণা প্রবন্ধটির শিরোনাম, “সত্যিকারের প্রথম শ্রেণী? এয়ারট্রাফিক ডেটা থেকে  গোপন মার্জার এবং সরকারের সঙ্গে কোম্পানির সম্পর্ক অনুমান।”

বিনিয়োগকারী ও সাংবাদিকরা অনেক দিন থেকেই কর্পোরেট জেট বিমান ট্র্যাক করে আসছে।

এ বিষয়ে একটি উদাহরণ দেয়া যায়, আলফ্রিয়ার (কানাডার গাঁজা বিপণন প্রতিষ্ঠান) সাথে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামাকজাত প্রতিষ্ঠান আলট্রিয়া গ্রুপ ইনকর্পোরেশনের সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ২০১৮ সালেই খবর বের করেন একজন বিনিয়োগকারী। তিনি আলফ্রিয়ার অবস্থান যেখানে সেখানকার বিমানবন্দরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জেটের নম্বর ট্র্যাক করতেন।

৮ মে ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রয়টার্স লিখেছে, “হেজ ফান্ড প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে ১০০,০০০ ডলার খরচ করে কর্পোরেট বিমানের ফ্লাইট ট্র্যাক করার জন্য। এর যৌক্তিকতাও রয়েছে। গত সপ্তাহে অক্সিডেন্টাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন দু’টি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন তেল ও গ্যাস কোম্পানিটির নিজস্ব বিমান তার কিছুদিন আগেই সেসব জায়গায় গিয়েছিল, চুক্তির সাথে সেসব স্থান মিলে গেছে।”

অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসের ১৮ আসনের একটি গাল্ফস্ট্রিম জি৬৫০ইআর বিমান রয়েছে। যার সনাক্তকরণ নম্বর এন২৭১ডিভি। অ্যামাজনের নতুন প্রধান কার্যালয় কোথায় বসবে তার আভাস পেতে এই উড়োজাহাজটিকে ট্র্যাক করা হয়েছিল। (এটি যখন আমি লিখছি, সেই সময়ে তার জেট বিমানটি সিয়াটল পেছনে রেখে নিউইয়র্ক থেকে পশ্চিমের পথে উড়ে যাচ্ছে। যা জানা যাচ্ছে এডিএস-বি এক্সচেঞ্জ এর ঠিক সেই মুহূর্তের তথ্যের ভিত্তিতে।)